খুঁজুন
                               
, ,
           

প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে সম্ভাবনার পালে হাওয়া—বিনিয়োগ ও জনশক্তি রপ্তানিতে গুরুত্ব

কূটনৈতিক প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৪ পূর্বাহ্ণ
প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে সম্ভাবনার পালে হাওয়া—বিনিয়োগ ও জনশক্তি রপ্তানিতে গুরুত্ব

পাঁচ দশকের বন্ধুত্ব এবার অর্থনীতির আরও গভীর বন্ধনে। অবকাঠামো উন্নয়নে দীর্ঘদিনের সহযোগী জাপানের সঙ্গে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও কর্মসংস্থানের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিতে আগামী ২৬ অক্টোবর টোকিও যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। চার দিনের এ সফরে আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে জাপানি বিনিয়োগ আকর্ষণ, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ, দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি এবং জ্বালানি ও প্রযুক্তি সহযোগিতা। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে অনুষ্ঠেয় সফরটি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের প্রথম জাপান সফর। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নতুন বিনিয়োগ, শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা বাড়ানোর ক্ষেত্রে সফরটিকে গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

স্বাধীনতার পর থেকে জাপান বাংলাদেশের অন্যতম নির্ভরযোগ্য উন্নয়ন সহযোগী। সেতু, রেলপথ, মেট্রোরেল, বন্দর ও বিমানবন্দর উন্নয়নে দেশটির দীর্ঘদিনের অংশগ্রহণ দুই দেশের সম্পর্ককে দিয়েছে দৃঢ় ভিত্তি। এবার সেই ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে শিল্প উৎপাদন, রপ্তানি, প্রযুক্তি স্থানান্তর ও দক্ষ জনশক্তির কর্মসংস্থানে সহযোগিতা বাড়ানোর প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। ফলে টোকিওর বৈঠকগুলোতে গুরুত্ব পাবে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বকে কীভাবে আরও বিস্তৃত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বে রূপ দেওয়া যায়, সেই প্রশ্ন।

  • পাঁচ দশকের বন্ধুত্বকে নতুন উচ্চতায় নিতে প্রধানমন্ত্রীর টোকিও সফর
  • বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্ব
  • অবকাঠামো উন্নয়ন থেকে অটোমোবাইল শিল্প—সহযোগিতার নতুন দিগন্ত

বিনিয়োগে জাপানের দিকে বাংলাদেশের নজর
সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি জাপানের শীর্ষ শিল্পোদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীদের সংগঠন কেদানরেনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক। বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুযোগ তুলে ধরা এবং বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে জাপানি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের উপস্থিতি বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। অটোমোবাইল, যন্ত্রাংশ উৎপাদন, ইলেকট্রনিকস, প্রকৌশল ও প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পে বিনিয়োগ এলে দেশের উৎপাদন খাতে নতুন গতি সঞ্চারিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বাংলাদেশে গাড়ি উৎপাদন কারখানা স্থাপনের বিষয়ে জাপানি প্রতিষ্ঠান টয়োটার প্রস্তাবও এ ক্ষেত্রে বিশেষ আগ্রহ তৈরি করেছে। এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে শুধু গাড়ি উৎপাদনেই সীমাবদ্ধ থাকবে না এর প্রভাব; যন্ত্রাংশ সরবরাহ, কারিগরি প্রশিক্ষণ, স্থানীয় উদ্যোক্তাদের সম্পৃক্ততা এবং নতুন কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রও বিস্তৃত হতে পারে। জাপানি প্রযুক্তি ও ব্যবস্থাপনাগত দক্ষতার সঙ্গে বাংলাদেশের শ্রমশক্তির সমন্বয় শিল্পায়নের গতিকে আরও ত্বরান্বিত করতে পারে।

বাণিজ্য চুক্তিতে খুলতে পারে বাজারের পথ
দুই দেশের অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (ইপিএ) এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এ ধরনের চুক্তি কার্যকর হলে ব্যবসা ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সহযোগিতার পরিসর বাড়ার পাশাপাশি জাপানের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের অবস্থান শক্তিশালী করার সুযোগ তৈরি হবে।

তৈরি পোশাকের পাশাপাশি ওষুধ, চামড়াজাত পণ্য, হালকা প্রকৌশল, কৃষিপণ্য ও তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর সেবায় বাংলাদেশের সম্ভাবনা রয়েছে। জাপানের উন্নত প্রযুক্তি, মাননিয়ন্ত্রণব্যবস্থা ও শিল্পদক্ষতার সঙ্গে বাংলাদেশের উৎপাদন সক্ষমতা যুক্ত করা গেলে রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনার পথ আরও প্রশস্ত হবে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগও তৈরি হতে পারে।

পাঁচ দশকের সহযোগিতায় উন্নয়নের ভিত
বাংলাদেশ ও জাপানের কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৭২ সালের ফেব্রুয়ারিতে। এরপর থেকে অবকাঠামো, পরিবহন, বিদ্যুৎ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও মানবসম্পদ উন্নয়নে জাপানের সহযোগিতা বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। জাপানের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ অর্থবছর পর্যন্ত বাংলাদেশকে দেওয়া ঋণ সহায়তার পরিমাণ ছিল প্রায় ৩৩ হাজার ৬১৮ কোটি ইয়েন। একই সময়ে অনুদান সহায়তা ছিল প্রায় ৫ হাজার ১৮৪ কোটি ইয়েন এবং কারিগরি সহযোগিতা প্রায় ১ হাজার ৮১ কোটি ইয়েন। ২০২৪ সালের ওইসিডি/ডিএসির হিসাবেও বাংলাদেশে বৃহত্তম দ্বিপক্ষীয় উন্নয়ন সহযোগী ছিল জাপান।

যমুনা বহুমুখী সেতু, ঢাকার মেট্রোরেল, মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, যমুনা রেলওয়ে সেতু ও হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো প্রকল্পে জাপানের অর্থায়ন রয়েছে। এসব প্রকল্প যোগাযোগব্যবস্থার আধুনিকায়ন, পরিবহন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখছে। ভবিষ্যতে এ অবকাঠামোকে কেন্দ্র করে নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান, সরবরাহব্যবস্থা ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম গড়ে তোলার সুযোগ আরও বাড়তে পারে।

জাপানের শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীর সম্ভাবনা
জাপানে দক্ষ কর্মীর চাহিদা বাংলাদেশের জন্য আরেকটি সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র। তথ্যপ্রযুক্তি, প্রকৌশল, উৎপাদন ও সেবাখাতে বাংলাদেশি কর্মীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়টি সফরের আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে। এ ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা বাড়লে বৈদেশিক আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি তরুণদের আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে প্রবেশের সুযোগও সম্প্রসারিত হবে।

জাপানি ভাষা শিক্ষা, কারিগরি প্রশিক্ষণ ও আন্তর্জাতিক মানের পেশাগত দক্ষতা অর্জনের ব্যবস্থা জোরদার করা গেলে এ সম্ভাবনাকে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানো সম্ভব। জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোর চাহিদা অনুযায়ী কর্মী প্রস্তুত করা এবং নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা গেলে দুই দেশের শ্রমবাজার সহযোগিতা আরও সুসংগঠিত হতে পারে।

সম্পর্কের গভীরতা বাড়বে কৌশলগত সহযোগিতায়
টোকিও সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পাশাপাশি সম্রাট নারুহিতোর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের কর্মসূচি রয়েছে। বাণিজ্য ও বিনিয়োগের বাইরে পূর্ব এশিয়ার নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিয়েও দুই দেশের মতবিনিময়ের সুযোগ থাকবে। এতে পারস্পরিক আস্থা ও কৌশলগত সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় হতে পারে।

বাংলাদেশের জন্য এই সফরের তাৎপর্য বহুমুখী। জাপানি বিনিয়োগ বাড়লে শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে; বাণিজ্য সহযোগিতা বিস্তৃত হলে রপ্তানিতে নতুন সম্ভাবনা দেখা দেবে; আর দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি বাড়লে উপকৃত হবেন দেশের কর্মপ্রত্যাশী তরুণেরা। পাঁচ দশকের বন্ধুত্বের ভিত্তিতে এসব খাতে বাস্তব অগ্রগতি অর্জন করা গেলে টোকিও সফর বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ককে আরও ফলপ্রসূ ও ভবিষ্যতমুখী করে তুলতে পারে।

কালের আলো/টিইকে/এমকে

মোবাইল-মাদকের ঝুঁকি এড়াতে বইমুখী শেরপুরের তরুণেরা

বগুড়া সংবাদদাতা
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৩৫ পূর্বাহ্ণ
মোবাইল-মাদকের ঝুঁকি এড়াতে বইমুখী শেরপুরের তরুণেরা

স্মার্টফোন, অনলাইন গেম ও মাদকের ঝুঁকি থেকে শিশু-কিশোর ও তরুণদের দূরে রেখে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে কাজ করছে বগুড়ার শেরপুর উপজেলার বেটখৈর গ্রামের ‘শেখ নূর মুহাম্মাদ স্মৃতি পাঠাগার’। স্থানীয় শিক্ষক ও তরুণদের উদ্যোগে গড়ে ওঠা এই পাঠাগার এখন গ্রামের নতুন প্রজন্মের জ্ঞানচর্চা ও অবসর কাটানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।

প্রতিদিন বিকেল গড়ালেই পাঠাগারে ভিড় করেন শিশু-কিশোর ও তরুণেরা। কেউ পড়ে রূপকথা, গল্প ও উপন্যাস, কেউবা ইতিহাস, বিজ্ঞান, চিকিৎসা কিংবা ধর্মীয় বই। পাঠ্যবইয়ের বাইরে নানা বিষয়ে জানার সুযোগ পেয়ে তাদের মধ্যে তৈরি হচ্ছে বই পড়ার আগ্রহ।

বগুড়ার শেরপুর উপজেলার সিমাবাড়ী ইউনিয়নের এই গ্রামীণ পাঠাগারে বর্তমানে রয়েছে চার হাজারের বেশি বই। প্রত্যন্ত এলাকায় জ্ঞানচর্চার এমন পরিবেশ স্থানীয় শিশু-কিশোরদের সময় কাটানোর ধরনেও ইতিবাচক পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি করেছে।

৫০০ বই দিয়ে যাত্রা, এখন সংগ্রহ চার হাজারের বেশি

২০২২ সালে স্থানীয় শিক্ষক কাজী মুহাম্মাদ আলমগীর হোসাইনের উদ্যোগে পাঠাগারটির যাত্রা শুরু হয়। কয়েকজন উদ্যমী তরুণকে সঙ্গে নিয়ে তাঁরা নিজেদের উদ্যোগে পাঠাগারের জন্য জায়গার ব্যবস্থা করেন। সরকারি গ্রন্থাগার দপ্তরের পরামর্শে প্রাথমিকভাবে ৫০০ বই নিয়ে শুরু হয় কার্যক্রম।

পরে বিভিন্ন সুধীজন, প্রকাশনা সংস্থা ও একুশে বইমেলা থেকে বই সংগ্রহের মাধ্যমে পাঠাগারের সংগ্রহ সমৃদ্ধ করা হয়। বর্তমানে প্রতিদিন বিকেল ৪টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত পাঠাগারটি পাঠকদের জন্য উন্মুক্ত থাকে। দৈনিক গড়ে ২০ থেকে ৩০ জন পাঠক এখানে বই পড়তে আসেন।

পাঠ্যবইয়ের বাইরে জ্ঞানচর্চার সুযোগ

পাঠাগারটির প্রতিষ্ঠাতা কাজী মুহাম্মাদ আলমগীর হোসাইন বলেন, আকাশসংস্কৃতির এই যুগে পাঠ্যবইয়ের বাইরেও মানুষের জানার পরিধি বিস্তৃত হওয়া জরুরি। তরুণ ও শিশুদের আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যেই তাঁদের এই প্রচেষ্টা।

তাঁর মতে, বইয়ের সঙ্গে শিশু-কিশোরদের নিয়মিত যোগাযোগ তৈরি হলে তাদের চিন্তার জগৎ প্রসারিত হবে। একই সঙ্গে অবসর সময়কে জ্ঞান অর্জনের কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি হবে।

শুধু বই পড়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয় পাঠাগারটির কার্যক্রম। জাতীয় দিবস উদ্‌যাপনসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজনও করা হয় এখানে। সম্প্রতি নজরুলজয়ন্তী উৎসবে উপস্থিত হয়ে পাঠাগারের কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ করেন শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইদুজ্জামান হিমু। তিনি পাঠাগারটির জন্য সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করেন।

  • বাবার চাপে এসে এখন বই পড়তেই ভালো লাগে

পাঠাগারে নিয়মিত আসা খুদে পাঠক তামিমের অভিজ্ঞতাও বদলে যাওয়ার গল্প বলে। শুরুতে বাবার চাপে পাঠাগারে এলেও এখন বই পড়ার আনন্দই তাকে সেখানে টেনে আনে। মোবাইল ফোনের পরিবর্তে বইয়ের পাতায় সে খুঁজে পেয়েছে নতুন আকর্ষণ।

তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী হুমাইজিদের মতে, পাঠ্যবইয়ের বাইরের জ্ঞান তাদের ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

শিশুদের এমন আগ্রহ পাঠাগারটির উদ্যোগকে এগিয়ে নেওয়ার অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে। তবে পাঠকসংখ্যা ও বইয়ের চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতাও সামনে আসছে।

প্রয়োজন আরও বই, আলমারি ও সৌরবিদ্যুৎ

আয়োজকদের মতে, পাঠকদের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে পাঠাগারটিতে অন্তত ১০ হাজার বই প্রয়োজন। পাশাপাশি বই সংরক্ষণের জন্য আরও আলমারি ও র‍্যাক দরকার। বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধানে সৌরবিদ্যুতের ব্যবস্থাও জরুরি হয়ে পড়েছে।

পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা ভবিষ্যতে নিজ অর্থায়নে বহুতল ভবন নির্মাণ করে সেখানে পাঠাগারের জন্য স্থায়ী কক্ষ বরাদ্দের পরিকল্পনা করছেন। এতে বই সংরক্ষণ, পাঠকদের বসার জায়গা এবং নিয়মিত সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ বাড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রতিটি ইউনিয়নে পাঠাগার গড়ার পরিকল্পনা

শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইদুজ্জামান হিমু বলেন, বর্তমান সময়ে বই পড়ার অভ্যাস কমে যাওয়ার ফলে তরুণ সমাজে অবক্ষয় ও মাদকাসক্তি বাড়ছে। তরুণদের বইয়ের প্রতি আগ্রহী করে তুলতে প্রতিটি ইউনিয়ন ও উপজেলা পরিষদে ছোট পরিসরে হলেও পাঠাগার স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।

বেটখৈর গ্রামের শেখ নূর মুহাম্মাদ স্মৃতি পাঠাগার দেখাচ্ছে, স্থানীয় উদ্যোগে বই পড়ার পরিবেশ তৈরি করা গেলে প্রত্যন্ত এলাকাতেও শিশু-কিশোর ও তরুণদের জ্ঞানচর্চার সুযোগ বাড়ানো সম্ভব। তবে এই উদ্যোগকে দীর্ঘস্থায়ী করতে বইয়ের সংগ্রহ বৃদ্ধি, অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং নিয়মিত পাঠক তৈরির ধারাবাহিকতা বজায় রাখা জরুরি।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সচিব হলেন তিন নারী কূটনীতিক

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ২:২৫ পূর্বাহ্ণ
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সচিব হলেন তিন নারী কূটনীতিক

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সচিব পদমর্যাদায় পদোন্নতি পেয়েছেন বিদেশে বাংলাদেশের মিশনে নেতৃত্ব দেওয়া অভিজ্ঞ তিন নারী কূটনীতিক। তাঁরা হলেন ব্রুনাই দারুস সালামে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার নওরীন আহসান, মিশরে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত সামিনা নাজ এবং গ্রিসে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত নাহিদা রহমান সুমনা।

সোমবার (১২ অক্টোবর) তাঁদের সচিব পদমর্যাদায় পদোন্নতি দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। কূটনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এই তিন কর্মকর্তার পদোন্নতিকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিসিএস পররাষ্ট্র ক্যাডারের তিন কর্মকর্তা

পদোন্নতিপ্রাপ্ত তিন কর্মকর্তার মধ্যে সামিনা নাজ ও নওরীন আহসান বিসিএস পররাষ্ট্র ক্যাডারের ১৫তম ব্যাচের কর্মকর্তা। নাহিদা রহমান সুমনা ১৭তম ব্যাচের কর্মকর্তা।

তিনজনই বিদেশে বাংলাদেশের বিভিন্ন কূটনৈতিক মিশনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়ন, কূটনৈতিক যোগাযোগ এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁদের।

সামিনা নাজের দীর্ঘ কূটনৈতিক অভিজ্ঞতা

সামিনা নাজ একজন অভিজ্ঞ বাংলাদেশি কূটনীতিক। মিশরে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালনের আগে তিনি ভিয়েতনাম ও লাওসে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ছিলেন।

কূটনৈতিক জীবনে ভারতের মুম্বাই, নেদারল্যান্ডসের হেগ, ভারতের দিল্লি এবং নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।

২০১৩ সালে মুম্বাইয়ে বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের সময় তাঁর নেতৃত্বে একটি বাংলাদেশ মিশনের কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে নারী কূটনীতিকের নেতৃত্বের একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত তৈরি হয়।

নাহিদা রহমান সুমনার কূটনৈতিক পথচলা

নাহিদা রহমান সুমনা বর্তমানে গ্রিসে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এথেন্সে দায়িত্ব নেওয়ার আগে তিনি চার বছর ব্রুনাই দারুস সালামে বাংলাদেশের হাইকমিশনার ছিলেন।

দীর্ঘ কূটনৈতিক ক্যারিয়ারে তিনি ব্রাজিলের ব্রাসিলিয়া, কানাডার অটোয়া, ভারতের কলকাতা এবং অস্ট্রেলিয়ার ক্যানবেরায় বাংলাদেশের বিভিন্ন মিশনে দায়িত্ব পালন করেছেন। এসব অভিজ্ঞতা আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও কূটনৈতিক কার্যক্রমে তাঁর পেশাগত দক্ষতাকে সমৃদ্ধ করেছে।

নওরীন আহসানের কূটনৈতিক ক্যারিয়ার

নওরীন আহসান ১৯৯৫ সালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যোগ দেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার প্রিটোরিয়া, নেদারল্যান্ডসের হেগ এবং কানাডার অটোয়ায় বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশনে বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছেন।

বর্তমানে ব্রুনাই দারুস সালামে বাংলাদেশের হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। বিদেশে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব এবং কূটনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনার অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে এবার সচিব পদমর্যাদায় পদোন্নতি পেলেন এই কর্মকর্তা।

তিন নারী কূটনীতিকের এই পদোন্নতির মধ্য দিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কাঠামোতে তাঁদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে তাঁদের নির্দিষ্ট সচিব পদে দায়িত্ব বণ্টন সম্পর্কে প্রজ্ঞাপনে কী বলা হয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়ার পর বিস্তারিত জানা যাবে।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি

ঢাকা থেকে সৌদিগামী ৬১ ফ্লাইট বাতিল, ভোগান্তিতে হাজারো যাত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ২:০৭ পূর্বাহ্ণ
ঢাকা থেকে সৌদিগামী ৬১ ফ্লাইট বাতিল, ভোগান্তিতে হাজারো যাত্রী

সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে কার্যক্রম সীমিত হওয়ায় ঢাকা থেকে পরিচালিত ৬১টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট স্থগিত হয়েছে। এতে অন্তত ৮ হাজার ৩৮১ জন যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েছেন। এর মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট ২২টি এবং ট্রানজিট ফ্লাইট ৩৯টি। রিয়াদ এয়ারলাইন্সের যাত্রীদের হিসাব যুক্ত হলে ভোগান্তিতে পড়া মানুষের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

সোমবার (১৩ অক্টোবর) রাত ১২টা ৭ মিনিটে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) এ তথ্য জানায়।

সরাসরি ফ্লাইট স্থগিত ২২টি

বেবিচকের তথ্য অনুযায়ী, স্থগিত হওয়া সরাসরি ফ্লাইটগুলোর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ৯টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের দুটি, সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের চারটি এবং রিয়াদ এয়ারলাইন্সের সাতটি ফ্লাইট রয়েছে।

এসব ফ্লাইট স্থগিত হওয়ায় সৌদি আরবগামী যাত্রীদের নির্ধারিত সময়ে যাত্রা করা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। যাঁরা আগে থেকেই টিকিট কেটেছিলেন, তাঁদের অনেকের ভ্রমণসূচি ব্যাহত হয়েছে।

ট্রানজিট ফ্লাইট স্থগিত ৩৯টি

সরাসরি ফ্লাইটের পাশাপাশি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সের ৩৯টি ট্রানজিট ফ্লাইটও স্থগিত হয়েছে। এর মধ্যে ইন্ডিগোর ১৬টি, এমিরেটসের ৯টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৫টি, ফ্লাইদুবাইয়ের ৫টি, সালাম এয়ারের ৩টি এবং ইজিপ্টএয়ারের একটি ফ্লাইট রয়েছে।

এসব ফ্লাইটে যাতায়াতের পরিকল্পনা করা যাত্রীদেরও ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। ট্রানজিট ফ্লাইটের ক্ষেত্রে যাত্রীরা অন্য বিমানবন্দর হয়ে গন্তব্যে পৌঁছানোর কথা থাকলেও ফ্লাইট স্থগিত হওয়ায় তাঁদের যাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।

ভোগান্তিতে হাজারো যাত্রী

বেবিচকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ফ্লাইট স্থগিতের কারণে এখন পর্যন্ত অন্তত ৮ হাজার ৩৮১ জন যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েছেন। তাঁদের মধ্যে সৌদি আরবগামী সরাসরি ফ্লাইটের যাত্রীদের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশ হয়ে সৌদি আরবে যাওয়ার পরিকল্পনা করা যাত্রীরাও রয়েছেন।

ফ্লাইট স্থগিত হওয়ায় যাত্রীদের ভ্রমণসূচি পিছিয়ে যাচ্ছে। এতে সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছানো নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। রিয়াদ এয়ারলাইন্সের যাত্রীদের হিসাব যুক্ত হলে মোট ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

সৌদির বিমানবন্দর পরিস্থিতিতে প্রভাব

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, হুথিদের হামলার কারণে সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে কার্যক্রম সীমিত হওয়ায় ফ্লাইট চলাচলে এই বিঘ্ন ঘটেছে। বিমানবন্দরগুলোর কার্যক্রম সীমিত থাকায় নির্ধারিত সময়ে যাত্রা ও গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন না অনেক যাত্রী।

পরিস্থিতির প্রভাবে আন্তর্জাতিক আকাশপথে যাতায়াতের পরিকল্পনাও ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে সৌদি আরবগামী যাত্রীদের জন্য ফ্লাইটের সময়সূচি ও যাত্রার সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সের তথ্য অনুসরণ করা গুরুত্বপূর্ণ।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি