বেড়ার চরাঞ্চলে কৃষি প্রণোদনা নিয়ে ক্ষোভ, বঞ্চনার অভিযোগ কৃষকদের
সরকারি কৃষি প্রণোদনা না পাওয়ার অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পাবনার বেড়া উপজেলার চরাঞ্চলের কৃষক ও জনপ্রতিনিধিরা। তাঁদের দাবি, দুর্গম চরাঞ্চলের কৃষকেরা সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ফলে নিজস্ব অর্থায়নে বীজ ও সার কিনে চাষাবাদ চালিয়ে যেতে হচ্ছে তাঁদের। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে উপজেলা কৃষি বিভাগ। তাদের দাবি, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে সমন্বয় করেই প্রণোদনা বিতরণ করা হচ্ছে।
উপজেলার বিভিন্ন চরাঞ্চলে এখন মাষকলাই, মুড়িকাটা পেঁয়াজ ও নানা ধরনের শাকসবজির চাষ চলছে। সরকারি সহায়তা না পাওয়ার অভিযোগ থাকলেও কৃষকেরা থেমে নেই। নিজেদের খরচে জমিতে ফসল ফলাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন তাঁরা।
শত শত বিঘা জমিতে চাষাবাদ
সরেজমিনে উপজেলার চর সাঁড়াশিয়া ও চর নাগদাহ গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, শত শত বিঘা জমিতে মাষকলাই, পেঁয়াজ, পটল, শসা, লালশাক, পালংশাক ও মূলাশাকের আবাদ হচ্ছে। কৃষকেরা ফসলের পরিচর্যা, জমি প্রস্তুত ও উৎপাদন কার্যক্রমে ব্যস্ত রয়েছেন।
কৃষকদের অভিযোগ, কৃষি উৎপাদন বাড়াতে সরকারি প্রণোদনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারলেও চরাঞ্চলে তাঁরা সেই সুবিধা পাচ্ছেন না। ফলে বীজ, সারসহ কৃষি উপকরণ কিনতে নিজেদের অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন খরচের চাপও সামলাতে হচ্ছে তাঁদের।
চর সাঁড়াশিয়া গ্রামের কৃষক হুমায়ুন কবির বলেন, কৃষি অফিসের প্রণোদনার আশায় বসে থাকলে তাঁদের চাষাবাদই বন্ধ হয়ে যেত। তাঁর অভিযোগ, মাঝেমধ্যে কিছু মাঠকর্মী এলাকায় এলেও কৃষকেরা বাস্তবে তেমন কোনো সহায়তা পান না।
প্রণোদনা বিতরণে সমন্বয় নেই, দাবি জনপ্রতিনিধিদের
চরাঞ্চলের কৃষকদের অভিযোগের সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কয়েকজন। চর নাগদাহ গ্রামের বাসিন্দা ও স্থানীয় ইউপি সদস্য জাহিদ মোল্লার দাবি, চরাঞ্চলের কৃষকেরা সরকারি প্রণোদনা পাচ্ছেন না।
হাটুরিয়া-নাকালিয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. মিজানুর রহমান বলেন, তাঁর ওয়ার্ডের চর পেচাকোলা ও চর নাকালিয়া এলাকার কৃষকেরা সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
এ বিষয়ে হাটুরিয়া-নাকালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল হামিদ সরকার বলেন, চলতি বছর কৃষি অফিস কোনো কৃষককে প্রণোদনা দিয়েছে কি না, তা তাঁর জানা নেই। তাঁর অভিযোগ, প্রণোদনা বিতরণের ক্ষেত্রে কৃষি অফিসের সঙ্গে ইউনিয়ন পরিষদের কোনো সমন্বয় করা হচ্ছে না।
অভিযোগ অস্বীকার কৃষি বিভাগের
কৃষক ও জনপ্রতিনিধিদের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বেড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নুসরাত কবির। তাঁর ভাষ্য, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয় করেই কৃষি প্রণোদনা বিতরণ করা হয়।
তিনি জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের খরিপ-২ মৌসুমে ইতোমধ্যে তিন হাজারের বেশি কৃষকের মধ্যে পেঁয়াজ ও সবজির বীজ এবং সার বিতরণ করা হয়েছে।
চরাঞ্চলের কৃষকদের প্রণোদনা না পাওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে নুসরাত কবির বলেন, দুর্গম এলাকার কারণে অনেক কৃষক সময়মতো প্রণোদনা নিতে আসেন না। এ ছাড়া চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কম থাকায় একসঙ্গে সব কৃষককে সহায়তা দেওয়া সম্ভব হয় না। তবে ভবিষ্যতে চরাঞ্চলের আরও বেশি কৃষককে প্রণোদনার আওতায় আনার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
পেঁয়াজ ও মাষকলাই চাষে বড় লক্ষ্যমাত্রা
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে বেড়া উপজেলায় ২ হাজার হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের কন্দ, ৮৯০ হেক্টরে শাকসবজি, ১২৫ হেক্টরে রবি মাষকলাই এবং ২ হাজার ২৩৫ হেক্টর জমিতে খরিপ-২ মাষকলাই চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
কৃষি উৎপাদনের এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে চরাঞ্চলের কৃষকদের অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। তাই সরকারি সহায়তা বিতরণ নিয়ে কৃষক ও জনপ্রতিনিধিদের অভিযোগের যথাযথ নিষ্পত্তি এবং দুর্গম এলাকার কৃষকদের কাছে প্রণোদনা পৌঁছানো নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে।
কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

আপনার মতামত লিখুন
Array