খুঁজুন
                               
বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ১৩ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

আন্তর্জাতিক এভিয়েশন গেটওয়ের জন্য প্রস্তুত বাংলাদেশ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ জুন, ২০২৩, ৭:৩১ অপরাহ্ণ
আন্তর্জাতিক এভিয়েশন গেটওয়ের জন্য প্রস্তুত বাংলাদেশ

এম.আব্দুল্লাহ আল মামুন খান, অ্যাকটিং এডিটর, কালের আলো:

প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের এভিয়েশন হাব হিসেবে বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে চলছে তোড়জোড়। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের থার্ড টার্মিনাল, কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে উন্নীতকরণ ও সিলেট আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের উন্নয়নে বাস্তবায়িত হচ্ছে মেগা প্রকল্প। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও মনে করেন আগামীতে বাংলাদেশ হবে আন্তর্জাতিক এভিয়েশন গেটওয়ে। পূর্ব ও পশ্চিমের দেশগুলোর যোগাযোগের কেন্দ্রবিন্দু।

আকাশ যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও উন্নত ও আধুনিক করতে অত্যাধুনিক রাডার সংযোজনসহ সমুদ্র সীমা পর্যন্ত আকাশ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকারের মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নে নিরলস প্রয়াস অব্যাহত রেখেছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। এসব মেগা প্রকল্পের সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমে নব উচ্চতায় গিয়ে পৌঁছবে বাংলাদেশ। এগিয়ে আসা দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগকেও ভোটের মাঠে করে তুলবে আরও ‘অপ্রতিরোধ্য’। বিশ্ব দেখবে নতুন এক বাংলাদেশকে। এই বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধুকন্যা, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অদম্য উন্নয়ন-অগ্রযাত্রায় পাল্টে যাওয়া, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলার পথে অগ্রসরমান দেশের ভাবমূর্তিকেও করবে আরও উজ্জ্বল।

জানা যায়, পুরো বিশ্বেই আকাশ অর্থনীতির পরিধি বেড়ে চলেছে। এ যাত্রায় পিছিয়ে নেই বাংলাদেশও। অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটে নতুন নতুন এয়ারলাইনস যোগ হচ্ছে। বাড়ছে সেবার পরিধি। উড়োজাহাজে চড়ে গন্তব্যে যাওয়ার পরিমাণও দিনে দিনে বাড়ছে। বাংলাদেশের সঙ্গে বিভিন্ন দেশ আকাশপথে যুক্ত হতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার, পর্যটনসহ নানা দিক বিবেচনা করেই এসব দেশের আগ্রহ বেড়েছে। যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের মাধ্যমে নতুন নতুন দেশের সঙ্গে যোগাযোগের সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে।

শুধু তাই নয়, দেশের এভিয়েশন শিল্পকে সামনে এগিয়ে নিতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। দেশের এভিয়েশন শিল্পের সময়োপযোগী অবকাঠামোগত উন্নয়ন, কারিগরি ও জন দক্ষতা উন্নয়ন এবং আইন ও নীতি প্রণয়ণ করা হয়েছে। এতে করে দেশের এভিয়েশন শিল্প দ্রুত প্রবৃদ্ধি লাভ করছে। আরও বেশি প্রশিক্ষিত নারী পাইলট গড়ে তুলতে ইতোমধ্যে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শিক্ষাবৃত্তি’ চালু করেছে।

সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী বলেছেন, ‘গত ১০ বছরে বাংলাদেশের এভিয়েশন মার্কেট প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে। আগামী ১৫ বছরে বাংলাদেশের এভিয়েশন সেক্টরের প্রবৃদ্ধি হবে প্রায় তিন গুণ।’

সূত্র জানায়, সরকারের টার্গেট হচ্ছে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের মধ্যকার যোগাযোগের সেতুবন্ধন, এভিয়েশন গেটওয়ে হিসেবে বাংলাদেশকে প্রস্তুত করা। সরকারের লক্ষ্যপূরণে খোলনলচে পাল্টে পুরোদমে নানামুখী কর্মযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছেন বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মফিদুর রহমান। নতুন এক স্বপ্ন ছুঁয়ে দেখার প্রত্যয়ে ক্রমশ মাথা তুলে দাঁড়াচ্ছে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল। চোখ ধাঁধানো অনন্য স্থাপত্যশৈলীতে ভরপুর এই থার্ড টার্মিনালের প্রায় ৭৬ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে মেগা এই প্রকল্পের ‘আশা জাগানিয়া’ অগ্রগতিতে নির্ভার আনন্দধারায় এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মফিদুর রহমানের নেতৃত্বাধীন ‘টিম বেবিচক’।

জানা যায়, নান্দনিক সৌন্দর্যের এই থার্ড টার্মিনালটির একটি অংশ চলতি বছরের অক্টোবরেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্বোধনের কথা রয়েছে। সর্বাধুনিক প্রুক্তির সমন্বয়ে গড়ে ওঠা বহু কাঙ্ক্ষিত গর্বের এই টার্মিনালটি চালু হলে বছরে দুই কোটিরও বেশি যাত্রীকে সেবা দিতে পারবে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। উদ্বোধনের লক্ষ্যকে সামনে রেখে দিন-রাত একাকার করে চলছে নির্মাণযজ্ঞ।

সিঙ্গাপুরের চাঙ্গি বিমানবন্দরের আদলে ২ লাখ ৩০ হাজার বর্গমিটারের বিশাল থার্ড টার্মিনালটি নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে ২১ হাজার কোটি টাকারও বেশি। এখানে থাকবে ১ হাজার ৩০০ গাড়ি পার্কিং সুবিধা। প্রশান্তির ছোঁয়া থাকবে চারদিকে। দীর্ঘ লাইনের ভোগান্তি থাকবে না। প্রস্তুত থাকবে ১১৫ টি চেকিং কাউন্টার। ৬৪ টি ইমিগ্রেশন কাউন্টারে দ্রুত সেবা পাবেন যাত্রীরা। সেবার আওতায় আনা সম্ভব হবে ১ কোটি ২০ লাখ যাত্রীকে।

সূত্র মতে, ৫ লাখ ৪২ হাজার বর্গমিটারের এই নতুন টার্মিনালে থাকবে ৬৩ হাজার স্কয়ার মিটার আয়তনের সর্বাধুনিক কার্গো ভিলেজ। ৩৭টি অ্যাপ্রোন পার্কিংয়ে এক সঙ্গে পার্ক করা যাবে ৩৭টি উড়োজাহাজ। টার্মিনাল ভবনের আকার হবে ২ লাখ ৩০ হাজার স্কয়ার মিটার। পুরো অবকাঠামো হবে পরিবেশবান্ধব। থাকবে পানির অপচয় রোধ ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের সুব্যবস্থা। সবুজ বৃক্ষরাজির সমারোহে বিমানবন্দরজুড়ে থাকবে প্রাকৃতিক আবহ।

সূত্র জানায়, সাগরগর্ভে এখন দৃশ্যমান কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্পের রানওয়ের কাজ। এই নির্মাণকাজ শেষ হলে দেশের সর্ববৃহৎ রানওয়ে পরিণত হবে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় আকাশপথে দ্রুত যোগাযোগ স্থাপনের পাশাপাশি পর্যটন শিল্প বিকাশে আমূল পরিবর্তন নিয়ে আসবে এই বিমানবন্দর। রিফুয়েলিংয়ের জন্য কক্সবাজার বিমানবন্দর ব্যবহার করলে আন্তর্জাতিক রুটগুলোর দূরত্ব কমবে- চলতি বছরের বুধবার (২২ ফেব্রুয়ারি) গণভবনে ‘হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল সম্প্রসারণ’ প্রকল্পের অগ্রগতি বিষয়ক উপস্থাপনা অবলোকনকালে এমনটিই বলেছিলেন সরকারপ্রধান শেখ হাসিনা।

সেদিন তিনি বলেছিলেন, ‘সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ কক্সবাজার বিমানবন্দর। বিমানের রিফুয়েলিংয়ের জন্য এখন যেমন সবাই দুবাইকে গেটওয়ে হিসেবে ব্যবহার করে, সে রকম কক্সবাজার গেটওয়ে হিসেবে পরিণত হবে। আন্তর্জাতিক রুটে রিফুয়েলিংয়ের জন্য কক্সবাজার কম দূরত্বের মধ্যে পড়বে, ঘুরে যেতে হবে না। সরাসরি কক্সবাজার থেকে তারা এই সুবিধা নিতে পারবে। আন্তর্জাতিক ফ্লাইটগুলো রিফুয়েলিংয়ের জন্য কক্সবাজার এলে দেশের আয় বাড়বে।’

প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেট আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় সেখানকার ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অত্যাধুনিক নতুন টার্মিনাল নির্মাণ, রানওয়ে সম্প্রসারণ ও কার্গো স্টেশন স্থাপনের জন্য নেয়া মেগা প্রকল্পের কাজও এগিয়ে চলছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কার্যকর দিকনির্দেশনায় সম্মুখে থেকেই এসব মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নে নেতৃত্ব দিয়ে মহাকাব্যিক অর্জনে আবেগ উদ্দীপ্ত ও দেদীপ্যমান হয়ে উঠেছেন বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মফিদুর রহমান। নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে তিনি কালের আলোকে বলেন, ‘বিমানবন্দর যেকোনো দেশের আয়না। একজন পর্যটক কোনো দেশে এলে বিমানবন্দর দেখে সে দেশকে প্রাথমিকভাবে মূল্যায়ন করে। বিমানবন্দর আধুনিক হলে দেশের ভাবমূর্তি উন্নয়ন হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। থার্ড টার্মিনালসহ মেগা প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে দেশের অগ্রযাত্রায় নতুন নতুন পালক যোগ হবে।’

কালের আলো/এমএএএমকে

গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে ৫ শিশুর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ৫:৩৯ অপরাহ্ণ
গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে ৫ শিশুর মৃত্যু

দেশজুড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গে মৃত শিশুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৬০ জনে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৫৬ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে।

বুধবার (২৭ মে) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে ৪৭২ জন শিশু এবং নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে ৮৮ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া পাঁচ শিশুর মধ্যে দুইজন ঢাকা বিভাগে, দুইজন ময়মনসিংহ বিভাগে এবং একজন রাজশাহী বিভাগের বাসিন্দা বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

একই সময়ে নতুন করে ৯৩৩ জন শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৩৮৫ জন ঢাকা বিভাগের। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ১৬৬ জন, বরিশাল বিভাগে ১৪০ জন এবং খুলনা বিভাগে ৯৮ জন শিশু ভর্তি হয়েছে।

তবে আশার খবর হলো, গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে ১ হাজার ১০৩ জন শিশু।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ দেশে প্রথম হাম রোগী শনাক্ত হওয়ার পর গত ৭৩ দিনে মোট ৬৭ হাজার ৭৯ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা গেছে। এ সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৫৩ হাজার ৪৬৩ জন। নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে ৮ হাজার ৮৩৪ জনের শরীরে। একই সময়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৪৯ হাজার ৯০৩ জন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

২৭ রুটের ২৬টিতেই বাড়তি ভাড়া, অতিরিক্ত আদায় সাড়ে ৫ কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ৪:৫৬ অপরাহ্ণ
২৭ রুটের ২৬টিতেই বাড়তি ভাড়া, অতিরিক্ত আদায় সাড়ে ৫ কোটি টাকা

ঈদযাত্রাকে ঘিরে দেশের ২৭টি দূরপাল্লার রুটের মধ্যে ২৬টিতেই অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।

সংগঠনটি বলছে, এসব রুটে বাস ও মিনিবাসের প্রায় দুই লাখ ৩৪ হাজার যাত্রীর কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া আদায় করা হয়েছে। যার পরিমাণ ৫ কোটি ৬২ লাখ টাকা।

বুধবার (২৭ মে) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বার্তায় এসব তথ্য জানানো হয়।

বার্তায় যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায় না করার ঘোষণা দিলেও বাস্তবে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সিটিসার্ভিস ও দূরপাল্লার বাসে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। একই ধরনের নৈরাজ্য নৌপথের বেশিরভাগ রুটেও দেখা যাচ্ছে।

যাত্রী কল্যাণ সমিতি জানায়, সংগঠনটির পর্যবেক্ষকদের কাছে বিভিন্ন বাসের চালক ও হেলপাররা অভিযোগ করেছেন, ‘পরিবহন শ্রমিকদের বেতন ও ঈদ বোনাস কার্যকর না থাকায় তারা অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ে বাধ্য হচ্ছেন।’

সমিতি বলছে, ঈদযাত্রা মনিটরিং কমিটিতে বাস মালিক সমিতি ও সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের প্রভাব থাকায় সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ সত্ত্বেও যাত্রীদের স্বস্তি নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না।

সমিতির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বিভিন্ন রুটে নির্ধারিত ভাড়ার তুলনায় অনেক বেশি অর্থ আদায় করা হচ্ছে। ঢাকা-খুলনা রুটে ৫৪১ টাকার ভাড়া ১,০০০ টাকা, ঢাকা-বরিশাল রুটে ৫৯২ টাকার ভাড়া ৮৫০ টাকা এবং একই রুটে বিআরটিসির দোতলা বাসে ৭০০ টাকা আদায় করা হচ্ছে। ঢাকা-পটুয়াখালী রুটে ৫৭০ টাকার ভাড়া নেওয়া হচ্ছে ১,০০০ টাকা এবং ঢাকা-শরীয়তপুর রুটে ২৩৩ টাকার ভাড়া আদায় করা হচ্ছে ৫০০ টাকা।

এছাড়া চট্টগ্রাম-বরগুনা রুটে ১,১৯৭ টাকার ভাড়া ১,৮০০ টাকা, ঢাকা-মাদারীপুর রুটে ২৫০ টাকার ভাড়া ৫০০ টাকা, ঢাকা-ফরিদপুর রুটে ৩০০ টাকার ভাড়া ৫০০ টাকা এবং ঢাকা-দিনাজপুর রুটে ৬০০ টাকার ভাড়া ৯০০ টাকা নেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। চট্টগ্রাম-বগুড়া রুটে ১,০০০ টাকার ভাড়া ১,৮০০ টাকা এবং চট্টগ্রাম-গাইবান্ধা রুটে ১,১০০ টাকার ভাড়া ২,২০০ টাকা আদায় করা হচ্ছে।

পাশাপাশি ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-ফেনী, ঢাকা-কুমিল্লা, ঢাকা-যশোর, ঢাকা-ঝিনাইদহ, ঢাকা-মাগুরা, ঢাকা-কুষ্টিয়া, ঢাকা-ভাঙ্গা, ঢাকা-পিরোজপুর, ঢাকা-টেকেরহাটসহ বিভিন্ন রুটেও অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

পর্যবেক্ষণে আরও বলছে, ৫২ আসনের বাসে জালিয়াতির মাধ্যমে ৪০ আসনের ভাড়ার তালিকা টানানো হয়েছে। আবার স্বল্প দূরত্বের যাত্রীদের কাছ থেকেও শেষ গন্তব্য পর্যন্ত পূর্ণ ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।

তবে সরকারের কঠোর অবস্থান এবং বাস মালিক সমিতির কিছু তৎপরতার কারণে গত ঈদুল ফিতরের তুলনায় এবারের পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলেও উল্লেখ করেছে যাত্রী কল্যাণ সমিতি।

সংগঠনটি আরও বলছে, নিম্ন আয়ের মানুষ কম ভাড়ায় যাতায়াতের জন্য বাস ও ট্রেনের ছাদে, পণ্যবাহী ট্রাক কিংবা খোলা ট্রাকে ভ্রমণে বাধ্য হচ্ছেন। এতে দুর্ঘটনায় প্রাণহানি বাড়ছে।

এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে গণপরিবহনে ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভাড়া আদায় চালু, নগদ লেনদেন কমানো, চালকদের বেতন ও ঈদ বোনাস নিশ্চিত, সড়ক-মহাসড়কে সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে ই-প্রসিকিউশন চালু এবং আইনের সুশাসন নিশ্চিত করার সুপারিশ করেছে যাত্রীকল্যাণ সমিতি।

এছাড়া ঈদযাত্রা মনিটরিং কমিটি থেকে বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক ফেডারেশনকে বাদ দিয়ে পুরো নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা সরকারের হাতে রাখার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

কালের আলো/এসআর/এএএন 

ঈদ ঘিরে রাজধানীতে কঠোর নিরাপত্তা, থাকবে ১৫ হাজার পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ৩:৪১ অপরাহ্ণ
ঈদ ঘিরে রাজধানীতে কঠোর নিরাপত্তা, থাকবে ১৫ হাজার পুলিশ

ঈদুল আজহাকে ঘিরে রাজধানীতে চার থেকে ছয় স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। ঈদের জামাত ও ছুটিতে নগরী ফাঁকা হয়ে পড়ার সময় সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় সমন্বিত, প্রযুক্তিনির্ভর ও বহুমাত্রিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন। একইসঙ্গে ঈদ জামাতে বিপুল পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে এবং সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সাইবার ইউনিট সক্রিয়ভাবে কাজ করবে বলে জানান তিনি।

বুধবার (২৭ মে) দুপুরে রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, ঈদ উপলক্ষে রাজধানীজুড়ে চার থেকে ছয় স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি আরো বলেন, ঈদের জামায়াতে ১৫০০ পুলিশ সদস্য এবং ডিএমপিতে ১৫ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে।

মোসলেহ উদ্দিন বলেন, সাইবার প্রচারণা সম্পর্কে সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে এবং সাইবার পেট্রল টিম নজরদারি করছে। ঈদের জামাতকেন্দ্রিক নিরাপত্তায় ১৫০০ পুলিশ সদস্য এবং মহানগরীতে ১৫ হাজার সদস্য নিয়োজিত থাকবে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া পুলিশ সদস্যদের ছুটি সীমিত রাখা হয়েছে। সারা মহানগরীতে আমাদের ঈদের দিন ১৫ হাজার সদস্য নিয়োজিত থাকবে।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, পবিত্র ঈদুল আজহা মুসলিম উম্মাহর অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব। জাতীয় ঈদগাহ ময়দান, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদসহ মহানগরীর বিভিন্ন ঈদ জামাতে লাখো মুসল্লির সমাগম হবে। একইসঙ্গে ঈদের ছুটিতে বিপুল মানুষ ঢাকা ত্যাগ করায় নগরীর অনেক এলাকা আংশিক ফাঁকা হয়ে পড়বে। এসব বিষয়, বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি, অতীত অভিজ্ঞতা ও সম্ভাব্য ঝুঁকি বিশ্লেষণ করে ডিএমপি এই নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

তিনি আরো বলেন, সামাজিক মাধ্যমে গুজব, অপপ্রচার ও বিভ্রান্তি প্রতিরোধে ডিএমপির সাইবার ইউনিট সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছে। যেকোনো ধরনের উস্কানিমূলক প্রচারণা কিংবা আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির অপচেষ্টা কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে।

এ সময় ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম, ডিএমপির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার, উপ-পুলিশ কমিশনারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ