খুঁজুন
                               
, ,
           

রাজশাহীর টেনিসে মুগ্ধ জয় মুখার্জি

রাজশাহী সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৪০ অপরাহ্ণ
রাজশাহীর টেনিসে মুগ্ধ জয় মুখার্জি

দশমবারের মতো রাজশাহীতে আন্তর্জাতিক জুনিয়র টেনিস চ্যাম্পিয়নশিপে ম্যাচ রেফারির দায়িত্ব পালন করতে এসেছেন ভারতের জয় মুখার্জি। এর আগে নয়বার এ টুর্নামেন্টে ম্যাচ রেফারির দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।

শুধু রাজশাহী নয়, ঢাকাতেও নিয়মিত আন্তর্জাতিক টেনিস টুর্নামেন্টে ম্যাচ রেফারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন জয় মুখার্জি। রাজশাহীর টুর্নামেন্ট শেষে ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য প্রতিযোগিতায়ও তিনি দায়িত্ব পালন করবেন। সেখানে এটি হবে তাঁর নবমবারের দায়িত্ব পালন।

আইটিএফ অনুমোদিত হোয়াইট ব্যাজ রেফরি জয় মুখার্জি আগামী সপ্তাহে ঢাকায় বাংলাদেশ টেনিস ফেডারেশনের উদ্যোগে আয়োজিত দুই দিনের প্রশিক্ষণ কোর্সে অংশ নেবেন। সেখানে বাংলাদেশের উঠতি আম্পায়ারদের প্রশিক্ষণ দেবেন তিনি।

বুধবার সন্ধ্যায় রাজশাহী টেনিস কমপ্লেক্সের সভাকক্ষে তাঁর সঙ্গে কথা হয়। সাক্ষাৎকারে উঠে আসে তাঁর টেনিস জীবন, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক, বাংলাদেশের টেনিসের সম্ভাবনা এবং রাজশাহী শহর ও টেনিস কমপ্লেক্স নিয়ে তাঁর অভিজ্ঞতার কথা।

জয় মুখার্জির জন্ম ১৯৭৫ সালে ভারতের কলকাতার শ্যামবাজারে। সেখানেই তাঁর শৈশব ও কৈশোর কেটেছে। কলকাতাতেই বেড়ে ওঠা ও লেখাপড়া। পরে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে পড়াশোনা শেষ করেন। বর্তমানে তিনি পেশায় একজন আইনজীবী এবং আন্তর্জাতিক টেনিস রেফরি।

ছোটবেলা থেকেই টেনিসের প্রতি তাঁর গভীর আগ্রহ ছিল। মাত্র আট বছর বয়সে, ১৯৮৩ সালে টেনিস খেলা শুরু করেন তিনি। ১৯৮৭ সালে ভারতে প্রথম টুর্নামেন্টে অংশ নেন। বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান জয় জানান, টেনিস খেলতে তাঁর বাবা-মা কখনো বাধা দেননি; বরং সবসময় উৎসাহ দিয়েছেন।

বাংলাদেশের প্রতি নিজের ভালোবাসার কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন জয় মুখার্জি। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশকে আমি নিজের দেশই মনে করি।’

বাংলাদেশের মানুষের আতিথেয়তার প্রশংসা করে তিনি বলেন, রাজশাহীসহ বাংলাদেশের মানুষ অত্যন্ত অতিথিপরায়ণ। বাংলাদেশে তাঁর অনেক বন্ধু-বান্ধব রয়েছে বলেও জানান তিনি।

রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে গত দুই বছর বাংলাদেশে আসতে পারেননি জয়। সেই সময়ের অনুভূতি জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশে আসতে না পারায় তাঁর খুব কষ্ট হয়েছিল। এমনকি আবেগ সামলাতে না পেরে তাঁর চোখে পানি চলে এসেছিল। সাক্ষাৎকারের সময়ও বাংলাদেশ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

এবারও বাংলাদেশে আসা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছিল তাঁর। বাংলাদেশে আসার আগের দিন তাঁর স্ত্রী, কলকাতার ব্রিজ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের প্রশাসনিক কর্মকর্তা শিল্পী মুখার্জি দুর্ঘটনায় আহত হন। এতে জয় মনে করেছিলেন, এবার হয়তো বাংলাদেশে আসা সম্ভব হবে না।

শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশে আসতে পেরে তিনি আনন্দিত। একই সঙ্গে আহত অবস্থাতেও তাঁকে বাংলাদেশে আসতে সহযোগিতা ও উৎসাহ দেওয়ায় স্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক আবার আগের মতো স্বাভাবিক হয়ে উঠুক—এমন প্রত্যাশার কথা জানান জয় মুখার্জি। এ ক্ষেত্রে তাঁর কিছু করার থাকলে তিনি তা করতেও প্রস্তুত বলে জানান।

বাংলাদেশের টেনিসের বর্তমান অবস্থা নিয়েও কথা বলেন এই আন্তর্জাতিক রেফরি। তাঁর মতে, বাংলাদেশের মেয়েদের টেনিসে উন্নতি হচ্ছে। ছেলেরাও ধীরে ধীরে উঠে আসছে। তিন-চারজন খেলোয়াড় ভালো মানে খেলছেন এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জয়ও পাচ্ছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

রাজশাহী শহর সম্পর্কে জয় মুখার্জির মূল্যায়নও বেশ ইতিবাচক। তাঁর কাছে রাজশাহী অত্যন্ত সুন্দর, পরিপাটি ও পরিচ্ছন্ন একটি শহর। এখানকার বায়ু নির্মল এবং বায়ুদূষণও খুব একটা নেই বলে মনে করেন তিনি।

জয় বলেন, রাজশাহী তাঁর খুব ভালো লাগে। সুযোগ পেলে বারবার এখানে আসতে চান তিনি।

রাজশাহী টেনিস কমপ্লেক্সের কোর্টের প্রশংসা করে তিনি বলেন, এটি আন্তর্জাতিক মানের। কোর্টের পরিকল্পনা ও নির্মাণে কোনো ত্রুটি নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

নির্ভয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ, জনপ্রতিনিধিদের জবাবদিহিতে জোর ড.মঈন খানের

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:২৮ অপরাহ্ণ
নির্ভয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ, জনপ্রতিনিধিদের জবাবদিহিতে জোর ড.মঈন খানের

রাজনীতির মূল লক্ষ্য ক্ষমতা অর্জন নয়, বরং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করা—এমন অবস্থানের কথা তুলে ধরেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। তাঁর মতে, গণতন্ত্রকে কার্যকর ও শক্তিশালী করতে হলে তৃণমূল পর্যায়ে জনগণের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার পাশাপাশি জনপ্রতিনিধিদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। নির্বাচনে অর্থের প্রভাব কমিয়ে জনসেবার আদর্শকে প্রাধান্য দেওয়াও এ ক্ষেত্রে জরুরি।

শুক্রবার (০৯ অক্টোবর) রাজধানীর গুলশানে নিজের বাসভবনের অফিসকক্ষে ‘জাতীয় শিক্ষক দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে দ্য মিলেনিয়াম ইউনিভার্সিটির শিক্ষকদের সঙ্গে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় বিভিন্ন এনজিওর প্রতিনিধিরাও অংশ নেন। অনুষ্ঠানে খান ফাউন্ডেশনের ওয়েবসাইট উদ্বোধন করা হয়।

  • নির্দলীয় স্থানীয় সরকার নির্বাচনের পক্ষে মত
  • দলীয় বিভাজন ও পারস্পরিক বিদ্বেষ কমিয়ে জনকল্যাণে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান

রাজনীতির কেন্দ্রে থাকুক জনসেবা
ড. আবদুল মঈন খান বলেন, জনগণের প্রতিনিধি হতে পারা অত্যন্ত সৌভাগ্যের বিষয়। প্রায় ৩৫ বছর ধরে তিনি একই আদর্শে রাজনীতি করার চেষ্টা করছেন। নির্বাচনে ব্যক্তিগত অর্থ ব্যয় কিংবা আপ্যায়নের মাধ্যমে ভোট চাওয়ার পরিবর্তে মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা অর্জনকেই তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন।

তিনি বলেন, জনপ্রতিনিধির যেমন জনগণের কাছে জবাবদিহি রয়েছে, তেমনি সঠিক প্রতিনিধি নির্বাচনের দায়িত্বও জনগণের। নির্বাচনে জয়ী হতে বিপুল অর্থ ব্যয়ের প্রবণতা পরিবর্তন করতে হবে। জনগণের সেবা করার আদর্শ ছাড়া রাজনীতি সঠিক পথে পরিচালিত হতে পারে না।

তৃণমূলের গণতন্ত্রই জাতীয় ব্যবস্থার ভিত্তি
স্থানীয় সরকারব্যবস্থাকে গণতন্ত্রের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে না পারলে জাতীয় পর্যায়েও গণতন্ত্র কার্যকর করা সম্ভব নয়। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার, জনগণের সেবা নিশ্চিত করা এবং পাঁচটি স্তরে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন তাঁর সামনে গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ।

ভোটাধিকার প্রয়োগের পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, মানুষ যেন নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে হবে। অর্থাৎ নির্বাচনের আয়োজনের পাশাপাশি ভোটারের স্বাধীন সিদ্ধান্ত ও জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের অধিকার সুরক্ষিত রাখাও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ শর্ত।

নির্দলীয় নির্বাচনে বিভাজন কমানোর প্রত্যাশা
স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয় ভিত্তিতে আয়োজনের পক্ষে মত দেন ড. আবদুল মঈন খান। তাঁর মতে, এ ধরনের নির্বাচন স্থানীয় পর্যায়ে দলীয় বিভাজন ও পারস্পরিক বিদ্বেষ কমানোর সুযোগ তৈরি করতে পারে। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও দেশের উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণে সবাইকে দলীয় বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করতে হবে। এই বক্তব্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেবল জনপ্রতিনিধি বাছাইয়ের প্রক্রিয়া হিসেবে নয়, বরং স্থানীয় পর্যায়ে সহযোগিতা ও সামাজিক সংহতি জোরদারের ক্ষেত্র হিসেবেও দেখার গুরুত্ব উঠে আসে।

উন্নয়ন কার্যক্রমে সরকার-এনজিও সমন্বয়ের তাগিদ
দারিদ্র্য বিমোচন, জীবনমান উন্নয়ন ও সামাজিক অগ্রগতিতে বাংলাদেশের এনজিওগুলোর অবদানের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, সরকার ও এনজিওগুলোর লক্ষ্য হওয়া উচিত জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করা। এ জন্য স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান ও এনজিওগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে উন্নয়ন কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে হবে।

দ্য মিলেনিয়াম ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজ ও খান ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন অ্যাডভোকেট রোখসানা খন্দকার বলেন, এনজিও পরিচালনায় দাতাদের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল না থেকে নিজস্ব সক্ষমতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতা বজায় রাখা প্রয়োজন। অর্থায়ন কমে যাওয়ার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় স্থানীয় সম্পদের ব্যবহার এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা বাড়াতে হবে। সরকারি খাসজমি ও পুকুরসহ স্থানীয় সম্পদ কাজে লাগিয়ে উন্নয়ন কার্যক্রম সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

আলোচনা সভায় দ্য মিলেনিয়াম ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. অভিনয় চন্দ্র সাহা, খান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক মাহমুদা খাতুন, বিভিন্ন এনজিওর প্রতিনিধি, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং খান ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এমএএএমকে

সুস্থ তারুণ্য গড়ার ঠিকানা হোক খেলার মাঠ

নিজস্ব প্রতিবেদক/ময়মনসিংহ প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:২৩ অপরাহ্ণ
সুস্থ তারুণ্য গড়ার ঠিকানা হোক খেলার মাঠ

মাদকের বিরুদ্ধে লড়াই, অপরাধমুক্ত সমাজ গঠন আর তরুণ প্রজন্মকে সুস্থ পথে এগিয়ে নেওয়া—এই তিন লক্ষ্য অর্জনে খেলার মাঠকে কার্যকর শক্তি হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এমপি। তাঁর মতে, তরুণদের মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রাখতে হলে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ বাড়াতে হবে। ক্রীড়াচর্চা ছড়িয়ে দিতে পারলে শারীরিক ও মানসিকভাবে সক্ষম প্রজন্ম গড়ে তোলার পাশাপাশি সামাজিক সম্প্রীতি ও ঐক্যও সুদৃঢ় হবে।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকেলে ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার খারুয়া বনগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে মরহুম আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি মিনি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।

  • মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে ক্রীড়াচর্চা বাড়ানোর আহ্বান তথ্য প্রতিমন্ত্রীর
  • শারীরিক সক্ষমতা ও মানসিক দৃঢ়তা তৈরিতে খেলাধুলার গুরুত্ব

মাদকমুক্ত সমাজের পথ খেলার মাঠ
তরুণদের মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রাখার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, ‘খেলাধুলার মাধ্যমেই মাদক মুক্ত সমাজ গঠন সম্ভব। সবার আগে বাংলাদেশ গড়তে এবং দেশের যুব সমাজকে মাদক ও অপরাধ থেকে দুরে রাখতে খেলাধুলার প্রতি আকৃষ্ট করতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘খেলাধুলার সুস্থ সংস্কৃতি চর্চার মাধ্যমেই একটি সুন্দর সুস্থ ও মাদক মুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।’

প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের মূল বার্তা হলো, তরুণদের শুধু মাদক ও অপরাধের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন করাই যথেষ্ট নয়; তাদের জন্য ইতিবাচক কর্মকাণ্ডের সুযোগও তৈরি করতে হবে। নিয়মিত খেলাধুলা তরুণদের সময়ের সঠিক ব্যবহার, শৃঙ্খলা, অধ্যবসায় ও দলগত কাজের অভ্যাস গড়ে তুলতে পারে।

খেলাধুলায় গড়ে উঠবে সক্ষম প্রজন্ম
তরুণদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে ক্রীড়াচর্চার গুরুত্ব তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘খেলাধুলার বিকাশের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ, সক্ষম এবং যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। খেলাধূলা একটি জাতিকে মানসিকভাবে শক্তিশালী ও শারীরিকভাবে সক্ষম করে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।’

মাঠের খেলা, সমাজের মেলবন্ধন
খেলাধুলার সামাজিক ভূমিকা ব্যাখ্যা করে ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, ‘খেলাধূলা কেবল খেলোয়াড়দের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না তার সঙ্গে দর্শক, আয়োজক, স্থানীয় বাসিন্দা এবং বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষের সম্পৃক্ততা তৈরি হয়। ফলে এধরণের খেলাধূলার আয়োজন একটি মিলন মেলায় পরিণত হয় যা সামাজিক সম্প্রীতি ও ঐক্য জোরদারে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।’

নান্দাইলের এই আয়োজনে উপজেলা ও পৌর বিএনপির নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় যুবদল, ছাত্রদলসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। তরুণদের মাদক থেকে দূরে রাখা ও সুস্থ সমাজ গঠনের যে লক্ষ্য প্রতিমন্ত্রী তুলে ধরেছেন, তা বাস্তবায়নে ক্রীড়াচর্চার সুযোগ বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ। খেলার মাঠে তরুণদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা গেলে খেলাধুলা বিনোদনের গণ্ডি ছাড়িয়ে সামাজিক ইতিবাচক পরিবর্তনের শক্তি হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।

কালের আলো/এমএএএমকে

সাফারি পার্কে লেমুর চুরির ঘটনায় তদন্ত চলছে: পরিবেশমন্ত্রী

গাজীপুর সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:১৪ অপরাহ্ণ
সাফারি পার্কে লেমুর চুরির ঘটনায় তদন্ত চলছে: পরিবেশমন্ত্রী

গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক থেকে দুটি লেমুর চুরির ঘটনায় তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ুমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। একই সঙ্গে পরিচর্যার অভাবে কোনো বন্যপ্রাণী যাতে মারা না যায়, তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দুপুরে গাজীপুরের ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান ও সাফারি পার্ক পরিদর্শনকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, সাফারি পার্ক থেকে বন্যপ্রাণী চুরি হলে তা কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। আবার কোনো প্রাণী মারা গেলেও সেটিকে চুরির ঘটনা হিসেবে দাবি করা হচ্ছে। বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে বন্যপ্রাণীর যথাযথ পরিচর্যা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে অবহেলার কারণে কোনো প্রাণীর মৃত্যু না ঘটে।

তিনি বলেন, সাফারি পার্ক থেকে চুরি হওয়া দুটি লেমুর কীভাবে বাংলাদেশে এসেছে, সে বিষয়ে তথ্য ছিল না। যাচাই-বাছাই করে দেখা গেছে, লেমুর দুটি দেশে আনার প্রক্রিয়াও অবৈধ ছিল। পরে সেগুলো পার্ক থেকে চুরি হয়। এ ঘটনায় তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

পরিবেশ সুরক্ষায় গুরুত্ব

মন্ত্রী বলেন, জাতীয় উদ্যান প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য পরিবেশ রক্ষা করা। পাশাপাশি বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং মানুষের বিনোদনের সুযোগ তৈরি করাও এর সঙ্গে যুক্ত।

তিনি জানান, বর্তমানে জাতীয় উদ্যানে পিকনিক বন্ধ রয়েছে। উদ্যান পরিচালনার ক্ষেত্রে মাইক বাজানো, রান্না ও খাওয়াদাওয়ার মতো বিষয়গুলোতে ভারসাম্য আনার চেষ্টা করা হবে। যাতে মানুষ পরিবার ও সন্তানদের নিয়ে বিনোদনের সুযোগ পান, একই সঙ্গে পরিবেশ ও প্রতিবেশের সুরক্ষাও বজায় থাকে।

আবদুল আউয়াল মিন্টু আরও বলেন, গাজীপুর সাফারি পার্কের বিদ্যমান সমস্যাগুলো কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পার্কে আরও বিভিন্ন প্রজাতির বন্যপ্রাণী আনার পরিকল্পনাও রয়েছে।

পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, প্রধান বন সংরক্ষক আমির হোসাইন চৌধুরী, বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. বশিরুল আল মামুন, সাফারি পার্কের প্রকল্প পরিচালক ইকবাল মাহমুদ চৌধুরী এবং সহকারী বন সংরক্ষক শামসুল আরেফিনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি