খুঁজুন
                               
, ,
           

এক খুন, দুই গল্প—শেষ পর্যন্ত কে সত্য বলছে ‘হিজ অ্যান্ড হার্স’-এ?

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:০২ অপরাহ্ণ
এক খুন, দুই গল্প—শেষ পর্যন্ত কে সত্য বলছে ‘হিজ অ্যান্ড হার্স’-এ?

একটি খুন। এক দম্পতি। আর একই ঘটনাকে ঘিরে দুজনের দুই রকম গল্প। কে সত্য বলছে, আর কে মিথ্যা—এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে যত সামনে এগোয় গল্প, ততই বদলে যেতে থাকে চরিত্রগুলো সম্পর্কে দর্শকের ধারণা। নেটফ্লিক্সের রহস্য-থ্রিলার সিরিজ ‘হিজ অ্যান্ড হার্স’ এমনই এক গল্প নিয়ে শুরু হয়ে শেষ পর্যন্ত দর্শকদের বড় একটি অংশকে পর্দায় আটকে রাখতে পেরেছে।

নেটফ্লিক্সের ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসের হিসাবে, বছরের প্রথমার্ধে সবচেয়ে বেশি দেখা সিরিজ হয়েছে ‘হিজ অ্যান্ড হার্স’। জানুয়ারি থেকে জুন—এই ছয় মাসে সিরিজটির ভিউ দাঁড়িয়েছে ১০ কোটি ৪ লাখ। একই সময়ে নেটফ্লিক্সের সব ধরনের কনটেন্ট মিলিয়ে দেখা হয়েছে ৯৭ বিলিয়নের বেশি ঘণ্টা।

ছয় পর্বের সিরিজটি মুক্তি পায় ৮ জানুয়ারি। অ্যালিস ফিনির ২০২০ সালের একই নামের উপন্যাস অবলম্বনে সিরিজটি নির্মাণ করেছেন উইলিয়াম ওল্ডরয়েড। ‘লেডি ম্যাকবেথ’ ও ‘ইলিন’-এর মতো কাজের জন্য পরিচিত এই নির্মাতার সিরিজটির অন্যতম নির্বাহী প্রযোজক জেসিকা চ্যাস্টেইন। প্রধান দুই চরিত্রে অভিনয় করেছেন টেসা থম্পসন ও জন বার্নথাল।

খুনের তদন্তে মুখোমুখি স্বামী-স্ত্রী

গল্পের কেন্দ্রে আছেন আনা অ্যান্ড্রুজ ও জ্যাক হার্পার। আনা আটলান্টার একজন টেলিভিশন সংবাদ উপস্থাপক। ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনের নানা টানাপোড়েনে তিনি অনেকটাই নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছেন।

এর মধ্যেই নিজের বেড়ে ওঠার শহর ডালোনেগায় একটি হত্যাকাণ্ডের খবর পান আনা। ঘটনাটি তাঁর পুরোনো সাংবাদিক সত্তাকে আবার জাগিয়ে তোলে। তিনি হত্যার রহস্যের পেছনে ছুটতে শুরু করেন।

কিন্তু তদন্তের দায়িত্বে থাকা গোয়েন্দা জ্যাক হার্পারের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক পুরো ঘটনাকে জটিল করে তোলে। কারণ জ্যাকই আনার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন স্বামী।

এখান থেকেই শুরু হয় সিরিজের মূল রহস্য। একই হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে আনা ও জ্যাক যেন দুটি আলাদা গল্প বলছেন। একজন সাংবাদিক হিসেবে সত্য খুঁজছেন, অন্যজন গোয়েন্দা হিসেবে হত্যারহস্যের সমাধান করতে চাইছেন।

কিন্তু তদন্ত যত এগোয়, সন্দেহের তির ততই ঘুরে যায় তাঁদের দুজনের দিকেও। দুজনেরই ধারণা, অন্যজন এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কোনো না কোনোভাবে জড়িত।

ফলে ‘হিজ অ্যান্ড হার্স’ শুধু একটি হত্যাকাণ্ডের তদন্ত নয়; ভেঙে যাওয়া একটি দাম্পত্য সম্পর্কের ভেতরে লুকিয়ে থাকা গোপন সত্যও ধীরে ধীরে সামনে আসে।

টেসা থম্পসন ও জন বার্নথালের দ্বৈরথ

সিরিজটির অন্যতম আকর্ষণ টেসা থম্পসন ও জন বার্নথালের অভিনয়। ‘ক্রিড’, ‘থর’ ও ‘ওয়েস্টওয়ার্ল্ড’-এর মতো কাজের জন্য পরিচিত থম্পসন অভিনয় করেছেন আনা চরিত্রে। আর ‘দ্য পানিশার’ ও ‘দ্য বেয়ার’-এর মতো কাজের জন্য পরিচিত বার্নথাল অভিনয় করেছেন জ্যাকের ভূমিকায়।

আনা উচ্চাভিলাষী, বুদ্ধিমান ও দৃঢ়চেতা একজন সাংবাদিক। নিজের পেশাগত অবস্থান ফিরে পাওয়ার পাশাপাশি পুরোনো শহরের হত্যাকাণ্ডও তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে নাড়া দেয়। থম্পসন চরিত্রটির কঠোরতার পাশাপাশি তার ভেতরের ক্ষতও ফুটিয়ে তুলেছেন।

অন্যদিকে জ্যাকও সাদামাটা কোনো গোয়েন্দা চরিত্র নন। হত্যার তদন্তের পাশাপাশি তাঁকে নিজের অতীত, সম্পর্ক ও ভুল সিদ্ধান্তের ভারও বহন করতে হয়। ফলে আনা ও জ্যাকের সম্পর্কই হয়ে ওঠে রহস্যের আরেকটি স্তর।

সমালোচকদের একটি অংশও দুই অভিনেতার অভিনয়কে সিরিজটির অন্যতম শক্তি হিসেবে দেখেছেন। রহস্যের সব প্রশ্ন কতটা সন্তোষজনকভাবে সমাধান হয়েছে, তা নিয়ে মতভেদ থাকলেও থম্পসন ও বার্নথালের অভিনয় দর্শকের আগ্রহ ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

শুধু খুন নয়, সম্পর্কের গল্পও

হত্যাকাণ্ডের পাশাপাশি সিরিজটিতে রয়েছে বিশ্বাসভঙ্গ, পুরোনো সম্পর্ক, প্রতিশোধ, পারিবারিক দ্বন্দ্ব এবং অতীতের নানা গোপন ঘটনা।

আনা ও জ্যাকের দাম্পত্য কেন ভেঙে গেল, তাঁদের মধ্যে আসলে কী ঘটেছিল—এই প্রশ্নও ধীরে ধীরে হত্যারহস্যের অংশ হয়ে ওঠে।

তাঁদের চারপাশের প্রায় প্রতিটি চরিত্রেরই রয়েছে কোনো না কোনো গোপন তথ্য। আনার মা অ্যালিস, জ্যাকের বোন জো, টেলিভিশন কর্মী রিচার্ড, লেক্সিসহ অন্য চরিত্রগুলোও তদন্তকে একাধিক দিকে নিয়ে যায়।

ফলে দর্শককে বারবার নিজের ধারণা বদলাতে হয়—যাকে একসময় সন্দেহভাজন মনে হচ্ছে, পরের মুহূর্তেই তার গল্পের অন্য একটি দিক সামনে আসে।

অভিনয়ে আরও আছেন পাবলো শ্রেইবার, ক্রিস্টাল ফক্স, সুনীতা মণি, রেবেকা রিটেনহাউস ও মেরিন আয়ারল্যান্ড।

কেন এত দর্শক দেখল

সিরিজটির জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ এর সরল কিন্তু কার্যকর প্রশ্ন—খুনি কে?

তবে শুধু হত্যারহস্য নয়, প্রতিটি পর্বে নতুন তথ্য যোগ হওয়া এবং আগের ঘটনাগুলোর অর্থ বদলে যাওয়াই দর্শকদের পরের পর্বে টেনে নেয়।

মাত্র ছয় পর্বের সীমিত সিরিজ হওয়ায় গল্পও খুব বেশি দীর্ঘ হয়নি। ফলে একসঙ্গে একাধিক পর্ব দেখার সুযোগ তৈরি হয়েছে। দ্য গার্ডিয়ানও সিরিজটিকে দ্রুতগতির ও সহজে একের পর এক পর্ব দেখার মতো থ্রিলার হিসেবে বর্ণনা করেছে।

নেটফ্লিক্সের পরিসংখ্যানেও দর্শকের আগ্রহের প্রতিফলন দেখা গেছে। ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে ১০ কোটি ৪ লাখ ভিউ নিয়ে ‘হিজ অ্যান্ড হার্স’ ছিল সবচেয়ে বেশি দেখা সিরিজ। কাছাকাছি অবস্থানে ছিল ‘ব্রিজারটন’-এর চতুর্থ মৌসুম, যার ভিউ ছিল ১০ কোটি ২ লাখ।

জনপ্রিয়তার পাশাপাশি সমালোচনাও

দর্শকের আগ্রহের সঙ্গে সমালোচকদের প্রতিক্রিয়া অবশ্য পুরোপুরি মেলেনি।

রটেন টমেটোজে ৫২টি সমালোচনার ভিত্তিতে সিরিজটির সমালোচক স্কোর ৭১ শতাংশ এবং দর্শক স্কোর ৬২ শতাংশ। মেটাক্রিটিকে ২১ জন সমালোচকের পর্যালোচনার ভিত্তিতে সিরিজটির স্কোর ৫৪/১০০—যা ‘মিশ্র বা গড়পড়তা’ প্রতিক্রিয়ার মধ্যে পড়ে।

তবে ভ্যারাইটি ও আইজিএনের মতো কিছু সমালোচক টেসা থম্পসন ও জন বার্নথালের রসায়ন এবং গল্পের গতির প্রশংসা করেছেন।

অন্যদিকে হলিউড রিপোর্টার ও রজারএবার্ট ডটকমের পর্যালোচনায় গল্পের যুক্তি, অতিরিক্ত চমক এবং চরিত্রগুলোর কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। টাইমও সিরিজটির আবহ ও গল্প বলার ধরন নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।

অর্থাৎ সমালোচকদের আপত্তির বড় জায়গা গল্পের যুক্তি ও গভীরতা। তবে দর্শককে পরের পর্বে নিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা নিয়ে সিরিজটি যে সফল হয়েছে, নেটফ্লিক্সের দর্শকসংখ্যা তার একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত।

পরিচিত গল্প, নতুন উপস্থাপন

‘হিজ অ্যান্ড হার্স’ রহস্য-থ্রিলারের নতুন কোনো সূত্র আবিষ্কার করেনি। খুন, সন্দেহভাজন, গোপন সম্পর্ক, অতীতের ঘটনা এবং শেষ মুহূর্তের মোড়—সবই পরিচিত উপাদান।

তবে এসব উপাদানকে ছয় পর্বে এমনভাবে সাজানো হয়েছে, যাতে দর্শকের মনে বারবার একই প্রশ্ন ফিরে আসে—আসলে সত্যিটা কী?

এর সঙ্গে যোগ হয়েছে টেসা থম্পসন ও জন বার্নথালের অভিনয়। একই ঘটনার দুই ভিন্ন দিক থেকে আনা ও জ্যাকের গল্প এগিয়ে যায়। ফলে ‘হিজ’ আর ‘হার্স’ শুধু স্বামী-স্ত্রীর দুই পক্ষ নয়; একই সম্পর্ক, একই অতীত এবং একই ঘটনার দুই ভিন্ন সত্যের প্রতিনিধিও হয়ে ওঠে।

সূত্র: নেটফ্লিক্স, আইএমডিবি, দ্য গার্ডিয়ান ও স্ক্রিন র‍্যান্ট

কালের আলো/এসএ

‘এআই আসবেই, তবে মানুষ সত্যিকারের জিনিস দেখতে চায়’: টম ক্রুজ

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:১৫ অপরাহ্ণ
‘এআই আসবেই, তবে মানুষ সত্যিকারের জিনিস দেখতে চায়’: টম ক্রুজ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়ে হলিউডে আলোচনা ও বিতর্ক বেশ পুরোনো। চলচ্চিত্র নির্মাণে প্রযুক্তির ব্যবহার যেমন নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলছে, তেমনি অভিনেতা, নির্মাতা ও কলাকুশলীদের কাজের ভবিষ্যৎ নিয়েও তৈরি হচ্ছে নানা প্রশ্ন। এই বিতর্কের মধ্যেই এবার এআই নিয়ে নিজের অবস্থান জানালেন হলিউডের বর্ষীয়ান অভিনেতা টম ক্রুজ।

তার মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার ভবিষ্যতে আরও বাড়বে। প্রযুক্তির এই অগ্রগতিকে থামিয়ে রাখা সম্ভব নয় বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। তবে এআইয়ের ব্যবহার বাড়লেও দর্শকদের চাহিদার জায়গায় খুব বড় পরিবর্তন আসবে না বলে মনে করেন এই অভিনেতা। তার ভাষায়, মানুষ এখনো পর্দায় ‘সত্যিকারের’ অভিজ্ঞতা দেখতে চায়।

সম্প্রতি লন্ডনে ব্রিটিশ অ্যাকাডেমি অব ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন আর্টসের (বাফটা) ‘লাইফ ইন পিকচার্স’ অনুষ্ঠানে অংশ নেন টম ক্রুজ। সেখানে তাকে এআই নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘এটা আসছে এবং এটা ঘটবেই।’ একই সঙ্গে তিনি মনে করেন, প্রযুক্তির পরিবর্তনের মধ্যেও নির্মাতা ও অভিনয়শিল্পীদের সৃষ্টিশীল কাজ চালিয়ে যেতে হবে।

এআই প্রসঙ্গে টম ক্রুজের এমন মন্তব্য তার দীর্ঘ অভিনয়জীবনের সঙ্গেও বেশ সামঞ্জস্যপূর্ণ। বিশেষ করে অ্যাকশন সিনেমায় বাস্তবধর্মী অভিনয় ও ঝুঁকিপূর্ণ স্টান্ট করার জন্য আলাদা পরিচিতি রয়েছে তার। অনেক সিনেমায় নিজের স্টান্ট নিজেই করার কারণে দর্শকদের কাছে তার অ্যাকশন দৃশ্যগুলো আলাদা আকর্ষণ তৈরি করেছে।

এদিকে শুধু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নয়, সিনেমা দেখার মাধ্যম নিয়েও নিজের মতামত জানিয়েছেন টম ক্রুজ। ওটিটি প্ল্যাটফর্মে সিনেমা বা সিরিজ দেখানোর বিষয়ে তার আপত্তি নেই বলে জানান তিনি। তবে প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে বড়পর্দায় সিনেমা দেখার অভিজ্ঞতাকে সম্পূর্ণ ভিন্ন বলে মনে করেন এই অভিনেতা।

টম ক্রুজের মতে, দর্শকের সঙ্গে বড়পর্দার সিনেমার যে অভিজ্ঞতা তৈরি হয়, তা ঘরে বসে কোনো ডিভাইসে সিনেমা দেখার অভিজ্ঞতার মতো নয়। প্রেক্ষাগৃহে সিনেমা দেখা তার কাছে ‘একটি আলাদা শিল্পমাধ্যম’।

চার দশকেরও বেশি সময় ধরে হলিউডে কাজ করছেন টম ক্রুজ। ‘টপ গান: ম্যাভেরিক’ থেকে ‘মিশন: ইমপসিবল’—বিভিন্ন সফল অ্যাকশন সিনেমায় তার অভিনয় দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। বিশেষ করে বাস্তব লোকেশনে শুটিং এবং শারীরিক স্টান্টের ক্ষেত্রে তার আগ্রহ দীর্ঘদিন ধরেই আলোচিত।

ফলে এআইয়ের ক্রমবর্ধমান ব্যবহারের সময়েও দর্শক ‘সত্যিকারের’ অভিজ্ঞতা চায়—টম ক্রুজের এমন মন্তব্যকে তার নিজের দীর্ঘ ক্যারিয়ারের অভিজ্ঞতার আলোকে দেখা হচ্ছে।

নতুন সিনেমা নিয়েও উচ্ছ্বসিত

এদিকে টম ক্রুজের পরবর্তী সিনেমা ‘ডিগার’ নিয়েও দর্শকদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। ছবিটি পরিচালনা করেছেন অস্কারজয়ী নির্মাতা আলেহান্দ্রো গনজালেস ইন্যারিতু। এই প্রথম ইন্যারিতুর সঙ্গে কাজ করেছেন টম ক্রুজ।

‘দ্য রেভেন্যান্ট’-এর পর এটি ইন্যারিতুর প্রথম ইংরেজি ভাষার সিনেমা। ছবিতে টম ক্রুজকে দেখা যাবে ডিগার রকওয়েল নামের এক তেল ব্যবসায়ীর চরিত্রে।

সিনেমার গল্পে ওই ব্যবসায়ীর প্রতিষ্ঠানের কর্মকাণ্ড থেকেই একটি বড় ধরনের পরিবেশগত বিপর্যয়ের সূত্রপাত হয়। পরিস্থিতি ক্রমে এমন পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে, যার পরিণতি পারমাণবিক যুদ্ধের মতো ভয়াবহ সংকটের দিকেও গড়াতে পারে। নতুন এই সিনেমা নিয়ে টম ক্রুজ নিজেও বেশ আশাবাদী।

কালের আলো/এসএ

নিজের স্ট্রেচমার্ক নিয়ে গর্বিত পরিণীতি, ট্রোলিং নিয়ে ক্ষোভ

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:১৪ অপরাহ্ণ
নিজের স্ট্রেচমার্ক নিয়ে গর্বিত পরিণীতি, ট্রোলিং নিয়ে ক্ষোভ

মা হওয়ার পর একজন নারীর জীবনে বদলে যায় অনেক কিছু। বদলায় জীবনযাপন, দায়িত্ব, ঘুমের সময়, মানসিকতার সঙ্গে বদলে যায় শরীরও। কিন্তু সেই স্বাভাবিক পরিবর্তনই যখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়, তখন প্রশ্ন ওঠে—একজন নারীকে কেন সন্তান জন্ম দেওয়ার পরও আগের শরীরের মাপে ফিরে যাওয়ার হিসাব দিতে হবে?

এই প্রশ্নই এবার জোরালোভাবে তুলেছেন বলিউড অভিনেত্রী পরিণীতি চোপড়া। সন্তান জন্মের পর নারীদের শরীরের পরিবর্তন, ওজন বৃদ্ধি কিংবা স্ট্রেচমার্ক নিয়ে কটাক্ষের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন তিনি। এমনকি নতুন মায়েদের শরীর নিয়ে ট্রোলিংকে ‘একেবারেই অশিক্ষিত’ মানসিকতা বলে মন্তব্য করেছেন অভিনেত্রী।

সম্প্রতি ‘জুম’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রসব-পরবর্তী শরীর নিয়ে সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি এবং নারী অভিনয়শিল্পীদের প্রতি বাড়তি নজরদারি নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন পরিণীতি। নিজের অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরে তিনি প্রশ্ন করেন—গর্ভধারণের ফলে শরীরে যে পরিবর্তন আসে, সেটিকে কেন সৌন্দর্যের নেতিবাচক দিক হিসেবে দেখা হবে?

‘সন্তান জন্ম দেওয়ার পর স্ট্রেচমার্ক থাকলে অভিনন্দন জানানো উচিত’

পরিণীতির মতে, একজন নারীর শরীরে সন্তান জন্মের পর যে পরিবর্তন আসে, সেটিকে লুকানোর বা দ্রুত মুছে ফেলার বিষয় হিসেবে দেখা উচিত নয়।

অভিনেত্রী উদাহরণ দিয়ে বলেন, কেউ জিম করে শরীরে পেশি তৈরি করলে মানুষ সেটিকে ইতিবাচকভাবে নেয়। কেউ সমুদ্রসৈকতে গিয়ে ত্বক তামাটে করে ফিরলে সেটিও স্বাভাবিকভাবে দেখা হয়। তাহলে সন্তান জন্মের পর একজন নারীর শরীরে পরিবর্তন এলে সেটিকে কেন নেতিবাচকভাবে দেখা হবে—এই প্রশ্নই তার।

পরিণীতির ভাষায়, “একজন নারীর দিকে তাকিয়ে যখন বলা হয়, ‘ওহ মাই গড, তুমি কি সন্তান জন্ম দিয়েছ?’ আর সে যখন বলে, ‘হ্যাঁ, আমার স্ট্রেচমার্ক দেখো, আমি সন্তান জন্ম দিয়েছি’, তখন আমার মনে হয়—‘বাহ, অভিনন্দন! তোমার সন্তান কেমন আছে?’”

তার প্রশ্ন, “এটা কখন নেতিবাচক হয়ে গেল?”

‘ছয় মাস পরই আগের চেহারায় ফিরতে হবে—এমন চাপ কেন?’

সন্তান জন্মের কয়েক মাসের মধ্যেই নারীদের আগের শারীরিক গঠনে ফিরে যাওয়ার প্রত্যাশাকেও প্রশ্ন করেছেন পরিণীতি।

তার মতে, মা হওয়ার পর একজন নারীর শরীরকে সময় দেওয়া প্রয়োজন। সন্তান জন্মের মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে শরীর আগের মতো না হওয়ায় তাকে নিয়ে মন্তব্য করা বা চাপ তৈরি করা কোনোভাবেই স্বাভাবিক নয়।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “কে আপনাকে অধিকার দিয়েছে একজন প্রসব-পরবর্তী নারীকে বলার—‘তোমার সন্তান হওয়ার ছয় মাস হয়ে গেছে, এবার আগের অবস্থায় ফিরে আসো’? আমি এটাকে একেবারেই অশিক্ষিত মানসিকতা মনে করি।”

পরিণীতির বক্তব্যের কেন্দ্রে রয়েছে একটি বিষয়—সন্তান জন্ম দেওয়া কোনো নারীর শরীরের ‘ত্রুটি’ তৈরি করে না। বরং শরীরে থাকা প্রতিটি পরিবর্তনের পেছনে রয়েছে মাতৃত্বের অভিজ্ঞতা।

নিজের স্ট্রেচমার্ককে ‘সুন্দর’ মনে করেন পরিণীতি

নিজের শরীরের পরিবর্তন নিয়েও ইতিবাচক অবস্থানের কথা জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী।

তিনি বলেন, “আমি আমার স্ট্রেচমার্কের দিকে তাকিয়ে ভাবি—আমি জানি কেন এগুলো হয়েছে। কারণ আমি একটি সন্তান জন্ম দিয়েছি। আমার কাছে এটা খুবই সুন্দর।”

তার প্রশ্ন, “কখন এবং কীভাবে শরীরের এই পরিবর্তন বা স্ট্রেচমার্ক নেতিবাচক হয়ে গেল, সেটাই আমার কাছে অদ্ভুত লাগে।”

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যারা নতুন মায়েদের শরীর নিয়ে মন্তব্য করেন, তাদের এসব কথা গুরুত্ব না দেওয়ার পরামর্শও দিয়েছেন তিনি। তার মতে, অন্যের শরীর নিয়ে মন্তব্য করার পরিবর্তে মানুষের নিজের জীবন নিয়েই ব্যস্ত থাকা উচিত।

নারী-পুরুষের ক্ষেত্রে কেন আলাদা মাপকাঠি?

শুধু প্রসব-পরবর্তী শরীর নিয়েই নয়, বলিউডে নারী ও পুরুষ শিল্পীদের জন্য আলাদা সামাজিক মাপকাঠি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন পরিণীতি।

তার মতে, বিয়ের পর কোনো নারী অভিনয়শিল্পী যদি একটু অগোছালো বা ‘মেসি’ ধরনের চরিত্রে অভিনয় করেন, তখনও তাকে নিয়ে নানা মন্তব্য শুরু হয়। কিন্তু একই ধরনের চরিত্রে কোনো পুরুষ অভিনয় করলে বিষয়টি নিয়ে সাধারণত এতটা আলোচনা হয় না।

এই দ্বৈত মানসিকতার বিরুদ্ধেই সরব হয়েছেন তিনি। তার বক্তব্যের মধ্য দিয়ে উঠে এসেছে, নারী অভিনয়শিল্পীদের ব্যক্তিগত জীবন, শরীর, বিয়ে, মাতৃত্ব—প্রতিটি বিষয় নিয়েই যেন বাড়তি বিচার-বিশ্লেষণ করা হয়।

ক্যাটরিনাকে ঘিরে ট্রোলিংয়ের প্রসঙ্গও উঠে এসেছে

পরিণীতির এই মন্তব্যের সময় স্বাভাবিকভাবেই সামনে এসেছে আরেক বলিউড অভিনেত্রী ক্যাটরিনা কাইফের প্রসঙ্গ।

সন্তান জন্মের পর সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে ক্যাটরিনার উপস্থিতির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তার চেহারা ও ওজন নিয়ে নানা মন্তব্য করেন কিছু নেটিজেন। বিষয়টি নিয়ে বলিউডের কয়েকজন তারকাও ক্যাটরিনার পাশে দাঁড়ান। সালমান খানও প্রকাশ্যে এই ধরনের মন্তব্যের সমালোচনা করেছেন।

এই পরিস্থিতির মধ্যেই পরিণীতির বক্তব্য নতুন করে আলোচনায় এসেছে। কারণ তিনিও সন্তান জন্মের পর কাজে ফিরেছেন এবং নিজের শরীরের পরিবর্তন নিয়ে জনসমক্ষে কথা বলতে পিছপা হননি।

মা হওয়ার পর নতুন কাজে ফিরলেন পরিণীতি

২০২৫ সালে ছেলে নীরের মা হন পরিণীতি চোপড়া। মাতৃত্বের পর এবার অভিনয়ে ফিরেছেন তিনি। তার নতুন থ্রিলার সিরিজ ‘শক: ট্রাস্ট নো ওয়ান’ ২৪ সেপ্টেম্বর নেটফ্লিক্সে মুক্তি পেয়েছে। এটি মা হওয়ার পর তার প্রথম প্রজেক্ট।

সিরিজটির গল্প আবর্তিত হয়েছে এক মাকে ঘিরে, যার সন্তান নিখোঁজ হওয়ার পর দীর্ঘ নয় বছর ধরে সে সত্যের সন্ধান চালিয়ে যায়। যতই সময় গড়ায়, ততই সামনে আসতে থাকে নানা গোপন তথ্য ও সম্পর্কের জটিলতা।

রেনসিল ডি’সিলভা ও সিদ্ধার্থ পি. মালহোত্রার নির্মিত এই সিরিজে পরিণীতির সঙ্গে অভিনয় করেছেন জেনিফার উইঙ্গেট, তাহির রাজ ভাসিন, সোনি রাজদান, সুমিত ব্যাসসহ আরও অনেকে।

‘মা হওয়ার পর শরীর বদলাবে, এটাই স্বাভাবিক’

পরিণীতির বক্তব্য শুধু নিজের শরীর নিয়ে নয়, বরং সন্তান জন্মের পর প্রতিটি নারীর প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়েও একটি বড় প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছে।

একজন নারী সন্তান জন্ম দেওয়ার পর তার শরীরে ওজন বাড়তে পারে, স্ট্রেচমার্ক দেখা দিতে পারে, আগের মতো শারীরিক গঠন নাও থাকতে পারে—এসবই মাতৃত্ব-পরবর্তী পরিবর্তনের অংশ। সেই পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে কটাক্ষ বা দ্রুত আগের চেহারায় ফিরে যাওয়ার চাপ তৈরি করার বদলে একজন নতুন মাকে সময় ও সম্মান দেওয়া উচিত—এটাই মূলত বলতে চেয়েছেন পরিণীতি।

তার নিজের ক্ষেত্রেও শরীরের পরিবর্তনকে তিনি কোনো নেতিবাচক বিষয় হিসেবে দেখছেন না। বরং স্ট্রেচমার্ককে সন্তান জন্ম দেওয়ার স্মৃতি হিসেবেই দেখছেন।

আর তাই তার প্রশ্নটি খুব সরল—যে শরীর একটি নতুন প্রাণকে পৃথিবীতে এনেছে, সেই শরীরের পরিবর্তনকে কেন লজ্জার বিষয় হিসেবে দেখা হবে?

মাতৃত্বের পর নিজের অভিজ্ঞতা থেকে পরিণীতি যে বার্তা দিয়েছেন, তা শুধু বলিউডের নারী তারকাদের জন্য নয়; বরং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যের শরীর নিয়ে মন্তব্য করা প্রত্যেকের জন্যই একটি ভাবনার জায়গা তৈরি করেছে।

কালের আলো/জেএন

বিয়ের পর নতুন গান নিয়ে ফিরছেন টেলর সুইফট

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:০৪ অপরাহ্ণ
বিয়ের পর নতুন গান নিয়ে ফিরছেন টেলর সুইফট

বিয়ের পর ব্যক্তিগত জীবনে নতুন অধ্যায়ে পা রেখেছেন মার্কিন পপ তারকা টেলর সুইফট। এবার সেই নতুন অধ্যায়কে আরও বিশেষ করে তুলতে নতুন গান নিয়ে হাজির হচ্ছেন বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় এই সংগীতশিল্পী। আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর মুক্তি পাচ্ছে তার নতুন একক গান ‘প্যাশিয়েন্ট জিরো’।

গানটি মুক্তির সময়টিও বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, নতুন গান প্রকাশের মাত্র দুই দিন পরই মঞ্চে উঠবেন টেলর সুইফট। আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এমটিভি ভিডিও মিউজিক অ্যাওয়ার্ডস (ভিএমএ) অনুষ্ঠানের আগে নতুন গান দিয়ে ভক্তদের চমক দিতে যাচ্ছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে নতুন গানের ঘোষণা দেন টেলর। সেখানে নতুন একটি ছবি প্রকাশ করে জানান, গানটি নিয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণাটি দেওয়ার জন্য তিনি দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষা করছিলেন।

ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনের গুরুত্বপূর্ণ এক সময়েই নতুন গানটির ঘোষণা দিলেন এই পপ তারকা। গত ৩ জুলাই নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে এনএফএল তারকা ট্রাভিস কেলসিকে বিয়ে করেন টেলর। প্রায় এক হাজার অতিথির উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত ওই বিয়েতে ছিল তাদের নিজেদের লেখা শপথ। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতাও ছিল বিশেষ আয়োজনের অংশ।

এদিকে টেলর সুইফটের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে ইতোমধ্যে ‘প্যাশিয়েন্ট জিরো’ গানের প্রি-অর্ডারের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। মূল সংস্করণের পাশাপাশি গানটির অ্যাকুস্টিক ও পিয়ানো সংস্করণও প্রকাশ করা হবে। বিশেষ করে পিয়ানো সংস্করণের প্রচ্ছদ নিয়ে ভক্তদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। সেখানে টেলরকে তার বাগদানের আংটি প্রদর্শন করতে দেখা গেছে।

অ্যালবাম ও নতুন কাজ

টেলর সুইফটের সর্বশেষ অ্যালবাম ‘দ্য লাইফ অব আ শোগার্ল’ প্রকাশিত হয় ২০২৫ সালের অক্টোবরে। প্রকাশের পর অ্যালবামটি বিলবোর্ড ২০০-এর শীর্ষে ১২ সপ্তাহ অবস্থান করে। অ্যালবামটিতে ‘দ্য ফেট অব ওপেলিয়া’ ও ‘ওপালাইট’-এর মতো আলোচিত গানও ছিল।

এর বাইরে চলতি বছর ‘টয় স্টোরি ৫’ সিনেমার সাউন্ডট্র্যাকের জন্য ‘আই নিউ ইট আই নিউ ইউ’ গানটিও প্রকাশ করেছেন টেলর। ফলে নতুন একক গান প্রকাশের ঘোষণায় আবারও তার সংগীতজীবন নিয়ে ভক্তদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

এমটিভি ভিএমএতে বিশেষ সম্মাননা

নতুন গান প্রকাশের পরপরই টেলর সুইফটের সামনে রয়েছে আরও একটি বিশেষ আয়োজন। ২৫ সেপ্টেম্বর গানটি প্রকাশের মাত্র দুই দিন পর এমটিভি ভিএমএ অনুষ্ঠানে তাকে প্রথমবারের মতো দেওয়া ‘আর্টিস্ট ডিরেক্টরস অনার্স’ সম্মানে ভূষিত করা হবে।

একই অনুষ্ঠানে নয়টি পুরস্কারের জন্য মনোনয়নও পেয়েছেন টেলর। ফলে নতুন গান, বিশেষ সম্মাননা ও একাধিক মনোনয়ন—সব মিলিয়ে সেপ্টেম্বরের শেষটা পপ তারকার ক্যারিয়ারে বেশ ব্যস্ত সময় হিসেবেই সামনে আসছে।

কালের আলো/এসএ