খুঁজুন
                               
, ,
           

সীমান্তে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৮০০ ইয়াবা জব্দ

কক্সবাজার সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৪৯ অপরাহ্ণ
সীমান্তে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৮০০ ইয়াবা জব্দ

কক্সবাজারের উখিয়ায় সীমান্তবর্তী এলাকায় অভিযান চালিয়ে মালিকবিহীন ১ লাখ ৪৯ হাজার ৮০০ পিস ইয়াবা জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে উপজেলার সীমান্তবর্তী আনোয়ার প্রজেক্ট এলাকায় এ অভিযান চালায় উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি) এর হ্নীলা বিওপির একটি বিশেষ টহল দল।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম।

বিজিবি জানায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার রাত ১১টার দিকে হ্নীলা বিওপির বিশেষ টহল দল সীমান্তবর্তী আনোয়ার প্রজেক্ট এলাকায় অবস্থান নেয়। রাত ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে চারজন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে বস্তা হাতে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে দেখে বিজিবি সদস্যরা তাদের চ্যালেঞ্জ করেন। এ সময় সন্দেহভাজন ব্যক্তিরা পালিয়ে যাওয়ার সময় বিজিবি সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। আত্মরক্ষার্থে বিজিবিও পাল্টা গুলি ছুড়লে তারা বস্তাগুলো ফেলে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। পরে বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে তিনটি বস্তা জব্দ করেন। বস্তাগুলোর ভেতরে খাকি রঙের প্যাকেট এবং প্যাকেটের মধ্যে নীল রঙের বায়ুরোধী প্যাকেটে থাকা ইয়াবাগুলো পাওয়া যায়। গণনা করে এসব প্যাকেটে মোট ১ লাখ ৪৯ হাজার ৮০০ পিস ইয়াবা পাওয়া যায়।

উখিয়া ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, মাদক সরবরাহের সঙ্গে জড়িত চোরাকারবারিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। সীমান্ত নিরাপত্তার পাশাপাশি মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির অভিযান অব্যাহত থাকবে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

ডিএমপির অভিযানে ইয়াবা-হেরোইনসহ গ্রেপ্তার ৫৪৬

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:২০ অপরাহ্ণ
ডিএমপির অভিযানে ইয়াবা-হেরোইনসহ গ্রেপ্তার ৫৪৬

রাজধানীতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) নিয়মিত অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৫৪৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় বিভিন্ন ঘটনায় ৬২টি মামলা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. আকতার হোসেন এ তথ্য জানান।

ডিএমপি জানায়, গ্রেপ্তারদের মধ্যে রমনা বিভাগে ৩৭ জন, লালবাগে ৪৫, ওয়ারীতে ৭৭, মতিঝিলে ৭৩, তেজগাঁওয়ে ১০৯, মিরপুরে ১২৫, গুলশানে ৪২, উত্তরা বিভাগে ৩৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া গোয়েন্দা বিভাগে ৩ জন এবং সিটিটিসি বিভাগে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

অভিযানকালে বিস্ফোরিত ককটেলের অংশবিশেষ, ৪ কেজি ১২০ গ্রাম গাঁজা, ২ হাজার ১৯৬ পিস ইয়াবা, ৫১ গ্রাম হেরোইন, ৩০ বোতল বিদেশি মদ, পাঁচটি মোবাইল ফোন ও একটি প্রাইভেটকার উদ্ধার করা হয়েছে।

রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় পরিচালিত এসব অভিযানে মাদকদ্রব্য ও অন্যান্য আলামতসহ তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

ডিএমপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

কালের আলো/এমএসআইপি 

অধিকার প্রতিষ্ঠায় আর যেন রাজপথে রক্ত দিতে না হয়: ডেপুটি স্পিকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:১৮ অপরাহ্ণ
অধিকার প্রতিষ্ঠায় আর যেন রাজপথে রক্ত দিতে না হয়: ডেপুটি স্পিকার

মেধার মূল্যায়ন ও প্রত্যেক নাগরিকের অধিকার নিশ্চিত করার মতো বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে যেন অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আর রাজপথে নেমে জীবন দিতে না হয়, সেই রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মাহমুদ-উল আমীন অডিটরিয়ামে প্রাণিবিদ্যা বিভাগের নবীনবরণ-২০২৬ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন আন্দোলনে ভূমিকার কথা তুলে ধরে কায়সার কামাল বলেন, ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থান ও স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন থেকে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক আন্দোলনে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকেরা সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন। গবেষণা ও শিক্ষার পাশাপাশি দেশের প্রয়োজনে তারা রাজপথেও নেমেছেন।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে বারবার গণতন্ত্র হোঁচট খেয়েছে, ব্যবস্থাকে বারবার ভেঙে দেওয়া হয়েছে। সে কারণেই বলছি, এনাফ ইজ এনাফ। আমরা ভবিষ্যতে আর রাজপথে গিয়ে বুলেটকে আলিঙ্গন করতে চাই না। আমরা এমন একটি দেশ চাই, যেখানে মেধার মূল্যায়ন হবে, প্রত্যেকের অধিকার সুপ্রতিষ্ঠিত হবে।

সাম্প্রতিক রাজনৈতিক আন্দোলন বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিসরকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করেছে দাবি করে ডেপুটি স্পিকার বলেন, ওই আন্দোলন কোনো একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে নয়, একটি ব্যবস্থার বিরুদ্ধে ছিল। অতীতে মেধার পরিবর্তে দলীয় পরিচয় প্রাধান্য পাওয়া এবং যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও প্রভাব ও দলীয়করণের কারণে সুযোগবঞ্চিত হওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।

নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে কায়সার কামাল বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া প্রত্যেক শিক্ষার্থী একটি স্বপ্ন নিয়ে আসে। কেউ দরিদ্র বা নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবার থেকে, কেউ কৃষক, শিক্ষক, চিকিৎসক কিংবা প্রকৌশলীর পরিবার থেকে আসে। শিক্ষার্থীরা নিজেদের স্বপ্নের পাশাপাশি পরিবারের স্বপ্নও বহন করে। রাষ্ট্রকে সেই স্বপ্ন বিকাশের সুযোগ তৈরি করতে হবে।

নিজের ছাত্রজীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, আমি নিজে কৃষক পরিবারের সন্তান। আমার বাবার অনেক প্রত্যাশা ছিল আমাকে নিয়ে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে যুক্ত হওয়ার কারণে ছাত্রজীবনে প্রত্যাশামতো পড়াশোনা করতে পারেননি বলেও জানান তিনি।

মুহসীন হলে থাকার সময় দেয়ালে লেখা ‘মানুষ তার আশার সমান বড় হয়’ বাক্যটি নিজের জীবনে গভীর প্রভাব ফেলেছিল উল্লেখ করে কায়সার কামাল বলেন, নেত্রকোনার গারো পাহাড়ের পাদদেশের একটি এলাকা থেকে আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে এসেছিলাম। আমাদের চোখের সামনে কোনো সীমানা রাখা যাবে না। আপনারা প্রত্যেকেই মেধাবী। কিন্তু সেই মেধার বিকাশের জন্য নিয়মিত অনুশীলন ও চর্চা প্রয়োজন। আমরা কেউ জানি না, ভবিষ্যতে কে কোথায় পৌঁছাব।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে মেধা বিকাশের ‘চারণক্ষেত্র’ উল্লেখ করে তিনি শিক্ষার্থীদের গতানুগতিক চিন্তার বাইরে গিয়ে নতুন কিছু করার চেষ্টা করার আহ্বান জানান।

নবীনবরণ শুধু ফুল দিয়ে শিক্ষার্থীদের বরণ করার অনুষ্ঠান নয় মন্তব্য করে ডেপুটি স্পিকার বলেন, এর মধ্য দিয়ে তাদের কাঁধে বাড়তি দায়িত্বও তুলে দেওয়া হচ্ছে। সেই দায়িত্ব প্রথমে নিজের প্রতি, এরপর পরিবার, সমাজ এবং শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রের প্রতি।

বিসিএস ও সরকারি চাকরির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থীর কাছে বিসিএস একটি স্বপ্ন। তবে কর্মজীবনে ভালো অবস্থানে যাওয়ার পর যেন দেশের প্রতি দায়িত্ববোধ হারিয়ে না যায়। নিজের ও পরিবারের ভালো থাকার পাশাপাশি সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতিও দায়িত্ব পালন করতে হবে।

তিনি বলেন, আপনাদের কেউ ভবিষ্যতে সামাজিক নেতা হবেন, কেউ গবেষক হবেন, কেউ বিশ্বখ্যাত অবস্থানে পৌঁছাবেন। কিন্তু একটি অনুরোধ, নিজের দায়িত্ব কখনও ভুলবেন না। সেই দায়িত্ব নিজের কাছ থেকে শুরু হয়ে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র পর্যন্ত বিস্তৃত।

সম্প্রতি দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে কায়সার কামাল বলেন, বাংলাদেশের তুলনায় পরে স্বাধীনতা পেলেও দেশটির প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো ও গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি আমাকে মুগ্ধ করেছে। শুধু স্বাধীন দেশ, পতাকা ও পাসপোর্ট পাওয়ার গর্বের পাশাপাশি প্রত্যেক নাগরিককে প্রশ্ন করতে হবে, নিজের জায়গা থেকে দেশের জন্য কতটা কাজ করা হয়েছে।

সরকারের একার পক্ষে বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, সবাইকে নিজ নিজ জায়গা থেকে ভূমিকা রাখতে হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ও ইতিবাচক কাজগুলোও আরও বেশি সামনে আনার আহ্বান জানান তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রাণিবিদ্যা বিভাগের গবেষণা ও কার্যক্রমের প্রশংসা করে বলেন, অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু ঘটনা বেশি আলোচিত হলেও দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ে হওয়া গবেষণা দেশকে যেভাবে সমৃদ্ধ করছে, তা তুলনামূলক কম আলোচনায় আসে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটেও প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সাম্প্রতিক বন্য প্রাণী সংরক্ষণসহ বিভিন্ন গবেষণা ও কার্যক্রমের তথ্য রয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী হিসেবে নবীনদের দেশ ও জাতি গঠনে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে ডেপুটি স্পিকার বলেন, ব্যক্তিগত অবস্থান ব্যবহার করে স্বাচ্ছন্দ্যের জীবন কাটানো সম্ভব হলেও সেটিই জীবনের একমাত্র উদ্দেশ্য হতে পারে না। নিজের জ্ঞান ও কর্মজীবনকে পরিবার, সমাজ ও দেশের কাজে লাগাতে পারলেই তা অর্থবহ হবে।

জুলাই অভ্যুত্থানে হতাহতদের প্রসঙ্গ টেনে কায়সার কামাল বলেন, অনেক শিক্ষার্থী ও তরুণ এখনও চিকিৎসা নিচ্ছেন। কয়েক মাস আগে থাইল্যান্ডের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কয়েকজনকে দেখে আসার অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন তিনি। তাদের ত্যাগের উদ্দেশ্য হিসেবে মানুষের অধিকার, মেধার মূল্যায়ন এবং সবার জন্য ভালো থাকার মতো রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার কথা বলেন ডেপুটি স্পিকার।

অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. মোফাজ্জল হোসেন, প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. শেফালী বেগমসহ শিক্ষক ও নবীণ শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

ড্রোন হামলার জবাবে আফগানিস্তানের ১০ স্থানে পাকিস্তানের হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:০৯ অপরাহ্ণ
ড্রোন হামলার জবাবে আফগানিস্তানের ১০ স্থানে পাকিস্তানের হামলা

প্রতিবেশী আফগানিস্তানের ১০টি স্থানে বিমান হামলা চালানোর দাবি করেছে পাকিস্তান। দেশটির তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার বৃহস্পতিবার জানান, আফগানিস্তানের ভূখণ্ডে এসব হামলা চালানো হয়েছে ড্রোন উড্ডয়ন ও সংরক্ষণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থাপনা লক্ষ্য করে। পাকিস্তানের দাবি, এসব স্থাপনার কয়েকটি থেকে আগের দিন দেশটির বিরুদ্ধে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছিল।

পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, বুধবার আফগানিস্তান থেকে উড়ে আসা কয়েকটি ড্রোন শনাক্ত করে পাকিস্তানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছানোর আগেই সেগুলো ধ্বংস করা হয়। এরপর পাকিস্তানি বাহিনী আফগানিস্তানের ১০টি স্থানে বিমান ও ড্রোন হামলা চালায়।

ইসলামাবাদের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার লক্ষ্য ছিল ড্রোন হামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এবং আগে থেকে চিহ্নিত সামরিক স্থাপনা। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এসব হামলায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

আতাউল্লাহ তারার বলেন, আফগানিস্তান থেকে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে হামলা চালানোর জন্য সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে কোনো ধরনের সুযোগ দেওয়া হলে তার কঠোর জবাব দেওয়া হবে। তালেবান সরকার ভবিষ্যতে এ ধরনের ‘উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড’ চালালে পাকিস্তান আরও দৃঢ় পদক্ষেপ নেবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

তবে পাকিস্তানের এসব অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই অস্বীকার করে আসছে আফগানিস্তানের তালেবান সরকার। কাবুলের দাবি, পাকিস্তানবিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে আফগানিস্তানের ভূখণ্ডে আশ্রয় দেওয়া হয় না। দেশটির পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদের সমস্যা তাদের নিজেদের অভ্যন্তরীণ বিষয়।

দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর কর্মকাণ্ড নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। পাকিস্তানের অভিযোগ, আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানে হামলা চালাচ্ছে। অন্যদিকে তালেবান সরকার পাকিস্তানের এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে।

এই বিরোধের জেরে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ সংঘাতের ঘটনা ঘটে। এরপরও সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা পুরোপুরি কমেনি। সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও সীমান্ত সংঘাতের খবর পাওয়া যাচ্ছে।

এর মধ্যেই আফগানিস্তানের ১০টি স্থানে পাকিস্তানের নতুন করে বিমান হামলার ঘটনা দুই দেশের উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। বিশেষ করে সীমান্তের ওপার থেকে সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলা এবং তার জবাবে পাকিস্তানের সামরিক অভিযান—এই দুই বিষয়কে কেন্দ্র করেই ইসলামাবাদ ও কাবুলের মধ্যে বিরোধ ক্রমেই গভীর হচ্ছে।

পাকিস্তান বলছে, নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সীমান্তের ওপারে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ঘাঁটি ও সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে অভিযান চালানো হচ্ছে। অন্যদিকে আফগানিস্তানের তালেবান সরকার পাকিস্তানের এমন সামরিক পদক্ষেপের বিরোধিতা করে আসছে।

সর্বশেষ হামলায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া না গেলেও দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ঘটনাটি নতুন করে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

কালের আলো/এসএ