খুঁজুন
                               
, ,
           

রিয়াজ কী গোপনে দেশত্যাগ করেছেন?

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৩৯ অপরাহ্ণ
রিয়াজ কী গোপনে দেশত্যাগ করেছেন?

ঢালিউডের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক রিয়াজ আহমেদ বর্তমানে কোথায় আছেন, তা নিয়ে আবারও জল্পনা তৈরি হয়েছে। চলচ্চিত্রপাড়ায় গুঞ্জন উঠেছে, গত বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) তিনি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে গোপনে দেশ ছেড়েছেন। তবে এ তথ্যের কোনো নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া যায়নি। রিয়াজ বা তার পরিবারের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এয়ারপোর্টের একটি সূত্র জানিয়েছে, রিয়াজ বিমানবন্দর দিয়ে দেশত্যাগ করেছেন—এমন কোনো তথ্য তাদের জানা নেই। তবে স্থলবন্দর দিয়ে দেশ ছাড়লে সেটি তাদের জানার কথা নয় বলেও সূত্রটি উল্লেখ করেছে।

এর আগে ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট রাতে যুক্তরাষ্ট্র যাওয়ার উদ্দেশ্যে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গিয়েছিলেন রিয়াজ। এমিরেটসের একটি ফ্লাইটে দুবাই হয়ে তার যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার কথা ছিল। তবে সে সময়ের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতির মধ্যে ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে বিমানবন্দর থেকে ফেরত পাঠায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের রাজনৈতিক আন্দোলনের সময় রিয়াজের কিছু কর্মকাণ্ড নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। পরবর্তী সময়ে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়েছে। সম্প্রতি জুলাই অভ্যুত্থান-সংশ্লিষ্ট দুটি হত্যা মামলায় আগাম জামিন চেয়ে আবেদন করেও তিনি তা পাননি। গত ৩ সেপ্টেম্বর আদালত তার জামিন আবেদন খারিজ করেন।

দীর্ঘদিন ধরে রিয়াজকে জনসম্মুখে বা এফডিসিতে দেখা যাচ্ছে না। তার ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরও বন্ধ রয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ফলে তার অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন ধরনের গুঞ্জন ছড়িয়েছে।

এর মধ্যে একটি গুঞ্জনে দাবি করা হয়, রিয়াজ সীমান্ত পেরিয়ে ভারত হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে চলে গেছেন। আবার কেউ কেউ বলছেন, তিনি দেশেই কোনো নিরাপদ স্থানে অবস্থান করছেন। তবে এসব দাবির কোনোটিই স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।

এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রিয়াজের মৃত্যুর গুজবও ছড়িয়ে পড়েছিল। পরে তার স্ত্রী গণমাধ্যমের কাছে বিষয়টি অস্বীকার করে জানান, খবরটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন এবং রিয়াজ ভালো আছেন। তবে তিনি রিয়াজ বর্তমানে কোথায় আছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি।

নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি ‘বাংলার নায়ক’ সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় রিয়াজের। এরপর ‘প্রাণের চেয়ে প্রিয়’, ‘হৃদয়ের আয়না’সহ বিভিন্ন সিনেমায় অভিনয় করে জনপ্রিয়তা পান তিনি। হুমায়ূন আহমেদের ‘শুভ্র’ চরিত্রেও তাকে দর্শকরা মনে রেখেছেন। সর্বশেষ ২০২২ সালে মুক্তি পাওয়া ‘অপারেশন সুন্দরবন’ সিনেমায় দেখা গেছে তাকে।

রিয়াজ সত্যিই গোপনে দেশত্যাগ করেছেন কি না, নাকি এখনো বাংলাদেশেই অবস্থান করছেন—এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

কালের আলো/এসএ

অতীতের কষ্ট পেরিয়ে নতুন সংসারে শবনম ফারিয়ার এক বছর

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:১৭ অপরাহ্ণ
অতীতের কষ্ট পেরিয়ে নতুন সংসারে শবনম ফারিয়ার এক বছর

প্রথম সংসারের তিক্ততা, নানা টানাপোড়েন ও মানসিক সংগ্রাম পেরিয়ে নতুন করে জীবন শুরু করেছেন জনপ্রিয় মডেল ও অভিনেত্রী শবনম ফারিয়া। ব্যাংক কর্মকর্তা তানজিম তৈয়বের সঙ্গে তাঁর দাম্পত্য জীবনের এক বছর পূর্ণ হয়েছে।

দ্বিতীয় বিবাহবার্ষিকীর প্রথম প্রহরে ঘরোয়াভাবে কেক কেটে উদযাপন করেন ফারিয়া ও তানজিম। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেই মুহূর্তের ছবি প্রকাশ করে স্বামীর প্রতি ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা জানান অভিনেত্রী।

নিজের জীবনের নানা ভুলের কথা স্মরণ করে ফারিয়া জানান, সামাজিকতা রক্ষার জন্য অনেক সময় নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে অন্যায় সহ্য করেছেন। এসব অভিজ্ঞতা তাঁর জীবনে গভীর মানসিক চাপ তৈরি করেছিল।

অতীতের সেই সময় কাটিয়ে উঠতে কাউন্সেলিং ও থেরাপির সহায়তাও নিয়েছেন বলে জানান তিনি। তাঁর ভাষায়, জীবনের বেশ কয়েকটি বছর সেই জমে থাকা কষ্ট ও মানসিক যন্ত্রণা থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টায় কেটে গেছে।

তবে দীর্ঘ সেই সময়ের পর তানজিমকে জীবনে পাওয়া এবং নতুন একটি পরিবারের অংশ হতে পারাকে বড় উপহার হিসেবে দেখছেন ফারিয়া। স্বামীর পাশাপাশি শ্বশুর-শাশুড়ি ও ননদের কাছ থেকেও ভালোবাসা পেয়েছেন বলে জানান তিনি।

বিবাহবার্ষিকীর শুভেচ্ছা জানাতে গিয়ে স্বামীকে নিয়ে মিষ্টি খুনসুটিও করেছেন অভিনেত্রী। তানজিমের জন্য তাঁর ‘নতুন বছরের’ পরামর্শ—ঘর থেকে বের হওয়ার সময় লাইট, ফ্যান ও এসি বন্ধ করা এবং ফ্রিজ থেকে পানি নেওয়ার পর দরজা বন্ধ করা!

ফারিয়ার বার্তায় উঠে এসেছে অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতা, মানসিক লড়াই পেরিয়ে ঘুরে দাঁড়ানো এবং নতুন সংসারে পাওয়া ভালোবাসা ও পারিবারিক বন্ধনের গল্প।

প্রসঙ্গত, ২০২০ সালে প্রথম স্বামী হারুনুর রশীদ অপুর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর ২০২৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর ব্যাংক কর্মকর্তা তানজিম তৈয়বকে বিয়ে করেন ফারিয়া। তানজিম অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব নিউ সাউথ ওয়েলস থেকে ফিন্যান্সিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন এবং বর্তমানে একটি বেসরকারি ব্যাংকে কর্মরত।

কালের আলো/এসএ

খান জাহান আলীর স্মৃতিবিজড়িত ষাটগম্বুজ মসজিদে পর্যটকের ভিড়

বাগেরহাট সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:১০ অপরাহ্ণ
খান জাহান আলীর স্মৃতিবিজড়িত ষাটগম্বুজ মসজিদে পর্যটকের ভিড়

বাংলাদেশের মুসলিম স্থাপত্যের অন্যতম অনন্য নিদর্শন বাগেরহাটের ঐতিহাসিক ষাটগম্বুজ মসজিদ। প্রাচীন স্থাপত্যশৈলী, বিশাল আয়তন ও ঐতিহাসিক গুরুত্বের কারণে মসজিদটি দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে দীর্ঘদিন ধরে আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে আছে।

ঐতিহাসিক সূত্র ও প্রচলিত তথ্য অনুযায়ী, মসজিদটি নির্মাণে প্রায় ১০ থেকে ১২ বছর সময় লেগেছিল। তবে মসজিদটির নামকরণ কীভাবে ‘ষাটগম্বুজ’ হলো, তা নিয়ে ইতিহাসবিদদের মধ্যে রয়েছে মতভেদ।

বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতি

বাগেরহাটের ঐতিহাসিক মসজিদ নগরীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর মধ্যে ষাটগম্বুজ মসজিদ অন্যতম। ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও স্থাপত্য বৈশিষ্ট্যের কারণে ১৯৮৫ সালে ইউনেস্কো বাগেরহাটের ঐতিহাসিক মসজিদ নগরীকে বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে।

মসজিদটির নির্মাণের সঙ্গে সুফি সাধক ও শাসক খান জাহান আলী (রহ.)-এর নাম জড়িয়ে রয়েছে। তিনি এ অঞ্চলে ইসলামের প্রচার ও জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

৭৭ গম্বুজ, তবু নাম ষাটগম্বুজ

নাম ষাটগম্বুজ হলেও মসজিদটির মূল ছাদে রয়েছে ৭৭টি গম্বুজ। এর চার কোণের চারটি বুরুজ যুক্ত করলে মোট সংখ্যা দাঁড়ায় ৮১টি। মসজিদের ভেতরে রয়েছে সারিবদ্ধ স্তম্ভ ও অসংখ্য খিলান। এসব স্থাপত্য বৈশিষ্ট্য মসজিদটির স্বাতন্ত্র্য ও প্রাচীন নির্মাণশৈলীর পরিচয় বহন করে।

মসজিদের নামকরণ নিয়ে বিভিন্ন মত প্রচলিত রয়েছে। কোনো কোনো ইতিহাসবিদের মতে, মসজিদের স্থাপত্য ও গম্বুজের বিন্যাসের সঙ্গে ‘ষাটগম্বুজ’ নামটির সম্পর্ক রয়েছে। আবার অন্যদের মতে, স্থানীয় উচ্চারণ, প্রচলন ও ঐতিহাসিক বিবর্তনের মাধ্যমে নামটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তবে নামকরণের নির্ভুল ইতিহাস নিয়ে এখনো মতভেদ রয়েছে।

পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্র

ঐতিহাসিক এই মসজিদ দেখতে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বাগেরহাটে আসেন পর্যটক ও দর্শনার্থীরা। দেশি-বিদেশি পর্যটকদের উপস্থিতিতে মসজিদ প্রাঙ্গণে তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।

দর্শনার্থীরা মসজিদের প্রাচীন স্থাপত্য, অভ্যন্তরের কারুকার্য, স্তম্ভ ও খিলান ঘুরে দেখেন। ইতিহাস ও স্থাপত্যের অনন্য সমন্বয় হওয়ায় ষাটগম্বুজ মসজিদ বাগেরহাটের অন্যতম প্রধান দর্শনীয় স্থান হিসেবে এখনও মানুষের আগ্রহের কেন্দ্র হয়ে আছে।

কালের আলো/এম/এসআইপি 

২৫ বছরেই বিদায়, স্মৃতিতে আজও অমলিন সালমান শাহ

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:০৭ অপরাহ্ণ
২৫ বছরেই বিদায়, স্মৃতিতে আজও অমলিন সালমান শাহ

বাংলা চলচ্চিত্রে মাত্র তিন বছরের পথচলা। অথচ এই অল্প সময়েই দর্শকের হৃদয়ে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছিলেন সালমান শাহ। অভিনয়ের পাশাপাশি পোশাক, চুলের স্টাইল, চলন-বলন—সবকিছুতেই তিনি হয়ে উঠেছিলেন তরুণ প্রজন্মের আইকন।

আজ ১৯ সেপ্টেম্বর, এই ক্ষণজন্মা নায়কের জন্মদিন। ১৯৭০ সালের এই দিনে সিলেটে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তার প্রকৃত নাম শাহরিয়ার চৌধুরী ইমন। বাবা কমর উদ্দিন চৌধুরী ও মা নীলা চৌধুরী।

১৯৯৩ সালে সোহানুর রহমান সোহান পরিচালিত ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হয় সালমান শাহর। একই সিনেমায় অভিষেক ঘটে মৌসুমীর। প্রথম সিনেমাতেই সাফল্য পাওয়ার পর দ্রুতই ঢালিউডের অন্যতম জনপ্রিয় তারকায় পরিণত হন তিনি।

বড় পর্দায় আসার আগে ছোট পর্দাতেও অভিনয় করেছেন সালমান শাহ। ‘আকাশ ছোঁয়া’, ‘দোয়েল’, ‘সব পাখি ঘরে ফেরে’, ‘সৈকতে সারস’, ‘নয়ন’ ও ‘স্বপ্নের পৃথিবী’সহ বেশ কয়েকটি নাটকে কাজ করেছেন তিনি। বিজ্ঞাপনেও ছিল তার উপস্থিতি।

মাত্র তিন বছরের চলচ্চিত্রজীবনে সালমান শাহ অভিনয় করেন ২৭টি সিনেমায়। এর মধ্যে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’, ‘তুমি আমার’, ‘অন্তরে অন্তরে’, ‘জীবন সংসার’, ‘চাওয়া থেকে পাওয়া’, ‘সুজন সখী’, ‘তোমাকে চাই’, ‘আনন্দ অশ্রু’, ‘স্বপ্নের ঠিকানা’সহ বেশ কয়েকটি সিনেমা দর্শকের কাছে জনপ্রিয়তা পায়।

সালমান শাহর সঙ্গে সবচেয়ে বেশি সিনেমায় জুটি বেঁধেছেন শাবনূর। তারা একসঙ্গে ১৪টি সিনেমায় অভিনয় করেন। তাদের পর্দার রসায়ন এখনো ঢালিউডের জনপ্রিয় জুটিগুলোর একটি হিসেবে স্মরণ করা হয়।

‘বুকের ভেতর আগুন’ ছিল সালমান শাহ অভিনীত শেষ সিনেমা। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর নিজ বাসায় তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। তার মৃত্যু নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা প্রশ্ন ও বিতর্ক রয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে আইনি প্রক্রিয়াও হয়েছে।

মাত্র ২৫ বছর বয়সে চলে গেলেও সালমান শাহর জনপ্রিয়তা কমেনি। স্বল্প সময়ের ক্যারিয়ারে তিনি যে স্বতন্ত্র অভিনয়শৈলী ও তারকা-ইমেজ তৈরি করেছিলেন, তা কয়েক দশক পরও বাংলা চলচ্চিত্রের দর্শকের স্মৃতিতে অমলিন।

কালের আলো/এসএ