খুঁজুন
                               
, ,
           

‘এআই আসবেই, তবে মানুষ সত্যিকারের জিনিস দেখতে চায়’: টম ক্রুজ

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:১৫ অপরাহ্ণ
‘এআই আসবেই, তবে মানুষ সত্যিকারের জিনিস দেখতে চায়’: টম ক্রুজ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়ে হলিউডে আলোচনা ও বিতর্ক বেশ পুরোনো। চলচ্চিত্র নির্মাণে প্রযুক্তির ব্যবহার যেমন নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলছে, তেমনি অভিনেতা, নির্মাতা ও কলাকুশলীদের কাজের ভবিষ্যৎ নিয়েও তৈরি হচ্ছে নানা প্রশ্ন। এই বিতর্কের মধ্যেই এবার এআই নিয়ে নিজের অবস্থান জানালেন হলিউডের বর্ষীয়ান অভিনেতা টম ক্রুজ।

তার মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার ভবিষ্যতে আরও বাড়বে। প্রযুক্তির এই অগ্রগতিকে থামিয়ে রাখা সম্ভব নয় বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। তবে এআইয়ের ব্যবহার বাড়লেও দর্শকদের চাহিদার জায়গায় খুব বড় পরিবর্তন আসবে না বলে মনে করেন এই অভিনেতা। তার ভাষায়, মানুষ এখনো পর্দায় ‘সত্যিকারের’ অভিজ্ঞতা দেখতে চায়।

সম্প্রতি লন্ডনে ব্রিটিশ অ্যাকাডেমি অব ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন আর্টসের (বাফটা) ‘লাইফ ইন পিকচার্স’ অনুষ্ঠানে অংশ নেন টম ক্রুজ। সেখানে তাকে এআই নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘এটা আসছে এবং এটা ঘটবেই।’ একই সঙ্গে তিনি মনে করেন, প্রযুক্তির পরিবর্তনের মধ্যেও নির্মাতা ও অভিনয়শিল্পীদের সৃষ্টিশীল কাজ চালিয়ে যেতে হবে।

এআই প্রসঙ্গে টম ক্রুজের এমন মন্তব্য তার দীর্ঘ অভিনয়জীবনের সঙ্গেও বেশ সামঞ্জস্যপূর্ণ। বিশেষ করে অ্যাকশন সিনেমায় বাস্তবধর্মী অভিনয় ও ঝুঁকিপূর্ণ স্টান্ট করার জন্য আলাদা পরিচিতি রয়েছে তার। অনেক সিনেমায় নিজের স্টান্ট নিজেই করার কারণে দর্শকদের কাছে তার অ্যাকশন দৃশ্যগুলো আলাদা আকর্ষণ তৈরি করেছে।

এদিকে শুধু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নয়, সিনেমা দেখার মাধ্যম নিয়েও নিজের মতামত জানিয়েছেন টম ক্রুজ। ওটিটি প্ল্যাটফর্মে সিনেমা বা সিরিজ দেখানোর বিষয়ে তার আপত্তি নেই বলে জানান তিনি। তবে প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে বড়পর্দায় সিনেমা দেখার অভিজ্ঞতাকে সম্পূর্ণ ভিন্ন বলে মনে করেন এই অভিনেতা।

টম ক্রুজের মতে, দর্শকের সঙ্গে বড়পর্দার সিনেমার যে অভিজ্ঞতা তৈরি হয়, তা ঘরে বসে কোনো ডিভাইসে সিনেমা দেখার অভিজ্ঞতার মতো নয়। প্রেক্ষাগৃহে সিনেমা দেখা তার কাছে ‘একটি আলাদা শিল্পমাধ্যম’।

চার দশকেরও বেশি সময় ধরে হলিউডে কাজ করছেন টম ক্রুজ। ‘টপ গান: ম্যাভেরিক’ থেকে ‘মিশন: ইমপসিবল’—বিভিন্ন সফল অ্যাকশন সিনেমায় তার অভিনয় দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। বিশেষ করে বাস্তব লোকেশনে শুটিং এবং শারীরিক স্টান্টের ক্ষেত্রে তার আগ্রহ দীর্ঘদিন ধরেই আলোচিত।

ফলে এআইয়ের ক্রমবর্ধমান ব্যবহারের সময়েও দর্শক ‘সত্যিকারের’ অভিজ্ঞতা চায়—টম ক্রুজের এমন মন্তব্যকে তার নিজের দীর্ঘ ক্যারিয়ারের অভিজ্ঞতার আলোকে দেখা হচ্ছে।

নতুন সিনেমা নিয়েও উচ্ছ্বসিত

এদিকে টম ক্রুজের পরবর্তী সিনেমা ‘ডিগার’ নিয়েও দর্শকদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। ছবিটি পরিচালনা করেছেন অস্কারজয়ী নির্মাতা আলেহান্দ্রো গনজালেস ইন্যারিতু। এই প্রথম ইন্যারিতুর সঙ্গে কাজ করেছেন টম ক্রুজ।

‘দ্য রেভেন্যান্ট’-এর পর এটি ইন্যারিতুর প্রথম ইংরেজি ভাষার সিনেমা। ছবিতে টম ক্রুজকে দেখা যাবে ডিগার রকওয়েল নামের এক তেল ব্যবসায়ীর চরিত্রে।

সিনেমার গল্পে ওই ব্যবসায়ীর প্রতিষ্ঠানের কর্মকাণ্ড থেকেই একটি বড় ধরনের পরিবেশগত বিপর্যয়ের সূত্রপাত হয়। পরিস্থিতি ক্রমে এমন পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে, যার পরিণতি পারমাণবিক যুদ্ধের মতো ভয়াবহ সংকটের দিকেও গড়াতে পারে। নতুন এই সিনেমা নিয়ে টম ক্রুজ নিজেও বেশ আশাবাদী।

কালের আলো/এসএ

দেশের উন্নয়নে চীনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে হবে: শিক্ষামন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৪৩ অপরাহ্ণ
দেশের উন্নয়নে চীনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে হবে: শিক্ষামন্ত্রী

কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), শিল্পের সঙ্গে শিক্ষার সংযোগ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও সুনীল অর্থনীতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের উন্নয়নে চীনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

তিনি বলেছেন, তরুণদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে চীনের অভিজ্ঞতাও বাংলাদেশের কাজে লাগতে পারে।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ঢাকা চায়না ডে ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। শিক্ষা ও উন্নয়নে দুই দেশের বন্ধুত্ব, আস্থা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে এ সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী হবে।

তিনি আরও বলেন, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা (টিভেট), কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, শিল্প-শিক্ষা সংযোগ এবং ব্লু ইকোনমিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দেশের উন্নয়নে ‘চীনা মডেল’ গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে চীনের উন্নয়ন অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে হবে।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ড. এহছানুল হক মিলন বলেন, জাতি শিক্ষার্থীদের দিকে তাকিয়ে আছে, তারাই আমাদের ভবিষ্যৎ। তাই ‘আগামীর বাংলাদেশ’ গড়তে তাদের যোগ্য ও দক্ষ করে গড়ে তুলতে কাজ করছি।

বাংলাদেশের জনমিতিক সুবিধা বা ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’ কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, এটি দেশের জন্য একটি বড় সুযোগ। এই সুযোগ কাজে লাগাতে তরুণদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এক্ষেত্রেও চীনের সহযোগিতা ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো যেতে পারে।

শিল্প ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সংযোগ তৈরিতে চীনের অভিজ্ঞতা অনুসরণীয় উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটকে একটি মডেল হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। একইভাবে চাঁদপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের উন্নয়নেও কাজ চলছে।

নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও প্রযুক্তির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার সৌরবিদ্যুৎ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। পাশাপাশি ইলেকট্রিক ভেহিকল (ইভি), সবুজ প্রযুক্তি ও আধুনিক পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নে কাজ চলছে। রোবটিক্স ও ব্লু ইকোনমির মতো সম্ভাবনাময় খাতেও চীনের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশ কাজে লাগাতে পারে।

বাংলাদেশকে ‘এডুকেশন হাব’ হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশে ‘ক্রস-বর্ডার এডুকেশন’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আন্তর্জাতিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সহযোগিতার মাধ্যমে উচ্চশিক্ষাকে আরও যুগোপযোগী ও মানসম্মত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, তরুণরাই ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ক এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশের শিক্ষা ও উন্নয়ন কার্যক্রমে চীনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. ফরাসউদ্দিন। স্বাগত বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য অধ্যাপক শামস রহমান।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

জনগণের আস্থা ফেরাতে ব্যাংকারদের কাজ করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৩৬ অপরাহ্ণ
জনগণের আস্থা ফেরাতে ব্যাংকারদের কাজ করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থার ওপর জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার এবং ব্যাংকিং খাতের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে ব্যাংক মালিক ও ব্যাংকার নেতাদের দায়িত্বশীলভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বঙ্গভবনে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) সভাপতি আব্দুল হাই সরকারের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপতির প্রেস উইংয়ের বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সাক্ষাৎকালে বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি ২৬টি ব্যাংকের চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তারা প্রতিনিধিদলে অংশ নেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, বিগত বছরগুলোতে ক্ষমতাশালী মহলের সহায়তায় দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার হয়েছে। এতে ব্যাংকিং খাত ভঙ্গুর অবস্থায় পৌঁছেছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ এবং গ্রাহক ও সাধারণ মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে সরকার, ব্যাংক মালিক ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বিগত শাসনামলে গোয়েন্দা বাহিনীকে ব্যবহার করে ব্যাংক দখল ও জোর করে শেয়ার লিখে নেওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে। বর্তমান সরকারের সময়ে ব্যাংকগুলোতে কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিকে পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে না উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন, এ উদ্যোগ ব্যাংকিং খাতের অনিয়ম বন্ধে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

রাষ্ট্রপতি ব্যাংকের সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিলের অর্থ প্রযুক্তি ও প্রকৌশল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও কলেজ প্রতিষ্ঠাসহ সামাজিক উন্নয়ন ও মানবকল্যাণে ব্যয়ের আহ্বান জানান। পাশাপাশি তরুণ ও নতুন উদ্যোক্তাদের ঋণসুবিধা নিশ্চিত এবং কৃষি প্রক্রিয়াজাত শিল্পসহ উদ্ভাবনী খাতে বিনিয়োগে উৎসাহিত করতে ব্যাংকারদের প্রতি আহ্বান জানান।

সাক্ষাৎকালে ব্যাংক নেতারা বলেন, ব্যাংকিং খাত দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। তবে ক্ষমতাশালী গোষ্ঠীর মাধ্যমে অর্থ পাচারের কারণে বিপুল পরিমাণ ঋণ খেলাপি হয়েছে। আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষা করতে না পারা তাদের জন্য অপমানজনক বলেও তারা মন্তব্য করেন।

ব্যাংক নেতারা ডিজিটাল অর্থনীতি ও কিউআর কোড চালু, ব্যাংকিং খাতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, গ্রাম পর্যায়ে শাখা সম্প্রসারণ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সুরক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে তারা ব্যাংকিং খাতের বর্তমান সমস্যা, চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন।

কালের আলো/এমএসআইপি 

সাংবাদিক প্রবেশে ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত, ফিরছে প্রেস পাস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৩৬ অপরাহ্ণ
সাংবাদিক প্রবেশে ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত, ফিরছে প্রেস পাস

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনকে সিএনএন, এমএস নাও ও পলিটিকোর সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসে প্রবেশাধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির একটি ফেডারেল আদালত। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) মার্কিন ডিস্ট্রিক্ট বিচারক টিম কেলি এ আদেশ দেন।

আদালত বলেছেন, ওই তিন সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘটনা ‘সম্ভবত অসাংবিধানিক’। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের প্রেস পাস বাতিলের সিদ্ধান্তের পক্ষে জাতীয় নিরাপত্তার যথেষ্ট প্রমাণ প্রশাসন দেখাতে পারেনি বলেও উল্লেখ করেছেন বিচারক।

১৪ দিনের জন্য নিষেধাজ্ঞা স্থগিত

বিচারক টিম কেলি ট্রাম্প প্রশাসনকে সিএনএন, এমএস নাও ও পলিটিকোর সাংবাদিকদের প্রেস পাস অবিলম্বে ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি পরবর্তী ১৪ দিনের জন্য তাদের ওপর আরোপ করা নিষেধাজ্ঞা কার্যকর না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এর ফলে আদালতের আদেশ অনুযায়ী ওই তিন সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকরা আবারও হোয়াইট হাউসে গিয়ে সংবাদ সংগ্রহের সুযোগ পাবেন।

জাতীয় নিরাপত্তার যুক্তি নাকচ

ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, জাতীয় নিরাপত্তার কারণেই তিন সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

তবে বিচারক কেলি প্রশাসনের এই যুক্তির পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ পাননি। তিনি বলেন, সাংবাদিকদের প্রেস পাস বাতিল করলে জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষা হবে—এমন কোনো তথ্যপ্রমাণ আদালতের সামনে উপস্থাপন করা হয়নি। একইভাবে প্রেস পাস ফিরিয়ে দিলে জাতীয় নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়বে—এমন প্রমাণও পাওয়া যায়নি।

‘ভুয়া খবর’ প্রচারের অভিযোগ ট্রাম্পের

সিএনএন, এমএস নাও ও পলিটিকোর বিরুদ্ধে ‘ভুয়া খবর’ প্রচারের অভিযোগ তুলে গত ১৮ সেপ্টেম্বর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিলেন ট্রাম্প। এর পর ওই তিন সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকদের সংবাদ সংগ্রহের কাজে হোয়াইট হাউসে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে নিয়ে প্রতিবেদন করার সময় এসব সংবাদমাধ্যমকে ‘মিথ্যা ও মনগড়া’ তথ্য প্রকাশের সুযোগ দেওয়া উচিত নয়।

ট্রাম্প আরও ইঙ্গিত দেন, ‘ভুয়া খবর’ প্রচার করা অন্য সংবাদমাধ্যমগুলোর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

ওয়াশিংটন পোস্ট ও নিউইয়র্ক টাইমসের নামও উল্লেখ

এ সময় ট্রাম্পকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, কোন কোন সংবাদমাধ্যমকে তিনি ‘ভুয়া খবর’ প্রচারকারী হিসেবে দেখছেন। জবাবে তিনি ওয়াশিংটন পোস্ট ও নিউইয়র্ক টাইমসের নাম উল্লেখ করেন।

ভবিষ্যতে এসব সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

দীর্ঘদিনের বিরোধে নতুন অধ্যায়

ট্রাম্পের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের বিরোধ নতুন নয়। তাঁর প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকেই সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে নানা বিষয়ে প্রকাশ্য মতবিরোধ দেখা গেছে।

তবে সিএনএন, এমএস নাও ও পলিটিকোর সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পর বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলো তাদের সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার ফিরিয়ে দিতে আইনি পদক্ষেপ নেয়।

বৃহস্পতিবারের আদেশে আপাতত সেই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রাখা বন্ধ হয়েছে। ফলে হোয়াইট হাউস ও সংবাদমাধ্যমগুলোর মধ্যকার চলমান বিরোধে আদালতের এই সিদ্ধান্ত নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ার জন্য হোয়াইট হাউস এবং সংশ্লিষ্ট তিন সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত তাদের কাছ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

কালের আলো/এসএ