ইরান যুদ্ধের প্রভাবে ট্রাম্পের সমর্থন নেমেছে ৩৩ শতাংশে
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায়। রয়টার্স ও ইপসোসের সর্বশেষ জনমত জরিপে তাঁর প্রতি সমর্থন কমে ৩৩ শতাংশে নেমেছে, যা দ্বিতীয় মেয়াদে এখন পর্যন্ত সর্বনিম্ন।
চার দিন ধরে চলা জরিপটি সোমবার শেষ হয়। এতে অংশ নেওয়া ৬৪ শতাংশ মার্কিন নাগরিক ট্রাম্পের কাজের প্রতি অসন্তোষ জানিয়েছেন। চলতি মাসের শুরুতে ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন ছিল ৩৫ শতাংশ।
২০২৫ সালে দ্বিতীয়বার হোয়াইট হাউসে ফেরার সময় ট্রাম্পের প্রতি প্রায় অর্ধেক মার্কিন নাগরিকের সমর্থন ছিল। কিন্তু ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরুর পর তাঁর জনপ্রিয়তা ধীরে ধীরে কমতে থাকে।
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতাও ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য নতুন চাপ তৈরি করেছে। হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে সংঘাতের কারণে বিশ্বে তেল পরিবহনের বড় একটি অংশ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পেট্রলের দামেও, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে দিয়েছে।
ট্রাম্প নির্বাচনী প্রচারে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে না জড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। ইরানে অভিযান শুরুর পরও তিনি দাবি করেছিলেন, সংঘাত দ্রুত শেষ হতে পারে।
তবে বাস্তব পরিস্থিতি ভিন্ন। রয়টার্স–ইপসোসের জরিপে ৮০ শতাংশ অংশগ্রহণকারী মনে করেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ দীর্ঘ সময় ধরে চলবে। ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে ৮৭ শতাংশ এবং রিপাবলিকানদের মধ্যে ৭১ শতাংশ এমন ধারণা পোষণ করেন।
মাত্র ১৬ শতাংশ মানুষ মনে করেন, কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই যুদ্ধ শেষ হয়ে যেতে পারে।
যুদ্ধকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত মনে করছেন এমন মানুষের সংখ্যাও কম। জরিপে মাত্র ২০ শতাংশ অংশগ্রহণকারী বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল। এমনকি রিপাবলিকানদের মধ্যেও এ মত দিয়েছেন মাত্র অর্ধেক।
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের কারণে পেট্রলের দাম বাড়লেও এটিকে প্রয়োজনীয় মূল্য হিসেবে দেখছেন ট্রাম্প। গত শুক্রবার নিউইয়র্কের গার্ডেন সিটিতে এক সমাবেশে তিনি বলেন, ইরান যাতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, সে জন্য পেট্রলের সামান্য মূল্যবৃদ্ধি মার্কিন নাগরিকদের মেনে নেওয়া উচিত।
তবে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়া এবং জ্বালানি ব্যয় বাড়তে থাকায় ট্রাম্পের এই অবস্থান নিয়ে রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে।
আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে ইরান যুদ্ধ ও জীবনযাত্রার ব্যয় রিপাবলিকানদের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। প্রতিনিধি পরিষদে নিজেদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখাই ট্রাম্পের দলের প্রধান লক্ষ্য। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটরা সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা দেখছে।
সাম্প্রতিক রয়টার্স–ইপসোসের জরিপগুলোতেও রিপাবলিকানদের জন্য সতর্কবার্তা রয়েছে। অর্থনীতি পরিচালনায় ডেমোক্র্যাটদের তুলনায় রিপাবলিকানদের বেশি সক্ষম মনে করেন—এমন ভোটারের সংখ্যা কমে এসেছে। প্রায় এক দশকের মধ্যে এবারই প্রথম অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় ডেমোক্র্যাটরা এগিয়ে থাকার চিত্র দেখা গেছে।
সর্বশেষ জরিপে ৩৮ শতাংশ ভোটার বলেছেন, অর্থনীতি সামলাতে ডেমোক্র্যাটরা বেশি সক্ষম। রিপাবলিকানদের পক্ষে মত দিয়েছেন ৩৫ শতাংশ। জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রেও ডেমোক্র্যাটদের প্রতি তুলনামূলক বেশি আস্থা দেখিয়েছেন ভোটাররা।
অভিবাসন নীতিতে অবশ্য এখনো রিপাবলিকানরা এগিয়ে। ট্রাম্পের মেয়াদে অবৈধভাবে সীমান্ত পারাপার কমেছে এবং তাঁর প্রশাসন দেশজুড়ে অভিবাসনবিরোধী অভিযান জোরদার করেছে। তবে এসব অভিযানে আটক ও প্রাণঘাতী সংঘর্ষের ঘটনা বাড়ায় এ ক্ষেত্রেও সরকারের সমর্থন কিছুটা কমছে বলে জরিপে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
রয়টার্স ও ইপসোস অনলাইনে পরিচালিত এই জরিপে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকার ১ হাজার ১৬৬ জন প্রাপ্তবয়স্ক অংশ নেন। জরিপের সম্ভাব্য ভুলের সীমা প্রায় ৩ শতাংশ।
সব মিলিয়ে, ইরান যুদ্ধ, জ্বালানি ব্যয় ও অর্থনৈতিক উদ্বেগ এখন ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যুদ্ধ যত দীর্ঘ হবে, নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা ও রিপাবলিকানদের নির্বাচনী সম্ভাবনার ওপর চাপ তত বাড়তে পারে।
কালের আলো/এসএ

আপনার মতামত লিখুন
Array