খুঁজুন
                               
, ,
           

এক ছাগল থেকে দুই খামার, ফরিদের সাফল্যের গল্প

গাজীপুর সংবাদদাতা
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:১০ অপরাহ্ণ
এক ছাগল থেকে দুই খামার, ফরিদের সাফল্যের গল্প

ইউটিউবে ছাগল পালনের একটি ভিডিও দেখে আগ্রহ তৈরি হয়েছিল। সেই আগ্রহ থেকেই প্রায় ছয় লাখ টাকা পুঁজি নিয়ে আফ্রিকান বোয়ার জাতের একটি ছাগল কিনেছিলেন শেখ ফরিদ। সাত বছরের ব্যবধানে সেই একটি ছাগল থেকেই শুরু হয়েছে তাঁর খামার গড়ার যাত্রা। এখন গাজীপুর ও সিলেটে তাঁর দুটি খামারে রয়েছে বিদেশি জাতের ১২৫টি ছাগল। এসব ছাগলের বর্তমান বাজারমূল্য ৫০ লাখ টাকার বেশি বলে জানিয়েছেন তিনি। ছাগল পালন থেকে বছরে তাঁর আয় প্রায় ১২ থেকে ১৫ লাখ টাকা।

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার শ্রীপুর পূর্বপাড়া গ্রামে নিজের বাড়ির আঙিনায় ‘মা গট ফার্ম’ নামে একটি খামার গড়ে তুলেছেন ফরিদ। পাশাপাশি সিলেটেও রয়েছে তাঁর আরেকটি খামার। শখ থেকে শুরু হওয়া এই উদ্যোগ এখন তাঁর আয়ের অন্যতম উৎস। নিয়মিত পরিচর্যা, ধৈর্য, অভিজ্ঞতা ও পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে গড়ে তোলা খামারটি স্থানীয়ভাবে সম্ভাবনাময় উদ্যোগের উদাহরণ হয়ে উঠেছে।

ইউটিউবের ভিডিও থেকে খামার গড়ার স্বপ্ন

শেখ ফরিদ জানান, প্রায় সাত বছর আগে ইউটিউবে ছাগল পালনবিষয়ক একটি ভিডিও দেখে বিদেশি জাতের ছাগল পালনের প্রতি আগ্রহী হন তিনি। পরে প্রায় ছয় লাখ টাকা পুঁজি নিয়ে অনলাইনে অর্ডার করে আফ্রিকান বোয়ার জাতের একটি ছাগল কেনেন। সেই ছাগল দিয়েই শুরু হয় তাঁর খামার গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথচলা।

শুরুর দিকে খামারে ছাগলের সংখ্যা ছিল খুবই কম। তবে নিয়মিত পরিচর্যা, খাবারের ব্যবস্থা এবং খামার পরিচালনার অভিজ্ঞতা বাড়ানোর মাধ্যমে ধীরে ধীরে ছাগলের সংখ্যা বাড়াতে থাকেন তিনি।

প্রথম তিন বছরের মধ্যে তাঁর খামারে ছাগলের সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় ৫০টিতে। এ সময় কিছু ছাগল বিক্রিও করেন। পাঁচ বছর পর খামারে ছাগলের সংখ্যা বেড়ে হয় প্রায় ৮০টি। পরে খামার সম্প্রসারণের মাধ্যমে গাজীপুরের পাশাপাশি সিলেটেও ছাগল পালন শুরু করেন।

বর্তমানে গাজীপুরের খামারে রয়েছে ৫০টি এবং সিলেটের খামারে ৭৫টি ছাগল। দুই খামার মিলিয়ে মোট ছাগলের সংখ্যা ১২৫টি।

বোয়ার, কালাহারি ও বারবারি জাতের ছাগল

ফরিদের খামারে আফ্রিকান বোয়ার, কালাহারি ও বারবারি জাতের ছাগল পালন করা হচ্ছে। জাত, বয়স ও শারীরিক গঠন অনুযায়ী এসব ছাগলের দাম ৩৫ হাজার টাকা থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত বলে জানান তিনি।

বিদেশি জাতের ছাগল পালনে খাবার, পরিচর্যা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার দিকে বিশেষ নজর দিতে হয়। ফরিদের খামারেও ছাগলের বয়স ও প্রয়োজন অনুযায়ী খাবার সরবরাহ করা হয়। তাঁর মতে, পরিকল্পিতভাবে খামার পরিচালনা এবং নিয়মিত পরিচর্যা করতে পারলে বাংলাদেশেও এসব জাতের ছাগল পালন করে ভালো ফল পাওয়া সম্ভব।

খাবারে ঘাস, সাইলেজ ও দানাদার পুষ্টি

ছাগলের পুষ্টির চাহিদা পূরণে ফরিদের খামারে বিভিন্ন ধরনের খাবার ব্যবহার করা হয়। খাবারের তালিকায় রয়েছে নেপিয়ার ও জার্মান ঘাস, সাইলেজ, ভুট্টার সাইলেজ এবং বিভিন্ন ধরনের দানাদার খাবার।

দানাদার খাবারের মধ্যে রয়েছে ভাঙা ভুট্টা, সয়াবিন, অ্যাংকার, ছোলা, বুটের ভুসি ও মসুরের ভুসি। ছাগলের বয়স, শারীরিক গঠন ও পুষ্টির প্রয়োজন বিবেচনায় খাবারের মান ও পরিমাণের দিকে নজর দেওয়া হয়।

খামারে ছাগল সুস্থ রাখা এবং কাঙ্ক্ষিত বৃদ্ধি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সুষম খাবারের পাশাপাশি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও নিয়মিত পর্যবেক্ষণও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি।

রোগ প্রতিরোধে নিয়মিত টিকা ও চিকিৎসা

ছাগলকে রোগবালাই থেকে সুরক্ষিত রাখতে খামারে নিয়মিত টিকা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা রয়েছে। ফরিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ছাগলকে এফএমডি, গোট পক্স ও পিপিআর রোগের টিকা দেওয়া হয়। পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী কৃমিনাশক, ভিটামিন, ক্যালসিয়াম ও মিনারেল সরবরাহ করা হয়।

খামারে রোগ ছড়িয়ে পড়লে একসঙ্গে অনেক ছাগল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এ কারণে নিয়মিত স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনের সময় প্রাণিসম্পদ বিভাগের পরামর্শ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন ফরিদ।

বছরে আয় ১২ থেকে ১৫ লাখ টাকা

শেখ ফরিদ জানান, বর্তমানে তাঁর দুই খামারে থাকা ছাগলগুলোর বাজারমূল্য ৫০ লাখ টাকার বেশি। ছাগল বিক্রি ও খামারের অন্যান্য আয় মিলিয়ে বছরে প্রায় ১২ থেকে ১৫ লাখ টাকা আয় হচ্ছে তাঁর।

তবে এই আয়কে পুরোপুরি নিট মুনাফা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। ছাগলের খাবার, চিকিৎসা, পরিচর্যা, শ্রমিক ও খামার ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন খাতে ব্যয় রয়েছে। এসব ব্যয় বাদ দিয়ে প্রকৃত লাভ নির্ধারিত হয়।

ফরিদের ভাষ্য, একটি ছাগল দিয়ে শুরু করা উদ্যোগ আজ তাঁর কাছে শুধু ব্যবসা নয়, স্বপ্ন ও ভালোবাসার জায়গা। শুরুতে অনেক কিছুই শিখতে হয়েছে। সময়ের সঙ্গে অভিজ্ঞতা অর্জন করে খামার বড় করেছেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘একটা ছাগল দিয়ে শুরু করেছিলাম। এখন গাজীপুর ও সিলেটে আমার দুটি খামারে ১২৫টি ছাগল রয়েছে। ছাগল পালনকে শুধু ব্যবসা হিসেবে দেখি না, এটি এখন আমার স্বপ্ন ও ভালোবাসার জায়গা। শুরুতে অনেক কিছু শিখতে হয়েছে। ধীরে ধীরে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি। সঠিক পরিচর্যা ও পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা করতে পারলে ছাগল পালন থেকে ভালো আয় করা সম্ভব।’

সফলতায় পাশে প্রাণিসম্পদ বিভাগ

শ্রীপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আব্দুল আলিম বলেন, শেখ ফরিদ আফ্রিকান বোয়ারসহ বিদেশি জাতের ছাগল পালনে সফলতা অর্জন করেছেন। প্রাণিসম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে তাঁর খামার নিয়মিত পরিদর্শন করা হয় এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়।

তিনি আরও বলেন, খামার সম্প্রসারণের প্রয়োজন হলে প্রাণিসম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হবে।

একটি ছাগল দিয়ে শুরু হওয়া শেখ ফরিদের উদ্যোগ এখন দুটি খামারে ১২৫টি ছাগলে বিস্তৃত। তাঁর এই যাত্রা দেখাচ্ছে, আগ্রহের সঙ্গে অভিজ্ঞতা অর্জন, পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা ও নিয়মিত পরিচর্যা যুক্ত হলে শখের উদ্যোগও আয়ের উৎস হয়ে উঠতে পারে।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি

ফ্যাসিবাদী আচরণের পুনরাবৃত্তি করবে না বিএনপি: রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:১৬ অপরাহ্ণ
ফ্যাসিবাদী আচরণের পুনরাবৃত্তি করবে না বিএনপি: রিজভী

বিএনপির নেতাকর্মীদের অতীতের ফ্যাসিবাদী শাসনামলের আচরণের পুনরাবৃত্তি না করার আহ্বান জানিয়েছেন দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, বিএনপি এমন কোনো কর্মকাণ্ডে জড়াবে না, যা মানুষকে অতীতের ফ্যাসিবাদী শাসনামলের কথা মনে করিয়ে দেয়। নেতাকর্মীদের সহনশীল, দায়িত্বশীল এবং আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে রাজনীতি করতে হবে।

সোমবার (১২ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আ স ম হান্নান শাহর দশম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে হান্নান শাহ স্মৃতি সংসদ আয়োজিত স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

দখল-লুটপাট নয়, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার আহ্বান

রিজভী বলেন, রাজনীতি করে রাতারাতি বড়লোক হওয়ার চিন্তা করা উচিত নয়। সারের ডিলারশিপ কিংবা ঠিকাদারি পাওয়ার মতো ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংগ্রাম ও আদর্শ বিসর্জন দেওয়া যাবে না।

বিএনপির নেতাকর্মীদের এমন আচরণ করতে হবে, যাতে সাধারণ মানুষ তাঁদের সহনশীল ও দায়িত্বশীল হিসেবে দেখতে পায়। অতীতে মানুষের জায়গা-জমি দখল, অর্থ লুটপাট ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিএনপি এ ধরনের কর্মকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি করবে না।

দলের লক্ষ্য শান্তি, স্থিতিশীলতা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা বলে উল্লেখ করেন রিজভী। এ লক্ষ্য অর্জনে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের পাশাপাশি তৃণমূলের নেতাকর্মীদেরও নিজেদের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।

সংকট মোকাবিলায় সরকারকে সহযোগিতার আহ্বান

রিজভী বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের সংগ্রামের পর অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি সরকার গঠন করেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশকে সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে কাজ করছেন। তবে বর্তমান সময়ে সরকারকে নানা ধরনের সংকট মোকাবিলা করতে হচ্ছে।

জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে দেশে জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে ডিজেল আমদানি ব্যাহত হওয়ায় কৃষি ও শিল্প খাতে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার কাজ করছে।

রিজভীর দাবি, ধীরে ধীরে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হচ্ছে এবং রান্নার গ্যাসের সংকটও কাটতে শুরু করেছে। দেশের অর্থনীতি ও জনজীবনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে সরকারের উদ্যোগে দলীয় নেতাকর্মীদের সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।

হান্নান শাহ ছিলেন সাহস ও সততার প্রতীক

স্মরণসভায় ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আ স ম হান্নান শাহর রাজনৈতিক জীবন ও অবদানের কথা তুলে ধরেন রিজভী। তিনি বলেন, হান্নান শাহ ছিলেন সাহস, সততা ও কর্তব্যনিষ্ঠার প্রতীক। সেনাবাহিনীতে দায়িত্ব পালনের পর রাজনীতিতে এসে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

মন্ত্রী ও বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তাঁর বিরুদ্ধে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তোলার সুযোগ ছিল না বলেও মন্তব্য করেন রিজভী।

তিনি আরও বলেন, দলের দুঃসময়ে হান্নান শাহ পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে সাহসের সঙ্গে কথা বলেছেন। তাঁর জীবন ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অনেক কিছু শেখার রয়েছে।

দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় সহযোগিতার নির্দেশনা

আসন্ন দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে উদ্‌যাপন নিশ্চিত করতে দলীয় নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান রিজভী। তিনি বলেন, পূজা উদ্‌যাপনে যেন কোনো ধরনের বিঘ্ন না ঘটে, সে জন্য সংশ্লিষ্ট পূজা কমিটি ও হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে আলোচনা করে মণ্ডপগুলোর নিরাপত্তায় সহযোগিতা করতে হবে।

এ দায়িত্ব পালনে নেতাকর্মীদের স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। ধর্মীয় উৎসব ঘিরে নিরাপত্তা ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে স্থানীয় পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগের ওপরও গুরুত্ব দেন বিএনপির এই নেতা।

স্মরণসভায় উপস্থিত ছিলেন যারা

হান্নান শাহ স্মৃতি সংসদ আয়োজিত স্মরণসভায় সভাপতিত্ব করেন সংসদ সদস্য ফজলুল হক মিলন। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন গাজীপুর জেলা প্রশাসক ড. চৌধুরী ইশরাক আহমদ সিদ্দিকী, সংসদ সদস্য মো. মজিবুর রহমান, বিএনপির গাজীপুর জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী ছাইয়েদুল আলম বাবুল, বিএনপি নেতা মো. জেড খান রিয়াজ উদ্দিন নসু, অধ্যাপক ডা. রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, হুমায়ুন কবীর খান ও ওমর ফারুক সাফিনসহ অনেকে।

স্মরণসভায় হান্নান শাহর রাজনৈতিক আদর্শ ও অবদান স্মরণ করার পাশাপাশি দলের নেতাকর্মীদের দায়িত্বশীল আচরণ, আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধা এবং সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

ট্রাম্পের জ্বালানি যুদ্ধবিরতি ভেঙে রাশিয়ার হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:১০ অপরাহ্ণ
ট্রাম্পের জ্বালানি যুদ্ধবিরতি ভেঙে রাশিয়ার হামলা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত ‘জ্বালানি যুদ্ধবিরতি’ লঙ্ঘন করে ইউক্রেনের বিদ্যুৎ ও গ্যাস অবকাঠামোয় হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে রাশিয়ার বিরুদ্ধে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রুশ বাহিনী দেশটির একাধিক জ্বালানি স্থাপনায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে চুক্তি কার্যকর করতে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন তিনি।

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোববার (১১ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প দাবি করেন, রাশিয়া ও ইউক্রেন পরস্পরের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধ রাখতে একটি বিশেষ ‘এনার্জি যুদ্ধবিরতি’তে সম্মত হয়েছে। তবে জেলেনস্কির অভিযোগ, ঘোষণার পরও রুশ হামলা অব্যাহত থাকায় এই সমঝোতার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

কিয়েভের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও খারকিভের গ্যাস স্থাপনায় হামলা

ওয়ারশ সিকিউরিটি ফোরামে দেওয়া বক্তব্যে জেলেনস্কি জানান, রাশিয়ার একটি ড্রোন ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে আঘাত হেনেছে। এ ছাড়া খারকিভ অঞ্চলে রাষ্ট্রীয় তেল ও গ্যাস কোম্পানি নাফটোগাজের একটি গ্যাস উৎপাদন স্থাপনাও হামলার শিকার হয়েছে। এতে স্থাপনাটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা ইউক্রেনের বিদ্যুৎ সরবরাহ, গ্যাস উৎপাদন এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে শীতের আগে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা দেশটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

জেলেনস্কির বক্তব্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পরও এসব স্থাপনায় হামলা চালানো হলে সমঝোতার বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বাড়বে।

রাশিয়া হামলা বন্ধ করলে পাল্টা আক্রমণ থামাবে ইউক্রেন

জেলেনস্কি জানিয়েছেন, রাশিয়া যদি ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধ রাখে, তাহলে কিয়েভও রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোতে পাল্টা হামলা বন্ধ রাখতে প্রস্তুত। এ বিষয়ে লিখিত নিশ্চয়তা দিতেও ইউক্রেন রাজি বলে জানান তিনি।

দুই পক্ষের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধ হলে যুদ্ধের একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রের উত্তেজনা কমতে পারে। তবে এ ধরনের সমঝোতা কার্যকর রাখতে উভয় পক্ষের সম্মতি, প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন এবং তা পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

ইউক্রেনের অবস্থান অনুযায়ী, শুধু যুদ্ধবিরতির ঘোষণা যথেষ্ট নয়; বাস্তবে হামলা বন্ধ হচ্ছে কি না, সেটিই হবে চুক্তির কার্যকারিতা নির্ধারণের প্রধান বিষয়।

চুক্তি কার্যকরে ওয়াশিংটনের সরাসরি ভূমিকা চান জেলেনস্কি

জেলেনস্কির মতে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন সরাসরি উদ্যোগ নিয়ে রাশিয়াকে যুদ্ধবিরতি মেনে চলতে বাধ্য করলেই এ সমঝোতা কার্যকর হতে পারে। তাঁর বক্তব্য, জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধের উদ্যোগ সফল হলে তা বৃহত্তর যুদ্ধ বন্ধের পথেও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হয়ে উঠতে পারে।

এদিকে ট্রাম্পের ঘোষিত সমঝোতা নিয়ে ইউক্রেন ও ইউরোপের মিত্রদের মধ্যে উদ্বেগের কথা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। জ্বালানির উচ্চমূল্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ চাপের প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প এ উদ্যোগ নিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। রাশিয়া থেকে ডিজেল কেনার বিষয়ে তাঁর ঘোষিত একটি চুক্তিও ইউক্রেনের অসন্তোষের কারণ হয়েছে।

সব মিলিয়ে, জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধের ঘোষণাকে বাস্তবে কার্যকর করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ। রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয় পক্ষ হামলা বন্ধ রাখে কি না এবং যুক্তরাষ্ট্র কী ভূমিকা নেয়, তার ওপর এই উদ্যোগের পরবর্তী অগ্রগতি নির্ভর করবে।

কালের আলো/এসএ

লিটনের সেঞ্চুরির পর ইনিংস ঘোষণা, আফগানিস্তানের লক্ষ্য ৪৭৯

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:০৭ অপরাহ্ণ
লিটনের সেঞ্চুরির পর ইনিংস ঘোষণা, আফগানিস্তানের লক্ষ্য ৪৭৯

অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছেন লিটন দাস। তাঁর দুর্দান্ত শতকের পরপরই ইনিংস ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ। আবুধাবি টেস্টের চতুর্থ দিনের দ্বিতীয় সেশনে দ্বিতীয় ইনিংসে ৭ উইকেটে ৩৭২ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। দুই ইনিংস মিলিয়ে ৪৭৮ রানের লিড নিয়ে আফগানিস্তানের সামনে জয়ের জন্য ৪৭৯ রানের লক্ষ্য দাঁড় করিয়েছে বাংলাদেশ।

দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের অন্যতম বড় আকর্ষণ ছিলেন লিটন দাস। তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগারে পৌঁছাতে ১১৭ বল খেলেন এই ডানহাতি ব্যাটার। তাঁর ১০২ রানের ইনিংসটি সাজানো ছিল ১৪টি চারে।

লিটনের সেঞ্চুরি পূর্ণ হওয়ার পরই ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ। দলের বড় লিড গড়ে তোলার পথে তাঁর এই ইনিংস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

লিটনের পাশাপাশি রান পেয়েছেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ও অভিজ্ঞ ব্যাটার মুশফিকুর রহিম। শান্ত ১৯১ বলে ৮২ রান করেন। অন্যদিকে মুশফিকের ব্যাট থেকে আসে ১৪৮ বলে ৮১ রান।

দুজনের দায়িত্বশীল ব্যাটিং বাংলাদেশের ইনিংসকে শক্ত ভিত দেয়। বড় লিড নেওয়ার লক্ষ্য পূরণে তাঁদের অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য।

দলের রান বাড়াতে কার্যকর ভূমিকা রাখেন অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজ। ইনিংস ঘোষণার সময় ৯৭ বলে ৫২ রানে অপরাজিত ছিলেন তিনি।

এ ছাড়া তানজিদ হাসান করেন ৩১ রান। সাদমান ইসলাম ১৩, মুমিনুল হক ৭ এবং হাসান মাহমুদ ১ রান করেন।

দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৭২ রান তুলে বাংলাদেশ ৪৭৮ রানের সামগ্রিক লিড নিশ্চিত করে। ফলে জয়ের জন্য আফগানিস্তানের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ৪৭৯ রান।

এর আগে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ ৩৪৬ রান সংগ্রহ করে। জবাবে আফগানিস্তানকে ২৪০ রানে অলআউট করে দেন বাংলাদেশের বোলাররা। এতে প্রথম ইনিংসে ১০৬ রানের লিড পায় শান্তর দল।

দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটারদের সম্মিলিত অবদানে সেই ব্যবধান আরও বাড়িয়ে নেয় বাংলাদেশ। লিটনের সেঞ্চুরি, শান্ত ও মুশফিকের বড় ইনিংস এবং মিরাজের অপরাজিত অর্ধশতকে ভর করে আফগানিস্তানের সামনে বড় লক্ষ্য ছুড়ে দিয়েছে দলটি।

এখন ম্যাচের শেষ ইনিংসে আফগানিস্তান কতটা প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে, সেটিই দেখার বিষয়। ৪৭৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে তাদের ব্যাটারদের সামনে অপেক্ষা করছে কঠিন পরীক্ষা।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি