শক্তিশালী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মডেলকে সরাসরি ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত না রেখেই প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে ওপেনএআই। এ ক্ষেত্রে ইন্টারনেটের সংরক্ষিত ও সূচিবদ্ধ কনটেন্টের পাশাপাশি কৃত্রিমভাবে তৈরি ইন্টারনেট পরিবেশ ব্যবহার করবে প্রতিষ্ঠানটি। এর মূল লক্ষ্য, এআই মডেলের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি অননুমোদিত প্রবেশ ও সম্ভাব্য সাইবার নিরাপত্তাঝুঁকি কমানো।
প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট টেকক্রাঞ্চের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত শুক্রবার নতুন এ নিরাপত্তানীতির কথা জানিয়েছে ওপেনএআই। এর আগে একই ধরনের পদক্ষেপ নেয় আরেক এআই প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিক। প্রতিষ্ঠানটি তাদের নতুন ও অধিক সক্ষম কয়েকটি মডেলের সরাসরি ইন্টারনেট ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে।
কেন ইন্টারনেট থেকে বিচ্ছিন্ন থাকবে এআই
এআই মডেলের সক্ষমতা যত বাড়ছে, ততই সেগুলোর নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে। কোনো শক্তিশালী মডেলকে সরাসরি ইন্টারনেটে প্রবেশের সুযোগ দিলে সেটি অনিচ্ছাকৃতভাবে বা নিরাপত্তাব্যবস্থার দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে বাইরের সিস্টেমে প্রবেশ করতে পারে। এতে তথ্যের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়া কিংবা অননুমোদিত কার্যক্রমের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
ওপেনএআইয়ের মতে, বর্তমান এআই নিরাপত্তা গবেষণা, পর্যবেক্ষণব্যবস্থা এবং ইন্টারনেট অবকাঠামোর নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় শক্তিশালী মডেলের প্রশিক্ষণপরিবেশকে ইন্টারনেট থেকে বিচ্ছিন্ন রাখা দায়িত্বশীল পদক্ষেপ।
কনফিগারেশনের ত্রুটি থেকে নিরাপত্তা উদ্বেগ
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২০ সেপ্টেম্বর ওপেনএআইয়ের একটি শক্তিশালী এআই মডেল সিস্টেমের কনফিগারেশনে থাকা ত্রুটির সুযোগ নিয়ে ইন্টারনেটে প্রবেশ করতে সক্ষম হয়। ঘটনার পর নিরাপত্তাব্যবস্থা উন্নত করা ও পরীক্ষা চালানোর জন্য ওই মাসের বাকি সময়ের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম স্থগিত রাখে প্রতিষ্ঠানটি।
এ ঘটনা এআই প্রশিক্ষণের অবকাঠামো নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করে। কারণ, শুধু মডেলকে একটি বিচ্ছিন্ন পরিবেশে রাখলেই সব ধরনের ঝুঁকি দূর হয় না। প্রশিক্ষণের কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন উপকরণ, সেবা ও সফটওয়্যারের মধ্যেও নিরাপত্তার দুর্বলতা থাকতে পারে।
ওপেনএআইয়ের এক নিরাপত্তা প্রকৌশলী এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছিলেন, এআই প্রশিক্ষণের পরিবেশে বিভিন্ন ধরনের উপকরণ ও সেবার প্রয়োজন হয়। হাজারো গবেষক এসব পরিবেশ তৈরি, পরিবর্তন ও পরীক্ষা করেন। ফলে পুরো ব্যবস্থাকে নিরাপদ রাখা একটি জটিল কাজ।
সংরক্ষিত ওয়েব কনটেন্টেই চলবে প্রশিক্ষণ
নতুন ব্যবস্থায় এআই মডেলগুলোকে সরাসরি ইন্টারনেটে প্রবেশের সুযোগ না দিয়েও প্রশিক্ষণের জন্য বিপুল পরিমাণ সূচিবদ্ধ ও সংরক্ষিত ওয়েব কনটেন্ট ব্যবহার করবে ওপেনএআই। এসব কনটেন্টের সঙ্গে কাজ করে মডেলগুলো প্রয়োজনীয় তথ্য ও বিভিন্ন ধরনের উদাহরণ থেকে শেখার সুযোগ পাবে।
পাশাপাশি কৃত্রিমভাবে তৈরি ইন্টারনেট পরিবেশ ব্যবহার করে মডেলগুলোর আচরণ ও সক্ষমতা যাচাই করা হবে। এতে বাস্তব ইন্টারনেটের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ ছাড়াই বিভিন্ন পরিস্থিতি অনুকরণ করে পরীক্ষা চালানো সম্ভব হবে। একই সঙ্গে বাইরের সিস্টেমে সরাসরি প্রভাব ফেলার সুযোগ সীমিত রাখা যাবে।
নির্ধারিত নিরাপত্তাব্যবস্থা এড়িয়ে মডেলগুলো বিচ্ছিন্ন পরিবেশ থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করে কি না, তা যাচাই করতেও পরীক্ষা চালিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
সক্ষমতা ধরে রাখা নিয়েই প্রশ্ন
ইন্টারনেট থেকে বিচ্ছিন্ন পরিবেশে এআই প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে বড় প্রশ্ন হলো, সংরক্ষিত কনটেন্ট ব্যবহার করে মডেলগুলো সরাসরি ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত পরিবেশের মতো একই মাত্রার সক্ষমতা অর্জন করতে পারবে কি না। এ বিষয়ে এখনো নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি।
তবে ওপেনএআই ও অ্যানথ্রপিকের সাম্প্রতিক উদ্যোগে স্পষ্ট হচ্ছে, অধিক সক্ষম এআই মডেল তৈরির পাশাপাশি সেগুলোর প্রশিক্ষণপরিবেশের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় গুরুত্ব দিচ্ছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো। ভবিষ্যতে এআইয়ের সক্ষমতা বৃদ্ধির সঙ্গে নিরাপত্তার ভারসাম্য রক্ষায় এ ধরনের ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
কালের আলো/এসএ/জেএন
আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]