খুঁজুন
                               
শনিবার, ৯ মে, ২০২৬, ২৬ বৈশাখ, ১৪৩৩
           

কূটনৈতিক দেনদরবারে ‘মাছের রাজা’ ইলিশ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৪, ১১:৩৮ অপরাহ্ণ
কূটনৈতিক দেনদরবারে ‘মাছের রাজা’ ইলিশ

এম.আব্দুল্লাহ আল মামুন খান, অ্যাকটিং এডিটর:

‘মাছের রাজা’ ইলিশ পছন্দ করে না এমন বাঙালি খুঁজে পাওয়া ভার! ইলিশের কথা ভাবতেই অনেকের জিভে পানি এসে যায়। স্বভাবতই খাদ্য উপাদানের বিরাট এই পুষ্টি ভাণ্ডার নিয়ে চিঠি চালাচালিও বড় বার্তা হিসেবে বিবেচ্য। আবার, ভূরাজনীতি বা কূটনীতির দেনদরবারে ক্রমশও গুরুত্বপূর্ণ স্বাদে ও ঘ্রাণে অনন্য এই মাছটি। ভারতে দূর্গাপূজায় মিলবে না বাংলাদেশের পদ্মার ইলিশ। এমন খবরে হাহাকার ওপার বাংলায়। মাথায় হাত ব্যবসায়ী ও ভোক্তাদের। ঠিক এমন প্রেক্ষাপটেই সুসংবাদ দিয়েছে বাংলাদেশ। অবসান ঘটেছে সব জল্পনার। পদ্মার রূপালি ইলিশ অবশেষে ঠাঁই করে নিচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের বাঙালির পাতে।

ইলিশহীন দূর্গাপূজা উৎসব ভাবনায় ওপার বাংলার সব হতাশা-বেদনা হয়েছে দূরীভূত। দুধের স্বাদও মেটাতে হবে না ঘোলে! শেষ পর্যন্ত ঠিকই ইলিশ যাচ্ছে ভারতে। ইতোমধ্যে ৩ হাজার টন ইলিশ ভারতে রপ্তানির অনুমতি দিয়ে শান্তিতে নোবেলজয়ী ড.মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার নতুন আরও একটি চমক তৈরি করলেন। এর মাধ্যমে ইলিশ কূটনীতির অধ্যায় যবনিকাপাতের শঙ্কাকে ফুৎকারে উড়িয়ে দিয়ে গ্রহণ করলেন ইতিবাচক পদক্ষেপ। ঝানু কূটনীতির দূরদর্শীতায় ঢাকা-দিল্লির চলমান শীতল সম্পর্কের বরফ কিছুটা হলেও গলার মধ্যে দিয়ে অস্বস্তির কাঁটা দূর করে স্বস্তির দিকে মোড় দিয়েছেন।

সম্প্রতি ভারতের ফিস ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টার কাছে এক চিঠিতে ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দিতে অনুরোধ জানায়। সরকার এই অনুরোধে সাড়া দিয়ে দেশটিতে ইলিশ রপ্তানির নির্দেশনা দিয়ে প্রধান উপদেষ্টা ড.ইউনূস প্রকারান্তরে পুনরায় স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক হবে ন্যায্যতা এবং সমতার ভিত্তিতে।

ভরা মৌসুমে আকাশছোঁয়া দামের পাশাপাশি বাংলাদেশ ও ভারতের রাজনীতিতেও বর্তমানে হট টপিক ইলিশ। যদিও দু’ দেশের ঐতিহ্যগত সম্পর্কে সব সময় বড় অন্তরায় হয়ে ঠেকেছে তিস্তার পানি। বাংলাদেশকে তিস্তার ন্যায্য হিস্যা বঞ্চিত করায় ২০১২ সালে ভারতে রপ্তানি বন্ধও করা হয় মাছটি। আজও তিস্তা ইস্যুর সুরাহা না হলেও নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই ভারতে ইলিশ পাঠানো আবারও শুরু করে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার সরকার। পূজা-পার্বণে ২০১৯ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত উপহার হিসেবে পাঠানো হয়েছে প্রায় সাড়ে ৫ হাজার টন ইলিশ। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার উপহারের কূটনীতিতে না হেঁটে ইলিশ পাঠানো বন্ধের ঘোষণা দেয়। যদিও সরকার ভারতে ইলিশ না পাঠানোর কারণ হিসেবে বেশি ধরা না পড়া, খারাপ আবহাওয়া এবং স্থানীয় বাজারগুলোতে দাম বেড়ে যাওয়ার কথা বলেছেন। গত শনিবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাতে সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার বাংলাবাজার সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাচারের সময় ৮৮৫ কেজি ইলিশ জব্দ করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

ইলিশকে বাংলাদেশের মানুষের কাছে সহজলভ্য করে তুলতেই নতুন অন্তর্বর্তী সরকারের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার প্রতিবেশী দেশ ভারতে ইলিশ রপ্তানির বন্ধের কথা বলে আসছিলেন। তিনি বিবিসিকে বলেছিলেন, ‘অনেক মাছ এখনো বাংলাদেশ থেকে ভারতে যাচ্ছে। এবার আমরা ইলিশকে সীমান্ত পার হতে দেব না।’ তিনি বিগত সরকারের ‘ইলিশ কূটনীতির’ প্রসঙ্গটি টেনে আরও বলেছিলেন, ‘আগের সরকার দুর্গাপূজার সময় নিষেধাজ্ঞা তুলে নিত। তারা এটাকে উপহার বলত। এইবার আমি মনে করি না, আমাদের উপহার দেয়ার দরকার আছে। কারণ, ভারতে প্রচুর পরিমাণে রপ্তানির অনুমতি দিলে আমাদের লোকজন মাছ খেতে পারবে না।’ পরে তিনি ভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘এবারের দুর্গোৎসবে বাংলাদেশের হিন্দু ধর্মাবলম্বীসহ অন্য নাগরিকরা যেন ইলিশ খেতে পারেন সেটি নিশ্চিত করা হবে। ভারতের চেয়ে দেশের জনগণকেই প্রাধান্য দেওয়া হবে।’

এখনও নিজের সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা। এ প্রসঙ্গে রবিবার (২২ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে এক সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ফরিদা আখতার বলেছেন, ‘ভারতে ইলিশ রপ্তানির যে অনুমতি হয়েছে, সেটা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের না। এখনও ইলিশ যায়নি, মাত্র সিদ্ধান্ত হয়েছে। আমি এখনও আমার আগের সিদ্ধান্তেই আছি যে আগে দেশের মানুষকে ইলিশ খাওয়াতে হবে, পরে রপ্তানি। এ জন্য বাজারে ইলিশের দাম বাড়ার কোনও কারণ নেই। তবে রপ্তানির সিদ্ধান্তের পর ইলিশের দাম বেড়ে গেলে সেক্ষেত্রে ব্যবস্থা নেবে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়।’ তিনি বলেন, ‘পূজার সঙ্গে ইলিশ রপ্তানির কোনও সম্পর্ক নেই। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কলকাতার ব্যবসায়ীরা যোগাযোগ করেছে।’

ড.ইউনূসের কূটনৈতিক কৌশলকে ইতিবাচক বলছেন বিশ্লেষকরা
বাংলাদেশের ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য বা জিআই পণ্য হিসেবে ২০১৭ সাল থেকে স্বীকৃত ইলিশ। রূপালী মাছটি বাংলাদেশের একান্তই নিজস্ব। বাংলাদেশের মোট মাছ উৎপাদনের প্রায় ১২ শতাংশই ইলিশ। দেশের জিডিপিতে এটি প্রায় ১ শতাংশ অবদান রাখে। বাংলাদেশের জেলেরা বছরে ৬ লাখ টন ইলিশ ধরেন এবং এই মাছের বেশির ভাগটাই আসে সমুদ্র থেকে। বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গজুড়ে বাঙালি সংস্কৃতি এবং রন্ধনপ্রণালিতে গভীরভাবে জড়িয়ে আছে ইলিশ মাছ। সূক্ষ্ম স্বাদ এবং নানা ব্যবহারের জন্য এই মাছ প্রশংসিত। তাই ইলিশের অভাব হলে বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গ উভয় অঞ্চলের মানুষের জন্যই এটি একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে ওঠে।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, পতিত সরকারের সময়ে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় ভালো ছিল। তাই শেখ হাসিনার পতনের পর সম্পর্ক শীতল হয়েছে। তবে প্রতিবেশী দেশ হিসেবে দুই দেশেরই সম্পর্ক ভালো রাখা দরকার। তবে অবশ্যই সেটি পারস্পরিক সমান সম্মান ও ন্যায্যতার ভিত্তিতেই হতে হবে। বিশেষ করে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ড. ইউনূসের যোগ দেওয়ার আগে এ বিষয়টি ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এটা কূটনৈতিক কৌশল হিসেবেও প্রভাবকের ভূমিকা পালন করবে।

এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক ও জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষক পরিষদের (জানিপপ) চেয়ারম্যান অধ্যাপক নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ বিভিন্ন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এটা ইতিবাচক সিদ্ধান্ত। ভারত থেকে এরই মধ্যে বাংলাদেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য এসেছে। প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক থাকা অনেক স্বস্তির।’

ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক স্বাভাবিক থাকা দুই দেশের জন্যই দরকার বলে মনে করেন কূটনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক জাকির হোসেন। তিনি বলেন, ‘ইলিশ রপ্তানির সিদ্ধান্ত অবশ্যই ভালো হয়েছে বলে আমি মনে করি। কারণ গত দেড় মাস ধরে এই সম্পর্ক নিয়ে অনেক কথাবার্তা হচ্ছে।’

ভারতে ইলিশ রপ্তানিতে বাহবা পেয়েছি জানিয়ে অর্থ ও বাণিজ্য উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ রবিবার (২২ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে নিজের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, ‘সরকারের সর্বোচ্চ মহলের সিদ্ধান্তেই ভারতে ইলিশ রপ্তানি করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘যে পরিমাণ ইলিশ রপ্তানি হয়েছে তা চাঁদপুর ঘাটের একদিনের ইলিশও না। রপ্তানির বিপক্ষে যারা বলে তারা ইমোশনাল।’ ভারতের সঙ্গে আমাদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আছে উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, ‘ইলিশ রপ্তানিতে বাণিজ্যিক সুবিধা আছে। ফরেন কারেন্সি আসে। রপ্তানি না করলে চোরাচালান হয়। রপ্তানিতেও গ্রেটার ইন্টারেস্ট আছে।’

কালের আলো/এমএএএমকে

ভোররাতে ছিনতাইকারীর কবলে বরযাত্রীর মাইক্রোবাস, সর্বস্ব লুট

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ৯ মে, ২০২৬, ২:০৫ পূর্বাহ্ণ
ভোররাতে ছিনতাইকারীর কবলে বরযাত্রীর মাইক্রোবাস, সর্বস্ব লুট
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিয়ে বাড়ি থেকে ফেরারপথে ছিনতাইকারীর কবলে পড়েছে বরযাত্রীদের বহনকারী মাইক্রোবাস। এ সময় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে লুট করা হয় নগদ টাকা, অলংকার, গহনাসহ সব। শুক্রবার (৮ মে) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে উপজেলার নূনাছড়া এলাকায় পাশে এ ঘটনা ঘটেভুক্তভোগীদের একজন জনি বণিক (২৯) জানান, একটি বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে তারা মাইক্রোবাসযোগে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে নূনাছড়া এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ বিকট শব্দ শোনা যায়। পরে গাড়িচালক গাড়িটি থামালে তারা কয়েকজন নিচে নেমে মোবাইলের লাইট জ্বালিয়ে গাড়ি থেকে কিছু পড়ে গেছে কি না তা খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন।এ সময় হঠাৎ মহাসড়কের পাশের জমি থেকে ৫ থেকে ৬ জন সশস্ত্র দুর্বৃত্ত বেরিয়ে আসে। তাদের হাতে রামদা, কিরিচ ও ছুরি ছিল। দুর্বৃত্তরা ভয়ভীতি দেখিয়ে গাড়িতে থাকা যাত্রীদের জিম্মি করে ৫টি মোবাইল ফোন, মানিব্যাগে থাকা প্রায় ৩০ হাজার টাকা, নগদ অর্থ এবং স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেয়। তিনি আরও জানান, গাড়ির বাইরে থাকা তিনজনকে ধাওয়া করলে তারা প্রাণ বাঁচাতে দৌড়ে পাশের একটি মসজিদে গিয়ে আশ্রয় নেন। পরে মসজিদের ভেতর থেকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়।ঘটনার পর ভুক্তভোগীরা সীতাকুণ্ড মডেল থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সকালে কুমিরা হাইওয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।এ বিষয়ে কুমিরা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রব্বানী বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

কালের আলো/এসআইপি

বিএনপিই প্রথম শাপলা চত্বরের হত্যাকাণ্ডকে গণহত্যার স্বীকৃতি দিয়েছিল: তথ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৮ মে, ২০২৬, ৯:৩৫ অপরাহ্ণ
বিএনপিই প্রথম শাপলা চত্বরের হত্যাকাণ্ডকে গণহত্যার স্বীকৃতি দিয়েছিল: তথ্যমন্ত্রী

দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিএনপির বিবৃতিতেই সর্বপ্রথম শাপলা ট্র্যাজেডিকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল, বলে দাবি করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

শুক্রবার (৮ মে) রাজধানীর বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনে শাপলা স্মৃতি সংসদ আয়োজিত ‘শাপলার শহীদগাঁথা: স্মরণ ও মূল্যায়ন’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, শাপলা চত্বরের ঘটনার পর বিএনপি সাহসিকতার সঙ্গে এটিকে গণহত্যা হিসেবে তুলে ধরেছিল। তিনি দাবি করেন, বর্তমান সরকার ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তিনি আরও বলেন, বিগত সরকারের সময়ে এ ঘটনার প্রকৃত তথ্য আড়াল করার চেষ্টা করা হয়েছিল। তার অভিযোগ, সে সময় বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয় এবং শাপলা চত্বরের ঘটনার সত্য চাপা দেওয়ার চেষ্টা চলে।

একই অনুষ্ঠানে ১১-দলীয় ঐক্যের নেতারাও বক্তব্য দেন। তারা শাপলা চত্বরের ঘটনাকে ‘ফ্যাসিবাদের নির্মম উদাহরণ’ হিসেবে উল্লেখ করে বিচার দাবি করেন।

অনুষ্ঠানে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, শাপলা চত্বরে অভিযান চালানোর সময় বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে ব্যাপক শক্তি প্রয়োগ করা হয়েছিল। তিনি দাবি করেন, এখন পর্যন্ত তদন্তে ৭২ জনের বেশি মানুষের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে এবং আরও অনেকে নিখোঁজ রয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, ২০১৩ সালের ৫ মে’র ঘটনা এবং ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থান একই রাজনৈতিক ধারাবাহিকতার অংশ, যা কর্তৃত্ববাদবিরোধী আন্দোলনের প্রতিফলন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

মাদক পাচার রোধে ঢাকা-ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক সই

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৮ মে, ২০২৬, ৯:২৯ অপরাহ্ণ
মাদক পাচার রোধে ঢাকা-ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক সই

মাদকদ্রব্য ও সাইকোট্রপিক উপাদানের অবৈধ পাচার এবং অপব্যবহার প্রতিরোধে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছে।

শুক্রবার (৮ মে) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ মহসিন রাজা নাকভি নিজ নিজ দেশের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ফয়সল হাসান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এই সমঝোতা স্মারকের আওতায় দুই দেশ মাদক পাচার, মাদক সংক্রান্ত অর্থ পাচার এবং সংশ্লিষ্ট অপরাধ প্রতিরোধে তথ্য আদান-প্রদান ও কারিগরি সহযোগিতা জোরদার করবে। পাশাপাশি মাদক পাচারে জড়িত সন্দেহভাজন ব্যক্তি, পাচারকারী চক্র এবং নতুন পাচার কৌশল ও রুট সম্পর্কে নিয়মিত গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় করা হবে।

সমঝোতা অনুযায়ী, উভয় দেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো পারস্পরিক অনুরোধের ভিত্তিতে যৌথ গোয়েন্দা কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে। এছাড়া ‘কন্ট্রোলড ডেলিভারি অপারেশন’-এর মতো সমন্বিত অভিযান পরিচালনার বিষয়েও দুই দেশ একমত হয়েছে।

চুক্তিতে মাদক নিয়ন্ত্রণ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ, পুনঃপ্রশিক্ষণ এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণার ফলাফল বিনিময়ের বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। একইসঙ্গে লুকানো মাদক শনাক্তে আধুনিক প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম ও স্নিফার ডগ ব্যবহারের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নিয়মিত ও অপারেশনাল তথ্য বিনিময়ের জন্য বাংলাদেশের পক্ষে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এবং পাকিস্তানের পক্ষে অ্যান্টি নারকোটিকস ফোর্স (এএনএফ) ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে।

এতে আরও উল্লেখ করা হয়, আদান-প্রদানকৃত সব তথ্য ও নথিপত্রের কঠোর গোপনীয়তা বজায় রাখা হবে এবং তৃতীয় কোনো পক্ষের কাছে তা প্রকাশ করা হবে না।

চুক্তিটি স্বাক্ষরের দিন থেকে ১০ বছরের জন্য কার্যকর থাকবে। পরবর্তী সময়ে উভয় পক্ষের সম্মতির ভিত্তিতে এর মেয়াদ আরও বাড়ানো যাবে।

বাংলাদেশ ও পাকিস্তান উভয় দেশই আশা প্রকাশ করেছে, এই সহযোগিতার মাধ্যমে মাদক পাচার প্রতিরোধের পাশাপাশি দুই দেশের নাগরিকদের জনস্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ