খুঁজুন
                               
, ,
           

নেপালে বন্যা-ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬২, নিখোঁজ ৫৭৯ পর্যটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬, ১০:২০ পূর্বাহ্ণ
নেপালে বন্যা-ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬২, নিখোঁজ ৫৭৯ পর্যটক

নেপালের মধ্যাঞ্চলীয় বাগমাতি প্রদেশের রসুয়া ও পার্শ্ববর্তী কয়েকটি জেলায় আকস্মিক বন্যা ও ভয়াবহ ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬২ জনে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে ৫৭৯ জন পর্যটক নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৪০০ জনের বেশি বিদেশি পর্যটক।

নেপালি পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে ৬৪ জনের মরদেহ চিতওয়ান জেলায় এবং আরও ২৬ জনের মরদেহ ইস্ট নওয়ালপরাসি জেলায় পাওয়া গেছে। এখনো নিখোঁজ থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে ২৮ জন পুলিশ সদস্যও রয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, নেপালে অন্তত ৫৪ জন মার্কিন পর্যটক নিখোঁজ রয়েছেন। দুর্গত মানুষের সহায়তায় নেপালকে ৫ লাখ ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। জরুরি আশ্রয়, বিশুদ্ধ পানি, স্যানিটেশন ও অন্যান্য ত্রাণসামগ্রী সরবরাহে এ অর্থ ব্যবহার করা হবে।

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি আলবানিজ জানিয়েছেন, ৩৪ জন অস্ট্রেলীয় নাগরিকও নিখোঁজ রয়েছেন।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ১০৫ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে। তাঁদের মধ্যে কলকাতার ৩২ জন।

দুর্যোগে নেপালের বিদ্যুৎ অবকাঠামোও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেশটির বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জলবিদ্যুৎ ও সৌরবিদ্যুৎ মিলিয়ে প্রায় ৪৩০ মেগাওয়াট উৎপাদন সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।

স্থানীয় পুলিশ নদীর তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার সতর্কতা দিয়েছে। দুর্গত এলাকায় হেলিকপ্টার ও উদ্ধারকর্মী মোতায়েন করেছে নেপাল সেনাবাহিনী।

নেপালের পাশাপাশি চীনের তিব্বতেও এই দুর্যোগের ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, তিব্বতের গিরং কাউন্টিতে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজের সংখ্যা বেড়ে ৫৫৮ হয়েছে। তাঁদের মধ্যে অন্তত ২৬০ জন বিদেশি নাগরিক।

নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধারে ‘সর্বাত্মক’ উদ্ধার অভিযান চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং।

চীন ও নেপালের মধ্যে পর্যটক ও যানবাহন চলাচলের অন্যতম প্রধান সীমান্তপথ গিরং। আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে ওই অঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।

নেপাল ও তিব্বতে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা এবং ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সুত্রঃ বিবিসি, রয়টার্স ও এএফপি

কালের আলো/এসএ

পরিবেশ ও জ্বালানি খাতে বাংলাদেশকে ১২ মিলিয়ন ইউরো অনুদান জার্মানির

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ২:৫৪ অপরাহ্ণ
পরিবেশ ও জ্বালানি খাতে বাংলাদেশকে ১২ মিলিয়ন ইউরো অনুদান জার্মানির

ম্যানগ্রোভ ও সামুদ্রিক সম্পদ সুরক্ষা এবং জ্বালানি দক্ষতা বৃদ্ধির দুটি প্রকল্পে বাংলাদেশকে মোট ১২ মিলিয়ন ইউরো অনুদান দেবে জার্মানি। এ লক্ষ্যে শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাজধানীর অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে (ইআরডি) বাংলাদেশ ও জার্মানির মধ্যে দুটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে।

বাংলাদেশের পক্ষে ইআরডির অতিরিক্ত সচিব ও ইউরোপ উইংয়ের প্রধান ড. রোকসানা তারান্নুম এবং জার্মান সরকারের পক্ষে জিআইজেডের কান্ট্রি ডিরেক্টর মার্ক গোমবার্ট নিজ নিজ পক্ষে এমওইউতে স্বাক্ষর করেন।

‘বেটার প্রটেকশন অব ম্যানগ্রোভস, সোয়াম্প ফরেস্টস অ্যান্ড মেরিন এরিয়াস (কানেক্ট)’ প্রকল্পে ৫ মিলিয়ন ইউরো অনুদান দেবে জার্মানি। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৭১ কোটি ৫২ লাখ টাকা। মৎস্য অধিদপ্তর ও বন অধিদপ্তর যৌথভাবে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।

এই প্রকল্পের আওতায় উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণে সামুদ্রিক ও উপকূলীয় সম্পদের সুরক্ষা, পুনরুদ্ধার এবং টেকসই ব্যবহার নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

অন্যদিকে ‘এনার্জি এফিশিয়েন্সি ফর সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট (ইই৪ডেভ)’ প্রকল্পে ৭ মিলিয়ন ইউরো বা প্রায় ১০০ কোটি ১২ লাখ টাকা অনুদান দেবে জার্মানি। স্রেডা ও বিএসটিআই যৌথভাবে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।

সরকারি-বেসরকারি অংশীজনের অংশগ্রহণে শিল্পকারখানা ও আবাসিক ভবনে জ্বালানি ব্যবহারের দক্ষতা বাড়ানো এবং জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুতের ব্যবহার কমানো হবে এই প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য।

উল্লেখ্য, ১৯৭২ সাল থেকে জার্মানি বাংলাদেশের অন্যতম উন্নয়ন সহযোগী। এ পর্যন্ত দেশটি বাংলাদেশকে প্রায় ৪ বিলিয়ন ইউরোর আর্থিক ও কারিগরি সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। বর্তমানে জিআইজেডের ১০৯ দশমিক ৬২ মিলিয়ন ইউরো অনুদানে বাংলাদেশে ১৯টি প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

উদ্ধারকাজের মাঝেই নতুন বিপদ, নেপালে ফের বানের শঙ্কা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ২:৪৭ অপরাহ্ণ
উদ্ধারকাজের মাঝেই নতুন বিপদ, নেপালে ফের বানের শঙ্কা

মাত্র দুই দিন আগে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় বিপর্যস্ত হয়েছে নেপালের বিভিন্ন এলাকা। এখনও চলছে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম। এর মধ্যেই তিব্বতের দিকে একটি ব্যারিয়ার হ্রদ উপচে পড়ায় দেশটিতে ফের আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

শুক্রবার সীমান্তের ওপারে একটি জলাধারের বাঁধ ভেঙে পানি বেরিয়ে আসার খবর পাওয়ার পর নেপালের রসুয়া এলাকায় উদ্ধারকাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। একই সঙ্গে ত্রিশূলী নদীতে পানির চাপ বাড়ার আশঙ্কায় চিতওয়ান ও ধাদিং এলাকায় হড়পা বানের সতর্কতা জারি করেছে প্রশাসন।

রসুয়া জেলার প্রশাসক নরেন্দ্র পারিয়ার জানান, সীমান্তের ওপারে পানি বেরিয়ে আসার খবর পাওয়ার পর নদীতে পানির প্রবাহ বাড়তে শুরু করেছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় নদীর কাছাকাছি বসবাসকারী মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

চীনের জলসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ছোছেন খোলা ও পুরেপু সাংপো নদীর সংযোগস্থলের কাছে একটি বড় ব্যারিয়ার হ্রদ তৈরি হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে সেখানে প্রায় ২০ লাখ ঘনমিটার পানি জমেছিল। পরে পানি উপচে পড়তে শুরু করলে নতুন করে বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়।

পরিস্থিতির কারণে রসুয়া জেলায় প্রায় ৯০ মিনিটের জন্য হেলিকপ্টারসহ উদ্ধার অভিযানও স্থগিত রাখা হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালানো হয়। উদ্ধারকারী দল, নিরাপত্তাকর্মী ও সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে নেপাল পুলিশ।

এদিকে ত্রিশূলী নদীতে আকস্মিকভাবে বিপুল পরিমাণ পানি নেমে আসার আশঙ্কায় চিতওয়ান ও ধাদিংয়েও সতর্কতা জারি করা হয়েছে। নদীসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ দূরত্বে থাকতে এবং প্রয়োজনে উঁচু এলাকায় আশ্রয় নিতে বলা হয়েছে।

এর মধ্যেই ভয়াবহ বন্যায় নেপালে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৭২ জনে দাঁড়িয়েছে। নেপাল ও তিব্বত মিলিয়ে প্রায় দেড় হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে। নেপাল সরকারের হিসাবে ৫১৭ জন বিদেশি নাগরিকও এখনও নিখোঁজ।

বিপর্যস্ত এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণকাজে ১৩ হাজারের বেশি নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। এর মধ্যে নেপাল পুলিশের ৭ হাজার ২৫০, সেনাবাহিনীর ৪ হাজার ২০০ এবং আর্মড পুলিশ ফোর্সের ১ হাজার ৮৪৫ সদস্য রয়েছেন। উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে ১৫টি হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হচ্ছে।

সরকারি হিসাবে এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৫২৩ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে হেলিকপ্টারের মাধ্যমে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে ১ হাজার ১৯৬ জনকে।

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত রসুয়া, নুয়াকোট ও ধাদিং জেলার জন্য আর্থিক সহায়তাও ঘোষণা করেছে নেপাল সরকার। রসুয়া ও নুয়াকোটকে এক কোটি করে এবং ধাদিং জেলাকে ৫০ লাখ নেপালি রুপি সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

ভয়াবহ বন্যার ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার আগেই নতুন করে বানের আশঙ্কায় নেপালের পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। উদ্ধার ও ত্রাণকাজের পাশাপাশি নদী তীরবর্তী এলাকায় সতর্কতা জোরদার করেছে প্রশাসন।

কালের আলো/এমএসআইপি

নতুন ভূমিধসের শঙ্কা, জিরং স্থলবন্দরে চীনের উদ্ধার অভিযান স্থগিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ২:১৪ অপরাহ্ণ
নতুন ভূমিধসের শঙ্কা, জিরং স্থলবন্দরে চীনের উদ্ধার অভিযান স্থগিত

নেপাল সীমান্তসংলগ্ন জিরং স্থলবন্দরের কাছে উদ্ধার অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে চীন। গত বুধবারের ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের পর ওই এলাকায় নতুন করে ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।

চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভির শুক্রবারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাহাড়ি ঢল ও ভূমিধসের কারণে পার্বত্য এলাকায় একটি কৃত্রিম হ্রদের সৃষ্টি হয়েছে। গত ৪৮ ঘণ্টায় হ্রদটির পানির স্তর ক্রমাগত বাড়ছে। ফলে যেকোনো সময় হ্রদটি ভেঙে গিয়ে প্রবল পানির স্রোত, কাদা ও পাথরের ধস নামতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

পরিস্থিতি এতটাই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে যে উদ্ধারকারী দলগুলোর পক্ষে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত জিরং স্থলবন্দরের দিকে এগিয়ে যাওয়া আপাতত সম্ভব হচ্ছে না। সিসিটিভির সঙ্গে থাকা এক প্রতিবেদক জানান, সামনের সারির দল থেকে জরুরি নির্দেশনা পাওয়ার পর সব উদ্ধারকারীকে জিরং বন্দরের দিকে আর না এগোতে বলা হয়েছে।

সিসিটিভি জানিয়েছে, উদ্ধারকারী দলের বেশির ভাগ সদস্য বর্তমানে জিরং শহরের লাওজিয়াং গ্রামের প্রবেশমুখে অবস্থান করছেন। গ্রামটি চীন-নেপাল সীমান্ত থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার দূরে।

এর আগে বুধবারের ভয়াবহ পাহাড়ি ঢল ও ভূমিধসে নেপাল ও চীন সীমান্তবর্তী পার্বত্য এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। দুর্যোগের পর থেকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চলছে। তবে নতুন করে ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় উদ্ধার তৎপরতাও এখন বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

কালের আলো/এসএ