খুঁজুন
                               
, ,
           

মোবাইল-মাদকের ঝুঁকি এড়াতে বইমুখী শেরপুরের তরুণেরা

বগুড়া সংবাদদাতা
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৩৫ পূর্বাহ্ণ
মোবাইল-মাদকের ঝুঁকি এড়াতে বইমুখী শেরপুরের তরুণেরা

স্মার্টফোন, অনলাইন গেম ও মাদকের ঝুঁকি থেকে শিশু-কিশোর ও তরুণদের দূরে রেখে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে কাজ করছে বগুড়ার শেরপুর উপজেলার বেটখৈর গ্রামের ‘শেখ নূর মুহাম্মাদ স্মৃতি পাঠাগার’। স্থানীয় শিক্ষক ও তরুণদের উদ্যোগে গড়ে ওঠা এই পাঠাগার এখন গ্রামের নতুন প্রজন্মের জ্ঞানচর্চা ও অবসর কাটানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।

প্রতিদিন বিকেল গড়ালেই পাঠাগারে ভিড় করেন শিশু-কিশোর ও তরুণেরা। কেউ পড়ে রূপকথা, গল্প ও উপন্যাস, কেউবা ইতিহাস, বিজ্ঞান, চিকিৎসা কিংবা ধর্মীয় বই। পাঠ্যবইয়ের বাইরে নানা বিষয়ে জানার সুযোগ পেয়ে তাদের মধ্যে তৈরি হচ্ছে বই পড়ার আগ্রহ।

বগুড়ার শেরপুর উপজেলার সিমাবাড়ী ইউনিয়নের এই গ্রামীণ পাঠাগারে বর্তমানে রয়েছে চার হাজারের বেশি বই। প্রত্যন্ত এলাকায় জ্ঞানচর্চার এমন পরিবেশ স্থানীয় শিশু-কিশোরদের সময় কাটানোর ধরনেও ইতিবাচক পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি করেছে।

৫০০ বই দিয়ে যাত্রা, এখন সংগ্রহ চার হাজারের বেশি

২০২২ সালে স্থানীয় শিক্ষক কাজী মুহাম্মাদ আলমগীর হোসাইনের উদ্যোগে পাঠাগারটির যাত্রা শুরু হয়। কয়েকজন উদ্যমী তরুণকে সঙ্গে নিয়ে তাঁরা নিজেদের উদ্যোগে পাঠাগারের জন্য জায়গার ব্যবস্থা করেন। সরকারি গ্রন্থাগার দপ্তরের পরামর্শে প্রাথমিকভাবে ৫০০ বই নিয়ে শুরু হয় কার্যক্রম।

পরে বিভিন্ন সুধীজন, প্রকাশনা সংস্থা ও একুশে বইমেলা থেকে বই সংগ্রহের মাধ্যমে পাঠাগারের সংগ্রহ সমৃদ্ধ করা হয়। বর্তমানে প্রতিদিন বিকেল ৪টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত পাঠাগারটি পাঠকদের জন্য উন্মুক্ত থাকে। দৈনিক গড়ে ২০ থেকে ৩০ জন পাঠক এখানে বই পড়তে আসেন।

পাঠ্যবইয়ের বাইরে জ্ঞানচর্চার সুযোগ

পাঠাগারটির প্রতিষ্ঠাতা কাজী মুহাম্মাদ আলমগীর হোসাইন বলেন, আকাশসংস্কৃতির এই যুগে পাঠ্যবইয়ের বাইরেও মানুষের জানার পরিধি বিস্তৃত হওয়া জরুরি। তরুণ ও শিশুদের আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যেই তাঁদের এই প্রচেষ্টা।

তাঁর মতে, বইয়ের সঙ্গে শিশু-কিশোরদের নিয়মিত যোগাযোগ তৈরি হলে তাদের চিন্তার জগৎ প্রসারিত হবে। একই সঙ্গে অবসর সময়কে জ্ঞান অর্জনের কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি হবে।

শুধু বই পড়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয় পাঠাগারটির কার্যক্রম। জাতীয় দিবস উদ্‌যাপনসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজনও করা হয় এখানে। সম্প্রতি নজরুলজয়ন্তী উৎসবে উপস্থিত হয়ে পাঠাগারের কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ করেন শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইদুজ্জামান হিমু। তিনি পাঠাগারটির জন্য সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করেন।

  • বাবার চাপে এসে এখন বই পড়তেই ভালো লাগে

পাঠাগারে নিয়মিত আসা খুদে পাঠক তামিমের অভিজ্ঞতাও বদলে যাওয়ার গল্প বলে। শুরুতে বাবার চাপে পাঠাগারে এলেও এখন বই পড়ার আনন্দই তাকে সেখানে টেনে আনে। মোবাইল ফোনের পরিবর্তে বইয়ের পাতায় সে খুঁজে পেয়েছে নতুন আকর্ষণ।

তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী হুমাইজিদের মতে, পাঠ্যবইয়ের বাইরের জ্ঞান তাদের ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

শিশুদের এমন আগ্রহ পাঠাগারটির উদ্যোগকে এগিয়ে নেওয়ার অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে। তবে পাঠকসংখ্যা ও বইয়ের চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতাও সামনে আসছে।

প্রয়োজন আরও বই, আলমারি ও সৌরবিদ্যুৎ

আয়োজকদের মতে, পাঠকদের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে পাঠাগারটিতে অন্তত ১০ হাজার বই প্রয়োজন। পাশাপাশি বই সংরক্ষণের জন্য আরও আলমারি ও র‍্যাক দরকার। বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধানে সৌরবিদ্যুতের ব্যবস্থাও জরুরি হয়ে পড়েছে।

পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা ভবিষ্যতে নিজ অর্থায়নে বহুতল ভবন নির্মাণ করে সেখানে পাঠাগারের জন্য স্থায়ী কক্ষ বরাদ্দের পরিকল্পনা করছেন। এতে বই সংরক্ষণ, পাঠকদের বসার জায়গা এবং নিয়মিত সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ বাড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রতিটি ইউনিয়নে পাঠাগার গড়ার পরিকল্পনা

শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইদুজ্জামান হিমু বলেন, বর্তমান সময়ে বই পড়ার অভ্যাস কমে যাওয়ার ফলে তরুণ সমাজে অবক্ষয় ও মাদকাসক্তি বাড়ছে। তরুণদের বইয়ের প্রতি আগ্রহী করে তুলতে প্রতিটি ইউনিয়ন ও উপজেলা পরিষদে ছোট পরিসরে হলেও পাঠাগার স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।

বেটখৈর গ্রামের শেখ নূর মুহাম্মাদ স্মৃতি পাঠাগার দেখাচ্ছে, স্থানীয় উদ্যোগে বই পড়ার পরিবেশ তৈরি করা গেলে প্রত্যন্ত এলাকাতেও শিশু-কিশোর ও তরুণদের জ্ঞানচর্চার সুযোগ বাড়ানো সম্ভব। তবে এই উদ্যোগকে দীর্ঘস্থায়ী করতে বইয়ের সংগ্রহ বৃদ্ধি, অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং নিয়মিত পাঠক তৈরির ধারাবাহিকতা বজায় রাখা জরুরি।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি

নিউইয়র্ক বিমানবন্দরে ড. ইউনূসকে ঘিরে প্রবাসীদের ক্ষোভ

কালের আলো ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:২৪ পূর্বাহ্ণ
নিউইয়র্ক বিমানবন্দরে ড. ইউনূসকে ঘিরে প্রবাসীদের ক্ষোভ

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ঘিরে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কয়েকজন প্রবাসী বাংলাদেশি। এ সময় তাঁর বিরুদ্ধে মানুষ হত্যা, ব্যাপক গ্রেপ্তার এবং বাংলাদেশের গণতন্ত্র ধ্বংসের অভিযোগ তুলে যুক্তরাষ্ট্রে আসার কারণ জানতে চান তাঁদের একজন।

সোমবার (১২ অক্টোবর) নিউইয়র্কের জেএফকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এ ঘটনা ঘটে। এর আগে কাতার এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে দোহা থেকে বিমানবন্দরটিতে পৌঁছান ড. ইউনূস।

ভিডিওতে শোনা যায় নানা অভিযোগ

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে বিমানবন্দরে উপস্থিত এক ব্যক্তিকে ড. ইউনূসের যুক্তরাষ্ট্রে আসার কারণ বারবার জানতে চাইতে শোনা যায়। ওই ব্যক্তি তাঁকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আপনি সন্ত্রাসী। আপনি বাংলাদেশে মানুষ হত্যা করেছেন। কেন এখানে এসেছেন? আমাদের বলুন, কেন এসেছেন?’

একপর্যায়ে ওই ব্যক্তি বাংলাদেশে দুই লাখ মানুষকে গ্রেপ্তার এবং হাজার হাজার পুলিশ সদস্যকে হত্যার অভিযোগও তোলেন। পাশাপাশি বাংলাদেশের গণতন্ত্র ধ্বংস করার অভিযোগ তুলে তিনি ড. ইউনূসের যুক্তরাষ্ট্র সফরের কারণ জানতে চান।

ভিডিওতে ওই ব্যক্তিকে আরও বলতে শোনা যায়, ‘আপনি আমার দেশে হাজার হাজার পুলিশ সদস্যকে হত্যা করেছেন। কেন এখানে এসেছেন?’

তবে ভিডিওতে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর পক্ষে কোনো প্রমাণ প্রকাশিত হয়নি। এসব বক্তব্যকে ওই ব্যক্তির অভিযোগ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

ঘটনার বিস্তারিত এখনো নিশ্চিত নয়

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে ভিডিওতে উপস্থিত ব্যক্তিদের পরিচয়, ঘটনার আগে-পরে কী ঘটেছিল এবং ড. ইউনূস কীভাবে পরিস্থিতির প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এ ঘটনায় ড. ইউনূসের পক্ষ থেকেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

২০২৪ সালে অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব নেন ইউনূস

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তাঁর নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপ নিয়ে বাংলাদেশে এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে বিভিন্ন সময়ে আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে।

নিউইয়র্ক বিমানবন্দরের সাম্প্রতিক ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লেও ভিডিওতে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর সত্যতা এবং ঘটনার পূর্ণ বিবরণ স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি

লাল ও সাদা শাপলার হাসিতে মোহনীয় রূপ নিয়েছে গ্রামীণ খাল-বিল

পাবনা সংবাদদাতা
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৪ পূর্বাহ্ণ
লাল ও সাদা শাপলার হাসিতে মোহনীয় রূপ নিয়েছে গ্রামীণ খাল-বিল

প্রকৃতির এক অপরূপ বৈচিত্র্য নিয়ে গ্রামীণ জনপদের খাল-বিল আর জলাশয়গুলোতে এখন ফুটে আছে লাল ও সাদা শাপলা। ভোরের প্রথম আলোয় চারপাশ যখন কুয়াশায় ঢাকা, ঠিক তখন জলাশয়জুড়ে ডানা মেলে হাসছে এই দেশীয় ফুলগুলো। শাপলার এই সমারোহ দেখতে ও প্রকৃতির স্নিগ্ধতা উপভোগ করতে প্রতিদিনই বিলপারে ভিড় জমান প্রকৃতিপ্রেমী ও পথচারীরা।

কার্তিক-অগ্রহায়ণের এই সময়ে স্থানীয় প্রকৃতিতে এক অন্যরকম আভিজাত্য এনে দেয় এই শাপলা। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের নিভৃত পল্লীর অবহেলিত জলাশয়, ডোবা ও বিলে প্রাকৃতিকভাবেই জন্ম নেয় এই শাপলা। সকালে যখন চারপাশ রোদে ঝলমল করে ওঠে, তখন সবুজ পাতার বিছানায় লাল ও সাদার মিতালি এক চমৎকার দৃশ্যের অবতারণা করে।

স্থানীয়রা জানান, প্রতি বছর বর্ষার পানি আসার সঙ্গে সঙ্গেই বিলে শাপলার প্রস্ফুটন শুরু হয়। সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে ফুলগুলো তাদের পাপড়ি মেলে ধরে এবং দুপুরের দিকে রোদ বাড়লে তা আবার বুজে যায়। এই রোদ-ছায়ার লুকোচুরি খেলা মুগ্ধ করে সবাইকে।

শাপলা শুধু সৌন্দর্যের প্রতীক নয়, এটি দেশের জাতীয় ফুল। তাছাড়া শাপলা একটি আদর্শ সবজি। তবে দুঃখের বিষয়, জলাশয় ভরাট, অপরিকল্পিত মৎস্যচাষ এবং জলজ পরিবেশ ধ্বংসের কারণে প্রাকৃতিকভাবে শাপলা জন্মানোর ক্ষেত্রগুলো দিন দিন সংকুচিত হয়ে আসছে। জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্য টিকিয়ে রাখতে এসব জলাশয় ও শাপলা ফুল সংরক্ষণ করা জরুরি বলে মনে করেন পরিবেশবাদীরা।

সরেজমিনে সুজানগর গাজনার বিল, চাটমোহর ডিকশির বিল, চলনবিল, পাবনা শহরসহ গ্রামের ছোট ছোট পুকুর, ডোবা ও জলাশয়ে গিয়ে দেখা যায়, শরতের স্নিগ্ধ প্রকৃতিতে লাল ও সাদা শাপলার অপরূপ সৌন্দর্যের মনোরম দৃশ্য। দেখে মনে হবে শরতের শেষেও এখনো বর্ষার স্নিগ্ধতার রেশ রয়েছে প্রকৃতিতে। নীরবে-নিভৃতে প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্যে সৌন্দর্য ছড়াচ্ছে বিলের পানিতে ফুটে থাকা লাল ও সাদা শাপলা। দেখে মনে হবে প্রকৃতি যেন সেজেছে লাল ও সাদা রঙের অনন্য সাজে। অনেকে আবার লাল শাপলাকে রক্তকমল নামেও ডেকে থাকে।

সুজানগর এলাকার বাসিন্দা সালমান জানান, আগে গাজনার বিলসহ বিভিন্ন বিল-ঝিলে প্রচুর পরিমাণে শাপলা ফুল দেখা যেত। তবে বিলে আগের মতো পানি না আসা ও জমিতে অতিমাত্রায় কীটনাশক ব্যবহার করাসহ শাপলার মূল তুলে ফেলায় আগের মতো আর বিলে শাপলা ফুল ফুটতে দেখা যায় না।

ভাঙ্গুড়া এলাকার বাসিন্দা মাসুম জানান, শাপলার ডাঁটা সবজি হিসেবে খুব ভালো। তিনি জানান, আগে গ্রামীণ নারীরা শাপলার ঢ্যাপ থেকে দানা বা বীজ বের করে রোদে শুকিয়ে তা দিয়ে খই ভাজত। এছাড়াও গ্রামের দরিদ্র ব্যক্তিরা ভাতের চালের বিকল্প হিসেবে শাপলার ঢ্যাপ দিয়ে ভাত রান্না করে খেত।

পাবনা সদর পৈলানপুর এলাকার বাসিন্দা সোহান হোসেন জানান, গ্রামে শাপলা ফুল দেখা গেলেও শহরে তেমন একটা চোখে পড়ে না। তবে তাদের এলাকার পরিত্যক্ত ডোবাগুলোতে লাল শাপলার দেখা মেলে বলে জানান তিনি।

পাবনা সদর রাজাপুর এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা সোহেল হোসেন বলেন, শাপলার কেবল সৌন্দর্যই নয়, লাল ও সাদা শাপলা প্রান্তিক মানুষের জীবিকার উৎস। বর্ষার এই সময়টাতে অনেকে বিল থেকে শাপলা ও শালুক আহরণ করে হাটবাজারে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে।

চাটমোহর এনায়েতুল্লাহ ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার সিনিয়র শিক্ষক মো. নুরুল ইসলাম বলেন, শাপলা মূলত নাতিশীতোষ্ণ ও গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলের দেশগুলোতে বেশি জন্মায়। জলাশয়ের এই ফুলকে কেন্দ্র করে জলজ প্রাণী, পোকামাকড়, ব্যাঙ, মাছ ও পাখিরা নির্ভরশীল, যা বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য রক্ষা করে। লাল শাপলা জলাশয়ের পানিকে পরিষ্কার রাখতে এবং পানিতে অক্সিজেনের সরবরাহ বৃদ্ধি করে বলে জানান তিনি।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

বেড়ার চরাঞ্চলে কৃষি প্রণোদনা নিয়ে ক্ষোভ, বঞ্চনার অভিযোগ কৃষকদের

পাবনা সংবাদদাতা
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:০৫ পূর্বাহ্ণ
বেড়ার চরাঞ্চলে কৃষি প্রণোদনা নিয়ে ক্ষোভ, বঞ্চনার অভিযোগ কৃষকদের

সরকারি কৃষি প্রণোদনা না পাওয়ার অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পাবনার বেড়া উপজেলার চরাঞ্চলের কৃষক ও জনপ্রতিনিধিরা। তাঁদের দাবি, দুর্গম চরাঞ্চলের কৃষকেরা সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ফলে নিজস্ব অর্থায়নে বীজ ও সার কিনে চাষাবাদ চালিয়ে যেতে হচ্ছে তাঁদের। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে উপজেলা কৃষি বিভাগ। তাদের দাবি, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে সমন্বয় করেই প্রণোদনা বিতরণ করা হচ্ছে।

উপজেলার বিভিন্ন চরাঞ্চলে এখন মাষকলাই, মুড়িকাটা পেঁয়াজ ও নানা ধরনের শাকসবজির চাষ চলছে। সরকারি সহায়তা না পাওয়ার অভিযোগ থাকলেও কৃষকেরা থেমে নেই। নিজেদের খরচে জমিতে ফসল ফলাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন তাঁরা।

শত শত বিঘা জমিতে চাষাবাদ

সরেজমিনে উপজেলার চর সাঁড়াশিয়া ও চর নাগদাহ গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, শত শত বিঘা জমিতে মাষকলাই, পেঁয়াজ, পটল, শসা, লালশাক, পালংশাক ও মূলাশাকের আবাদ হচ্ছে। কৃষকেরা ফসলের পরিচর্যা, জমি প্রস্তুত ও উৎপাদন কার্যক্রমে ব্যস্ত রয়েছেন।

কৃষকদের অভিযোগ, কৃষি উৎপাদন বাড়াতে সরকারি প্রণোদনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারলেও চরাঞ্চলে তাঁরা সেই সুবিধা পাচ্ছেন না। ফলে বীজ, সারসহ কৃষি উপকরণ কিনতে নিজেদের অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন খরচের চাপও সামলাতে হচ্ছে তাঁদের।

চর সাঁড়াশিয়া গ্রামের কৃষক হুমায়ুন কবির বলেন, কৃষি অফিসের প্রণোদনার আশায় বসে থাকলে তাঁদের চাষাবাদই বন্ধ হয়ে যেত। তাঁর অভিযোগ, মাঝেমধ্যে কিছু মাঠকর্মী এলাকায় এলেও কৃষকেরা বাস্তবে তেমন কোনো সহায়তা পান না।

প্রণোদনা বিতরণে সমন্বয় নেই, দাবি জনপ্রতিনিধিদের

চরাঞ্চলের কৃষকদের অভিযোগের সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কয়েকজন। চর নাগদাহ গ্রামের বাসিন্দা ও স্থানীয় ইউপি সদস্য জাহিদ মোল্লার দাবি, চরাঞ্চলের কৃষকেরা সরকারি প্রণোদনা পাচ্ছেন না।

হাটুরিয়া-নাকালিয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. মিজানুর রহমান বলেন, তাঁর ওয়ার্ডের চর পেচাকোলা ও চর নাকালিয়া এলাকার কৃষকেরা সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

এ বিষয়ে হাটুরিয়া-নাকালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল হামিদ সরকার বলেন, চলতি বছর কৃষি অফিস কোনো কৃষককে প্রণোদনা দিয়েছে কি না, তা তাঁর জানা নেই। তাঁর অভিযোগ, প্রণোদনা বিতরণের ক্ষেত্রে কৃষি অফিসের সঙ্গে ইউনিয়ন পরিষদের কোনো সমন্বয় করা হচ্ছে না।

অভিযোগ অস্বীকার কৃষি বিভাগের

কৃষক ও জনপ্রতিনিধিদের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বেড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নুসরাত কবির। তাঁর ভাষ্য, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয় করেই কৃষি প্রণোদনা বিতরণ করা হয়।

তিনি জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের খরিপ-২ মৌসুমে ইতোমধ্যে তিন হাজারের বেশি কৃষকের মধ্যে পেঁয়াজ ও সবজির বীজ এবং সার বিতরণ করা হয়েছে।

চরাঞ্চলের কৃষকদের প্রণোদনা না পাওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে নুসরাত কবির বলেন, দুর্গম এলাকার কারণে অনেক কৃষক সময়মতো প্রণোদনা নিতে আসেন না। এ ছাড়া চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কম থাকায় একসঙ্গে সব কৃষককে সহায়তা দেওয়া সম্ভব হয় না। তবে ভবিষ্যতে চরাঞ্চলের আরও বেশি কৃষককে প্রণোদনার আওতায় আনার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

পেঁয়াজ ও মাষকলাই চাষে বড় লক্ষ্যমাত্রা

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে বেড়া উপজেলায় ২ হাজার হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের কন্দ, ৮৯০ হেক্টরে শাকসবজি, ১২৫ হেক্টরে রবি মাষকলাই এবং ২ হাজার ২৩৫ হেক্টর জমিতে খরিপ-২ মাষকলাই চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

কৃষি উৎপাদনের এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে চরাঞ্চলের কৃষকদের অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। তাই সরকারি সহায়তা বিতরণ নিয়ে কৃষক ও জনপ্রতিনিধিদের অভিযোগের যথাযথ নিষ্পত্তি এবং দুর্গম এলাকার কৃষকদের কাছে প্রণোদনা পৌঁছানো নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি