খুঁজুন
                               
, ,
           

‘মিস ও ডিসইনফরমেশন’ বিরোধী রাজনীতির হাতিয়ার: প্রিন্স

ময়মনসিংহ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৫৫ অপরাহ্ণ
‘মিস ও ডিসইনফরমেশন’ বিরোধী রাজনীতির হাতিয়ার: প্রিন্স

‘মিস ও ডিসইনফরমেশন’ বিরোধী দলের রাজনীতির হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স। তিনি অভিযোগ করেন, বিরোধী দলীয় নেতাসহ জামায়াত-এনসিপি জোটের নেতারা সরকারের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর প্রচার চালিয়ে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছেন। একই সঙ্গে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ অনলাইন-অফলাইনে গুজব ছড়ানো ও নাশকতার মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ময়মনসিংহের ধোবাউড়া বাজারে উপজেলা বিএনপি আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সমাবেশ শেষে ধোবাউড়া বাজারের বিভিন্ন সড়কে প্রতিবাদ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নাশকতা এবং বিরোধী দলের লাগামহীন বক্তব্যের প্রতিবাদে উপজেলা বিএনপি এই কর্মসূচি পালন করেন।

সরকার সিদ্ধান্তই নেয়নি, অথচ আগ বাড়িয়ে বিভ্রান্তি

রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের বেতন-ভাতা বাড়ানো নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানের বক্তব্যের প্রসঙ্গে এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, সরকার এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্তই নেয়নি। তাই কাল্পনিক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আগাম আন্দোলনের ঘোষণা জনগণকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা। তিনি বলেন, রাজনীতি হতে হবে সত্য ও তথ্যনির্ভর; কাল্পনিক বিষয়কে কেন্দ্র করে রাজপথে কর্মসূচি দেওয়া দায়িত্বশীল রাজনীতির পরিচয় নয়।

গঠনমূলক বিরোধিতার আহ্বান

বিরোধী দলের গঠনমূলক সমালোচনা ও দায়িত্বশীল ভূমিকার বিরুদ্ধে বিএনপি নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রতিটি বিষয়কে আন্দোলন ও সরকার পতনের কর্মসূচিতে পরিণত করলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে দেশ, জনগণ ও গণতন্ত্র। বিরোধী দলের বিকল্প পরিকল্পনা থাকলে তা সরকার ও জনগণের সামনে তুলে ধরার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বাস্তবসম্মত ও গ্রহণযোগ্য প্রস্তাব হলে সরকার তা বিবেচনা করতে পারে।

সাত মাসেই সরকার পতনের দাবি কেন—প্রশ্ন প্রিন্সের

জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত সরকারের সাত মাসের মধ্যেই পদত্যাগের দাবি তোলাকে রাজনৈতিক অপরিপক্বতা হিসেবে উল্লেখ করে এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, নির্বাচিত সরকারকে কাজ করার ন্যূনতম সময় ও সুযোগ না দিয়ে দ্রুত সরকার পতনের দাবি জনমনে প্রশ্ন তৈরি করছে। তিনি বলেন, শক্তিশালী বিরোধী দল গণতন্ত্রের জন্য প্রয়োজন; তবে বিরোধিতা মানেই সরকারকে অস্থিতিশীল করা বা প্রতিদিন সরকার পতনের স্লোগান দেওয়া নয়।

আওয়ামী লীগের নাশকতার বিরুদ্ধে বিরোধী দলের নীরবতা কেন?

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নাশকতা ও সন্ত্রাসের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পরাজিত শক্তি দেশকে আবার অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। নাশকতার বিরুদ্ধে জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যারা সহিংসতা ও নাশকতার সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক, প্রশাসনিক ও আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব বলেন, জামায়াত-এনসিপির নেতারা আওয়ামী লীগের নাশকতার বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান না নিয়ে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারকে এক দফার হুমকি দেওয়া, দায়িত্বজ্ঞানহীন কর্মসূচি ও লাগামহীন বক্তব্যের মাধ্যমে গণঅভ্যুত্থানে পতিত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগকে লাভবান করছেন। এতে গণঅভ্যুত্থান ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের ফসল নস্যাৎ করতে নাশকতার সাহস পাচ্ছে তারা।

বিরোধী দলের লংমার্চ কর্মসূচির সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিরোধিতা করার অধিকার সবার আছে; কিন্তু বিরোধিতার নামে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারের সাত মাসের মধ্যে লংমার্চের মতো কর্মসূচি, এক দফার হুমকি ও উসকানিমূলক বক্তব্যের কারণে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসী তৎপরতা বিস্তারের সুযোগ পাচ্ছে।

দুঃখভারাক্রান্ত হৃদয়ে সরকার জ্বালানি তেলের দাম বাড়াতে বাধ্য হয়েছে

জ্বালানি তেলের সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধির প্রসঙ্গে এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, সরকার খুশি মনে নয়, জনগণের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেই দুঃখভারাক্রান্ত হৃদয়ে এ সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিতিশীলতা এবং পার্শ্ববর্তী দেশে জ্বালানি তেলের দামের পার্থক্যের কারণে সম্ভাব্য পাচার ঠেকাতে মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব যাতে জনগণের ওপর সর্বনিম্ন থাকে, সরকার সে বিষয়ে সচেষ্ট রয়েছে। তিনি বলেন, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সুযোগে কোনো অসৎ মহল জনগণের দুর্ভোগ সৃষ্টি করে অযৌক্তিকভাবে পরিবহন ভাড়াসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে অতিরিক্ত মুনাফা লাভ করতে চাইলে সরকার তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবে।

ধোবাউড়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক আজহারুল ইসলাম কাজলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মিছিল-পূর্ব সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব আনিসুর রহমান মানিক, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের আহবায়ক  বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কাদের , উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোয়াজ্জেম হোসেন খান লিটন, ফরহাদ রব্বানী সুমন, হাবিবুর রহমান হাবিব, আব্দুল ওয়াহের তালুকদার, আব্দুল কুদ্দুস, চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর, মাহবুবুল আলম বাবুল ,সোলায়মান সরকার, আব্দুল মোমেন শাহিন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

সমাবেশে উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

দেশের উন্নয়নে চীনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে হবে: শিক্ষামন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৪৩ অপরাহ্ণ
দেশের উন্নয়নে চীনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে হবে: শিক্ষামন্ত্রী

কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), শিল্পের সঙ্গে শিক্ষার সংযোগ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও সুনীল অর্থনীতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের উন্নয়নে চীনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

তিনি বলেছেন, তরুণদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে চীনের অভিজ্ঞতাও বাংলাদেশের কাজে লাগতে পারে।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ঢাকা চায়না ডে ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। শিক্ষা ও উন্নয়নে দুই দেশের বন্ধুত্ব, আস্থা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে এ সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী হবে।

তিনি আরও বলেন, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা (টিভেট), কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, শিল্প-শিক্ষা সংযোগ এবং ব্লু ইকোনমিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দেশের উন্নয়নে ‘চীনা মডেল’ গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে চীনের উন্নয়ন অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে হবে।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ড. এহছানুল হক মিলন বলেন, জাতি শিক্ষার্থীদের দিকে তাকিয়ে আছে, তারাই আমাদের ভবিষ্যৎ। তাই ‘আগামীর বাংলাদেশ’ গড়তে তাদের যোগ্য ও দক্ষ করে গড়ে তুলতে কাজ করছি।

বাংলাদেশের জনমিতিক সুবিধা বা ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’ কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, এটি দেশের জন্য একটি বড় সুযোগ। এই সুযোগ কাজে লাগাতে তরুণদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এক্ষেত্রেও চীনের সহযোগিতা ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো যেতে পারে।

শিল্প ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সংযোগ তৈরিতে চীনের অভিজ্ঞতা অনুসরণীয় উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটকে একটি মডেল হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। একইভাবে চাঁদপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের উন্নয়নেও কাজ চলছে।

নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও প্রযুক্তির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার সৌরবিদ্যুৎ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। পাশাপাশি ইলেকট্রিক ভেহিকল (ইভি), সবুজ প্রযুক্তি ও আধুনিক পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নে কাজ চলছে। রোবটিক্স ও ব্লু ইকোনমির মতো সম্ভাবনাময় খাতেও চীনের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশ কাজে লাগাতে পারে।

বাংলাদেশকে ‘এডুকেশন হাব’ হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশে ‘ক্রস-বর্ডার এডুকেশন’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আন্তর্জাতিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সহযোগিতার মাধ্যমে উচ্চশিক্ষাকে আরও যুগোপযোগী ও মানসম্মত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, তরুণরাই ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ক এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশের শিক্ষা ও উন্নয়ন কার্যক্রমে চীনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. ফরাসউদ্দিন। স্বাগত বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য অধ্যাপক শামস রহমান।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

জনগণের আস্থা ফেরাতে ব্যাংকারদের কাজ করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৩৬ অপরাহ্ণ
জনগণের আস্থা ফেরাতে ব্যাংকারদের কাজ করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থার ওপর জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার এবং ব্যাংকিং খাতের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে ব্যাংক মালিক ও ব্যাংকার নেতাদের দায়িত্বশীলভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বঙ্গভবনে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) সভাপতি আব্দুল হাই সরকারের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপতির প্রেস উইংয়ের বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সাক্ষাৎকালে বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি ২৬টি ব্যাংকের চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তারা প্রতিনিধিদলে অংশ নেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, বিগত বছরগুলোতে ক্ষমতাশালী মহলের সহায়তায় দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার হয়েছে। এতে ব্যাংকিং খাত ভঙ্গুর অবস্থায় পৌঁছেছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ এবং গ্রাহক ও সাধারণ মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে সরকার, ব্যাংক মালিক ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বিগত শাসনামলে গোয়েন্দা বাহিনীকে ব্যবহার করে ব্যাংক দখল ও জোর করে শেয়ার লিখে নেওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে। বর্তমান সরকারের সময়ে ব্যাংকগুলোতে কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিকে পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে না উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন, এ উদ্যোগ ব্যাংকিং খাতের অনিয়ম বন্ধে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

রাষ্ট্রপতি ব্যাংকের সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিলের অর্থ প্রযুক্তি ও প্রকৌশল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও কলেজ প্রতিষ্ঠাসহ সামাজিক উন্নয়ন ও মানবকল্যাণে ব্যয়ের আহ্বান জানান। পাশাপাশি তরুণ ও নতুন উদ্যোক্তাদের ঋণসুবিধা নিশ্চিত এবং কৃষি প্রক্রিয়াজাত শিল্পসহ উদ্ভাবনী খাতে বিনিয়োগে উৎসাহিত করতে ব্যাংকারদের প্রতি আহ্বান জানান।

সাক্ষাৎকালে ব্যাংক নেতারা বলেন, ব্যাংকিং খাত দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। তবে ক্ষমতাশালী গোষ্ঠীর মাধ্যমে অর্থ পাচারের কারণে বিপুল পরিমাণ ঋণ খেলাপি হয়েছে। আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষা করতে না পারা তাদের জন্য অপমানজনক বলেও তারা মন্তব্য করেন।

ব্যাংক নেতারা ডিজিটাল অর্থনীতি ও কিউআর কোড চালু, ব্যাংকিং খাতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, গ্রাম পর্যায়ে শাখা সম্প্রসারণ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সুরক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে তারা ব্যাংকিং খাতের বর্তমান সমস্যা, চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন।

কালের আলো/এমএসআইপি 

সাংবাদিক প্রবেশে ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত, ফিরছে প্রেস পাস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৩৬ অপরাহ্ণ
সাংবাদিক প্রবেশে ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত, ফিরছে প্রেস পাস

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনকে সিএনএন, এমএস নাও ও পলিটিকোর সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসে প্রবেশাধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির একটি ফেডারেল আদালত। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) মার্কিন ডিস্ট্রিক্ট বিচারক টিম কেলি এ আদেশ দেন।

আদালত বলেছেন, ওই তিন সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘটনা ‘সম্ভবত অসাংবিধানিক’। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের প্রেস পাস বাতিলের সিদ্ধান্তের পক্ষে জাতীয় নিরাপত্তার যথেষ্ট প্রমাণ প্রশাসন দেখাতে পারেনি বলেও উল্লেখ করেছেন বিচারক।

১৪ দিনের জন্য নিষেধাজ্ঞা স্থগিত

বিচারক টিম কেলি ট্রাম্প প্রশাসনকে সিএনএন, এমএস নাও ও পলিটিকোর সাংবাদিকদের প্রেস পাস অবিলম্বে ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি পরবর্তী ১৪ দিনের জন্য তাদের ওপর আরোপ করা নিষেধাজ্ঞা কার্যকর না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এর ফলে আদালতের আদেশ অনুযায়ী ওই তিন সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকরা আবারও হোয়াইট হাউসে গিয়ে সংবাদ সংগ্রহের সুযোগ পাবেন।

জাতীয় নিরাপত্তার যুক্তি নাকচ

ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, জাতীয় নিরাপত্তার কারণেই তিন সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

তবে বিচারক কেলি প্রশাসনের এই যুক্তির পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ পাননি। তিনি বলেন, সাংবাদিকদের প্রেস পাস বাতিল করলে জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষা হবে—এমন কোনো তথ্যপ্রমাণ আদালতের সামনে উপস্থাপন করা হয়নি। একইভাবে প্রেস পাস ফিরিয়ে দিলে জাতীয় নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়বে—এমন প্রমাণও পাওয়া যায়নি।

‘ভুয়া খবর’ প্রচারের অভিযোগ ট্রাম্পের

সিএনএন, এমএস নাও ও পলিটিকোর বিরুদ্ধে ‘ভুয়া খবর’ প্রচারের অভিযোগ তুলে গত ১৮ সেপ্টেম্বর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিলেন ট্রাম্প। এর পর ওই তিন সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকদের সংবাদ সংগ্রহের কাজে হোয়াইট হাউসে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে নিয়ে প্রতিবেদন করার সময় এসব সংবাদমাধ্যমকে ‘মিথ্যা ও মনগড়া’ তথ্য প্রকাশের সুযোগ দেওয়া উচিত নয়।

ট্রাম্প আরও ইঙ্গিত দেন, ‘ভুয়া খবর’ প্রচার করা অন্য সংবাদমাধ্যমগুলোর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

ওয়াশিংটন পোস্ট ও নিউইয়র্ক টাইমসের নামও উল্লেখ

এ সময় ট্রাম্পকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, কোন কোন সংবাদমাধ্যমকে তিনি ‘ভুয়া খবর’ প্রচারকারী হিসেবে দেখছেন। জবাবে তিনি ওয়াশিংটন পোস্ট ও নিউইয়র্ক টাইমসের নাম উল্লেখ করেন।

ভবিষ্যতে এসব সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

দীর্ঘদিনের বিরোধে নতুন অধ্যায়

ট্রাম্পের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের বিরোধ নতুন নয়। তাঁর প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকেই সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে নানা বিষয়ে প্রকাশ্য মতবিরোধ দেখা গেছে।

তবে সিএনএন, এমএস নাও ও পলিটিকোর সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পর বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলো তাদের সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার ফিরিয়ে দিতে আইনি পদক্ষেপ নেয়।

বৃহস্পতিবারের আদেশে আপাতত সেই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রাখা বন্ধ হয়েছে। ফলে হোয়াইট হাউস ও সংবাদমাধ্যমগুলোর মধ্যকার চলমান বিরোধে আদালতের এই সিদ্ধান্ত নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ার জন্য হোয়াইট হাউস এবং সংশ্লিষ্ট তিন সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত তাদের কাছ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

কালের আলো/এসএ