খুঁজুন
                               
, ,
           

ইসরায়েলের নির্দেশনায় ৩১ দেশের নাগরিকদের ওপর বিধিনিষেধ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ২:২৯ অপরাহ্ণ
ইসরায়েলের নির্দেশনায় ৩১ দেশের নাগরিকদের ওপর বিধিনিষেধ

ইসরায়েলের নতুন নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে বাংলাদেশসহ ৩১টি দেশের নাগরিক ও দ্বৈত নাগরিকত্বধারী পাইলট এবং কেবিন ক্রুদের ইসরায়েলগামী ফ্লাইটে দায়িত্ব দেওয়া বন্ধ করেছে ফরাসি বিমান সংস্থা এয়ার ফ্রান্স। যেসব দেশের সঙ্গে ইসরায়েলের আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই, সেসব দেশের নাগরিকত্বের ভিত্তিতে এই বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। এমনকি ফরাসি নাগরিকত্ব থাকা কর্মীদেরও অন্য নাগরিকত্ব নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকলে দায়িত্ব থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে।

এ সিদ্ধান্তকে ঘিরে বৈষম্যের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে ফ্রান্সে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বিমান সংস্থাটি।

ফরাসি অনুসন্ধানী সংবাদমাধ্যম মিডিয়াপার্টের প্রতিবেদনের বরাতে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই শনিবার (১০ অক্টোবর) এ তথ্য জানায়।

মিডিয়াপার্টের হাতে আসা এয়ার ফ্রান্সের একটি অভ্যন্তরীণ বার্তা অনুযায়ী, ইসরায়েলের পরিবহন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটির আকাশসীমায় প্রবেশকারী ফ্লাইটের কোনো ক্রুর এমন দেশের নাগরিকত্ব বা দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা চলবে না, যে দেশের সঙ্গে ইসরায়েলের আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই।

এই নির্দেশনার ভিত্তিতে এয়ার ফ্রান্স ইসরায়েলগামী ফ্লাইটে দায়িত্ব বণ্টনের ক্ষেত্রে নতুন বিধিনিষেধ কার্যকর করেছে। এর ফলে বাংলাদেশ ছাড়াও আলজেরিয়া, তিউনিসিয়া, ইরান ও পাকিস্তানের মতো দেশের নাগরিকেরা এ সিদ্ধান্তের আওতায় পড়েছেন। সব মিলিয়ে তালিকায় রয়েছে ৩১টি দেশের নাগরিকত্ব।

নির্দেশনায় কোনো ধর্মের নাম সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি। তবে তালিকাভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ থাকায় সিদ্ধান্তটি নিয়ে বিশেষ বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সমালোচকদের দৃষ্টিতে, নিরাপত্তার যুক্তিতে নেওয়া এই ব্যবস্থা কার্যত জাতীয়তার ভিত্তিতে কর্মীদের আলাদা করছে।

এই বিধিনিষেধের সবচেয়ে বিতর্কিত দিক হলো, সংশ্লিষ্ট কর্মীদের ফরাসি নাগরিকত্ব থাকলেও তাঁরা ছাড় পাচ্ছেন না। কারও দ্বিতীয় নাগরিকত্ব নিষেধাজ্ঞার তালিকাভুক্ত কোনো দেশের হলে তাঁকেও ইসরায়েলগামী ফ্লাইটে দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে না বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মিডিয়াপার্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা কর্মীদের দ্রুত তাঁদের নাগরিকত্বের তথ্য জানাতে বলেছে এয়ার ফ্রান্স। নির্দেশনা না মানলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মুখে পড়তে পারেন বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

এ সিদ্ধান্তের ফলে কর্মক্ষেত্রে জাতীয়তার ভিত্তিতে বৈষম্য করা হচ্ছে কি না, সেই প্রশ্ন সামনে এসেছে। বিশেষ করে ফ্রান্সের নাগরিকত্ব থাকা সত্ত্বেও একজন কর্মীকে তাঁর অন্য নাগরিকত্বের কারণে দায়িত্ব থেকে বাদ দেওয়ার বিষয়টি আইনি বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।

তবে এ বিষয়ে এয়ার ফ্রান্স এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেনি বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম এন১২-এর তথ্য অনুযায়ী, গত ১ অক্টোবর দেশটির পরিবহন মন্ত্রণালয় নতুন নির্দেশনাটি জারি করে। ইসরায়েলের দাবি, বিমান চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার স্বার্থেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

নির্দেশনাটি কার্যকর হওয়ার পর ইসরায়েলগামী ফ্লাইটে ক্রু নির্বাচনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশের নাগরিকত্ব গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য হয়ে উঠেছে। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক রুটে দায়িত্ব পালন করে আসা কিছু পাইলট ও কেবিন ক্রুর দায়িত্ব পালনের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়েছে।

নতুন বিধিনিষেধের পেছনে একটি নিরাপত্তাসংক্রান্ত ঘটনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি ফ্লাইটে ওমানি সহ-পাইলটের বিরুদ্ধে উড়োজাহাজের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার এবং সেটিকে ইসরায়েলের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরের টার্মিনালে বিধ্বস্ত করার চেষ্টা করার অভিযোগ ওঠে।

ওই অভিযোগের পর বিমান চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ে। এর পরপরই ইসরায়েলের পরিবহন মন্ত্রণালয় নতুন নির্দেশনা জারি করে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে ফ্লাইদুবাইয়ের ফ্লাইটে ওঠা অভিযোগ এবং ৩১ দেশের নাগরিকদের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধের মধ্যে সম্পর্কের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। নিরাপত্তাজনিত আশঙ্কা থাকলেও নাগরিকত্বের ভিত্তিতে এত বড় পরিসরে কর্মীদের বাদ দেওয়ার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১৩ জানিয়েছে, দেশটির অন্তত একটি বিমান সংস্থা প্রায় ২ হাজার ৫০০ পাইলট ও কেবিন ক্রুর অতীত ইতিহাস যাচাই শুরু করেছে।

এ উদ্যোগও বিমান চলাচলের নিরাপত্তা জোরদারের অংশ হিসেবে নেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে যাচাইয়ের আওতায় থাকা কর্মীদের পরিচয়, যাচাইয়ের নির্দিষ্ট পদ্ধতি এবং এর ভিত্তিতে কী ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

বিমান চলাচলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে নিরাপত্তার নামে কোনো কর্মীকে তাঁর নাগরিকত্বের ভিত্তিতে দায়িত্ব থেকে বাদ দেওয়া হলে সেই ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা, আনুপাতিকতা ও আইনগত ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।

এয়ার ফ্রান্সের ক্ষেত্রে বিতর্ক আরও জটিল হয়েছে, কারণ বিধিনিষেধের আওতায় পড়ছেন ফরাসি নাগরিকত্ব থাকা কর্মীরাও। তাঁদের অন্য নাগরিকত্বের কারণে দায়িত্ব পালনের সুযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সমান কর্মসংস্থানের অধিকার ও বৈষম্যবিরোধী আইনের প্রশ্ন সামনে এসেছে।

মিডিয়াপার্টের প্রতিবেদনে এ সিদ্ধান্তের কারণে ফরাসি বিমান সংস্থাটি আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো মামলার চূড়ান্ত ফলাফল বা আদালতের সিদ্ধান্তের তথ্য পাওয়া যায়নি।

সব মিলিয়ে, ইসরায়েলের নিরাপত্তা নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে গিয়ে এয়ার ফ্রান্সের এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে নিরাপত্তা, নাগরিকত্ব এবং কর্মীদের সমান অধিকারের প্রশ্নকে নতুন করে সামনে এনেছে।

তথ্যসূত্র: মিডিয়াপার্ট, মিডল ইস্ট আই ও আনাদোলু এজেন্সি।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি

বদলাচ্ছে পারিবারিক বাজেট, ছোট হচ্ছে সঞ্চয়ের সুযোগ

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৪৭ অপরাহ্ণ
বদলাচ্ছে পারিবারিক বাজেট, ছোট হচ্ছে সঞ্চয়ের সুযোগ

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামের সঙ্গে তাল মেলাতে সংসারের বাজেট নতুন করে সাজাতে হচ্ছে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোকে। চাল, ডাল, তেল, সবজি ও মাছ-মাংসের মতো প্রয়োজনীয় পণ্যে আয়ের বড় অংশ ব্যয় হওয়ায় শিক্ষা, চিকিৎসা, যাতায়াত ও সঞ্চয়ের মতো অন্যান্য খাতে খরচের পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনতে হচ্ছে অনেককে। মূল্যস্ফীতির ওঠানামার মধ্যেও বাজারে পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখার প্রত্যাশা বাড়ছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, মূল্যস্ফীতির প্রভাব শুধু বাজারের কেনাকাটায় সীমাবদ্ধ নয়; এটি পরিবারের সামগ্রিক ব্যয় পরিকল্পনা ও জীবনযাত্রার ওপরও প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে যেসব পরিবারের আয়ের বড় অংশ খাদ্যপণ্যে ব্যয় হয়, তাদের ক্ষেত্রে নিত্যপণ্যের দামের পরিবর্তনও মাসিক বাজেটে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে।

  • মজুরি বৃদ্ধির চেয়ে মূল্যস্ফীতি বেশি
  • আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের সমন্বয়ে সতর্ক নিম্ন ও মধ্যবিত্তরা
  • মাসিক বাজেটে গুরুত্ব পাচ্ছে প্রয়োজনীয় খাত

ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত এক চাকরিজীবী জানান, কয়েক মাস আগেও মাসের বাজার করতে আট থেকে ১০ হাজার টাকা খরচ হতো। এখন একই ধরনের কেনাকাটায় ব্যয় হচ্ছে ১৩ থেকে ১৪ হাজার টাকা। অথচ গত দুই বছরে বেতন বাড়েনি। এর সঙ্গে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে যাতায়াত ব্যয়ও বেড়েছে। ফলে সংসারের প্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে প্রতি মাসেই নতুন করে হিসাব করতে হচ্ছে।

শহরের পাশাপাশি গ্রামেও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ব্যয় নিয়ে ভাবতে হচ্ছে পরিবারগুলোকে। আয় ও ব্যয়ের মধ্যে সামঞ্জস্য রাখতে অনেকেই কেনাকাটার অগ্রাধিকার নির্ধারণ করছেন। একই সঙ্গে দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয়ের সুযোগ ধরে রাখাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

মূল্যস্ফীতির হারে ওঠানামা
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, গত জুনে দেশে সাধারণ মূল্যস্ফীতি ছিল ৯.১৬ শতাংশ। জুলাইয়ে তা কমে ৮.৩২ শতাংশ এবং আগস্টে ৮.২৬ শতাংশে দাঁড়ায়। সেপ্টেম্বরে আবার সামান্য বেড়ে হয় ৮.৩৪ শতাংশ। অর্থাৎ, আগের দুই মাসে মূল্যস্ফীতির হার কমার পর সেপ্টেম্বরে তাতে কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে।

খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রেও একই ধরনের পরিবর্তন লক্ষ করা গেছে। বিবিএসের তথ্যমতে, আগস্টে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ৭.০২ শতাংশ, সেপ্টেম্বরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৭.২২ শতাংশে। অন্যদিকে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি আগস্টের ৯.৩২ শতাংশ থেকে কমে সেপ্টেম্বরে ৯.৩০ শতাংশ হয়েছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মূল্যস্ফীতির হার কমার অর্থ বাজারে পণ্যের দাম আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়া নয়। বরং দাম বাড়ার গতি কমলেও পণ্যের মূল্য আগের তুলনায় বেশি থাকতে পারে। ফলে মূল্যস্ফীতি কমার পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় থাকাও সাধারণ মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

মজুরি বৃদ্ধির সঙ্গে ব্যয়ের সমন্বয়
বিবিএসের তথ্যানুযায়ী, সেপ্টেম্বরে সাধারণ মজুরি সূচকের বার্ষিক বৃদ্ধির হার ছিল ৭.৯০ শতাংশ। আগের মাসে তা ছিল ৮.০৫ শতাংশ এবং জুলাইয়ে ৮.২২ শতাংশ। একই সময়ে সেপ্টেম্বরে সাধারণ মূল্যস্ফীতি ছিল ৮.৩৪ শতাংশ। অর্থাৎ, মজুরি বৃদ্ধির হার মূল্যস্ফীতির চেয়ে ০.৪৪ শতাংশীয় পয়েন্ট কম ছিল।

এই ব্যবধান পরিবারের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। আয় যে হারে বাড়ছে, তার তুলনায় পণ্য ও সেবার ব্যয় বেশি বাড়লে একই আয় দিয়ে আগের মতো কেনাকাটা করা কঠিন হয়ে পড়ে। এ পরিস্থিতিতে পরিবারগুলোকে প্রয়োজনীয় খাতগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে ব্যয় পরিকল্পনা করতে হচ্ছে। জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয়ও পণ্যের দামের সঙ্গে সম্পর্কিত। পরিবহন ব্যয় বাড়লে কৃষিপণ্যসহ বিভিন্ন পণ্য বাজারে পৌঁছানোর খরচ বাড়তে পারে। পাশাপাশি উৎপাদন, সংরক্ষণ ও সরবরাহব্যবস্থার ব্যয় এবং আমদানি পণ্যের ক্ষেত্রে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময়হার ও বন্দর ব্যয়ও বাজারদরে প্রভাব ফেলতে পারে।

সঞ্চয় ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ
মূল্যস্ফীতির প্রভাবে পরিবারের নিয়মিত ব্যয়ের পাশাপাশি জরুরি চিকিৎসা, সন্তানের শিক্ষা এবং ভবিষ্যতের আর্থিক নিরাপত্তার জন্য সঞ্চয় ধরে রাখাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে সীমিত আয়ের পরিবারগুলোর ক্ষেত্রে মাসিক খরচ বাড়লে সঞ্চয়ের সুযোগ সংকুচিত হতে পারে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, দীর্ঘ সময় ধরে মূল্যস্ফীতি মজুরি বৃদ্ধির হারকে ছাড়িয়ে গেলে মানুষের প্রকৃত আয় ও ক্রয়ক্ষমতা চাপে পড়তে পারে। তাই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা, বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং আয়-ব্যয়ের ভারসাম্য রক্ষার সুযোগ বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ।

সামগ্রিকভাবে, মূল্যস্ফীতির বর্তমান পরিস্থিতিতে পরিবারের বাজেট ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি বাজারে পণ্যের নিয়মিত সরবরাহ ও মূল্যস্থিতির বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। এসব ক্ষেত্রে ইতিবাচক অগ্রগতি হলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ব্যয় পরিকল্পনা সহজ হবে এবং শিক্ষা, চিকিৎসা ও সঞ্চয়ের মতো প্রয়োজনীয় খাতে অর্থ বরাদ্দের সুযোগ বাড়তে পারে।

কালের আলো/এমএসএএকে/এমকে

ভূমিকম্পে ঢাকা ধ্বংসের শঙ্কা, বাস্তবসম্মত নগর পরিকল্পনার তাগিদ রাষ্ট্রপতির

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৪৪ অপরাহ্ণ
ভূমিকম্পে ঢাকা ধ্বংসের শঙ্কা, বাস্তবসম্মত নগর পরিকল্পনার তাগিদ রাষ্ট্রপতির

প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে আগাম প্রস্তুতি গ্রহণ এবং বাস্তবসম্মত নগর পরিকল্পনা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকার অপরিকল্পিত নগরায়ণ, ভবন নির্মাণ এবং নদী ব্যবস্থাপনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেছেন, ভূমিকম্পের মতো বড় দুর্যোগে ঢাকা শহরে ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটতে পারে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস উপলক্ষে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

ভূমিকম্পে ঢাকার ভয়াবহ ক্ষতির আশঙ্কা

রাষ্ট্রপতি বলেন, দুর্যোগ বলতে শুধু প্রাকৃতিক দুর্যোগকেই বোঝায় না; মানবসৃষ্ট দুর্যোগও রয়েছে। তবে মানবসৃষ্ট দুর্যোগের ঝুঁকি নিয়ে তুলনামূলকভাবে কম আলোচনা হয়। অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও দুর্বল নগর ব্যবস্থাপনা বড় ধরনের বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে।

রাজধানী ঢাকার পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, ভূমিকম্প হলে শহরটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে—এমন আশঙ্কা রয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন শহরে পরিকল্পিত নগরব্যবস্থার অভাবে দুর্যোগের সময় প্রাণহানি বেশি হওয়ার উদাহরণও রয়েছে।

তাই দুর্যোগের ঝুঁকি কমাতে নগর পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনার বিষয়গুলোকে আরও গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ভবন নির্মাণে নগর ব্যবস্থাপনায় জোর

রাষ্ট্রপতি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিশেষ করে বাড়িঘর ও ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে নগর ব্যবস্থাপনার নিয়মকানুন যথাযথভাবে অনুসরণের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।

পরিকল্পিত নগরায়ণ নিশ্চিত করা গেলে দুর্যোগের ঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি মানুষের জীবন ও সম্পদের সুরক্ষা বাড়ানো সম্ভব। এ জন্য ভবন নির্মাণ, নগর অবকাঠামো উন্নয়ন এবং সামগ্রিক ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন তিনি।

নদীর প্রবাহ ও দূষণ নিয়ন্ত্রণের আহ্বান

নগর পরিকল্পনার পাশাপাশি নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখা এবং নদীদূষণ রোধের ওপরও গুরুত্ব দেন রাষ্ট্রপতি। তাঁর মতে, নদী ব্যবস্থাপনায় অবহেলা এবং পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার মতো বিষয়গুলো দুর্যোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

এ কারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নদীর প্রবাহ ঠিক রাখা, দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং পরিবেশবান্ধব নগর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

দুর্যোগ প্রশমনে সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজন

আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে আগাম প্রস্তুতি, পরিকল্পিত নগরায়ণ এবং ঝুঁকি মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মুন্সী রফিকুল আলম।

দুর্যোগের ক্ষতি কমাতে রাষ্ট্রপতির বক্তব্যে মূলত তিনটি বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে—আগাম প্রস্তুতি, বাস্তবসম্মত নগর পরিকল্পনা এবং নদী ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন। বিশেষ করে ভূমিকম্পের মতো বড় দুর্যোগের ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে রাজধানীসহ দেশের নগর এলাকাগুলোকে আরও নিরাপদ করে গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি

নিউইয়র্কে ড. ইউনূসকে হেনস্তার অভিযোগ, জামায়াতের তীব্র প্রতিবাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৩৫ অপরাহ্ণ
নিউইয়র্কে ড. ইউনূসকে হেনস্তার অভিযোগ, জামায়াতের তীব্র প্রতিবাদ

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তার অভিযোগে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির নায়েবে আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে এ প্রতিবাদ জানান।

বিবৃতিতে তিনি অভিযোগ করেন, নিউইয়র্কের জেএফকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা কদর্য ও অশালীন ভাষা ব্যবহার করে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তা করেছেন। এ ধরনের আচরণকে অগ্রহণযোগ্য ও নিন্দনীয় উল্লেখ করে ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানান তিনি।

বিবৃতিতে ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের বলেন, বিশ্বজুড়ে সম্মানিত একজন নোবেলজয়ীকে হেনস্তা করার মাধ্যমে বাংলাদেশের নাগরিকদের পাশাপাশি রাষ্ট্রের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন করা হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

তিনি বলেন, দেশের মান-মর্যাদা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সমুন্নত রাখতে বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের সম্মানিত ব্যক্তিদের সঙ্গে এ ধরনের আচরণ করা উচিত নয়। মতপার্থক্য থাকলেও দেশের পরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিদের প্রতি শালীনতা বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি।

জামায়াতের এই নেতা বলেন, বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ন রাখা সবার দায়িত্ব। দেশের প্রতিনিধিত্বকারী বা আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত ব্যক্তিদের সঙ্গে আচরণের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীলতা ও সংযম দেখানো প্রয়োজন।

বিবৃতিতে ডা. তাহের আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বিদেশের মাটিতে দেশ ও জনগণের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র অব্যাহত রাখার অভিযোগ করেন। তাঁর দাবি, বিদেশে অবস্থানরত প্রবাসী এবং সফররত বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার মতো কর্মকাণ্ড থেকে সংশ্লিষ্টদের বিরত থাকা উচিত।

তিনি বলেন, দেশের শান্তিপ্রিয় মানুষ ও প্রবাসী বাংলাদেশিরা সব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে দেশের কল্যাণে কাজ করে যাবেন, ইনশাআল্লাহ।

তবে বিমানবন্দরের ঘটনাটি সম্পর্কে বিবৃতিতে জামায়াতের নেতার বক্তব্য ও অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে। ঘটনার অন্য পক্ষের বক্তব্য বা স্বাধীনভাবে যাচাই করা বিস্তারিত তথ্য এতে উল্লেখ করা হয়নি।

বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে বাংলাদেশের দূতাবাস ও হাইকমিশনগুলোর কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীল ও সাহসী পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ডা. তাহের।

তিনি মনে করেন, বিদেশে বাংলাদেশের নাগরিকদের নিরাপত্তা এবং দেশের সম্মান রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক মিশনগুলোর কার্যকর ভূমিকা থাকা প্রয়োজন।

নিউইয়র্কের জেএফকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তার অভিযোগ ঘিরে জামায়াতের এই বিবৃতি রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। দলটি ঘটনার নিন্দা জানানোর পাশাপাশি বিদেশে বাংলাদেশের নাগরিকদের নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের মর্যাদা রক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি