খুঁজুন
                               
শনিবার, ৯ মে, ২০২৬, ২৬ বৈশাখ, ১৪৩৩
           

দীর্ঘ দিনের চেনা স্টাইলে পরিবর্তন, বিআরটিএ’র ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ক্যাটাগরি মেনে বদলির দৃষ্টান্ত

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৪, ১০:৩৪ অপরাহ্ণ
দীর্ঘ দিনের চেনা স্টাইলে পরিবর্তন, বিআরটিএ’র ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ক্যাটাগরি মেনে বদলির দৃষ্টান্ত

রাইসুল ইসলাম খান, কালের আলো:

সাধারণত সরকারি প্রতিষ্ঠানে বদলি হতে বেশ কিছু প্রভাবক দরকার হয়। এর মধ্যে অন্যতম তদবির, টাকা, ক্ষমতা বা রাজনৈতিক প্রভাব। ঘুষ দিতেও না কী ভালো তদবিরের প্রয়োজন! নয়তো বদলির ফাইল বছরের পর বছর একই জায়গায় পড়ে থাকে, গিট্টু খুলে না। মাসের পর মাস, বছরের পর বছর এমন অনিয়মই যেন নিয়ম! অভিন্ন প্রথায় ঘুরপাক খেয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষও (বিআরটিএ)। তবে এসবের বাইরে গিয়ে এবার নিজের অধস্তন কর্মকর্তাদের বদলির ক্ষেত্রে নতুন এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) চেয়ারম্যান (গ্রেড-১) মো.ইয়াসীন।

বিআরটিএ’র চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণের মাত্র ৯ দিনের মাথায় নিজের প্রতিষ্ঠানের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ক্যাটাগরি মেনে ১৭ কর্মকর্তাকে বদলির মাধ্যমে তিনি দীর্ঘদিনের চেনা স্টাইলে পরিবর্তন এনে ইতিবাচক আলোচনার সূত্রপাত করেছেন। এর মাধ্যমে মূলত বিআরটিএ’র নতুন চেয়ারম্যান গুরুত্বপূর্ণ একাধিক বার্তা দিয়েছেন। প্রথমত, মুখ চিনে অনৈতিক কায়দায় বদলীর বৃত্ত ভেঙেছেন। দ্বিতীয়ত দীর্ঘদিন ঢাকার বাইরে থাকা অবহেলিত-বঞ্চনার শিকার কর্মকর্তাদের মূল্যায়িত করেছেন। স্পষ্টত নিজের প্রতিষ্ঠানটির সিস্টেমের আমূল পরিবর্তন এনেছেন। জানিয়ে দিয়েছেন অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে তাঁর নীতি থাকবে শূন্য সহিষ্ণুতার।

জানা যায়, অতীতে বিআরটিএ চেয়ারম্যানরা নিজেদের খেয়াল-খুশিমতো কর্মকর্তাদের বদলি করেছেন। কিন্তু বর্তমান চেয়ারম্যান (গ্রেড-১) মো.ইয়াসীন এবারের বদলিতে সরকারের বদলি সংক্রান্ত গাইডলাইনকে প্রাধান্য দিয়েছেন। সরকারের জারিকৃত বিধি বিধানকে ঠিকঠাক অনুসরণ করেছেন। সোমবার (১৪ অক্টোবর) বিআরটিএ’র উপপরিচালক (প্রশাসন) রিপন কুমার সাহা সই করা পৃথক দুটি অফিস আদেশে ক্যাটাগরি মেনে একসঙ্গে ১৭ কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়। তাদের দেশের বিভিন্ন বিআরটিএ সার্কেল ও বিভাগীয় অফিসে বদলি করা হয়েছে।

একটি অফিস আদেশে বলা হয়েছে, উপ-পরিচালক মো. রফিকুল ইসলামকে ঢাকা মেট্রো সার্কেল-১ থেকে বিভাগীয় অফিস বরিশালে বদলি করা হয়েছে। আর তৌহিদুল হোসেনকে চট্টগ্রাম মেট্রো সার্কেল-১ থেকে বিভাগীয় ময়মনসিংহে বদলি করা হয়েছে। অপর এক অফিস আদেশে একসঙ্গে ১৫ জন সহকারী পরিচালককে বিভিন্ন বিভাগীয় ও সার্কেল অফিসে বদলি করা হয়। নিয়ম মোতাবেক এমন বদলিতে খুশি বিআরটিএ’র সর্বস্তরের কর্মকর্তারা।

বিআরটিএ’র একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা কালের আলোকে বলেন, বিআরটিএতে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন সার্কেল ও বিভাগীয় অফিসকে ক, খ, গ ও ঘ ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়। বদলির নিয়ম সাধারণত ক্যাটাগরি মেনে করার কথা থাকলে অতীতে কখনও সেটি হয়নি। এত দিন কিছু কর্মকর্তা শুধু ‘ভালো’ জায়গায় পোস্টিং পেয়েছেন। যারা ঢাকায় থাকতেন তাঁরা ঘুরেফিরে হয় চট্টগ্রাম বদলি হতেন অথবা চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় আসতেন। তবে এবার চিরায়ত এই সিস্টেমকে বদলে দিয়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান। এটি বিআরটিএ’র ইতিহাসে একটি উদাহরণ হয়ে থাকবে।

কালের আলো/আরআই/এমএএএমকে

ভোররাতে ছিনতাইকারীর কবলে বরযাত্রীর মাইক্রোবাস, সর্বস্ব লুট

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ৯ মে, ২০২৬, ২:০৫ পূর্বাহ্ণ
ভোররাতে ছিনতাইকারীর কবলে বরযাত্রীর মাইক্রোবাস, সর্বস্ব লুট
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিয়ে বাড়ি থেকে ফেরারপথে ছিনতাইকারীর কবলে পড়েছে বরযাত্রীদের বহনকারী মাইক্রোবাস। এ সময় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে লুট করা হয় নগদ টাকা, অলংকার, গহনাসহ সব। শুক্রবার (৮ মে) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে উপজেলার নূনাছড়া এলাকায় পাশে এ ঘটনা ঘটেভুক্তভোগীদের একজন জনি বণিক (২৯) জানান, একটি বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে তারা মাইক্রোবাসযোগে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে নূনাছড়া এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ বিকট শব্দ শোনা যায়। পরে গাড়িচালক গাড়িটি থামালে তারা কয়েকজন নিচে নেমে মোবাইলের লাইট জ্বালিয়ে গাড়ি থেকে কিছু পড়ে গেছে কি না তা খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন।এ সময় হঠাৎ মহাসড়কের পাশের জমি থেকে ৫ থেকে ৬ জন সশস্ত্র দুর্বৃত্ত বেরিয়ে আসে। তাদের হাতে রামদা, কিরিচ ও ছুরি ছিল। দুর্বৃত্তরা ভয়ভীতি দেখিয়ে গাড়িতে থাকা যাত্রীদের জিম্মি করে ৫টি মোবাইল ফোন, মানিব্যাগে থাকা প্রায় ৩০ হাজার টাকা, নগদ অর্থ এবং স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেয়। তিনি আরও জানান, গাড়ির বাইরে থাকা তিনজনকে ধাওয়া করলে তারা প্রাণ বাঁচাতে দৌড়ে পাশের একটি মসজিদে গিয়ে আশ্রয় নেন। পরে মসজিদের ভেতর থেকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়।ঘটনার পর ভুক্তভোগীরা সীতাকুণ্ড মডেল থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সকালে কুমিরা হাইওয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।এ বিষয়ে কুমিরা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রব্বানী বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

কালের আলো/এসআইপি

বিএনপিই প্রথম শাপলা চত্বরের হত্যাকাণ্ডকে গণহত্যার স্বীকৃতি দিয়েছিল: তথ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৮ মে, ২০২৬, ৯:৩৫ অপরাহ্ণ
বিএনপিই প্রথম শাপলা চত্বরের হত্যাকাণ্ডকে গণহত্যার স্বীকৃতি দিয়েছিল: তথ্যমন্ত্রী

দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিএনপির বিবৃতিতেই সর্বপ্রথম শাপলা ট্র্যাজেডিকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল, বলে দাবি করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

শুক্রবার (৮ মে) রাজধানীর বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনে শাপলা স্মৃতি সংসদ আয়োজিত ‘শাপলার শহীদগাঁথা: স্মরণ ও মূল্যায়ন’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, শাপলা চত্বরের ঘটনার পর বিএনপি সাহসিকতার সঙ্গে এটিকে গণহত্যা হিসেবে তুলে ধরেছিল। তিনি দাবি করেন, বর্তমান সরকার ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তিনি আরও বলেন, বিগত সরকারের সময়ে এ ঘটনার প্রকৃত তথ্য আড়াল করার চেষ্টা করা হয়েছিল। তার অভিযোগ, সে সময় বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয় এবং শাপলা চত্বরের ঘটনার সত্য চাপা দেওয়ার চেষ্টা চলে।

একই অনুষ্ঠানে ১১-দলীয় ঐক্যের নেতারাও বক্তব্য দেন। তারা শাপলা চত্বরের ঘটনাকে ‘ফ্যাসিবাদের নির্মম উদাহরণ’ হিসেবে উল্লেখ করে বিচার দাবি করেন।

অনুষ্ঠানে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, শাপলা চত্বরে অভিযান চালানোর সময় বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে ব্যাপক শক্তি প্রয়োগ করা হয়েছিল। তিনি দাবি করেন, এখন পর্যন্ত তদন্তে ৭২ জনের বেশি মানুষের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে এবং আরও অনেকে নিখোঁজ রয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, ২০১৩ সালের ৫ মে’র ঘটনা এবং ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থান একই রাজনৈতিক ধারাবাহিকতার অংশ, যা কর্তৃত্ববাদবিরোধী আন্দোলনের প্রতিফলন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

মাদক পাচার রোধে ঢাকা-ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক সই

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৮ মে, ২০২৬, ৯:২৯ অপরাহ্ণ
মাদক পাচার রোধে ঢাকা-ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক সই

মাদকদ্রব্য ও সাইকোট্রপিক উপাদানের অবৈধ পাচার এবং অপব্যবহার প্রতিরোধে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছে।

শুক্রবার (৮ মে) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ মহসিন রাজা নাকভি নিজ নিজ দেশের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ফয়সল হাসান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এই সমঝোতা স্মারকের আওতায় দুই দেশ মাদক পাচার, মাদক সংক্রান্ত অর্থ পাচার এবং সংশ্লিষ্ট অপরাধ প্রতিরোধে তথ্য আদান-প্রদান ও কারিগরি সহযোগিতা জোরদার করবে। পাশাপাশি মাদক পাচারে জড়িত সন্দেহভাজন ব্যক্তি, পাচারকারী চক্র এবং নতুন পাচার কৌশল ও রুট সম্পর্কে নিয়মিত গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় করা হবে।

সমঝোতা অনুযায়ী, উভয় দেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো পারস্পরিক অনুরোধের ভিত্তিতে যৌথ গোয়েন্দা কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে। এছাড়া ‘কন্ট্রোলড ডেলিভারি অপারেশন’-এর মতো সমন্বিত অভিযান পরিচালনার বিষয়েও দুই দেশ একমত হয়েছে।

চুক্তিতে মাদক নিয়ন্ত্রণ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ, পুনঃপ্রশিক্ষণ এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণার ফলাফল বিনিময়ের বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। একইসঙ্গে লুকানো মাদক শনাক্তে আধুনিক প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম ও স্নিফার ডগ ব্যবহারের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নিয়মিত ও অপারেশনাল তথ্য বিনিময়ের জন্য বাংলাদেশের পক্ষে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এবং পাকিস্তানের পক্ষে অ্যান্টি নারকোটিকস ফোর্স (এএনএফ) ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে।

এতে আরও উল্লেখ করা হয়, আদান-প্রদানকৃত সব তথ্য ও নথিপত্রের কঠোর গোপনীয়তা বজায় রাখা হবে এবং তৃতীয় কোনো পক্ষের কাছে তা প্রকাশ করা হবে না।

চুক্তিটি স্বাক্ষরের দিন থেকে ১০ বছরের জন্য কার্যকর থাকবে। পরবর্তী সময়ে উভয় পক্ষের সম্মতির ভিত্তিতে এর মেয়াদ আরও বাড়ানো যাবে।

বাংলাদেশ ও পাকিস্তান উভয় দেশই আশা প্রকাশ করেছে, এই সহযোগিতার মাধ্যমে মাদক পাচার প্রতিরোধের পাশাপাশি দুই দেশের নাগরিকদের জনস্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ