খুঁজুন
                               
, ,
           

হরমুজের নাম বদলে ‘ট্রাম্প স্ট্রেইট’, ইরানের প্রস্তাবও নাকচ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:১১ অপরাহ্ণ
হরমুজের নাম বদলে ‘ট্রাম্প স্ট্রেইট’, ইরানের প্রস্তাবও নাকচ

পারস্য উপসাগরের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর বিষয়ে ইরানের দেওয়া সাত দিনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের পর নতুন একটি মানচিত্র প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওই মানচিত্রে হরমুজ প্রণালিকে ‘ট্রাম্প স্ট্রেইট’ নামে চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে মানচিত্রে এভাবে উল্লেখ করা হলেও হরমুজ প্রণালির আনুষ্ঠানিক নাম পরিবর্তনের কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে এশিয়ান নিউজ ইন্টারন্যাশনাল (এএনআই)।

ট্রাম্পের নতুন মানচিত্রটি তিনি নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে প্রকাশ করেন। হরমুজ প্রণালি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই তাঁর এ পদক্ষেপ সামনে এলো।

এদিকে ট্রাম্প বলেছেন, ইরান কখনো পারমাণবিক বোমা অর্জন করতে পারবে না। একই সঙ্গে তেহরান তাঁর শর্ত মেনে চলবে কি না, তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছেন তিনি। নতুন করে ইরানে মার্কিন বোমা হামলার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনীয় শর্ত মেনে নিলে সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌ চলাচল পুনরায় চালু করা সম্ভব। ইরান মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এ বিষয়ে একটি সাত দিনের পরিকল্পনা দিয়েছে।

ইরানের প্রস্তাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, ইরানের তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল বা প্রত্যাহার এবং লেবাননসহ আঞ্চলিক যুদ্ধবিরতির শর্ত মানতে হবে। এর পাশাপাশি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কূটনৈতিক আলোচনা পুনরায় শুরুর বিষয়টিও পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে।

আরাগচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তাবটি গ্রহণ করার পরদিন থেকেই সাত দিনের সময়সীমা শুরু হবে। প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ হলে সপ্তম দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দিয়ে স্বাভাবিক নৌ চলাচল পুনরায় চালু করা সম্ভব।

তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অবস্থান এ প্রস্তাবের সঙ্গে মেলেনি। বিভিন্ন মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প ইরানের সাত দিনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন।

হরমুজ প্রণালি নিয়ে ট্রাম্পের এমন মন্তব্য অবশ্য নতুন নয়। এর আগেও তিনি জলপথটির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণের কথা বলেছেন এবং এটিকে মার্কিন ভূখণ্ড হিসেবে দেখানোর ধারণা নিয়ে মন্তব্য করেছেন।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে স্বাভাবিক সময়ে বৈশ্বিক সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেল ও গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ যাতায়াত করে। ফলে এ পথে নৌ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও এর প্রভাব পড়ছে।

ইরান এর আগে সতর্ক করে জানিয়েছে, সামরিক চাপ অব্যাহত থাকলে হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তারা জলপথটির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে বলে দাবি করছে।

এ অবস্থায় ইরানের সাত দিনের প্রস্তাব এবং ট্রাম্পের তা প্রত্যাখ্যান মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত ও হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

কালের আলো/এসএ

 

হঠাৎ ছাপাখানায় শিক্ষামন্ত্রী, যাচাই করলেন বইয়ের মান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৫০ পূর্বাহ্ণ
হঠাৎ ছাপাখানায় শিক্ষামন্ত্রী, যাচাই করলেন বইয়ের মান

রাজধানীর বিভিন্ন ছাপাখানা মধ্যরাতে আকস্মিক পরিদর্শন করে বিনামূল্যে বিতরণের জন্য ছাপা পাঠ্যবইয়ের গুণগত মান যাচাই করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, সোমবার দিবাগত রাত ১২টার পর রাজধানীর ছয়টি ছাপাখানা পরিদর্শনে যান শিক্ষামন্ত্রী। এ সময় মন্ত্রণালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তাও তার সঙ্গে ছিলেন।

পরিদর্শনকালে মন্ত্রী পাঠ্যবই ছাপার বিভিন্ন ধাপ সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন। পাশাপাশি বই তৈরিতে ব্যবহৃত কাগজের মান, মুদ্রণের গুণগত মান এবং নির্ধারিত স্পেসিফিকেশন যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা যাচাই করেন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রতিবছর শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনামূল্যে বিতরণের জন্য বিপুলসংখ্যক পাঠ্যবই ছাপানো হয়। এসব বইয়ের কাগজ ও ছাপার মান নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।

সম্প্রতি বিনামূল্যে বিতরণের পাঠ্যবইয়ের ছাপার মান নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন ওঠায় বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এর অংশ হিসেবে ছাপাখানাগুলোতে আকস্মিক পরিদর্শন করা হয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানান।

পরিদর্শনের সময় শিক্ষামন্ত্রী সংশ্লিষ্টদের কাছে বই ছাপার কাজে ব্যবহৃত কাগজ, মুদ্রণের মান ও সামগ্রিক গুণগত মান সম্পর্কে জানতে চান।

মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের হাতে মানসম্মত পাঠ্যবই পৌঁছে দেওয়া সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। তাই বই ছাপার ক্ষেত্রে নির্ধারিত মান ও শর্ত যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা নিয়মিত তদারকি করা প্রয়োজন।

পাঠ্যবই ছাপার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ এবং নির্ধারিত মান নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তারা। পাঠ্যবইয়ের মান নিশ্চিত করতে এ ধরনের তদারকি অব্যাহত থাকবে বলে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

কিয়াকতাও শহরে বিমান হামলায় ৩৩ জন নিহত আহত ৩৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:২৭ পূর্বাহ্ণ
কিয়াকতাও শহরে বিমান হামলায় ৩৩ জন নিহত আহত ৩৬

মিয়ানমারের সংঘাতকবলিত রাখাইন রাজ্যের কিয়াকতাও শহরে একটি বাজারের কাছে বিমান হামলায় অন্তত ৩৩ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৩৬ জন।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) আরাকান আর্মি (এএ) ও স্থানীয় এক ত্রাণকর্মীর বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

আরাকান আর্মির দাবি, কিয়াকতাও শহরের একটি বাজারসংলগ্ন এলাকায় মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী এ বিমান হামলা চালিয়েছে। স্থানীয় একটি দাতব্য সংস্থার প্রধান ও ত্রাণকর্মী ওয়েই হুন অংও হামলায় ৩৩ জন নিহত এবং ৩৬ জন আহত হওয়ার তথ্য জানিয়েছেন।

ওয়েই হুন অং বলেন, কিয়াকতাও শহরটি চলমান সংঘাতের প্রধান এলাকাগুলো থেকে বেশ দূরে। শহরটির সঙ্গে যুদ্ধের সরাসরি কোনো সম্পর্কও নেই বলে জানান তিনি।

তবে হামলায় হতাহত হওয়ার সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি রয়টার্স। এ বিষয়ে মিয়ানমার সরকারের মুখপাত্রের কাছ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

মিয়ানমারের জান্তা সরকার এর আগে দাবি করে আসছে, বেসামরিক নাগরিকদের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে সামরিক বাহিনী অভিযান পরিচালনার সময় সর্বোচ্চ সতর্কতা ও সংযম অবলম্বন করে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছরের ডিসেম্বরে রাখাইনের একটি হাসপাতালে বিমান হামলায় ৩০ জন নিহত হওয়ার পর এবারের হামলাটি ওই অঞ্চলের অন্যতম প্রাণঘাতী হামলা।

২০২১ সালে অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে সামরিক বাহিনী ক্ষমতা দখলের পর থেকেই মিয়ানমারে সশস্ত্র সংঘাত চলছে। বর্তমানে আরাকান আর্মিসহ বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করছে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

নিউগিনি প্রপার্টিজে হামলা: এজাহারভুক্ত আসামি মিজানুর গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:২৫ অপরাহ্ণ
নিউগিনি প্রপার্টিজে হামলা: এজাহারভুক্ত আসামি মিজানুর গ্রেফতার

রাজধানীর ইসিবি চত্বর এলাকার দক্ষিণ মানিকদীর নিউগিনি প্রপার্টিজ আবাসন প্রকল্পে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় করা মামলার অন্যতম আসামি মিজানুর রহমানকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে পশ্চিম মাটিকাটা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে ডিবি গুলশান বিভাগের একটি দল।

ডিবি গুলশান বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) আ ফ ম আনোয়ার হোসেন খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নিউগিনি প্রপার্টিজে হামলার ঘটনায় ক্যান্টনমেন্ট থানায় করা মামলায় মিজানুর রহমান এজাহারভুক্ত ৯ নম্বর আসামি। গত ২৭ সেপ্টেম্বর মামলাটি করা হয়।

মামলায় দণ্ডবিধির ১৪৩, ১৪৭, ১৪৮, ১৪৯, ৪৪৭, ৪৪৮, ৩২৩, ৩২৪, ৩২৫, ৩২৬, ৩০৭, ৩৭৯, ৩৮০, ৪২৭, ১১৪ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, গত ২৬ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১০টার দিকে নিউগিনি প্রপার্টিজে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট শুরু হয়। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে এ ঘটনা চলে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে হামলাকারীদের সঙ্গে তাদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় কয়েকটি গুলির শব্দ শোনা যায় বলে স্থানীয়রা জানান।

ওই রাতে আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতেও ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এতে স্টুডিওটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে ডিবির অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি