খুঁজুন
                               
, ,
           

আইপিএএমএস আয়োজনে বাংলাদেশের সক্ষমতা দেখলো বিশ্ব, জেনারেল চার্লস ফ্লিন’র প্রশংসা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ১০:৪৪ অপরাহ্ণ
আইপিএএমএস আয়োজনে বাংলাদেশের সক্ষমতা দেখলো বিশ্ব, জেনারেল চার্লস ফ্লিন’র প্রশংসা

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:

চারদিনব্যাপী ইন্দো-প্যাসিফিক আর্মিস ম্যানেজমেন্ট সেমিনার (আইপিএএমএস)। স্বার্থক ও সাফল্যমন্ডিত অনিন্দ্য সুন্দর এক আয়োজনে রীতিমতো মুন্সীয়ানা দেখালো বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। আরও একবার তাদের সামর্থ্য ও সক্ষমতা দেখলো বিশ্ব। ২৪ টি দেশের নীতি নির্ধারক সেনা কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে এখান থেকেই বার্তা মিলেছে আঞ্চলিক, বৈশ্বিক শান্তি এবং স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার দৃঢ় অঙ্গীকার।

গুরুত্বপূর্ণ এই সেমিনারে স্বয়ং ইউএস আর্মি প্যাসিফিক কমান্ড জেনারেল চার্লস ফ্লিন উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেছেন আয়োজক বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ড.এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ প্রগাঢ় বন্ধুত্বের নির্মল আনন্দের বারতা ছড়িয়ে দিয়েছেন প্রত্যেকের প্রাণে প্রাণে, যা সামরিক কূটনীতির অনন্যতায় পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাসের নতুন পটভূমি রচনা করেছে।

নিজ মুখেই তিনি বলেছেন, ‘এই সেমিনারের কল্যাণে ২৪ দেশের সেনা কর্মকর্তারা নিজেদেরকে এখন বন্ধু বলতে পারে। যা এ অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় সহায়তা করবে।’

গত বৃহস্পতিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ঢাকার একটি হোটেলে চলতি বছরের বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এবং ইউএস আর্মি প্যাসিফিক’র যৌথ আয়োজনে ৪৬তম ইন্দো-প্যাসিফিক আর্মিস ম্যানেজমেন্ট সেমিনার (আইপিএএমএস) এর সমাপনী অনুষ্ঠানে পৃথক পৃথক বিদায়ী বক্তব্যে জেনারেল শফিউদ্দিন এবং জেনারেল ফ্লিন সুখময় দৃশ্যকল্পের আলোকময় উচ্চারণে বন্ধুত্বের বন্ধন আরও সুদৃঢ় করার প্রত্যয়দীপ্ত উচ্চারণ করেছেন।

রাজধানী ঢাকায় এর আগে গত সোমবার (১২ সেপ্টেম্বর) থেকে শুরু হয় ৪৬ তম ইন্দো-প্যাসিফিক আর্মিজ ম্যানেজমেন্ট সেমিনার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই সেমিনারের উদ্বোধন করেন। যেখানে ২৪টি দেশের উচ্চপদস্থ সেনা কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন। গুরুত্ববহ এই সেমিনারে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) লেফটেন্যান্ট জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, চীফ অব জেনারেল স্টাফ (সিজিএস) লেফটেন্যান্ট জেনারেল আতাউল হাকিম সারওয়ার হাসান, কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল (কিউএমজি) লেফটেন্যান্ট জেনারেল সাইফুল আলম, ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ (এনডিসি) কমান্ড্যান্ট লেফটেন্যান্ট জেনারেল আকবর হোসেন, রাষ্ট্রদূত লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম মতিউর রহমানসহ উর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। আঞ্চলিক নিরাপত্তা স্থিতিশীলতা বাড়াতে গত চারদিনে সবাই নিজেদের ভাবনা পরিকল্পনা বিনিময় করেন।

সমাপনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ড.এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ ও ইউএস আর্মি প্যাসিফিক কমান্ড জেনারেল চার্লস ফ্লিন চলতি বছরের আইপিএএমএস’এ অংশগ্রহণকারী সব দেশের প্রতিনিধিদের হাতে সার্টিফিকেট তুলে দেন। এছাড়াও পরবর্তী আয়োজক হিসেবে ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রতিনিধির কাছে আইপিএএমএস’র পতাকা হস্তান্তর করা হয়। বাদ্যযন্ত্রে যুক্তরাষ্ট্র এবং বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত বাজিয়ে সমাপনী অনুষ্ঠানের দাঁড়ি টানা হয়।

সমাপনী বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্যাসিফিক কমান্ডের জেনারেল ফ্লিন বলেন, ‘ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের নিরাপত্তা তৈরি প্রশিক্ষণ ও কঠিন সময়ে এক সঙ্গে লড়াই করার মনোভাব গড়ে তুলাই এই সেমিনারের লক্ষ্য। আয়োজক হিসাবে বাংলাদেশের সেনাবাহিনী দারুন কাজ করেছে।’

তিনি বলেন, ‘নিজেদের আইডিয়া বিনিময়, সম্পর্ক তৈরি এমনকি নিরাপত্তার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করতে। পৃথিবীর সবথেকে সম্ভাবনাময় এ অঞ্চলের ২৪ দেশের সেনাবাহিনী সমবেত হয়েছে। যা পুরো বিশ্বকে বার্তা দেয় আমরা সংঘবদ্ধ এবং আমাদের একত্রিত প্রতিজ্ঞা রয়েছে।’

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ড.এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘এই সেমিনারের কল্যাণে ২৪ দেশের সেনা কর্মকর্তারা নিজেদেরকে এখন বন্ধু বলতে পারে। যা এ অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় সহায়তা করবে।’

তিনি বলেন, ‘প্রথমত আমরা সারা বিশ্বকে দেখাতে সক্ষম হয়েছি, যে আমাদের এই ধরনের ইভেন্ট আয়োজন করার সক্ষমতা কত। আপনারা শুনে খুব খুশি হবেন যে, এখানে অনেককে আমি বলতে শোনেছি যে- তারা বলছে যে, বাংলাদেশে যেভাবে করেছে এটাই স্ট্যান্ডার্ড ভবিষ্যতে এটাকে সবাই অনুকরণ করবে।দুই নম্বর বাংলাদেশ আজকে অনেকভাবে আন্তর্জাতিকভাবে তাদের বন্ধুসংখ্যা বাড়িয়েছে বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করছি। যেটা আমাদের অনুকূলে যাবে বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।’

আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক প্রেস নোটে জানিয়েছে, বিদায়ী বক্তব্যে জেনারেল ফ্লিন বলেন, বিশ্বের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় এই অঞ্চলের নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধির ক্ষেত্রে ঐক্য ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার দৃঢ় বার্তা পাঠাতে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের ২৪টি দেশের স্থল বাহিনীর নেতৃবৃন্দ এই সম্মেলনে একত্রিত হয়েছে। সেই সাথে এই সম্মেলন আয়োজনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী একটি আন্তর্জাতিক মানদন্ড স্থাপন করেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। অন্যদিকে, এই সম্মেলনের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের বন্ধুর সংখ্যা বেড়েছে বলে মনে করেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ।

আইএসপিআর আরও জানায়, গত ১২-১৫ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত চারদিনব্যাপী এই সম্মেলনে ‘ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখার ক্ষেত্রে সম্ভাবনা এবং চ্যালেঞ্জসমূহ’ নিয়ে আলোচনা ও মতবিনিময় করেন সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী ২৪টি দেশের সিনিয়র সামরিক নেতৃবৃন্দ। এবারের সম্মেলনে ‘বলিষ্ঠ শান্তিরক্ষা’, ‘নারীর ক্ষমতায়ন’ এবং ‘ইন্দো প্যাসিফিক অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে স্থল বাহিনীর ভূমিকা’ বিষয়ে ৩টি প্লেনারি সেশন অনুষ্ঠিত হয়।

সম্মেলনের একটি পর্ব কক্সবাজারে অনুষ্ঠিত হয় যেখানে ‘ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে সহযোগিতা বাড়াতে সামরিক কূটনীতি’ বিষয়ে একটি গোল টেবিল বৈঠকে মিলিত হন অংশগ্রহণকারী সামরিক নেতৃবৃন্দ। এছাড়াও জুনিয়র নেতৃবৃন্দ পেশাদারিত্বের উপর পৃথক পৃথক আলোচনায় অংশ গ্রহণ করেন। সম্মেলন শেষে প্রতিনিধি দলটি উখিয়ায় বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মায়ানমার নাগরিকদের (এফডিএমএন) কুতুপালং ক্যাম্প পরিদর্শনের মাধ্যমে ক্যাম্পের বাস্তব চিত্র স্বচক্ষে অবলোকন করেন।

সম্মেলনের তৃতীয় দিনে শিক্ষামন্ত্রী ডা: দীপু মনি এমপি বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে নারীর ক্ষমতায়নে সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ বিষয়ে বক্তব্য রাখেন। এরপর সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী প্রতিনিধিরা ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে ‘বলিষ্ঠ শান্তিরক্ষা’, ‘নারীর ক্ষমতায়ন’, এবং ‘আঞ্চলিক সমস্যা সমাধানে স্থল বাহিনীর ভূমিকা’ শীর্ষক বিষয়ে ব্রেক আউট সেশনে অংশগ্রহণ করেন।

এসব কর্মকাণ্ড ছাড়াও বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং প্রদর্শনী আয়োজনের মাধ্যমে আগত অতিথিদের কাছে বাংলাদেশের সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যকে তুলে ধরা হয়।

এই সম্মেলনের মাধ্যমে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের অংশগ্রহণকারী দেশসমূহের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও পারস্পরিক সহযোগিতা আরও বেগবান হবে এবং এই অঞ্চল তথা বিশ্বে বাংলাদেশের সক্ষমতার প্রকাশ ও সুনাম আরো বৃদ্ধি পাবে বলে আশা প্রকাশ করার কথা জানিয়েছে আইএসপিআর।

কালের আলো/এমএএএমকে

পাবনা-টেকনাফ-কলমাকান্দায় পানিতে ডুবে ৬ শিশুর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪৪ অপরাহ্ণ
পাবনা-টেকনাফ-কলমাকান্দায় পানিতে ডুবে ৬ শিশুর মৃত্যু

দেশের তিন জেলায় পানিতে ডুবে ছয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) পাবনা, কক্সবাজার ও নেত্রকোনায় পৃথক এসব দুর্ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে পাবনায় তিন শিশু, কক্সবাজারের টেকনাফে দুই শিশু এবং নেত্রকোনার কলমাকান্দায় এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

পাবনায় তিন শিশু

পাবনা সদর উপজেলার চরতারাপুর ইউনিয়নের নবীন বাজার এলাকার দাশপাড়া গ্রামে বাড়ির পাশের মাঠে জমে থাকা বর্ষার পানিতে গোসল করতে গিয়ে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার দুপুর ২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলো—দাশপাড়া গ্রামের শিমুল মল্লিকের মেয়ে সুমি খাতুন (৭) এবং একই গ্রামের আশরাফুল ইসলামের ছেলে খালিদ হোসেন (৮) ও মেয়ে আফিয়া খাতুন (৬)। তারা স্থানীয় একটি কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষার্থী ছিল।

স্থানীয়রা জানান, দুপুরে শিশুরা মাঠের জমে থাকা পানিতে গোসল করতে নামে। একপর্যায়ে একজন পানিতে তলিয়ে গেলে তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে বাকি দুজনও পানিতে ডুবে যায়। পরে স্থানীয়রা তিন শিশুকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করলে পথেই তাদের মৃত্যু হয়।

টেকনাফে নাফ নদীতে দুই শিশু

কক্সবাজারের টেকনাফের শাহপরীরদ্বীপে নাফ নদীতে গোসল করতে নেমে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জেটিঘাট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলো—শাহপরীরদ্বীপ উত্তরপাড়া এলাকার মোহাম্মদ উল্লাহর ছেলে মোহাম্মদ নিশান (১২) ও কেফায়েত উল্লাহর ছেলে আরজিন (১০)।

তারা গোসল করতে নেমে পানিতে তলিয়ে নিখোঁজ হয়। স্থানীয় বাসিন্দা, জেলে ও পরে কোস্টগার্ড সদস্যরা উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। প্রায় চার ঘণ্টা পর দুপুর ২টার দিকে তাদের উদ্ধার করা হয়। আরজিনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। নিশানকে মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

কলমাকান্দায় শিশুর মৃত্যু

নেত্রকোনার কলমাকান্দায় পুকুরের পানিতে ডুবে আব্দুল্লাহ নামে সাড়ে চার বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার উপজেলার চিনাহালা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত আব্দুল্লাহ ওই এলাকার কাজল মিয়ার ছেলে। পরিবারের লোকজনের অজান্তে খেলতে গিয়ে সে পুকুরে পড়ে যায়। পরে স্বজনরা উদ্ধার করে কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পৃথক এসব দুর্ঘটনায় তিন এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

ব্যাংক খাতে বাড়ছে ‘নীরব’ ঝুঁকি

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:২৫ অপরাহ্ণ
ব্যাংক খাতে বাড়ছে ‘নীরব’ ঝুঁকি

দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ও শ্রেণিকৃত ঋণের চাপ এখন আর বিচ্ছিন্ন কোনো সমস্যা নয়; এটি ক্রমেই পুরো আর্থিক ব্যবস্থার স্থিতিশীলতার জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে উঠছে। একদিকে বাড়ছে সমস্যাগ্রস্ত ঋণ, অন্যদিকে এসব ঋণের বিপরীতে প্রয়োজনীয় প্রভিশন সংরক্ষণ করতে পারছে না অনেক ব্যাংক। ফলে কাগজে-কলমে ব্যাংকের আর্থিক সক্ষমতার যে চিত্র দেখা যাচ্ছে, তার আড়ালে প্রকৃত ঝুঁকি আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, জুন ২০২৬ শেষে দেশের ব্যাংকিং খাতে প্রয়োজনীয় প্রভিশন ও বাস্তবে সংরক্ষিত প্রভিশনের মধ্যে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২২ হাজার ৩৫৭ কোটি ৫২ লাখ টাকা। একই সময়ে ব্যাংকগুলোর মোট শ্রেণিকৃত ঋণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৬ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা।

শ্রেণিকৃত ঋণ বেড়েছে প্রায় ১৮ হাজার কোটি
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, মার্চ ২০২৬ শেষে ব্যাংকগুলোর শ্রেণিকৃত ঋণের পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা। জুনে তা বেড়েছে প্রায় ১৮ হাজার কোটি টাকা। মোট বিতরণ করা ঋণের ৩২ দশমিক ৭৮ শতাংশ এখন শ্রেণিকৃত। ব্যাংকগুলোর মোট ঋণের প্রায় এক-তৃতীয়াংশই কোনো না কোনোভাবে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। ব্যাংকিং ব্যবস্থায় এত বড় অংশের ঋণ সমস্যাগ্রস্ত হয়ে পড়া শুধু ব্যাংকের মুনাফাকে চাপের মুখে ফেলছে না, বরং নতুন ঋণ বিতরণ, বিনিয়োগ ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি করছে।

প্রভিশনের অর্ধেকও সংরক্ষণ হয়নি
খেলাপি বা শ্রেণিকৃত ঋণ থেকে সম্ভাব্য ক্ষতি সামাল দিতে ব্যাংককে আগেই অর্থ সংরক্ষণ করতে হয়। এর উদ্দেশ্য হলো—ঋণ শেষ পর্যন্ত আদায় না হলে যেন একবারে বড় ধাক্কা না আসে। কিন্তু এখানেই বড় ঘাটতি দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, শ্রেণিকৃত ঋণের বিপরীতে ব্যাংকগুলোর প্রয়োজনীয় প্রভিশনের পরিমাণ প্রায় ৪ লাখ ৮৩ হাজার ৩৯৭ কোটি টাকা। বিপরীতে বাস্তবে সংরক্ষণ করা হয়েছে প্রায় ২ লাখ ৬১ হাজার ৪০ কোটি টাকা। ফলে প্রয়োজনীয় ও প্রকৃত প্রভিশনের ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২২ হাজার ৩৫৭ কোটি ৫২ লাখ টাকা। সম্ভাব্য ঋণক্ষতির যে পরিমাণ অর্থ ব্যাংকগুলোর আলাদা করে রাখার কথা, তার অর্ধেকের কিছু বেশি সংরক্ষণ করা সম্ভব হয়েছে। এই ঘাটতি পূরণ করতে হলে ব্যাংকগুলোর মুনাফার বড় অংশ ভবিষ্যৎ লোকসানের বিপরীতে আটকে রাখতে হবে। দুর্বল আয়, কম মূলধন ও বেশি খেলাপি ঋণের ব্যাংকগুলোর জন্য তা কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

বড় ঘাটতিতে বেসরকারি ব্যাংক
প্রভিশন ঘাটতির সবচেয়ে বড় অংশ কেন্দ্রীভূত রয়েছে বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে। এ খাতের ব্যাংকগুলোর প্রয়োজনীয় প্রভিশনের পরিমাণ প্রায় ৩ লাখ ৬৫ হাজার ২০৪ কোটি টাকা। বিপরীতে প্রকৃত প্রভিশন সংরক্ষণ হয়েছে প্রায় ২ লাখ ১৬ হাজার ৮৫৫ কোটি টাকা। ফলে বেসরকারি ব্যাংক খাতে প্রভিশন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ লাখ ৪৮ হাজার ৩৪৯ কোটি টাকা। মার্চে এই ঘাটতি ছিল ১ লাখ ৩১ হাজার ৩১০ কোটি টাকা। অর্থাৎ মাত্র তিন মাসে ঘাটতি বেড়েছে প্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকা। এটি মোট প্রভিশন ঘাটতির প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ। ফলে বেসরকারি ব্যাংক খাতেই বর্তমানে সবচেয়ে বড় আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে যেসব ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বেশি এবং আয় কম, তাদের জন্য এই ঘাটতি পূরণ করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকেও বড় চাপ
রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর অবস্থাও স্বস্তিদায়ক নয়। ছয়টি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের মোট শ্রেণিকৃত ঋণের পরিমাণ প্রায় ১ লাখ ৫২ হাজার ৪৬৪ কোটি টাকা। এর বিপরীতে প্রভিশন ঘাটতি প্রায় ৭৪ হাজার ৬৩৪ কোটি টাকা। মার্চ ২০২৬ শেষে এ ঘাটতি ছিল ৭৪ হাজার ৪৭১ কোটি টাকা। অর্থাৎ তিন মাসে খুব বেশি না বাড়লেও ঘাটতির পরিমাণ ইতোমধ্যে বিপুল।

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের ক্ষেত্রে সমস্যাটি আরও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এসব ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি পূরণে শেষ পর্যন্ত সরকারি সহায়তার প্রয়োজন হতে পারে। সে ক্ষেত্রে ব্যাংক খাতের দুর্বলতার বোঝা সরাসরি রাষ্ট্রীয় অর্থব্যবস্থা ও জনগণের অর্থের ওপর পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।

প্রকৃত ঝুঁকি আড়াল
একটি ব্যাংক যখন ঋণ দেয়, তখন সেটি ধরে নেয় নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ওই অর্থ ফেরত আসবে। কিন্তু কোনো ঋণ আদায় হওয়ার সম্ভাবনা কমে গেলে ব্যাংককে সম্ভাব্য ক্ষতির বিপরীতে প্রভিশন রাখতে হয়। ধরা যাক, কোনো ব্যাংকের ১০০ কোটি টাকার ঋণের বড় অংশ আদায় হওয়ার সম্ভাবনা কমে গেছে। ভবিষ্যতে ওই অর্থ ফেরত না এলে ব্যাংক যেন হঠাৎ বড় লোকসানে না পড়ে, সে জন্য আগেই অর্থ সংরক্ষণ করতে হয়।

প্রয়োজনীয় প্রভিশন না থাকলে ব্যাংকের হিসাবের খাতায় মুনাফা তুলনামূলক বেশি দেখা যেতে পারে। কিন্তু একই সঙ্গে ভবিষ্যতের সম্ভাব্য লোকসানও জমতে থাকে। ফলে প্রভিশন ঘাটতি মূলত ব্যাংকের আর্থিক সক্ষমতার ওপর একটি ‘স্থগিত চাপ’ তৈরি করে।

ছাড়ের নীতি সমস্যা আরও বাড়াচ্ছে
বিশ্বব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন মনে করেন, মূলধন ঘাটতির বড় কারণ খেলাপি ঋণ। তবে প্রকাশিত ঘাটতিও প্রকৃত চিত্রের পুরোটা তুলে ধরে না বলে মনে করেন তিনি। তার মতে, অনেক ব্যাংক দেন-দরবারের মাধ্যমে মূলধন ঘাটতি শিথিল করে। একইভাবে খেলাপি ঋণগ্রহীতাদের নানা নীতিগত ছাড় দেওয়া হচ্ছে।ব্যাংকগুলোও ঋণগ্রহীতার তথ্য যথাযথভাবে যাচাই, তদারকি ও ঝুঁকি মূল্যায়নে প্রয়োজনীয় কঠোরতা দেখাচ্ছে না।

তার বক্তব্য অনুযায়ী, এক দশকের বেশি সময় ধরে এ ধরনের শিথিলতার পথ অনুসরণ করা হলেও কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায়নি। বরং একসময় যে খেলাপি ঋণকে এক অঙ্কে নামিয়ে আনার লক্ষ্য ছিল, তা এখন স্বীকৃত হিসাবেই মোট ঋণের প্রায় এক-তৃতীয়াংশে পৌঁছেছে। স্বীকৃত নয় এমন সমস্যাগ্রস্ত ঋণ বিবেচনায় নিলে প্রকৃত পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।

আমদানি-রপ্তানিতেও প্রভাব
ব্যাংক খাতের দুর্বলতা শেষ পর্যন্ত দেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। ব্যাংকের আর্থিক সক্ষমতা নিয়ে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের আস্থা কমে গেলে আমদানি-রপ্তানি লেনদেনে ঝুঁকি ও ব্যয় দুটিই বাড়তে পারে। ড. জাহিদ হোসেনের মতে, এমন পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক ব্যবসা-বাণিজ্যে অনাস্থা তৈরি করতে পারে। বাংলাদেশের রিস্ক প্রিমিয়াম এমনিতেই বিশ্বের মধ্যে উচ্চ—ব্যাংক খাতের দুর্বলতা আরও প্রকট হলে সেই ঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সংস্কার না হলে ছড়িয়ে পড়বে ঝুঁকি
ব্যাংক খাতের বর্তমান চিত্রের সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো—সমস্যাটি শুধু খেলাপি ঋণের পরিমাণে সীমাবদ্ধ নেই। ৬ লাখ কোটি টাকার বেশি শ্রেণিকৃত ঋণের বিপরীতে ২ লাখ ২২ হাজার কোটি টাকার বেশি প্রভিশন ঘাটতি বলছে, সম্ভাব্য ক্ষতির একটি বড় অংশ এখনো ব্যাংকের হিসাবের বাইরে চাপ হিসেবে জমে আছে। এই ঘাটতি পূরণে ব্যাংকগুলোর মুনাফা কমে যেতে পারে, মূলধন আরও দুর্বল হতে পারে এবং নতুন ঋণ দেওয়ার সক্ষমতা সংকুচিত হতে পারে। তার প্রভাব পড়তে পারে বেসরকারি বিনিয়োগ, শিল্প উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে।

কালের আলো/এম/এএইচ

দেশের ভবিষ্যতের জন্য যোগ্য নেতৃত্ব তৈরি করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:২১ অপরাহ্ণ
দেশের ভবিষ্যতের জন্য যোগ্য নেতৃত্ব তৈরি করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী

দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিকে টেকসই করতে ভালো ও সৎ মানুষের রাজনীতিতে আসা জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান।

তিনি বলেন, ভালো রাজনীতিবিদ তৈরি করতে না পারলে দেশের উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ নিয়ে যত স্বপ্নই দেখা হোক, তা টেকসই হবে না। মানসম্মত উন্নয়নের জন্য যোগ্য ও সৎ নেতৃত্ব প্রয়োজন।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সংসদ ভবনের এলডি হলে বরিশাল ডিভিশনাল জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন (বিডিজেএ) আয়োজিত ‘আগামীর বরিশাল বিভাগ: সম্ভাবনা ও করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি।

আন্দালিভ রহমান বলেন, ‘কোয়ালিটি ডেভেলপমেন্ট’ নিশ্চিত করতে হলে ভালো মানুষকে নেতৃত্বে আনতে হবে। গত ১৭ বছরে দেশে নেতৃত্বের বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে। ভালো ও মেধাবী তরুণরা রাজনীতি থেকে দূরে সরে গেছে এবং রাজনীতিবিদদের প্রতি মানুষের মধ্যে অনাস্থা তৈরি হয়েছে। এমনকি অনেক রাজনীতিবিদের সন্তানও রাজনীতিতে আসতে আগ্রহী নয়।

তিনি বলেন, ভালো উপাদান থাকলেও দক্ষ বাবুর্চি ছাড়া যেমন ভালো খাবার তৈরি করা যায় না, তেমনি ভালো মানুষ নেতৃত্বে না এলে উন্নয়ন ও অগ্রগতির সুফল টেকসই করা সম্ভব নয়।

বরিশালের ঐতিহ্যের কথা তুলে ধরে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ফুটবল, রাজনীতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বরিশাল ও এ অঞ্চলের মানুষ দেশের নেতৃত্ব দিয়েছে। পাকিস্তান আমল থেকে স্বাধীনতার পর পর্যন্ত এ অঞ্চল থেকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নেতা উঠে এসেছেন।

তিনি বলেন, বরিশালকে সত্যিকার অর্থে স্বপ্নের নগরী ও স্বপ্নের শহরে পরিণত করতে হলে আগামী দিনে ভালো রাজনীতিবিদ তৈরি করতে হবে। এজন্য বরিশালসহ আশপাশের নির্বাচনি এলাকা ও জেলাগুলো থেকে মেধাবী তরুণ-তরুণীদের রাজনীতিতে আসতে উৎসাহিত করতে হবে এবং অনুকূল রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি করতে হবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, অবকাঠামো উন্নয়ন, গ্যাস সরবরাহ ও শিল্পায়ন উন্নয়নের অংশ হলেও দেশের এখন প্রয়োজন মানসম্মত ও টেকসই উন্নয়ন। আর এ জন্য যোগ্য ও সৎ নেতৃত্ব অপরিহার্য।

তিনি বলেন, যারা বর্তমানে রাজনীতি করার সুযোগ পেয়েছেন, তাদের দায়িত্ব হলো পরবর্তী প্রজন্মের যোগ্য ও মেধাবীদের রাজনীতিতে আসার পথ তৈরি করা। তরুণদের রাজনীতিতে উৎসাহিত করার পাশাপাশি তাদের জন্য পরিবেশ সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ করতে হবে।

আন্দালিভ রহমান বলেন, আমরা হয়তো অনেক কিছু তৈরি করে যেতে পারব, কিন্তু ভালো নেতৃত্ব তৈরি করতে না পারলে সেগুলো ধরে রাখা সম্ভব হবে না। তাই ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরির বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে হবে।

বরিশাল থেকে শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকসহ অনেক বড় নেতা উঠে এসেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভবিষ্যতেও এ অঞ্চল থেকে যোগ্য ও ভালো নেতৃত্ব সামনে আসতে হবে। দেশের মেধাবী ও শিক্ষিত তরুণদের কেউ চিকিৎসক, প্রকৌশলী, আইনজীবী বা সফটওয়্যার প্রকৌশলী হওয়ার পাশাপাশি রাজনীতিতে এসে দেশ পরিবর্তনের প্রত্যয় ব্যক্ত করলে সেটিই হবে ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি