ছোট্ট গবেষক জো নাগাইয়ের প্রজাপতি-রহস্য
জাপানের কিয়োটোতে আন্তর্জাতিক কীটতত্ত্ব সম্মেলনে মাত্র ১০ বছর বয়সে নিজের গবেষণা উপস্থাপন করে বিজ্ঞানীদের নজর কাড়ে জো নাগাই। তার গবেষণার প্রশ্ন ছিল—শুঁয়াপোকা প্রজাপতিতে রূপান্তরিত হওয়ার পরও কি আগের শেখা বিষয় মনে রাখতে পারে?
জো শুঁয়াপোকাকে ল্যাভেন্ডারের গন্ধের সঙ্গে হালকা বৈদ্যুতিক শকের অভিজ্ঞতা দেয়। পরে প্রজাপতিতে রূপান্তরের পর দেখা যায়, প্রশিক্ষণ পাওয়া প্রায় ৭০ শতাংশ প্রজাপতি ল্যাভেন্ডারের গন্ধ এড়িয়ে চলছে। অর্থাৎ রূপান্তরের পরও আগের অভিজ্ঞতার প্রভাব আচরণে রয়ে যেতে পারে।
আরও বিস্ময়কর বিষয় হলো, প্রশিক্ষণ না পাওয়া তাদের পরবর্তী প্রজন্মের অনেক প্রজাপতিও একই গন্ধ এড়িয়ে চলেছে। তৃতীয় প্রজন্মেও একই ধরনের প্রবণতা দেখা গেলেও নমুনা কম হওয়ায় জো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়নি।
ছোটবেলা থেকেই পোকামাকড়ের প্রতি আগ্রহী জো নিজের পর্যবেক্ষণ লিখে রাখত, আগের গবেষণা পড়ত এবং বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে যোগাযোগ করত। তার গবেষণা এখনো প্রজাপতির স্মৃতি বা শেখা আচরণ বংশপরম্পরায় কীভাবে প্রভাব ফেলে—তার চূড়ান্ত উত্তর দেয়নি। তবে একটি শিশুর সাধারণ কৌতূহল কীভাবে বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানে রূপ নিতে পারে, জো নাগাইয়ের গল্প তারই অনন্য উদাহরণ।
কালের আলো/এসএ

আপনার মতামত লিখুন
Array