খুঁজুন
                               
, ,
           

ঈদকে ঘিরে নিরাপত্তা নিশ্চিতে জোর, ৭ দফা বিশেষ নির্দেশনা ডিএমপি কমিশনারের

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২২, ১১:৩২ অপরাহ্ণ
ঈদকে ঘিরে নিরাপত্তা নিশ্চিতে জোর, ৭ দফা বিশেষ নির্দেশনা ডিএমপি কমিশনারের

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো:

প্রতিটি থানা এলাকার গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চেকপোস্ট বসবে আকস্মিক।সন্দেহজনক হলেই মোটরসাইকেল, মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকারসহ অন্যান্য যানবাহন ও ব্যক্তিকে আনতে হবে তল্লাশির আওতায়। সব ধরনের আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ওপর সতর্ক দৃষ্টি থাকবে। প্রতিষ্ঠানগুলোর বাইরে ও ভেতরে নিশ্চিত করতে হবে সিসি ক্যামেরা স্থাপন।

ঈদকে ঘিরে এভাবেই ঢাকা মহানগরীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঢেলে সাজানোর বিষয়ে জোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।মহানগরীতে ছিনতাই প্রতিরোধেও গ্রহণ করা হয়েছে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

সূত্র মতে, সোমবার (১৮ এপ্রিল) সকালে ডিএমপি সদর দপ্তরে মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় ডিএমপির সকল বিভাগের উপপুলিশ কমিশনারদের (ডিসি) ৭ দফা বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করেন ডিএমপি কমিশনার মোহা.শফিকুল ইসলাম। কোন কোন রুট ব্যবহার করে ছিনতাইকারীরা নগরীতে প্রবেশ করে এবং বের হয় সেই বিষয়েই তীক্ষ্ণ দৃষ্টি দিয়েছে হাইকমান্ড। বিশেষ করে ইফতার ও সেহেরির সময় পুলিশকে দায়িত্ব পালনে আরও মনোযোগী হওয়ার কড়া বার্তা দিয়েছেন রাজধানীর পুলিশপ্রধান।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ডিএমপি কমিশনার প্রতি বিভাগের ডিসিদের নিজ নিজ এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা তদারকি করতে কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেছেন। সেই মোতাবেক ডিসিরা নিজ নিজ দায়িত্বে সাজাবেন নিরাপত্তা পরিকল্পনা।

সূত্র মতে, ডিএমপি কমিশনারের বিশেষ নির্দেশনার মধ্যে রয়েছে- ডিসিরা সকল থানা ও তল্লাশি চৌকি ধারাবাহিকভাবে তদারকি করবেন। ব্যাংকের শাখাগুলোর আশেপাশে অপ্রয়োজনীয় লোকজনের ঘোরাফেরা চ্যালেঞ্জ করতে হবে। সন্দেহজনক কাউকে দেখলে জিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে। এমনকি তাদেরকে সেখান থেকে সরিয়েও দিতে হবে। ব্যাংকের আশেপাশে পান সিগারেটের দোকান বসতে দেওয়া যাবে না।

একই সূত্র জানায়, মোবাইলে আর্থিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের নগদ অর্থ পরিবহনে নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সহযোগিতা নিতে হবে। মানি এস্কর্টের বিষয়ে তাদের জানাতে হবে।

থানাগুলোর কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে ডিসি, এডিসি সেহরির আগে ও পরে আকস্মিক থানা পরিদর্শন করবেন। থানার মোটরসাইকেল পেট্রোল, ফুট পেট্রোল ও তল্লাশি চৌকিও এভাবে তদারকি করতে হবে।

সূত্র মতে, ডিএমপি কমিশনার ইফতারের সময় হতে তারাবির নামাজ পর্যন্ত পুলিশ দায়িত্ব পালনে শিথিলতার অভিযোগের বিষয়টিতে জোর দিয়েছেন। সিনিয়র অফিসারদের তদারকি বাড়ানোর পাশাপাশি এ সময়ে সবাইকে দায়িত্ব পালনে মনোযোগী হতে বলেছেন।

এই অপরাধ পর্যালোচনা সভায় ডিএমপি কমিশনার বলেছেন, ‘১৫ রোজা শেষ হয়ে গেছে। এখন মার্কেটগুলোতে ভিড় বাড়তে থাকবে। এ সময় মলম পার্টি, অজ্ঞান পার্টি বা টানা পার্টির তৎপরতা বেড়ে যায়। এজন্য টহল টিমকে আরও সতর্ক অবস্থায় দায়িত্ব পালন করতে হবে। প্রয়োজনে স্পেশাল টিম করে অপরাধীদের গ্রেফতার করতে হবে।

ট্রাফিক বিভাগের উদ্দেশে কমিশনার বলেন, ‘ঈদকে কেন্দ্র করে যানজট বাড়ে। এজন্য ঢাকার পার্শ্ববর্তী জেলার পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে ঢাকার প্রবেশমুখগুলোতে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে হবে।’

এ সময় ঢাকা ত্যাগ করা নগরবাসীকে দামী স্বর্ণালংকার আত্মীয়ের কাছে রেখে যাওয়ারও পরামর্শ দেন তিনি।

সূত্র মতে, ডিএমপি কমিশনার আরও একটি বিষয়ে যুগান্তকারী একটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। তিনি পুলিশ ক্লিয়ারেন্স প্রদানে ভেরিফিকেশন তথা যাচাই-বাছাইয়ের জন্য আবেদনকারীর বাসায় না যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। আবেদনকারীর বিরুদ্ধে কোনও মামলা আছে কিনা তা পুলিশের ক্রাইম ডাটা ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (সিডিএমএস) থেকে পরখ করে দ্রুততম সময়ে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স দিতেও বলেছেন।

ডিএমপি’র অর্ধশত থানার মধ্যে কোন কোন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পুলিশ ক্লিয়ারেন্স দিতে কতদিন সময় নিচ্ছেন সদর দপ্তর থেকে সেই বিষয়টি মনিটরিং করা হচ্ছে। পুলিশ ক্লিয়ারেন্স দেওয়ার বিনিময়ে কোনও পুলিশ সদস্য অর্থ দাবি করলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার।

কালের আলো/এসবি/এমএম

আইসিসির প্রেসিডেন্ট ও জ্যেষ্ঠ কৌঁসুলির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ১১:২৯ পূর্বাহ্ণ
আইসিসির প্রেসিডেন্ট ও জ্যেষ্ঠ কৌঁসুলির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) প্রেসিডেন্ট তোমোকো আকানে এবং আদালতের জ্যেষ্ঠ কৌঁসুলি আবদুলায়ে সেয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এ ঘোষণা দেন।

নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগভিত্তিক আইসিসির বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের ধারাবাহিক পদক্ষেপের সর্বশেষ অংশ হিসেবে এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হলো। যুদ্ধাপরাধ, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার করতে ২০০২ সালে আইসিসি প্রতিষ্ঠিত হলেও যুক্তরাষ্ট্র এ আদালতের সদস্য নয়।

মার্কো রুবিও এক বিবৃতিতে বলেন, যেসব দেশের সরকার আইসিসির এখতিয়ার মেনে নেয়নি, সেসব দেশের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত, গ্রেপ্তার বা বিচার কার্যক্রমে আদালতের প্রচেষ্টায় সরাসরি যুক্ত থাকার কারণে আকানে ও সেয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। গত বছর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষরিত একটি নির্বাহী আদেশের আওতায় এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

নিষেধাজ্ঞার আওতায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যুক্তরাষ্ট্রে থাকা সম্পদ জব্দ হবে। একই সঙ্গে মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থার সঙ্গে তাঁদের লেনদেনও বন্ধ হয়ে যাবে। তবে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ তাঁদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু লেনদেন গুটিয়ে নেওয়ার জন্য ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে আইসিসি। আদালতটি বলেছে, বিচারিক কাজে যুক্ত ব্যক্তিদের আইন প্রয়োগের কারণে হুমকির মুখে ফেলা হলে আন্তর্জাতিক আইনব্যবস্থাই ঝুঁকিতে পড়ে।

আইসিসির প্রেসিডেন্ট তোমোকো আকানে গত ডিসেম্বরেও সতর্ক করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা আদালটির সব ধরনের মামলা ও কার্যক্রমকে দ্রুত স্থবির করে দিতে পারে এবং এর অস্তিত্বও হুমকির মুখে ফেলতে পারে।

নিষেধাজ্ঞার শিকার আবদুলায়ে সেয়ে আইসিসির সেই কৌঁসুলি দলের একজন জ্যেষ্ঠ সদস্য, যারা ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা চেয়েছিলেন। তাঁকে আইসিসির বিচারক পদে নির্বাচনের জন্যও মনোনীত করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করেছে আইসিসির স্বাগতিক দেশ নেদারল্যান্ডস। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী টম বেরেন্ডসেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বলেন, আন্তর্জাতিক আদালত ও ট্রাইব্যুনালগুলোকে স্বাধীনভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করার সুযোগ দেওয়া উচিত।

তিনি আইসিসির প্রেসিডেন্ট তোমোকো আকানেকে নেদারল্যান্ডসের সমর্থনের বিষয়টি নিয়ে আলোচনার জন্য আমন্ত্রণও জানিয়েছেন।

আফগানিস্তানে মার্কিন সেনাদের বিরুদ্ধে আইসিসির তদন্ত এবং নেতানিয়াহু ও গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর থেকেই ওয়াশিংটন ও আইসিসির মধ্যে বিরোধ তীব্র হয়েছে। এর আগে গত বছর আদালটির কয়েকজন কর্মকর্তা, কৌঁসুলি ও বিচারকের ওপরও নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।

মার্কো রুবিওর দাবি, আইসিসি মার্কিন অভিবাসন নীতি বাস্তবায়নকারী কর্মকর্তা, মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নেওয়া সদস্য এবং মার্কিন সামরিক বাহিনীর জন্য হুমকি হয়ে উঠেছে। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, এই প্রচারণার উদ্দেশ্য নিজেকে বিচার থেকে রক্ষা করা নয়; বরং বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও অন্যদের সুরক্ষা দেওয়া।

আইসিসি বলছে, কোনো সদস্যরাষ্ট্র নিজের দেশে সংঘটিত গুরুতর অপরাধের বিচার করতে ব্যর্থ বা অনিচ্ছুক হলে আদালত তার এখতিয়ার প্রয়োগ করতে পারে। এ ছাড়া কোনো সদস্যরাষ্ট্রের ভূখণ্ডে অ-সদস্য দেশের নাগরিক গুরুতর আন্তর্জাতিক অপরাধ করলে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে তাঁর বিরুদ্ধেও আইসিসি বিচারিক ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে।

কালের আলো/এসএ

 

কলকাতার আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে শিশুসহ ৯ বাংলাদেশির মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ১১:১৮ পূর্বাহ্ণ
কলকাতার আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে শিশুসহ ৯ বাংলাদেশির মৃত্যু

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় নিউমার্কেটের কাছে মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে শিশুসহ ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহত সবাই বাংলাদেশের নাগরিক বলে জানিয়েছে কলকাতা পুলিশ। এ ঘটনায় আরও ৮ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।

আহতদের কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, হতাহত ব্যক্তিরা মির্জা গালিব স্ট্রিটের পাঁচতলা ভবনের তৃতীয় তলায় থাকা ‘শিখা ইন’ হোটেলের আবাসিক অতিথি ছিলেন। চিকিৎসার জন্য বাংলাদেশ থেকে কলকাতায় গিয়ে তাঁরা ওই হোটেলে উঠেছিলেন।

হোটেলটির এক আবাসিক অতিথি মো. রফিকুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার দিবাগত রাত পৌনে দুইটার দিকে তৃতীয় তলায় আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে পুরো হোটেল ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে এবং অনেক অতিথি ভেতরে আটকা পড়েন।

রফিকুল ইসলামের অভিযোগ, হোটেলে প্রবেশের পথ ছিল সরু ও অপ্রশস্ত। এ ছাড়া সেখানে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল না।

ঘটনাস্থল কলকাতা ফায়ার সার্ভিসের সদর দপ্তরের খুব কাছেই হওয়ায় খবর পাওয়ার পর দ্রুত সেখানে পৌঁছান ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। তাঁরা আগুন নিয়ন্ত্রণে এনে হোটেলে আটকে পড়া অতিথিদের উদ্ধারে অভিযান চালান।

ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক ধারণা, শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। তবে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে।

কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকে এখনো নিহতদের নাম প্রকাশ করা হয়নি। তবে একজন শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে ভারতের দ্য হিন্দু জানিয়েছে, নিহত ৯ জনই বাংলাদেশের নাগরিক। এনডিটিভির প্রতিবেদনেও নিহতদের মধ্যে বাংলাদেশি নাগরিক থাকার কথা বলা হয়েছে।

পাঁচতলা ওই ভবনের প্রতিটি তলায় বিভিন্ন নামে আবাসিক হোটেল রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এসব হোটেলে বাংলাদেশি নাগরিকদের আনাগোনা বেশি। চিকিৎসার জন্য কলকাতায় আসা অনেক বাংলাদেশি এসব হোটেলে অবস্থান করেন।

অগ্নিকাণ্ডের সময় ভবনটিতে মোট কতজন অতিথি ছিলেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। নিহত ও আহতদের পরিচয় শনাক্তের পাশাপাশি অগ্নিকাণ্ডের কারণ এবং হোটেলটির অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও তদন্ত করছে কর্তৃপক্ষ।

কালের আলো/এসএ

বিশ্ববাজারে বাড়ছে খাদ্যপণ্যের দাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ১১:১৪ পূর্বাহ্ণ
বিশ্ববাজারে বাড়ছে খাদ্যপণ্যের দাম

ফসল উৎপাদন কমে যাওয়া ও সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্নের কারণে বিশ্ববাজারে প্রধান খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

এফএও জানিয়েছে, গত জুলাইয়ে বৈশ্বিক খাদ্য মূল্যসূচক বেড়ে ১৩১ দশমিক ১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। জুনের তুলনায় সূচকটি শূন্য দশমিক ৬ পয়েন্ট এবং গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১ শতাংশ বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হওয়া খাদ্যপণ্যের দামের ভিত্তিতে এ সূচক তৈরি করে সংস্থাটি।

২০২৩ সালের জানুয়ারির পর গত জুলাইয়ে খাদ্য মূল্যসূচক সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে। তবে ২০২২ সালের মার্চে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর সময়ের তুলনায় সূচক এখনো ১৮ দশমিক ২ শতাংশ কম।

জুলাইয়ে মূলত শস্য, ভোজ্যতেল ও চিনির দাম বেড়েছে। এর মধ্যে এফএওর শস্য মূল্যসূচক আগের মাসের তুলনায় ৩ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ১১৩ দশমিক ৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।

গমের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে গমের দাম বেড়েছে ৫ দশমিক ৮ শতাংশ। কৃষ্ণ সাগরীয় অঞ্চলে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বন্দর অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং রপ্তানি কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি প্রধান উৎপাদনকারী অঞ্চলে তীব্র তাপপ্রবাহও গমের বাজারে চাপ তৈরি করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের খরা পরিস্থিতি ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাবেও জ্বালানি বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে। এর প্রভাবে ভুট্টার দাম বেড়েছে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে চালের দাম মোটামুটি স্থিতিশীল ছিল।

জুলাইয়ে বিশ্ববাজারে ভোজ্যতেলের দাম বেড়েছে ২ শতাংশ। এর ফলে ভোজ্যতেলের মূল্যসূচক প্রায় চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

পাম ও সয়াবিন তেলের দাম বৃদ্ধিই এ ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রেখেছে। ইন্দোনেশিয়ায় বায়োডিজেল খাতে চাহিদা বাড়ায় পাম তেলের বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিও এর প্রভাব ফেলেছে।

যুক্তরাষ্ট্রে অভ্যন্তরীণ চাহিদা বাড়ায় সয়াবিন তেলের দামও বেড়েছে। তবে সরবরাহ বাড়ায় সূর্যমুখী ও সরিষার তেলের দাম কিছুটা কমেছে।

জুলাইয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে চিনির দাম বেড়েছে ৫ দশমিক ৬ শতাংশ। ইউরোপ ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশে এল নিনোর প্রভাবে বৈরী আবহাওয়া ও খরার কারণে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এ ছাড়া ব্রাজিলে ইথানল উৎপাদনে আখের ব্যবহার বাড়তে পারে—এমন প্রত্যাশাও চিনির দাম বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে।

তবে জুলাইয়ে সব খাদ্যপণ্যের দাম বাড়েনি। আগের মাসের তুলনায় মাংসের দাম কমেছে ২ দশমিক ৮ শতাংশ। ২০২৬ সালে এটিই মাংসের দামের প্রথম মাসিক পতন।

একই সময়ে দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্যের মূল্যসূচক কমেছে শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ।

এফএও সতর্ক করেছে, রাশিয়া-ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত এবং এল নিনোর প্রভাবে সৃষ্ট আবহাওয়া সংকট বিশ্বজুড়ে খাদ্য সরবরাহে নতুন ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থায় বড় ধরনের বিঘ্ন দেখা দিলে আন্তর্জাতিক বাজারে খাদ্যপণ্যের দাম আরও বাড়তে পারে। এতে বিশেষ করে আমদানিনির্ভর দেশগুলোতে খাদ্যনিরাপত্তা নতুন করে চাপে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স

কালের আলো/এসএ