খুঁজুন
                               
মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ১২ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

প্রচলিত ধ্যান-ধারণা পাল্টে কালজয়ী মানবতার উজ্জ্বল আভায় সেনাবাহিনী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ১৭ মে, ২০২০, ১২:৫৭ অপরাহ্ণ
প্রচলিত ধ্যান-ধারণা পাল্টে কালজয়ী মানবতার উজ্জ্বল আভায় সেনাবাহিনী

এম.আব্দুল্লাহ আল মামুন খান, অ্যাকটিং এডিটর, কালের আলো :

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী নামটি উচ্চারণের সঙ্গে সঙ্গেই চোখের সামনে ভেসে আসে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জীবনবাজি রাখা দেশপ্রেমিক এক বাহিনী। গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা রক্ষা কিংবা ভোটের মাঠে সরকারি নির্দেশে ভয়-শঙ্কা দূর করে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতেই তৎপরতা চালানোরও নজিরও রয়েছে জাতির এই সূর্য সন্তানদের।

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে আভিযানিক দক্ষতা ও সক্ষমতাতেও দু:সাহসী এ সেনারাই সেরাদের সেরা। দেশের সেবায় আত্ননিয়োগের সংকল্পে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ প্রশিক্ষিত ও সুশৃঙ্খল এই বাহিনী হাল সময়ে প্রচলিত সব ধারণা পাল্টে কালজয়ী নতুন চেহারায় নিজেদের উপস্থাপন করেছেন।

অতীতে বন্দুক উঁচিয়ে কঠোর মানসিকতার সেনাবাহিনী এবার করোনার মহাদুর্যোগে নিজেদের সম্পর্কিত প্রচলিত সব ধ্যান-ধারণাই আমুল বদলে দিয়েছেন। ‘মানবতার জননী’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশেই সৃজন-মননের সন্নিবেশে বহুমাত্রিক কাজের মাধ্যমেই মানবতার উজ্জ্বল আভায় বিনির্মাণ করেছেন নিজেদের।

সুবিশাল মহাসমুদ্রের ঔদার্য্যে সমাজ জীবনে পুরনো প্রচলিত রীতি ভেঙে নতুন নতুন কনসেপ্ট সামনে এনেছেন। হৃদয় দিয়েই যেন কিনেছেন দু:খ ভারাক্রান্ত, জীবন যুদ্ধে থমকে দাঁড়ানো অর্ধাহার-অনাহারে থাকা মানুষের হৃদয়।

মানবতা, মনুষ্যত্ব আর নিজেদের ঐক্যের মহান ঐতিহ্য ধারণ করেই নীরবে পথ চলেছেন ৫৬ হাজারের বর্গমাইলে। করোনা সঙ্কটেও মানবতার টানে অসহায়, দুস্থ ও কর্মহীন মানুষকে পরম মমতার চাদরে পরশ বুলিয়েছেন।

গরিব ও অভাবী মানুষের জীবনের কঠিন বিপদসংকুল সময়ে পাশে থেকে মানবতা ও মনুষ্যত্বের মহোত্তম সঙ্গীতে কন্ঠ মিলিয়ে মহাকালের বিশাল ক্যানভাস রাঙিয়েছেন।

দেশ-কালের গন্ডি পেরিয়ে নিজেদের কীর্তি ও কৃতিত্বে বিশ্ব মানবতার ইতিহাসের পাতায় কীভাবে ঠাঁই করে নিতে হয় সেটিও চোখ বরাবর আঙুল রেখেই যেন দেখিয়ে দিয়েছেন সবাইকে।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদের কূশলী-বিচক্ষণ নেতৃত্ব, নিবিড় মনিটরিং আর দূরদর্শী চিন্তা-ভাবনায় মানবিক মূল্যবোধের অপূর্ব সমন্বয়ে করোনা দুর্যোগে নতুন নতুন ভাবনা চিন্তার সন্নিবেশ ঘটিয়েছেন। আধুনিক তথ্য প্রযুক্তিকেও কাজে লাগিয়েছেন।

অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে সম্মিলিত প্রয়াসে সুরক্ষিত করেছেন সতের কোটির বাংলাদেশকে।

দেশজুড়ে সামাজিক দূরত্ব আর হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিতের নিয়মতান্ত্রিক কাজের বাইরেও হুড়োহুড়ি বা বিশৃঙ্খলার যবনিকাপাত ঘটিয়ে ছেড়েছেন।

নির্জন রাতে দরজায় দরজায় গিয়ে খাবার পৌঁছে দেওয়ার নতুন প্রথাও চালু করেছেন দেশের প্রতিটি প্রাকৃতিক দুর্যোগে দুর্গত মানুষের আপদে-বিপদে পাশে দাঁড়ানো বাহিনীটির গর্বিত সদস্যরা।

নিজেদের বিচিত্র অভিজ্ঞতা ও কর্মদক্ষতাকে ছড়িয়ে দিয়েছেন নানা দিকে, নানা প্রান্তে।

শারীরিক দূরত্ব বজায়ে বৃত্তের মাধ্যমে দূরত্ব চিহ্নিত, বাজারে বা গুরুত্বপূর্ণ সড়কে জীবাণুনাশক ট্যানেল, রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি আইডেটিফিকেশনের (আরএফআইডি) মাধ্যমে খাবার সহায়তা, বিনামূল্যে পছন্দনীয় সব সবজির সমাহারে এক মিনিটের বাজার, প্রান্তিক কৃষকের লোকসান ঠেকাতে সবজি কিনে আবার দুস্থদের সরবরাহ করা ইত্যাকার থিউরিরও উদ্ভাবক সেনাবাহিনীই।

নিজেদের সৃষ্টিশীলতা, অদম্য মনোবল, সাহস, কর্মদক্ষতা, নিষ্ঠা ও শৃঙ্খলার মাধ্যমে প্রায় দেড় মাসে সুনামগঞ্জ থেকে সুন্দরবন, কুতুবদিয়া থেকে তেতুলিয়ায় সেনাবাহিনী জাতির প্রয়োজনে বেসামরিক প্রশাসনকে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তার পাশাপাশি কার্যকর ভূমিকারও সুনাম ছড়িয়েছে।

দেশমাতৃকার সার্বিক সেবায় মহান ব্রত নিয়েই করোনার বিরুদ্ধে লড়াই করে যাচ্ছে বীরদর্পেই।

গরিব, কর্মহীন ও অসহায় মানুষের মুখে আহার তুলে দিতে ত্রাণ বিতরণে বিশৃঙ্খলাই যখন নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছিল তখন এ মানবিক সহায়তা কার্যক্রমেও নতুন কর্মপদ্ধতি চালু করে সেনাবাহিনী। সুশৃঙ্খলভাবে ত্রাণ বিতরণের জন্য জেলায় জেলায় গ্রহণ করে পাইলট প্রকল্প।

মুন্সীগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলায় রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি আইডেটিফিকেশনের (আরএফআইডি) কার্ডের মাধ্যমে ত্রাণ বিতরণ করে সেনাবাহিনীর নবম পদাতিক ডিভিশনের পদ্মা সেতুর ৯৯ কম্পোজিট ব্রিগেড।

নিজেদের রেশনের টাকায় তালিকা অনুযায়ী নিত্যপণ্য সামগ্রী কখনও নদী পেরিয়ে আবার পিচঢালা সড়ক বা গ্রামীণ আঁকাবাঁকা সড়ক মাড়িয়ে নীরবে-নিভৃতে দিনমান বা রাতে বাড়ির চৌহদ্দিতে পৌঁছে দিয়েও সম্মুখ যোদ্ধা হিসেবেই দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

মাত্র এক মাসেই কমপক্ষে ২০ হাজার অসহায় মানুষকে খাদ্য সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সেনাবাহিনীর ২৪ পদাতিক ডিভিশনের ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড। ইতোমধ্যেই দুই দিনে প্রায় দুই হাজার গরিব অসহায় মানুষ ‘এক মিনিটের বাজার’ থেকে চাল, ডাল, সবজিসহ সবকিছুই পেয়েছেন উপহার হিসেবে।

বন্দর নগরী চট্টগ্রামের নিম্ন আয়ের মানুষজনকে ডাটাবেইজের আওতায় আনা হচ্ছে প্রথমে। পরে তাদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে টোকেন। সেই টোকেনের মাধ্যমেই মাত্র এক মিনিটেই পাচ্ছেন সবজিসহ রকমারি পণ্য। পরম মমতায় আপনজনের মতোই তাদের হাতে দেওয়া হচ্ছে এসব সামগ্রী।

অনন্য এ আয়োজন প্রকৃত অর্থেই জীবন বাস্তবতার কঠিন এই সময়ে বেঁচে থাকার নিয়ামক। হুইল চেয়ারে বন্দি জীবনের মানুষজনও পাচ্ছেন পেটের দায় মেটানোর পণ্য সামগ্রী।

সংক্রমণের ঝুঁকি এড়ানোর পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতিকে উজ্জীবিত করা ও সামাজিক দূরত্বের কঠোর অনুশাসন মানার মডেলও হয়ে উঠেছে এক মিনিটের বাজার।

চট্টগ্রামের এ মডেল প্রশংসিত হওয়ার পর রাঙ্গামাটিতে সাড়া ফেলেছে অভিনব এ বাজার। এতে খুশি সেখানকার অসহায় মানুষও। এসব বাজারের মাধ্যমে আবার কৃষকদেরও স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। করোনায় সবজির বাজারে ধ্বস নামার ঘটনায় ক্ষোভের অনলে পুড়তে থাকা কৃষকদেরও স্বস্তির উপলক্ষ্য এনে দিয়েছে সেনা সদস্যরা।

কারণ, এক মিনিটের বাজারের কেজি কেজি সবজি কেনা হচ্ছে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকেই, ন্যায্যমূল্যে। রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, ময়মনসিংহ, রংপুর, যশোরসহ প্রায় প্রতিটি জেলাতেই কৃষকদের বাঁচাতে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে দেশের আস্থা ও গর্বের প্রতীক বাহিনীটির সদস্যরা।

সম্প্রতি সেনাবাহিনীর জেনারেল অফিসার কমান্ডিংদের (জিওসি) সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ভিডিও কনফারেন্সে গরিব, দুস্থ ও অসহায় মানুষের মাঝে নিজেদের রেশনের একাংশ বাঁচিয়ে ত্রাণ সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার নির্দেশ দেন বাহিনীর প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ।

পাশাপাশি প্রান্তিক পর্যায়ে ফসলের মাঠের নায়কদের আর্থিকভাবে লাভবান করতেই তাদের কাছ থেকে সবজি সংগ্রহ করে নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে অসহায়ের হাতে তুলে দেওয়ারও ‘গাইড লাইন’ দিয়েছেন।

সময়োপযোগী এসব নির্দেশনার মাধ্যমে কৃষকের সঙ্গে অভাবী মানুষজনও উপকৃত হচ্ছে। যুগান্তকারী এমন পদক্ষেপ আরও একবার জনমানসে সেনাবাহিনীর তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকাকেই মোটা দাগে উপস্থাপন করেছে।

সৃজনশীলতা, মানবিকতা ও মূল্যবোধের মাধ্যমে করোনার দহন দিনে টালমাটাল দেশকে অন্ধকার সরিয়ে আলোর পথে নিয়ে যেতে ক্লান্তিহীনভাবেই কাজ করে যাচ্ছে আপোসহীন ও রক্তক্ষয়ী মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে জন্ম নেওয়া বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত মানুষকে সুরক্ষার এই যুদ্ধে সেনারা ঋজু ও অমল কন্ঠেই অবিচল রয়েছেন। দেশ ও দেশের মানুষের প্রশ্নে তাদের নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও সততা প্রাণিত করেছে লাল-সবুজের বাংলাদেশকে।

আশা-নিরাশার সকাল, দোলাচলের দুপুর পেরিয়ে অনিন্দ্য সুন্দর সোনালী সন্ধা বা গহীন রাতেও বাঙালির চিত্ত, মন ও মানসিকতায় গভীরভাবেই প্রোথিত হয়ে থাকবে দেশপ্রেমিক সেনাদের নাম।

কবির ভাষায় কন্ঠে কন্ঠেই যেন গুঞ্জণ-গুঞ্জরিত হবে- ‘বল বীর/বল উন্নত মম শির!’ চৌকস ও সুশৃঙ্খল সেনাদের জন্য ভালোবাসা অবিরাম।

কালের আলো/এমএএএমকে

চারদিকে বস্তিবাসীর হাহাকার, আগুনের তাণ্ডবে পুড়ল কালশী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ২:৫৮ পূর্বাহ্ণ
চারদিকে বস্তিবাসীর হাহাকার, আগুনের তাণ্ডবে পুড়ল কালশী

চারদিকে শুধু ধোঁয়া আর আগুনের লেলিহান শিখা। কেউ ঘর থেকে মালামাল বের করতে ব্যস্ত, কেউ স্বজনকে খুঁজছেন কান্নাজড়িত চোখে। রাজধানীর কালশী বস্তিতে ভয়াবহ আগুনে মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক ও হাহাকার।

সরু রাস্তা, পানির সংকট আর দাহ্য সামগ্রীর কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয় ফায়ার সার্ভিসকে। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় ১৫টি ইউনিটের ১২৩ জন ফায়ার ফাইটার স্থানীয়দের সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।

রাজধানীর কালশী বস্তির সেই ভয়াবহ আগুন নিয়ন্ত্রণে যখন প্রাণপণ লড়ছিলেন ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা, তখন তাদের পাশেই দাঁড়িয়েছিল সাধারণ মানুষ কাঁধে তুলে নিয়েছেন ভারী পানির পাইপ।

সোমবার (২৬ মে) পল্লবীর কালশী অগ্নি সম্বলিত বস্তিত এলাকায় আগুন নেভানোর সময় এমন চিত্র দেখা যায়।

ভয়াবহ এই আগুন নির্বাপণে ফায়ার সার্ভিসের ১৫টি ইউনিটের ১২৩ জন ফায়ার ফাইটার, স্থানীয় জনগণ, ভলেন্টিয়ার, পুলিশ, র‍্যাব ও সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় নেভানো হয় এই আগুন।

এদিকে রাস্তাগুলো সরু হওয়া ও আসে পাশে পানির কোনো উৎস না থাকায় আগুন নেভাতে বেগ পেতে হয়েছে বলে জানান ফায়ার সার্ভিসে সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশিক্ষণ, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) লে. কর্নেল এম এ আজাদ আনোয়ার।

সোমবার (২৫ মে) রাতে রাজধানীর পল্লবী এলাকার কালশী বস্তিতে অগ্নি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব বলেন তিনি।

লে. কর্নেল এম এ আজাদ আনোয়ার বলেন, আনুমানিক সন্ধ্যা ৭টা ২৩ মিনিটে আমাদের কন্ট্রোল রুম থেকে আমরা সংবাদ পাই কালশী বস্তিতে আগুনের ঘটনা ঘটেছে। যেখানে প্রায় হাজার ১২০০ ঘর এবং ভাঙারি দোকান রয়েছে, তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার লোকের বসতি।

এরপর ৭টা ৩২ মিনিটে আমাদের প্রথম ইউনিট এখানে উপস্থিত হয়। পরে আগুনের ভয়াবহতা দেখে আরো ১৪টি ইউনিট মোট ১৫টি ইউনিট ও ১২৩ জন ফায়ার ফাইটার, স্থানীয় জনগণ, ভলেন্টিয়ার, পুলিশ, র‍্যাব ও সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় আমরা ৯টা ৩৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হই। কিছুক্ষণের মধ্যেই আমরা আগুন সম্পূর্ণ নিরাপন করতে পারব। আগুনের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং সূত্রপাত এখনো কিছু জানা যায়নি। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তীতে জানানো সম্ভব হবে।

আগুন নিয়ন্ত্রণে এত বেগ পাওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, কারণ এখানে রাস্তাগুলো সরু রাস্তা। যেখানে আগুনের ঘটনা ঘটেছে সেখানে পৌঁছানো যাচ্ছিল না। আর একটা বড় সমস্যা আসে পাশে পানির কোনো উৎস নেই। যার কারণে আমাদের ১৫টা বিশেষ পানিবাহী গাড়ি নিয়ে আসতে হয়েছে। এবং সেই গাড়ি দিয়ে আগুনটা নিয়ে নিভাতে হয়েছে।

আগুনের তীব্রতা বেশি হওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, কারণ এখানে ভাঙারি ও কাগজপত্রের দোকান, প্লাস্টিকের জিনিসপত্রের দোকানের কারণে ধোঁয়া বেশি হচ্ছে। ভেতরের সব দাহ্য ধরনের যেমন কাগজ কাপড় টাইপের জিনিসপত্র ছিল। এবং আজ বৃষ্টির কারণে বাতাস ছিল প্রচুর। যার কারণে আগুনটা দ্রুত ছড়িয়ে গেছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেছি, এখন পর্যন্ত কোনো নিখোঁজ ও হতাহতের সংবাদ আমরা পায়নি বলেও জানান তিনি।

এখানে কয়েকদিন আগে উচ্ছেদ অভিযান হয়েছিল। এর সঙ্গে আগুনের কোনো যোগসূত্র আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, তদন্ত সাপেক্ষে এটা বলতে পারব। আমরা ফায়ার সার্ভিস এর পক্ষ থেকে তদন্ত কমিটি গঠন করব।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

যমুনা সেতু দিয়ে পার হলো স্বাভাবিকের চেয়ে ৩১ হাজারের বেশি যানবাহন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ১:৪৪ পূর্বাহ্ণ
যমুনা সেতু দিয়ে পার হলো স্বাভাবিকের চেয়ে ৩১ হাজারের বেশি যানবাহন

পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে ঘরে ফিরতে শুরু করেছেন মানুষ। এতে দেশের বিভিন্ন মহাসড়কে বেড়েছে যানবাহনের চাপ। এর প্রভাব পড়েছে উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার যমুনা সেতুতেও, যেখানে দিন দিন বাড়ছে যানবাহন পারাপারের সংখ্যা।

স্বাভাবিক সময়ে যেখানে প্রতিদিন ২০ থেকে ২২ হাজার যানবাহন পারাপার হয়, সেখানে ঈদযাত্রার ব্যস্ততম সময়ে গত ২৪ ঘণ্টায় সেতুটি দিয়ে চলাচল করেছে ৫৩ হাজার ২৪৬টি যানবাহন। অর্থাৎ স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় ৩১ হাজার বেশি যানবাহন পারাপার হয়েছে।

যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন ঢাকা পোস্টকে বলেন, সোমবার (২৫ মে) ২৪ ঘণ্টায় সেতুর পূর্ব প্রান্ত দিয়ে ৩২ হাজার ১৮৬টি যানবাহন চলাচল করেছে। এসব যানবাহন থেকে টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৯৬ লাখ ৪০ হাজার ৭০০ টাকা।

অন্যদিকে পশ্চিম প্রান্ত দিয়ে পারাপার হয়েছে ২১ হাজার ৬০টি যানবাহন। এ খাত থেকে টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৮১ লাখ ১৭ হাজার ৫০০ টাকা।

দুই প্রান্ত মিলিয়ে ২৪ ঘণ্টায় মোট ৫৩ হাজার ২৪৬টি যানবাহন যমুনা সেতু ব্যবহার করেছে। একই সময়ে মোট টোল আদায়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ৭৭ লাখ ৫৮ হাজার ২০০ টাকা।

এর আগের দিন রবিবার (২৪ মে) ২৪ ঘণ্টায় সেতুটি দিয়ে ৩৯ হাজার ৯১৯টি যানবাহন পারাপার হয়েছিল এবং টোল আদায় হয়েছিল ৩ কোটি ২৫ লাখ ১৫ হাজার ৬৫০ টাকা। সেই হিসাবে একদিনের ব্যবধানে যানবাহন পারাপার বেড়েছে ১৩ হাজার ৩২৭টি এবং টোল আদায় বেড়েছে ৫২ লাখ ৪২ হাজার ৫৫০ টাকা।

সোমবার রাত পর্যন্ত যমুনা সেতুর পশ্চিম পাড়, কোনাবাড়ি মোড়, সায়দাবাদ, কড্ডার মোড় ও নলকা এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, যানবাহনের চাপ ক্রমাগত বাড়লেও কোথাও যানজট নেই। বাস, ট্রাক, প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেলে করে মানুষ বাড়ির পথে

মহাসড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পুলিশ সদস্যদেরও দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে। নির্ধারিত স্থান ছাড়া কোথাও যানবাহন থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা করতে দেওয়া হচ্ছে না।

কালের আলো/এএন/এমএসআইপি 

ময়মনসিংহে চাঁদা না পেয়ে বিস্কুট ফ্যাক্টরিতে হামলার অভিযোগ

ময়মনসিংহ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ১০:১৯ অপরাহ্ণ
ময়মনসিংহে চাঁদা না পেয়ে বিস্কুট ফ্যাক্টরিতে হামলার অভিযোগ

ময়মনসিংহে “চাঁদনী ফুড প্রোডাক্টস” নামের একটি বিস্কুট ফ্যাক্টরিতে হামলা, ভাঙচুর, মারধর ও নগদ টাকা লুটের অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (২৫ মে) নগরের কোতোয়ালী থানাধীন মধ্যবাড়েরা ২৬ নম্বর ওয়ার্ড হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে দুই সহোদর আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ফ্যাক্টরির ম্যানেজার এনামুল হক সুমন (৩২) কে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় সোমবার বিকেলে মধ্যবাড়েরা এলাকার বাসিন্দা মোঃ আপন মিয়া কোতোয়ালী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ফ্যাক্টরির ম্যানেজার এনামুল হক সুমন (৩২) এর বড় ভাই মোঃ হুরমুজ আলী দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর ধরে হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায় “চাঁদনী ফুড প্রোডাক্টস” নামে বিস্কুট ফ্যাক্টরি পরিচালনা করে আসছেন। স্থানীয় ফয়সাল আহমেদ বাবু (৩০), শাহ আলী (৪০), জুনাইদ, আলমাছ, আকাশ মিয়া, রিয়েন, হৃদয় মিয়া, নাহিদ মিয়া, শামীম মিয়া ও আসিফ মিয়াসহ অজ্ঞাতনামা আরও চার থেকে পাঁচজন দীর্ঘদিন ধরে ফ্যাক্টরিতে এসে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে আসছিল। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করত।

অভিযোগ অনুযায়ী, সোমবার (২৫ মে) সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ফ্যাক্টরিতে প্রবেশ করে গালিগালাজ শুরু করে। এ সময় আপন মিয়ার ছোট ভাই এনামুল হক সুমন প্রতিবাদ করলে তাকে ব্যাপক মারধর করা হয়। অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, অভিযুক্তরা লোহার রড ও লাঠিসোটা দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে তাকে আহত করে এবং শ্বাসরোধের চেষ্টাও চালায়।

এ সময় ফ্যাক্টরির স্বত্বাধিকারী হুরমুজ আলী এগিয়ে এলে তাকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া ফ্যাক্টরির ক্যাশ থেকে নগদ দুই লাখ টাকা নিয়ে যাওয়ার এবং ভাঙচুর করে প্রায় এক লাখ ২০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি করার অভিযোগ আনা হয়েছে।

পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহত এনামুল হক সুমনকে (৩২) ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়।

অভিযোগকারী আপন মিয়া বলেন, “ঘটনার সঙ্গে জড়িতরা এলাকায় মাদক ব্যবসা, মাদক সেবন ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। তাদের অত্যাচারে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ। তারা অতর্কিত হামলা চালিয়ে আমার দুই ভাইকে আহত করেছে এবং ফ্যাক্টরিতে ভাঙচুর ও নগদ টাকা লুট করেছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”

তবে এসব ঘটনা অস্বীকার করেছেন ফয়সাল আহমেদ বাবু। তিনি বলেন, এমন কোনো ঘটনা আমরা করিনি, আপনারা এলাকায় এসে তদন্ত করে দেখেন।

মারামারির ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে ফ্যাক্টরির কারিগর উজ্জ্বল মিয়া বলেন, আজ সকালে এ ঘটনা ঘটে। আহত একজন ময়মনসিংহ মেডিকেলে ভর্তি আছেন।

এ বিষয়ে কোতোয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি