খুঁজুন
                               
, ,
           

বেড়ার চরাঞ্চলে কৃষি প্রণোদনা নিয়ে ক্ষোভ, বঞ্চনার অভিযোগ কৃষকদের

পাবনা সংবাদদাতা
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:০৫ পূর্বাহ্ণ
বেড়ার চরাঞ্চলে কৃষি প্রণোদনা নিয়ে ক্ষোভ, বঞ্চনার অভিযোগ কৃষকদের

সরকারি কৃষি প্রণোদনা না পাওয়ার অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পাবনার বেড়া উপজেলার চরাঞ্চলের কৃষক ও জনপ্রতিনিধিরা। তাঁদের দাবি, দুর্গম চরাঞ্চলের কৃষকেরা সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ফলে নিজস্ব অর্থায়নে বীজ ও সার কিনে চাষাবাদ চালিয়ে যেতে হচ্ছে তাঁদের। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে উপজেলা কৃষি বিভাগ। তাদের দাবি, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে সমন্বয় করেই প্রণোদনা বিতরণ করা হচ্ছে।

উপজেলার বিভিন্ন চরাঞ্চলে এখন মাষকলাই, মুড়িকাটা পেঁয়াজ ও নানা ধরনের শাকসবজির চাষ চলছে। সরকারি সহায়তা না পাওয়ার অভিযোগ থাকলেও কৃষকেরা থেমে নেই। নিজেদের খরচে জমিতে ফসল ফলাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন তাঁরা।

শত শত বিঘা জমিতে চাষাবাদ

সরেজমিনে উপজেলার চর সাঁড়াশিয়া ও চর নাগদাহ গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, শত শত বিঘা জমিতে মাষকলাই, পেঁয়াজ, পটল, শসা, লালশাক, পালংশাক ও মূলাশাকের আবাদ হচ্ছে। কৃষকেরা ফসলের পরিচর্যা, জমি প্রস্তুত ও উৎপাদন কার্যক্রমে ব্যস্ত রয়েছেন।

কৃষকদের অভিযোগ, কৃষি উৎপাদন বাড়াতে সরকারি প্রণোদনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারলেও চরাঞ্চলে তাঁরা সেই সুবিধা পাচ্ছেন না। ফলে বীজ, সারসহ কৃষি উপকরণ কিনতে নিজেদের অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন খরচের চাপও সামলাতে হচ্ছে তাঁদের।

চর সাঁড়াশিয়া গ্রামের কৃষক হুমায়ুন কবির বলেন, কৃষি অফিসের প্রণোদনার আশায় বসে থাকলে তাঁদের চাষাবাদই বন্ধ হয়ে যেত। তাঁর অভিযোগ, মাঝেমধ্যে কিছু মাঠকর্মী এলাকায় এলেও কৃষকেরা বাস্তবে তেমন কোনো সহায়তা পান না।

প্রণোদনা বিতরণে সমন্বয় নেই, দাবি জনপ্রতিনিধিদের

চরাঞ্চলের কৃষকদের অভিযোগের সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কয়েকজন। চর নাগদাহ গ্রামের বাসিন্দা ও স্থানীয় ইউপি সদস্য জাহিদ মোল্লার দাবি, চরাঞ্চলের কৃষকেরা সরকারি প্রণোদনা পাচ্ছেন না।

হাটুরিয়া-নাকালিয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. মিজানুর রহমান বলেন, তাঁর ওয়ার্ডের চর পেচাকোলা ও চর নাকালিয়া এলাকার কৃষকেরা সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

এ বিষয়ে হাটুরিয়া-নাকালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল হামিদ সরকার বলেন, চলতি বছর কৃষি অফিস কোনো কৃষককে প্রণোদনা দিয়েছে কি না, তা তাঁর জানা নেই। তাঁর অভিযোগ, প্রণোদনা বিতরণের ক্ষেত্রে কৃষি অফিসের সঙ্গে ইউনিয়ন পরিষদের কোনো সমন্বয় করা হচ্ছে না।

অভিযোগ অস্বীকার কৃষি বিভাগের

কৃষক ও জনপ্রতিনিধিদের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বেড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নুসরাত কবির। তাঁর ভাষ্য, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয় করেই কৃষি প্রণোদনা বিতরণ করা হয়।

তিনি জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের খরিপ-২ মৌসুমে ইতোমধ্যে তিন হাজারের বেশি কৃষকের মধ্যে পেঁয়াজ ও সবজির বীজ এবং সার বিতরণ করা হয়েছে।

চরাঞ্চলের কৃষকদের প্রণোদনা না পাওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে নুসরাত কবির বলেন, দুর্গম এলাকার কারণে অনেক কৃষক সময়মতো প্রণোদনা নিতে আসেন না। এ ছাড়া চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কম থাকায় একসঙ্গে সব কৃষককে সহায়তা দেওয়া সম্ভব হয় না। তবে ভবিষ্যতে চরাঞ্চলের আরও বেশি কৃষককে প্রণোদনার আওতায় আনার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

পেঁয়াজ ও মাষকলাই চাষে বড় লক্ষ্যমাত্রা

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে বেড়া উপজেলায় ২ হাজার হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের কন্দ, ৮৯০ হেক্টরে শাকসবজি, ১২৫ হেক্টরে রবি মাষকলাই এবং ২ হাজার ২৩৫ হেক্টর জমিতে খরিপ-২ মাষকলাই চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

কৃষি উৎপাদনের এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে চরাঞ্চলের কৃষকদের অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। তাই সরকারি সহায়তা বিতরণ নিয়ে কৃষক ও জনপ্রতিনিধিদের অভিযোগের যথাযথ নিষ্পত্তি এবং দুর্গম এলাকার কৃষকদের কাছে প্রণোদনা পৌঁছানো নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

কক্সবাজার সৈকতে পাঁচ টন প্লাস্টিকের ‘দানব’

কক্সবাজার সংবাদদাতা
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১৬ অপরাহ্ণ
কক্সবাজার সৈকতে পাঁচ টন প্লাস্টিকের ‘দানব’

সমুদ্রদূষণের ভয়াবহতা তুলে ধরতে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে পরিত্যক্ত প্লাস্টিক দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে ব্যতিক্রমী ভাস্কর্য ‘প্লাস্টিক দানব’। পাঁচ টন প্লাস্টিক ব্যবহার করে তৈরি এ ভাস্কর্য মানুষের অসচেতনতা ও প্লাস্টিক বর্জ্যের পরিবেশগত ক্ষতির প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে পরিবেশসচেতনতা বাড়াতে চার মাসব্যাপী এ প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন।

সোমবার সন্ধ্যায় প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান। আয়োজকদের আশা, ব্যতিক্রমী এ উদ্যোগের মাধ্যমে সমুদ্রদূষণের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়বে। একই সঙ্গে প্লাস্টিক বর্জ্য যেখানে-সেখানে না ফেলে সঠিকভাবে সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনায় উৎসাহিত হবেন পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

পাঁচ টন প্লাস্টিকে দূষণের প্রতীক

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে ঘুরতে আসা মানুষের কাছে সমুদ্রের সৌন্দর্য যেমন আকর্ষণের কেন্দ্র, তেমনি প্লাস্টিক বর্জ্য এ সৌন্দর্য ও সামুদ্রিক পরিবেশের জন্য বড় হুমকি। সৈকতে পড়ে থাকা প্লাস্টিকের বোতল, প্যাকেট ও অন্যান্য বর্জ্য একপর্যায়ে সমুদ্রে মিশে সামুদ্রিক প্রাণী ও জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করতে পারে।

এ বাস্তবতা তুলে ধরতেই পরিত্যক্ত প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি করা হয়েছে ‘প্লাস্টিক দানব’ ভাস্কর্য। পাঁচ টন প্লাস্টিকের ব্যবহার ভাস্কর্যটিকে শুধু একটি শিল্পকর্মে সীমাবদ্ধ রাখেনি; বরং প্লাস্টিক বর্জ্যের বিপুল পরিমাণ ও এর সম্ভাব্য ক্ষতির বিষয়টিও সামনে এনেছে।

আয়োজকদের মতে, ভাস্কর্যটি দেখে দর্শনার্থীরা যেন শুধু ছবি তুলে চলে না যান, বরং নিজেদের দৈনন্দিন অভ্যাস এবং প্লাস্টিক ব্যবহারের পরিণতি নিয়েও ভাবেন—এটাই উদ্যোগটির অন্যতম উদ্দেশ্য।

দুটি প্লাস্টিকের বোতলেই দেখা যাবে সচেতনতামূলক চলচ্চিত্র

ভাস্কর্য প্রদর্শনের পাশাপাশি সৈকতে নির্মাণ করা হয়েছে একটি বিশেষ থিয়েটার। সেখানে দায়িত্বশীল পর্যটন ও পরিবেশ সংরক্ষণ বিষয়ে সচেতনতামূলক চলচ্চিত্র দেখানো হবে। চলচ্চিত্রটি দেখার প্রবেশমূল্য হিসেবে দর্শনার্থীদের সঙ্গে আনতে হবে দুটি পরিত্যক্ত প্লাস্টিকের বোতল।

এই ব্যতিক্রমী ব্যবস্থার মাধ্যমে বিনোদনের সঙ্গে প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহের বিষয়টিও যুক্ত করা হয়েছে। দর্শনার্থীরা নিজেদের কাছে থাকা ব্যবহৃত বোতল জমা দিয়ে চলচ্চিত্র দেখার সুযোগ পাবেন। এতে প্লাস্টিক বর্জ্য যথাযথভাবে সংগ্রহ এবং পুনর্ব্যবহারের গুরুত্ব সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরির সুযোগ হবে।

আয়োজকেরা মনে করছেন, প্রচলিত প্রচারণার বাইরে এ ধরনের উদ্যোগ পরিবেশবান্ধব আচরণে মানুষকে উৎসাহিত করতে পারে। বিশেষ করে পর্যটন মৌসুমে বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগম হওয়া কক্সবাজার সৈকতে এ বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

‘সমুদ্রকে দূষিত করার পেছনে আমাদেরও ভূমিকা আছে’

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, সমুদ্র দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ, জীববৈচিত্র্য এবং অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কিন্তু মানুষের অসচেতনতার কারণে প্রতিনিয়ত প্লাস্টিক বর্জ্য সমুদ্র ও সৈকতের পরিবেশকে হুমকির মুখে ফেলছে।

তিনি বলেন, এ ধরনের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ দূষণের ভয়াবহতা মানুষের সামনে দৃশ্যমান করে তুলবে এবং নিজেদের আচরণ পরিবর্তনে উৎসাহিত করবে। কক্সবাজারকে পরিচ্ছন্ন রাখতে প্রশাসনের পাশাপাশি পর্যটক, স্থানীয় জনগণ, ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের পরিচালক জামাল উদ্দিন বলেন, মানুষ প্রায়ই সমুদ্রের সৌন্দর্য উপভোগ করে, কিন্তু সেই সমুদ্রকে দূষিত করার পেছনে নিজেদের ভূমিকার কথা ভুলে যায়। পরিত্যক্ত প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি ‘প্লাস্টিক দানব’ মানুষের অসচেতনতারই প্রতিচ্ছবি।

তিনি বলেন, ভাস্কর্যটি দেখে মানুষ যেন নিজের ব্যবহৃত প্লাস্টিক কোথায় ফেলছে এবং তা সমুদ্রের জন্য কী ধরনের ক্ষতি তৈরি করছে, সেই প্রশ্ন নিজের কাছেই করে।

প্লাস্টিকের বিনিময়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য

বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন সারা বছর ‘প্লাস্টিক এক্সচেঞ্জ স্টোর’-এর মাধ্যমে পরিত্যক্ত প্লাস্টিক সংগ্রহ করে। এ কার্যক্রমে মানুষ প্লাস্টিক বর্জ্য জমা দিয়ে তার বিনিময়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য নেওয়ার সুযোগ পায়।

আয়োজক প্রতিষ্ঠানের সদস্যরা জানান, এ উদ্যোগের মাধ্যমে প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ করে যথাযথ ব্যবস্থাপনার আওতায় আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। এ কার্যক্রমে সংগৃহীত প্লাস্টিকের একটি অংশ ব্যবহার করে নির্মাণ করা হয়েছে ‘প্লাস্টিক দানব’ ভাস্কর্যটি।

আয়োজকদের প্রত্যাশা, ভাস্কর্যটি প্লাস্টিক দূষণের দৃশ্যমান প্রতীক হিসেবে কাজ করবে। পাশাপাশি একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো, নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য ফেলা এবং দায়িত্বশীল পর্যটনের বার্তাও ছড়িয়ে দেবে।

পরিচ্ছন্ন সৈকনের জন্য প্রয়োজন সবার দায়িত্বশীলতা

কক্সবাজার দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্র। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক পর্যটকের আগমন সৈকতের পরিবেশ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করে। এ পরিস্থিতিতে শুধু পরিচ্ছন্নতা অভিযান নয়, পর্যটকদের আচরণে পরিবর্তন আনা এবং প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহের কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলাও জরুরি।

চার মাসব্যাপী ‘প্লাস্টিক দানব’ প্রদর্শনী ও চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর মাধ্যমে দেশি-বিদেশি পর্যটক এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে পরিবেশবান্ধব আচরণ গড়ে উঠবে বলে প্রত্যাশা করছে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন।

সৈকতের সৌন্দর্য রক্ষা এবং সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সুরক্ষায় প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো, ব্যবহৃত বোতল ও প্যাকেট নির্দিষ্ট স্থানে ফেলা এবং বর্জ্য পুনর্ব্যবহারের উদ্যোগে অংশ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। পাঁচ টন প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি ‘দানব’ তাই শুধু একটি ভাস্কর্য নয়, বরং পরিচ্ছন্ন সমুদ্র ও দায়িত্বশীল পর্যটনের প্রয়োজনীয়তার কথাও স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি

নিউক্যাসলকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে ২৫ বছরের অপেক্ষা ঘোচাল কভেন্ট্রি

ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১৫ অপরাহ্ণ
নিউক্যাসলকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে ২৫ বছরের অপেক্ষা ঘোচাল কভেন্ট্রি
ফ্রাঙ্ক ল্যাম্পার্ডের পরামর্শ, পা মাটিতেই রাখতে হবে। কিন্তু নিউক্যাসল ইউনাইটেডকে ৪-১ গোলে হারানোর পর কভেন্ট্রি সিটির খেলোয়াড়দের উচ্ছ্বাস ধরে রাখা কি এতটাই সহজ? ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে নিজেদের মাঠে দীর্ঘ ২৫ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে এমন এক জয় পেয়েছে দলটি, যা সমর্থকদের মনে গেঁথে থাকবে বহুদিন।

প্রিমিয়ার লিগে ম্যাচের আগে অবনমন অঞ্চলে থাকা কভেন্ট্রির সামনে প্রতিপক্ষ হিসেবে ছিল ঐতিহ্যবাহী ক্লাব নিউক্যাসল ইউনাইটেড। সাম্প্রতিক অবস্থান ও দলীয় শক্তির বিচারে নিউক্যাসল এগিয়ে থাকলেও মাঠের লড়াইয়ে তার কোনো ছাপ দেখা যায়নি। বরং শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলে কভেন্ট্রি। শেষ পর্যন্ত চার গোলের দাপুটে জয় তুলে নিয়ে নিজেদের সামর্থ্যের জানান দেয় ল্যাম্পার্ডের দল।

২৫ বছরের অপেক্ষার অবসান

কভেন্ট্রি অ্যারেনায় প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচে এটি কভেন্ট্রি সিটির জন্য বিশেষ এক রাত। নিজেদের মাঠে ইংলিশ ফুটবলের শীর্ষ লিগে সর্বশেষ জয়ের স্মৃতি ছিল ২৫ বছর আগের। ২০০১ সালে সান্ডারল্যান্ডের বিপক্ষে ১-০ গোলের জয়ের পর ঘরের মাঠে প্রিমিয়ার লিগে আর জয়ের দেখা পায়নি দলটি। সেই ম্যাচে জন হার্টসনের করা গোলই ছিল কভেন্ট্রির সমর্থকদের কাছে স্মরণীয়।

নিউক্যাসলের বিপক্ষে এবারের ম্যাচে সেই দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান শুধু জয় দিয়েই হয়নি, চার গোলের বড় ব্যবধানে জয় তুলে নিয়েছে কভেন্ট্রি। ম্যাচের শুরু থেকেই স্বাগতিকদের আত্মবিশ্বাসী ফুটবল এবং গোলের জন্য মরিয়া চেষ্টা গ্যালারির দর্শকদের উচ্ছ্বাস বাড়িয়ে দেয়।

কাকতালীয়ভাবে, কভেন্ট্রির ঘরের মাঠে প্রিমিয়ার লিগে সর্বশেষ জয়ের সময় সংগীতজগতে জনপ্রিয় ছিল সাবেক ‘স্পাইস গার্ল’ এমা বান্টনের গান ‘হোয়াট টুক ইউ সো লং?’। দীর্ঘ অপেক্ষার পর নিউক্যাসলের বিপক্ষে জয় পাওয়ায় গানটির শিরোনাম যেন নতুন করে প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে। সেই গান হয়তো অনেকের স্মৃতিতে নেই, তবে এই জয় কভেন্ট্রির সমর্থকদের মনে দীর্ঘদিন জায়গা করে নেবে।

শুরুতেই এগিয়ে যায় কভেন্ট্রি

ম্যাচের ষষ্ঠ মিনিটেই পেনাল্টি থেকে গোল করে কভেন্ট্রিকে এগিয়ে দেন মিডফিল্ডার জ্যাক রুদোনি। তাঁর গোলের পর গ্যালারিতে উল্লাসে ফেটে পড়েন সমর্থকেরা। দীর্ঘ অপেক্ষার পর নিজেদের মাঠে প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচে গোল দেখার আনন্দও ছিল আলাদা।

প্রথম গোলের পর কভেন্ট্রি আক্রমণ চালিয়ে যায়। বিরতির পর ৪৮ মিনিটে সিদিকি চেরিফের গোলে ব্যবধান দ্বিগুণ করে স্বাগতিকেরা। দুই গোলে পিছিয়ে পড়ে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা শুরু করে নিউক্যাসল। ৭০ মিনিটে বোটমানের গোলে ব্যবধান কমিয়ে কিছুটা আশা জাগায় অতিথিরা।

তবে নিউক্যাসলের সেই প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ম্যাচের শেষ ভাগে আরও দুটি গোল করে জয় নিশ্চিত করে কভেন্ট্রি। ৮১ ও ৮৬ মিনিটে পাওয়া গোল দুটি স্বাগতিকদের জয়কে আরও স্মরণীয় করে তোলে। ২০০০ সালের মে মাসে শেফিল্ড ওয়েডনেসডের বিপক্ষে ৪-১ গোলে জয়ের পর ইংল্যান্ডের শীর্ষ লিগে এই প্রথম কোনো ম্যাচে চার গোল করল কভেন্ট্রি।

ল্যাম্পার্ডের চোখে পরিপূর্ণ পারফরম্যান্স

ম্যাচ শেষে দলের খেলায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন কভেন্ট্রি কোচ ফ্রাঙ্ক ল্যাম্পার্ড। ইংল্যান্ডের সাবেক এই তারকা মিডফিল্ডারের মতে, দল যেভাবে খেলতে চায়, নিউক্যাসলের বিপক্ষে ঠিক সেভাবেই পারফর্ম করেছে খেলোয়াড়েরা।

ল্যাম্পার্ড বলেন, ‘খুব সন্তুষ্টির। আমরা যেমন দল হতে চাই, ঠিক তেমন খেলেছি। পরিপূর্ণ পারফরম্যান্স।’

তবে বড় জয়ের পরও খেলোয়াড়দের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। কারণ, একটি জয় দিয়ে পুরো মৌসুমের লক্ষ্য অর্জন হয়ে যায় না। সামনে কঠিন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে আরও ম্যাচ রয়েছে। ল্যাম্পার্ড বলেন, ‘খেলোয়াড়দের জন্য অবশ্যই দারুণ এক অনুভূতি। পা মাটিতে রাখতে হবে। কারণ, আমাদের পরের ম্যাচটি (টটেনহাম) কঠিন এবং তার পরেরটিও সহজ হবে না।’

কোচের এই বক্তব্যে স্পষ্ট, নিউক্যাসলের বিপক্ষে বড় জয়কে আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর উপলক্ষ হিসেবে দেখলেও তিনি চান না খেলোয়াড়েরা আত্মতুষ্টিতে ভুগুক। বরং এই পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা ধরে রেখে পরবর্তী ম্যাচগুলোতেও পয়েন্ট অর্জন করতে চায় দলটি।

পয়েন্ট তালিকায় এগোল কভেন্ট্রি

নিউক্যাসলের বিপক্ষে জয়ের ফলে অবনমন অঞ্চল থেকে উঠে এসেছে কভেন্ট্রি সিটি। ছয় ম্যাচে ছয় পয়েন্ট নিয়ে দলটি এখন প্রিমিয়ার লিগের পয়েন্ট তালিকার ১৪তম স্থানে। মৌসুমের শুরুতে কঠিন পরিস্থিতিতে থাকা দলটির জন্য এই জয় তাই কেবল একটি বড় ব্যবধানের জয় নয়, বরং ঘুরে দাঁড়ানোরও গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।

ল্যাম্পার্ডের কোচিংয়ে গত মৌসুমে চ্যাম্পিয়নশিপে সর্বোচ্চ গোল করা দল হিসেবে মৌসুম শেষ করেছিল কভেন্ট্রি। এবার প্রিমিয়ার লিগেও আক্রমণভাগের সেই কার্যকারিতা ধরে রাখার ইঙ্গিত মিলেছে। নিউক্যাসলের বিপক্ষে চারটি গোলই দলের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে। একই সঙ্গে একাধিক খেলোয়াড়ের গোল পাওয়াও কোচের জন্য ইতিবাচক দিক।

বড় হারে চাপে নিউক্যাসল

অন্যদিকে কভেন্ট্রির কাছে ৪-১ গোলের হার নিউক্যাসল ইউনাইটেডের জন্য বড় ধাক্কা। বোর্নমাউথ ও চেলসির সঙ্গে যৌথভাবে চলতি লিগে সর্বোচ্চ গোল হজম করা দলের তালিকায় রয়েছে নিউক্যাসল। ছয় ম্যাচে আট পয়েন্ট নিয়ে দলটি আছে ১১তম স্থানে।

ম্যাচ শেষে হতাশা প্রকাশ করেন নিউক্যাসল কোচ ম্যাথিয়াস জাইসলে। তাঁর মতে, লিগে নিজেদের ভুলের কারণেই এমন ফলের মুখোমুখি হতে হয়েছে দলকে। সমর্থকদের প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারায় তাঁদের কাছে ক্ষমাও চেয়েছেন তিনি।

জাইসলে বলেন, ‘মেনে নেওয়া কঠিন। লিগে এটা ভুলের শাস্তি। সমর্থকদের আরও ভালো ফলাফল প্রাপ্য ছিল, তাই তাদের কাছে আমি ক্ষমাপ্রার্থনা করছি।’

কভেন্ট্রির জন্য রাতটি ছিল দীর্ঘ অপেক্ষা শেষে পাওয়া এক ঐতিহাসিক আনন্দের। আর নিউক্যাসলের জন্য এটি নিজেদের ভুলগুলো পর্যালোচনা করে ঘুরে দাঁড়ানোর বার্তা। তবে ল্যাম্পার্ডের চাওয়া, বড় জয়ের উচ্ছ্বাসে ভেসে না গিয়ে পরবর্তী ম্যাচের প্রস্তুতিতে মনোযোগী থাকুক তাঁর দল।

কালের আলো/এসএ

সরকারি কলেজের ক্লাসরুমে অধ্যক্ষের শোবার ঘর!

সিরাজগঞ্জ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০৯ অপরাহ্ণ
সরকারি কলেজের ক্লাসরুমে অধ্যক্ষের শোবার ঘর!

রুমজুড়ে পরিপাটি খাট, তোষক, বালিশ ও বিছানার চাদর। পাশে চেয়ার-টেবিল, পোশাক রাখার আলনা এবং টেবিল ফ্যান। প্রথম দেখায় আবাসিক হোটেলের কোনো কক্ষ মনে হলেও এটি আসলে একটি শ্রেণিকক্ষ। সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে সরকারি হাজী কোরপ আলী মেমোরিয়াল কলেজের একটি ক্লাসরুমকে এভাবেই শোবার ঘর হিসেবে ব্যবহার করছেন কলেজটির অধ্যক্ষ অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম।

সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল ৯টার দিকে কলেজের আইসিটি ভবনের দ্বিতীয় তলায় ওই কক্ষে গিয়ে এসব চিত্র দেখা যায়। এ ঘটনায় শ্রেণিকক্ষের ব্যবহার, শিক্ষার পরিবেশ এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

শ্রেণিকক্ষে খাট, তোষক ও ব্যক্তিগত আসবাব

কলেজের ওই কক্ষে একটি ঘুমানোর খাট, তোষক, বালিশ ও বিছানার চাদর দেখা গেছে। এ ছাড়া রয়েছে পোশাক রাখার আলনা, রিচার্জেবল টেবিল ফ্যান, চেয়ার ও টেবিল। কক্ষটি শ্রেণিকক্ষ হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার কথা থাকলেও সেখানে আবাসিক কক্ষের মতো ব্যবস্থা করা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কলেজের এক শিক্ষক জানান, অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম ২০২৫ সালের এপ্রিলে কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে যোগ দেন। এরপর থেকে তিনি ওই কক্ষে থাকছেন। আগে কক্ষটিতে শ্রেণিকক্ষের বেঞ্চ ছিল এবং সেখানে পরীক্ষা নেওয়া হতো বলেও দাবি করেন ওই শিক্ষক।

ওই শিক্ষকের ভাষ্য, অধ্যক্ষ সরকারি বেতনের সঙ্গে বাড়িভাড়া বাবদ অর্থও পান। তা ছাড়া কলেজের নিজস্ব জায়গায় অধ্যক্ষের জন্য কোয়ার্টার রয়েছে। সেটি কিছুটা সংস্কার করলেই বসবাসের উপযোগী করা সম্ভব ছিল বলে মনে করেন তিনি।

অধ্যক্ষের দাবি, অতিথিদের জন্য তৈরি করা হয়েছে কক্ষ

শ্রেণিকক্ষকে শোবার ঘর হিসেবে ব্যবহারের বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যক্ষ অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘রুমটি গেস্টদের জন্য তৈরি করা হয়েছে। আমি মাঝেমধ্যে একটু থাকি। আশেপাশে ভালো ভাড়া বাসা না পাওয়ায় আমাকে এখানেই থাকতে হয়। তাছাড়া আমার ফ্যামিলি বগুড়ায় থাকায় সেখান থেকে যাতায়াত করি।’

তবে কক্ষটি অতিথিদের জন্য তৈরি করা হয়েছে বলে অধ্যক্ষ দাবি করলেও সেখানে খাট ও অন্যান্য ব্যক্তিগত ব্যবহার্য সামগ্রী থাকার বিষয়টি সরেজমিনে দেখা গেছে।

ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস শিক্ষা অধিদপ্তরের

এ বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (কলেজ ও প্রশাসন) অধ্যাপক নাজমুল হক জানান, সরকারি হাজী কোরপ আলী মেমোরিয়াল কলেজের শ্রেণিকক্ষে অধ্যক্ষের শোবার ঘর তৈরির বিষয়টি তাঁর জানা নেই।

তিনি বলেন, এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য তাঁর হোয়াটসঅ্যাপে পাঠাতে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শ্রেণিকক্ষের ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শ্রেণিকক্ষ মূলত পাঠদান ও শিক্ষাসংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের জন্য নির্ধারিত। ফলে কোনো শ্রেণিকক্ষ আবাসিক কাজে ব্যবহার করা হলে তা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয়তা ও অবকাঠামো ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, সে প্রশ্ন সামনে আসে।

সরকারি হাজী কোরপ আলী মেমোরিয়াল কলেজের ওই কক্ষটি কীভাবে এবং কোন অনুমোদনের ভিত্তিতে ব্যবহার করা হচ্ছে, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তে স্পষ্ট হতে পারে। শিক্ষা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এখন কর্তৃপক্ষের অনুসন্ধান ও পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি