খুঁজুন
                               
, ,
           

প্রচলিত ধ্যান-ধারণা পাল্টে কালজয়ী মানবতার উজ্জ্বল আভায় সেনাবাহিনী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ১৭ মে, ২০২০, ১২:৫৭ অপরাহ্ণ
প্রচলিত ধ্যান-ধারণা পাল্টে কালজয়ী মানবতার উজ্জ্বল আভায় সেনাবাহিনী

এম.আব্দুল্লাহ আল মামুন খান, অ্যাকটিং এডিটর, কালের আলো :

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী নামটি উচ্চারণের সঙ্গে সঙ্গেই চোখের সামনে ভেসে আসে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জীবনবাজি রাখা দেশপ্রেমিক এক বাহিনী। গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা রক্ষা কিংবা ভোটের মাঠে সরকারি নির্দেশে ভয়-শঙ্কা দূর করে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতেই তৎপরতা চালানোরও নজিরও রয়েছে জাতির এই সূর্য সন্তানদের।

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে আভিযানিক দক্ষতা ও সক্ষমতাতেও দু:সাহসী এ সেনারাই সেরাদের সেরা। দেশের সেবায় আত্ননিয়োগের সংকল্পে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ প্রশিক্ষিত ও সুশৃঙ্খল এই বাহিনী হাল সময়ে প্রচলিত সব ধারণা পাল্টে কালজয়ী নতুন চেহারায় নিজেদের উপস্থাপন করেছেন।

অতীতে বন্দুক উঁচিয়ে কঠোর মানসিকতার সেনাবাহিনী এবার করোনার মহাদুর্যোগে নিজেদের সম্পর্কিত প্রচলিত সব ধ্যান-ধারণাই আমুল বদলে দিয়েছেন। ‘মানবতার জননী’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশেই সৃজন-মননের সন্নিবেশে বহুমাত্রিক কাজের মাধ্যমেই মানবতার উজ্জ্বল আভায় বিনির্মাণ করেছেন নিজেদের।

সুবিশাল মহাসমুদ্রের ঔদার্য্যে সমাজ জীবনে পুরনো প্রচলিত রীতি ভেঙে নতুন নতুন কনসেপ্ট সামনে এনেছেন। হৃদয় দিয়েই যেন কিনেছেন দু:খ ভারাক্রান্ত, জীবন যুদ্ধে থমকে দাঁড়ানো অর্ধাহার-অনাহারে থাকা মানুষের হৃদয়।

মানবতা, মনুষ্যত্ব আর নিজেদের ঐক্যের মহান ঐতিহ্য ধারণ করেই নীরবে পথ চলেছেন ৫৬ হাজারের বর্গমাইলে। করোনা সঙ্কটেও মানবতার টানে অসহায়, দুস্থ ও কর্মহীন মানুষকে পরম মমতার চাদরে পরশ বুলিয়েছেন।

গরিব ও অভাবী মানুষের জীবনের কঠিন বিপদসংকুল সময়ে পাশে থেকে মানবতা ও মনুষ্যত্বের মহোত্তম সঙ্গীতে কন্ঠ মিলিয়ে মহাকালের বিশাল ক্যানভাস রাঙিয়েছেন।

দেশ-কালের গন্ডি পেরিয়ে নিজেদের কীর্তি ও কৃতিত্বে বিশ্ব মানবতার ইতিহাসের পাতায় কীভাবে ঠাঁই করে নিতে হয় সেটিও চোখ বরাবর আঙুল রেখেই যেন দেখিয়ে দিয়েছেন সবাইকে।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদের কূশলী-বিচক্ষণ নেতৃত্ব, নিবিড় মনিটরিং আর দূরদর্শী চিন্তা-ভাবনায় মানবিক মূল্যবোধের অপূর্ব সমন্বয়ে করোনা দুর্যোগে নতুন নতুন ভাবনা চিন্তার সন্নিবেশ ঘটিয়েছেন। আধুনিক তথ্য প্রযুক্তিকেও কাজে লাগিয়েছেন।

অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে সম্মিলিত প্রয়াসে সুরক্ষিত করেছেন সতের কোটির বাংলাদেশকে।

দেশজুড়ে সামাজিক দূরত্ব আর হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিতের নিয়মতান্ত্রিক কাজের বাইরেও হুড়োহুড়ি বা বিশৃঙ্খলার যবনিকাপাত ঘটিয়ে ছেড়েছেন।

নির্জন রাতে দরজায় দরজায় গিয়ে খাবার পৌঁছে দেওয়ার নতুন প্রথাও চালু করেছেন দেশের প্রতিটি প্রাকৃতিক দুর্যোগে দুর্গত মানুষের আপদে-বিপদে পাশে দাঁড়ানো বাহিনীটির গর্বিত সদস্যরা।

নিজেদের বিচিত্র অভিজ্ঞতা ও কর্মদক্ষতাকে ছড়িয়ে দিয়েছেন নানা দিকে, নানা প্রান্তে।

শারীরিক দূরত্ব বজায়ে বৃত্তের মাধ্যমে দূরত্ব চিহ্নিত, বাজারে বা গুরুত্বপূর্ণ সড়কে জীবাণুনাশক ট্যানেল, রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি আইডেটিফিকেশনের (আরএফআইডি) মাধ্যমে খাবার সহায়তা, বিনামূল্যে পছন্দনীয় সব সবজির সমাহারে এক মিনিটের বাজার, প্রান্তিক কৃষকের লোকসান ঠেকাতে সবজি কিনে আবার দুস্থদের সরবরাহ করা ইত্যাকার থিউরিরও উদ্ভাবক সেনাবাহিনীই।

নিজেদের সৃষ্টিশীলতা, অদম্য মনোবল, সাহস, কর্মদক্ষতা, নিষ্ঠা ও শৃঙ্খলার মাধ্যমে প্রায় দেড় মাসে সুনামগঞ্জ থেকে সুন্দরবন, কুতুবদিয়া থেকে তেতুলিয়ায় সেনাবাহিনী জাতির প্রয়োজনে বেসামরিক প্রশাসনকে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তার পাশাপাশি কার্যকর ভূমিকারও সুনাম ছড়িয়েছে।

দেশমাতৃকার সার্বিক সেবায় মহান ব্রত নিয়েই করোনার বিরুদ্ধে লড়াই করে যাচ্ছে বীরদর্পেই।

গরিব, কর্মহীন ও অসহায় মানুষের মুখে আহার তুলে দিতে ত্রাণ বিতরণে বিশৃঙ্খলাই যখন নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছিল তখন এ মানবিক সহায়তা কার্যক্রমেও নতুন কর্মপদ্ধতি চালু করে সেনাবাহিনী। সুশৃঙ্খলভাবে ত্রাণ বিতরণের জন্য জেলায় জেলায় গ্রহণ করে পাইলট প্রকল্প।

মুন্সীগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলায় রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি আইডেটিফিকেশনের (আরএফআইডি) কার্ডের মাধ্যমে ত্রাণ বিতরণ করে সেনাবাহিনীর নবম পদাতিক ডিভিশনের পদ্মা সেতুর ৯৯ কম্পোজিট ব্রিগেড।

নিজেদের রেশনের টাকায় তালিকা অনুযায়ী নিত্যপণ্য সামগ্রী কখনও নদী পেরিয়ে আবার পিচঢালা সড়ক বা গ্রামীণ আঁকাবাঁকা সড়ক মাড়িয়ে নীরবে-নিভৃতে দিনমান বা রাতে বাড়ির চৌহদ্দিতে পৌঁছে দিয়েও সম্মুখ যোদ্ধা হিসেবেই দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

মাত্র এক মাসেই কমপক্ষে ২০ হাজার অসহায় মানুষকে খাদ্য সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সেনাবাহিনীর ২৪ পদাতিক ডিভিশনের ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড। ইতোমধ্যেই দুই দিনে প্রায় দুই হাজার গরিব অসহায় মানুষ ‘এক মিনিটের বাজার’ থেকে চাল, ডাল, সবজিসহ সবকিছুই পেয়েছেন উপহার হিসেবে।

বন্দর নগরী চট্টগ্রামের নিম্ন আয়ের মানুষজনকে ডাটাবেইজের আওতায় আনা হচ্ছে প্রথমে। পরে তাদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে টোকেন। সেই টোকেনের মাধ্যমেই মাত্র এক মিনিটেই পাচ্ছেন সবজিসহ রকমারি পণ্য। পরম মমতায় আপনজনের মতোই তাদের হাতে দেওয়া হচ্ছে এসব সামগ্রী।

অনন্য এ আয়োজন প্রকৃত অর্থেই জীবন বাস্তবতার কঠিন এই সময়ে বেঁচে থাকার নিয়ামক। হুইল চেয়ারে বন্দি জীবনের মানুষজনও পাচ্ছেন পেটের দায় মেটানোর পণ্য সামগ্রী।

সংক্রমণের ঝুঁকি এড়ানোর পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতিকে উজ্জীবিত করা ও সামাজিক দূরত্বের কঠোর অনুশাসন মানার মডেলও হয়ে উঠেছে এক মিনিটের বাজার।

চট্টগ্রামের এ মডেল প্রশংসিত হওয়ার পর রাঙ্গামাটিতে সাড়া ফেলেছে অভিনব এ বাজার। এতে খুশি সেখানকার অসহায় মানুষও। এসব বাজারের মাধ্যমে আবার কৃষকদেরও স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। করোনায় সবজির বাজারে ধ্বস নামার ঘটনায় ক্ষোভের অনলে পুড়তে থাকা কৃষকদেরও স্বস্তির উপলক্ষ্য এনে দিয়েছে সেনা সদস্যরা।

কারণ, এক মিনিটের বাজারের কেজি কেজি সবজি কেনা হচ্ছে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকেই, ন্যায্যমূল্যে। রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, ময়মনসিংহ, রংপুর, যশোরসহ প্রায় প্রতিটি জেলাতেই কৃষকদের বাঁচাতে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে দেশের আস্থা ও গর্বের প্রতীক বাহিনীটির সদস্যরা।

সম্প্রতি সেনাবাহিনীর জেনারেল অফিসার কমান্ডিংদের (জিওসি) সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ভিডিও কনফারেন্সে গরিব, দুস্থ ও অসহায় মানুষের মাঝে নিজেদের রেশনের একাংশ বাঁচিয়ে ত্রাণ সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার নির্দেশ দেন বাহিনীর প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ।

পাশাপাশি প্রান্তিক পর্যায়ে ফসলের মাঠের নায়কদের আর্থিকভাবে লাভবান করতেই তাদের কাছ থেকে সবজি সংগ্রহ করে নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে অসহায়ের হাতে তুলে দেওয়ারও ‘গাইড লাইন’ দিয়েছেন।

সময়োপযোগী এসব নির্দেশনার মাধ্যমে কৃষকের সঙ্গে অভাবী মানুষজনও উপকৃত হচ্ছে। যুগান্তকারী এমন পদক্ষেপ আরও একবার জনমানসে সেনাবাহিনীর তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকাকেই মোটা দাগে উপস্থাপন করেছে।

সৃজনশীলতা, মানবিকতা ও মূল্যবোধের মাধ্যমে করোনার দহন দিনে টালমাটাল দেশকে অন্ধকার সরিয়ে আলোর পথে নিয়ে যেতে ক্লান্তিহীনভাবেই কাজ করে যাচ্ছে আপোসহীন ও রক্তক্ষয়ী মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে জন্ম নেওয়া বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত মানুষকে সুরক্ষার এই যুদ্ধে সেনারা ঋজু ও অমল কন্ঠেই অবিচল রয়েছেন। দেশ ও দেশের মানুষের প্রশ্নে তাদের নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও সততা প্রাণিত করেছে লাল-সবুজের বাংলাদেশকে।

আশা-নিরাশার সকাল, দোলাচলের দুপুর পেরিয়ে অনিন্দ্য সুন্দর সোনালী সন্ধা বা গহীন রাতেও বাঙালির চিত্ত, মন ও মানসিকতায় গভীরভাবেই প্রোথিত হয়ে থাকবে দেশপ্রেমিক সেনাদের নাম।

কবির ভাষায় কন্ঠে কন্ঠেই যেন গুঞ্জণ-গুঞ্জরিত হবে- ‘বল বীর/বল উন্নত মম শির!’ চৌকস ও সুশৃঙ্খল সেনাদের জন্য ভালোবাসা অবিরাম।

কালের আলো/এমএএএমকে

টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে এগিয়ে যাওয়ার লড়াইয়ে বাংলাদেশ

ক্রীড়া প্রতিবেদক,কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ২:১৭ পূর্বাহ্ণ
টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে এগিয়ে যাওয়ার লড়াইয়ে বাংলাদেশ

আইসিসি ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে প্রথমবারের মতো জায়গা করে নেওয়ার স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ। সেই লক্ষ্য সামনে রেখে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে মাঠে নামছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। অন্যদিকে, পয়েন্ট তালিকার নিচের দিকে থাকা ক্যারিবীয়দের লক্ষ্য নিজেদের অবস্থানের উন্নতি করা। ফলে দুই দলের জন্যই সিরিজটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুরু হচ্ছে সিরিজের প্রথম টেস্ট। দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট শুরু হবে ৫ নভেম্বর সিলেটে। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই ম্যাচেই পয়েন্ট অর্জনের সুযোগ থাকছে দুই দলের সামনে।

ফাইনালের স্বপ্নই বাংলাদেশের অনুপ্রেরণা
বর্তমানে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকার চতুর্থ স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। এটি দলটির জন্য উল্লেখযোগ্য অবস্থান। সামনের ম্যাচগুলোতে ভালো ফল করতে পারলে প্রথমবারের মতো ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে। সিরিজের আগে সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত বলেন, টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে খেলার সম্ভাবনাকে তাঁরা চাপ হিসেবে নয়, বরং অনুপ্রেরণা হিসেবে দেখছেন।

শান্তর ভাষ্য, দল প্রস্তুতি শুরুর পর থেকেই সাম্প্রতিক সিরিজগুলোতে নিজেদের পারফরম্যান্স নিয়ে আলোচনা করেছে। বাড়তি কিছু করার চেষ্টা না করে নিজেদের স্বাভাবিক খেলা এবং ইতিবাচক ফল এনে দেওয়া প্রক্রিয়াগুলো অনুসরণ করতে চান তাঁরা। অধিনায়ক বলেন, গুরুত্বপূর্ণ সিরিজ হলেও দল নিজেদের পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলতে চায়। খেলোয়াড়দের ওপর অবাস্তব প্রত্যাশা না চাপিয়ে নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী পারফর্ম করার দিকেই মনোযোগ দিচ্ছেন তাঁরা।

চার জয়ে ফাইনালের সম্ভাবনা
ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের পর দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যাবে বাংলাদেশ। এরপর জানুয়ারিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ঘরের মাঠে দুই টেস্টের সিরিজ খেলার কথা রয়েছে। সব মিলিয়ে সামনে থাকা ছয়টি টেস্ট বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা সমীকরণ অনুযায়ী, এই ছয় ম্যাচের মধ্যে চারটিতে জিততে পারলে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা তৈরি হবে বাংলাদেশের সামনে। তবে চূড়ান্ত অবস্থান নির্ভর করবে অন্য দলগুলোর ফল এবং পয়েন্ট তালিকার হিসাবের ওপরও। অন্যদিকে, বর্তমানে তালিকার আট নম্বরে থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজের লক্ষ্য সেরা ছয়ের মধ্যে থেকে চক্র শেষ করা। ফলে সিরিজের প্রতিটি ম্যাচেই পয়েন্ট অর্জনের জন্য লড়তে হবে ক্যারিবীয়দের।

পরিসংখ্যানে এগিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ
টেস্ট ক্রিকেটে মুখোমুখি লড়াইয়ের পরিসংখ্যানে বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দুই দল এখন পর্যন্ত ২২টি টেস্ট খেলেছে। এর মধ্যে ক্যারিবীয়রা জিতেছে ১৫টিতে, বাংলাদেশ পাঁচটিতে। বাকি দুটি ম্যাচ ড্র হয়েছে। এটি দুই দলের ১২তম টেস্ট সিরিজ। আগের সিরিজগুলোর মধ্যে ওয়েস্ট ইন্ডিজ আটটি এবং বাংলাদেশ দুটি জিতেছে। একটি সিরিজ ড্র হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাংলাদেশের মাটিতে দুই দলের আগের ১০ টেস্টের মধ্যে ওয়েস্ট ইন্ডিজ জিতেছে সাতটিতে। বাংলাদেশ জয় পেয়েছে দুটি ম্যাচে, অন্যটি ড্র হয়েছে। মিরপুরে দুই দলের আগের চার টেস্টের তিনটিতে জিতেছে ক্যারিবীয়রা, বাংলাদেশ জিতেছে একটিতে। ২০২১ সালে মিরপুরে সর্বশেষ টেস্টে বাংলাদেশকে ১৭ রানে হারিয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এবার ঘরের মাঠে সেই পরিসংখ্যান বদলানোর লক্ষ্য থাকবে স্বাগতিকদের।

সাম্প্রতিক ফল নিয়ে সতর্ক বাংলাদেশ
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের পারফরম্যান্সে ধারাবাহিকতার ঘাটতি দেখা গেছে। পাকিস্তানের বিপক্ষে ঘরের মাঠে দুই টেস্টের সিরিজ ২-০ ব্যবধানে জয়ের পর জিম্বাবুয়ের মাঠে ইনিংস ব্যবধানে হারের অভিজ্ঞতা হয়েছে দলের। পরে অস্ট্রেলিয়া সফরে ডারউইন টেস্টে স্বাগতিকদের হারিয়ে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দেয় বাংলাদেশ। তবে সম্প্রতি আবুধাবিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্ট ড্র করার পর ত্রিদেশীয় সিরিজের দুই ম্যাচেই হেরেছে দলটি। এমন পরিস্থিতিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ বাংলাদেশের জন্য নিজেদের গুছিয়ে নেওয়ার সুযোগও। ঘরের মাঠে পরিচিত কন্ডিশন কাজে লাগিয়ে ভালো ফল করতে চাইবে শান্তর দল।

পেস আক্রমণে তাসকিনসহ চারজন
গুরুত্বপূর্ণ এই সিরিজে বাংলাদেশের পেস আক্রমণে থাকছেন তাসকিন আহমেদ, এবাদত হোসেন, হাসান মাহমুদ ও শরিফুল ইসলাম। তাঁদের ভূমিকা এবং কন্ডিশন অনুযায়ী খেলোয়াড় নির্বাচন নিয়ে আশাবাদী অধিনায়ক শান্ত।

তিনি বলেন, পেসাররা প্রত্যেকে নিজেদের ভূমিকা সম্পর্কে জানেন। কোন পরিস্থিতিতে কে খেলবেন, সে বিষয়েও তাঁদের ধারণা রয়েছে। সিরিজের যেকোনো ম্যাচে খেলার জন্য প্রত্যেকে প্রস্তুত থাকাটা দলের জন্য ইতিবাচক দিক বলে মনে করেন তিনি। সব মিলিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজে বাংলাদেশের সামনে রয়েছে দুটি লক্ষ্য—টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকায় নিজেদের অবস্থান ধরে রাখা এবং ফাইনালের স্বপ্নের পথে এগিয়ে যাওয়া। তবে প্রতিপক্ষের বিপক্ষে অতীতের পরিসংখ্যান ও সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের ওঠানামা বিবেচনায় নিয়ে প্রতিটি ম্যাচেই সতর্ক থাকতে হবে স্বাগতিকদের।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

আইজিপির বক্তব্য নিয়ে ব্যাখ্যা দিল বিপিএসএ

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ২:০৩ পূর্বাহ্ণ
আইজিপির বক্তব্য নিয়ে ব্যাখ্যা দিল বিপিএসএ

আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে পুলিশ সদস্যরা অযথা দ্বিধাগ্রস্ত হলে অপরাধীরা উৎসাহিত হতে পারে এবং সামগ্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার কার্যকারিতা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছে বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএসএ)। একই সঙ্গে আইনের সীমার মধ্যে থেকে দৃঢ়তা, নিরপেক্ষতা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে সংগঠনটি।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীনের সই করা এক বিবৃতিতে এসব কথা জানানো হয়। বিবৃতিতে দেশের পরিবর্তিত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মব কালচার এবং ৫ আগস্ট-পরবর্তী প্রেক্ষাপটে পুলিশ সদস্যদের পেশাগত দায়িত্ব পালন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে।

আইজিপির বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল বিপিএসএ
সোমবার পুরান ঢাকার চকবাজারে একটি কমিউনিটি ব্যাংকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) দেওয়া বক্তব্যকে প্রচলিত আইন ও বিধিবিধানের আলোকে বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছে বিপিএসএ। সংগঠনটির বিবৃতিতে বলা হয়, আইজিপির বক্তব্যের মূল তাৎপর্য ছিল—আইনের সীমার মধ্যে থেকে পরিস্থিতি অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া এবং পুলিশ সদস্যদের পেশাগত আত্মবিশ্বাস ও দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা নিশ্চিত করা। বিপিএসএর মতে, অপরাধ দমনে আইনগত ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রে পুলিশ সদস্যদের অযথা দ্বিধাগ্রস্ত হওয়া উচিত নয়। দায়িত্ব পালনের সময় আইন প্রয়োগে অকারণ দ্বিধা তৈরি হলে অপরাধীরা উৎসাহিত হতে পারে। এতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কা রয়েছে বলেও মনে করে সংগঠনটি।

১০ মাসে পুলিশের ওপর ১৭৬ হামলা
বিবৃতিতে পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলার পরিসংখ্যান তুলে ধরে বিপিএসএ জানায়, ২০২৬ সালের প্রথম ১০ মাসে দায়িত্ব পালনকালে পুলিশ সদস্যদের ওপর ১৭৬টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় চারজন পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন এবং গুরুতর আহত হয়েছেন ৩৭০ জন। সংগঠনটির ভাষ্য, পুলিশের ওপর হামলার এসব ঘটনা সদস্যদের নিরাপত্তা ও উপযুক্ত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে। দায়িত্ব পালনকালে পুলিশ সদস্যদের ব্যক্তিগত আত্মরক্ষার অধিকার এবং প্রচলিত আইন ও বিধিবিধান অনুসরণের সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি। বিপিএসএ মনে করে, নিরাপদ কর্মপরিবেশ থাকলে পুলিশ সদস্যরা আরও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। তবে সেই দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আইনগত সীমারেখা মেনে চলার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

আইনের মধ্যে থেকেই দৃঢ়ভাবে দায়িত্ব পালনের তাগিদ
বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশ পুলিশ সংবিধান ও প্রচলিত আইন অনুসরণ করে কার্যক্রম পরিচালনা করে। এসব আইনের মধ্যে রয়েছে দণ্ডবিধি, ১৮৬০; ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮; পুলিশ আইন, ১৮৬১ এবং পুলিশ রেগুলেশনস অব বেঙ্গল। তবে মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে পুলিশ সদস্যদের বিভিন্ন প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে বলে উল্লেখ করেছে সংগঠনটি। এ পরিস্থিতিতে আইন অতিক্রম না করে দৃঢ়তা, নিরপেক্ষতা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। বিপিএসএর মতে, অপরাধ দমন ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পুলিশের প্রতি জনগণের আস্থা সুদৃঢ় করাও গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য আইন প্রয়োগে পেশাদার আচরণ, নিরপেক্ষতা এবং বিধিবিধানের যথাযথ অনুসরণ প্রয়োজন।

জননিরাপত্তায় পুলিশের সক্ষমতা বাড়ানোর আহ্বান
বিবৃতিতে আইজিপির বক্তব্যকে অপরাধ দমনে কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তা রক্ষায় পুলিশের সক্ষমতা আরও জোরদার করার সময়োপযোগী আহ্বান হিসেবে বিবেচনা করার অনুরোধ জানিয়েছে পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনটির বক্তব্য অনুযায়ী, পুলিশ সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইন প্রয়োগে তাঁদের পেশাগত আত্মবিশ্বাস বজায় রাখা—দুটি বিষয়ই গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে দায়িত্ব পালনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আইনগত সীমা, নিরপেক্ষতা ও পেশাদারত্ব বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

৩১ অক্টোবর ১১ দলের লংমার্চ, বাধা এলে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:০৮ অপরাহ্ণ
৩১ অক্টোবর ১১ দলের লংমার্চ, বাধা এলে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা

আগামী ৩১ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চে কোনো ধরনের বাধা বা অপতৎপরতা চালানো হলে তা প্রতিহত করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ১১ দলীয় ঐক্য। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই ও শাপলা চত্বরের হত্যাকাণ্ডের বিচার, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ, বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকট নিরসন এবং দুর্নীতি-চাঁদাবাজি বন্ধের দাবিতে এ কর্মসূচি পালন করবে জোটটি।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক এসব কথা জানান। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

মামুনুল হক জানান, লংমার্চের তৃতীয় ধাপের কর্মসূচি আগামী ৩১ অক্টোবর সকাল ৭টায় বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে উদ্বোধনী সমাবেশের মধ্য দিয়ে শুরু হবে। এরপর বিভিন্ন স্থানে সমাবেশ শেষে কর্মসূচি কুষ্টিয়ায় গিয়ে শেষ হবে।

তিনি বলেন, লংমার্চ সফল করতে প্রশাসন সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে। তবে কোনো পক্ষ অপতৎপরতা চালালে যেকোনো মূল্যে তা প্রতিহত করা হবে।

গোপালগঞ্জের ওপর দিয়ে লংমার্চ যাওয়ার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মামুনুল হক বলেন, তাঁরা সেখানে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির আশঙ্কা করছেন না। কর্মসূচিতে ইসলামপন্থি ও দেশপ্রেমিক বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেবেন বলে আশা করছেন তাঁরা। কোনো অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে এর দায় সরকার ও প্রশাসনকে নিতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সরকারের সমালোচনা করে খেলাফত মজলিসের আমির বলেন, বিরোধী দল সরকারকে সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে কাজ করলেও সরকারের আচরণে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। প্রয়োজনে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মামুনুল হক। তাঁর অভিযোগ, ইসি সচিব পর্যায়ে দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ এবং ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচনে কমিশনের ভূমিকা নিয়ে তাঁদের প্রশ্ন রয়েছে। ভোটাধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হলে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বড় ধরনের কর্মসূচি দেওয়া হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

এ ছাড়া পুলিশের মহাপরিদর্শকের বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বা ক্রসফায়ার নিয়ে সাম্প্রতিক বক্তব্যের সমালোচনা করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক রাষ্ট্রীয় সফর নিয়েও প্রশ্ন তুলে সফরে অংশগ্রহণকারীদের নির্বাচন নিয়ে সমালোচনা করেন।

বৈঠকে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, এলডিপির প্রেসিডেন্ট কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ ১১ দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি