খুঁজুন
                               
, ,
           

জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ চেয়ে রাজপথে বাম ছাত্রসংগঠন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৪৩ অপরাহ্ণ
জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ চেয়ে রাজপথে বাম ছাত্রসংগঠন

ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া বাতিল এবং পুরোনো ভোটার তালিকা অনুযায়ী নির্বাচন আয়োজনের দাবিতে কলকাতায় বিক্ষোভ করেছেন আটটি বাম ছাত্রসংগঠনের নেতা-কর্মীরা। তাঁদের অভিযোগ, এসআইআর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিপুলসংখ্যক ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। এসব দাবি পূরণ না হলে পশ্চিমবঙ্গজুড়ে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তাঁরা।

শিয়ালদহ থেকে মিছিল, পুলিশের বাধায় অবস্থান

রোববার (১১ অক্টোবর ২০২৬) কলকাতার শিয়ালদহ এলাকা থেকে মিছিল বের করেন বাম ছাত্রসংগঠনগুলোর নেতা-কর্মীরা। মিছিলটি এগিয়ে যাওয়ার পথে পুলিশ বাধা দিলে তাঁরা রানি রাসমণি অ্যাভিনিউয়ে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা এবং এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন আন্দোলনকারীরা।

বাদ পড়া ভোটারদের নাম পুনর্বহালের দাবি

বিক্ষোভকারীদের দাবি, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের কারণে যেসব ভোটারের নাম বাদ পড়েছে, তাঁদের নাম পুনরায় তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। জ্ঞানেশ কুমারকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদে রেখে নির্বাচন আয়োজনের বিরোধিতা করে তাঁরা বলেন, ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে পুরোনো ভোটার তালিকা অনুযায়ী নির্বাচন করতে হবে।

আন্দোলনকারীদের ভাষ্য, তাঁদের দাবিগুলো উপেক্ষা করা হলে পশ্চিমবঙ্গে আরও বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় সাধারণ ভোটারদের অধিকার ক্ষুণ্ন হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে তাঁরা উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

দিল্লিতে আটকের ঘটনারও প্রতিবাদ

দিল্লিতে এসআইআরবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেওয়া নেতা-কর্মীদের আটকের ঘটনারও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাম ছাত্রনেতারা। বিজেপি সরকারের সমালোচনা করে তাঁরা বলেন, গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার রক্ষায় তাঁদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

‘বন্দে মাতরম’ থিমে দুর্গাপূজার উদ্বোধন

এদিকে একই দিন সন্ধ্যায় কলকাতার সন্তোষ মিত্র স্কোয়ারের দুর্গাপূজার উদ্বোধন করেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এবারের পূজার থিম ‘বন্দে মাতরম’। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচিত এই গানের ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে সাজানো হয়েছে পূজামণ্ডপ।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শুভেন্দু অধিকারী দেশকে ‘আরশোলা-ছারপোকাদের’ উৎপাত থেকে বাঁচানোর কথা বলেন। পাশাপাশি দেশবিরোধী কর্মকাণ্ড বন্ধ করার আহ্বান জানান তিনি।

একদিকে এসআইআর ও ভোটার তালিকা নিয়ে বাম ছাত্রসংগঠনগুলোর প্রতিবাদ, অন্যদিকে দুর্গাপূজার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য—সব মিলিয়ে কলকাতার রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে দিনটি ছিল আলোচিত।

কালের আলো/এসএ

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্সে ভর্তির আবেদন করবেন যেভাবে

শিক্ষা ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:২৬ অপরাহ্ণ
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্সে ভর্তির আবেদন করবেন যেভাবে

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোতে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে মাস্টার্স (নিয়মিত) প্রোগ্রামে ভর্তির আবেদন শুরু হচ্ছে ১৪ অক্টোবর। ওই দিন বিকেল ৪টা থেকে অনলাইনে প্রাথমিক আবেদন করতে পারবেন আগ্রহী শিক্ষার্থীরা। আবেদন চলবে ১৫ নভেম্বর রাত ১২টা পর্যন্ত। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন সম্পন্ন করে সংশ্লিষ্ট কলেজে ফি জমা দিতে হবে।

আবেদন ও নিশ্চয়নের সময়সীমা

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আগ্রহী প্রার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তিবিষয়ক ওয়েবসাইটে গিয়ে অনলাইনে প্রাথমিক আবেদন ফরম পূরণ করতে হবে। আবেদন ফি জমা দেওয়ার শেষ সময় ১৬ নভেম্বর। আর কলেজ কর্তৃপক্ষকে ১৮ নভেম্বরের মধ্যে অনলাইনে আবেদন নিশ্চয়ন করতে হবে।

যাঁরা আবেদন করতে পারবেন

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ২০২০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত চার বছর মেয়াদি স্নাতক (সম্মান) পরীক্ষায় সনাতন পদ্ধতিতে ন্যূনতম ৪৫ শতাংশ নম্বর অথবা গ্রেডিং ও ক্রেডিট পদ্ধতিতে ন্যূনতম সিজিপিএ ২.২৫ পাওয়া শিক্ষার্থীরা এ ভর্তি কার্যক্রমে আবেদন করতে পারবেন। তবে চার বছর মেয়াদি স্নাতক (সম্মান) ডিগ্রির পরিবর্তে পাস ডিগ্রি অর্জনকারী শিক্ষার্থীরা এ প্রোগ্রামে আবেদন করতে পারবেন না।

এ ছাড়া ২০২০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে প্রিলিমিনারি টু মাস্টার্স (নিয়মিত) অথবা মাস্টার্স প্রথম পর্ব (নিয়মিত) পরীক্ষায় ন্যূনতম ৪৫ শতাংশ নম্বর বা জিপিএ ২.২৫ অর্জনকারী শিক্ষার্থীরাও আবেদন করতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে তাঁদের সংশ্লিষ্ট তিন বছর মেয়াদি স্নাতক (পাস) নিয়মিত পরীক্ষায় ন্যূনতম ৪৫ শতাংশ নম্বর বা সিজিপিএ ২.২৫ থাকতে হবে।

যাঁরা আবেদন করতে পারবেন না

প্রিলিমিনারি টু মাস্টার্স (প্রাইভেট) অথবা মাস্টার্স প্রথম পর্ব (প্রাইভেট) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা এ ভর্তি কার্যক্রমে আবেদন করতে পারবেন না। আবেদনকারীকে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আগে অধ্যয়ন করে উত্তীর্ণ হতে হবে।

এ ছাড়া জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্স (নিয়মিত বা প্রাইভেট) পরীক্ষায় ইতিমধ্যে উত্তীর্ণ অথবা অন্য কোনো প্রোগ্রামে বর্তমানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা এ ভর্তি কার্যক্রমে আবেদন করতে পারবেন না। কোনো শিক্ষার্থীর দ্বৈত ভর্তি ধরা পড়লে তাঁর উভয় ভর্তি ও রেজিস্ট্রেশন বাতিল বলে গণ্য হবে।

আবেদন ফি ১ হাজার টাকা

মাস্টার্স (নিয়মিত) প্রোগ্রামে প্রাথমিক আবেদনের ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার টাকা। এর মধ্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশ ৮৫০ টাকা এবং সংশ্লিষ্ট কলেজের অংশ ১৫০ টাকা। নির্ধারিত মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অথবা সরাসরি সংশ্লিষ্ট কলেজে এ ফি জমা দেওয়া যাবে।

ভর্তির যোগ্যতা, আবেদনপ্রক্রিয়া ও অন্যান্য শর্ত সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট এবং ভর্তির বিজ্ঞপ্তি দেখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

কালের আলো/এসএ

ইস্ট ওয়েস্টের শিক্ষার্থীদের বিনা মূল্যে এআই প্রশিক্ষণ দেবে হুয়াওয়ে

শিক্ষা ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:২০ অপরাহ্ণ
ইস্ট ওয়েস্টের শিক্ষার্থীদের বিনা মূল্যে এআই প্রশিক্ষণ দেবে হুয়াওয়ে
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবনী খাতের উপযোগী দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ দেবে চীনের প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ে। এ লক্ষ্যে সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করেছে প্রতিষ্ঠানটি। চুক্তির আওতায় বিশ্ববিদ্যালয়ে চালু করা হবে হুয়াওয়ে আইসিটি একাডেমি, যার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বিনা মূল্যে এআইবিষয়ক বিভিন্ন প্রশিক্ষণ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে হুয়াওয়ে বাংলাদেশ।

অনলাইনেই নেওয়া যাবে প্রশিক্ষণ

সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে হুয়াওয়ে আইসিটি একাডেমি চালুর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের এআইনির্ভর বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। শিক্ষার্থীরা হুয়াওয়ের অনলাইন এআই প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে নিজেদের সুবিধামতো সময়ে অনলাইনে প্রশিক্ষণ গ্রহণের সুযোগ থাকবে।

এ উদ্যোগের ফলে শিক্ষার্থীরা নিয়মিত পড়াশোনার পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও তথ্যপ্রযুক্তির বিভিন্ন বিষয়ে জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করতে পারবেন। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের অগ্রগতি তত্ত্বাবধান ও পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন।

বিশ্বমানের এআই শিক্ষা পাওয়ার সুযোগ

চুক্তি সই অনুষ্ঠানে ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য মোহাম্মদ আশিক মোসাদ্দিক বলেন, বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় আইসিটি সলিউশন ও ইকুইপমেন্ট সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে হুয়াওয়ে তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রে বিশ্বমানের সক্ষমতা নিয়ে কাজ করছে।

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে হুয়াওয়ে আইসিটি একাডেমি চালু হতে যাচ্ছে—এটি তাঁদের জন্য আনন্দের বিষয়। এই উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা এআই বিষয়ে সেরা প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে শেখার সুযোগ পাবেন।

দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে গুরুত্ব হুয়াওয়ের

হুয়াওয়ে দক্ষিণ এশিয়ার পাবলিক অ্যাফেয়ার্স বিভাগের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মা বেন বলেন, বাংলাদেশের উদ্ভাবনী অর্থনীতি দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। এ প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, শিল্প ও শিক্ষা খাতের মধ্যে কার্যকর সেতুবন্ধন তৈরির মাধ্যমে বাংলাদেশের তরুণদের ডিজিটাল ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করতে চায় হুয়াওয়ে।

সমঝোতা স্মারকে ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য মোহাম্মদ আশিক মোসাদ্দিক এবং হুয়াওয়ে দক্ষিণ এশিয়ার পাবলিক অ্যাফেয়ার্স বিভাগের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মা বেন সই করেন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য এ ধরনের প্রশিক্ষণের সুযোগ তৈরি হলে প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা অর্জন এবং ভবিষ্যতের উদ্ভাবনী খাতের চাহিদা পূরণে তা সহায়ক হতে পারে।

কালের আলো/এসএ

চা, স্মুদি, পিৎজা নাকি বিরিয়ানি—কোন খাবার হজম হয় দ্রুত, জানুন কারণ

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:১৩ অপরাহ্ণ
চা, স্মুদি, পিৎজা নাকি বিরিয়ানি—কোন খাবার হজম হয় দ্রুত, জানুন কারণ

চা খাওয়ার কিছুক্ষণ পরই ক্ষুধা লাগছে, অথচ পিৎজা কিংবা বিরিয়ানি খাওয়ার পর দীর্ঘ সময় পেট ভার হয়ে থাকছে—এমন অভিজ্ঞতা অনেকেরই রয়েছে। খাবারের ধরন, উপাদান, পরিমাণ এবং শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রমের ওপর নির্ভর করে হজমের প্রক্রিয়ায় এই পার্থক্য দেখা দেয়। বিশেষ করে খাবারে চর্বি, প্রোটিন, ফাইবার ও তরলের পরিমাণ পাকস্থলী থেকে খাবার বের হওয়ার গতিকে প্রভাবিত করতে পারে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর ২০২৬) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে খাবারের ধরন অনুযায়ী হজমের সময়ের পার্থক্য তুলে ধরা হয়েছে। তবে কোনো খাবার ঠিক কত মিনিটে হজম হবে, তা সবার ক্ষেত্রে এক নয়। খাবার পাকস্থলী থেকে বের হওয়া, ক্ষুদ্রান্ত্রে পুষ্টি শোষণ এবং পুরো হজমপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া—এগুলো আলাদা বিষয়।

চা হজম হতে কত সময় লাগে?

দুধ ছাড়া চা মূলত তরল হওয়ায় সাধারণত পাকস্থলী থেকে তুলনামূলক দ্রুত বেরিয়ে যেতে পারে। তবে চায়ে দুধ, চিনি বা ক্রিম যোগ করলে এর পুষ্টিমান ও উপাদান বদলে যায়। চায়ের সঙ্গে বিস্কুট, কেক কিংবা অন্য খাবার খেলে পাকস্থলী খালি হওয়ার সময়েও পরিবর্তন আসতে পারে।

চা ২০ থেকে ৪০ মিনিটে পুরোপুরি হজম হয়ে যায়—এমন নির্দিষ্ট সময় সবার জন্য প্রযোজ্য নয়। বরং চায়ের পরিমাণ, সঙ্গে খাওয়া খাবার এবং ব্যক্তির শারীরিক অবস্থার ওপর হজমের গতি নির্ভর করে।

স্মুদি হজমে উপাদানের ভূমিকা

ফল, দুধ, দই কিংবা অন্যান্য উপকরণ দিয়ে তৈরি স্মুদির হজমের সময় নির্ভর করে এর উপাদানের ওপর। শুধু ফল দিয়ে তৈরি স্মুদি এবং দুধ, দই, বাদাম বা অন্য উপাদানসমৃদ্ধ ঘন স্মুদির মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।

ফল থেকে পাওয়া ফাইবার অন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমে সহায়তা করে। তবে স্মুদি তরল বলে সব সময় দ্রুত হজম হবে, এমন নয়। এর ঘনত্ব, ক্যালরি, চর্বি ও ফাইবারের পরিমাণও গুরুত্বপূর্ণ।

পিৎজা খেলে পেট ভার লাগে কেন?

পিৎজার বেস সাধারণত ময়দা দিয়ে তৈরি হয়। এর সঙ্গে চিজ, তেল, মাংস এবং বিভিন্ন ধরনের সস যোগ করা হয়। এসব উপাদানের কারণে পিৎজায় চর্বি ও ক্যালরির পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে।

বিশেষ করে চর্বি পাকস্থলী খালি হওয়ার গতি ধীর করতে পারে। ফলে বেশি চিজ বা মাংস দেওয়া পিৎজা খাওয়ার পর দীর্ঘ সময় পেট ভরা লাগতে পারে। বেশি পরিমাণে খেলে পেট ফাঁপা কিংবা অস্বস্তিও হতে পারে।

তবে পিৎজার উপাদান ও পরিবেশনের পরিমাণ অনুযায়ী হজমের অভিজ্ঞতা ভিন্ন হতে পারে। তাই সব ধরনের পিৎজার জন্য নির্দিষ্ট কোনো হজমের সময় বলা যায় না।

বিরিয়ানি হজম হতে বেশি সময় লাগে কেন?

বিরিয়ানিতে চালের পাশাপাশি তেল, ঘি, মাংস ও বিভিন্ন মসলা ব্যবহার করা হয়। বিশেষ করে তেল-ঘি এবং মাংসের চর্বির পরিমাণ বেশি হলে পাকস্থলী থেকে খাবার বের হতে তুলনামূলক বেশি সময় লাগতে পারে।

এ ছাড়া একসঙ্গে বেশি পরিমাণে বিরিয়ানি খেলে পেট ভার লাগা, অস্বস্তি কিংবা বুকজ্বালার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে বিরিয়ানির উপকরণ, রান্নার ধরন, পরিবেশনের পরিমাণ এবং ব্যক্তির হজমক্ষমতার ওপর এ অভিজ্ঞতা নির্ভর করে।

ফলের জুস কি দ্রুত হজম হয়?

ফলের জুস তরল হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে পাকস্থলী থেকে দ্রুত বেরিয়ে যেতে পারে। তবে গোটা ফলের সঙ্গে জুসের গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য হলো ফাইবারের পরিমাণ। ফল ছেঁকে জুস তৈরি করলে এর ফাইবার কমে যেতে পারে। অন্যদিকে গোটা ফলে থাকা ফাইবার দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে সহায়তা করে।

জুসে অতিরিক্ত চিনি যোগ করা হলে এর পুষ্টিমানও বদলে যায়। তাই ফলের জুস ২০ থেকে ৪০ মিনিটেই পুরোপুরি হজম হয়ে যায়—এমন দাবি সবার ক্ষেত্রে সঠিক নয়।

হজম ভালো রাখতে কী করবেন?

হজমের জন্য শুধু খাবারের ধরন নয়, দৈনন্দিন অভ্যাসও গুরুত্বপূর্ণ। কয়েকটি বিষয় মেনে চললে হজমের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় সহায়তা পাওয়া যেতে পারে— একবারে অতিরিক্ত খাবার না খেয়ে পরিমিত পরিমাণে খান, খাবারে শাকসবজি, ফল ও অন্যান্য ফাইবারসমৃদ্ধ উপাদান রাখুন, পর্যাপ্ত পানি পান করুন, ধীরে ধীরে খাবার চিবিয়ে খান, অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়ার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করুন, নিয়মিত শারীরিক চলাফেরা বজায় রাখুন।

খাবার খাওয়ার পর মাঝেমধ্যে পেট ভার লাগা স্বাভাবিক হতে পারে। তবে নিয়মিত পেট ফাঁপা, তীব্র পেটব্যথা, বমি, গিলতে অসুবিধা কিংবা অকারণে ওজন কমে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

কালের আলো/এসএ