খুঁজুন
                               
শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৪ বৈশাখ, ১৪৩৩
           

কূটনৈতিক দেনদরবারে ‘মাছের রাজা’ ইলিশ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৪, ১১:৩৮ অপরাহ্ণ
কূটনৈতিক দেনদরবারে ‘মাছের রাজা’ ইলিশ

এম.আব্দুল্লাহ আল মামুন খান, অ্যাকটিং এডিটর:

‘মাছের রাজা’ ইলিশ পছন্দ করে না এমন বাঙালি খুঁজে পাওয়া ভার! ইলিশের কথা ভাবতেই অনেকের জিভে পানি এসে যায়। স্বভাবতই খাদ্য উপাদানের বিরাট এই পুষ্টি ভাণ্ডার নিয়ে চিঠি চালাচালিও বড় বার্তা হিসেবে বিবেচ্য। আবার, ভূরাজনীতি বা কূটনীতির দেনদরবারে ক্রমশও গুরুত্বপূর্ণ স্বাদে ও ঘ্রাণে অনন্য এই মাছটি। ভারতে দূর্গাপূজায় মিলবে না বাংলাদেশের পদ্মার ইলিশ। এমন খবরে হাহাকার ওপার বাংলায়। মাথায় হাত ব্যবসায়ী ও ভোক্তাদের। ঠিক এমন প্রেক্ষাপটেই সুসংবাদ দিয়েছে বাংলাদেশ। অবসান ঘটেছে সব জল্পনার। পদ্মার রূপালি ইলিশ অবশেষে ঠাঁই করে নিচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের বাঙালির পাতে।

ইলিশহীন দূর্গাপূজা উৎসব ভাবনায় ওপার বাংলার সব হতাশা-বেদনা হয়েছে দূরীভূত। দুধের স্বাদও মেটাতে হবে না ঘোলে! শেষ পর্যন্ত ঠিকই ইলিশ যাচ্ছে ভারতে। ইতোমধ্যে ৩ হাজার টন ইলিশ ভারতে রপ্তানির অনুমতি দিয়ে শান্তিতে নোবেলজয়ী ড.মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার নতুন আরও একটি চমক তৈরি করলেন। এর মাধ্যমে ইলিশ কূটনীতির অধ্যায় যবনিকাপাতের শঙ্কাকে ফুৎকারে উড়িয়ে দিয়ে গ্রহণ করলেন ইতিবাচক পদক্ষেপ। ঝানু কূটনীতির দূরদর্শীতায় ঢাকা-দিল্লির চলমান শীতল সম্পর্কের বরফ কিছুটা হলেও গলার মধ্যে দিয়ে অস্বস্তির কাঁটা দূর করে স্বস্তির দিকে মোড় দিয়েছেন।

সম্প্রতি ভারতের ফিস ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টার কাছে এক চিঠিতে ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দিতে অনুরোধ জানায়। সরকার এই অনুরোধে সাড়া দিয়ে দেশটিতে ইলিশ রপ্তানির নির্দেশনা দিয়ে প্রধান উপদেষ্টা ড.ইউনূস প্রকারান্তরে পুনরায় স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক হবে ন্যায্যতা এবং সমতার ভিত্তিতে।

ভরা মৌসুমে আকাশছোঁয়া দামের পাশাপাশি বাংলাদেশ ও ভারতের রাজনীতিতেও বর্তমানে হট টপিক ইলিশ। যদিও দু’ দেশের ঐতিহ্যগত সম্পর্কে সব সময় বড় অন্তরায় হয়ে ঠেকেছে তিস্তার পানি। বাংলাদেশকে তিস্তার ন্যায্য হিস্যা বঞ্চিত করায় ২০১২ সালে ভারতে রপ্তানি বন্ধও করা হয় মাছটি। আজও তিস্তা ইস্যুর সুরাহা না হলেও নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই ভারতে ইলিশ পাঠানো আবারও শুরু করে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার সরকার। পূজা-পার্বণে ২০১৯ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত উপহার হিসেবে পাঠানো হয়েছে প্রায় সাড়ে ৫ হাজার টন ইলিশ। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার উপহারের কূটনীতিতে না হেঁটে ইলিশ পাঠানো বন্ধের ঘোষণা দেয়। যদিও সরকার ভারতে ইলিশ না পাঠানোর কারণ হিসেবে বেশি ধরা না পড়া, খারাপ আবহাওয়া এবং স্থানীয় বাজারগুলোতে দাম বেড়ে যাওয়ার কথা বলেছেন। গত শনিবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাতে সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার বাংলাবাজার সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাচারের সময় ৮৮৫ কেজি ইলিশ জব্দ করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

ইলিশকে বাংলাদেশের মানুষের কাছে সহজলভ্য করে তুলতেই নতুন অন্তর্বর্তী সরকারের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার প্রতিবেশী দেশ ভারতে ইলিশ রপ্তানির বন্ধের কথা বলে আসছিলেন। তিনি বিবিসিকে বলেছিলেন, ‘অনেক মাছ এখনো বাংলাদেশ থেকে ভারতে যাচ্ছে। এবার আমরা ইলিশকে সীমান্ত পার হতে দেব না।’ তিনি বিগত সরকারের ‘ইলিশ কূটনীতির’ প্রসঙ্গটি টেনে আরও বলেছিলেন, ‘আগের সরকার দুর্গাপূজার সময় নিষেধাজ্ঞা তুলে নিত। তারা এটাকে উপহার বলত। এইবার আমি মনে করি না, আমাদের উপহার দেয়ার দরকার আছে। কারণ, ভারতে প্রচুর পরিমাণে রপ্তানির অনুমতি দিলে আমাদের লোকজন মাছ খেতে পারবে না।’ পরে তিনি ভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘এবারের দুর্গোৎসবে বাংলাদেশের হিন্দু ধর্মাবলম্বীসহ অন্য নাগরিকরা যেন ইলিশ খেতে পারেন সেটি নিশ্চিত করা হবে। ভারতের চেয়ে দেশের জনগণকেই প্রাধান্য দেওয়া হবে।’

এখনও নিজের সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা। এ প্রসঙ্গে রবিবার (২২ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে এক সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ফরিদা আখতার বলেছেন, ‘ভারতে ইলিশ রপ্তানির যে অনুমতি হয়েছে, সেটা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের না। এখনও ইলিশ যায়নি, মাত্র সিদ্ধান্ত হয়েছে। আমি এখনও আমার আগের সিদ্ধান্তেই আছি যে আগে দেশের মানুষকে ইলিশ খাওয়াতে হবে, পরে রপ্তানি। এ জন্য বাজারে ইলিশের দাম বাড়ার কোনও কারণ নেই। তবে রপ্তানির সিদ্ধান্তের পর ইলিশের দাম বেড়ে গেলে সেক্ষেত্রে ব্যবস্থা নেবে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়।’ তিনি বলেন, ‘পূজার সঙ্গে ইলিশ রপ্তানির কোনও সম্পর্ক নেই। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কলকাতার ব্যবসায়ীরা যোগাযোগ করেছে।’

ড.ইউনূসের কূটনৈতিক কৌশলকে ইতিবাচক বলছেন বিশ্লেষকরা
বাংলাদেশের ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য বা জিআই পণ্য হিসেবে ২০১৭ সাল থেকে স্বীকৃত ইলিশ। রূপালী মাছটি বাংলাদেশের একান্তই নিজস্ব। বাংলাদেশের মোট মাছ উৎপাদনের প্রায় ১২ শতাংশই ইলিশ। দেশের জিডিপিতে এটি প্রায় ১ শতাংশ অবদান রাখে। বাংলাদেশের জেলেরা বছরে ৬ লাখ টন ইলিশ ধরেন এবং এই মাছের বেশির ভাগটাই আসে সমুদ্র থেকে। বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গজুড়ে বাঙালি সংস্কৃতি এবং রন্ধনপ্রণালিতে গভীরভাবে জড়িয়ে আছে ইলিশ মাছ। সূক্ষ্ম স্বাদ এবং নানা ব্যবহারের জন্য এই মাছ প্রশংসিত। তাই ইলিশের অভাব হলে বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গ উভয় অঞ্চলের মানুষের জন্যই এটি একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে ওঠে।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, পতিত সরকারের সময়ে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় ভালো ছিল। তাই শেখ হাসিনার পতনের পর সম্পর্ক শীতল হয়েছে। তবে প্রতিবেশী দেশ হিসেবে দুই দেশেরই সম্পর্ক ভালো রাখা দরকার। তবে অবশ্যই সেটি পারস্পরিক সমান সম্মান ও ন্যায্যতার ভিত্তিতেই হতে হবে। বিশেষ করে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ড. ইউনূসের যোগ দেওয়ার আগে এ বিষয়টি ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এটা কূটনৈতিক কৌশল হিসেবেও প্রভাবকের ভূমিকা পালন করবে।

এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক ও জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষক পরিষদের (জানিপপ) চেয়ারম্যান অধ্যাপক নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ বিভিন্ন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এটা ইতিবাচক সিদ্ধান্ত। ভারত থেকে এরই মধ্যে বাংলাদেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য এসেছে। প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক থাকা অনেক স্বস্তির।’

ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক স্বাভাবিক থাকা দুই দেশের জন্যই দরকার বলে মনে করেন কূটনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক জাকির হোসেন। তিনি বলেন, ‘ইলিশ রপ্তানির সিদ্ধান্ত অবশ্যই ভালো হয়েছে বলে আমি মনে করি। কারণ গত দেড় মাস ধরে এই সম্পর্ক নিয়ে অনেক কথাবার্তা হচ্ছে।’

ভারতে ইলিশ রপ্তানিতে বাহবা পেয়েছি জানিয়ে অর্থ ও বাণিজ্য উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ রবিবার (২২ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে নিজের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, ‘সরকারের সর্বোচ্চ মহলের সিদ্ধান্তেই ভারতে ইলিশ রপ্তানি করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘যে পরিমাণ ইলিশ রপ্তানি হয়েছে তা চাঁদপুর ঘাটের একদিনের ইলিশও না। রপ্তানির বিপক্ষে যারা বলে তারা ইমোশনাল।’ ভারতের সঙ্গে আমাদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আছে উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, ‘ইলিশ রপ্তানিতে বাণিজ্যিক সুবিধা আছে। ফরেন কারেন্সি আসে। রপ্তানি না করলে চোরাচালান হয়। রপ্তানিতেও গ্রেটার ইন্টারেস্ট আছে।’

কালের আলো/এমএএএমকে

সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎ শুরু শুক্রবার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:১০ অপরাহ্ণ
সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎ শুরু শুক্রবার

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার আগামীকাল শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ তথ্য জানান বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

রিজভী বলেন, শুক্রবার পাঁচটি বিভাগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হবে। পরদিন শনিবারও দলীয় ফরম গ্রহণকারীদের সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত হবে। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, শুক্রবার রংপুর, রাজশাহী, বরিশাল, ফরিদপুর ও খুলনা বিভাগের প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হবে। শনিবার চট্টগ্রাম, সিলেট, কুমিল্লা, ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার বিকেল তিনটায় অনুষ্ঠিত হবে।

তিনি আরও জানান, সাক্ষাৎকার কার্যক্রমে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান সভাপতিত্ব করবেন। মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় অতীতে নির্যাতনের শিকার, মিথ্যা মামলার আসামি এবং রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় নারী নেত্রীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। পাশাপাশি শিক্ষাগত যোগ্যতা ও যোগাযোগ দক্ষতাও বিবেচনায় রাখা হবে।

দলীয় সূত্র জানায়, সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য মোট ১ হাজার ২৫টি ফরম বিক্রি হয়েছে। প্রতিটি ফরমের মূল্য ছিল ২ হাজার টাকা। ফরম জমা দেওয়ার সময় প্রত্যেক প্রার্থীকে ৫০ হাজার টাকা জামানত দিতে হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী, সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২১ এপ্রিল। যাচাই-বাছাই হবে ২২ ও ২৩ এপ্রিল। আপিল গ্রহণ করা হবে ২৬ এপ্রিল এবং নিষ্পত্তি হবে ২৭ ও ২৮ এপ্রিল। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২৯ এপ্রিল এবং ৩০ এপ্রিল প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১২ মে।

জাতীয় সংসদের ৩৫০টি আসনের মধ্যে নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন রয়েছে ৫০টি। দলীয় বণ্টন অনুযায়ী বিএনপি জোটের জন্য ৩৬টি, জামায়াতে ইসলামীসহ তাদের জোটের জন্য ১৩টি এবং স্বতন্ত্রদের জন্য একটি আসন নির্ধারিত রয়েছে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

আর্মি স্পোর্টস কমপ্লেক্সের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন সেনাপ্রধান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:০৯ অপরাহ্ণ
আর্মি স্পোর্টস কমপ্লেক্সের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন সেনাপ্রধান

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আর্মি স্পোর্টস কমপ্লেক্সের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। গতকাল বুধবার (১৫ এপ্রিল) বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়াম সংলগ্ন এলাকায় নির্মিতব্য এই স্পোর্টস কমপ্লেক্সের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, এমপি-এর ‘সবার জন্য ক্রীড়া’ এই অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সুদূরপ্রসারী বিশেষ পরিকল্পনাকে সামনে রেখে দেশের ক্রীড়া উন্নয়নে কার্যকর অবদান রাখার লক্ষ্যে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সার্বিক সহযোগিতায় একটি আধুনিক ও সমন্বিত ক্রীড়া অবকাঠামো হিসেবে আর্মি স্পোর্টস কমপ্লেক্স নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

এই কমপ্লেক্সে আন্তর্জাতিক মানের দুটি ইনডোর স্টেডিয়াম, একটি স্পোর্টস একাডেমি এবং জিমনেসিয়ামসহ উন্নত স্পোর্টস সায়েন্স সুবিধা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এতে ফিজিওলজি, বায়োমেকানিক্স, নিউট্রিশন ও স্পোর্টস মেডিসিন সংক্রান্ত বিশেষায়িত সেকশন স্থাপন করা হবে। এর ফলে দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের খেলোয়াড়গণ আধুনিক প্রশিক্ষণ ও গবেষণাভিত্তিক সুবিধা গ্রহণের সুযোগ পাবে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উদ্যোগে নির্মিতব্য এ ধরনের আধুনিক ক্রীড়া অবকাঠামো দেশের ক্রীড়াক্ষেত্রে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যায়।

ভিত্তিপ্রস্তর অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, সেনাবাহিনী ও বিভিন্ন জাতীয় দলের খেলোয়াড়বৃন্দ এবং অন্যান্য আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এম/এএইচ

সরকারের সমালোচনা করে ঢাবি ছাত্রদল নেতার পদত্যাগ

কালের আলো ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:০৫ অপরাহ্ণ
সরকারের সমালোচনা করে ঢাবি ছাত্রদল নেতার পদত্যাগ

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সরকারের সমালোচনা করে পদত্যাগ করেছেন ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ শোভন।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) এক ফেসবুক পোস্টে পদত্যাগের ঘোষণা দেন তিনি।

সেখানে তিনি লিখেন, রাষ্ট্র আজ এক গভীর সংকটের ক্রান্তিলগ্নে দাঁড়িয়ে। সাম্যবাদী বিপ্লবের মহান আদর্শকে ধারণ করে ছাত্র–জনতা–সিপাহীর ঐক্যবদ্ধ শক্তিতে ২১ দিনের পাল্টাপাল্টি প্রতিরোধ যুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত ৫ আগস্ট, তার চেতনা আজ উপেক্ষিত, তার অঙ্গীকার পদদলিত। ব্যক্তি ও গোষ্ঠীস্বার্থের অন্ধ প্রতিযোগিতা এবং বিশ্বাসঘাতকতার কালো ছায়ায় সহস্র শহীদের আত্মত্যাগ আজও ন্যায্য মর্যাদা পায়নি, এ জাতির জন্য এক গভীর লজ্জা ও বেদনার ইতিহাস।

পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, সেই দুর্দিনে আমরা মাথা নত করিনি। মহান আল্লাহর ওপর অটল ভরসা ও অদম্য সাহসে আমরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়েছিলাম বলেই জাতি রক্ষা পেয়েছিল ধ্বংসের দ্বারপ্রান্ত থেকে। নতুবা প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ পরিণত হতো এক রক্তাক্ত বিপর্যয়ের প্রান্তরে। অথচ আজও একটি আধুনিক, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক রাষ্ট্র বিনির্মাণের স্বপ্ন অপূর্ণ রয়ে গেছে, এ এক নির্মম বাস্তবতা।

তিনি আরও লিখেন, চলমান জাতীয় দুর্যোগের প্রেক্ষাপট মোকাবিলায় সম্পূর্ণভাবে কপটতার আশ্রয় নেওয়া দুর্বল সরকার ও দলের (বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল) প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার করে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত ঘোষণা করছি। আমার এক দশকের সংগ্রাম ও আত্মত্যাগ কোনো প্রাপ্তির প্রত্যাশায় ছিল না; বরং তা ছিল আল্লাহর সন্তষ্টি অর্জন ও গণমানুষের আত্মমর্যাদা রক্ষার লড়াই অতপর; নিপীড়িত দেশমাতা মরহুমা বেগম জিয়ার প্রতি নৈতিক দায়বদ্ধতার বহিঃপ্রকাশ। কিন্তু বর্তমানে দলটির নীতি ও কার্যক্রমের সঙ্গে একজন আদর্শনিষ্ঠ মানুষ হিসেবে আমার পথচলা আর সম্ভব নয়।

ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, স্মরণ রাখা আবশ্যক—রাষ্ট্রই সর্বোচ্চ, দল তার একটি উপাদান মাত্র। রাষ্ট্রের স্বার্থ, ন্যায় ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপস চলতে পারে না, হবেও না। অতএব, জাতির স্বাধীনতা, মর্যাদা ও ন্যায়ের প্রশ্নে যদি পুনরায় সংগ্রাম অনিবার্য হয়, তবে দেশমাতৃকার সম্মান রক্ষায় সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারে আমরা প্রস্তুত থাকবো। অন্যায়ের সামনে নতজানু নয়, প্রয়োজনে শাহাদাতই হবে আমাদের চূড়ান্ত অঙ্গীকার। বাংলাদেশ চিরজীবী হউক।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ