খুঁজুন
                               
শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৫ বৈশাখ, ১৪৩৩
           

সংশোধনাগারে রূপ নিচ্ছে কারাগার, পণ্যের লভ্যাংশের অর্থ পাচ্ছেন কয়েদিরাও

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩, ১২:৩৪ অপরাহ্ণ
সংশোধনাগারে রূপ নিচ্ছে কারাগার, পণ্যের লভ্যাংশের অর্থ পাচ্ছেন কয়েদিরাও

এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান, অ্যাকটিং এডিটর, কালের আলো:

জীবনের গতিপথের ভুলে আটকে কারান্তরীণ। পরিবার থেকেও বিচ্ছিন্ন একেবারেই। অপরাধের জীবন থেকে আলোর পথে, সমাজের মূলধারায় ফিরতে ও আত্মনির্ভরশীলভাবে বাঁচতে সশ্রম কারাদণ্ড পাওয়া কয়েদিদের কার্যকর প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পণ্য উৎপাদন প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত করা হচ্ছে। ‘বন্দীদের হাত হবে কর্মীর হাত’ ও ‘কারাগার হবে সংশোধনাগার’—এই দু’স্লোগান সামনে রেখে কয়েদিদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মদক্ষ করে গড়ে তোলা হচ্ছে। কয়েদিরাও নিজেকে প্রমাণের সুযোগ পেয়ে সুকুমারবৃত্তি ও শৈল্পিক মনের পরিচয় দিচ্ছেন একদিন-প্রতিদিন।

কেউ নান্দনিকতার ছোঁয়ায় তৈরি করছেন জামদানি শাড়ি বা প্রিন্টের থান কাপড়। কেউ নিপুণ হাতে সেলাই করেন নকশী কাঁথা, বেডশীট ও পাটের ব্যাগ। অনেকেই দক্ষ বাঁশ ও প্লাস্টিকের মোড়া বানানোয় কেউবা আবার সোফায়। কারো হাতে বোনা উলেন কার্পেটের জুড়ি মেলা ভার। জামা ও পুথির কাজ করা এসব পণ্যে সহজেই আটকে যায় চোখ। কম্পিউটার প্রশিক্ষণ, টিভি মেরামত, এ্যালুমিনিয়াম সামগ্রী, প্রেস ও বাধাই শিল্প, ব্যানার আর্ট ও ড্রইংয়েও কারও কারও হাত পাঁকানো।

নজরকাড়া ডিজাইন, গুণগত মান ও টেকসই হওয়ায় কারা পণ্য রীতিমতো একটি ব্র‍্যান্ড হিসেবে আত্নপ্রকাশ করেছে। এসব পণ্যের লাভের অর্ধেক পাচ্ছেন কারাবন্দিরা। বাকি অর্ধেক জমা হচ্ছে সরকারি কোষাগারে। বছরজুড়েই কয়েদিদের তৈরি পণ্যের আলাদা কদর রয়েছে। কারাগারগুলোর বিক্রয়কেন্দ্রে হাত বাড়ালেই মেলে এসব পণ্যের।

গুণে মানে অনন্য এসব পণ্য প্রতি বছর ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত মেলার ‘কারা পণ্য বাংলাদেশ জেল’ নামক প্যাভিলিয়নে কারাবন্দিদের তৈরি পণ্যের চাহিদা ছিল শীর্ষে। কাঠের নৌকা, সিংহাসন চেয়ার, মডার্ণ চেয়ার, বেতের ঝুলন্ত দোলনা, প্লাস্টিক ও বাশের ফলঝুড়ি, প্লাস্টিকের ট্রে, কাঠের খেলনা কার্পেট, নকশী কাঁথা, পুতির কাজ, পুতির টিস্যু বক্স, পুতির কলমদানী, জামদানি শাড়ি, পাঞ্জাবির পিস, লেডিস সু, জেন্টস সু, বা কাঠের চামচ, বাশ ও বেতের কুলা, ফুড কভার- কী ছিল না সেখানে! এ সময় মেলায় কারা পণ্য বিক্রি হয়েছে ৩৮ লক্ষ ১২ হাজার ৫১০ টাকার। শুধু তাই নয়, মেলায় বাংলাদেশ জেল’র প্যাভিলিয়ন সি ক্যাটাগরিতে ‘দ্বিতীয় স্থান’ অর্জন করেছে। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

জানতে চাইলে কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ এস এম আনিসুল হক কালের আলোকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর অঙ্গীকার, কারাগার হবে সংশোধনাগার’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে কারাবন্দিদের দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন কারাগারে তৈরি করা হচ্ছে বিভিন্ন পণ্য। বন্দিদের কর্মময় ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে ২০২১ সালে ৮ হাজার ১৩০ জন ও ২০২২ সালে ১১ হাজার ৪১৩ জন বন্দিকে বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। প্রশিক্ষিতরা নিজেদের দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে কারান্তরীণ জীবনে উপার্জন করছেন। অপরাধীর হাত কর্মীর হাত রূপ নিচ্ছে। কারাগার থেকে বেরিয়েও বন্দিরা প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে পরিবারের জন্য ও দেশের অগ্রযাত্রাতেও কাঙ্ক্ষিত ভূমিকা রাখতে পারবেন।’

কারা অধিদপ্তর সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা মোতাবেক কারাগারে উৎপাদিত পণ্য বিক্রির লভ্যাংশের ৫০ শতাংশ কয়েদিদের দেওয়া হয়। এসব অর্থ তাঁরা নিজেদের জন্য খরচ করতে বা পরিবারকে দিতে পারেন। বাকি ৫০ শতাংশ সরকারি কোষাগারে জমা হয়। কারাগারগুলোতে কারাপণ্য বিক্রয় বাবদ ২০২১-২২ অর্থবছরে ৩৪ লক্ষ ৪৫ হাজার ২০৭ টাকা ও ২০২২-২৩ অর্থবছরের ২০২২ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৯ লক্ষ ২৭ হাজার ৭২৪ টাকা বন্দিদের দেওয়া হয়েছে।

কারা পণ্যের চাহিদার বিষয়ে একাধিক ক্রেতা কালের আলোকে বলেন, ‘কয়েদিদের বানানো পণ্য সাধারণত ভালো হয়। তাঁরা দীর্ঘ সময় ও মনোযোগ দিয়ে যত্নসহকারে এসব পণ্য বানান। মানেও এসব পণ্য অসাধারণ। পাশাপাশি দামও সাধ্যের ভেতর।’

কারা অধিদপ্তরের সহকারী কারা মহাপরিদর্শক (প্রশিক্ষণ ও ক্রীড়া) মোসা: নাহিদা পারভীন কালের আলোকে এ বিষয়ে বলেন, ‘কারাবন্দিদের প্রশিক্ষণে সংশোধন ও পুনর্বাসনের পথ উন্মোচিত হচ্ছে। কারা পণ্যের উদ্যোগকে দেশজুড়ে বিস্তারের উদ্দেশ্যে ই-কমার্স সিস্টেম গড়ে তোলা হচ্ছে। যার মাধ্যমে বন্দিদের তৈরীকৃত দ্রব্য প্রদর্শন, দ্রব্যের বিস্তারিত তথ্য, দ্রব্যের অর্ডার গ্রহণ, দ্রব্যের ডেলিভারী প্রদান, দ্রব্যের অবস্থান (নিকটবর্তী কারাগার) প্রদর্শন করাসহ এসএমএস’র মাধ্যমে দ্রব্যের অর্ডার নিশ্চিত করা ও দ্রব্য সরবরাহ গ্রহীতার কাছে দ্রুততম সময়ে পৌছানো সম্ভব হবে।’

কালের আলো/এমএএএমকে

‘সরকারের ৬০ দিনের বড় সাফল্য, জনগণ প্রধানমন্ত্রীর ওপর আস্থা রেখেছেন’

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:২৩ অপরাহ্ণ
‘সরকারের ৬০ দিনের বড় সাফল্য, জনগণ প্রধানমন্ত্রীর ওপর আস্থা রেখেছেন’

গত দুই মাসে সরকারের বড় সাফল্য অর্জিত হয়েছে এবং জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) বিকেলে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। সরকারের গত ৬০ দিনের সাফল্যের সাতটি দিক তুলে ধরতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সালেহ শিবলী বলেন, আমাদের কাছে মনে হয়েছে গত দুই মাসে সরকারের ওপর জনগণের আস্থা ফিরে এসেছে। বিশেষ করে আমরা দেখেছি, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর জনগণের আস্থা ফিরে এসেছে।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী জনগণের মাঝে থাকছেন এবং সাধারণ মানুষের মতো চলাফেরা করছেন। তিনি অতিরিক্ত নিরাপত্তার ওপর নির্ভর করছেন না।

প্রেস সচিব জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনগণের কাছে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তার প্রত্যেকটি বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান বলেন, দেশ সেবা করাই সরকারের মূল লক্ষ্য। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনকল্যাণমূলক কাজ এগিয়ে নিতে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের সিনিয়র সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এসআর/ এএএন

এমন কোনো লোভ ছিল না, যা শেখ হাসিনা আমাকে দেখাননি: স্পিকার

ভোলা প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:৪৬ অপরাহ্ণ
এমন কোনো লোভ ছিল না, যা শেখ হাসিনা আমাকে দেখাননি: স্পিকার

‘এমন কোনো লোভ ছিল না, যা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (ভারতে পলাতক) আমাকে দেখাননি। আমি যদি তার কথা শুনতাম, তাহলে তার পরেই আমার অবস্থান হতো’ বলে মন্তব্য করেছেন-জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকালে ভোলার সার্কিট হাউসে জেলার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় একথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘আমি বলেছি, আমার বয়স ৮০ বছর হয়ে গেছে এখন আর এগুলো করার সময় নেই।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন বলেন, ‘জেনারেল জিয়াউর রহমানের অধীনে আমি যুদ্ধ করেছি এবং বেগম জিয়া আমাকে অনেক স্নেহ করতেন। আমি জেনারেল জিয়া ও বেগম জিয়ার প্রতি সব সময় অনুগত ছিলাম। আমি এই দলের (বিএনপি) অনেক সিনিয়র ছিলাম। কিন্তু সবাই আমাকে ক্রস করে ওপরে চলে গেছে এবং আমার আগে স্থায়ী কমিটির সদস্য হয়েছে।’

স্পিকার বলেন, ‘একমাত্র ড. মোশাররফ হোসেন ছাড়া সবার সিনিয়র ছিলাম আমি। তা-ও স্থায়ী কমিটিতে স্থান হয়নি। আমি এগুলো নিয়ে কখনো মাথা ঘামাইনি। আমার নজর ছিল এলাকা থেকে জনগণ যাতে ভোট দেয়, আমি যেন জাতীয় সংসদে যেতে পারি। এবারও ভোট দেওয়ার পর লোকজন আশা করেছিল আমি যেন একটা প্ল্যাগ নিয়ে আসতে পারি। আল্লাহর রহমতে দুই দুইটা প্ল্যাগ নিয়ে এসেছি।’

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন বলেন, ‘আমি গভীর কৃতজ্ঞতা জানাই বিএনপির চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের কাছে। তার সঙ্গে আমি জীবনে কথা বলেছি দুই দিন। এ ছাড়া কোনো দিন টেলিফোন হয়নি, দেখাও হয়নি, কথাও হয়নি। কিন্তু তিনি আমাকে দেশের তৃতীয় সর্বোচ্চ পদে অভিহিত করেছেন। এ জন্য আমি তার কাছে ও আমার দল বিএনপির কাছে খুবই কৃতজ্ঞ।’

মতবিনিময় সভায় জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমানের সভাপতিত্বে জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম নবী আলমগীর, পুলিশ সুপার মো. শহীদুল্লাহ কাওছার, জেলা বিএনপির সদস্যসচিব মো. রাইসুল আলমসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও জেলা বিএনপির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এসআর/ এএএন

 

রোহিঙ্গা সংকট একটি সমাধানযোগ্য সমস্যা: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:৩৬ অপরাহ্ণ
রোহিঙ্গা সংকট একটি সমাধানযোগ্য সমস্যা: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেছেন, রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই ও কার্যকর সমাধান রাখাইন রাজ্যেই নিহিত এবং এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে শুধু মানবিক সহায়তার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, সম্মানজনক ও স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসনের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে আরও সক্রিয় ও ফলপ্রসূ ভূমিকা নিতে হবে।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে তুরস্কে চলমান আন্তালিয়া ডিপ্লোম্যাসি ফোরামে প্যানেল আলোচনায় বক্তব্য প্রদানকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের জন্য আন্তর্জাতিক দাতা সহায়তা কমে যাওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি এই প্রেক্ষাপটে অর্থায়ন বৃদ্ধি, রাখাইনে স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং মানবাধিকার সুরক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।
তিনি জানান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর মিয়ানমার সরকার এবং আরাকান আর্মি—উভয় পক্ষই তাঁকে স্বাগত জানিয়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা সংকট একটি সমাধানযোগ্য সমস্যা—তবে এর জন্য প্রয়োজন সমন্বিত বৈশ্বিক উদ্যোগ ও ধারাবাহিক আন্তর্জাতিক সহযোগিতা।
কালের আলো/এসআর/ এএএন