খুঁজুন
                               
, ,
           

শুটিংয়ে ক্যামেরাসহ মুখের ওপর ডিওপি, নাকে গুরুতর আঘাত প্রিয়ন্তী উর্বীর

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৫০ অপরাহ্ণ
শুটিংয়ে ক্যামেরাসহ মুখের ওপর ডিওপি, নাকে গুরুতর আঘাত প্রিয়ন্তী উর্বীর
নাটকের শুটিং করতে গিয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন ছোট পর্দার অভিনেত্রী প্রিয়ন্তী উর্বী। হাসপাতালের বেডে শুয়ে একটি দৃশ্যের শুটিং করার সময় ভারসাম্য হারিয়ে ক্যামেরাসহ তাঁর মুখের ওপর পড়ে যান নাটকের চিত্রগ্রাহক (ডিওপি)। এতে নাকে আঘাত পান অভিনেত্রী। দুর্ঘটনার পর তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে এক্স-রে করানো হয় এবং প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। বর্তমানে ব্যথার ওষুধ ও অ্যান্টিবায়োটিক খাচ্ছেন তিনি।

তবে আঘাত পেয়েও শুটিং বন্ধ রাখেননি প্রিয়ন্তী। নিজের শারীরিক কষ্টের মধ্যেও কাজ শেষ করতে শরাত সোমবার ( ১২ অক্টোবর) রাত ২টা পর্যন্ত শুটিং করেছেন তিনি। এমনকি আজও শুটিংয়ে অংশ নিয়েছেন এই অভিনেত্রী।

যেভাবে ঘটল দুর্ঘটনা

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের দুর্ঘটনার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে একটি পোস্ট দিয়েছেন প্রিয়ন্তী উর্বী। সেখানে তিনি জানিয়েছেন, শুটিংয়ের সময় ঘটে যাওয়া ঘটনাটি ছিল তাঁর জন্য অত্যন্ত ভীতিকর ও কষ্টকর।

অভিনেত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, একটি দৃশ্যে তাঁকে হাসপাতালের বেডে শুয়ে থাকতে হচ্ছিল। কয়েকজন মিলে বেডটি টেনে তাঁকে একটি কক্ষে নিয়ে যাচ্ছিলেন। দৃশ্যটির ক্লোজ শট নেওয়ার জন্য চিত্রগ্রাহক বেডের ওপর উঠে তাঁর মুখের সামনে ক্যামেরা সেট করছিলেন।

এ সময় তাঁরা মহাখালী ক্যান্সার ইনস্টিটিউটে শুটিং করছিলেন। শট চলাকালে বেডটি ঝাঁকি খাওয়ায় ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন চিত্রগ্রাহক। এরপর ক্যামেরাসহ সরাসরি প্রিয়ন্তী উর্বীর মুখের ওপর পড়ে যান তিনি। আকস্মিক এই ঘটনায় মুহূর্তের জন্য কিছু দেখতে ও কথা বলতে পারছিলেন না অভিনেত্রী। অসহনীয় ব্যথায় কাতর হয়ে পড়েন তিনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অভিজ্ঞতা জানিয়ে প্রিয়ন্তী লিখেছেন, শুটিংয়ের দুর্ঘটনাটি তাঁর কাছে ছিল ভয়ংকর। ঘটনার পর হাসপাতালে গিয়ে এক্স-রে করানো হয়। বর্তমানে ওষুধ খাচ্ছেন তিনি।

‘কারও কোনো দোষ নেই, এটা দুর্ঘটনা’

দুর্ঘটনায় আহত হলেও কাউকে দায়ী করতে চান না প্রিয়ন্তী উর্বী। তাঁর মতে, শুটিংয়ের সময় সবাই নিজেদের দায়িত্ব যথাযথভাবেই পালন করছিলেন। এটি ছিল সম্পূর্ণ অনাকাঙ্ক্ষিত একটি ঘটনা।

এ বিষয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে অভিনেত্রী লিখেছেন, ‘এখানে একটা কথা পরিষ্কার করে বলতে চাই, এখানে কারও কোনো দোষ নেই। এটা একটা দুর্ঘটনা ছিল। সবাই নিজের কাজটা ঠিকভাবেই করছিলেন। কিন্তু দুর্ঘটনাটা আমার সঙ্গে ঘটেছে, আর আমি যে ব্যথার মধ্য দিয়ে গিয়েছি, সেটা একদম বাস্তব।’

অর্থাৎ, দুর্ঘটনার জন্য কাউকে দোষারোপ না করলেও সেই মুহূর্তে তাঁকে যে তীব্র শারীরিক যন্ত্রণা সহ্য করতে হয়েছে, তা তুলে ধরেছেন অভিনেত্রী। তাঁর বক্তব্যে দুর্ঘটনার আকস্মিকতা এবং ব্যথার তীব্রতা—দুটিই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

আহত হয়েও থামেনি শুটিং

দুর্ঘটনার পর শারীরিকভাবে কষ্টে থাকলেও কাজ শেষ করার বিষয়ে দৃঢ় অবস্থানে রয়েছেন প্রিয়ন্তী উর্বী। তিনি জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার দিন রাত ২টা পর্যন্ত শুটিং করেছেন। পরদিনও শুটিংয়ে অংশ নিয়েছেন।

অভিনেত্রীর ভাষ্য, আর মাত্র একদিন শুটিং করলেই নাটকটির কাজ শেষ হয়ে যাবে। এ অবস্থায় নিজের কারণে পরিচালক কিংবা শুটিং টিমের অন্য সদস্যরা সমস্যায় পড়ুন, তা চাননি তিনি। সে কারণেই কষ্ট থাকা সত্ত্বেও কাজটি শেষ করে দিতে চাইছেন।

তবে আহত অবস্থায় কাজ চালিয়ে যাওয়ার পেছনে তাঁর এই সিদ্ধান্তের কথা জানালেও শারীরিক সুস্থতা এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। দুর্ঘটনার পর নাকে ফোলা ও তীব্র ব্যথা থাকায় চিকিৎসা নেওয়ার পাশাপাশি নিজের শারীরিক অবস্থার প্রতিও নজর রাখতে হচ্ছে তাঁকে।

‘মনের মতো’ নাটকে অভিনয় করছেন উর্বী

জানা গেছে, প্রিয়ন্তী উর্বী বর্তমানে ‘মনের মতো’ নামের একটি নাটকের শুটিং করছেন। রাসেল আজম পরিচালিত নাটকটিতে তাঁর বিপরীতে অভিনয় করছেন আরশ খান।

নাটকটির শুটিং চলাকালেই এই অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার অভিজ্ঞতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের পর বিষয়টি সামনে আসে। তবে ঘটনার জন্য কাউকে দায়ী না করে এটিকে দুর্ঘটনা হিসেবেই দেখছেন প্রিয়ন্তী।

আঘাত ও ব্যথার মধ্যেও শুটিং চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। এখন নাকের ফোলা ও ব্যথা কাটিয়ে দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরার অপেক্ষায় এই অভিনেত্রী।

কালের আলো/এসএ

ডেঙ্গু সচেতনতায় পাড়া-মহল্লায় মাইকিংয়ের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৪৬ অপরাহ্ণ
ডেঙ্গু সচেতনতায় পাড়া-মহল্লায় মাইকিংয়ের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়াতে পাড়া-মহল্লায় মাইকিং এবং জুমার নামাজের খুতবায় সচেতনতামূলক বক্তব্য দেওয়ার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে আগামী কয়েক মাসকে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে সরকারি সংস্থাগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করার তাগিদ দিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণবিষয়ক এক সভায় এসব নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী।

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ

সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে আগামী কয়েক মাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সময়ে রোগটির বিস্তার ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট সব সরকারি সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

বিশেষ করে যেসব এলাকায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বেশি, সেসব এলাকায় প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। পরিস্থিতি বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশনাও দেন প্রধানমন্ত্রী।

মাইকিং ও খুতবায় সচেতনতার বার্তা

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এ জন্য পাড়া-মহল্লায় নিয়মিত মাইকিংয়ের মাধ্যমে মানুষকে সচেতন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে জুমার নামাজের খুতবায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ে বক্তব্য দেওয়ার ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। এর মাধ্যমে মশার বিস্তার রোধ, আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখা এবং প্রতিরোধমূলক কার্যক্রমে মানুষের অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়ে সচেতনতা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি ব্যক্তিগত ও সামাজিক পর্যায়ে সচেতনতা জরুরি। বাড়ি, আঙিনা ও আশপাশে জমে থাকা পানি অপসারণ এবং মশার বংশবিস্তারের উপযোগী স্থান পরিষ্কার রাখার মতো পদক্ষেপ এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।

আবাসিক কোয়ার্টার ও হাসপাতাল পরিষ্কারে গুরুত্ব

সভায় সরকারি আবাসিক কোয়ার্টার ও হাসপাতাল প্রাঙ্গণ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এসব স্থানে পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ডেঙ্গু প্রতিরোধ কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সরকারি স্থাপনা ও আবাসিক এলাকায় মশার প্রজননস্থল তৈরি হতে পারে—এমন স্থান নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও পরিষ্কার রাখা প্রতিরোধ কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকি এবং নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

সভায় উপস্থিত ছিলেন যাঁরা

ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণবিষয়ক সভায় উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান।

এ ছাড়া ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সভায় অংশ নেন।

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সরকারি সংস্থাগুলোর সমন্বিত কার্যক্রমের পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে সভায়। নির্দেশনাগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে আক্রান্তের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদার করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

জেএফকে বিমানবন্দরে ড. ইউনূসকে ঘিরে বিক্ষোভ, আইনি পদক্ষেপ নেবে সরকার

কালের আলো ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৩৩ অপরাহ্ণ
জেএফকে বিমানবন্দরে ড. ইউনূসকে ঘিরে বিক্ষোভ, আইনি পদক্ষেপ নেবে সরকার

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তার ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তাঁর ভাষ্য, ড. ইউনূসের পাশাপাশি সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি ও কয়েকজন ছাত্র সমন্বয়কও একই ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

ঘটনাকে ‘আওয়ামী সন্ত্রাস’ বললেন উপদেষ্টা

ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে বিমানবন্দরে হেনস্তার ঘটনাকে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হিসেবে অভিহিত করেন জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনা শুধু ড. ইউনূসের ক্ষেত্রেই ঘটেনি; সরকারের একজন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী, জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি এবং কয়েকজন ছাত্র সমন্বয়কও একই ধরনের পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন বলে সরকার মনে করছে।

তিনি বলেন, ‘এগুলো প্রেসার গ্রুপের কাজ নয়, এগুলো আওয়ামী সন্ত্রাস। আমরা এভাবেই বিষয়টিকে ব্যাখ্যা করতে চাই। এসব ঘটনার বিরুদ্ধে সরকারের পক্ষ থেকে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

তবে ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয়, তাঁদের বিরুদ্ধে কী ধরনের আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে কিংবা কোন প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে, সে বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানাননি তিনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছে ভিডিও

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, নিউইয়র্কের জেএফকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুইলচেয়ারে বসে থাকা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের দিকে কয়েকজন ব্যক্তি এগিয়ে যাচ্ছেন। এ সময় তাঁদের উচ্চস্বরে স্লোগান দিতে এবং ড. ইউনূসকে উদ্দেশ করে ‘ইউ আর এ টেরোরিস্ট’ ও ‘হোয়াই ইউ কাম হিয়ার’ বলতে শোনা যায়।

বিক্ষোভকারীরা তাঁর বিরুদ্ধে বাংলাদেশের গণতন্ত্র ধ্বংস করার অভিযোগও তোলেন। পরে একজন সহযোগীর সহায়তায় সামনের দিকে এগিয়ে যান ড. ইউনূস।

ভিডিওতে দেখা ঘটনার বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানানো হলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় ও ঘটনার পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরা হয়নি।

শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে সরকারের অবস্থান

সংবাদ সম্মেলনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে জাহেদ উর রহমান বলেন, সরকার চায় শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ফিরে এসে তাঁর বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর বিচারিক প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হোন। এ কারণেই ভারতকে তাঁকে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তরের আহ্বান জানানো হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

জাহেদ উর রহমান বলেন, শেখ হাসিনা দেশে ফিরে এলে সরকারের কোনো সমস্যা নেই। বরং তাঁর বিরুদ্ধে উত্থাপিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের বিচারিক প্রক্রিয়ায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য।

গণমাধ্যমের প্রতিবেদনও সরকারের নজরে

সংবাদ সম্মেলনে গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা।

ড. ইউনূসসহ জুলাই আন্দোলন এবং সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের হেনস্তার ঘটনা নিয়ে কিছু গণমাধ্যমের সংবাদ উপস্থাপনার ধরন সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, গণমাধ্যমের প্রতিবেদন ও উপস্থাপনার বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের নজরে রয়েছে।

তবে কোন কোন প্রতিবেদন বা সংবাদমাধ্যমের উপস্থাপনা নিয়ে সরকারের পর্যবেক্ষণ রয়েছে, কিংবা এ বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না, তা বিস্তারিতভাবে জানাননি তিনি।

ড. ইউনূসকে ঘিরে নিউইয়র্কের বিমানবন্দরের ঘটনাটি এবং এ ধরনের অন্যান্য ঘটনার বিষয়ে সরকারের অবস্থান সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনাগুলোর বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন উপদেষ্টা।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি

আইপিএলে ধোনির ভবিষ্যৎ নিয়ে ধোঁয়াশা

ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:১৮ অপরাহ্ণ
আইপিএলে ধোনির ভবিষ্যৎ নিয়ে ধোঁয়াশা

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) পরবর্তী আসরে মহেন্দ্র সিং ধোনিকে দেখা যাবে কি না, তা নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ভারতের সাবেক বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ককে ঘিরে চেন্নাই সুপার কিংসের সমর্থকদের কৌতূহলের শেষ নেই। তবে ধোনির ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছে না ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। তাঁর খেলা না-খেলার সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে মূলত ধোনির নিজের ওপর।

চেন্নাই সুপার কিংসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) কাশী বিশ্বনাথন জানিয়েছেন, ধোনি চেন্নাইয়ে আসার পর নিজের সিদ্ধান্তের কথা ফ্র্যাঞ্চাইজিকে জানাবেন। ফলে পরবর্তী আইপিএলে দলের হয়ে খেলবেন কি না, সেই প্রশ্নের উত্তর পেতে অপেক্ষা করতে হচ্ছে সমর্থকদের।

ধোনির সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় চেন্নাই

আইপিএলের নতুন আসর সামনে রেখে ধোনির ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল চেন্নাই সুপার কিংসের প্রধান নির্বাহী কাশী বিশ্বনাথনকে। তবে অন্যবারের মতো এবারও সরাসরি কোনো উত্তর দেননি তিনি। বরং এ বিষয়ে ধোনির সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দিয়েছেন।

চেন্নাইয়ের একটি স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে বিশ্বনাথন বলেন, ‘এই প্রশ্নটা আপনাদের উচিত তাকে করা। আমারও তাকে জিজ্ঞাসা করতে হবে। সে চেন্নাইয়ে আসার পর তার সিদ্ধান্তের কথা আমাদের জানাবে।’

তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, ধোনির পরবর্তী আইপিএলে অংশগ্রহণ নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানা যায়নি। ফ্র্যাঞ্চাইজিও অপেক্ষা করছে অভিজ্ঞ এই ক্রিকেটারের মতামতের জন্য।

খেলা চালিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন সিইও

ধোনি কি চেন্নাই সুপার কিংসের হয়ে আরও একটি আইপিএল খেলবেন? এই প্রশ্নের জবাবে বিশ্বনাথন সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন। তবে তাঁর বক্তব্যকে চূড়ান্ত নিশ্চয়তা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

বিশ্বনাথন বলেন, ‘আমার মনে হচ্ছে চেন্নাইয়ের হয়ে তার খেলা চালিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। আপনারা তো জানেন, সে এখনও একজন খেলোয়াড়।’

অর্থাৎ, ধোনির খেলার সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দিচ্ছে না চেন্নাই। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে পারবেন ধোনি নিজেই। তাঁর শারীরিক অবস্থা, ব্যক্তিগত পরিকল্পনা ও খেলার বিষয়ে আগ্রহের মতো বিষয়গুলো পরবর্তী সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। যদিও এসব বিষয়ে নতুন করে কোনো নির্দিষ্ট তথ্য জানাননি ফ্র্যাঞ্চাইজির সিইও।

সবশেষ আইপিএলে মাঠে দেখা যায়নি ধোনিকে

ধোনিকে নিয়ে অনিশ্চয়তার অন্যতম কারণ, সর্বশেষ আইপিএল মৌসুমে তাঁকে একটি ম্যাচেও খেলতে দেখা যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই আসরের আগে চেন্নাই সুপার কিংস জানিয়েছিল, চোটের কারণে শুরুর কয়েকটি ম্যাচে খেলতে পারবেন না তিনি।

কিন্তু পরবর্তী সময়ে প্রতিটি ম্যাচের আগে ধোনিকে ঘিরে সমর্থকদের অপেক্ষা ও জল্পনা অব্যাহত থাকে। শেষ পর্যন্ত তাঁর মাঠে নামা নিয়ে তৈরি হওয়া প্রশ্নের অবসান ঘটেনি।

দীর্ঘদিন ধরে চেন্নাই সুপার কিংসের পরিচিত মুখ ধোনি। তাঁর নেতৃত্বে দলটি একাধিকবার আইপিএলের শিরোপা জিতেছে। ফলে মাঠে তাঁর উপস্থিতি শুধু একজন খেলোয়াড়ের অংশগ্রহণ নয়, চেন্নাইয়ের সমর্থকদের আবেগের সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িয়ে আছে।

ধোনিকে ঘিরে সমর্থকদের অপেক্ষা

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার পরও আইপিএলে ধোনির অংশগ্রহণ তাঁকে আলোচনায় রেখেছে। বয়স ও শারীরিক সক্ষমতা নিয়ে নানা আলোচনা থাকলেও তাঁর অভিজ্ঞতা এবং উইকেটকিপিংয়ের দক্ষতা চেন্নাইয়ের সমর্থকদের কাছে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

এবারও ধোনি খেলবেন কি না, তা নিয়ে আগেভাগে কোনো নিশ্চয়তা দিতে চাইছে না ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। কাশী বিশ্বনাথনের বক্তব্যে সম্ভাবনার ইঙ্গিত থাকলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো অজানা।

সব মিলিয়ে পরবর্তী আইপিএলে ধোনিকে চেন্নাইয়ের জার্সিতে দেখা যাবে কি না, সেই প্রশ্নের উত্তর পেতে অপেক্ষা করতে হবে তাঁর আনুষ্ঠানিক ঘোষণার জন্য। আপাতত তাঁর খেলার সম্ভাবনা রয়েছে, কিন্তু অংশগ্রহণ নিশ্চিত নয়।

কালের আলো/এসএ