খুঁজুন
                               
, ,
           

অসম সাহসে আশা জাগিয়েছেন সেনাপ্রধান, দৃঢ় প্রত্যয় ধৈর্য্য ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর, ২০২৪, ১১:০৭ অপরাহ্ণ
অসম সাহসে আশা জাগিয়েছেন সেনাপ্রধান, দৃঢ় প্রত্যয় ধৈর্য্য ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের

{"remix_data":[],"remix_entry_point":"challenges","source_tags":["local"],"origin":"unknown","total_draw_time":0,"total_draw_actions":0,"layers_used":0,"brushes_used":0,"photos_added":0,"total_editor_actions":{},"tools_used":{},"is_sticker":false,"edited_since_last_sticker_save":false,"containsFTESticker":false}

এম.আব্দুল্লাহ আল মামুন খান, অ্যাকটিং এডিটর:

ছাত্র-জনতার রক্তস্নাত গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর টানা তিনদিন সরকারবিহীন ছিল দেশ। এ সময়ে দেশের সার্বিক দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। ঘোষণা দেন অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের। তিনি সাধারণ ভাষায় অথচ অসাধারণ বুৎপত্তির সঙ্গে সেদিন বলেছিলেন, ‘আপনাদের আমি কথা দিচ্ছি। এখনই আশাহত হবেন না। আপনাদের যত দাবি আছে, তা আমরা পূরণ করব এবং দেশের শান্তিশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনব।’ অভিভাবকহীন দেশে গত ৮ আগস্ট শান্তিতে নোবেলজয়ী ড.মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার শপথ গ্রহণ করে। শুরু হয় নতুন বাংলাদেশের পথচলা। সেই থেকে আজ পর্যন্ত ভবিষ্যতের বাংলাদেশে নতুন দিগন্তের উন্মোচনে নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে অসম সাহসে লড়াই করে আশা জাগিয়েছেন সেনাপ্রধান। তাঁর এই যাত্রাপথ ফুল বিছানো ছিল না মোটেও। অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে চলতে হয়েছে, হচ্ছে তাকে। ইতিহাস যেন তার কাঁধে দিয়েছে অনেক দায় ও দায়িত্ব। গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার এই অগ্রদূত দায়িত্ব পালনেও ক্লান্তিহীন এক যোদ্ধা হিসেবে নিজেকে রূপান্তরিত করেছেন।

স্বল্প সময়ের মধ্যেই জনরোষে জনগণের কাঠগড়ায় স্বেচ্ছায় আত্মগোপনে থাকা পুলিশকে দায়িত্ব পালনে তিনি সক্রিয় করেছেন। ফিরতে শুরু করে পুলিশের হারানো আত্মবিশ্বাস। দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টহল ও তল্লাশির মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজও তাঁর নির্দেশনায় সমানতালে চালিয়ে যাচ্ছে সেনাবাহিনী। পরিচালনা করছে যৌথ অভিযানও। নিয়মিত উদ্ধার করছে অবৈধ অস্ত্র ও মাদক। রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে দেশের প্রতিটি মহানগরী ও জেলা শহরে ক্যাম্প স্থাপন করে মানুষকে সেবা দিচ্ছে তাঁরা। দেশের চরম ক্রান্তিকালে দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করছে দেশের সর্বস্তরের মানুষ। অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান ড.মুহাম্মদ ইউনূসও প্রশংসা করেছেন দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের প্রতীক সেনাবাহিনীর।

দু’দফায় ম্যাজিষ্ট্রেসি ক্ষমতা পাওয়ার পর সেনাবাহিনী বেসামরিক প্রশাসন ও পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে আইনশৃঙ্খলার দিক থেকে সব রকমের নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলা করছে। প্রথম দফা ৬০ দিনের ম্যাজিষ্ট্রেসি ক্ষমতায় ৬ হাজারের বেশি অস্ত্র, ২ লাখ রাউন্ড গোলাবারুদ উদ্ধার করেছে সেনাবাহিনী, গ্রেপ্তার করেছে আড়াই হাজার ব্যক্তিকে। সম্ভাবনাময় গার্মেন্টস শিল্পে বিশৃঙ্খলার অবসান হয়েছে। গত দুই মাসে সাতশর বেশি বিভিন্ন ধরনের ‘বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি’ নিয়ন্ত্রণ করেছে সেনাবাহিনী। এর মধ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সংক্রান্ত ১৪১টি, সরকারি সংস্থা বা অফিস সংক্রান্ত ৮৬টি ও রাজনৈতিক দলের ঘটনা ছিল ৯৮টি।

  • অর্জন করেছেন অগাধ বিশ্বাসযোগ্যতা
  • তাঁর এই যাত্রাপথ ফুল বিছানো ছিল না মোটেও
  • অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে চলতে হয়েছে, হচ্ছে তাকে
  • দেশকে স্থিতিশীল রাখতে প্রতিটি বিষয় সমন্বয়, তদারক ও নেতৃত্ব দিচ্ছেন
  • ফ্রেমওয়ার্ক ধরে সমাধানে পৌঁছার চেষ্টা
  • উজ্জ্বল করেছেন দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি
  • প্রমাণ করেছেন তিনি কথা দিয়ে কথা রাখেন

সূত্র জানায়, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে গভীর দৃষ্টি ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে দেশকে শান্ত ও স্বাভাবিক রাখতে নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। শুধুমাত্র রুটিন কর্মকাণ্ডে নিজেকে ব্যস্ত না রেখে গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ নির্ধারণ করে প্রতিনিয়ত ছুটছেন সুনামগঞ্জ থেকে সুন্দরবন, কুতুবদিয়া থেকে তেতুলিয়া। দেশের চলমান নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর আলোকপাত করে সেনাবাহিনীর কার্যক্রম সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করছেন নিজ বাহিনীর সদস্যদের। দেশকে স্থিতিশীল রাখতে সঠিকভাবে প্রতিটি বিষয় সমন্বয়, তদারক ও নেতৃত্ব দিচ্ছেন। অর্জন করেছেন অগাধ বিশ্বাসযোগ্যতা।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে অর্পিত দায়িত্ব আন্তরিকতার সঙ্গে পালন করায় অবস্থার উন্নতি হচ্ছে বলে মনে করেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানও। মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর) তিনি ৭ পদাতিক ডিভিশন ও বরিশাল এরিয়া পরিদর্শনকালে ৭ পদাতিক ডিভিশন ও বরিশাল এরিয়ায় কর্মরত সকল পদবির সেনাসদস্যদের উদ্দেশ্যে ‘দরবার’ ও সেনা কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে ‘অফিসার্স অ্যাড্রেস’ গ্রহণকালে বস্তুনিষ্ঠ তথ্য-উপাত্ত ও ন্যায়পরায়ণতার সূচকে গুরুত্বপূর্ণ এমন মূল্যায়ন উপস্থাপন করেন। দেশের গণমানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটিয়ে বৈষম্যহীন স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে সর্বাত্মকভাবে অন্তর্বর্তী সরকারের পাশে রয়েছে তাঁর নেতৃত্বে দেশপ্রেমিক বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

সেনাপ্রধান একাধিকবার বলেছেন, কোনভাবেই এই সরকারকে ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না। ফলত এই যাত্রাপথকে সহজ ও নিষ্কন্টক করতে গভীর মমত্ববোধ আর ভালোবাসায় নিজেদের দায়িত্ব পালনে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব বজায় রেখেছে সেনাবাহিনী। প্রতিনিয়ত নিজেদের ধৈর্য্য ও সহিষ্ণুতার পরিচয় দিচ্ছেন প্রতিটি সেনা সদস্য। যেকোন অনভিপ্রেত ও অনাহুত পরিস্থিতিতে নিজেদের সংযত রেখে দৃঢ়তার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন অবিরাম। এ সময়টিতে কোনভাবেই যেন মানবাধিকার লঙ্ঘিত না হয় সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রেখে নিজেদের দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে পুনরায় সাধারণ মানুষের আস্থা-বিশ্বাস অর্জন করেছে।

আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, ৭ পদাতিক ডিভিশন ও বরিশাল এরিয়ায় কর্মরত সকল পদবির সেনাসদস্যদের উদ্দেশ্যে ‘দরবার’ ও সেনা কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে ‘অফিসার্স অ্যাড্রেস’ গ্রহণকালে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান সকল সেনাসদস্যকে দেশের সার্বিক অবস্থা বিবেচনায় ধৈর্য্য ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে অসামরিক প্রশাসন এবং দেশের জনসাধারণকে সর্বাত্মক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার নির্দেশ প্রদান করেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, জনগণের আস্থার প্রতীক হিসেবে রাষ্ট্র প্রদত্ত ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা বিচক্ষণতার সঙ্গে প্রয়োগ করে দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রতিটি সেনা সদস্য অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করবেন। একই সঙ্গে তিনি আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে একবিংশ শতাব্দীর কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সকলকে প্রস্তুত থাকতেও নির্দেশনা প্রদান করেছেন। নবনির্মিত সেনানিবাসের অবকাঠামোগত উন্নয়নের লক্ষ্যে সেনাপ্রধান ৭ পদাতিক ডিভিশনে চলমান বিভিন্ন প্রকল্প পরিদর্শন ও অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করেন ।

  • বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে অর্পিত দায়িত্ব আন্তরিকতার সঙ্গে পালন করায় অবস্থার উন্নতি হচ্ছে
    জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান
    বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান

সূত্র জানায়, সেনাপ্রধান ধারাবাহিকভাবে সেনাবাহিনীর বিভিন্ন পদাতিক ডিভিশন ও এরিয়া পরিদর্শন করছেন। গত রবিবার (১৭ নভেম্বর) ও সোমবার (১৮ নভেম্বর) তিনি কক্সবাজার এরিয়া পরিদর্শন করেন। এর আগে গত সেপ্টেম্বরে ও অক্টোবরে তিনি একে একে সেনাবাহিনীর চট্টগ্রাম এরিয়া ও পাবর্ত্য চট্টগ্রামের রাঙামাটি রিজিয়নের নানিয়ারচর জোন সদর, ৩৩ পদাতিক ডিভিশন ও কুমিল্লা এরিয়া, ১১ পদাতিক ডিভিশন ও বগুড়া এরিয়া এবং ৬৬ পদাতিক ডিভিশন ও রংপুর এরিয়া পরিদর্শন করেন। চলতি মাসেও ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করছেন তিনি। চট্টগ্রামের হালিশহর আর্টিলারী সেন্টার ও স্কুলে সেনাবাহিনীর রেজিমেন্ট অব আর্টিলারির ৪৩তম বাৎসরিক অধিনায়ক সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন। খুলনা সফরকালে স্থানীয় জাহানাবাদ সেনানিবাসস্থ এএসসি সেন্টার এন্ড স্কুলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আর্মি সার্ভিস কোরের (এএসসি) ৪৩তম বাৎসরিক অধিনায়ক সম্মেলনে উপস্থিত থেকেছেন। সেনাপ্রধানের এসব সফরের মধ্যে দিয়ে প্রতিটি সেনাসদস্যের মনোবল বেড়েছে বহুগুণে। মাঝখানে প্রায় ১০ দিন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা সফর করেন তিনি। সফরকালে সেনাপ্রধান জাতিসংঘ সদর দপ্তরে শান্তিরক্ষা মিশনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, যুক্তরাষ্ট্রের সেনাপ্রধানসহ উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা এবং কানাডার উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা ও ব্যক্তিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, গণঅভ্যুত্থানে সারি সারি লাশ আর রক্তস্রোত থামাতে সেনাপ্রধান গভীর দেশপ্রেম ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছিলেন। দেশপ্রেমের সুকঠিন পরীক্ষায় অত্যুজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। সেদিন সেনাপ্রধান অমিত সাহস ও প্রজ্ঞার পরিচয়ে দূরদর্শী ও ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ না করলে ইতিহাস অন্যরকম হতে পারতো। তিনি গত ৫ আগস্ট জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন দেশকে একটি স্থিতিশীল পর্যায়ে নিয়ে আসার। গত সাড়ে ৩ মাস আগে দেওয়া বক্তব্যের আশা জাগানিয়া প্রতিফলন তিনি ইতোমধ্যেই দেশবাসীকে দেখাতে সক্ষম হয়েছেন। তিনি দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছেন। ফ্রেমওয়ার্ক ধরে সমাধানে পৌঁছার চেষ্টা করেছেন। একজন সৈনিক হিসেবেও তিনি নিজের বাহিনীকে পেশাদার রেখেছেন। প্রমাণ করেছেন তিনি কথা দিয়ে কথা রাখেন। সবাই আশাবাদী সামনের দিনগুলোতেও দেশের মানুষের ভালোবাসা ও সংহতিতে একতাবদ্ধ থেকে সেনাপ্রধান সফল হবেন। এরই মধ্যে বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা এবং নতুন রাষ্ট্র গঠনে স্বপ্নের পথকে তিনি মসৃণ করেছেন। এমন ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে সংস্কার অভিমুখে অন্তর্বর্তী সরকারের যাত্রাও সফলতার সোপান স্পর্শ করবে অভিমত বিশ্লেষকদের।

কালের আলো/এমএএএমকে

মামলা করতে বাধা নেই বলেই ধর্ষণের পরিসংখ্যান বেশি দেখাচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬, ৮:৪৫ অপরাহ্ণ
মামলা করতে বাধা নেই বলেই ধর্ষণের পরিসংখ্যান বেশি দেখাচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বিগত ১০-১৫ বছরের তুলনায় দেশে খুন, ডাকাতিসহ সার্বিক অপরাধ কমলেও মামলা করতে কোনো সামাজিক বা রাজনৈতিক বাধা না থাকায় এখন ধর্ষণের পরিসংখ্যান বেশি দেখাচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বাজেট বরাদ্দ এবং এর ওপর আনা ছাঁটাই প্রস্তাবের আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।

এর আগে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা ছাঁটাই প্রস্তাব নিয়ে বক্তব্য দেন। তিনি গণমাধ্যমের খবর উদ্ধৃত করে গত এপ্রিল ও মার্চ মাসের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির পরিসংখ্যান তুলে ধরেন।

রুমিন ফারহানা বলেন, ‘পুরো বাজেটের সবটাই যদি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দেওয়া হয় বা এই মন্ত্রণালয়ে বরাদ্দ দেওয়া হয়, তারপরও কতটুকু উন্নয়ন হবে, তা আমরা জানি না। তারপরও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যখন বক্তব্য দেন সারা দেশ মুগ্ধ হয়ে শোনে। আমি একজন আইনের শিক্ষার্থী, আমিও উনার ডিবেট মুগ্ধ হয়ে শুনি। কিন্তু উনার এই মুগ্ধতা যদি উনি উনার মন্ত্রণালয়ে ছড়িয়ে দিতে পারতেন এবং তার মন্ত্রণালয়ের কাজের মাধ্যমে, তাহলে এটি ছাঁটাই করার… প্রস্তাব আমি রাখতাম না।’

জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এর আগেও তিনি সংসদে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির বিষয়টি ডেটাসহ তুলে ধরেছেন। খুনের চিত্র, ধর্ষণের চিত্র, নারী ও শিশু নির্যাতনের চিত্র, ডাকাতির সংখ্যা মাসওয়ারী দিয়েছিলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সরকার দায়িত্বে আসার পর থেকে এই পর্যন্ত সমস্ত ডেটায় আমরা ঐতিহাসিকভাবে এগিয়ে আছি, উন্নত আছি।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ধর্ষণের কেস রেকর্ডের ক্ষেত্রে আমরা একটু বেশি ধর্ষণের চিত্র পেয়েছি। তার একটা কারণ আছে, আগে ধর্ষণের শিকার ব্যক্তিরা রেকর্ড করতে থানায় যেতেন না বা যেতে পারতেন না, সামাজিক বা রাজনৈতিক বিভিন্ন হস্তক্ষেপের কারণে। এখন থানায় গেলেই অথবা অনলাইনে জিডিসহ অন্যান্য কিছু দায়ের করতে পারেন। এফআইআর দাখিল করতে পারেন। এখানে কোনো ইন্টারফেয়ারেন্স নেই। যার কারণে সংখ্যাটা একটু বেড়েছে।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তবে সুখের কথা হলো, ধর্ষণ যেখানেই হোক, শিশু হোক, নারী হোক, যে অবস্থাতে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ বিভাগ গ্রেপ্তারসহ চার্জশিট প্রদানের জন্য এবং মামলায় সহযোগিতা করার জন্য সাক্ষী উপস্থাপনসহ ট্রায়েলের সমস্ত ক্ষেত্রে একটা বৈপ্লবিক পরিবর্তন দেখা গেছে।

তিনি বলেন, পল্লবী শিশু হত্যার বিচার হয়েছে ১৫ থেকে ১৭ দিনের মধ্যে। এটা বাংলাদেশের রেকর্ড। তনু হত্যার আসামিদের ডিএনএ প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে গ্রেপ্তার করা সক্ষম। বাকিগুলোও হবে।’

সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, পুলিশ দলীয় পরিচয় দেখে কাউকে গ্রেপ্তার করে না; অপরাধীকে অপরাধী হিসেবেই চিহ্নিত করে। বিরোধী দলের কোনো নেতা-কর্মী অপরাধে জড়িত থাকলে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলও দ্রুত সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিচ্ছে, যা তিনি ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে কোনো রাজনৈতিক পরিচয়কে আমরা কখনও প্রাধান্য দেব না। দেশের শান্তি, উন্নয়ন, অগ্রগতি ও স্থিতিশীলতার জন্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো থাকা দরকার।

মন্ত্রী বলেন, গ্রাম পুলিশ থেকে শুরু করে আইজিপি পর্যন্ত সবাই কাজ করে। কিন্তু জনগণের প্রত্যক্ষ সহযোগিতা ছাড়া কোনো দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন হয় না। এ সময় সামাজিক সচেতনতা বাড়াতে রাজনৈতিক দলগুলোকেও ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।

মাদক ও জুয়া নিয়ন্ত্রণে সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে স্বয়ংসম্পূর্ণ বিভাগ হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। সেখানে ডগ স্কোয়াড, অস্ত্র ও আধুনিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি দেশের প্রতিটি জেলায় মাদক পরীক্ষাগার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, অনলাইন ও অফলাইন জুয়া এবং সাইবার স্পেসে সংঘটিত অপরাধ মোকাবিলায় আধুনিক প্রযুক্তি ও দক্ষ জনবল গড়ে তোলা হচ্ছে। ১৮৬৭ সালের পুরোনো জুয়া আইনের পরিবর্তে আধুনিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ আইন প্রয়োগের মাধ্যমে জুয়া ও বেটিং নিয়ন্ত্রণ করা হবে বলেও জানান তিনি।

কালের আলো/এসএকে

ডিএনসিসির ১০৪ কিলোমিটার খাল উদ্ধার করা হবে: প্রশাসক

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬, ৭:৪৮ অপরাহ্ণ
ডিএনসিসির ১০৪ কিলোমিটার খাল উদ্ধার করা হবে: প্রশাসক

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকার ১০৪ কিলোমিটার খাল উদ্ধার করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান।

‎মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাজধানীর মিরপুরের বাইশটেকী এলাকায় কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের তিনি একথা জানান।

‎শফিকুল ইসলাম বলেন, নগরীর অধিকাংশ খাল দখল হওয়ায় ভরাট হয়ে আছে, যা খনন করে জলাবদ্ধতা দূর করা হবে।

‎তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী (তারেক রহমান) সারা দেশে খাল খনন করছেন, ঢাকা শহরের খালও আমরা খনন করবো। ১০৪ কিলোমিটার খাল উদ্ধার করা হবে, যা বাইশটেকী দিয়ে শুরু হবে।

‎এসময় বিগত ১৭ বছর যত্রতত্র উন্নয়নের নামে অর্থ ব্যয় করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন ডিএনসিসি প্রশাসক। যত্রতত্র এসব উন্নয়নে ডিএনসিসির ফান্ড সংকট তৈরি হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

‎প্রশাসক আরও বলেন, ডিএনসিসির উন্নয়ন কর্মকাণ্ড চলমান আছে। তবে জনগণের সহযোগিতা দরকার।

‎এসময় মিরপুরের পানির সমস্যা সমাধানে বেশ কয়েকটি পানির পাম্প নির্মাণ কাজ কয়েকদিনের মধ্যে শুরু হবে বলে জানান তিনি।

‎শফিকুল ইসলাম বলেন, পানির সমস্যা এক দিনে হয়নি। তবে আগামী ৩ থেকে ৪ দিনের মধ্যে পানির পাম্প নির্মাণ কাজ শুরু হবে।

কালের আলো/এসআর/এএএন

সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের জামিন, মুক্তিতে বাধা নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬, ৭:৩৭ অপরাহ্ণ
সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের জামিন, মুক্তিতে বাধা নেই

জুলাই হত্যা মামলায় জামিন পেলেন সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক। ফলে তার কারামুক্তিতে আর কোনো বাধা রইল না।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) মামলার শুনানি শেষে বিচারপতি কেএম জাহিদ সরওয়ার কাজল ও শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ খায়রুল হকের জামিনের আদেশ দেন।

আদালতে জামিন আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী, মোতাহার হোসেন সাজু ও সাঈদ আহমেদ রাজা।

পরে আইনজীবী মোতাহার হোসেন সাজু বলেন, খায়রুল হকের বিরুদ্ধে মোট আটটি মামলা হয়েছে। তবে আজকের মামলায় জামিন হওয়ায় তার কারামুক্তিতে আর কোনো বাধা নেই।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সকালে যাত্রাবাড়ী এলাকায় আন্দোলন চলাকালে পুলিশ ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের গুলিতে খোবাইব (২০) নামে এক যুবক নিহত হন।

এ ঘটনায় তার ভাই জোবায়ের আহম্মেদ ২০২৪ সালের ১৬ নভেম্বর যাত্রাবাড়ী থানায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৮০ জনকে আসামি করে মামলা করেন। খায়রুল হক মামলাটির একজন এজাহারভুক্ত আসামি।

এর আগে এ মামলায় গত ২১ জুন সাবেক এ প্রধান বিচারপতির জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন বিচারিক আদালত। পরে তিনি হাইকোর্টে আবেদন করেন। জামিনও পেলেন।

২০২৪ সালের ২৪ জুলাই সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হককে তার বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর থেকে তিনি বিভিন্ন মামলায় কারাগারে রয়েছেন। অবশেষে তার মুক্তির দুয়ার খুলল।

কালের আলো/এসআর/এএএন