খুঁজুন
                               
, ,
           

রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইইউর বড় পদক্ষেপ, নিষেধাজ্ঞার তালিকায় ১,৬০০ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১:১৩ অপরাহ্ণ
রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইইউর বড় পদক্ষেপ, নিষেধাজ্ঞার তালিকায় ১,৬০০ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান
ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার যুদ্ধের কারণে মস্কোর ওপর চাপ আরও জোরদার করতে নিষেধাজ্ঞার তালিকা সম্প্রসারণ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। নতুন পদক্ষেপে প্রায় ১ হাজার ৬০০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে। রাশিয়ার সামরিক উৎপাদন ও যুদ্ধসংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে যুক্ত ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানগুলোকে লক্ষ্য করেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১২ অক্টোবর, সোমবার এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়। ব্রাসেলস থেকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান বন্ধে মস্কোর ওপর অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপ বজায় রাখার বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে নিষেধাজ্ঞার পরিধি বাড়িয়েছে ইইউ।

নিষেধাজ্ঞার তালিকায় সবচেয়ে বড় সম্প্রসারণের দাবি

ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান কাজা কালাস নতুন এ পদক্ষেপকে রাশিয়ার যুদ্ধ শুরুর পর নিষেধাজ্ঞার তালিকায় সবচেয়ে বড় সম্প্রসারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউরোপীয় দেশগুলোর সম্মিলিত অবস্থান আবারও তুলে ধরা হয়েছে।

কালাস বলেন, ‘রাশিয়া যুদ্ধ শুরু করার পর থেকে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় এটিই সবচেয়ে বড় সম্প্রসারণ। ইউরোপ আবারও ঐক্যবদ্ধ অবস্থান দেখাচ্ছে।’

ইইউর এ পদক্ষেপের লক্ষ্য শুধু নিষেধাজ্ঞার তালিকায় নতুন নাম যুক্ত করা নয়; বরং রাশিয়ার যুদ্ধ পরিচালনার সক্ষমতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর চাপ বাড়ানো। এর মাধ্যমে সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদন, যুদ্ধসংশ্লিষ্ট সরবরাহব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমকে সীমিত করার প্রচেষ্টা জোরদার করতে চায় জোটটি।

তালিকাভুক্তদের অর্ধেকের বেশি ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত

কাজা কালাস জানিয়েছেন, নতুন করে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর অর্ধেকেরও বেশি রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনপ্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত। ফলে এবারের পদক্ষেপে রাশিয়ার সামরিক শিল্প ও অস্ত্র উৎপাদন খাত বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এসব ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের মাধ্যমে সামরিক উৎপাদনপ্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করার লক্ষ্য রয়েছে।

তবে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসা সব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের পরিচয়, তাদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট অভিযোগ এবং নিষেধাজ্ঞার পৃথক শর্ত সম্পর্কে প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।

ইউক্রেন যুদ্ধ ঘিরে চাপ অব্যাহত রাখছে ইইউ

ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে মস্কোর বিরুদ্ধে বিভিন্ন পর্যায়ে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে আসছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। এসব পদক্ষেপের আওতায় রাশিয়ার বিভিন্ন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও যুদ্ধসংশ্লিষ্ট কার্যক্রমকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

নতুন করে প্রায় ১ হাজার ৬০০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে তালিকাভুক্ত করার সিদ্ধান্ত সেই ধারাবাহিকতারই অংশ। ইইউর অবস্থান অনুযায়ী, রাশিয়ার যুদ্ধ পরিচালনার সক্ষমতার সঙ্গে যুক্ত নেটওয়ার্কের ওপর চাপ বজায় রাখা এবং সামরিক উৎপাদন সীমিত করার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

বিশ্লেষণগতভাবে, নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতা নির্ভর করবে তালিকাভুক্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম কতটা সীমিত হয়, নিষেধাজ্ঞা কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয় এবং বিকল্প সরবরাহব্যবস্থা গড়ে তোলার সুযোগ রাশিয়ার কতটা থাকে—এসব বিষয়ের ওপর।

সব মিলিয়ে, নতুন এ পদক্ষেপের মাধ্যমে রাশিয়ার বিরুদ্ধে চাপ বজায় রাখার বার্তা দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। বিশেষ করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্যবস্তু করায় রাশিয়ার সামরিক শিল্পের ওপর নিষেধাজ্ঞার প্রভাব নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হতে পারে।

সূত্র: এএফপি

কালের আলো/এসএ

 

সরকারের মেয়াদেই আগারগাঁওয়ে যাচ্ছে সচিবালয়: গণপূর্তমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:১০ অপরাহ্ণ
সরকারের মেয়াদেই আগারগাঁওয়ে যাচ্ছে সচিবালয়: গণপূর্তমন্ত্রী

বর্তমান সরকারের মেয়াদেই রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পুরোনো বাণিজ্যমেলার মাঠে বাংলাদেশ সচিবালয় স্থানান্তর করা হবে বলে জানিয়েছেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সচিবালয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে নির্বাহী প্রকৌশলীদের লটারির মাধ্যমে বদলি ও পদায়ন নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।

আগারগাঁওয়ে স্থানান্তরের পরিকল্পনা

গণপূর্তমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, বর্তমান সরকারের মেয়াদকালেই সচিবালয় আগারগাঁওয়ের পুরোনো বাণিজ্যমেলার মাঠে স্থানান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে। রাজধানীর প্রশাসনিক অবকাঠামো স্থানান্তরের এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সরকারি দপ্তরগুলোর অবস্থান ও কার্যক্রম পরিচালনায় পরিবর্তন আসবে।

তবে সচিবালয় স্থানান্তরের নির্দিষ্ট সময়সূচি, নির্মাণকাজের অগ্রগতি, প্রকল্পের ব্যয় কিংবা স্থানান্তর প্রক্রিয়ার বিস্তারিত বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে আর কোনো তথ্য জানানো হয়েছে কি না, তা প্রাপ্ত তথ্যে উল্লেখ নেই।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন যারা

গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রীর সঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর, সচিব মো. ওবায়দুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

সংবাদ সম্মেলনের মূল বিষয় ছিল নির্বাহী প্রকৌশলীদের লটারির মাধ্যমে বদলি ও পদায়ন। এ সময় সচিবালয় স্থানান্তরের পরিকল্পনার কথাও জানান মন্ত্রী।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

টেস্ট ইতিহাসে প্রথম লিটন, ব্যাটিংয়ের সঙ্গে উইকেটকিপিংয়েও বিশ্বরেকর্ড

ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:০৮ অপরাহ্ণ
টেস্ট ইতিহাসে প্রথম লিটন, ব্যাটিংয়ের সঙ্গে উইকেটকিপিংয়েও বিশ্বরেকর্ড

টেস্ট ক্রিকেটে নতুন ইতিহাস গড়লেন বাংলাদেশের উইকেটরক্ষক ব্যাটার লিটন কুমার দাস। ব্যাট হাতে দুই ইনিংসেই পঞ্চাশোর্ধ রান করার পাশাপাশি উইকেটের পেছনে ৯টি ডিসমিসাল করে বিরল এক কীর্তি গড়েছেন তিনি। টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে এক ম্যাচে দুই ইনিংসে অন্তত একটি করে অর্ধশতক এবং ৯টি ডিসমিসালের নজির আগে ছিল না।

আফগানিস্তানের বিপক্ষে আবুধাবি টেস্টে লিটনের এই অসাধারণ পারফরম্যান্স বাংলাদেশের জন্য যেমন বড় প্রাপ্তি, তেমনি ব্যক্তিগত অর্জনের দিক থেকেও তা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ব্যাট হাতে ৫৩ ও ১০২ রানের ইনিংস খেলার পর উইকেটকিপিংয়েও নিজের দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন তিনি। দুই ইনিংসে তাঁর এই পারফরম্যান্স টেস্ট ক্রিকেটের রেকর্ডবুকে নতুন অধ্যায় যোগ করেছে।

এবাদতের বলে দুর্দান্ত ক্যাচ, ভাঙল আফগানিস্তানের জুটি

ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ইকরাম আলিখিলকে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে স্বস্তি এনে দেন লিটন। এবাদত হোসেনের প্রায় ওয়াইড হয়ে যাওয়া বলে ব্যাট চালাতে গিয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ তুলে দেন আফগান ব্যাটার। নিজের শরীর বাঁকিয়ে ও ঝুঁকি নিয়ে দূরে সরে যাওয়া বলটি তালুবন্দি করেন লিটন।

ক্যাচটি ছিল কঠিন, আর ম্যাচের পরিস্থিতিতে সেটির গুরুত্বও ছিল অনেক। ইকরামকে ফিরিয়ে আফগানিস্তানের ৬৬ রানের জুটি ভেঙে দেয় বাংলাদেশ। এর মধ্য দিয়ে ম্যাচে আবারও ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ তৈরি হয় টাইগারদের সামনে।

এবাদতের বলে লিটনের এমন অসাধারণ ক্যাচ অবশ্য এই ম্যাচে প্রথম নয়। প্রথম ইনিংসেও তাঁর নেওয়া একটি দৃষ্টিনন্দন ক্যাচ আলোচনায় এসেছিল। এবার দ্বিতীয় ইনিংসেও একই বোলারের বলে দুর্দান্ত ক্যাচ নিয়ে নিজের উইকেটকিপিং দক্ষতার প্রমাণ দিলেন বাংলাদেশের এই তারকা।

ডেনিস লিন্ডসের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেলেন লিটন

লিটনের এই কীর্তির আগে টেস্ট ক্রিকেটে একই ম্যাচের দুই ইনিংসে অন্তত অর্ধশতক করার পাশাপাশি সর্বোচ্চ ৮টি ডিসমিসালের রেকর্ড ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক উইকেটকিপার ডেনিস লিন্ডসের দখলে।

১৯৬৬ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জোহানেসবার্গ টেস্টে দুই ইনিংসে পঞ্চাশোর্ধ রান করার পাশাপাশি ৮টি ডিসমিসাল করেছিলেন লিন্ডস। দীর্ঘদিন ধরে টিকে থাকা সেই রেকর্ড এবার ছাড়িয়ে গেলেন লিটন।

আফগানিস্তানের বিপক্ষে চলমান টেস্টে দুই ইনিংসে যথাক্রমে ৫৩ ও ১০২ রান করেছেন তিনি। একই সঙ্গে উইকেটের পেছনে ৯টি ডিসমিসাল পূর্ণ করে নতুন রেকর্ড গড়েছেন বাংলাদেশের এই ক্রিকেটার। ব্যাটিং ও উইকেটকিপিং—দুই ক্ষেত্রেই এমন ধারাবাহিকতা টেস্ট ক্রিকেটে বিরল।

৪৭৯ রানের লক্ষ্য তাড়ায় চাপে আফগানিস্তান

ম্যাচে বাংলাদেশ আগে ব্যাট করে বড় সংগ্রহ দাঁড় করায় এবং আফগানিস্তানের সামনে জয়ের জন্য ৪৭৯ রানের লক্ষ্য দেয়। আগের দিন খেলা শেষ হওয়ার সময় দ্বিতীয় ইনিংসে আফগানিস্তানের সংগ্রহ ছিল ৩ উইকেটে ১৩২ রান।

পঞ্চম ও শেষ দিনে মাঠে নামার আগে জয়ের জন্য আফগানিস্তানের প্রয়োজন ছিল আরও ৩৪৭ রান। অন্যদিকে বাংলাদেশের দরকার ছিল ৭ উইকেট। ফলে ম্যাচের শেষ দিনে দুই দলের সামনে ছিল ভিন্ন লক্ষ্য—বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত করা, আর আফগানিস্তানের হার এড়িয়ে ম্যাচ বাঁচানো।

আফগান ব্যাটাররা শুরুতে বেশ দৃঢ়তার সঙ্গে বাংলাদেশের বোলারদের মোকাবিলা করছিলেন। মাঝপথে অধিনায়ক হাশমতউল্লাহ শহীদি পায়ে আঘাত পেয়ে রিটায়ার্ড হার্ট হলেও তাঁদের লড়াই থেমে থাকেনি। তবে ইকরাম আলিখিলের উইকেট হারানোর পর বাংলাদেশের সামনে ম্যাচে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার নতুন সুযোগ তৈরি হয়।

জয়ের আশায় বাংলাদেশ, ড্র বাঁচানোর লড়াই আফগানদের

ইকরাম আলিখিল আউট হওয়ার মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ২০২ রানে চতুর্থ উইকেট হারায় আফগানিস্তান। একদিকে বাংলাদেশের বোলাররা দ্রুত উইকেট তুলে নিয়ে জয় নিশ্চিত করতে চাইছিলেন, অন্যদিকে আফগান ব্যাটারদের লক্ষ্য ছিল যতটা সম্ভব সময় কাটিয়ে ম্যাচ ড্রয়ের দিকে নিয়ে যাওয়া।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় ইনিংসে এবাদত হোসেন তিনটি এবং হাসান মাহমুদ একটি উইকেট নিয়েছেন। বাকি উইকেটগুলো তুলে নিতে পারলে বাংলাদেশের সামনে জয় পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। তবে আফগানিস্তানের হাতে উইকেট থাকায় ম্যাচের ফল নির্ধারণে শেষ দিনের বাকি সময় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

লিটনের রেকর্ডে বাড়তি প্রাপ্তি বাংলাদেশের

টেস্ট ক্রিকেটে উইকেটকিপারের ভূমিকা শুধু ক্যাচ নেওয়া বা স্টাম্পিংয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; দলের প্রয়োজনে ব্যাট হাতেও অবদান রাখতে হয়। লিটন দাসের এই ম্যাচের পারফরম্যান্সে দুই দায়িত্বেরই অসাধারণ সমন্বয় দেখা গেছে।

প্রথম ইনিংসে অর্ধশতক, দ্বিতীয় ইনিংসে শতক এবং দুই ইনিংস মিলিয়ে ৯টি ডিসমিসাল—সব মিলিয়ে আবুধাবি টেস্টে নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন তিনি। বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্যও এটি গর্বের অর্জন।

তবে ব্যক্তিগত রেকর্ডের পাশাপাশি ম্যাচের ফলও এখন বাংলাদেশের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। লিটনের ঐতিহাসিক পারফরম্যান্সের দিনে দল শেষ পর্যন্ত জয় তুলে নিতে পারে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

কালের আলো/এসএ

স্ত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় কারাবাসের পর অভিনয়ে ফিরছেন জাহের আলভী

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৫৯ অপরাহ্ণ
স্ত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় কারাবাসের পর অভিনয়ে ফিরছেন জাহের আলভী
স্ত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা মামলায় কারাগারে যাওয়ার পর দীর্ঘ বিরতি শেষে আবারও অভিনয়ে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন ছোট পর্দার অভিনেতা জাহের আলভী। প্রায় সাত মাস পর নতুন কাজ শুরু করেছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একাধিক পোস্টের মাধ্যমে কাজে ফেরার খবর জানিয়ে ভক্ত ও অনুসারীদের মধ্যে নতুন করে আগ্রহ তৈরি করেছেন এই অভিনেতা।

দীর্ঘদিন অভিনয়ের বাইরে থাকার পর আলভীর এই প্রত্যাবর্তন তাঁর পেশাগত জীবনের নতুন অধ্যায়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে নতুন কাজটির নাম, গল্প, সহশিল্পী কিংবা প্রচারের সম্ভাব্য সময় সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।

ফেসবুক পোস্টে প্রত্যাবর্তনের ইঙ্গিত

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে জাহের আলভী লিখেছেন, ‘ছোট্ট একটা উদযাপন, কিন্তু অনেক বড় অনুপ্রেরণা… ফিরে আসার হাওয়া…।’

অভিনয়ে ফেরার প্রস্তুতি ও নতুন কাজ শুরুর আনন্দই তাঁর এই বার্তায় উঠে এসেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও পোস্টে নির্দিষ্ট কোনো কাজের বিবরণ দেননি তিনি, তবে ‘ফিরে আসার হাওয়া’ কথাটির মাধ্যমে দীর্ঘ বিরতির পর কাজে ফেরার বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন।

এর আগে আরেকটি পোস্টে আলভী লেখেন, ‘স্বাগত জানাবেন না আপনারা আমাকে…।’ তাঁর এই কথাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিরতির পর অভিনয়ে ফেরার ঘোষণাকে কেন্দ্র করে তাঁর পরবর্তী কাজ নিয়ে দর্শকদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।

সাত মাস পর নতুন কাজ শুরু

ফেসবুকে দেওয়া পরবর্তী বার্তায় জাহের আলভী জানান, সাত মাস পর আবারও কাজ শুরু করেছেন তিনি। তাঁর নতুন কাজটি পরিচালনা করছেন সামির রহমান রাব্বি। এর প্রযোজক মাহমুদ হাসান রানা।

তবে এটি নাটক, টেলিছবি নাকি অন্য কোনো ধরনের প্রযোজনা—সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেননি অভিনেতা। নতুন কাজের বিষয়বস্তু ও মুক্তির সময়সূচি সম্পর্কেও এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।

অভিনয়ে ফেরার এই সিদ্ধান্ত আলভীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, স্ত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা মামলাকে কেন্দ্র করে গত কয়েক মাস ধরে তাঁর ব্যক্তিগত জীবন ও অভিনয়জীবন নানা আলোচনার মধ্যে ছিল। দীর্ঘ বিরতির পর নতুন কাজ শুরু করার মধ্য দিয়ে তিনি আবারও পেশাগত কর্মকাণ্ডে যুক্ত হলেন।

স্ত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় মামলা, যেতে হয়েছিল কারাগারে

জাহের আলভীর স্ত্রী আফরা ইবনাত ইকরার মৃত্যুর ঘটনায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। মামলাটিকে কেন্দ্র করে আইনি জটিলতায় পড়েন এই অভিনেতা।

গত ১৮ জুন (২০২৬) ঢাকার আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন আলভী। তবে আদালত তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এরপর ২৪ জুন (২০২৬) দুই দিনের রিমান্ড শেষে তাঁকে আবার কারাগারে পাঠানো হয়। পরবর্তী সময়ে উচ্চ আদালতে জামিন পান তিনি। গত ৩ আগস্ট (২০২৬) হাইকোর্ট তাঁকে জামিন দেন।

মামলার অভিযোগ ও আইনি প্রক্রিয়ার কারণে আলভীর অভিনয়জীবনে দীর্ঘ বিরতি তৈরি হয়। তবে জামিনে মুক্ত হওয়ার পর এবার কাজে ফেরার ঘোষণা দিলেন তিনি। উল্লেখ্য, আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগটি মামলার অভিযোগ; এ বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সম্পর্কে এখানে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।

নতুন অধ্যায় নিয়ে দর্শকদের কৌতূহল

ছোট পর্দায় অভিনয়ের মাধ্যমে পরিচিতি পাওয়া জাহের আলভীর কাজে ফেরার ঘোষণায় তাঁর ভক্তদের মধ্যে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘ বিরতির পর তিনি কী ধরনের চরিত্রে অভিনয় করবেন, নতুন কাজের গল্প কেমন হবে এবং কবে নাগাদ দর্শকের সামনে সেটি আসবে—এসব প্রশ্নই এখন সামনে আসছে।

তবে এসব বিষয়ে অভিনেতার পক্ষ থেকে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। আপাতত ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে কাজে ফেরার খবর নিশ্চিত করেছেন তিনি।

ব্যক্তিগত জীবনের আলোচিত ঘটনা ও আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাওয়া আলভীর জন্য নতুন কাজটি পেশাগতভাবে কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে, তা সময়ই বলে দেবে। এখন দর্শকদের অপেক্ষা তাঁর নতুন অভিনয় দেখার।

কালের আলো/এসএ