খুঁজুন
                               
, ,
           

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে ট্রাম্পের সমর্থন নেমেছে ৩৩ শতাংশে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৫৪ অপরাহ্ণ
ইরান যুদ্ধের প্রভাবে ট্রাম্পের সমর্থন নেমেছে ৩৩ শতাংশে

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায়। রয়টার্স ও ইপসোসের সর্বশেষ জনমত জরিপে তাঁর প্রতি সমর্থন কমে ৩৩ শতাংশে নেমেছে, যা দ্বিতীয় মেয়াদে এখন পর্যন্ত সর্বনিম্ন।

চার দিন ধরে চলা জরিপটি সোমবার শেষ হয়। এতে অংশ নেওয়া ৬৪ শতাংশ মার্কিন নাগরিক ট্রাম্পের কাজের প্রতি অসন্তোষ জানিয়েছেন। চলতি মাসের শুরুতে ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন ছিল ৩৫ শতাংশ।

২০২৫ সালে দ্বিতীয়বার হোয়াইট হাউসে ফেরার সময় ট্রাম্পের প্রতি প্রায় অর্ধেক মার্কিন নাগরিকের সমর্থন ছিল। কিন্তু ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরুর পর তাঁর জনপ্রিয়তা ধীরে ধীরে কমতে থাকে।

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতাও ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য নতুন চাপ তৈরি করেছে। হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে সংঘাতের কারণে বিশ্বে তেল পরিবহনের বড় একটি অংশ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পেট্রলের দামেও, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে দিয়েছে।

ট্রাম্প নির্বাচনী প্রচারে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে না জড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। ইরানে অভিযান শুরুর পরও তিনি দাবি করেছিলেন, সংঘাত দ্রুত শেষ হতে পারে।

তবে বাস্তব পরিস্থিতি ভিন্ন। রয়টার্স–ইপসোসের জরিপে ৮০ শতাংশ অংশগ্রহণকারী মনে করেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ দীর্ঘ সময় ধরে চলবে। ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে ৮৭ শতাংশ এবং রিপাবলিকানদের মধ্যে ৭১ শতাংশ এমন ধারণা পোষণ করেন।

মাত্র ১৬ শতাংশ মানুষ মনে করেন, কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই যুদ্ধ শেষ হয়ে যেতে পারে।

যুদ্ধকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত মনে করছেন এমন মানুষের সংখ্যাও কম। জরিপে মাত্র ২০ শতাংশ অংশগ্রহণকারী বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল। এমনকি রিপাবলিকানদের মধ্যেও এ মত দিয়েছেন মাত্র অর্ধেক।

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের কারণে পেট্রলের দাম বাড়লেও এটিকে প্রয়োজনীয় মূল্য হিসেবে দেখছেন ট্রাম্প। গত শুক্রবার নিউইয়র্কের গার্ডেন সিটিতে এক সমাবেশে তিনি বলেন, ইরান যাতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, সে জন্য পেট্রলের সামান্য মূল্যবৃদ্ধি মার্কিন নাগরিকদের মেনে নেওয়া উচিত।

তবে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়া এবং জ্বালানি ব্যয় বাড়তে থাকায় ট্রাম্পের এই অবস্থান নিয়ে রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে।

আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে ইরান যুদ্ধ ও জীবনযাত্রার ব্যয় রিপাবলিকানদের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। প্রতিনিধি পরিষদে নিজেদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখাই ট্রাম্পের দলের প্রধান লক্ষ্য। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটরা সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা দেখছে।

সাম্প্রতিক রয়টার্স–ইপসোসের জরিপগুলোতেও রিপাবলিকানদের জন্য সতর্কবার্তা রয়েছে। অর্থনীতি পরিচালনায় ডেমোক্র্যাটদের তুলনায় রিপাবলিকানদের বেশি সক্ষম মনে করেন—এমন ভোটারের সংখ্যা কমে এসেছে। প্রায় এক দশকের মধ্যে এবারই প্রথম অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় ডেমোক্র্যাটরা এগিয়ে থাকার চিত্র দেখা গেছে।

সর্বশেষ জরিপে ৩৮ শতাংশ ভোটার বলেছেন, অর্থনীতি সামলাতে ডেমোক্র্যাটরা বেশি সক্ষম। রিপাবলিকানদের পক্ষে মত দিয়েছেন ৩৫ শতাংশ। জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রেও ডেমোক্র্যাটদের প্রতি তুলনামূলক বেশি আস্থা দেখিয়েছেন ভোটাররা।

অভিবাসন নীতিতে অবশ্য এখনো রিপাবলিকানরা এগিয়ে। ট্রাম্পের মেয়াদে অবৈধভাবে সীমান্ত পারাপার কমেছে এবং তাঁর প্রশাসন দেশজুড়ে অভিবাসনবিরোধী অভিযান জোরদার করেছে। তবে এসব অভিযানে আটক ও প্রাণঘাতী সংঘর্ষের ঘটনা বাড়ায় এ ক্ষেত্রেও সরকারের সমর্থন কিছুটা কমছে বলে জরিপে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

রয়টার্স ও ইপসোস অনলাইনে পরিচালিত এই জরিপে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকার ১ হাজার ১৬৬ জন প্রাপ্তবয়স্ক অংশ নেন। জরিপের সম্ভাব্য ভুলের সীমা প্রায় ৩ শতাংশ।

সব মিলিয়ে, ইরান যুদ্ধ, জ্বালানি ব্যয় ও অর্থনৈতিক উদ্বেগ এখন ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যুদ্ধ যত দীর্ঘ হবে, নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা ও রিপাবলিকানদের নির্বাচনী সম্ভাবনার ওপর চাপ তত বাড়তে পারে।

কালের আলো/এসএ

২০৩২ পর্যন্ত স্পেনের কোচ দে লা ফুয়েন্তে

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:০০ অপরাহ্ণ
২০৩২ পর্যন্ত স্পেনের কোচ দে লা ফুয়েন্তে

২০২২ সালের ৮ ডিসেম্বর। কাতার বিশ্বকাপ থেকে স্পেন বিদায় নেওয়ার পর লুইস এনরিকের জায়গায় জাতীয় দলের দায়িত্ব পান লুইস দে লা ফুয়েন্তে। তখন হয়তো তিনিও ভাবেননি, স্পেনের ডাগআউটে তাঁর অধ্যায় এত দীর্ঘ হবে।

কাতার বিশ্বকাপের পর দে লা ফুয়েন্তেকে স্পেনের কোচ করায় অনেকেই অবাক হয়েছিলেন। কারণ, তার আগে প্রায় এক দশক কোনো সিনিয়র জাতীয় দলের দায়িত্বে থাকার অভিজ্ঞতা ছিল না তাঁর। তবে স্পেনের বয়সভিত্তিক বিভিন্ন দলের সঙ্গে দীর্ঘদিন কাজ করার অভিজ্ঞতা ছিল।

এনরিকের বিদায়ের পর অনেক বিশ্লেষকের ধারণা ছিল, স্পেনের দরকার এমন একজন অভিজ্ঞ কোচ, যিনি ২০০৮ থেকে ২০১২ সালের সোনালি প্রজন্মের মতো আরেকটি সফল দল তৈরি করতে পারবেন। শেষ পর্যন্ত সেই দায়িত্বে দে লা ফুয়েন্তেই আস্থা অর্জন করেছেন।

ট্রফিই দিয়েছে চুক্তির পুরস্কার

দায়িত্ব নেওয়ার পর দে লা ফুয়েন্তের সাফল্যের তালিকা দ্রুতই বড় হয়েছে। তাঁর প্রথম মেয়াদ ছিল ২০২৪ ইউরো পর্যন্ত। এর মধ্যেই স্পেনকে ২০২৩ নেশনস লিগ ও ২০২৪ ইউরোর শিরোপা এনে দেন তিনি।

সাফল্যের পুরস্কার হিসেবে তাঁর সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৮ ইউরো পর্যন্ত করা হয়। এরপর গত জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রে স্পেনকে বিশ্বকাপ জেতানোর পর আবারও তাঁকে পুরস্কৃত করল স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন।

নতুন চুক্তিতে আরও ছয় বছর স্পেনের কোচ থাকবেন দে লা ফুয়েন্তে। অর্থাৎ ২০৩২ সালের ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের শেষ পর্যন্ত তাঁর সঙ্গে চুক্তি করেছে স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন (আরএফইএফ)।

মাদ্রিদে কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে নতুন চুক্তির আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বিশ্বকাপ চলাকালেই দুই পক্ষের মধ্যে চুক্তি নিয়ে সমঝোতা হয়েছিল।

স্পেনের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ চুক্তি

নতুন এই চুক্তি স্পেনের কোনো প্রধান কোচের জন্য সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির রেকর্ড তৈরি করেছে।

চুক্তি অনুযায়ী, দে লা ফুয়েন্তে আগামী তিনটি বড় টুর্নামেন্টে স্পেনের ডাগআউটে থাকবেন। ২০২৮ ইউরো, ২০৩০ বিশ্বকাপ এবং তুরস্ক ও ২০৩২ ইউরো—এই তিন আসরেও তাঁর হাতেই থাকবে স্পেনের দায়িত্ব।

রয়টার্স জানিয়েছে, নতুন চুক্তিতে ৬৫ বছর বয়সী কোচের বেতনও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে।

শুধু একটি ট্রফিই অধরা

দে লা ফুয়েন্তের অধীনে স্পেন এখন পর্যন্ত তিনটি বড় ট্রফি জিতেছে—নেশনস লিগ, ইউরো ও বিশ্বকাপ। তবে ২০২৫ নেশনস লিগের শিরোপাটি জেতা হয়নি।

সেই আসরের ফাইনালে পর্তুগালের কাছে পেনাল্টি শুটআউটে হেরে যায় স্পেন। ফলে দে লা ফুয়েন্তের কোচিং অধ্যায়ে আপাতত সেটিই একমাত্র বড় ট্রফি, যা তাঁর হাতছাড়া হয়েছে।

৫০ ম্যাচে ৩৮ জয়

স্পেনের কোচ হিসেবে দে লা ফুয়েন্তের পরিসংখ্যানও তাঁর সাফল্যের চিত্র তুলে ধরে। এখন পর্যন্ত ৫০ ম্যাচে স্পেনকে ৩৮টি জয় এনে দিয়েছেন তিনি। ড্র করেছেন ১০ ম্যাচে, হার মাত্র ২টি।

এই দুই হারের একটি স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে—প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে দে লা ফুয়েন্তের একমাত্র হার। অন্য পরাজয়টি এসেছে লন্ডনে কলম্বিয়ার বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচে।

তাঁর অধীনে দীর্ঘ অপরাজিত যাত্রাও গড়েছে স্পেন। আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিজেদের ইতিহাসে টানা ৩৮ ম্যাচ অপরাজিত থাকার রেকর্ড এখন স্পেনের।

২০২২ সালে যাঁর নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল, সেই দে লা ফুয়েন্তেই এখন স্পেনের ইতিহাসে দীর্ঘমেয়াদি দায়িত্ব পাওয়া কোচ। একের পর এক শিরোপা ও ধারাবাহিক সাফল্য তাঁকে ২০৩২ পর্যন্ত স্পেনের ডাগআউটে থাকার সুযোগ করে দিয়েছে।

কালের আলো/এসএ

ডেঙ্গুতে ৫ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ১৮৭২

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৫৭ অপরাহ্ণ
ডেঙ্গুতে ৫ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ১৮৭২

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৮৭২ জন। ভর্তির সংখ্যায় এটি এ বছর এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মোট ১৯৫ জনের মৃত্যু হলো। এর মধ্যে শুধু আগস্ট মাসেই মারা গেছেন ৪৩ জন। এছাড়া সেপ্টেম্বরে গত ২২ দিনে ৯৮ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

বুলেটিনে জানানো হয়, সোমবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ৮৭২ জন ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছর হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৫ হাজার ৪৯৯ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে ছাড় পেয়েছেন ১ হাজার ৪৭৭ জন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৬০ হাজার ৫৬০ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে, ৭৮১ জন, খুলনা বিভাগে ৩১৬ জন, বরিশালে ১৯০, চট্টগ্রামে ২৮৫ জন, ময়মনসিংহে ১০৫, রংপুরে ৬৭ জন, রাজশাহী ১৬২ জন এবং সিলেট বিভাগে ৬ জন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

বাজেটের অঙ্ক বড়, চিকিৎসার বোঝাও বড়

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৫১ অপরাহ্ণ
বাজেটের অঙ্ক বড়,  চিকিৎসার বোঝাও বড়

হাসপাতাল হয়েছে। নতুন ভবন উঠেছে। চিকিৎসা অবকাঠামো বেড়েছে। স্বাস্থ্য খাতের বাজেটও প্রতি বছর বড় হয়েছে। কিন্তু চিকিৎসার বিল মেটাতে গিয়ে সাধারণ মানুষের পকেট কি একটু হালকা হয়েছে, নাকি আরও দ্রুত খালি হচ্ছে? পরিসংখ্যান বলছে, দ্বিতীয় ঘটনাটিই ঘটছে। বিশ্বব্যাংক ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গ্লোবাল হেলথ এক্সপেনডিচার ডাটাবেজের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের বর্তমান স্বাস্থ্য ব্যয়ের ৭৯ দশমিক ৩১ শতাংশই আসে রোগীর নিজস্ব পকেট থেকে।

  • রোগ সারাতে গিয়ে নিঃস্ব হওয়ার ঝুঁকি
  • স্বাস্থ্য বাজেট পৌঁছেছে ৪৯ হাজার কোটি টাকায়
  • রোগীর নিজের ব্যয় প্রায় ৮০ শতাংশ
  • ওষুধ, পরীক্ষা ও বেসরকারি চিকিৎসায় বাড়ছে পরিবারের চাপ

অর্থাৎ চিকিৎসায় খরচ হওয়া প্রতি ১০০ টাকার প্রায় ৮০ টাকাই পরিবারকে সরাসরি বহন করতে হচ্ছে। এক দশক আগেও পরিস্থিতি এতটা খারাপ ছিল না। ২০১২ সালে ব্যক্তিগত ব্যয়ের অংশ ছিল ৬৪ শতাংশ, ২০১৬ সালে ৬৭ শতাংশ এবং ২০১৮ সালে ৬৯ শতাংশ। অর্থাৎ স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়লেও মানুষের চিকিৎসা ব্যয়ের দায় কমেনি উল্টো বেড়েছে।

বরাদ্দ বাড়ছে, রোগীর দায়ও বাড়ছে
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে ৪৯ হাজার ৩৮৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। আগের অর্থবছরের তুলনায় বেড়েছে প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা। এর আগে ২০২২-২৩ অর্থবছরেও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ ছিল ৩৬ হাজার ৮৬৪ কোটি টাকা। বাজেটের অঙ্ক তাই বাড়ছে। কিন্তু সেই বাড়তি অর্থের কতটা সাধারণ মানুষের চিকিৎসা ব্যয় কমাতে যাচ্ছে—এই প্রশ্নের উত্তর মিলছে না।

স্বাস্থ্য অর্থনীতির হিসাবে, একটি দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার শক্তি শুধু মোট কত টাকা বরাদ্দ হলো, তা দিয়ে বোঝা যায় না। নাগরিককে চিকিৎসার সময় নিজের পকেট থেকে কতটা দিতে হচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ সূচক। সেই সূচকেই বাংলাদেশের চিত্র উদ্বেগজনক।

দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে বড় চাপ
প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে তুলনা করলে ব্যবধান আরও স্পষ্ট। বিশ্বব্যাংক-ডব্লিউএইচওর তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের ‘আউট অব পকেট’ ব্যয় প্রায় ৭৯ শতাংশ। ভারতে এটি প্রায় ৪৯ শতাংশ, নেপালে ৫১ শতাংশ, শ্রীলঙ্কায় ৪৬ শতাংশ, ভুটানে ৪২ শতাংশ এবং মালদ্বীপে ১৮ শতাংশ।

অর্থাৎ একই অঞ্চলের অন্য দেশগুলো যেখানে রোগীর সরাসরি ব্যয়ের বোঝা কমিয়ে আনতে পেরেছে, বাংলাদেশ সেখানে উল্টো পথে হাঁটছে।

স্বাস্থ্য অর্থনীতিবিদদের মতে, সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষার লক্ষ্য অর্জন করতে ব্যক্তিগত ব্যয়ের অংশ ১৫ থেকে ২০ শতাংশের মধ্যে নামিয়ে আনা প্রয়োজন। বাংলাদেশের বর্তমান হার সেই কাঙ্ক্ষিত সীমার প্রায় চার গুণ।

চিকিৎসার বিল মানেই পরিবারের আর্থিক ঝুঁকি
৭৯ শতাংশের এই সংখ্যা শুধু একটি অর্থনৈতিক সূচক নয়। এর পেছনে আছে অসংখ্য পরিবারের ভিন্ন ভিন্ন সংকট। কেউ চিকিৎসার খরচ মেটাতে সঞ্চয় ভাঙছেন, কেউ ঋণ করছেন, কেউ সম্পদ বিক্রি করছেন। আবার অর্থের অভাবে অনেকে চিকিৎসা পিছিয়ে দিচ্ছেন কিংবা প্রয়োজনীয় সেবা নিচ্ছেনই না। ফলে রোগ সারানোর খরচই অনেক সময় পরিবারের জন্য নতুন আর্থিক সংকট তৈরি করছে। জনস্বাস্থ্যবিদদের ভাষায়, এ ধরনের উচ্চ ব্যক্তিগত ব্যয় স্বাস্থ্যসেবাকে অধিকার থেকে সামর্থ্যের বিষয়ে পরিণত করে।

ওষুধ-পরীক্ষার খরচে চাপে পরিবার
রোগীর পকেট থেকে এত টাকা যাওয়ার পেছনে বড় ভূমিকা রাখছে ওষুধ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা। সরকারি হাসপাতালে সব ধরনের প্রয়োজনীয় ওষুধ, পরীক্ষা ও সেবা পর্যাপ্তভাবে পাওয়া না গেলে রোগীকে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের দ্বারস্থ হতে হয়। সেখানেই বাড়ে সরাসরি ব্যয়। চিকিৎসার বাণিজ্যিকীকরণ, ওষুধের মূল্য, ডায়াগনস্টিক পরীক্ষার খরচ এবং কার্যকর স্বাস্থ্যবিমার অনুপস্থিতি পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করছে।

ফলে একটি হাসপাতাল নির্মাণ বা শয্যা বাড়ানোর পরিসংখ্যান দিয়ে স্বাস্থ্যসেবার উন্নতি মাপা হলেও রোগীর চিকিৎসা ব্যয় কমছে কি না, সেই হিসাব আড়ালেই থেকে যাচ্ছে।

বাজেটের সাফল্য কোথায়?
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ডা. রুমানা হক বলেন, স্বাস্থ্য বাজেটকে শুধু টাকার অঙ্ক হিসেবে দেখলে হবে না। জনগণের জন্য সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য চিকিৎসা নিশ্চিত করাই হওয়া উচিত বাজেটের মূল লক্ষ্য। সরকারি হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়ানো, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় বিনিয়োগ, প্রয়োজনীয় ওষুধ নিশ্চিত করা এবং ধীরে ধীরে স্বাস্থ্যবিমা ব্যবস্থা চালুর ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।

অন্যদিকে, একই ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ড. সৈয়দ আব্দুল হামিদ বলেন, স্বাস্থ্য খাতে বড় বাজেট পাওয়া গেছে, এখন সেই অর্থ সঠিকভাবে ব্যয় করতে হবে। স্বাস্থ্য সমস্যার অগ্রাধিকার চিহ্নিত করে ব্যয় এবং প্রতি তিন মাসে বাজেট বাস্তবায়নের অগ্রগতি প্রকাশের ওপর জোর দেন তিনি।

এম/এএইচ