খুঁজুন
                               
, ,
           

এক বছরে মৃত্যু ৫ হাজার, নাকি ৯ হাজার? সড়ক দুর্ঘটনার তথ্যে বড় ফারাক

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৪১ অপরাহ্ণ
এক বছরে মৃত্যু ৫ হাজার, নাকি ৯ হাজার? সড়ক দুর্ঘটনার তথ্যে বড় ফারাক

সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতিবছর কত মানুষের মৃত্যু হচ্ছে, কতজন আহত হচ্ছেন—এ নিয়ে সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে বড় ধরনের ব্যবধান। কোনো সংস্থার হিসাবে এক বছরে নিহতের সংখ্যা পাঁচ হাজারের কিছু বেশি, আবার অন্য সংস্থার হিসাবে তা ছাড়িয়ে যাচ্ছে নয় হাজার। তথ্যের এই অসামঞ্জস্যের কারণে সড়ক দুর্ঘটনার প্রকৃত চিত্র নিরূপণ এবং কার্যকর প্রতিরোধমূলক পরিকল্পনা গ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ পরিস্থিতিতে সড়ক দুর্ঘটনার তথ্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বিশ্লেষণের জন্য একটি সমন্বিত জাতীয় সেন্ট্রাল ডাটাবেজ প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছেন বিভিন্ন যুব সংগঠনের প্রতিনিধিরা। তাঁদের মতে, নির্ভরযোগ্য ও সমন্বিত তথ্যভান্ডার গড়ে তোলা গেলে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ শনাক্ত করা এবং প্রাণহানি কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সহজ হবে।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সরকারের প্রতি এ আহ্বান জানানো হয়।

এক বছরের দুর্ঘটনার হিসাবে বড় ব্যবধান
বিজ্ঞপ্তিতে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) হিসাবে, ২০২৫ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৫ হাজার ৪৯০ জন। অন্যদিকে, বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির হিসাবে, একই বছরে ৬ হাজার ৭২৯টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৯ হাজার ১১১ জন। এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন ১৪ হাজার ৮১২ জন।

আরেকটি পরিসংখ্যানে ২০২৫ সালে ৭ হাজার ৫৮৪টি দুর্ঘটনায় ৭ হাজার ৩৫৯ জন নিহত এবং ১৬ হাজার ৪৭৬ জন আহত হওয়ার তথ্য উঠে এসেছে। একই বছরের দুর্ঘটনা ও হতাহতের পরিসংখ্যানে এমন পার্থক্য সড়ক নিরাপত্তা পরিস্থিতি মূল্যায়নকে জটিল করে তুলছে।

২০২৪ সালেও মেলেনি মৃত্যুর হিসাব
২০২৪ সালের পরিসংখ্যানেও সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাগুলোর হিসাবে উল্লেখযোগ্য ব্যবধান দেখা গেছে। বিআরটিএর তথ্য অনুযায়ী, ওই বছর সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন ৫ হাজার ৩৮০ জন। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির হিসাবে এ সংখ্যা ৮ হাজার ৫৪৩ জন। আর রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের হিসাবে নিহতের সংখ্যা ৭ হাজার ২৯৪ জন।

অর্থাৎ, একই বছরের সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির হিসাবেও সংস্থাভেদে কয়েক হাজার মানুষের ব্যবধান রয়েছে। দুর্ঘটনার তথ্য সংগ্রহ, নথিভুক্তকরণ ও যাচাইয়ের পদ্ধতিতে সমন্বয়ের ঘাটতি থাকলে এমন পার্থক্য তৈরি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে উঠে এসেছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবেও বড় পার্থক্য
দেশীয় সংস্থাগুলোর পরিসংখ্যানের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক হিসাবেও বাংলাদেশের সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির সংখ্যা নিয়ে বড় ব্যবধান দেখা যায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) *গ্লোবাল স্ট্যাটাস রিপোর্ট অন রোড সেফটি ২০২৩* অনুযায়ী, ২০২১ সালে বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় আনুমানিক ৩১ হাজার ৫৭৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।

দেশীয় সরকারি হিসাবের সঙ্গে আন্তর্জাতিক এ অনুমানের পার্থক্য দুর্ঘটনার তথ্য সংগ্রহ, যাচাই ও সমন্বয়ের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। তবে বিভিন্ন সংস্থার তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতি ও হিসাবের আওতা এক না হলে পরিসংখ্যানে পার্থক্য দেখা দিতে পারে। তাই সড়ক নিরাপত্তার প্রকৃত চিত্র বুঝতে তথ্যের উৎস ও পদ্ধতি যাচাই করাও গুরুত্বপূর্ণ।

কেন প্রয়োজন জাতীয় সেন্ট্রাল ডাটাবেজ
যুব সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিরা মনে করেন, বিচ্ছিন্ন ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ পরিসংখ্যানের পরিবর্তে একটি সমন্বিত জাতীয় তথ্যভান্ডার গড়ে তোলা জরুরি। সেখানে প্রতিটি দুর্ঘটনার স্থান, সময়, ধরন, সংশ্লিষ্ট যানবাহন, সড়কের অবস্থা এবং নিহত ও আহত ব্যক্তিদের তথ্য সংরক্ষণ করা হলে দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকা ও ঝুঁকির কারণ শনাক্ত করা সহজ হবে।

এ ধরনের তথ্যভান্ডারের মাধ্যমে কোন ধরনের সড়কে বেশি দুর্ঘটনা ঘটছে, কোন যানবাহন বেশি দুর্ঘটনায় জড়িত হচ্ছে এবং কোন পরিস্থিতিতে প্রাণহানি বাড়ছে—তা বিশ্লেষণ করা সম্ভব হবে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে সড়ক অবকাঠামো উন্নয়ন, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তামূলক উদ্যোগের অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা যেতে পারে।

বিআরটিএ, পুলিশ ও হাসপাতালের তথ্য সমন্বয়ের প্রস্তাব
কেন্দ্রীয় ডাটাবেজ কার্যকর করতে বিআরটিএ, পুলিশ, হাসপাতাল এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থার মধ্যে তথ্য বিনিময়ের ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন প্রতিনিধিরা। তাঁদের মতে, দুর্ঘটনা নথিভুক্ত করার অভিন্ন মানদণ্ড প্রণয়ন এবং হতাহত ব্যক্তিদের তথ্য নিয়মিত হালনাগাদ করা প্রয়োজন।

একই সঙ্গে তথ্যের নির্ভুলতা যাচাই, বিভিন্ন সংস্থার পরিসংখ্যানের মধ্যে সামঞ্জস্য নিশ্চিত করা এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার বিষয়েও কার্যকর ব্যবস্থা থাকতে হবে। দুর্ঘটনার তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত পরিচয় সুরক্ষিত রেখে নিয়মিত জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা প্রতিবেদন প্রকাশের দাবিও জানিয়েছেন তাঁরা।

জবাবদিহি ও কার্যকর পরিকল্পনায় গুরুত্ব
যুব সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিদের মতে, কেন্দ্রীয় ডাটাবেজ শুধু দুর্ঘটনার সংখ্যা জানার মাধ্যম নয়; সড়ক নিরাপত্তায় নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কার্যকারিতা মূল্যায়নেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তথ্যের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আহ্ছানিয়া মিশন ইয়ুথ ফোরাম ফর হেলথ অ্যান্ড ওয়েলবিয়িংয়ের সমন্বয়কারী মারজানা মুনতাহা, বাংলাদেশ ডিবেট ফেডারেশনের সদস্য মো. ইস্তিয়াক ইমন, মিশন গ্রিন বাংলাদেশের সদস্য মো. ইফরাত হোসাইন, স্বেচ্ছাসেবক সমন্বয়কারী মো. আরমান হোসাইন রায়েদ এবং বাংলাদেশ মেডিকেল স্টুডেন্ট সোসাইটির সদস্য নওশীন নাওয়ার আচল এ আহ্বান জানান। এ দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ মেডিকেল স্টুডেন্ট সোসাইটি, লাল সবুজ সোসাইটি, মিশন গ্রিন বাংলাদেশ, আমরাই আগামী, ক্লাইমেট কানেক্টস ও বাংলাদেশ ডিবেট ফেডারেশন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি কমাতে নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে পরিকল্পনা গ্রহণের বিকল্প নেই। তাই জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে একটি কার্যকর জাতীয় সেন্ট্রাল ডাটাবেজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সমন্বিত, জবাবদিহিমূলক ও প্রমাণভিত্তিক সড়ক নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিরা।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি

রামেক হাসপাতালে ডেঙ্গুতে কলেজছাত্রের মৃত্যু

রাজশাহী সংবাদদাতা, কালের আলো
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৩১ অপরাহ্ণ
রামেক হাসপাতালে ডেঙ্গুতে কলেজছাত্রের মৃত্যু

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মো. রাসেল (২৩) নামে এক কলেজছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকাল ৮টার দিকে হাসপাতালটিতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। রাসেলের বাড়ি নাটোর সদর উপজেলায়।

রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শেখ শামীম আহমেদ মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে রাসেলকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ভর্তির পরদিন শুক্রবার সকালেই তাঁর মৃত্যু হয়।

এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় রামেক হাসপাতালে নতুন করে ৪৬ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৫১ জন। বর্তমানে হাসপাতালটিতে ১৭৫ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

টোকিও সফরে তারেক রহমান, কৌশলগত সম্পর্কে নতুন সমীকরণ

কূটনৈতিক প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:০৩ অপরাহ্ণ
টোকিও সফরে তারেক রহমান, কৌশলগত সম্পর্কে নতুন সমীকরণ

ঢাকা–টোকিও সম্পর্ককে আরও গভীর করার গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন জাপান সফরকে। বাংলাদেশের সঙ্গে ‘কৌশলগত অংশীদারিত্ব’ জোরদারের প্রত্যাশা জানিয়েছে জাপান। দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নেওয়ার পাশাপাশি অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং আঞ্চলিক ভূরাজনীতিতে সমন্বয় বাড়ানোর ক্ষেত্রেও সফরটি তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান আগামী ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর জাপান সফর করবেন। সফরটি আনুষ্ঠানিক মর্যাদায় অনুষ্ঠিত হবে। এ সময় জাপানের প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি সানায়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করবেন এবং তাঁর সম্মানে মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করবেন।

  • জাপানের সঙ্গে আলোচনায় ৮ সমঝোতা স্মারক
  • সই হতে পারে ৪–৫টি; বাণিজ্য, দক্ষতা উন্নয়ন ও বিনিয়োগে সহযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনা

জাপানের এই বিবৃতিতে দুই দেশের সম্পর্কের কৌশলগত গুরুত্বের পাশাপাশি অভিন্ন মূল্যবোধের ভিত্তিতে সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়ার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। ফলে সফরটি কেবল সৌজন্য সাক্ষাৎ কিংবা প্রটোকলভিত্তিক কূটনৈতিক কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধ না থেকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ভবিষ্যৎ রূপরেখা নির্ধারণের সুযোগ তৈরি করতে পারে।

কৌশলগত অংশীদারিত্বের গুরুত্ব বাড়ছে
বাংলাদেশকে গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করে জাপান। স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের মতো অভিন্ন মূল্যবোধের ভিত্তিতে দুই দেশের সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করার প্রত্যাশা রয়েছে টোকিওর। একই সঙ্গে হালনাগাদ ‘মুক্ত ও অবাধ ইন্দো-প্যাসিফিক’ ধারণা বাস্তবায়নে পারস্পরিক সমন্বয় বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দিয়েছে জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

এই অবস্থান থেকে তারেক রহমানের সফরকে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের একটি তাৎপর্যপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচনা করা যায়। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে অর্থনৈতিক সংযোগ, অবকাঠামো উন্নয়ন, সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার মতো বিষয়গুলো ক্রমেই গুরুত্ব পাচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের সঙ্গে জাপানের সহযোগিতা জোরদার হলে তা উন্নয়ন অংশীদারত্বের পাশাপাশি আঞ্চলিক স্বার্থের সমন্বয়েও ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে কৌশলগত অংশীদারিত্বের বাস্তব সাফল্য নির্ভর করবে ঘোষিত প্রত্যাশাকে কতটা কার্যকর উদ্যোগে রূপ দেওয়া যায়, তার ওপর। রাজনৈতিক সদিচ্ছার পাশাপাশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি অর্জনই হবে এই সম্পর্কের কার্যকারিতা মূল্যায়নের গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড।

আলোচনায় আট সমঝোতা স্মারক
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার কয়েকটি নির্দিষ্ট ক্ষেত্রেও অগ্রগতির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ঢাকার কূটনৈতিক সূত্রের বরাত অনুযায়ী, সফর সামনে রেখে দুই দেশের মধ্যে আটটি সমঝোতা স্মারক সইয়ের বিষয়ে আলোচনা চলছে। তবে সবগুলো চূড়ান্ত না-ও হতে পারে; এর মধ্যে চার থেকে পাঁচটি সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আলোচনাধীন ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে কৃষি, মৎস্য, মানবসম্পদ উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি, বেসামরিক বিমান চলাচল, বাণিজ্য, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার আধুনিকায়ন।

এই খাতগুলোর বৈচিত্র্য ইঙ্গিত দেয়, বাংলাদেশ-জাপান সহযোগিতা শুধু অবকাঠামো বা উন্নয়ন অর্থায়নের প্রচলিত পরিসরে সীমাবদ্ধ রাখতে চায় না; বরং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা এবং অর্থনৈতিক ব্যবস্থার আধুনিকায়নেও সম্পর্কের বিস্তার ঘটানোর সুযোগ রয়েছে।

কৃষি ও মৎস্য খাতে প্রযুক্তি, গবেষণা ও উৎপাদন ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন বাংলাদেশের খাদ্যনিরাপত্তা এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারে। অন্যদিকে, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও দক্ষতা বৃদ্ধির উদ্যোগ জাপানের শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে বাংলাদেশের কর্মীদের যোগ্যতার সমন্বয় ঘটানোর সুযোগ তৈরি করতে পারে। এ ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণের মান, ভাষাগত দক্ষতা এবং কর্মীদের অধিকার সুরক্ষার মতো বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ হবে।

বেসামরিক বিমান চলাচল ও বাণিজ্য খাতে সহযোগিতা বাড়লে যোগাযোগ, পণ্য পরিবহন এবং ব্যবসায়িক সংযোগ সম্প্রসারণের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। পরিবেশ সংরক্ষণ ও স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার আধুনিকায়নে যৌথ উদ্যোগ বাংলাদেশের নগর ব্যবস্থাপনা, পরিবেশগত সুরক্ষা এবং স্থানীয় পর্যায়ে সেবা প্রদানের সক্ষমতা উন্নয়নেও সহায়ক হতে পারে। তবে এসব সম্ভাবনা বাস্তবায়নের জন্য সমঝোতার পাশাপাশি সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা, অর্থায়ন ও বাস্তবায়ন কাঠামো প্রয়োজন হবে।

অর্থনৈতিক সম্পর্কের সম্ভাবনা কতটা?
জাপান বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সহযোগী। দীর্ঘদিন ধরে দেশটি বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়ন ও বিভিন্ন উন্নয়নমূলক উদ্যোগে সহযোগিতা করে আসছে। ফলে দুই দেশের সম্পর্কের পরবর্তী পর্যায়ে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও দক্ষ জনশক্তি উন্নয়নের বিষয়গুলো আরও গুরুত্ব পেতে পারে।

বাংলাদেশের জন্য জাপানের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের একটি বড় সুযোগ হলো উন্নত প্রযুক্তি ও উৎপাদন ব্যবস্থাপনার অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো। পাশাপাশি জাপানি বিনিয়োগ আকর্ষণ, শিল্প খাতে দক্ষতা বৃদ্ধি এবং রপ্তানি পণ্যের বৈচিত্র্য আনার ক্ষেত্রেও সহযোগিতা সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে।

অন্যদিকে, জাপানের জন্যও বাংলাদেশের গুরুত্ব রয়েছে। বাংলাদেশের বৃহৎ শ্রমশক্তি, উৎপাদন সক্ষমতা এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সংযোগের সম্ভাবনা দেশটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারে পরিণত করেছে। দুই দেশের স্বার্থের এই মিল কাজে লাগাতে পারলে সহযোগিতা দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সুবিধায় রূপ নিতে পারে।

তবে সমঝোতা স্মারক সইয়ের সংখ্যাই সম্পর্কের সাফল্যের একমাত্র সূচক নয়। এসব সমঝোতার আওতায় কী ধরনের প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে, কত দ্রুত সেগুলো বাস্তবায়িত হচ্ছে এবং বাংলাদেশের অর্থনীতি ও জনগণ কতটা সরাসরি উপকৃত হচ্ছে—এসব বিষয়ই শেষ পর্যন্ত বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

কালের আলো/এমএইচ/এমকে

ফেসবুকে স্নাইপার মন্তব্য, সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় কারাগারে আবু বকর

আদালত প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৫৪ অপরাহ্ণ
ফেসবুকে স্নাইপার মন্তব্য, সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় কারাগারে আবু বকর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজশাহী সফরের সময় রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) বাসে চড়ার ছবি ঘিরে ফেসবুকে বিতর্কিত মন্তব্য করার অভিযোগে মো. আবু বকর সিদ্দিককে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান এ আদেশ দেন।

আবু বকর সিদ্দিকের বিরুদ্ধে রাজধানীর রমনা থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রমনা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ইয়াছিন পাইক তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করলে আদালত এ নির্দেশ দেন।

ফেসবুক পোস্টের মন্তব্য ঘিরে মামলা
মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট আবেদনে বলা হয়েছে, গত ২১ অক্টোবর ফেসবুকের ‘দ্য বিউটি অব রাজশাহী’ নামের একটি গ্রুপে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বহনকারী একটি বাসের তিনটি ছবি প্রকাশ করা হয়। পোস্টটিতে রাজশাহী সফরের সময় প্রধানমন্ত্রীর জন্য ব্যবহৃত যানবাহন নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল।

পোস্টের ক্যাপশনে লাল-সবুজ রঙের বুলেটপ্রুফ বাসের পরিবর্তে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস ব্যবহারের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। ওই পোস্টের মন্তব্যের ঘরে ‘মো. আবু বকর সিদ্দিক’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে লেখা হয়, ‘ইস একটা বড় সুযোগ ছিল, শুধু একটা স্নাইপারের অভাব ছিল।’ মামলার এজাহারে মন্তব্যটিকে ঘিরে অভিযোগের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। এ মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

প্রযুক্তির সহায়তায় শনাক্তের দাবি পুলিশের
তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মন্তব্য করা ফেসবুক আইডির ব্যবহারকারীকে শনাক্ত করা হয়। পরে রাজশাহী মহানগরীর পবা থানার ঘোলহাড়িয়া দক্ষিণপাড়া এলাকা থেকে আবু বকর সিদ্দিককে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের সময় তার বাবা মো. আয়নাল হককেও আটক করা হয়েছিল। তবে প্রাথমিক তদন্তে এ ঘটনায় তার বাবার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি বলে জানায় পুলিশ। এ কারণে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

মোবাইল ফোন জব্দ, আরও তদন্তের আবেদন
আদালতে দেওয়া আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা জানান, আবু বকর সিদ্দিককে গ্রেপ্তারের পর তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। ফোনটি পর্যালোচনা করে বিভিন্ন ফেসবুক পেজ ও গ্রুপে আপত্তিকর মন্তব্যের তথ্য পাওয়া গেছে বলে তদন্ত আবেদনে দাবি করা হয়।

মামলার প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন এবং এজাহারে উল্লেখ করা অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজনকে শনাক্ত করার জন্য আবু বকর সিদ্দিককে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়। তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। তবে মামলার তদন্ত ও অভিযোগের বিষয়ে আদালতে চূড়ান্তভাবে কী সিদ্ধান্ত আসে, তা পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। এ ঘটনায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগের উপপরিদর্শক মো. মানিক হোসেন বাদী হয়ে রাজধানীর রমনা থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলাটি দায়ের করেন।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি