খুঁজুন
                               
, ,
           

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় খালাস চাইলেন ইনু

আদালত প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:০৮ পূর্বাহ্ণ
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় খালাস চাইলেন ইনু

জুলাই গণআন্দোলন চলাকালে কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ১০ বছরের কারাদণ্ড ও জরিমানার আদেশের বিরুদ্ধে খালাস চেয়ে আপিল করেছেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনু।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ আপিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইনুর আইনজীবী সিফাত মাহমুদ শুভ।

এর আগে গত ৫ অক্টোবর ইনুর সাজা বাড়ানোর আবেদন করে আপিল করেছিল প্রসিকিউশন। ফলে একই মামলায় একদিকে ইনুর খালাস চেয়ে আপিল, অন্যদিকে সাজা বৃদ্ধির আবেদন রয়েছে।

গত ৩০ জুন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যাসহ আটটি অভিযোগের মামলায় ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ড ও জরিমানার আদেশ দেন। ট্রাইব্যুনালের রায়ে তিন নম্বর অভিযোগে তাঁকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পাশাপাশি ছয় ও সাত নম্বর অভিযোগে এক লাখ টাকা করে মোট দুই লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আদেশ দেওয়া হয়। বাকি পাঁচটি অভিযোগ থেকে তাঁকে খালাস দেওয়া হয়।

ট্রাইব্যুনাল জানান, পৃথক দণ্ডাদেশ থাকলেও ইনুকে মোট ১০ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

মামলায় গত ১৪ মে উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায় ঘোষণার জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন ট্রাইব্যুনাল। পরে ২০ সেপ্টেম্বর বিচারিক প্যানেলের স্বাক্ষরের পর রায় প্রকাশ করা হয়।

মামলার শুনানিতে ইনুর আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী দাবি করেন, কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় ইনুর কোনো সম্পৃক্ততা নেই। হত্যাকাণ্ডের সময় তিনি কুষ্টিয়ায় উপস্থিত ছিলেন না বলেও সাক্ষীরা স্বীকার করেছেন বলে দাবি করেন তিনি। এ ছাড়া ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময় ইনু সংসদ সদস্য ছিলেন না বলেও আসামিপক্ষের যুক্তিতে উল্লেখ করা হয়।

প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট জুলাই-আগস্ট আন্দোলন চলাকালে কুষ্টিয়া শহরের বিভিন্ন স্থানে ছাত্র-জনতার ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। এতে শ্রমিক আশরাফুল ইসলাম, সুরুজ আলী বাবু, শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিন ও উসামা, ব্যবসায়ী বাবলু ফরাজী এবং চাকরিজীবী ইউসুফ শেখ নিহত হন। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তদন্ত শেষে ইনুর বিরুদ্ধে আটটি অভিযোগ আনে প্রসিকিউশন।

এখন ইনুর খালাস চেয়ে করা আপিল এবং প্রসিকিউশনের সাজা বৃদ্ধির আবেদনের পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার দিকে নজর রয়েছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্র সম্প্রসারণে চীনা ব্যাংকের সহযোগিতা চাইলেন মন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৪৭ অপরাহ্ণ
পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্র সম্প্রসারণে চীনা ব্যাংকের সহযোগিতা চাইলেন মন্ত্রী

বিদ্যুৎ খাতের গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলোতে দ্রুত অর্থায়নের জন্য চায়না এক্সিম ব্যাংকের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। পায়রা তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের সম্প্রসারণ, জাতীয় বিদ্যুৎ সঞ্চালন নেটওয়ার্ক শক্তিশালীকরণ এবং ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ডিপিডিসি) নেটওয়ার্ক উন্নয়নে অর্থায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে চায়না এক্সিম ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ওয়াং চুনইংয়ের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতের চলমান ও ভবিষ্যৎ প্রকল্পে অর্থায়ন এবং দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা করা হয়।

বৈঠকে মন্ত্রী বলেন, স্থিতিশীল বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ জাতীয় উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম ভিত্তি। এ জন্য বিদ্যুৎ অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং সরবরাহব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি।

তিনি পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের সম্প্রসারণ, জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডের নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা আধুনিকায়ন, স্মার্ট গ্রিড স্থাপন এবং ডিপিডিসির নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করতে চীনা ব্যাংকের সহযোগিতা কামনা করেন। পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতি ২০২৬-এর আওতায় পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে রূপান্তরের উদ্যোগ তুলে ধরে ভবিষ্যৎ প্রকল্পগুলোতেও দ্রুত অর্থায়নের অনুরোধ জানান।

অন্যদিকে, চায়না এক্সিম ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ওয়াং চুনইং বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যাংকটির সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন। তিনি সৌরবিদ্যুৎ, বায়ুশক্তি ও বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদন প্রকল্পে অর্থায়নের পাশাপাশি প্রযুক্তিগত দক্ষতা বিনিময়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন। বিশেষ করে ভূমিতে স্থাপিত ও ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা করেন তিনি।

বৈঠকে সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) ভিত্তিতে বিদ্যুৎ গ্রিড শক্তিশালীকরণ এবং ডিপিডিসির নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ প্রকল্পের অর্থায়ন অনুমোদনের প্রক্রিয়া দ্রুত করতে দুই পক্ষ প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ ও কার্যক্রম জোরদার করার বিষয়ে একমত হয়।

এ সময় ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব মিরানা মাহরুখ, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রেজাউল করিমসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

সংসদ ভবন প্রাঙ্গণের সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৪০ অপরাহ্ণ
সংসদ ভবন প্রাঙ্গণের সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

জাতীয় সংসদ ভবন প্রাঙ্গণ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, সবুজায়ন এবং প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবন প্রাঙ্গণ পরিদর্শনকালে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এ নির্দেশনা দেন তিনি।

পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী সংসদ ভবন প্রাঙ্গণের মাঠ, বাগান ও বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন। এ সময় সংসদ ভবনসংলগ্ন এলাকার সার্বিক পরিবেশ, অবকাঠামোগত অবস্থা এবং পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন।

জাতীয় সংসদ প্লাজার সৌন্দর্য ও পরিবেশ অক্ষুণ্ণ রাখতে নিয়মিত পরিচর্যা এবং যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। মাঠ ও বাগানের পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সবুজায়ন এবং বিদ্যমান গাছপালার সঠিক পরিচর্যায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।

এ ছাড়া সংসদ প্লাজা ও এর আশপাশের যেসব স্থানে সংস্কার প্রয়োজন, সেগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী।

জাতীয় সংসদ ভবনের স্থাপত্যশৈলী ও নান্দনিক পরিবেশ বজায় রাখতে সংসদ প্লাজা এবং এর সংলগ্ন এলাকার নিয়মিত তদারকি ও রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

ঝুঁকিপূর্ণ শ্রেণিকক্ষে পাঠদান, আতঙ্কে কমছে শিক্ষার্থী উপস্থিতি

হবিগঞ্জ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৪০ অপরাহ্ণ
ঝুঁকিপূর্ণ শ্রেণিকক্ষে পাঠদান, আতঙ্কে কমছে শিক্ষার্থী উপস্থিতি

হবিগঞ্জের মাধবপুরে কালিকাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষের ছাদ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে, কোথাও কোথাও বেরিয়ে এসেছে মরিচা ধরা রড। এমন ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশেই চলছে পাঠদান। দুর্ঘটনার আশঙ্কায় আতঙ্কিত হয়ে অনেক শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে আসতে ভয় পাচ্ছে। ফলে কমছে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি।

মাধবপুর উপজেলার চৌমুহনী ইউনিয়নে অবস্থিত বিদ্যালয়টিতে শ্রেণিকক্ষের সংকট থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই পাঠদান চালিয়ে যেতে হচ্ছে। বিশেষ করে পঞ্চম শ্রেণির কক্ষের ছাদের বিভিন্ন স্থানে পলেস্তারা খসে পড়েছে। কোথাও কোথাও ঢালাইয়ের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে রড দৃশ্যমান হয়েছে। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রুবেল মিয়া জানায়, তারা ভয়ে ভয়ে ক্লাস করে। পুরো শ্রেণিকক্ষ ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় নিরাপদে বসে পড়াশোনা করার মতো পরিবেশ নেই। দ্রুত বিদ্যালয়টি সংস্কারের দাবি জানিয়েছে সে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাসিমা আক্তার বলেন, ‘আমরা নিজেরাও ঝুঁকির মধ্যে আছি, আমাদের বাচ্চারাও ঝুঁকিতে রয়েছে। আমরা সতর্কতা অবলম্বন করে পাঠদান করছি। ভবন সংস্কারের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। আশা করছি, দ্রুত সংস্কারের ব্যবস্থা হবে।’

গত ২০ জুন পাশের হরিশ্যামা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছাদ ধসে প্রকাশ দাস নামে এক দপ্তরি কাম প্রহরী আহত হওয়ার ঘটনার পর ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয় ভবনে পাঠদান নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। কালিকাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্ষতিগ্রস্ত ছাদ দ্রুত সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয় সাবেক যুবদল নেতা আব্দুল হাই বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি সংসদ সদস্যের নজরে আনার চেষ্টা করবেন বলে জানান।

মাধবপুরের সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মশিউর রহমান বলেন, বিদ্যালয়টির সংস্কারের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এরপরও তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মেহেদী হাসান বলেন, বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দাবি, যেকোনো দুর্ঘটনা এড়াতে দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত ছাদ সংস্কার করতে হবে। সংস্কারকাজ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ কক্ষে পাঠদান বন্ধ রেখে বিকল্প শ্রেণিকক্ষের ব্যবস্থা করারও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। তাঁদের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি