খুঁজুন
                               
, ,
           

আন্তর্জাতিক এভিয়েশন গেটওয়ের জন্য প্রস্তুত বাংলাদেশ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ জুন, ২০২৩, ৭:৩১ অপরাহ্ণ
আন্তর্জাতিক এভিয়েশন গেটওয়ের জন্য প্রস্তুত বাংলাদেশ

এম.আব্দুল্লাহ আল মামুন খান, অ্যাকটিং এডিটর, কালের আলো:

প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের এভিয়েশন হাব হিসেবে বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে চলছে তোড়জোড়। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের থার্ড টার্মিনাল, কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে উন্নীতকরণ ও সিলেট আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের উন্নয়নে বাস্তবায়িত হচ্ছে মেগা প্রকল্প। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও মনে করেন আগামীতে বাংলাদেশ হবে আন্তর্জাতিক এভিয়েশন গেটওয়ে। পূর্ব ও পশ্চিমের দেশগুলোর যোগাযোগের কেন্দ্রবিন্দু।

আকাশ যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও উন্নত ও আধুনিক করতে অত্যাধুনিক রাডার সংযোজনসহ সমুদ্র সীমা পর্যন্ত আকাশ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকারের মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নে নিরলস প্রয়াস অব্যাহত রেখেছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। এসব মেগা প্রকল্পের সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমে নব উচ্চতায় গিয়ে পৌঁছবে বাংলাদেশ। এগিয়ে আসা দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগকেও ভোটের মাঠে করে তুলবে আরও ‘অপ্রতিরোধ্য’। বিশ্ব দেখবে নতুন এক বাংলাদেশকে। এই বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধুকন্যা, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অদম্য উন্নয়ন-অগ্রযাত্রায় পাল্টে যাওয়া, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলার পথে অগ্রসরমান দেশের ভাবমূর্তিকেও করবে আরও উজ্জ্বল।

জানা যায়, পুরো বিশ্বেই আকাশ অর্থনীতির পরিধি বেড়ে চলেছে। এ যাত্রায় পিছিয়ে নেই বাংলাদেশও। অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটে নতুন নতুন এয়ারলাইনস যোগ হচ্ছে। বাড়ছে সেবার পরিধি। উড়োজাহাজে চড়ে গন্তব্যে যাওয়ার পরিমাণও দিনে দিনে বাড়ছে। বাংলাদেশের সঙ্গে বিভিন্ন দেশ আকাশপথে যুক্ত হতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার, পর্যটনসহ নানা দিক বিবেচনা করেই এসব দেশের আগ্রহ বেড়েছে। যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের মাধ্যমে নতুন নতুন দেশের সঙ্গে যোগাযোগের সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে।

শুধু তাই নয়, দেশের এভিয়েশন শিল্পকে সামনে এগিয়ে নিতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। দেশের এভিয়েশন শিল্পের সময়োপযোগী অবকাঠামোগত উন্নয়ন, কারিগরি ও জন দক্ষতা উন্নয়ন এবং আইন ও নীতি প্রণয়ণ করা হয়েছে। এতে করে দেশের এভিয়েশন শিল্প দ্রুত প্রবৃদ্ধি লাভ করছে। আরও বেশি প্রশিক্ষিত নারী পাইলট গড়ে তুলতে ইতোমধ্যে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শিক্ষাবৃত্তি’ চালু করেছে।

সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী বলেছেন, ‘গত ১০ বছরে বাংলাদেশের এভিয়েশন মার্কেট প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে। আগামী ১৫ বছরে বাংলাদেশের এভিয়েশন সেক্টরের প্রবৃদ্ধি হবে প্রায় তিন গুণ।’

সূত্র জানায়, সরকারের টার্গেট হচ্ছে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের মধ্যকার যোগাযোগের সেতুবন্ধন, এভিয়েশন গেটওয়ে হিসেবে বাংলাদেশকে প্রস্তুত করা। সরকারের লক্ষ্যপূরণে খোলনলচে পাল্টে পুরোদমে নানামুখী কর্মযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছেন বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মফিদুর রহমান। নতুন এক স্বপ্ন ছুঁয়ে দেখার প্রত্যয়ে ক্রমশ মাথা তুলে দাঁড়াচ্ছে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল। চোখ ধাঁধানো অনন্য স্থাপত্যশৈলীতে ভরপুর এই থার্ড টার্মিনালের প্রায় ৭৬ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে মেগা এই প্রকল্পের ‘আশা জাগানিয়া’ অগ্রগতিতে নির্ভার আনন্দধারায় এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মফিদুর রহমানের নেতৃত্বাধীন ‘টিম বেবিচক’।

জানা যায়, নান্দনিক সৌন্দর্যের এই থার্ড টার্মিনালটির একটি অংশ চলতি বছরের অক্টোবরেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্বোধনের কথা রয়েছে। সর্বাধুনিক প্রুক্তির সমন্বয়ে গড়ে ওঠা বহু কাঙ্ক্ষিত গর্বের এই টার্মিনালটি চালু হলে বছরে দুই কোটিরও বেশি যাত্রীকে সেবা দিতে পারবে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। উদ্বোধনের লক্ষ্যকে সামনে রেখে দিন-রাত একাকার করে চলছে নির্মাণযজ্ঞ।

সিঙ্গাপুরের চাঙ্গি বিমানবন্দরের আদলে ২ লাখ ৩০ হাজার বর্গমিটারের বিশাল থার্ড টার্মিনালটি নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে ২১ হাজার কোটি টাকারও বেশি। এখানে থাকবে ১ হাজার ৩০০ গাড়ি পার্কিং সুবিধা। প্রশান্তির ছোঁয়া থাকবে চারদিকে। দীর্ঘ লাইনের ভোগান্তি থাকবে না। প্রস্তুত থাকবে ১১৫ টি চেকিং কাউন্টার। ৬৪ টি ইমিগ্রেশন কাউন্টারে দ্রুত সেবা পাবেন যাত্রীরা। সেবার আওতায় আনা সম্ভব হবে ১ কোটি ২০ লাখ যাত্রীকে।

সূত্র মতে, ৫ লাখ ৪২ হাজার বর্গমিটারের এই নতুন টার্মিনালে থাকবে ৬৩ হাজার স্কয়ার মিটার আয়তনের সর্বাধুনিক কার্গো ভিলেজ। ৩৭টি অ্যাপ্রোন পার্কিংয়ে এক সঙ্গে পার্ক করা যাবে ৩৭টি উড়োজাহাজ। টার্মিনাল ভবনের আকার হবে ২ লাখ ৩০ হাজার স্কয়ার মিটার। পুরো অবকাঠামো হবে পরিবেশবান্ধব। থাকবে পানির অপচয় রোধ ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের সুব্যবস্থা। সবুজ বৃক্ষরাজির সমারোহে বিমানবন্দরজুড়ে থাকবে প্রাকৃতিক আবহ।

সূত্র জানায়, সাগরগর্ভে এখন দৃশ্যমান কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্পের রানওয়ের কাজ। এই নির্মাণকাজ শেষ হলে দেশের সর্ববৃহৎ রানওয়ে পরিণত হবে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় আকাশপথে দ্রুত যোগাযোগ স্থাপনের পাশাপাশি পর্যটন শিল্প বিকাশে আমূল পরিবর্তন নিয়ে আসবে এই বিমানবন্দর। রিফুয়েলিংয়ের জন্য কক্সবাজার বিমানবন্দর ব্যবহার করলে আন্তর্জাতিক রুটগুলোর দূরত্ব কমবে- চলতি বছরের বুধবার (২২ ফেব্রুয়ারি) গণভবনে ‘হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল সম্প্রসারণ’ প্রকল্পের অগ্রগতি বিষয়ক উপস্থাপনা অবলোকনকালে এমনটিই বলেছিলেন সরকারপ্রধান শেখ হাসিনা।

সেদিন তিনি বলেছিলেন, ‘সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ কক্সবাজার বিমানবন্দর। বিমানের রিফুয়েলিংয়ের জন্য এখন যেমন সবাই দুবাইকে গেটওয়ে হিসেবে ব্যবহার করে, সে রকম কক্সবাজার গেটওয়ে হিসেবে পরিণত হবে। আন্তর্জাতিক রুটে রিফুয়েলিংয়ের জন্য কক্সবাজার কম দূরত্বের মধ্যে পড়বে, ঘুরে যেতে হবে না। সরাসরি কক্সবাজার থেকে তারা এই সুবিধা নিতে পারবে। আন্তর্জাতিক ফ্লাইটগুলো রিফুয়েলিংয়ের জন্য কক্সবাজার এলে দেশের আয় বাড়বে।’

প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেট আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় সেখানকার ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অত্যাধুনিক নতুন টার্মিনাল নির্মাণ, রানওয়ে সম্প্রসারণ ও কার্গো স্টেশন স্থাপনের জন্য নেয়া মেগা প্রকল্পের কাজও এগিয়ে চলছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কার্যকর দিকনির্দেশনায় সম্মুখে থেকেই এসব মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নে নেতৃত্ব দিয়ে মহাকাব্যিক অর্জনে আবেগ উদ্দীপ্ত ও দেদীপ্যমান হয়ে উঠেছেন বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মফিদুর রহমান। নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে তিনি কালের আলোকে বলেন, ‘বিমানবন্দর যেকোনো দেশের আয়না। একজন পর্যটক কোনো দেশে এলে বিমানবন্দর দেখে সে দেশকে প্রাথমিকভাবে মূল্যায়ন করে। বিমানবন্দর আধুনিক হলে দেশের ভাবমূর্তি উন্নয়ন হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। থার্ড টার্মিনালসহ মেগা প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে দেশের অগ্রযাত্রায় নতুন নতুন পালক যোগ হবে।’

কালের আলো/এমএএএমকে

প্রথমে তুহিন, পরে ফাহাদ-কামরুলের মাথায় আঘাত, দাবি পুলিশের

নিজস্ব/কুমিল্লা সংবাদদাতা:
প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:১৪ অপরাহ্ণ
প্রথমে তুহিন, পরে ফাহাদ-কামরুলের মাথায় আঘাত, দাবি পুলিশের

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই ঘটনায় সিয়াম (১৯) নামে আরও একজনকে আটক করে তার সম্পৃক্ততার বিষয়ে তথ্য-প্রমাণ যাচাই করা হচ্ছে।

  • মোবাইল ছিনিয়ে নিতে নির্জন বনে ডেকে নেওয়া
  • ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে লাঠির আঘাত
  • তিনজন গ্রেপ্তার, আরও একজন আটক

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টায় সংবাদ সম্মেলনে হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত তুলে ধরেন কুমিল্লার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আনিসুজ্জামান। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অপ্রতিমকে হত্যার আগে তার মোবাইলফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এতে বাধা দিলে তার সঙ্গে অভিযুক্তদের ধস্তাধস্তি শুরু হয়। একপর্যায়ে প্রথমে সাইফুল ইসলাম তুহিন এবং পরে ফাহাদ ও কামরুল বাঁশের লাঠি দিয়ে অপ্রতিমের মাথায় আঘাত করেন। এতে তার মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সিসিটিভিতে তুহিন, সেখান থেকেই তদন্তের সূত্র
পুলিশ সুপার জানান, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা যায়, গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টা ১৫ মিনিটে সাইফুল ইসলাম তুহিন অপ্রতিমকে সঙ্গে নিয়ে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার পাহাড়ঘেরা একটি নির্জন জঙ্গলের দিকে যান। পরে ওই এলাকা থেকে অপ্রতিমের লাশ উদ্ধারের পর সিসিটিভি ফুটেজে তার সঙ্গে থাকা তুহিনকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে তুহিন অপ্রতিমের মোবাইলফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে তাকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়ার কথা স্বীকার করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

তুহিনের তথ্যেই ফাহাদ, ফাহাদের পর কামরুল
পুলিশ জানায়, তুহিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফাহাদ নামে একজনকে হেফাজতে নেওয়া হয়। জিজ্ঞাসাবাদে ফাহাদ তার বন্ধু কামরুলের সম্পৃক্ততার কথা জানান। পরে কামরুলকেও হেফাজতে নেয় পুলিশ। তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তুহিনের বাসায় অভিযান চালিয়ে অপ্রতিমের ব্যবহৃত মোবাইলফোন উদ্ধার করা হয় বলে দাবি করেছে পুলিশ।

পুলিশের ভাষ্য, তুহিন প্রথমে তিনটি ভিন্ন স্থানে আইফোনটি থাকার কথা জানান। পরে সঠিক তথ্য দিলে তার বাসার তোশকের নিচ থেকে অপ্রতিমের মোবাইলফোনটি উদ্ধার করা হয়।

বিকেল ৫টা থেকে ৬টার মধ্যে হত্যাকাণ্ড
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে সানন্দা এলাকার নির্জন বনে অপ্রতিমের মোবাইলফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এ সময় অপ্রতিম বাধা দিলে তুহিনের সঙ্গে তার ধস্তাধস্তি শুরু হয়। পুলিশের দাবি, একপর্যায়ে তুহিন বাঁশের লাঠি দিয়ে অপ্রতিমের মাথায় আঘাত করেন। এরপর ফাহাদ ও কামরুলও তাকে লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করেন। গুরুতর আঘাতে ঘটনাস্থলেই অপ্রতিমের মৃত্যু হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

লাশ ফেলে মোবাইল নিয়ে চলে যায় তিনজন
পুলিশের দাবি, অপ্রতিমের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর তুহিন তার মোবাইলফোন নিয়ে ফাহাদ ও কামরুলের সঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে চলে যান। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার তিনজন হলেন—সাইফুল ইসলাম তুহিন (১৯), মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ (১৫) ও মো. কামরুল হাসান (১৫)। এ ছাড়া সিয়াম (১৯) নামে আরও একজনকে আটক করা হয়েছে। তার সম্পৃক্ততার বিষয়ে পাওয়া তথ্য ও প্রমাণ যাচাই-বাছাই করছে পুলিশ।

অন্য কেউ জড়িত কি না, তদন্ত চলছে
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার তিনজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে দ্রুত আদালতে পুলিশ প্রতিবেদন দাখিল করা হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তারা।

কালের আলো/এম/এএইচ

জাতিসংঘে ‘নতুন বাংলাদেশ’, গণতান্ত্রিক উত্তরণ ও সংস্কারের বার্তা দেবেন প্রধানমন্ত্রী

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:০১ অপরাহ্ণ
জাতিসংঘে ‘নতুন বাংলাদেশ’, গণতান্ত্রিক উত্তরণ ও সংস্কারের বার্তা দেবেন প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা থেকে নিউইয়র্ক—তারপর সরাসরি বিশ্বমঞ্চ। জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে আজ সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে পৌঁছানোর কথা রয়েছে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের। ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে তাঁর প্রথম ভাষণের দিকে এখন নজর বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলের।

  • বাবা জিয়া ও মা খালেদার পর একই পরিবারের তৃতীয় রাজনীতিকের জাতিসংঘ অভিষেক
  • গুতেরেসের সঙ্গে বৈঠক, একাধিক সাইডলাইন মিটিং

প্রথমবারের মতো জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের মঞ্চে দাঁড়িয়ে তারেক রহমান কী বার্তা দেন, সেটিই এখন সফরের সবচেয়ে আলোচিত বিষয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ভাষণে সরকারের অগ্রাধিকার, সংস্কার কার্যক্রম, গণতান্ত্রিক উত্তরণ এবং ‘নতুন বাংলাদেশ’-এর পরিকল্পনা তুলে ধরবেন তিনি। নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করা, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান এবং দেশের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক রূপরেখাও তাঁর বক্তব্যে গুরুত্ব পেতে পারে।

গুতেরেসের সঙ্গে বৈঠক, একাধিক সাইডলাইন মিটিং
নিউইয়র্কে পৌঁছানোর পর ব্যস্ত কূটনৈতিক কর্মসূচিতে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী। সফরকালে নিউইয়র্কের গ্র্যান্ড হায়াত হোটেলে অবস্থান করার কথা রয়েছে তাঁর। জাতিসংঘ মহাসচিব এন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের প্রস্তুতিও রয়েছে। সেখানে আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের অবদান, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থায় উন্নয়নশীল দেশগুলোর অংশগ্রহণের মতো বিষয় আলোচনায় আসতে পারে।

এর বাইরে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে সাইডলাইন বৈঠকের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, কৌশলগত সহযোগিতা ও বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ এসব আলোচনায় প্রাধান্য পেতে পারে।

জিয়া-খালেদার পর তারেক রহমান
জাতিসংঘে তারেক রহমানের ভাষণের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে পারিবারিক রাজনৈতিক ইতিহাসও। একই পরিবারের তৃতীয় রাজনীতিক হিসেবে জাতিসংঘের মঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন তিনি। ১৯৮০ সালের আগস্টে জাতিসংঘের ১১তম বিশেষ অধিবেশনে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, উন্নয়নশীল বিশ্বের সংকট, খাদ্য নিরাপত্তা ও বিশ্বশান্তির মতো বিষয় তুলে ধরেছিলেন। ২০০৫ সালে প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে খালেদা জিয়াও জাতিসংঘের বিশ্ব সম্মেলনসহ একাধিক উচ্চপর্যায়ের আয়োজনে বাংলাদেশের পক্ষে বক্তব্য দেন।

এবার সেই ধারাবাহিকতায় বিশ্বমঞ্চে উঠছেন তারেক রহমান। ফলে তাঁর বক্তব্যে দেশের অভ্যন্তরীণ পরিবর্তনের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অবস্থান কীভাবে তুলে ধরা হয়, তা নিয়েই তৈরি হয়েছে বিশেষ আগ্রহ।

নিউইয়র্কে স্বাগত প্রস্তুতি
তারেক রহমানের সফর ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনগুলোর নেতাকর্মীদের মধ্যেও চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানাতে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে নেতাকর্মীদের নিউইয়র্কে আসার কথা জানিয়েছে দলীয় সূত্র। এদিকে, ৮১তম সাধারণ অধিবেশনের উচ্চপর্যায়ের সপ্তাহ শুরু হয়েছে ২২ সেপ্টেম্বর। সাধারণ বিতর্ক চলবে ২২ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর এবং ২৮ সেপ্টেম্বর। সব মিলিয়ে জাতিসংঘের এবারের অধিবেশনে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে আলোচিত মুহূর্ত হতে যাচ্ছে ২৪ সেপ্টেম্বর—যেদিন প্রথমবার বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বক্তব্য রাখবেন তারেক রহমান।

কালের আলো/এম/এএইচ

বিতর্কের পর হাফেজদের দেওয়া বই ফেরত নিলেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৫২ অপরাহ্ণ
বিতর্কের পর হাফেজদের দেওয়া বই ফেরত নিলেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী বাংলাদেশি হাফেজদের উপহার হিসেবে দেওয়া নোয়াহ হারারির ‘নেক্সাস’ বইয়ের বাংলা অনুবাদ বিতর্কের পর ফেরত নিয়েছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার তার দপ্তরে বিজয়ী হাফেজদের কাছ থেকে বইগুলো ফেরত নেন। এ সময় হাফেজদের পাশাপাশি তাদের শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।

৪৬তম বাদশাহ আবদুল আজীজ আন্তর্জাতিক পবিত্র কোরআন প্রতিযোগিতায় পুরস্কার পাওয়া বাংলাদেশি হাফেজদের কয়েকটি করে বই উপহার দেওয়া হয়। এসব বইয়ের মধ্যে ছিল ইসরায়েলি ইতিহাসবিদ নোয়াহ হারারির লেখা ‘নেক্সাস’-এর বাংলা অনুবাদ।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিজয়ীদের হাতে বইগুলো তুলে দেন। পরে বই দেওয়ার ছবি প্রকাশ্যে এলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়।

এর পরিপ্রেক্ষিতে রোববার সন্ধ্যায় ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে বই ফেরত নেওয়ার তথ্য জানানো হয়।

মন্ত্রণালয়ের পোস্টে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় কোরআন প্রতিযোগিতায় পুরস্কারপ্রাপ্ত বাংলাদেশি হাফেজদের উপহার হিসেবে দেওয়া বইটি ফেরত নেওয়া হয়েছে। দুপুরে প্রতিমন্ত্রী শামীম কায়সার বিজয়ী হাফেজদের কাছ থেকে বইগুলো ফেরত নেন।

ধর্ম প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা পাওয়ার পর দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে বইটি ফেরত নেওয়া হয়েছে। তবে প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হাফেজদের জন্য ঘোষিত আন্তর্জাতিক সফর, সহায়তা ও অন্যান্য প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের সরকারি কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

কালের আলো/এমএসআইপি