খুঁজুন
                               
, ,
           

অপরিশোধিত বর্জ্যে বিপন্ন সান্তাহারের কৃষি ও জলজ পরিবেশ

বগুড়া সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ১:১৫ অপরাহ্ণ
অপরিশোধিত বর্জ্যে বিপন্ন সান্তাহারের কৃষি ও জলজ পরিবেশ

বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহারে পরিবেশগত নিয়মনীতি না মেনে কয়েকটি অটোমেটিক চালকল পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব মিলের সিদ্ধ ও ধোয়া সেকশন থেকে বের হওয়া দুর্গন্ধযুক্ত তরল বর্জ্য পরিশোধন না করেই খাল, জলাশয় ও ফসলি জমিতে ফেলা হচ্ছে। এতে পানির উৎস দূষিত হওয়ার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কৃষিজমি ও জলজ পরিবেশ।

স্থানীয়রা জানান, আদমদীঘির অধিকাংশ মানুষ কৃষি ও মাছ চাষের ওপর নির্ভরশীল। বিভিন্ন কলকারখানার বর্জ্য ও অপরিশোধিত তরল পদার্থের কারণে দিন দিন কৃষি ও জলজ পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষ করে সান্তাহার এলাকায় কয়েকটি অটোরাইস মিলের বর্জ্য সরাসরি খাল ও ফসলি জমিতে পড়ছে।

অভিযোগ রয়েছে, বুশরা অটো রাইস মিল, সুন্দরী অটো রাইস মিল, ইছামতী, ফুলজান, সালমান, এমবি, বৈশাখীসহ প্রায় ১৪টি অটোরাইস মিলের সিদ্ধ ও ধোয়া সেকশন থেকে নির্গত তরল বর্জ্য সরাসরি খাল, জলাশয় ও ফসলি জমিতে ফেলা হচ্ছে। বর্জ্য পানি পরিশোধনের জন্য ইটিপি স্থাপনের বাধ্যবাধকতা থাকলেও এসব প্রতিষ্ঠানে তা দৃশ্যমান নয় বলে দাবি স্থানীয়দের।

সরেজমিনে দেখা যায়, বুশরা অটো রাইস মিলের বর্জ্য পানি রেলের জায়গা দিয়ে ফসলি জমির পাশ দিয়ে ইরামতি খালে গিয়ে পড়ছে। এমবি এগ্রো ফুডস ও সালমান অটো রাইস মিলের বর্জ্য পানি ড্রেনের মাধ্যমে ফসলি জমি পেরিয়ে খাড়িতে গিয়ে পড়ছে। স্থানীয়দের দাবি, অন্যান্য চালকলেও একইভাবে অপরিশোধিত বর্জ্য পানি খাল ও জলাশয়ে ফেলা হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, মিলের বর্জ্য পানি ও খালের পানির নমুনা সংগ্রহ করে সান্তাহার মৎস্য গবেষণাগারে পরীক্ষা করা হয়েছে। পরীক্ষায় মিলের পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেন (ডিও) পাওয়া গেছে প্রতি লিটারে ১ দশমিক ৪ মিলিগ্রাম এবং খালের পানিতে ১ দশমিক ২ মিলিগ্রাম। স্বাভাবিক মাত্রা হিসেবে ৩ থেকে ৬ মিলিগ্রাম উল্লেখ করা হয়েছে।

পানির পিএইচের স্বাভাবিক মাত্রা ৭ দশমিক ৫ থেকে ৮ দশমিক ৫ হওয়ার কথা থাকলেও পরীক্ষায় মিলের পানিতে তা পাওয়া গেছে ৭ দশমিক ৩ এবং খালের পানিতে ৬ দশমিক ৮। অ্যামোনিয়ার স্বাভাবিক মাত্রা শূন্য দশমিক ০৫ থেকে শূন্য দশমিক ৫ মিলিগ্রাম হলেও মিলের পানিতে এর পরিমাণ ১০ মিলিগ্রামের বেশি এবং খালের পানিতে ১২ মিলিগ্রামের বেশি পাওয়া গেছে। অ্যালকালিনিটির স্বাভাবিক মাত্রা ২০ থেকে ৫০ মিলিগ্রাম হলেও মিলের পানিতে তা শূন্য দশমিক ৩ এবং খালের পানিতে শূন্য পাওয়া গেছে।

স্থানীয় কৃষক লতিফুর রহমান বলেন, খাড়ির দুর্গন্ধে এখন আশপাশে যাওয়া যায় না। জমিতে ফসলের ফলন কমেছে। পচা পানিতে মাছও বাঁচে না। একসময় খালের মাছেই পরিবারের আমিষের চাহিদা মিটলেও এখন মাছ কিনে খেতে হচ্ছে।

তবে বর্জ্য খালে ফেলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বুশরা অটো রাইস মিলের স্বত্বাধিকারী হাফেজ বেলাল হোসেন। তিনি বলেন, তাঁর প্রতিষ্ঠানের পেছনের একটি পুকুরে বর্জ্য পানি ফেলা হয়। তবে ড্রেন দিয়ে খালে যে পানি পড়ে, সেটি পরিষ্কার। অন্য মিল মালিকরাও একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন।

সান্তাহার নাগরিক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক এম এস রোশদানী বলেন, একসময় খাল-বিলের মাছ অত্যন্ত সুস্বাদু ছিল। কলকারখানার অপরিশোধিত বর্জ্য পানিতে ইরামতি খালের পরিবেশ ও জলজ জীববৈচিত্র্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে ভরাট ও কচুরিপানায় খালটি এখন মৃতপ্রায়। বর্জ্য পানি ফেলা বন্ধে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

সান্তাহার মৎস্য গবেষণাগারের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা শিশির কুমার দে বলেন, নমুনা পরীক্ষায় মিল ও ইরামতি খালের পানি প্রকৃতির জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর বলে দেখা গেছে। নমুনায় ছাই ও ধাতব উপাদানের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। হেভি মেটাল পরীক্ষা করা হলে ক্ষতিকর ধাতুর উপস্থিতি সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানা যাবে।

বগুড়া পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মাহমুদুল হাসান জানান, উল্লেখ করা ছয়টি মিলের মধ্যে বুশরা অটো রাইস মিলের ছাড়পত্র নবায়ন করা রয়েছে। তবে মিলের দুর্গন্ধযুক্ত ও দূষিত তরল বর্জ্য ড্রেন দিয়ে সরাসরি খাল, জলাশয় ও ফসলি জমিতে পড়ার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

আনসারে ‘এক আইন, এক কমান্ড’

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:২৬ অপরাহ্ণ
আনসারে ‘এক আইন, এক কমান্ড’

বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীকে নতুন আইনি ও প্রশাসনিক কাঠামোয় নেওয়ার উদ্যোগ শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে পৃথক তিনটি আইনের অধীনে পরিচালিত বাহিনীকে এবার একটি সমন্বিত আইনের আওতায় আনার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। প্রস্তাবিত ‘আনসার বাহিনী আইন’ বাস্তবায়িত হলে বাহিনীর পরিচালনা, নিয়ন্ত্রণ, দায়িত্ব ও সাংগঠনিক কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তনের পথ খুলবে।

বৃহস্পতিবার (০১ অক্টোবর) রাজধানীর খিলগাঁওয়ে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর অডিটোরিয়ামে নবনির্মিত ‘অগ্রযাত্রা ভবন’, ‘প্রান্তিক সংযোগ’ পরিষেবা, ‘প্রান্তিক শক্তি’ ও ‘ভ্রাম্যমাণ আইটি প্রশিক্ষণ সেন্টার’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এ কথা জানান।

  • পৃথক তিন আইন বিলুপ্ত করে সমন্বিত কাঠামোর উদ্যোগ
  • তেজগাঁওয়ে হচ্ছে আধুনিক সদর দপ্তর
  • এক লাখ স্বেচ্ছাসেবককে আনা হচ্ছে ডিজিটাল ব্যবস্থায়

তিন আইন থেকে এক কাঠামো

বর্তমানে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী ‘আনসার বাহিনী আইন, ১৯৯৫’, ‘আনসার ব্যাটালিয়ন আইন, ২০২৩’ এবং ‘গ্রাম প্রতিরক্ষা দল আইন, ১৯৯৫’—এই তিনটি পৃথক আইনের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে। সরকারের পরিকল্পনা হলো পৃথক এই আইনি কাঠামোগুলোকে একটি একক আইনের অধীনে নিয়ে আসা। এ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘একাধিক আইনের পরিবর্তে একটি সমন্বিত ও একক আইন প্রণয়ন করে তার অধীনে আধুনিক বিধিমালা তৈরি করা হলে বাহিনীর সামগ্রিক কর্মকাণ্ডের আইনিভিত্তি আরও সুদৃঢ় হবে।’ এই উদ্যোগের মাধ্যমে পৃথক আইনের বদলে একটি সমন্বিত কাঠামো তৈরি হলে বাহিনীর বিভিন্ন শাখার দায়িত্ব, কর্তৃত্ব ও পারস্পরিক সম্পর্ক নতুনভাবে নির্ধারণের সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণে অভিন্ন নীতিমালা কার্যকর করার পথও সহজ হতে পারে।

তেজগাঁওয়ে আধুনিক সদর দপ্তর

আইনি সংস্কারের পাশাপাশি আনসার বাহিনীর অবকাঠামোগত সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনাও সামনে এসেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, তেজগাঁওয়ে ৩ দশমিক ৪২৮ একর পরিত্যক্ত জমি আইনানুগভাবে হস্তান্তরের মাধ্যমে আধুনিক আনসার সদর দপ্তর প্রতিষ্ঠা করা হবে। পরিকল্পিত বহুতল ভবনের সঙ্গে থাকবে আধুনিক কমান্ড সেন্টার। এখান থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে দ্রুত তথ্য বিনিময়, সেন্ট্রাল অপারেশন মনিটরিং এবং সমন্বিত কৌশলগত পরিকল্পনা পরিচালনার কথা বলা হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, ‘আধুনিক সদর দপ্তর ও কমান্ড সেন্টার থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে দ্রুত তথ্য বিনিময়, সেন্ট্রাল অপারেশন মনিটরিং এবং সমন্বিত কৌশলগত পরিকল্পনা পরিচালনা করা সম্ভব হবে।’ এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন নতুন এই কাঠামো বাস্তবায়িত হলে আনসারের প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার সঙ্গে প্রযুক্তিনির্ভর কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা যুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। বিশেষ করে মাঠপর্যায়ে ছড়িয়ে থাকা সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবী কাঠামোর কার্যক্রম কেন্দ্রীয়ভাবে পর্যবেক্ষণের সক্ষমতা বাড়তে পারে।

নিরাপত্তায় বাড়ছে আনসারের ভূমিকা 

জাতীয় নির্বাচন, ধর্মীয় উৎসব, গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় স্থাপনা ও জনসমাগমস্থলের নিরাপত্তায় আনসার সদস্যদের ভূমিকার কথা তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। পাশাপাশি দুর্গম পার্বত্য ও সীমান্তবর্তী এলাকায় যৌথ নিরাপত্তা কার্যক্রম, অবৈধ অনুপ্রবেশ, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধ, উচ্ছেদ অভিযান, অপরাধ দমন, নিখোঁজ শিশু উদ্ধার এবং দালালবিরোধী কার্যক্রমেও তাদের সম্পৃক্ততার কথা বলেন তিনি। বাহিনীটির দায়িত্বের পরিধি যে শুধু প্রথাগত নিরাপত্তা সহায়তার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, তা স্পষ্ট। জননিরাপত্তার বিভিন্ন স্তরে আনসার সদস্যদের অংশগ্রহণ বাড়ছে। মন্ত্রী বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচন, ধর্মীয় উৎসব, গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় স্থাপনা ও জনসমাগমস্থলের নিরাপত্তায় আনসার সদস্যরা নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন।’

এক লাখ স্বেচ্ছাসেবককে ডিজিটাল ব্যবস্থায় আনা 

মানবসম্পদ উন্নয়ন ও দক্ষতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও বড় পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন মন্ত্রী। তাঁর ভাষ্য, এক লাখ টিডিপি স্বেচ্ছাসেবককে আধুনিক প্রশিক্ষণ ও ডিজিটাল ব্যবস্থাপনার আওতায় এনে একটি শক্তিশালী স্বেচ্ছাসেবী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘এক লাখ টিডিপি স্বেচ্ছাসেবককে আধুনিক প্রশিক্ষণ ও ডিজিটাল ব্যবস্থাপনার আওতায় এনে শক্তিশালী স্বেচ্ছাসেবী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হচ্ছে।’

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জাপানি ভাষা প্রশিক্ষণ, ‘সঞ্জীবন’ প্রকল্প, ডিজিটাল প্রশিক্ষণ এবং ‘প্রান্তিক সংযোগ’ ও ‘প্রান্তিক শক্তি’র মতো সামাজিক ও অর্থনৈতিক সেবা কার্যক্রম। মন্ত্রীর মতে, এসব উদ্যোগ দেশে-বিদেশে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, নারীর ক্ষমতায়ন এবং জাতীয় প্রবৃদ্ধিতে অবদান রাখবে। এতে আনসার-ভিডিপির প্রচলিত নিরাপত্তা ভূমিকার সঙ্গে দক্ষতা উন্নয়ন ও সামাজিক-অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও আরও গতি আসবে।

ইতিহাস থেকে আধুনিকায়নের পথে

অনুষ্ঠানে আনসার-ভিডিপির ঐতিহাসিক বিকাশও তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্যে ১৯৭৬ সালে জনগণকে সম্পৃক্ত করে জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দর্শনের কথা উঠে আসে। পরবর্তী সময়ে ১৯৯৫ সালে পৃথক তিনটি আইন প্রণয়ন এবং ২০০৪ সালে স্বাধীনতা পদক প্রদানের মাধ্যমে বাহিনীর প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি শক্তিশালী হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। এখন প্রস্তাবিত একক আইন ও আধুনিক অবকাঠামোর মাধ্যমে সেই কাঠামোকে নতুন বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা, কেন্দ্রীয় মনিটরিং এবং প্রশিক্ষণভিত্তিক মানবসম্পদ উন্নয়ন বাহিনীটির প্রচলিত কার্যক্রমে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।

একই সংস্কারধারার চারটি উদ্যোগ 

একটি একক আইন, আধুনিক সদর দপ্তর, কমান্ড সেন্টার এবং ডিজিটাল প্রশিক্ষণ—চারটি উদ্যোগকে একই সংস্কারধারার অংশ হিসেবে দেখা যাচ্ছে। লক্ষ্য হচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপনা ও তৃণমূল পর্যায়ের কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো এবং বাহিনীর সক্ষমতাকে প্রযুক্তিনির্ভর করা। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘নতুন সদর দপ্তরকে কেন্দ্র করে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর পরিচালনগত সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং তৃণমূলের সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপনার সমন্বয় আরও সুদৃঢ় হবে।’ মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, সুশাসন, শৃঙ্খলা, পেশাদারিত্ব, উদ্ভাবন, জবাবদিহিতা ও সততার ভিত্তিতে নতুন সদর দপ্তরটি জনসেবার একটি আধুনিক মডেল হিসেবে গড়ে উঠবে।

বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এমএএএমকে

দেশজুড়ে ডেঙ্গু কিট পাঠানোর নির্দেশ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:১৩ অপরাহ্ণ
দেশজুড়ে ডেঙ্গু কিট পাঠানোর নির্দেশ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

ডেঙ্গু রোগী দ্রুত শনাক্ত ও চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় সহায়তার জন্য বাংলাদেশকে পাঁচ লাখ এনএস১ র‍্যাপিড ডায়াগনস্টিক টেস্ট কিট দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত স্ট্রাইডজ কার্যক্রমের আওতায় এসব কিট সরবরাহ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রাজধানীর কুর্মিটোলা মাল্টিকেয়ার স্পেশালাইজড হাসপাতালে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনের কাছে কিটগুলো হস্তান্তর করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত (চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স) তৃষিতা মওলা।

কিট হস্তান্তরের পর এগুলো দ্রুত দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

তিনি জানান, হস্তান্তর করা সব কিট প্রথমে কেন্দ্রীয় ঔষধাগারে (সিএমএসডি) জমা হবে। এরপর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মাধ্যমে চাহিদা অনুযায়ী দেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে এসব কিট বিতরণ করা হবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, যানজট ও যাতায়াতের সুবিধার কথা বিবেচনা করে কুর্মিটোলা মাল্টিকেয়ার স্পেশালাইজড হাসপাতালে কিট হস্তান্তর অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছে। তবে কিট ব্যবহারের ক্ষেত্রে দেশের সব অঞ্চলের প্রয়োজনকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, নতুন পাওয়া কিটের পাশাপাশি সরকারি খাতেও বর্তমানে পর্যাপ্ত ডেঙ্গু অ্যান্টিজেন কিট ও আইভি স্যালাইন মজুত রয়েছে। ফলে দেশের কোনো অঞ্চলে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়লেও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য বিভাগ প্রস্তুত রয়েছে।

বাংলাদেশে ডেঙ্গু ভ্যাকসিন চালুর বিষয়েও সরকারের চিন্তাভাবনা রয়েছে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ভ্যাকসিনের ব্যয় তুলনামূলক বেশি হওয়ায় এর কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। এ বিষয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফ ও গ্যাভির সঙ্গে আলোচনা চলছে। আন্তর্জাতিক নির্দেশিকা অনুসরণ করে ভ্যাকসিন চালুর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. রফিকুল ইসলাম, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. জাহিদ রায়হান, কুর্মিটোলা মাল্টিকেয়ার স্পেশালাইজড হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সাইদুর রহমানসহ মার্কিন দূতাবাস ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ড ও রোগনির্ণয় পরীক্ষাগার পরিদর্শন করেন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

সরবরাহ সংকটে ইলিশের ডিম, কেজি ৬ হাজার টাকা

পটুয়াখালী সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:০৪ অপরাহ্ণ
সরবরাহ সংকটে ইলিশের ডিম, কেজি ৬ হাজার টাকা

পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে ইলিশের ডিম। বর্তমানে তাজা ইলিশের ডিম প্রতি কেজি ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা এবং নোনা ইলিশের ডিম ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে এই দামেও চাহিদা অনুযায়ী ডিম মিলছে না। ব্যবসায়ীরা বলছেন, ডিমওয়ালা ইলিশের সরবরাহ কমে যাওয়ায় বাজারে সংকট তৈরি হয়েছে।

ইলিশের ডিমের বাজার মূলত মৌসুমনির্ভর। জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে এর চাহিদা ও সরবরাহ বেশি থাকে। তবে চলতি মৌসুমে ডিমওয়ালা ইলিশ তুলনামূলক কম পাওয়ায় চাহিদা অনুযায়ী ডিম সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

ব্যবসায়ীদের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের একই সময়ে প্রতি কেজি ইলিশের ডিমের দাম ছিল ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকা। এ বছর তা বেড়ে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকায় উঠেছে। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।

স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি অনলাইনেও ইলিশের ডিম বিক্রি ও প্রচার বাড়ায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় এর চাহিদা বেড়েছে।

ফিশ ভ্যালির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাসেল হাওলাদার বলেন, সেপ্টেম্বরে সাধারণত ডিমওয়ালা ইলিশের প্রাপ্যতা বাড়ে। কিন্তু এবার চাহিদার তুলনায় ডিমওয়ালা ইলিশ কম পাওয়া যাচ্ছে। বিভিন্ন স্থান থেকে ইলিশ সংগ্রহ করা হলেও সব মাছের পেটে সমপরিমাণ ডিম থাকে না। ফলে চাহিদা থাকলেও সবসময় পর্যাপ্ত ডিম সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না।

কুয়াকাটা মা শুটকি এন্টারপ্রাইজের পরিচালক সোহেল মাহমুদ বলেন, নোনা ইলিশের ডিমেরও ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। ভরা মৌসুমে শুধু একটি দোকানেই প্রায় ৮০ কেজি নোনা ডিমের চাহিদা থাকে। অথচ জেলেদের কাছ থেকে সব মিলিয়ে ২০ থেকে ৩০ কেজির বেশি সংগ্রহ করা যাচ্ছে না। ফলে সরবরাহ ঘাটতিতে দাম বেড়েছে।

মহিপুরের আতিক ফিশ পয়েন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু হাসনাত আতিক বলেন, আলিপুর-মহিপুর মৎস্যবন্দর থেকে তাজা ইলিশ সংগ্রহের পর মাছ কাটার সময় ডিম আলাদা করা হয়। সাধারণত চার থেকে ছয়টি ইলিশের ডিমে প্রায় এক কেজি হয়। এসব ডিম ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। স্থানীয় ক্রেতাদের পাশাপাশি পর্যটকরাও ডিম কিনছেন। অনলাইনের মাধ্যমেও দেশের বিভিন্ন স্থানে তা পাঠানো হচ্ছে।

তবে ইলিশের ডিমের বাণিজ্যিক চাহিদা ও দাম বাড়ায় প্রজননক্ষম মা ইলিশ আহরণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন গবেষকেরা। তাঁদের মতে, প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ ডিম ছাড়ার সুযোগ না পেলে ইলিশের প্রাকৃতিক প্রজনন ব্যাহত হতে পারে।

‘সুস্থ সাগর’ প্রকল্পের গবেষণা সহকারী মো. বখতিয়ার রহমান বলেন, ইলিশের ডিমের চাহিদা ও বাজারমূল্য বাড়ার কারণে ডিমওয়ালা ইলিশ আহরণ বেড়ে গেলে তা উদ্বেগের বিষয়। বিশেষ করে প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ ধরা হলে মাছগুলো ডিম ছাড়ার সুযোগ হারায়। এতে দীর্ঘমেয়াদে মৎস্যসম্পদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. জহিরুন্নবী বলেন, আগে ইলিশের ডিম বিক্রির প্রচলন তেমন ছিল না। বর্তমানে অনলাইনে ইলিশ বিক্রির পাশাপাশি মাছের পেট থেকে ডিম সংগ্রহ করে বিক্রি করা হচ্ছে। অনলাইনে প্রচার-প্রচারণার কারণে চাহিদা দিন দিন বাড়ছে, যা ভবিষ্যতে ইলিশের জন্য ঝুঁকির কারণ হতে পারে।

তিনি বলেন, ইলিশের প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশের ডিম ছাড়ার সময় সরকার ঘোষিত নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকে। এ সময় মৎস্য বিভাগের পক্ষ থেকে প্রচার, নজরদারি ও অভিযান পরিচালনা করা হয়। তবে ডিম সংগ্রহের উদ্দেশ্যে সারাদেশে ব্যাপকভাবে মা ইলিশ শিকার শুরু হলে ভবিষ্যতে ইলিশের সংকট তৈরি হতে পারে।

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ বায়োলজি অ্যান্ড জেনেটিক্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. রাজীব সরকার বলেন, অধিক মুনাফার আশায় প্রজননক্ষম মা ইলিশের ডিম সংগ্রহ করে অনলাইনে বিক্রির প্রবণতা ইলিশের স্বাভাবিক প্রজনন ও ভবিষ্যৎ উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

তিনি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ইলিশের ডিম বিক্রির কার্যক্রম নজরদারির আওতায় আনার পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও আইন প্রয়োগ জোরদারের পরামর্শ দেন। একই সঙ্গে ভোক্তাদেরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি