খুঁজুন
                               
, ,
           

ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য স্থগিত করল আমিরাত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৩৫ পূর্বাহ্ণ
ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য স্থগিত করল আমিরাত

আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে ইরানের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক লেনদেন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। মঙ্গলবার দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানায়।

মন্ত্রণালয়ের যোগাযোগ বিভাগের পরিচালক আফরা আল হামেলি জানান, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য, বাণিজ্যিক বিনিময় ও অর্থনৈতিক লেনদেন বন্ধ থাকবে।

গত কয়েক মাসে ইরানের হামলায় উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে ইউএই। বিশেষ করে গত ১৩ আগস্ট আবুধাবির রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি অ্যাডনকের দুটি ট্যাংকার ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হওয়ার পর সম্পর্ক স্থগিতের বিষয়টি জোরালোভাবে বিবেচনা করে দেশটি।

মঙ্গলবারও পারস্য উপসাগরের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথে ইউএইর দুটি বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার অভিযোগ উঠেছে। তবে জাহাজ দুটি ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লার বাইরে থাকায় কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

তবে ইউএইর অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়েই বলেন, ইরান কখনো ইউএইকে শত্রু হিসেবে বিবেচনা করে হামলা করেনি। একই সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্থগিতের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে তেহরান।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

ইন্টারনেটের বাইরে এআই প্রশিক্ষণ দেবে ওপেনএআই, কেন এই সিদ্ধান্ত?

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১:২৮ অপরাহ্ণ
ইন্টারনেটের বাইরে এআই প্রশিক্ষণ দেবে ওপেনএআই, কেন এই সিদ্ধান্ত?

শক্তিশালী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মডেলকে সরাসরি ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত না রেখেই প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে ওপেনএআই। এ ক্ষেত্রে ইন্টারনেটের সংরক্ষিত ও সূচিবদ্ধ কনটেন্টের পাশাপাশি কৃত্রিমভাবে তৈরি ইন্টারনেট পরিবেশ ব্যবহার করবে প্রতিষ্ঠানটি। এর মূল লক্ষ্য, এআই মডেলের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি অননুমোদিত প্রবেশ ও সম্ভাব্য সাইবার নিরাপত্তাঝুঁকি কমানো।

প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট টেকক্রাঞ্চের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত শুক্রবার নতুন এ নিরাপত্তানীতির কথা জানিয়েছে ওপেনএআই। এর আগে একই ধরনের পদক্ষেপ নেয় আরেক এআই প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিক। প্রতিষ্ঠানটি তাদের নতুন ও অধিক সক্ষম কয়েকটি মডেলের সরাসরি ইন্টারনেট ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে।

কেন ইন্টারনেট থেকে বিচ্ছিন্ন থাকবে এআই
এআই মডেলের সক্ষমতা যত বাড়ছে, ততই সেগুলোর নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে। কোনো শক্তিশালী মডেলকে সরাসরি ইন্টারনেটে প্রবেশের সুযোগ দিলে সেটি অনিচ্ছাকৃতভাবে বা নিরাপত্তাব্যবস্থার দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে বাইরের সিস্টেমে প্রবেশ করতে পারে। এতে তথ্যের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়া কিংবা অননুমোদিত কার্যক্রমের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

ওপেনএআইয়ের মতে, বর্তমান এআই নিরাপত্তা গবেষণা, পর্যবেক্ষণব্যবস্থা এবং ইন্টারনেট অবকাঠামোর নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় শক্তিশালী মডেলের প্রশিক্ষণপরিবেশকে ইন্টারনেট থেকে বিচ্ছিন্ন রাখা দায়িত্বশীল পদক্ষেপ।

কনফিগারেশনের ত্রুটি থেকে নিরাপত্তা উদ্বেগ
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২০ সেপ্টেম্বর ওপেনএআইয়ের একটি শক্তিশালী এআই মডেল সিস্টেমের কনফিগারেশনে থাকা ত্রুটির সুযোগ নিয়ে ইন্টারনেটে প্রবেশ করতে সক্ষম হয়। ঘটনার পর নিরাপত্তাব্যবস্থা উন্নত করা ও পরীক্ষা চালানোর জন্য ওই মাসের বাকি সময়ের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম স্থগিত রাখে প্রতিষ্ঠানটি।

এ ঘটনা এআই প্রশিক্ষণের অবকাঠামো নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করে। কারণ, শুধু মডেলকে একটি বিচ্ছিন্ন পরিবেশে রাখলেই সব ধরনের ঝুঁকি দূর হয় না। প্রশিক্ষণের কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন উপকরণ, সেবা ও সফটওয়্যারের মধ্যেও নিরাপত্তার দুর্বলতা থাকতে পারে।

ওপেনএআইয়ের এক নিরাপত্তা প্রকৌশলী এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছিলেন, এআই প্রশিক্ষণের পরিবেশে বিভিন্ন ধরনের উপকরণ ও সেবার প্রয়োজন হয়। হাজারো গবেষক এসব পরিবেশ তৈরি, পরিবর্তন ও পরীক্ষা করেন। ফলে পুরো ব্যবস্থাকে নিরাপদ রাখা একটি জটিল কাজ।

সংরক্ষিত ওয়েব কনটেন্টেই চলবে প্রশিক্ষণ
নতুন ব্যবস্থায় এআই মডেলগুলোকে সরাসরি ইন্টারনেটে প্রবেশের সুযোগ না দিয়েও প্রশিক্ষণের জন্য বিপুল পরিমাণ সূচিবদ্ধ ও সংরক্ষিত ওয়েব কনটেন্ট ব্যবহার করবে ওপেনএআই। এসব কনটেন্টের সঙ্গে কাজ করে মডেলগুলো প্রয়োজনীয় তথ্য ও বিভিন্ন ধরনের উদাহরণ থেকে শেখার সুযোগ পাবে।

পাশাপাশি কৃত্রিমভাবে তৈরি ইন্টারনেট পরিবেশ ব্যবহার করে মডেলগুলোর আচরণ ও সক্ষমতা যাচাই করা হবে। এতে বাস্তব ইন্টারনেটের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ ছাড়াই বিভিন্ন পরিস্থিতি অনুকরণ করে পরীক্ষা চালানো সম্ভব হবে। একই সঙ্গে বাইরের সিস্টেমে সরাসরি প্রভাব ফেলার সুযোগ সীমিত রাখা যাবে।

নির্ধারিত নিরাপত্তাব্যবস্থা এড়িয়ে মডেলগুলো বিচ্ছিন্ন পরিবেশ থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করে কি না, তা যাচাই করতেও পরীক্ষা চালিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

সক্ষমতা ধরে রাখা নিয়েই প্রশ্ন
ইন্টারনেট থেকে বিচ্ছিন্ন পরিবেশে এআই প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে বড় প্রশ্ন হলো, সংরক্ষিত কনটেন্ট ব্যবহার করে মডেলগুলো সরাসরি ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত পরিবেশের মতো একই মাত্রার সক্ষমতা অর্জন করতে পারবে কি না। এ বিষয়ে এখনো নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি।

তবে ওপেনএআই ও অ্যানথ্রপিকের সাম্প্রতিক উদ্যোগে স্পষ্ট হচ্ছে, অধিক সক্ষম এআই মডেল তৈরির পাশাপাশি সেগুলোর প্রশিক্ষণপরিবেশের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় গুরুত্ব দিচ্ছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো। ভবিষ্যতে এআইয়ের সক্ষমতা বৃদ্ধির সঙ্গে নিরাপত্তার ভারসাম্য রক্ষায় এ ধরনের ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

কালের আলো/এসএ/জেএন

নজিরবিহীন নিরাপত্তায় দুর্গাপূজা, সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১:২৩ অপরাহ্ণ
নজিরবিহীন নিরাপত্তায় দুর্গাপূজা, সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা

নজিরবিহীন নিরাপত্তাব্যবস্থা, পাঁচ দিনের ছুটি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মধ্য দিয়ে এবারের শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপিত হয়েছে বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্ট। সংগঠনটির নেতারা জানিয়েছেন, এবারের দুর্গোৎসবে সারা দেশে কোনো সহিংসতা বা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। এ জন্য বিএনপি সরকার, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তারা।

রোববার (২৫ অক্টোবর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানানো হয়।

সহিংসতামুক্ত দুর্গোৎসবের দাবি
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক মিল্টন বৈদ্য বলেন, ইতিহাসে এবারই প্রথম সহিংসতামুক্ত, নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সারা দেশে শারদীয় দুর্গাপূজা সম্পন্ন হয়েছে। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই দেশজুড়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকাকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক ইতিহাসে অনন্য দৃষ্টান্ত বলে উল্লেখ করেন তিনি।

মিল্টন বৈদ্য বলেন, দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপনের পেছনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্ব, সরকারের সিদ্ধান্ত এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরলস ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এর ফলে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা নিরাপত্তাহীনতায় না ভুগে আনন্দের সঙ্গে পূজা উদযাপন করতে পেরেছেন বলে দাবি করেন তিনি।

ধর্ম যার যার, নিরাপত্তার অধিকার সবার
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক বলেন, প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার; নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার সবার’—এই বক্তব্যের বাস্তব প্রতিফলন এবারের দুর্গোৎসবে দেখা গেছে। তার মতে, ধর্মীয় পরিচয় নির্বিশেষে নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হলে সমাজে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও আস্থা আরও জোরদার হয়।

রাষ্ট্রীয় অনুদান ও পাঁচ দিনের ছুটিতে সন্তোষ
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নেতারা দাবি করেন, এবারের দুর্গাপূজায় রাষ্ট্রীয় অনুদান স্বাধীনতার পর থেকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রত্যাশার তুলনায় সরকার প্রায় দ্বিগুণ অর্থ বরাদ্দ দিয়েছে বলেও দাবি করেন তারা। এতে পূজার আয়োজন আরও উৎসবমুখর করা সম্ভব হয়েছে বলে জানান নেতারা।

এবার দুর্গাপূজা উপলক্ষে পাঁচ দিনের ছুটি দেওয়ায় সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন মিল্টন বৈদ্য। তিনি বলেন, দীর্ঘ ছুটির ফলে সাধারণ মানুষ এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পরিবারের সঙ্গে উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করার সুযোগ পেয়েছেন।

পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও নিরাপত্তাব্যবস্থা
সংগঠনটির নেতারা জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন এবং তাদের খোঁজখবর নিয়েছেন। রাষ্ট্রপতিও বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়।

নিরাপত্তাব্যবস্থা সম্পর্কে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, পুলিশ, এসআরবি, আনসারসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিভিন্ন বাহিনীর সমন্বয়ে পূজামণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন ও গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে উৎসবের পরিবেশ নিরাপদ রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়। ধর্মীয় উসকানি ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থান সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থা তৈরি করেছে বলেও দাবি করেন সংগঠনটির নেতারা।

সম্প্রীতি বজায় রাখার প্রত্যাশা
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্টের নেতারা বলেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও সম্প্রীতির ভিত্তিতে সব ধর্মের মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করা সম্ভব। একটি বৈষম্যহীন ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার জন্য সরকারের প্রতি প্রত্যাশা জানান তারা। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, বিএনপি সরকার এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সহসভাপতি রমেশ দত্ত, যুগ্ম মহাসচিব উত্তম সরকারসহ সংগঠনটির অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

বাণিজ্য বিনিয়োগ ও সংস্কৃতি নিয়ে ইউরোপ সফরে শামা

কূটনৈতিক প্রতিবেদক,কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১:১২ অপরাহ্ণ
বাণিজ্য বিনিয়োগ ও সংস্কৃতি নিয়ে ইউরোপ সফরে শামা

বাংলাদেশের সঙ্গে ইউরোপীয় দেশগুলোর অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব জোরদার, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং সাংস্কৃতিক সহযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্যে স্পেন ও যুক্তরাজ্য সফরে যাচ্ছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। আগামী ২৬ থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত দুই দেশে সরকারি সফর করবেন তিনি।

রোববার (২৫ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে। সফরকালে দুই দেশের বিভিন্ন দপ্তরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রতিমন্ত্রী। এসব বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, ব্যবসা, পর্যটন, দক্ষতা উন্নয়ন এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়ে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর উপায় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

সেভিলে স্পেন-বাংলাদেশ এক্সপোর উদ্বোধন
সফরের প্রথম পর্যায়ে ২৬ অক্টোবর স্পেনের সেভিল শহরে ‘তৃতীয় স্পেন-বাংলাদেশ এক্সপো ২০২৬’-এর উদ্বোধন করবেন শামা ওবায়েদ ইসলাম। ‘দৃঢ়তর অংশীদারিত্ব, অভিন্ন সমৃদ্ধি’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এই এক্সপোর উদ্যোক্তা স্পেন-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি। এক্সপোটির অন্যতম লক্ষ্য বাংলাদেশি রপ্তানিকারকদের সঙ্গে স্পেনের উৎপাদক, আমদানিকারক ও বিনিয়োগকারীদের সংযোগ তৈরি করা। এর মাধ্যমে দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক সম্প্রসারণ, বাংলাদেশি পণ্যের নতুন বাজার অনুসন্ধান এবং বিনিয়োগের সম্ভাবনা তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। বাংলাদেশের ব্যবসায়ী ও রপ্তানিকারকদের জন্য ইউরোপীয় বাজারে যোগাযোগ বাড়ানো এবং নতুন বাণিজ্যিক অংশীদার খুঁজে পাওয়ার ক্ষেত্রেও এ আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

যুক্তরাজ্য সফরে গুরুত্ব পাবে শিল্প ও সংস্কৃতি
স্পেন সফর শেষে ২৯ ও ৩০ অক্টোবর যুক্তরাজ্য সফর করবেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। সেখানে বাংলাদেশের শিল্প ও সংস্কৃতির প্রসার, আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক অংশীদারিত্ব বাড়ানো এবং দেশের সৃজনশীল অর্থনীতির উন্নয়নের সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করার কথা রয়েছে। সাংস্কৃতিক বিনিময়ের মাধ্যমে দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি বাংলাদেশের শিল্প, ঐতিহ্য ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হতে পারে। এ সফরে সাংস্কৃতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিভিন্ন দিকও গুরুত্ব পাবে।

অর্থনৈতিক কূটনীতি জোরদারে গুরুত্ব
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, স্পেন ও যুক্তরাজ্য সফরের মূল লক্ষ্য অর্থনৈতিক কূটনীতি জোরদার, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং সাংস্কৃতিক সহযোগিতার পরিধি বাড়ানো। বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়ন ও পর্যটন খাতেও সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র খুঁজে দেখবেন প্রতিমন্ত্রী। দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক ও এক্সপোতে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে সফর শেষে কী ধরনের সমঝোতা, চুক্তি বা নতুন উদ্যোগ নেওয়া হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো জানানো হয়নি।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি