খুঁজুন
                               
, ,
           

আইনশৃঙ্খলা ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে ৬৪ জেলার দায়িত্বে ৩০ মন্ত্রী-হুইপ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৫৪ অপরাহ্ণ
আইনশৃঙ্খলা ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে ৬৪ জেলার দায়িত্বে ৩০ মন্ত্রী-হুইপ

দেশের ৬৪ জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে ৩০ মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের হুইপকে দায়িত্ব দিয়েছে সরকার।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ দায়িত্ব বণ্টনের কথা জানানো হয়। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও হুইপরা নিজ নিজ দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলার সার্বিক সরকারি কার্যক্রম তদারকি ও সমন্বয় করবেন।

এ ছাড়া মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচার নিয়ন্ত্রণ, চোরাচালান প্রতিরোধ এবং গুরুতর অপরাধ দমনে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিতে পারবেন তারা। সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন, দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থান, সামাজিক নিরাপত্তা ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডও তারা তদারকি করবেন।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, টেকসই উন্নয়ন, সুশাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও দুর্নীতি নির্মূল বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। দায়িত্বপ্রাপ্তরা প্রয়োজন অনুযায়ী জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন সভায় অংশ নিয়ে পরামর্শও দিতে পারবেন।

দায়িত্বপ্রাপ্তদের মধ্যে ইকবাল হাসান মাহমুদকে রাজশাহী ও নাটোর, ড. আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেনকে লালমনিরহাট, নীলফামারী ও পঞ্চগড়, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানিকে চট্টগ্রাম এবং এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতকে শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া ঢাকার দায়িত্ব পেয়েছেন সুলতান আহমেদ টুকু। গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে হাবিবুর রশিদকে। সিলেট ও সুনামগঞ্জের দায়িত্ব পেয়েছেন মো. জি কে গউস। পার্বত্য তিন জেলা খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ও রাঙামাটির দায়িত্ব পেয়েছেন মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন।

প্রজ্ঞাপনে আরও বিভিন্ন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও হুইপের দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলার তালিকা উল্লেখ করা হয়েছে। এই দায়িত্ব বণ্টন অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

৬৪ জেলার দায়িত্বে ৩০ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী-হুইপ

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬, ৯:১২ অপরাহ্ণ
৬৪ জেলার দায়িত্বে ৩০ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী-হুইপ

আইনশৃঙ্খলা, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণে সরকারের ‘বিশেষ নজরদারি’, জেলাভিত্তিক দায়িত্ব পেলেন ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষ নেতারা দেশের ৬৪ জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে ৩০ মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের হুইপকে বিশেষ দায়িত্ব দিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে এসব জেলার উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের তদারকি ও সমন্বয়ের দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে তাদের।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ দায়িত্ব বণ্টনের কথা জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।

শুধু উন্নয়ন নয়, আইনশৃঙ্খলা ও দুর্নীতিতেও নজর
সরকারের এই সিদ্ধান্তের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক হলো—দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও হুইপদের কাজ কেবল উন্নয়ন প্রকল্প পর্যবেক্ষণে সীমাবদ্ধ থাকছে না। জেলার আইনশৃঙ্খলা, মাদক নিয়ন্ত্রণ, চোরাচালান প্রতিরোধ, গুরুতর অপরাধ দমন এবং দুর্নীতি প্রতিরোধের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও তাদের নজরদারির আওতায় থাকছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিতে পারবেন দায়িত্বপ্রাপ্তরা। জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের সভায় অংশ নেওয়া এবং সরকারি কর্মকাণ্ডের সমন্বয়েও তারা ভূমিকা রাখতে পারবেন। এর ফলে কেন্দ্রীয় সরকারের রাজনৈতিক নেতৃত্বকে জেলা প্রশাসনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে আরও সরাসরি সম্পৃক্ত করার একটি কাঠামো তৈরি হলো।

কেন এমন দায়িত্ব বণ্টন?
প্রজ্ঞাপনে সরকারের পক্ষ থেকে বিগত সরকারের আমলে বিভিন্ন জেলায় উন্নয়ন বরাদ্দে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের কথা তুলে ধরা হয়েছে। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, উন্নয়নের নামে বরাদ্দ করা অর্থের একটি অংশ দুর্নীতির মাধ্যমে আত্মসাৎ ও বিদেশে পাচার করা হয়েছে। অন্য অংশ সামাজিক অবক্ষয়, মাদক ও জননিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হয়েছে। নতুন সরকার দুর্নীতি দমন, সুশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং জবাবদিহিতাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়েছে। সেই নীতির অংশ হিসেবেই জেলা পর্যায়ে রাজনৈতিক নেতৃত্বের সরাসরি তদারকি জোরদার করার উদ্যোগ হিসেবে এই সিদ্ধান্তকে দেখা যায়।

সংবিধান ও ‘রুলস অব বিজনেস’-এর ভিত্তি
দায়িত্ব বণ্টনের বৈধতা প্রসঙ্গে প্রজ্ঞাপনে সংবিধানের ৫৫(২) অনুচ্ছেদ এবং রুলস অব বিজনেসের সংশ্লিষ্ট বিধানের উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর নির্বাহী ক্ষমতা প্রয়োগের সাংবিধানিক কর্তৃত্ব এবং রুলস অব বিজনেসের বিধান অনুসরণ করেই মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তের আলোকে এই দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য সাংবিধানিক ও সংবিধিবদ্ধ সংস্থার আইনগত ক্ষমতা যাতে খর্ব না হয়, সেটিও স্পষ্ট করা হয়েছে। অর্থাৎ, দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী বা হুইপরা জেলা প্রশাসনের বিকল্প কর্তৃপক্ষ নন; বরং তাদের ভূমিকা মূলত তদারকি, সমন্বয় ও পরামর্শ প্রদান।

৩০ জনের হাতে ৬৪ জেলার দায়িত্ব
দায়িত্ব বণ্টনের তালিকায় দেখা যায়, কোথাও একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা একটি জেলার দায়িত্ব পেয়েছেন, আবার কোথাও দুই বা তিনটি জেলা একসঙ্গে দেওয়া হয়েছে। ভৌগোলিকভাবে কাছাকাছি জেলাগুলোকে অনেক ক্ষেত্রে একই দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির আওতায় রাখা হয়েছে।

উল্লেখযোগ্যভাবে—ইকবাল হাসান মাহমুদ: রাজশাহী ও নাটোর, ড. আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন: লালমনিরহাট, নীলফামারী ও পঞ্চগড়, মো. শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি: চট্টগ্রাম, এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত: শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা, মো. আসাদুজ্জামান: খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট, জাকারিয়া তাহের: ফেনী ও নোয়াখালী, সাচিং প্রু: কক্সবাজার, সুলতান আহমেদ টুকু: ঢাকা, মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন: খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ও রাঙামাটি, হাবিবুর রশিদ: গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ, মীর শাহে আলম: রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম, ফারজানা শারমিন: সিরাজগঞ্জ ও পাবনা, শেখ ফরিদুল ইসলাম: যশোর, মাগুরা ও নড়াইল, মো. জি কে গউস: সিলেট ও সুনামগঞ্জ ও এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজাম: ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা ও চাঁদপুর। এ ছাড়া দেশের বাকি জেলাগুলোর দায়িত্বও নির্দিষ্ট মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও হুইপদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়েছে।

দায়িত্বের পরিধি বেশ বিস্তৃত
প্রজ্ঞাপনের ভাষা বিশ্লেষণ করলে দায়িত্বপ্রাপ্তদের সামনে মূলত পাঁচটি বড় কাজ দাঁড়ায়—আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণে নজরদারি, সুশাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ, উন্নয়ন কার্যক্রম তদারকি এবং সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে সহায়তা। এর পাশাপাশি দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির মতো জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমেও তারা পরামর্শ ও তদারকি করতে পারবেন।।ফলে এটি নিছক ‘জেলা দেখভালের’ দায়িত্ব নয়; বরং সরকারের নীতিগত অগ্রাধিকারগুলো মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নের জন্য একটি রাজনৈতিক সমন্বয় কাঠামো হিসেবেও এর গুরুত্ব রয়েছে।

সফলতা নির্ভর করবে সমন্বয়ের ওপর
তবে এই ব্যবস্থার কার্যকারিতা অনেকাংশেই নির্ভর করবে দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও হুইপদের সঙ্গে জেলা প্রশাসন, পুলিশ, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য সরকারি সংস্থার সমন্বয়ের ওপর। কারণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বা দুর্নীতি দমন সরাসরি বাস্তবায়ন করে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো। দায়িত্বপ্রাপ্ত রাজনৈতিক নেতাদের ভূমিকা যদি কার্যকর সমন্বয়, সমস্যা চিহ্নিতকরণ এবং সরকারের নীতির বাস্তবায়নে সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে এই উদ্যোগ জেলা পর্যায়ে জবাবদিহিতা বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে। অন্যদিকে, দায়িত্বের সীমারেখা অস্পষ্ট হলে প্রশাসনিক কাঠামোর সঙ্গে দ্বৈততা বা সমন্বয়হীনতার প্রশ্নও উঠতে পারে।

মাঠপর্যায়ে সরকারের নতুন নজরদারি কাঠামো
সব মিলিয়ে ৬৪ জেলায় ৩০ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও হুইপকে দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্তকে সরকারের মাঠপর্যায়ের প্রশাসন ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে রাজনৈতিক নজরদারি বাড়ানোর একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলা, মাদক ও দুর্নীতিকে একই কাঠামোর মধ্যে এনে উন্নয়ন ও জনকল্যাণের সঙ্গে সমন্বয় করার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তার বাস্তব ফল নির্ভর করবে দায়িত্বপ্রাপ্তরা কতটা সক্রিয়ভাবে মাঠের সমস্যা চিহ্নিত করেন এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর সঙ্গে কতটা কার্যকর সমন্বয় করতে পারেন তার ওপর। এখন দেখার বিষয়, প্রজ্ঞাপনের এই নতুন দায়িত্ব বাস্তবে জেলা পর্যায়ে দুর্নীতি, মাদক ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কতটা দৃশ্যমান পরিবর্তন আনতে পারে।

কালের আলো/এম/এএইচ

প্রদীপের জয়সূচক গোলে দুর্গাপুরের দুর্দান্ত জয়

রাজশাহী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬, ৯:০১ অপরাহ্ণ
প্রদীপের জয়সূচক গোলে দুর্গাপুরের দুর্দান্ত জয়

রাজশাহী জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচে তানোর উপজেলা ফুটবল দলকে ৩-২ গোলে হারিয়েছে দুর্গাপুর উপজেলা ফুটবল দল।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) রাজশাহীর মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে দুর্গাপুর। ম্যাচের ৩ মিনিটেই জুবায়ের গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। তবে ৯ মিনিটে তানোরের সাব্বির গোল করে সমতা ফেরান।

১৭ মিনিটে পলাশের গোলে আবারও ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় দুর্গাপুর। প্রথমার্ধের শেষদিকে ৩৬ মিনিটে তানোরের সাগর মোহন্ত গোল করলে ২-২ সমতায় বিরতিতে যায় দুই দল।

দ্বিতীয়ার্ধে জয়ের লক্ষ্যে মরিয়া হয়ে খেলতে থাকে উভয় দল। একের পর এক আক্রমণের পর ম্যাচের ৭১ মিনিটে প্রদীপের জয়সূচক গোলে ৩-২ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে দুর্গাপুর উপজেলা ফুটবল দল।

ম্যাচটি উপভোগ করতে দুর্গাপুর ও তানোর থেকে বিপুল সংখ্যক দর্শক স্টেডিয়ামে উপস্থিত হন। আগামীকাল শুক্রবার বিকেল ৪টায় চারঘাট উপজেলা ফুটবল দল মুখোমুখি হবে পুঠিয়া উপজেলা ফুটবল দলের।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেকে কী মনে করেন বুঝতে পারছি না: বিরোধীদলীয় নেতা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬, ৮:৫১ অপরাহ্ণ
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেকে কী মনে করেন বুঝতে পারছি না: বিরোধীদলীয় নেতা

সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার মধ্যে তাকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের উদ্দেশে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘উনি নিজেকে কী মনে করেন, আমি বুঝতে পারি না।’ একই সঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যকে ‘পার্লামেন্টারিয়ান ফ্যাসিজম’ আখ্যা দিয়ে তা এক্সপাঞ্জ ও দুঃখ প্রকাশের দাবি জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের প্রথম দিনের অধিবেশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য ঘিরে সংসদে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার পর জামায়াত আমির এসব কথা বলেন।

এর আগে বিরোধীদলীয় এক সংসদ সদস্যের প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘এটা শাহবাগ নয়, মহান জাতীয় সংসদ।’ তার এ বক্তব্যের প্রতিবাদে কুমিল্লা-৩ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহসহ বিরোধী দলের কয়েকজন সংসদ সদস্য আসন ছেড়ে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানান।

পরে বিরোধীদলীয় নেতা বক্তব্য দিতে দাঁড়ালে সরকার দলের আরেক সংসদ সদস্য কাউন্টার দেওয়ার চেষ্টা করেন। এতে আবারো উত্তেজনা তৈরি হয়। এ সময় ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘বক্তব্য কি আপনি দেবেন, না আমি দেব? আপনি দেন, আপনি দাঁড়ান, দাঁড়ান।’

স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মাইক মিউট করে সবাইকে থামান। পরে বিরোধীদলীয় নেতাকে বক্তব্য দেওয়ার অনুরোধ জানান।

বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমি সম্মানিত সংসদ সদস্য এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি সম্মান রেখে বলতে চাই-আজকে নতুন করে তিনি এই শব্দগুলো উচ্চারণ করেন নাই। সংসদ অধিবেশন যেদিন থেকে বসা শুরু হয়েছে, সেদিন থেকেই তিনি তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করেন সবাইকে। উনি নিজেকে কী মনে করেন আমি বুঝতে পারি না।’

জামায়াত আমির বলেন, ‘এমনকি তিনি সেই দুঃসাহস এখানে দাঁড়িয়ে দেখিয়েছেন-তিনি বলেছেন যে এই সংসদে তিনি শিক্ষকের ভূমিকা পালন করবেন। আমরা তার ছাত্র হওয়ার জন্য এখানে আসি নাই। শিক্ষকতা করতে হলে তিনি একটা ইউনিভার্সিটি খুলুন। ওখানে যার পছন্দ গিয়ে ভর্তি হবে। উনার লেকচার শুনবেন।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যকে ‘পার্লামেন্টারিয়ান ফ্যাসিজম’ আখ্যা দিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘এই পার্লামেন্টের সৌন্দর্য বিধানের জন্য উনাকে দুঃখ প্রকাশ করতে হবে এবং উনার বক্তব্য সংসদের এই কার্যপ্রণালি থেকে এক্সপাঞ্জ করতে হবে। এ দাবি মানা না হলে অপমান নিয়ে বিরোধী দলের সংসদে বসার কোনো প্রশ্নই ওঠে না।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ