খুঁজুন
                               
, ,
           

লাল ও সাদা শাপলার হাসিতে মোহনীয় রূপ নিয়েছে গ্রামীণ খাল-বিল

পাবনা সংবাদদাতা
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৪ পূর্বাহ্ণ
লাল ও সাদা শাপলার হাসিতে মোহনীয় রূপ নিয়েছে গ্রামীণ খাল-বিল

প্রকৃতির এক অপরূপ বৈচিত্র্য নিয়ে গ্রামীণ জনপদের খাল-বিল আর জলাশয়গুলোতে এখন ফুটে আছে লাল ও সাদা শাপলা। ভোরের প্রথম আলোয় চারপাশ যখন কুয়াশায় ঢাকা, ঠিক তখন জলাশয়জুড়ে ডানা মেলে হাসছে এই দেশীয় ফুলগুলো। শাপলার এই সমারোহ দেখতে ও প্রকৃতির স্নিগ্ধতা উপভোগ করতে প্রতিদিনই বিলপারে ভিড় জমান প্রকৃতিপ্রেমী ও পথচারীরা।

কার্তিক-অগ্রহায়ণের এই সময়ে স্থানীয় প্রকৃতিতে এক অন্যরকম আভিজাত্য এনে দেয় এই শাপলা। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের নিভৃত পল্লীর অবহেলিত জলাশয়, ডোবা ও বিলে প্রাকৃতিকভাবেই জন্ম নেয় এই শাপলা। সকালে যখন চারপাশ রোদে ঝলমল করে ওঠে, তখন সবুজ পাতার বিছানায় লাল ও সাদার মিতালি এক চমৎকার দৃশ্যের অবতারণা করে।

স্থানীয়রা জানান, প্রতি বছর বর্ষার পানি আসার সঙ্গে সঙ্গেই বিলে শাপলার প্রস্ফুটন শুরু হয়। সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে ফুলগুলো তাদের পাপড়ি মেলে ধরে এবং দুপুরের দিকে রোদ বাড়লে তা আবার বুজে যায়। এই রোদ-ছায়ার লুকোচুরি খেলা মুগ্ধ করে সবাইকে।

শাপলা শুধু সৌন্দর্যের প্রতীক নয়, এটি দেশের জাতীয় ফুল। তাছাড়া শাপলা একটি আদর্শ সবজি। তবে দুঃখের বিষয়, জলাশয় ভরাট, অপরিকল্পিত মৎস্যচাষ এবং জলজ পরিবেশ ধ্বংসের কারণে প্রাকৃতিকভাবে শাপলা জন্মানোর ক্ষেত্রগুলো দিন দিন সংকুচিত হয়ে আসছে। জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্য টিকিয়ে রাখতে এসব জলাশয় ও শাপলা ফুল সংরক্ষণ করা জরুরি বলে মনে করেন পরিবেশবাদীরা।

সরেজমিনে সুজানগর গাজনার বিল, চাটমোহর ডিকশির বিল, চলনবিল, পাবনা শহরসহ গ্রামের ছোট ছোট পুকুর, ডোবা ও জলাশয়ে গিয়ে দেখা যায়, শরতের স্নিগ্ধ প্রকৃতিতে লাল ও সাদা শাপলার অপরূপ সৌন্দর্যের মনোরম দৃশ্য। দেখে মনে হবে শরতের শেষেও এখনো বর্ষার স্নিগ্ধতার রেশ রয়েছে প্রকৃতিতে। নীরবে-নিভৃতে প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্যে সৌন্দর্য ছড়াচ্ছে বিলের পানিতে ফুটে থাকা লাল ও সাদা শাপলা। দেখে মনে হবে প্রকৃতি যেন সেজেছে লাল ও সাদা রঙের অনন্য সাজে। অনেকে আবার লাল শাপলাকে রক্তকমল নামেও ডেকে থাকে।

সুজানগর এলাকার বাসিন্দা সালমান জানান, আগে গাজনার বিলসহ বিভিন্ন বিল-ঝিলে প্রচুর পরিমাণে শাপলা ফুল দেখা যেত। তবে বিলে আগের মতো পানি না আসা ও জমিতে অতিমাত্রায় কীটনাশক ব্যবহার করাসহ শাপলার মূল তুলে ফেলায় আগের মতো আর বিলে শাপলা ফুল ফুটতে দেখা যায় না।

ভাঙ্গুড়া এলাকার বাসিন্দা মাসুম জানান, শাপলার ডাঁটা সবজি হিসেবে খুব ভালো। তিনি জানান, আগে গ্রামীণ নারীরা শাপলার ঢ্যাপ থেকে দানা বা বীজ বের করে রোদে শুকিয়ে তা দিয়ে খই ভাজত। এছাড়াও গ্রামের দরিদ্র ব্যক্তিরা ভাতের চালের বিকল্প হিসেবে শাপলার ঢ্যাপ দিয়ে ভাত রান্না করে খেত।

পাবনা সদর পৈলানপুর এলাকার বাসিন্দা সোহান হোসেন জানান, গ্রামে শাপলা ফুল দেখা গেলেও শহরে তেমন একটা চোখে পড়ে না। তবে তাদের এলাকার পরিত্যক্ত ডোবাগুলোতে লাল শাপলার দেখা মেলে বলে জানান তিনি।

পাবনা সদর রাজাপুর এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা সোহেল হোসেন বলেন, শাপলার কেবল সৌন্দর্যই নয়, লাল ও সাদা শাপলা প্রান্তিক মানুষের জীবিকার উৎস। বর্ষার এই সময়টাতে অনেকে বিল থেকে শাপলা ও শালুক আহরণ করে হাটবাজারে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে।

চাটমোহর এনায়েতুল্লাহ ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার সিনিয়র শিক্ষক মো. নুরুল ইসলাম বলেন, শাপলা মূলত নাতিশীতোষ্ণ ও গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলের দেশগুলোতে বেশি জন্মায়। জলাশয়ের এই ফুলকে কেন্দ্র করে জলজ প্রাণী, পোকামাকড়, ব্যাঙ, মাছ ও পাখিরা নির্ভরশীল, যা বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য রক্ষা করে। লাল শাপলা জলাশয়ের পানিকে পরিষ্কার রাখতে এবং পানিতে অক্সিজেনের সরবরাহ বৃদ্ধি করে বলে জানান তিনি।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

সরকারি কলেজের ক্লাসরুমে অধ্যক্ষের শোবার ঘর!

সিরাজগঞ্জ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০৯ অপরাহ্ণ
সরকারি কলেজের ক্লাসরুমে অধ্যক্ষের শোবার ঘর!

রুমজুড়ে পরিপাটি খাট, তোষক, বালিশ ও বিছানার চাদর। পাশে চেয়ার-টেবিল, পোশাক রাখার আলনা এবং টেবিল ফ্যান। প্রথম দেখায় আবাসিক হোটেলের কোনো কক্ষ মনে হলেও এটি আসলে একটি শ্রেণিকক্ষ। সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে সরকারি হাজী কোরপ আলী মেমোরিয়াল কলেজের একটি ক্লাসরুমকে এভাবেই শোবার ঘর হিসেবে ব্যবহার করছেন কলেজটির অধ্যক্ষ অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম।

সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল ৯টার দিকে কলেজের আইসিটি ভবনের দ্বিতীয় তলায় ওই কক্ষে গিয়ে এসব চিত্র দেখা যায়। এ ঘটনায় শ্রেণিকক্ষের ব্যবহার, শিক্ষার পরিবেশ এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

শ্রেণিকক্ষে খাট, তোষক ও ব্যক্তিগত আসবাব

কলেজের ওই কক্ষে একটি ঘুমানোর খাট, তোষক, বালিশ ও বিছানার চাদর দেখা গেছে। এ ছাড়া রয়েছে পোশাক রাখার আলনা, রিচার্জেবল টেবিল ফ্যান, চেয়ার ও টেবিল। কক্ষটি শ্রেণিকক্ষ হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার কথা থাকলেও সেখানে আবাসিক কক্ষের মতো ব্যবস্থা করা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কলেজের এক শিক্ষক জানান, অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম ২০২৫ সালের এপ্রিলে কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে যোগ দেন। এরপর থেকে তিনি ওই কক্ষে থাকছেন। আগে কক্ষটিতে শ্রেণিকক্ষের বেঞ্চ ছিল এবং সেখানে পরীক্ষা নেওয়া হতো বলেও দাবি করেন ওই শিক্ষক।

ওই শিক্ষকের ভাষ্য, অধ্যক্ষ সরকারি বেতনের সঙ্গে বাড়িভাড়া বাবদ অর্থও পান। তা ছাড়া কলেজের নিজস্ব জায়গায় অধ্যক্ষের জন্য কোয়ার্টার রয়েছে। সেটি কিছুটা সংস্কার করলেই বসবাসের উপযোগী করা সম্ভব ছিল বলে মনে করেন তিনি।

অধ্যক্ষের দাবি, অতিথিদের জন্য তৈরি করা হয়েছে কক্ষ

শ্রেণিকক্ষকে শোবার ঘর হিসেবে ব্যবহারের বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যক্ষ অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘রুমটি গেস্টদের জন্য তৈরি করা হয়েছে। আমি মাঝেমধ্যে একটু থাকি। আশেপাশে ভালো ভাড়া বাসা না পাওয়ায় আমাকে এখানেই থাকতে হয়। তাছাড়া আমার ফ্যামিলি বগুড়ায় থাকায় সেখান থেকে যাতায়াত করি।’

তবে কক্ষটি অতিথিদের জন্য তৈরি করা হয়েছে বলে অধ্যক্ষ দাবি করলেও সেখানে খাট ও অন্যান্য ব্যক্তিগত ব্যবহার্য সামগ্রী থাকার বিষয়টি সরেজমিনে দেখা গেছে।

ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস শিক্ষা অধিদপ্তরের

এ বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (কলেজ ও প্রশাসন) অধ্যাপক নাজমুল হক জানান, সরকারি হাজী কোরপ আলী মেমোরিয়াল কলেজের শ্রেণিকক্ষে অধ্যক্ষের শোবার ঘর তৈরির বিষয়টি তাঁর জানা নেই।

তিনি বলেন, এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য তাঁর হোয়াটসঅ্যাপে পাঠাতে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শ্রেণিকক্ষের ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শ্রেণিকক্ষ মূলত পাঠদান ও শিক্ষাসংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের জন্য নির্ধারিত। ফলে কোনো শ্রেণিকক্ষ আবাসিক কাজে ব্যবহার করা হলে তা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয়তা ও অবকাঠামো ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, সে প্রশ্ন সামনে আসে।

সরকারি হাজী কোরপ আলী মেমোরিয়াল কলেজের ওই কক্ষটি কীভাবে এবং কোন অনুমোদনের ভিত্তিতে ব্যবহার করা হচ্ছে, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তে স্পষ্ট হতে পারে। শিক্ষা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এখন কর্তৃপক্ষের অনুসন্ধান ও পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

ক্ষেপণাস্ত্রের আতঙ্ক পেরিয়ে রোনালদোর গোল, জয় পেল আল নাসর

ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৫৭ পূর্বাহ্ণ
ক্ষেপণাস্ত্রের আতঙ্ক পেরিয়ে রোনালদোর গোল, জয় পেল আল নাসর

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আতঙ্কের মধ্যে নির্ধারিত সময়ের এক ঘণ্টা পর মাঠে গড়ায় এশিয়ান চ্যাম্পিয়নস লিগ এলিটের ম্যাচ। নিরাপত্তাজনিত সতর্কতার কারণে খেলা শুরুতে বিলম্ব হলেও মাঠে নেমে নিজের স্বভাবসুলভ পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। পর্তুগিজ এই মহাতারকার গোলে উজবেকিস্তানের ক্লাব নেফচি ফেরগানাকে ৩-১ ব্যবধানে হারিয়েছে সৌদি ক্লাব আল নাসর।

রিয়াদের আল-আওয়াল পার্কে অনুষ্ঠিত ম্যাচটি ঘিরে উদ্বেগ তৈরি হয় হুতি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবরের পর। সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট জানায়, রিয়াদ অভিমুখে ছোড়া একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত ও ধ্বংস করা হয়েছে। এরপর সৌদি নাগরিক সুরক্ষা বাহিনী নিরাপত্তা সতর্কবার্তা জারি করলে ম্যাচ এক ঘণ্টা পিছিয়ে দেওয়া হয়।

সোমবার (১২ অক্টোবর) রাতে রিয়াদে অন্তত তিনটি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে স্টেডিয়ামের দর্শক, খেলোয়াড় ও আয়োজকদের মধ্যে অপেক্ষা ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। পরে মাঠের পরিস্থিতি নিরাপদ বলে স্পিকারে ঘোষণা দেওয়ার পর শুরু হয় খেলা।

নিরাপত্তা সতর্কতায় পিছিয়ে যায় ম্যাচ

ম্যাচ শুরুর আগে আল-আওয়াল পার্কের গ্যালারিতে অল্পসংখ্যক দর্শককে নিজ নিজ আসনে বসে অপেক্ষা করতে দেখা যায়। দুই দলের খেলোয়াড়েরাও মাঠে নামার প্রস্তুতি নিয়ে অপেক্ষায় ছিলেন। সম্প্রচারকারী টেলিভিশন চ্যানেল নির্ধারিত সময়ের ১৫ মিনিট আগে ম্যাচ এক ঘণ্টা পিছিয়ে দেওয়ার কথা জানায়।

সৌদি আরবের রাজধানীকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার খবরের পর নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ দেখা দেয়। সামরিক জোটের পক্ষ থেকে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার তথ্য জানানো হলেও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ম্যাচের সময় পরিবর্তন করা হয়। পরে নিরাপত্তা পরিস্থিতি খেলার উপযোগী বলে ঘোষণা দেওয়া হলে মাঠে গড়ায় বহুল প্রতীক্ষিত ম্যাচটি।

রোনালদোর ৯৮১তম ক্যারিয়ার গোল

ম্যাচের পরিস্থিতি ও শুরুর বিলম্ব রোনালদোর খেলায় কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি। আল নাসরের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে গোল করে দলের জয়ে অবদান রাখেন ৪১ বছর বয়সী এই তারকা। প্রথমার্ধের ৪২ মিনিটে গোলটি করেন তিনি। এটি তাঁর পেশাদার ক্যারিয়ারের ৯৮১তম গোল।

এর আগে ম্যাচের ৩০ মিনিটে অ্যাঞ্জেলো গ্যাব্রিয়েলের গোলে এগিয়ে যায় আল নাসর। এরপর বিরতির ঠিক আগে রোনালদোর গোল ব্যবধান বাড়ায়। ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে আল নাসরে যোগ দেওয়ার পর ক্লাবটির হয়ে এটি তাঁর ১৩৪তম গোল।

রোনালদোর গোলের পর সতীর্থদের সঙ্গে উদ্‌যাপনে মেতে ওঠেন আল নাসরের খেলোয়াড়েরা। এশিয়ার শীর্ষ ক্লাব প্রতিযোগিতায় নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে দলটির জন্য এই জয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

দ্বিতীয়ার্ধে গোল শোধ, পরে আত্মঘাতী গোল

বিরতির পর ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে নেফচি ফেরগানা। ম্যাচের ৫১ মিনিটে একটি গোল করে ব্যবধান কমায় উজবেকিস্তানের দলটি। এতে ম্যাচে ফেরার সম্ভাবনা তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত সমতা ফেরাতে পারেনি তারা।

ম্যাচের ৭৮ মিনিটে আত্মঘাতী গোল করে বসে নেফচি ফেরগানার এক খেলোয়াড়। এতে আল নাসরের জয় আরও নিশ্চিত হয়। উজবেকিস্তানের ফুটবলে ছয়বারের চ্যাম্পিয়ন দলটির জন্য এটি হতাশাজনক মুহূর্ত হয়ে আসে।

এর আগে ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে আল আইনের কাছে ৪-০ গোলে হেরেছিল আল নাসর। সেই পরাজয়ের পর নেফচি ফেরগানার বিপক্ষে জয় দলটির আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে কোচ অ্যাঞ্জ পোস্তেকগ্লুর অধীন এশিয়ান চ্যাম্পিয়নস লিগ এলিটে এটি আল নাসরের প্রথম জয়।

জাতীয় দল ঘিরে বিতর্কের মধ্যেও আলোচনায় রোনালদো

ক্লাব ফুটবলে গোলের পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় দল ঘিরে বিতর্কেও আলোচনায় ছিলেন রোনালদো। আল আইনের কাছে আল নাসরের হারের পর পর্তুগালের কোচ জর্জ জেসুসের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে উয়েফা নেশনস লিগে জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে ক্লাবে ফিরে আসেন তিনি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরে সতীর্থ ও সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিজের ভুল স্বীকার করেন রোনালদো। পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশন (এফপিএফ), শনিবার (১০ অক্টোবর) জানায়, তাঁর বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে তদন্ত শুরু হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত কমিটির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও জানানো হয়।

জাতীয় দল ঘিরে এমন পরিস্থিতির মধ্যেও আল নাসরের হয়ে গোল করে নিজের পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছেন এই তারকা। মাঠের বাইরের বিতর্কের পাশাপাশি তাঁর ক্লাবের হয়ে গোলসংখ্যা ও পারফরম্যান্সও আলোচনায় রয়েছে।

সৌদি আরবের প্রতি সমর্থনের বার্তাও কি দিলেন রোনালদো?

ম্যাচ শেষে রোনালদোকে সৌদি আরবের জাতীয় প্রতীকসংবলিত লোগোতে চুমু খেতে দেখা যায়। এ ছাড়া গ্যালারির দর্শকদের উদ্দেশে সৌদি আরবের স্কার্ফ উঁচিয়ে ধরেন তিনি। ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ও নিরাপত্তা উদ্বেগের মধ্যে তাঁর এই অঙ্গভঙ্গি বিশেষভাবে নজর কাড়ে।

রিয়াদ বিমানবন্দরে সাম্প্রতিক হামলা এবং ড্রোন প্রতিহত করার খবর ঘিরে সৌদি আরবে উদ্বেগের মধ্যে রোনালদোর এমন আচরণকে দেশটির প্রতি সমর্থনের প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে তাঁর নিজের কোনো নির্দিষ্ট বক্তব্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

সব মিলিয়ে নিরাপত্তা শঙ্কা, ম্যাচ শুরুর বিলম্ব এবং জাতীয় দল ঘিরে বিতর্কের মধ্যেও মাঠে নিজের কাজটি করেছেন রোনালদো। তাঁর গোলের সঙ্গে অ্যাঞ্জেলো গ্যাব্রিয়েলের অবদান ও প্রতিপক্ষের আত্মঘাতী গোল মিলিয়ে ৩-১ ব্যবধানের জয় পেয়েছে আল নাসর। এ জয়ের মাধ্যমে এশিয়ান চ্যাম্পিয়নস লিগ এলিটে পরাজয়ের ধাক্কা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পেল সৌদি ক্লাবটি।

কালের আলো/এসএ

আমন ধানে ছাতরা পোকার আক্রমণ, ফলন নিয়ে শঙ্কায় কৃষক

কুড়িগ্রাম সংবাদদাতা
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৫৫ পূর্বাহ্ণ
আমন ধানে ছাতরা পোকার আক্রমণ, ফলন নিয়ে শঙ্কায় কৃষক

কুড়িগ্রামে আমন ধানের খেতে ছাতরা পোকার (মিলিবাগ) আক্রমণ দেখা দেওয়ায় ফলন নিয়ে উদ্বেগে পড়েছেন কৃষকেরা। এ পোকার আক্রমণে ধানগাছের পাতা হলদে হয়ে যাচ্ছে, ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক বৃদ্ধি। কোনো কোনো গাছ শুকিয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন ধরনের বালাইনাশক প্রয়োগ করেও প্রত্যাশিত ফল না পাওয়ায় ক্ষতির আশঙ্কা করছেন চাষিরা।

কৃষকদের ভাষ্য, আগের বছরগুলোতে আমন ধানে এ পোকার উল্লেখযোগ্য আক্রমণ দেখা যায়নি। তবে চলতি মৌসুমে জেলার বিভিন্ন এলাকার ধানখেতে এর উপস্থিতি বেড়েছে। এতে ধানের উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সাদা আবরণে ঢেকে যাচ্ছে ধানগাছ

সরেজমিনে জেলার বিভিন্ন এলাকার ধানখেত ঘুরে দেখা যায়, আক্রান্ত ধানগাছের কাণ্ড ও পাতার খোলে সাদা তুলা বা মোমের মতো আবরণ তৈরি হয়েছে। ওই আবরণের নিচে ছোট ছোট পোকা রয়েছে। আক্রান্ত গাছের পাতা হলদে হয়ে যাচ্ছে এবং স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে। কোনো কোনো গাছ শুকিয়ে পুড়ে যাওয়ার মতো দেখাচ্ছে।

কৃষকেরা জানান, পোকা দমনে বিভিন্ন ধরনের বালাইনাশক ব্যবহার করেও প্রত্যাশিত সুফল পাচ্ছেন না তাঁরা। ফলে বাড়তি খরচের পাশাপাশি ফসলের ক্ষতি নিয়েও দুশ্চিন্তা বাড়ছে।

উলিপুর উপজেলার ধামশ্রেণি ইউনিয়নের খাওনারদরগা এলাকার কৃষক আকবর আলী বলেন, চলতি মৌসুমে তিনি এক একর ৭৫ শতাংশ জমিতে আমন ধান চাষ করেছেন। এর মধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশ জমির ধান ছাতরা পোকার আক্রমণে আক্রান্ত হয়েছে। এতে এবার বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে তাঁর।

রাজারহাটের কৃষক জগদীশ চন্দ্র সরকার জানান, তাঁর প্রায় ২৫ শতাংশ জমির ধান আক্রান্ত হয়েছে। বিভিন্ন ধরনের ওষুধ প্রয়োগ করেও কোনো সুফল পাননি। পরে আক্রান্ত ধানগাছ কেটে গরুকে খাইয়েছেন তিনি।

আগে এমন আক্রমণ দেখেননি স্থানীয় ব্যবসায়ী

স্থানীয় কীটনাশক বিক্রেতা কাইয়ুম সরকার বলেন, প্রায় ২০ বছর ধরে তিনি কীটনাশকের ব্যবসা করছেন। কিন্তু আমন ধানের খেতে এ ধরনের পোকার আক্রমণ আগে দেখেননি। গত বছর দু-একটি গাছে পোকা দেখা গেলেও তেমন ক্ষতি হয়নি। তবে এবার বিভিন্ন জমিতে এ পোকার উপস্থিতি বেড়েছে।

কৃষকদের পাশাপাশি স্থানীয় কীটনাশক ব্যবসায়ীরাও পোকার এমন উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তবে আক্রান্ত জমির পরিমাণ ও সম্ভাব্য ফলনহানির সুনির্দিষ্ট তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।

খরার কারণে আক্রমণ বাড়ার আশঙ্কা

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মাসুদ রানা বলেন, ছাতরা পোকা কোনো রোগ নয়; এটি গাছের রস শোষণকারী ক্ষতিকর পোকা। এর আক্রমণে ধানগাছের বৃদ্ধি ব্যাহত হয় এবং পাতা হলদে হয়ে যায়। আক্রমণ তীব্র হলে গাছ শুকিয়েও যেতে পারে। তাঁর ভাষ্য, আগের বছরগুলোতে কুড়িগ্রামের আমন ধানের খেতে এ পোকার উপস্থিতি দেখা যায়নি।

কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবু ফাত্তাহ্ মো. রওশন কবির বলেন, খরার কারণে ধানখেতে ছাতরা পোকার আক্রমণ বাড়তে পারে। এ পোকা দমনে মাঠপর্যায়ে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি সচেতনতা বাড়াতে লিফলেট বিতরণসহ বিভিন্ন কার্যক্রম চলছে।

তিনি জানান, কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ অনুযায়ী সঠিক সময়ে বালাইনাশক প্রয়োগ করলে এ পোকা দমন করা সম্ভব।

লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে আমন আবাদ

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর কুড়িগ্রামে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ২১ হাজার হেক্টর। এর বিপরীতে আবাদ হয়েছে ১ লাখ ২১ হাজার ৬৩০ হেক্টর জমিতে।

লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে আমন আবাদ হলেও ছাতরা পোকার আক্রমণ কৃষকদের জন্য নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। আক্রান্ত জমিতে দ্রুত পোকার বিস্তার নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন চাষিরা।

এ পরিস্থিতিতে আক্রান্ত জমি শনাক্ত করা, পোকার বিস্তার পর্যবেক্ষণ এবং কৃষকদের সঠিক ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া জরুরি। নির্বিচারে বিভিন্ন বালাইনাশক ব্যবহার না করে কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবস্থা নিলে অপ্রয়োজনীয় খরচ কমানোর পাশাপাশি ফসলের ক্ষতি নিয়ন্ত্রণের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি