খুঁজুন
                               
, ,
           

পাঁচ বছরে অর্ধেকের বেশি কমেছে হীরার দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৫২ অপরাহ্ণ
পাঁচ বছরে অর্ধেকের বেশি কমেছে হীরার দাম

হীরা দীর্ঘদিন ধরেই বিলাসিতা, সম্পদ ও আভিজাত্যের প্রতীক। বিয়ের আংটি থেকে শুরু করে দামি গহনা—বিশ্বজুড়ে এর চাহিদা ছিল উচ্চ। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেই বাজারেই বড় পরিবর্তন এসেছে। প্রাকৃতিক হীরার দাম দ্রুত কমছে, আর একই সঙ্গে বাজারে বাড়ছে তুলনামূলক সস্তা ল্যাব-গ্রোন হীরার উপস্থিতি।

র‍্যাপাপোর্ট গ্রুপের তথ্য অনুযায়ী, এক ক্যারেট প্রাকৃতিক হীরার গড় দাম এখন প্রায় ৩ হাজার ৮৯৮ মার্কিন ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় আনুমানিক ৪ লাখ ৭৯ হাজার টাকা। অথচ ২০২১ সালে একই আকারের হীরার গড় দাম ছিল প্রায় ৮ হাজার ৭ ডলার বা ৯ লাখ ৮৪ হাজার টাকা। অর্থাৎ পাঁচ বছরের ব্যবধানে দাম কমেছে প্রায় ৫১ শতাংশ।

ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে হীরার সূচক

প্রাকৃতিক হীরার দামের পতনের চিত্র আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে ডায়মন্ড স্ট্যান্ডার্ড ইনডেক্সে। বিনিয়োগযোগ্য মানের হীরার দাম অনুসরণ করা এই সূচক গত আগস্টের শুরুতে নেমে আসে ২ হাজার ৪৯০-এ। এটি সূচকটির ইতিহাসে সর্বনিম্ন অবস্থান।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, হীরার দামে এই পতনের পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো বাজারে অতিরিক্ত সরবরাহ। করোনাভাইরাস মহামারির সময় উৎপাদন বাড়ার পর ২০২৩ ও ২০২৪ সালে বিপুল পরিমাণ অবিক্রীত হীরা জমে যায়।

ডায়মন্ড স্ট্যান্ডার্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা করম্যাক কিনির মতে, অতিরিক্ত মজুতের পাশাপাশি ল্যাবে তৈরি হীরার জনপ্রিয়তা বৃদ্ধিও প্রাকৃতিক হীরার বিক্রিতে প্রভাব ফেলেছে।

ফলে একদিকে বাজারে প্রাকৃতিক হীরার সরবরাহ বেড়েছে, অন্যদিকে ক্রেতাদের সামনে এসেছে কম দামের বিকল্প। এই দুই পরিস্থিতি একসঙ্গে প্রাকৃতিক হীরার দামের ওপর চাপ তৈরি করেছে।

কেন এত জনপ্রিয় ল্যাব-গ্রোন হীরা?

ল্যাব-গ্রোন বা গবেষণাগারে তৈরি হীরা দেখতে অনেকটাই প্রাকৃতিক হীরার মতো। রাসায়নিক ও ভৌত বৈশিষ্ট্যের ক্ষেত্রেও দুটির মধ্যে উল্লেখযোগ্য মিল রয়েছে। মূল পার্থক্য তাদের উৎপত্তিতে।

প্রাকৃতিক হীরা পৃথিবীর গভীরে দীর্ঘ সময় ধরে প্রাকৃতিক ভূতাত্ত্বিক প্রক্রিয়ায় তৈরি হয়। পরে খনি থেকে তা উত্তোলন করতে হয়। বিপরীতে ল্যাব-গ্রোন হীরা নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে কার্বন বীজ বা কার্বনযুক্ত গ্যাস ব্যবহার করে তাপ ও চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে তৈরি করা হয়।

এ কারণে ল্যাব-গ্রোন হীরা উৎপাদনে খনন, জ্বালানি ও শ্রমের খরচ তুলনামূলকভাবে কম পড়ে। আর সেই খরচের পার্থ্যক্য শেষ পর্যন্ত বাজারদরেও বড় ব্যবধান তৈরি করছে।

একই মানে দামের আকাশ-পাতাল পার্থক্য

একই ধরনের বৈশিষ্ট্যের প্রাকৃতিক ও ল্যাব-গ্রোন হীরার মধ্যে দামের পার্থক্য এখন অনেক বেশি। ব্রিলিয়ান্ট আর্থের বাজার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, প্রায় বর্ণহীন ও সামান্য ত্রুটিযুক্ত এক ক্যারেট ল্যাব-গ্রোন হীরার দাম প্রায় ৪৫০ ডলার বা ৫৫ হাজার ৩০০ টাকা হতে পারে।

অন্যদিকে একই বৈশিষ্ট্যের প্রাকৃতিক হীরার দাম হতে পারে ২ হাজার ৮০০ থেকে ৩ হাজার ২০০ ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ৩ লাখ ৪৪ হাজার থেকে ৩ লাখ ৯৩ হাজার টাকা।

অবশ্য হীরার দাম নির্ধারণে আকার, কাট, রং ও স্বচ্ছতার মতো বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। কিছু ক্ষেত্রে ল্যাব-গ্রোন হীরার দাম প্রাকৃতিক হীরার তুলনায় ৯০ শতাংশ পর্যন্ত কম হতে পারে।

বিয়ের আংটিতেও বদলাচ্ছে ক্রেতাদের পছন্দ

দামের এই বিশাল ব্যবধান ক্রেতাদের পছন্দেও পরিবর্তন আনছে। দ্য নটের ২০২৬ রিয়েল ওয়েডিংস স্টাডি অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বিক্রি হওয়া বাগদানের আংটির ৬১ শতাংশে কেন্দ্রীয় পাথর হিসেবে ল্যাব-গ্রোন হীরা ব্যবহার করা হয়েছে।

২০২০ সালের তুলনায় এই হার বেড়েছে ২৩৯ শতাংশ। অর্থাৎ মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে বিয়ের গহনায় ল্যাব-গ্রোন হীরার ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

এর একটি বড় কারণ হলো একই বাজেটে ক্রেতারা তুলনামূলক বড় আকারের হীরা কিনতে পারছেন। ফলে প্রাকৃতিক হীরার ওপর নির্ভরতা কমছে এবং ল্যাব-গ্রোন হীরা অনেক ক্রেতার কাছে বাস্তবসম্মত বিকল্প হয়ে উঠছে।

বাড়ছে ল্যাব-গ্রোন হীরার বাজার

শুধু বিয়ের গহনাতেই নয়, সামগ্রিকভাবেই ল্যাব-গ্রোন হীরার বাজার দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। ফরচুন বিজনেস ইনসাইটসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৫ সালে এই বাজারের আকার ছিল প্রায় ২৯ দশমিক ৪৬ বিলিয়ন ডলার। ২০৩৪ সালে তা বেড়ে প্রায় ৯২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।

বাজার বড় হলে প্রাকৃতিক হীরার সঙ্গে প্রতিযোগিতাও আরও তীব্র হতে পারে। বিশেষ করে দাম, সহজলভ্যতা ও ক্রেতাদের পরিবর্তিত পছন্দের কারণে ভবিষ্যতে ল্যাব-গ্রোন হীরার প্রভাব আরও বাড়তে পারে।

সরবরাহ কমানোর পথে খনি কোম্পানিগুলো

প্রাকৃতিক হীরার দাম ধরে রাখতে খনি কোম্পানিগুলোও সরবরাহ কমানোর উদ্যোগ নিচ্ছে। ডি বিয়ার্স গ্রুপ জুলাইয়ে জানিয়েছে, দক্ষিণ আফ্রিকার ভেনেশিয়া খনিতে দুই বছরের বেশি সময় উৎপাদন বন্ধ রাখা হবে।

এ ছাড়া ২০২৬ সালে অন্তত দুটি হীরার খনি স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার খবরও পাওয়া গেছে। শিল্পসংশ্লিষ্টদের ধারণা, খনি বন্ধ হলে প্রাকৃতিক হীরার সরবরাহ কমবে। সরবরাহ কমলে বাজারে দাম কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তবে ল্যাব-গ্রোন হীরার উৎপাদন ও ব্যবহার যেভাবে বাড়ছে, তাতে প্রাকৃতিক হীরার দামের পুনরুদ্ধার কতটা স্থায়ী হবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

হীরা কি বিনিয়োগের সম্পদ?

হীরার দামের পতনের সঙ্গে আরেকটি বিষয় সামনে এসেছে—এটি আদৌ কতটা কার্যকর বিনিয়োগ সম্পদ? বিশ্লেষকদের মতে, হীরাকে বিনিয়োগ হিসেবে মূল্যায়ন করা তুলনামূলক কঠিন।

কারণ প্রতিটি হীরার আকার, রং, কাট ও স্বচ্ছতা আলাদা। ফলে সোনার মতো হীরার কোনো একক নির্ধারিত স্পট প্রাইস নেই। একই সঙ্গে এর পুনর্বিক্রয় বাজারও তুলনামূলক দুর্বল।

২০২৬ সালের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হীরার মান ও বাজারের চাহিদার ওপর নির্ভর করে দ্বিতীয় বাজারে একটি পাথর বিক্রি হতে এক বছরেরও বেশি সময় লাগতে পারে। অনেক ক্ষেত্রেই খুচরা দামের অর্ধেকেরও কম দামে তা বিক্রি করতে হয়।

নিউইয়র্ক ও নিউ জার্সিভিত্তিক ক্যাসেল জুয়েলার্সের মালিক কোরি শিফটারও হীরা কেনার ক্ষেত্রে এটিকে আর্থিক বিনিয়োগ হিসেবে না দেখার পরামর্শ দিয়েছেন। তার মতে, হীরা কেনার মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত ব্যবহার বা ব্যক্তিগত পছন্দ, বিনিয়োগ নয়।

সামনে কোন পথে যাবে হীরার বাজার?

প্রাকৃতিক হীরার বাজার এখন দুটি বিপরীত প্রবণতার মুখোমুখি। একদিকে খনি বন্ধ করে সরবরাহ কমানোর চেষ্টা চলছে, অন্যদিকে ল্যাব-গ্রোন হীরার উৎপাদন ও ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে।

এই পরিস্থিতিতে প্রাকৃতিক হীরার দাম আবার আগের পর্যায়ে ফিরবে কি না, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা কঠিন। তবে বাজারের পরিবর্তন শুধু দামের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বদলে যাচ্ছে ক্রেতাদের চিন্তাভাবনাও।

একসময় বিরলতা ও দীর্ঘমেয়াদি মূল্য ধরে রাখার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হীরা এখন তুলনামূলক কম দামের ল্যাব-গ্রোন বিকল্পের সঙ্গে সরাসরি প্রতিযোগিতায় পড়েছে। ফলে ভবিষ্যতের হীরার বাজারে প্রাকৃতিক ও ল্যাব-গ্রোন—দুই ধরনের হীরার অবস্থানই নতুন করে নির্ধারিত হতে পারে।

সূত্র: সিএনবিসি

কালের আলো/এসএ

 

খুলনায় রূপসা এক্সপ্রেসের ১২ চাকা লাইনচ্যুত, সীমান্ত এক্সপ্রেস অনিশ্চিত

খুলনা সংবাদদাতা
প্রকাশিত: রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১:১১ পূর্বাহ্ণ
খুলনায় রূপসা এক্সপ্রেসের ১২ চাকা লাইনচ্যুত, সীমান্ত এক্সপ্রেস অনিশ্চিত

খুলনায় রেলওয়ে ইয়ার্ডে রূপসা এক্সপ্রেসের দুটি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে। শনিবার (৩ অক্টোবর) রাত ৯টা ৫০ মিনিটের দিকে ট্রেনটি ওয়াশপিটে নেওয়ার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে বগি দুটির ১২টি চাকা লাইন থেকে ছিটকে পড়ে।

রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, যাত্রা শেষে রূপসা এক্সপ্রেসের খালি ট্রেনটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য ওয়াশপিটে নেওয়া হচ্ছিল। এ সময় ইয়ার্ডের ভেতরে দুটি বগি লাইনচ্যুত হয়। ট্রেনটি খালি থাকায় এ ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

দুর্ঘটনার পর খুলনা থেকে ছেড়ে যাওয়ার অপেক্ষায় থাকা সীমান্ত এক্সপ্রেসের যাত্রা অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। কখন ট্রেনটি ছাড়তে পারবে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

এ ছাড়া ঢাকাগামী ২৫ আপ নকশীকাঁথা এক্সপ্রেসের যাত্রাও প্রায় দেড় ঘণ্টা বিলম্বিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়।

খুলনা স্টেশন মাস্টার মোহাম্মদ জাকির হোসেন বলেন, দুর্ঘটনার পর রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক করার কাজ শুরু হয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যে অন্যান্য ট্রেনের চলাচল স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে। তবে সীমান্ত এক্সপ্রেসের ক্ষেত্রে কিছুটা বেশি সময় লাগতে পারে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

যুদ্ধ নয়, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়ন চায় বাংলাদেশ: তথ্যমন্ত্রী

কালের আলো ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৩৬ অপরাহ্ণ
যুদ্ধ নয়, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়ন চায় বাংলাদেশ: তথ্যমন্ত্রী

বাংলাদেশ কোনো যুদ্ধ, নিরাপত্তা সংকট, ভূখণ্ড দখল বা শোষণের সঙ্গে জড়াতে চায় না বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিব রহমান পার্থ। দেশের উন্নয়ন ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখাই বাংলাদেশের প্রধান অগ্রাধিকার বলেও জানান তিনি।

শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে পঞ্চম বে অব বেঙ্গল কনভারসেশনের একটি সেশনে তিনি এসব কথা বলেন।

আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক সংকট শুধু একটি অঞ্চলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বিশ্বজুড়ে নিরাপত্তা ও জ্বালানি সংকটের প্রভাব বিভিন্ন দেশকে ভোগাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার প্রতিযোগিতাও সহজে শেষ হওয়ার নয়।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ বিশ্ব সম্প্রদায়ের অংশ এবং দেশটি স্থিতিশীলতা চায়। কারণ মানুষের প্রধান চিন্তা খাদ্য, শিক্ষা, চিকিৎসা ও সামাজিক নিরাপত্তা নিয়ে। যুদ্ধ বা অস্থিতিশীলতায় জড়ানোর মতো সময় বাংলাদেশের নেই। দিন শেষে এসব সংকটের ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষই হয়।

বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতের প্রভাবে বাংলাদেশের জ্বালানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ার কথাও তুলে ধরেন তথ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, যেসব যুদ্ধের সঙ্গে বাংলাদেশের কোনো সম্পর্ক নেই, সেসব যুদ্ধের প্রভাবেও বাংলাদেশকে বেশি দামে জ্বালানি কিনতে হচ্ছে।

আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন, বাংলাদেশ কোনো যুদ্ধে জড়াতে চায় না। চীন, যুক্তরাষ্ট্রসহ পরাশক্তিগুলো বাংলাদেশের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার জন্য সহযোগিতা করবে—এটাই প্রত্যাশা।

বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের সক্ষমতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের মানুষ কঠোর পরিশ্রম করতে প্রস্তুত। তাদের প্রয়োজন এমন একটি স্থিতিশীল পরিবেশ, যেখানে তারা শান্তিতে কাজ করতে পারবেন এবং দেশের উন্নয়ন এগিয়ে নিতে পারবেন।

‘নতুন করে গড়ে ওঠা এক বিশ্বে ক্ষমতা, প্রযুক্তি ও আস্থার পথচলা’ প্রতিপাদ্যে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত তিন দিনব্যাপী বে অব বেঙ্গল কনভারসেশনে শতাধিক দেশের প্রায় ২০০ বক্তা, ৩০০ প্রতিনিধি ও এক হাজারের বেশি অংশগ্রহণকারী অংশ নিয়েছেন। সম্মেলনটি ৫ অক্টোবর শেষ হবে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

গ্যাস সিলিন্ডারে বেশি দাম, ৩৯ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:২৩ অপরাহ্ণ
গ্যাস সিলিন্ডারে বেশি দাম, ৩৯ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

সরকার নির্ধারিত মূল্যে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি নিশ্চিত করতে ঢাকা মহানগরসহ দেশের ১৬ জেলায় বিশেষ অভিযান চালিয়েছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। অভিযানে বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে ৩৯টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৪ লাখ ২৬ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

শনিবার (৩ অক্টোবর) অধিদপ্তরের ২৩টি টিম একযোগে ডিলার, পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ের গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানে এ অভিযান পরিচালনা করে।

অধিদপ্তর জানায়, বাজারে গ্যাস সিলিন্ডারের স্বাভাবিক সরবরাহ বজায় রাখা, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখা এবং সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত দাম নেওয়া বন্ধ করতে এ তদারকি কার্যক্রম চালানো হয়।

অভিযানে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হালনাগাদ মূল্যতালিকা প্রদর্শন, ক্রয়-বিক্রয়ের ভাউচার সংরক্ষণ ও প্রদান, সিলিন্ডারের নিরাপত্তাবিধি মানা এবং মেয়াদোত্তীর্ণ সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে কি না তা যাচাই করা হয়।

এ ছাড়া ব্যবসায়ীদের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, অযৌক্তিকভাবে সিলিন্ডার মজুত এবং সরবরাহে প্রতিবন্ধকতা তৈরি না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সরকার নির্ধারিত মূল্যে সিলিন্ডার বিক্রি এবং দৃশ্যমান স্থানে মূল্যতালিকা প্রদর্শনের বিষয়েও সতর্ক করা হয়।

ভোক্তাদের সিলিন্ডার কেনার সময় ওজন, সিল, মেয়াদ ও দৃশ্যমান ত্রুটি যাচাই করার পাশাপাশি মূল্যতালিকা দেখে রশিদ বা ভাউচার সংগ্রহের পরামর্শ দিয়েছে অধিদপ্তর।

গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রিতে অনিয়মের অভিযোগ থাকলে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের হটলাইন ১৬১২১-এ যোগাযোগ করা যাবে।

অধিদপ্তর জানিয়েছে, বাজারে শৃঙ্খলা ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি