খুঁজুন
                               
, ,
           

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে ট্রাম্পের সমর্থন নেমেছে ৩৩ শতাংশে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৫৪ অপরাহ্ণ
ইরান যুদ্ধের প্রভাবে ট্রাম্পের সমর্থন নেমেছে ৩৩ শতাংশে

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায়। রয়টার্স ও ইপসোসের সর্বশেষ জনমত জরিপে তাঁর প্রতি সমর্থন কমে ৩৩ শতাংশে নেমেছে, যা দ্বিতীয় মেয়াদে এখন পর্যন্ত সর্বনিম্ন।

চার দিন ধরে চলা জরিপটি সোমবার শেষ হয়। এতে অংশ নেওয়া ৬৪ শতাংশ মার্কিন নাগরিক ট্রাম্পের কাজের প্রতি অসন্তোষ জানিয়েছেন। চলতি মাসের শুরুতে ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন ছিল ৩৫ শতাংশ।

২০২৫ সালে দ্বিতীয়বার হোয়াইট হাউসে ফেরার সময় ট্রাম্পের প্রতি প্রায় অর্ধেক মার্কিন নাগরিকের সমর্থন ছিল। কিন্তু ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরুর পর তাঁর জনপ্রিয়তা ধীরে ধীরে কমতে থাকে।

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতাও ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য নতুন চাপ তৈরি করেছে। হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে সংঘাতের কারণে বিশ্বে তেল পরিবহনের বড় একটি অংশ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পেট্রলের দামেও, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে দিয়েছে।

ট্রাম্প নির্বাচনী প্রচারে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে না জড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। ইরানে অভিযান শুরুর পরও তিনি দাবি করেছিলেন, সংঘাত দ্রুত শেষ হতে পারে।

তবে বাস্তব পরিস্থিতি ভিন্ন। রয়টার্স–ইপসোসের জরিপে ৮০ শতাংশ অংশগ্রহণকারী মনে করেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ দীর্ঘ সময় ধরে চলবে। ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে ৮৭ শতাংশ এবং রিপাবলিকানদের মধ্যে ৭১ শতাংশ এমন ধারণা পোষণ করেন।

মাত্র ১৬ শতাংশ মানুষ মনে করেন, কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই যুদ্ধ শেষ হয়ে যেতে পারে।

যুদ্ধকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত মনে করছেন এমন মানুষের সংখ্যাও কম। জরিপে মাত্র ২০ শতাংশ অংশগ্রহণকারী বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল। এমনকি রিপাবলিকানদের মধ্যেও এ মত দিয়েছেন মাত্র অর্ধেক।

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের কারণে পেট্রলের দাম বাড়লেও এটিকে প্রয়োজনীয় মূল্য হিসেবে দেখছেন ট্রাম্প। গত শুক্রবার নিউইয়র্কের গার্ডেন সিটিতে এক সমাবেশে তিনি বলেন, ইরান যাতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, সে জন্য পেট্রলের সামান্য মূল্যবৃদ্ধি মার্কিন নাগরিকদের মেনে নেওয়া উচিত।

তবে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়া এবং জ্বালানি ব্যয় বাড়তে থাকায় ট্রাম্পের এই অবস্থান নিয়ে রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে।

আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে ইরান যুদ্ধ ও জীবনযাত্রার ব্যয় রিপাবলিকানদের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। প্রতিনিধি পরিষদে নিজেদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখাই ট্রাম্পের দলের প্রধান লক্ষ্য। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটরা সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা দেখছে।

সাম্প্রতিক রয়টার্স–ইপসোসের জরিপগুলোতেও রিপাবলিকানদের জন্য সতর্কবার্তা রয়েছে। অর্থনীতি পরিচালনায় ডেমোক্র্যাটদের তুলনায় রিপাবলিকানদের বেশি সক্ষম মনে করেন—এমন ভোটারের সংখ্যা কমে এসেছে। প্রায় এক দশকের মধ্যে এবারই প্রথম অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় ডেমোক্র্যাটরা এগিয়ে থাকার চিত্র দেখা গেছে।

সর্বশেষ জরিপে ৩৮ শতাংশ ভোটার বলেছেন, অর্থনীতি সামলাতে ডেমোক্র্যাটরা বেশি সক্ষম। রিপাবলিকানদের পক্ষে মত দিয়েছেন ৩৫ শতাংশ। জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রেও ডেমোক্র্যাটদের প্রতি তুলনামূলক বেশি আস্থা দেখিয়েছেন ভোটাররা।

অভিবাসন নীতিতে অবশ্য এখনো রিপাবলিকানরা এগিয়ে। ট্রাম্পের মেয়াদে অবৈধভাবে সীমান্ত পারাপার কমেছে এবং তাঁর প্রশাসন দেশজুড়ে অভিবাসনবিরোধী অভিযান জোরদার করেছে। তবে এসব অভিযানে আটক ও প্রাণঘাতী সংঘর্ষের ঘটনা বাড়ায় এ ক্ষেত্রেও সরকারের সমর্থন কিছুটা কমছে বলে জরিপে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

রয়টার্স ও ইপসোস অনলাইনে পরিচালিত এই জরিপে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকার ১ হাজার ১৬৬ জন প্রাপ্তবয়স্ক অংশ নেন। জরিপের সম্ভাব্য ভুলের সীমা প্রায় ৩ শতাংশ।

সব মিলিয়ে, ইরান যুদ্ধ, জ্বালানি ব্যয় ও অর্থনৈতিক উদ্বেগ এখন ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যুদ্ধ যত দীর্ঘ হবে, নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা ও রিপাবলিকানদের নির্বাচনী সম্ভাবনার ওপর চাপ তত বাড়তে পারে।

কালের আলো/এসএ

জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যেতে হবে: সংস্কৃতি মন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৪৮ অপরাহ্ণ
জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যেতে হবে: সংস্কৃতি মন্ত্রী

বাংলাদেশের ইতিহাস-ঐতিহ্য ও বৈচিত্র্যকে ধারণ করে জাতীয় স্বার্থে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে সূচিপত্র প্রকাশিত মারুফ কামাল খানের লেখা ‘রাজনীতির সদরে-অন্দরে’ বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, ‘সমাজে নানা ধরনের চিন্তা, মত ও আদর্শের মানুষ থাকবে। পাহাড় ও সমতলে যেমন বৈচিত্র্য রয়েছে, তেমনি মানুষের চিন্তা ও আদর্শেও পার্থক্য থাকতে পারে। এই বৈচিত্র্যের মধ্যেই ঐক্য প্রতিষ্ঠা করতে হবে। আমরা ‘ইউনিটি ইন ডাইভার্সিটি’ চাই। বাংলাকে আমাদের যাত্রাভূমি হিসেবে নিয়ে দেশকে বিশ্বের সামনে মাথা উঁচু করে দাঁড় করাতে চাই।’

তিনি বলেন, ‘বাংলার ইতিহাস হাজার হাজার বছরের পুরোনো। একসময় পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ জ্ঞান, শিক্ষা ও সমৃদ্ধির সন্ধানে বাংলায় আসতেন। এই ভূখণ্ডের ঐতিহ্য, সৌন্দর্য ও সমৃদ্ধি ছিল এমন যে, এখানে আসা মানুষ সহজে ফিরে যেতে চাইতেন না। ঐতিহাসিক নানা কারণে বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়লেও সঠিক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে পারলে এই বাংলাই সমকালীন পৃথিবীতে, অন্তত এশিয়ার অন্যতম শ্রেষ্ঠ দেশে পরিণত হতে পারে।

মন্ত্রী বলেন, ‘জাতীয় অর্থনীতি ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। ঐক্য ও বৈচিত্র্যকে ধারণ করেই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্মাণ করতে হবে।’

মারুফ কামাল খানের সাহিত্য ও সাংবাদিকতা প্রসঙ্গে নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, মারুফ কামাল খান শুধু একজন কবি নন, তিনি কথাসাহিত্যিক ও চিন্তাশীল লেখক হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ। তার লেখালেখির দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষণ ‘রাজনীতির সদরে-অন্দরে’ বইয়ে উঠে এসেছে। এ কারণেই বইটি পাঠকদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তিনি আরও বলেন, বইটি শুধু ব্যক্তিগত সংগ্রহে সীমাবদ্ধ না রেখে দেশের বিভিন্ন পাঠাগারে পৌঁছে দেওয়া প্রয়োজন। জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের মাধ্যমে বাংলাদেশের সব লাইব্রেরিতে বইটি পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

প্রকাশনা অনুষ্ঠানে বক্তারা মারুফ কামাল খানের দীর্ঘ সাংবাদিকতা, সাহিত্যচর্চা ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষণের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

আইফোন ১৮ প্রোর গোপন তথ্য ডার্ক ওয়েবে, অ্যাপলের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৪২ অপরাহ্ণ
আইফোন ১৮ প্রোর গোপন তথ্য ডার্ক ওয়েবে, অ্যাপলের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

অ্যাপলের নতুন আইফোন ১৮ প্রো বাজারে আসার আগেই এর গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য ডার্ক ওয়েবে ফাঁস হয়েছে। মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটির ভারতীয় সরবরাহকারী টাটা ইলেকট্রনিকসের সিস্টেমে সাইবার হামলার পর চুরি হওয়া নথির মধ্যে আসন্ন আইফোনটির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ, সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের তথ্য ও কিছু ছবি প্রকাশ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

রয়টার্সের পর্যালোচনা করা নথিগুলোতে আইফোন ১৮ প্রোর শত শত যন্ত্রাংশের তথ্য রয়েছে বলে জানা গেছে। এসব নথিতে বিভিন্ন যন্ত্রাংশের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের নামও রয়েছে। এর মধ্যে প্রধান সার্কিট বোর্ডের চিপ, ব্যাটারি ও ক্যামেরার বিভিন্ন অংশের তথ্য রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ফাঁস হওয়া তথ্য থেকে অ্যাপল কোন যন্ত্রাংশের জন্য কোন সরবরাহকারীর ওপর নির্ভর করছে, সে সম্পর্কেও ধারণা পাওয়া যেতে পারে। বিষয়টি অ্যাপলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ প্রতিষ্ঠানটি সাধারণত সরবরাহকারী ও যন্ত্রাংশসংক্রান্ত এ ধরনের তথ্য কঠোরভাবে গোপন রাখে।

চুরি হওয়া ফাইলগুলোর মধ্যে আইফোনের ড্রপ-টেস্টের ছবিও রয়েছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স। ছবিতে ধূসর রঙের একটি বার আকৃতির স্মার্টফোন, পেছনে তিনটি ক্যামেরা এবং অ্যাপলের লোগো দেখা যায়।

তবে রয়টার্স জানিয়েছে, ছবিতে থাকা ফোনটির মডেল নম্বর তারা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি। অবশ্য বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র দাবি করেছে, ছবিগুলো আইফোন ১৮ প্রো মডেলের।

ঘটনার সূত্রপাত টাটা ইলেকট্রনিকসের সিস্টেমে সাইবার হামলা থেকে। জুনে প্রতিষ্ঠানটি তাদের কয়েকটি সিস্টেমে সাইবার নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ঘটনা শনাক্ত করার কথা জানায়। এর আগে সাইবার নিরাপত্তা গবেষকেরা জানিয়েছিলেন, World Leaks নামের একটি র‍্যানসমওয়্যার গোষ্ঠী টাটা ইলেকট্রনিকসের চুরি করা তথ্য ডার্ক ওয়েবে প্রকাশ করেছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই গোষ্ঠী ২ লাখের বেশি ফাইল প্রকাশ করেছে বলে গবেষকেরা জানিয়েছেন। এসব ফাইলের মধ্যে অ্যাপল ও টেসলার সঙ্গে সম্পর্কিত নথিও থাকার দাবি করা হয়। তবে প্রকাশিত সব তথ্যের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

ফাঁসের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ শুধু নতুন আইফোনের তথ্য প্রকাশ নয়। সরবরাহকারী ও যন্ত্রাংশের তালিকা প্রকাশ পাওয়ায় অ্যাপলের বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থার কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠান, নকল পণ্য প্রস্তুতকারী ও অন্যান্য ব্যবসায়িক পক্ষের হাতে চলে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

অ্যাপল বিষয়টি তদন্ত করছে বলে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে। একই সময়ে টাটা ইলেকট্রনিকস সংবেদনশীল সিস্টেমে অভ্যন্তরীণ প্রবেশাধিকার সীমিত করেছে এবং নিরাপত্তা জোরদারে পদক্ষেপ নিয়েছে।

ঘটনাটি নিয়ে ভারত সরকারও তদন্ত শুরু করেছে। ভারতের ইলেকট্রনিকস ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব এস কৃষ্ণন ৩ জুলাই সাংবাদিকদের জানান, টাটা ইলেকট্রনিকসের তথ্য ফাঁসের বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।

এদিকে আইফোন ১৮ প্রো ও ১৮ প্রো ম্যাক্স ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে উন্মোচিত হতে পারে বলে রয়টার্স জানিয়েছে। তবে অ্যাপল এখনো নতুন মডেলগুলোর আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করেনি।

কালের আলো/এসএ

চা-শ্রমিকদের পাশে সরকার, ২০ হাজার রেইনকোট বিতরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৩২ অপরাহ্ণ
চা-শ্রমিকদের পাশে সরকার, ২০ হাজার রেইনকোট বিতরণ

মানবিক ও সামাজিক উদ্যোগে বেসরকারি খাতকে সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, সমাজের সবাই একটু একটু করে এগিয়ে এলে অনেক বড় সমস্যার সমাধান করা সম্ভব।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সিলেট বিভাগের চা-বাগান শ্রমিকদের প্রতিকূল আবহাওয়ায় সুরক্ষায় বেসরকারি খাতের করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) তহবিলের সহায়তায় ২০ হাজার রেইনকোট বিতরণ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যারা জনকল্যাণমূলক কাজে অংশ নিতে চায়, সরকার সর্বদা তাদের পাশে থাকবে।’

অনুষ্ঠানে শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জের ১০ জন চা-শ্রমিকের হাতে রেইনকোট তুলে দিয়ে কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তিনি শ্রমিকদের সার্বিক খোঁজখবর নেন।

প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব শাহরিয়ার পামির জানান, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ উদ্যোগে নেওয়া এ কর্মসূচির আওতায় সিলেট, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার চা-বাগানগুলোতে কর্মরত শ্রমিকদের জন্য মোট ২০ হাজার রেইনকোট দেওয়া হচ্ছে।

এর মধ্যে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ (বাপি) ১০ হাজার, শেভরন বাংলাদেশ ৫ হাজার এবং পাণ্ডুঘর গ্রুপ ৫ হাজার রেইনকোট সরবরাহ করছে।

অনুষ্ঠানে বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা বলেন, ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সমাজের পিছিয়ে পড়া ও শ্রমজীবী মানুষের কল্যাণে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার (সিএসআর) অংশ। সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে ভবিষ্যতেও চা-শ্রমিকসহ বিভিন্ন প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ উন্নয়নে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।

রেইনকোট গ্রহণকালে শ্রীমঙ্গলের মাজদিহি চা-বাগানের শ্রমিক সন্তুকী রায় চা-শ্রমিকদের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা হিসেবে চা-পাতা উপহার দেন। এ সময় চা-শ্রমিকদের পক্ষ থেকে শান্তি উড়িয়া, মুন্নী কুর্মি, জ্যোৎস্না আক্তার, রিনা তাঁতী, শশিকা ব্যানার্জি, কবিতা কর্মকার, সুজাতা বিশ্বাস, রিতা রাণী বাউরী ও আফখাতুন নাহার উপস্থিত থেকে প্রধানমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া সিলেট ও সুনামগঞ্জ বিভাগের বিভিন্ন সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্যরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিদের মধ্যে বাপির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মোসাদ্দেক হোসেন, উপদেষ্টা তপন চৌধুরী, কার্যকরী সদস্য মিজ সিমিন রহমান ও নির্বাহী পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম; শেভরন বাংলাদেশের পরিচালক মো. ইমরুল কবির, আশিক শেহজাদ রহমান ও হেড অব কমিউনিটি এনগেজমেন্ট এ কে এম আরিফ আখতার এবং পাণ্ডুঘর গ্রুপের পিপল অ্যান্ড করপোরেট অ্যাফেয়ার্স চিফ গোলাম হাবিব উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ