খুঁজুন
                               
, ,
           

ব্রিটিশ বিমানঘাঁটির কাছে নিরাপত্তা জোরদার, গ্রেপ্তার ৫

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৪৩ অপরাহ্ণ
ব্রিটিশ বিমানঘাঁটির কাছে নিরাপত্তা জোরদার, গ্রেপ্তার ৫

যুক্তরাজ্যের গ্লস্টারশায়ারে আরএএফ ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটিতে মোতায়েন ড্রোন প্রতিরোধী সরঞ্জাম, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ছবি: রয়টার্স

যুক্তরাজ্যের পশ্চিমাঞ্চলে মার্কিন সামরিক বাহিনী ব্যবহৃত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটির কাছে ‘বড় ধরনের ঘটনা’ ঘোষণার পর সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতির অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্লস্টারশায়ারের আরএএফ ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটির কাছে তিনটি সন্দেহজনক যানবাহন ঘিরে তল্লাশি চালাচ্ছে বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল। পরিস্থিতির কারণে আশপাশের ৮৫টি পরিবারের সদস্যকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

কাউন্টার টেররিজম পুলিশ তদন্তের নেতৃত্ব দিচ্ছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রথমে বিস্ফোরক-সংক্রান্ত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হলেও পরে তাঁদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতির সন্দেহে পুনরায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পাঁচজনই এখন পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন।

মধ্যরাতে সন্দেহজনক তিন গাড়ি

যুক্তরাজ্যের স্থানীয় সময় রোববার রাত ১২টা ৪৫ মিনিটের দিকে পুলিশ খবর পায়, তিনটি সন্দেহজনক যানবাহন আরএএফ ফেয়ারফোর্ডের দিকে যাচ্ছে। খবর পাওয়ার পর সশস্ত্র পুলিশ সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং বিমানঘাঁটির কাছের উইলফোর্ড এলাকায় পাঁচজনকে আটক করেন।

পরে ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনীর বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল পাঠানো হয়। তিনটি সন্দেহজনক ভ্যান পরীক্ষা করতে বিশেষায়িত রোবটও ব্যবহার করা হয়েছে। যানবাহনগুলোর চারপাশে প্রায় ৪০০ মিটার নিরাপত্তাবেষ্টনী তৈরি করা হয়।

কাউন্টার টেররিজম পুলিশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তদন্ত এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। কী ঘটেছিল এবং আটক ব্যক্তিদের উদ্দেশ্য কী ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আরএএফ ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটির কাছে সড়কে নিরাপত্তা তল্লাশি চালাচ্ছেন এক পুলিশ কর্মকর্তা, গ্লস্টারশায়ার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবি: রয়টার্স

৮৫ পরিবারকে সরিয়ে নেওয়া

নিরাপত্তার স্বার্থে বিমানঘাঁটির কাছের উইলফোর্ড এলাকার ৮৫টি পরিবারকে তাদের বাড়ি থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। তাঁদের স্থানীয় একটি অবকাশযাপনকেন্দ্রে নেওয়া হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থলে তদন্ত ও যানবাহন পরীক্ষা চলার কারণে বাসিন্দাদের রাতের মধ্যে বাড়িতে ফেরার অনুমতি দেওয়া হয়নি। যাঁরা আত্মীয় বা বন্ধুদের বাড়িতে থাকতে পারেননি, তাঁদের জন্য স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বিকল্প থাকার ব্যবস্থা করে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের কয়েকজন জানিয়েছেন, গভীর রাতে পুলিশ তাঁদের ঘুম থেকে তুলে দ্রুত বাড়ি ছাড়তে বলে। একজন বাসিন্দা তিনটি অস্বাভাবিক ভ্যান দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেওয়ার পরই অভিযান শুরু হয় বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এসেছে।

বিস্ফোরক নিয়ে চলছে পরীক্ষা

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে পাওয়া উপকরণ ও সন্দেহজনক যানবাহনগুলো পরীক্ষা করছে বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল। এগুলো আসলে বিস্ফোরক কি না এবং থাকলে সেগুলো কতটা কার্যকর হতে পারে—তা নির্ধারণের চেষ্টা চলছে।

ব্রিটিশ পুলিশ এখনো প্রকাশ্যে নিশ্চিত করেনি যে যানবাহনগুলোতে কার্যকর বিস্ফোরক পাওয়া গেছে কি না। তদন্তকারীরা ঘটনার সঙ্গে আটক ব্যক্তিদের সম্ভাব্য পরিকল্পনার কোনো সম্পর্ক ছিল কি না, সেটিও যাচাই করছেন।

ইরানের সঙ্গে যোগসূত্র আছে কি?

ঘটনার পর সম্ভাব্য উদ্দেশ্য নিয়ে বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখছে তদন্তকারীরা। বিমানঘাঁটিটি সম্প্রতি ইরান-সংক্রান্ত মার্কিন সামরিক অভিযানে ব্যবহৃত হওয়ায় তদন্তে ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য কোনো যোগসূত্রের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। তবে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ এখনো এমন কোনো সম্পর্ক নিশ্চিত করেনি।

তদন্তকারীরা অন্য সম্ভাবনাও খোলা রেখেছেন। ফলে ঘটনার পেছনে কারা এবং কী উদ্দেশ্যে ছিল, সে বিষয়ে এখনই নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি।

কেন গুরুত্বপূর্ণ আরএএফ ফেয়ারফোর্ড?

গ্লস্টারশায়ারের কটসওল্ডস এলাকায় অবস্থিত আরএএফ ফেয়ারফোর্ড দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন বিমানবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ঘাঁটিটি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বিমান মোতায়েন ও বিভিন্ন অভিযানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

সাম্প্রতিক সময়ে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রেও ঘাঁটিটির ব্যবহার হয়েছে। এ কারণে নিরাপত্তার দিক থেকে বিমানঘাঁটিটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

তদন্ত অব্যাহত

ব্রিটিশ কাউন্টার টেররিজম পুলিশ জানিয়েছে, পাঁচজন এখনো হেফাজতে রয়েছেন এবং তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে কর্মকর্তারা বিভিন্ন আলামত পরীক্ষা করছেন। ঘটনাস্থলে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ থেকেও জনগণকে অনুমাননির্ভর মন্তব্য না করে তদন্ত শেষ হওয়ার অপেক্ষা করার আহ্বান জানানো হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত উদ্দেশ্য, সন্দেহভাজনদের পরিচয় এবং বিমানঘাঁটির সঙ্গে সম্ভাব্য কোনো যোগসূত্র সম্পর্কে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়।

কালের আলো/জেএন

‘কিলো ফ্লাইট’ ছিল শুরু, আকাশসীমার প্রহরায় ৫৫ বছর; নিষ্ঠার ওপর জোর

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:০০ অপরাহ্ণ
‘কিলো ফ্লাইট’ ছিল শুরু, আকাশসীমার প্রহরায় ৫৫ বছর; নিষ্ঠার ওপর জোর

একটি অটার, একটি ড্যাকোটা, একটি অ্যালুয়েট হেলিকপ্টার আর ৫৭ জন বাঙালি। ১৯৭১ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর ভারতের নাগাল্যান্ডের ডিমাপুরে এই সীমিত শক্তি নিয়েই যাত্রা শুরু হয়েছিল বাংলাদেশের বিমান বাহিনীর। নাম—‘কিলো ফ্লাইট’। মুক্তিযুদ্ধের উত্তাল সময়ে এই ছোট্ট বহরই ছিল স্বাধীন বাংলাদেশের আকাশযুদ্ধের প্রথম সংগঠিত ভিত্তি। এয়ার ভাইস মার্শাল সুলতান মাহমুদ, বীর উত্তমের নেতৃত্বে পরিচালিত ‘কিলো ফ্লাইট’ ৫০টির বেশি বিমান অভিযান চালায়। সামরিক সরঞ্জাম ও জনবলের সীমাবদ্ধতার মধ্যেও এসব অভিযান মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের প্রতিরোধকে নতুন মাত্রা দেয়। ৫৫ বছর পর সেই সূচনালগ্নের দিকে ফিরে তাকালে স্পষ্ট হয়—বিমান বাহিনীর জন্ম কোনো স্বাভাবিক প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার ফল ছিল না। এটি ছিল যুদ্ধের প্রয়োজন থেকে উঠে আসা একটি জরুরি সামরিক সক্ষমতা, যা স্বাধীনতার পর ধীরে ধীরে একটি পূর্ণাঙ্গ বাহিনীতে পরিণত হয়েছে।

  • মুক্তিযুদ্ধের আকাশে যে অভিযাত্রার শুরু, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সেই ইতিহাস স্মরণ
  • গৌরবের সঙ্গে ভবিষ্যতের দায়িত্বের কথাও তুলে ধরলেন বিমান বাহিনী প্রধান
  • সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় কঠোর শৃঙ্খলার তাগিদ

একাত্তরের উত্তরাধিকার 

বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর ইতিহাস মূলত মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সঙ্গেই ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। পাকিস্তান বিমান বাহিনীর পক্ষ ত্যাগ করে বাঙালি বৈমানিক ও বিমানসেনাদের মুক্তিযুদ্ধে যোগদান ছিল সেই সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সিদ্ধান্ত। এয়ার ভাইস মার্শাল আব্দুল করিম খন্দকার (মরহুম), বীর উত্তম মহান মুক্তিযুদ্ধের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বিমান বাহিনীর সদস্যরা শুধু আকাশ অভিযানেই অংশ নেননি। তাঁরা যুদ্ধের বিভিন্ন পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও সাংগঠনিক দায়িত্বও পালন করেছেন। অর্থাৎ, বিমান বাহিনীর ৫৫ বছরের ইতিহাস কেবল উড়োজাহাজ, ঘাঁটি কিংবা প্রযুক্তিগত সক্ষমতার বিবরণ নয়। এর ভিত তৈরি হয়েছে যুদ্ধ, আত্মত্যাগ, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের নিজস্ব প্রতিরক্ষা সক্ষমতার প্রয়োজন থেকে।

৫৫ বছরে বদলে গেছে দায়িত্বের পরিধি

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিমান বাহিনী দিবসে ঢাকা সেনানিবাসের বিমান বাহিনী ঘাঁটি বাশারের সি-১৩০ হ্যাঙ্গারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সেই দীর্ঘ পথচলাই তুলে ধরা হয় বিশেষ প্রামাণ্যচিত্রে। আয়োজনটি ছিল একদিকে অতীতের স্মরণ, অন্যদিকে বর্তমান ও ভবিষ্যতের দায়িত্বের দিকে তাকানোর উপলক্ষ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন দেশের আকাশসীমা, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা সুরক্ষায় সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, কঠোর শৃঙ্খলা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের ওপর গুরুত্ব দেন।

তার বক্তব্যের তাৎপর্য এখানেই—৫৫ বছর আগে যে বাহিনীর প্রধান কাজ ছিল মুক্তিযুদ্ধের প্রয়োজনে সীমিত সামর্থ্যে আকাশ অভিযান পরিচালনা করা, আজ তার দায়িত্ব অনেক বিস্তৃত। রাষ্ট্রের আকাশসীমা সুরক্ষা এখন শুধু যুদ্ধবিমান পরিচালনার বিষয় নয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তি, দক্ষ জনবল, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, সমন্বিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং পরিবর্তনশীল নিরাপত্তা পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর সক্ষমতা।

‘পেশাদারিত্ব ও শৃঙ্খলা’ কেন সামনে আনলেন বিমান বাহিনী প্রধান

বিমান বাহিনী প্রধানের বক্তব্যে পেশাদারিত্ব ও শৃঙ্খলার ওপর জোর দেওয়াকে কেবল আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা হিসেবে দেখলে এর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক বাদ পড়ে যায়। সামরিক বাহিনীর সক্ষমতা শুধু অস্ত্র বা প্রযুক্তিতে নির্ভর করে না। এটি প্রশিক্ষিত জনবল, কমান্ড কাঠামো, দায়িত্ববোধ এবং নির্ভুল সিদ্ধান্ত গ্রহণও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পেশাদারিত্বের সঙ্গে কঠোর শৃঙ্খলার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার বার্তা বাহিনীর অপারেশনাল প্রস্তুতি ও দায়িত্ব পালনের সংস্কৃতিকেই সামনে এনেছে। একই সঙ্গে ‘স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা’ রক্ষার প্রসঙ্গটি বিমান বাহিনীর মৌলিক সাংবিধানিক ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের কথাও স্মরণ করিয়ে দেয়। অর্থাৎ, ৫৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বিমান বাহিনী প্রধানের বক্তব্যে অতীতের গৌরবের পাশাপাশি ভবিষ্যতের দায়িত্বের দিকটিও ছিল বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

ইতিহাস থেকে ভবিষ্যতের দিকে

বিমান বাহিনী দিবস উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন ঘাঁটি ও ইউনিট এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োজিত বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর কন্টিনজেন্টগুলোতে প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। মসজিদগুলোতে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত এবং বিভিন্ন মেসে প্রীতিভোজেরও আয়োজন করা হয়। এসব আয়োজনের মধ্য দিয়ে বাহিনীর ইতিহাসকে নতুন প্রজন্মের সদস্যদের কাছে তুলে ধরার পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের উত্তরাধিকারও স্মরণ করা হয়েছে। তবে ৫৫ বছরের এই উদযাপনের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক সম্ভবত অতীত ও ভবিষ্যতের এই সংযোগ।

ডিমাপুরের তিনটি আকাশযান দিয়ে যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, তা আজ একটি পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্রীয় বাহিনীতে পরিণত হয়েছে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে বাহিনীর সক্ষমতা যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে দায়িত্বের পরিধিও। ‘কিলো ফ্লাইট’ বাংলাদেশের বিমান শক্তির জন্মের গল্প। আর বিমান বাহিনী প্রধানের পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলা ও দায়িত্ব পালনের বার্তা সেই গল্পের পরবর্তী অধ্যায়ের ইঙ্গিত—যেখানে মুক্তিযুদ্ধের অর্জন শুধু স্মরণ করার বিষয় নয়, বরং আধুনিক নিরাপত্তা বাস্তবতায় তা রক্ষা ও এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্বও একই সঙ্গে বহন করতে হয়।

কালের আলো/এমএএএমকে

প্রায় দুই বছর কারাভোগের পর ফের গ্রেপ্তার ছাত্রলীগ নেতা অনি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৩ অপরাহ্ণ
প্রায় দুই বছর কারাভোগের পর ফের গ্রেপ্তার ছাত্রলীগ নেতা অনি

ময়মনসিংহ মহানগর ছাত্রলীগের আহ্বায়ক নওশেল আহম্মেদ অনি (৩২) আবারও গ্রেপ্তার হয়েছেন। বিশেষ ক্ষমতা আইনের একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।

ফুলবাড়ীয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রাশেদুল হাসান জানান, গতরাতে ময়মনসিংহ নগরীর কাশর এলাকা থেকে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের সহযোগিতায় নওশেল আহম্মেদ অনিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ফুলবাড়ীয়া থানায় দায়ের হওয়া বিশেষ ক্ষমতা আইনের একটি মামলায় তাকে সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

পুলিশ জানায়, ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় ফুলবাড়ীয়া থানায় দায়ের করা বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় অনির নাম রয়েছে। ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর পর তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

নওশেল আহম্মেদ অনি ময়মনসিংহ নগরীর পিয়নপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. হুমায়ন কবীরের ছেলে। পুলিশ তাকে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা হিসেবে উল্লেখ করেছে।

এর আগে ২০২৪ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকার একটি বাসা থেকে নওশেল আহম্মেদ অনিকে গ্রেপ্তার করে তৎকালীন র‌্যাব সদস্যরা। এরপর বিভিন্ন মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। তার বিরুদ্ধে প্রায় ১১টি মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে। এসব মামলায় তিনি প্রায় দুই বছর কারাগারে ছিলেন।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

বিএনপির নাম ভাঙিয়ে অপকর্ম করলে কঠোর ব্যবস্থা: নজরুল ইসলাম খান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৪২ অপরাহ্ণ
বিএনপির নাম ভাঙিয়ে অপকর্ম করলে কঠোর ব্যবস্থা: নজরুল ইসলাম খান

বিএনপির নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজি, দখলবাজি, সন্ত্রাসসহ কোনো ধরনের অপকর্মে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান।

তিনি বলেছেন, বিএনপির প্রকৃত নেতাকর্মীরা অন্যায়, অনাচার, চাঁদাবাজি কিংবা দখলদারির সঙ্গে যুক্ত নন। কেউ এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে তাকে বিএনপির নেতাকর্মী হিসেবে বিবেচনা করা হবে না।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, যারা শহীদ জিয়াউর রহমানের সঙ্গে কাজ করেছেন, খালেদা জিয়ার সঙ্গে কাজ করেছেন এবং বর্তমানে তারেক রহমানের সঙ্গে কাজ করছেন, তারা নিজেদের স্বার্থে অন্যায়-অনাচার, চাঁদাবাজি বা দখলদারির সঙ্গে জড়িত নন।

তিনি বলেন, বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের প্রকৃত নেতাকর্মীরাও এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত নন। তবে কারও কর্মকাণ্ডের কারণে বিএনপির সমালোচনার সুযোগ তৈরি হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘যে প্রকৃত সৈনিক, শহীদ জিয়ার কর্মী, দেশনেত্রীর কর্মী, তারেক রহমানের কর্মী, সে অপরাধী হতে পারে না। সে চাঁদাবাজ হতে পারে না, সে দখলবাজ হতে পারে না, সে সন্ত্রাসী হতে পারে না। যদি কেউ হয়, সে বিএনপি নয়।’

দেশে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা তৈরি হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে শ্রমজীবী মানুষ—এমন মন্তব্য করে নজরুল ইসলাম খান বলেন, অস্থিরতার কারণে শিল্প-বাণিজ্য, কর্মসংস্থান ও মানুষের আয়-উপার্জন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

তিনি দেশের শান্তি ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি