খুঁজুন
                               
, ,
           

স্বস্তি নেই বাজারে, চড়ামূল্যে কাটছে ভোক্তার পকেট

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ২:৫৪ অপরাহ্ণ
স্বস্তি নেই বাজারে, চড়ামূল্যে কাটছে ভোক্তার পকেট

বিগত কয়েক সপ্তাহ ধরে নিত্যপণ্যের বাজারে চলমান অস্বস্তি এখনও কাটেনি। বেশিরভাগ সবজির দামই ৮০ টাকার ওপরে। দুই সপ্তাহ আগেও এক ডজন ডিমের দাম ছিল ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা, সেই ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকায়। এতে ভোগান্তি পোহাচ্ছে সাধারণ ক্রেতাদের।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) ঢাকার বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

বাজারে বর্তমানে প্রতি কেজি কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকায়। তবে সব সবজির দাম ৮০ টাকার আশেপাশে রয়েছে। প্রতি কেজি পটল বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়, প্রতি কেজি শসা ৬০ টাকায়, করলা প্রতি কেজি ৮০ টাকা, বরবটি প্রতি কেজি ৮০ টাকা, প্রতি কেজি ধন্দুল ৭০ টাকা, ঝিঙা প্রতি কেজি ৮০ টাকা, চিচিঙ্গা প্রতি কেজি ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এ ছাড়া, প্রতি কেজি গোল বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়, প্রতি কেজি কাঁকরোল বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়, গাজর প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়, পেঁপে প্রতি কেজি ৪০ টাকায়, ঢ্যাঁড়স প্রতি কেজি ৬০ টাকা, প্রতি কেজি শিম ২০০ টাকায়,  টমেটো প্রতি কেজি ১২০ টাকা, কঁচু প্রতি কেজি ৮০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া প্রতি কেজি ৬০ টাকা, মুলা প্রতি কেজি ৮০ টাকা, কাঁচা কলা প্রতি হালি ৪০ টাকা, লাউ প্রতি পিস ৬০ টাকা এবং কচুর লতি প্রতি কেজি ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সবজি বিক্রেতা মিশু সরদার বলেন, কাঁচামরিচের সরবরাহ কিছুটা বেড়েছে। তাই গত সপ্তাহের তুলনায় দাম কমেছে। তবে অন্যান্য সবজির দামে বড় কোনো পরিবর্তন নেই।

বাজার করতে এসেছেন সরকারি চাকরিজীবী সিয়াম মল্লা বলেন, সবজির যে পরিমাণের দাম উঠেছে। এতে খালি হাতে ফিরতে হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

এদিকে, মসলার বাজার অপরিবর্তিত রয়েছে। প্রতি কেজি পেঁয়াজ এখন বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা, আলু ৩০, রসুন ১৫০ ও আদা ১৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া মুরগির বাজারে কোনো পরিবর্তন নেই। প্রতিকেজি ব্রয়লার ১৯০, সোনালি ৩২০-৩৩০, হাইব্রিড ২৯০-৩০০ এবং লেয়ার বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি ৩৪০ টাকায়। মুরগি বিক্রেতা আরিফ বলেন, বাজারে সরবরাহ মোটামুটি স্বাভাবিক আছে। তাই মুরগির দামও গত সপ্তাহের মতোই রয়েছে।

বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিআইএ) মহাসচিব এম সাফির রহমান বলেন, পণ্যের দাম বাজারের চাহিদা ও সরবরাহের ওপর নির্ভর করে। বন্যায় দেশের অনেক খামারি বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন। সরবরাহের ঘাটতি তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে দামে।

গরুর মাংস ৮৫০ এবং খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ১৩০০ টাকায়।

ডিমের বাজারে অবশ্য কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি ডজনে ১০ টাকা কমেছে দাম। বর্তমানে সাদা ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকা এবং লাল ডিম ১৪০ টাকা ডজন। ডিম বিক্রেতা বলেন, সরবরাহ বাড়ায় ডিমের দাম কিছুটা কমেছে। সামনে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে দাম স্থিতিশীল থাকতে পারে।

চালের দামও অপরিবর্তিত রয়েছে। প্রতিকেজি মোটা চাল ৫২-৫৫ টাকা, বিআর-২৮ ৬০ টাকা, মিনিকেট ৭৮ টাকা ও কাটারি নাজির ৮৫ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।

কালের আলো/এসএকে

গত ১৭ বছরে চিকিৎসা খাতে চরম লুটপাট হয়েছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ঝিনাইদহ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ৭:০৯ অপরাহ্ণ
গত ১৭ বছরে চিকিৎসা খাতে চরম লুটপাট হয়েছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

গত ১৭ বছর ফ্যাসিস্ট সরকার আমলে চিকিৎসা খাতকে চরম অবহেলা ও লুটপাট করা হয়েছে’ বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল।

এই অবস্থা থেকে উত্তরণে আগামী ৩ বছরের মধ্যে দেশের সকল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১৫১ শয্যাবিশিষ্ট করা হবে’ বলে জানিয়েছেন তিনি।

রোববার (১৬ আগস্ট) সকালে ঝিনাইদহের মহেশপুর ও কোটচাঁদপুর, কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল আকস্মিক পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

চিকিৎসক সংকট রোধে সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছে উল্লেখ করে মন্ত্রী আরও জানান, স্বাস্থ্য খাতকে গতিশীল করতে দেশে নতুন করে ৫ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। হাসপাতাল ও উপজেলা কমপ্লেক্স পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখেন এবং চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন। এসময় স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা ও স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনের সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী রোগীদের খোঁজ-খবর নেন ও একজন গরিব রোগীকে নগদ আর্থিক সহায়তা দেন। সে সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী সেবা নিতে আসা রোগীদের সঙ্গে খোলামেলা কথা বলে সমস্যার কথা জানতে চান।

তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলার সময় জানান, গ্রামে স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতের জন্য সর্বোচ্চ বাজেট দেওয়া হয়েছে। আমরা সারাদেশে সে লক্ষ্যে কাজ করছি।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

দেশের প্রতিটি বিভাগে আধুনিক তথ্য কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হচ্ছে : তথ্যমন্ত্রী

বরিশাল প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৫৮ অপরাহ্ণ
দেশের প্রতিটি বিভাগে আধুনিক তথ্য কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হচ্ছে : তথ্যমন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, দেশের প্রতিটি বিভাগে আধুনিক তথ্য কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে এ কার্যক্রম প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় সম্প্রসারণ করা হবে। ইতোমধ্যে দেশের ২৬টি জেলায় এ সংক্রান্ত উন্নয়নকাজ চলমান রয়েছে।

রোববার (১৬ আগস্ট) সকালে বরিশাল নগরীর কাশিপুর ইছাকাঠি এলাকায় ‘বরিশাল বিভাগীয় আধুনিক তথ্য কমপ্লেক্স’ নির্মাণকাজের শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন গণযোগাযোগ অধিদপ্তর এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘তথ্য কমপ্লেক্স নির্মাণের ক্ষেত্রে কেবল অবকাঠামো উন্নয়নই সরকারের মূল লক্ষ্য নয়, বরং এর গুণগত মানকে আন্তর্জাতিক বা ‘গ্লোবাল স্ট্যান্ডার্ডে’ উন্নীত করতে চায় সরকার। এ কারণে কমপ্লেক্সের অবকাঠামোগত ইঞ্জিনিয়ারিং ও সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং- দুটি বিষয়কেই পৃথক ও অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।’

তথ্য কমপ্লেক্সের প্রযুক্তিগত সুবিধা তুলে ধরে তিনি আরও জানান, এই কেন্দ্রগুলোতে সর্বোচ্চ প্রযুক্তিবান্ধব সিনেপ্লেক্স ও ইলেকট্রনিক স্ক্রিন থাকবে, যেখানে ডিজিটাল মুভিসহ থ্রিডি ও ফোরডি চলচ্চিত্র প্রদর্শনের ব্যবস্থা থাকবে।

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘আধুনিক তথ্য কমপ্লেক্সের মূল রূপই হলো ‘ডিজিটাল ইনফরমেশন সার্ভিস সেন্টার’। এখান থেকে নাগরিকরা বহুমুখী ডিজিটাল তথ্যসেবা পাবেন। এই সুবিধাগুলোকে জনপ্রিয় করতে এবং শিক্ষার্থীদের গবেষণায় উদ্বুদ্ধ করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে স্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রচার লিফলেট বিতরণ করা হবে। এটি শুধু দর্শনীয় ভবন নয়; বরং বহুমুখী তথ্য, বিনোদন, জ্ঞান আহরণ ও গবেষণার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে।’

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা বলেন, অপতথ্য ও ভুল তথ্য প্রতিরোধে বরিশাল বিভাগীয় এই আধুনিক তথ্য কমপ্লেক্সটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। সঠিক তথ্য ও আধুনিক প্রযুক্তি জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে এটি কার্যকর মাধ্যম হবে।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ, বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. শাহ আলম, বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি জুলফিকার আলী হায়দার, গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবদুল জলিল এবং বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহ বক্তব্য রাখেন।

স্বাগত বক্তব্যে প্রকল্প পরিচালক মনিরুজ্জামান জানান, ১৭ কোটি ৬৩ লাখ ৮৬ হাজার টাকা ব্যয়ে বরিশালে সাততলা বিশিষ্ট এই আধুনিক তথ্য কমপ্লেক্স ভবনটি নির্মিত হচ্ছে। পরে উপ-প্রকল্প পরিচালক রেজাউর রাব্বী মনির মাল্টিমিডিয়া প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে প্রকল্পের বিস্তারিত তুলে ধরেন।
সূত্র: বাসস।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

খালেদা জিয়াকে তিলে তিলে মারতে ফুড পয়জনিং করা হয়েছিল: রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৪৯ অপরাহ্ণ
খালেদা জিয়াকে তিলে তিলে মারতে ফুড পয়জনিং করা হয়েছিল: রিজভী

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে ‘ফুড পয়জনিং’ করে তিলে তিলে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য রুহুল কবির রিজভী। এই ঘটনার নেপথ্যে প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে একটি ‘অতি জরুরি ও উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন’ তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

রোববার (১৬ আগস্ট) সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির মিলনায়তনে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম আয়োজিত বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, যে মানুষটি প্রতিটি মুহূর্তে স্বদেশ এবং দেশের জনগণের স্বার্থ নিয়ে ভেবেছেন, তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে ১৯৮১ সালে বিএনপিতে যোগদানের পর থেকে মৃত্যু পর্যন্ত তিনি চেয়ারপারসনের দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রতিটা ক্ষণ তিনি মানুষের পক্ষে কথা বলে গেছেন। আর এই জন্য তাকে সইতে হয়েছে অশেষ গঞ্জনা, অপপ্রচার এবং মিথ্যা কলঙ্কলেপন।

সাবেক সরকারের কঠোর সমালোচনা করে রিজভী বলেন, তার অসুস্থতাকে ফ্যাসিবাদী সরকার গ্রাহ্য করেনি। ওয়ান-ইলেভেনের সময় যারা নিজেরা বন্দি হয়ে অসুস্থতার অজুহাতে স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বা বিদেশে গেছেন, বেগম খালেদা জিয়ার ভাগ্যে সেই সুযোগটুকুও জোটেনি। তার উন্নত চিকিৎসার কোনো ব্যবস্থাই তারা করেনি।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, আমরা বারবার বলেছি যে, উনাকে তিলে তিলে শেষ করার জন্য ফুড পয়জনিং করা হয়েছে এবং এটা আসলে সত্য। বর্তমান সরকারের এ বিষয়ে একটি অতি জরুরি ও হাই পাওয়ারফুল তদন্ত কমিটি করা দরকার।

কারাগারে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, যে মানুষটি হেঁটে কারাগারের ভেতরে গেলেন, সেই মানুষটি জরাজীর্ণ অবস্থায়, অসুস্থতায় ধুঁকতে ধুঁকতে বের হলেন। এবং এই রোগে ধুঁকতে ধুঁকতেই গত বছর ৩০ ডিসেম্বর তার জীবনাবসান হলো।

বেগম খালেদা জিয়ার ব্যক্তিত্বের প্রভাব উল্লেখ করে রিজভী বলেন, তিনি ঘরে বসে থাকলেও আমরা তার বিরাট প্রভাব অনুভব করতাম। আমরা তখন তোয়াক্কা করতাম না— কে হাসিনা, কে তার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, কি তার নির্যাতন, গ্রেফতার, মামলা বা রিমান্ড! আমাদের একমাত্র লক্ষ্য ছিল গণতন্ত্র ফেরানো এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা। কারণ তার একমাত্র উৎস ছিলেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া।

এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের কথা স্মরণ করে রিজভী বলেন, তিনি বলেছিলেন এরশাদ একটি বেআইনি লোক, তার ক্ষমতা গ্রহণের কোনো অধিকার ছিল না। উনার মতো অনেকে বললেও পরে পালিয়ে গেছেন বা নির্বাচনে গেছেন; কিন্তু বেগম জিয়া যাননি। তিনি বলেছিলেন, এরশাদের অধীনে নির্বাচন হবে প্রতারণার নির্বাচন, যা প্রমাণিত হয়েছে। এই যে কথা এবং কাজের অসাধারণ মিল, এসব কারণেই জনগণ তাকে ভোলেনি এবং ১৯৯১ সালের অবাধ নির্বাচনে তাকে বিজয়ী করেছে।

ফারাক্কা ও রোহিঙ্গা ইস্যুতে খালেদা জিয়ার ভূমিকা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন তিনি ফারাক্কার পানির ন্যায্য পাওনার বিষয়টি জাতিসংঘে নিয়ে গেছেন। কার কত অ্যাটম বোম বা মিসাইল আছে তা তিনি পাত্তা দেননি। একইভাবে ১৯৯২ সালে রোহিঙ্গাদের তাড়ানো হলে তিনি হোয়াইট হাউজে গিয়ে আন্তর্জাতিক ফোরাম গড়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন।

নারীর ক্ষমতায়ন প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, খালেদা জিয়ার প্রথম আমলে ২৯ শতাংশ নারী তৈরি পোশাক শিল্পে নিয়োজিত হয়। ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত মেয়েদের অবৈতনিক শিক্ষা তিনি শুরু করেছিলেন এবং বিএ পর্যন্ত করার কথা দিয়েছিলেন।

তারেক রহমানের ১৮০ দিন

বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের ছয় মাস বা ১৮০ দিন পূর্ণ হওয়ার কথা উল্লেখ করে রিজভী বলেন, তারই ধারাবাহিকতায় আজ তার সুযোগ্য পুত্র তারেক রহমান দেশ পরিচালনা করছেন। তিনি মেয়েদের অনার্স পর্যন্ত বিনা বেতনে পড়ার সুযোগ করে দিয়েছেন। গত ১৮০ দিনে তিনি ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও হেলথ কার্ডের ঘোষণা দিয়েছেন। কিলোমিটারের পর কিলোমিটার খাল খনন এবং ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের কাজ শুরু করেছেন।

প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে সরকারের পদক্ষেপের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রদের ড্রেস, ব্যাগ ও জুতা দেওয়া হচ্ছে। ‘ওয়ান স্টুডেন্ট, ওয়ান ট্রি’ কর্মসূচি এবং শিক্ষকদের আধুনিক প্রযুক্তিতে দক্ষ করতে ট্যাব দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

খালেদা জিয়ার আইনি লড়াইয়ের কথা উল্লেখ করে রিজভী বলেন, ম্যাডামকে আমরা বলতাম মাদরাসা কোর্ট একটি ক্যাঙ্গারু কোর্ট, আন্দোলনে যাই। কিন্তু তিনি বলতেন— আন্দোলন চলুক, তবে আমি আইনি লড়াই শেষ পর্যন্ত দেখে ছাড়ব। জেলখানাতেও তাকে টলানো যায়নি। তিনি বীরদর্পী হিসেবে হিমালয়ের মতো অটুট থেকেছেন, শেখ হাসিনাকে কোনো স্বীকৃতি দেননি।

সবশেষে নেতাকর্মীদের দুর্নীতির আশ্রয় না নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে রিজভী বলেন, মঈনউদ্দিন-ফখরুদ্দিন চেষ্টা করেও যাকে দেশ থেকে বিতাড়িত করতে পারেনি, সেই দেশপ্রেমের পরাকাষ্ঠা অনুসরণ করলে আমরা সত্যিকারের জাতীয়তাবাদী হতে পারব। আমরা যদি নির্ভয় গণতান্ত্রিক সমাজ গড়তে পারি, তবেই তাকে প্রকৃত শ্রদ্ধা জানানো হবে।

মিলাদ মাহফিলে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি মাহবুব উদ্দিন খোকন, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী, অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল, বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক বদরুদ্দোজা বাদল, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সুব্রত চৌধুরী,  জাতীয়বাদী আইনজীবী সমিতির নেতা গাজী তৌহিদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল ইসলাম সজলসহ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে বেগম খালেদা জিয়া তার পরিবারের মৃত ব্যক্তি ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ এবং বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের শহীদ নেতাকর্মীদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় দোয়া করা হয়।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ