খুঁজুন
                               
, ,
           

নতুন ৩৯৯ বিমানসেনা পেলো বিমান বাহিনী, বুদ্ধিমত্তার বিকাশ ও মানবিক গুণাবলীর চর্চার সদা যত্নবান হতে গুরুত্ব বিমান বাহিনী প্রধানের

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০২৪, ১১:১০ অপরাহ্ণ
নতুন ৩৯৯ বিমানসেনা পেলো বিমান বাহিনী, বুদ্ধিমত্তার বিকাশ ও মানবিক গুণাবলীর চর্চার সদা যত্নবান হতে গুরুত্ব বিমান বাহিনী প্রধানের

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:

দীর্ঘ ৯ মাসের কঠোর সামরিক প্রশিক্ষণ শেষে তাঁরা এখন বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর গর্বিত বিমান সেনা। দৃষ্টিনন্দন ও মনোমুগ্ধকর কুচকাওয়াজে দেশের জন্য জীবন উৎসর্গ করার দৃপ্ত শপথ। বাদ্যের তালে তালে বৃহস্পতিবার (০৫ ডিসেম্বর) মৌলভীবাজারের বাবিবা স্টেশন শমশেরনগরের রিক্রুটস্ ট্রেনিং স্কুলে (আরটিএস) সমাপনী কুচকাওয়াজের এগিয়ে চলে নবীন অকুতোভয় ৩৯৯ বিমানসেনা। বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর ৫২তম নব বিমানসেনা দলের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে পরিদর্শন এবং আকর্ষণীয় মার্চ পাস্ট-এর অভিবাদন গ্রহণ করেন বাংলাদেশ বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন। অনিন্দ্য সুন্দর ও স্মরণীয় এই দিনটিতে নতুন বিমানসেনাদের সম্ভাবনাময় নতুন জীবনে পদার্পণে অভিনন্দন জানান। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, কঠোর পরিশ্রম, মেধা ও দৃঢ় মনোবদলের বদৌলতে একদিন তাঁরা দক্ষ বিমানসেনায় পরিণত হবে। নবযাত্রার এই মাহেন্দ্রক্ষণে বিমান বাহিনী প্রধান পেশাগত দক্ষতার পাশাপাশি বুদ্ধিমত্তার বিকাশ ও মানবিক গুণাবলীর চর্চার সদা যত্নবান হতে গুরুত্বারোপ করেন।

  • জাতির সূর্য সন্তান শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা
  • কঠোর পরিশ্রম ও দৃঢ় মনোবলের কারণেই সফলভাবে প্রশিক্ষণ সমাপ্ত
  • একটি স্বনির্ভর, শক্তিশালী ও গৌরবোজ্জ্বল বিমান বাহিনী হিসেবে আত্মপ্রকাশ
  • বিমান বাহিনীতে প্রথমবারের মতো অনারারি কমিশন প্রবর্তন

দেশের আকাশ মুক্ত রাখার পাশাপাশি আন্তর্জাতিকভাবে নানা ধরনের সেবামূলক কাজ করার কথা জানান তিনি। বলেন, ‘বাংলার আকাশ রাখিবো মুক্ত’ এই মূলমন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী কাজ করলেও বাংলাদেশ বিমান বাহিনী দেশের আকাশসীমার প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দুর্যোগ মোকাবিলা, অগ্নিনির্বাপণ, উদ্ধার অভিযান, ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ, সেনা ও নৌবাহিনী এবং অসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে দেশ গঠন ও আর্তমানবতার সেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। দেশের আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরসমূহের সকল ফ্লাইটে নির্বিঘ্নে উঠা-নামাসহ নিরাপত্তা পরিবেশ ও সার্বিক কার্যক্রম স্থিতিশীল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। তাদের অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে বদলে গেছে দেশের প্রতিটি বিমানবন্দরের সেবা কার্যক্রমের দৃশ্যপট।’

আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, বাংলাদেশ বিমান বাহিনী প্রধান কৃতি রিক্রুটদের মাঝে ট্রফি বিতরণ করেন। এই কুচকাওয়াজের মধ্য দিয়ে মোট ৩৯৯ জন রিক্রুট বাংলাদেশ বিমান বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছেন ৩৭৮ জন পুরুষ এবং ২১ জন নারী। এসি-২ মো. মিজানুর রহমান ও এসি-২ মো. সুমন মিয়া শিক্ষা ও জেনারেল সার্ভিস ট্রেনিং এ সেরা রিক্রুট বিবেচিত হন। এসি-২ মেহেদী হাসান শুভ সার্বিক বিষয়ে কৃতিত্বের জন্য শ্রেষ্ঠ রিক্রুট বিবেচিত হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। এর আগে বিমান বাহিনী প্রধান প্যারেড গ্রাউন্ডে এসে পৌছালে বিমান বাহিনী ঘাঁটি কুর্মিটোলা এর এয়ার অধিনায়ক এয়ার কমডোর মোঃ মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক, বাবিবা স্টেশন শমশেরনগর এর স্টেশন কমান্ডার এয়ার কমডোর মোহাম্মদ মুশতাকুর রহমান ও রিক্রুটস ট্রেনিং স্কুলের অধিনায়ক গ্রুপ ক্যাপ্টেন মোঃ খায়রুল বাসার তাকে স্বাগত জানান।

জাতির সূর্য সন্তান শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা
বাংলাদেশ বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন বক্তব্যের শুরুতেই বিনম্র চিত্তে স্মরণ করেন জাতির সূর্য সন্তান শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের, যারা দেশ মাতৃকার জন্য অকাতরে প্রাণ উৎসর্গ করেছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধারা আমাদের দিয়ে গেছেন লাল-সবুজের পতাকা ও একটি স্বাধীন ভূখণ্ড। আমি আরও স্মরণ করছি কিলো ফ্লাইটের অকুতোভয় সদস্যদের, যাদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি আমাদের প্রিয় বিমান বাহিনী। আমি বিশেষভাবে স্মরণ করছি, গত জুলাই-আগস্ট মাসে বৈষম্য দূরীকরণ ও সর্বস্তরে সাম্য ফিরিয়ে আনতে প্রাণ হারানো সকল শহীদ ছাত্র ও অন্যান্য সাধারণ ব্যক্তিবর্গকে। আমি আন্দোলনে নিহতদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত ও আহতদের সকলের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি।’

বিমান বাহিনীর রিক্রুটস ট্রেনিং স্কুল (আরটিএস) একটি আদর্শ ও সুশৃঙ্খল প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান উল্লেখ করে বিমান বাহিনী প্রধান বলেন, ‘এখানে সামরিক প্রশিক্ষণের পাশাপাশি রিক্রুটসরা খেলাধূলা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চাসহ বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সুযোগ পায়, যা তাদের মধ্যে দেশপ্রেমের চেতনা আরও গভীরভাবে গেঁথে দেয়। নবীনদের আদর্শবাদী, দেশপ্রেমিক ও যোগ্য বিমান সেনা হিসেবে গড়ে তুলতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। আজকের মনোজ্ঞ পরিবেশে, সুন্দর আবহাওয়াতে তোমাদের প্যারেড আমাদের মুগ্ধ করেছে। তোমাদের প্যারেডের মান অত্যন্ত উন্নত ও দর্শনীয়। এজন্য তোমাদের আবারও অভিনন্দন জানাই।’

কঠোর পরিশ্রম ও দৃঢ় মনোবলের কারণেই সফলভাবে প্রশিক্ষণ সমাপ্ত
‘বিমান বাহিনীতে যোগদান করে দীর্ঘ ৯ মাসের সামরিক প্রশিক্ষণ শেষে আজ তোমরা পদার্পণ করতে যাচ্ছো সম্ভাবনাময় এক নতুন জীবনে। নি:সন্দেহে এই দিনটি তোমাদের জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকবে’-বলে মন্তব্য করেন তিনি। বিমান বাহিনী প্রধান বলেন, ‘আজ থেকে তোমরা ‘বাংলার আকাশ রাখিবো মুক্ত’ এই দৃপ্ত শপথে বলীয়ান বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর গর্বিত একজন বিমান সৈনিক। তোমাদের কঠোর পরিশ্রম ও দৃঢ় মনোবলের কারণে আজ তোমরা সফলভাবে প্রশিক্ষণ সমাপ্ত করতে সক্ষম হয়েছো। তোমাদের কঠোর পরিশ্রম, মেধা ও দৃঢ় মনোবদলের বদৌলতে একদিন তোমরা দক্ষ বিমান সেনায় পরিণত হবে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস। এই রিক্রুটস ট্রেনিং স্কুল থেকে তোমরা যে সামরিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছো তা যথাযথ অনুশীলন ও প্রয়োগের জন্য সদা সচেষ্ট থাকবে এবং প্রতিষ্ঠানের সুনাম অক্ষুণ্ন রাখবে বলে আমি আশাবাদী।’

সমন্বিত প্রচেষ্টায় বিমান বাহিনী আরও আধুনিক হবে
এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন বলেন, ‘একটি সুশৃঙ্খল বাহিনী হিসেবে বিমান বাহিনীর প্রতিটি ভালো কাজের জন্য যেমন রয়েছে প্রশংসা ও পুরস্কার তেমনি মন্দ কাজের জন্য রয়েছে পুরস্কার ও শাস্তি। সহজলভ্য তথ্য প্রযুক্তি ও আকাশ সংস্কৃতির এই যুগে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের বিষয়ে তোমাদেরকে সতর্ক থাকতে হবে। নীতি বিবর্জিত সকল কর্মকাণ্ড ও বিশেষ করে মাদকদ্রব্য ব্যবহার হতে সম্পূর্ণ মুক্ত থাকতে হবে। পেশাগত দক্ষতার পাশাপাশি বুদ্ধিমত্তার বিকাশ ও মানবিক গুণাবলীর চর্চার সদা যত্নবান থাকবে। নিজের পাশাপাশি মাতা-পিতার প্রতি যত্নশীল হবে। আজ থেকে শুরু হলো তোমাদের নবযাত্রা। তোমাদের সকলের সমন্বিত প্রচেষ্টায় বিমান বাহিনী আরও আধুনিক হবে এবং বিমান বাহিনীর সুনাম ও গৌরব উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাবে এটিই আমার বিশ্বাস।’

একটি স্বনির্ভর, শক্তিশালী ও গৌরবোজ্জ্বল বিমান বাহিনী হিসেবে আত্মপ্রকাশ
রক্তক্ষয়ী মহান মুক্তিযুদ্ধের উত্তাল দিনগুলোতে সীমিত সক্ষমতা ও জনবল এবং তিনটি জরাজীর্ণ বিমান নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল কিলো ফ্লাইট। কিলো ফ্লাইট বর্তমানে একটি স্বনির্ভর, শক্তিশালী ও গৌরবোজ্জ্বল বিমান বাহিনী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে বলে মনে করেন বিমান বাহিনী প্রধান। তিনি বলেন, ‘বিমান বাহিনীর আকাশসীমা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যেকোন সময়ের চেয়ে বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একটি অত্যাধুনিক, শক্তিশালী ও পেশাদার বিমান বাহিনীর গুরুত্ব অপরিসীম। এই লক্ষ্যে ইতোমধ্যেই বিমান বাহিনীতে সংযোজিত হয়েছে চতুর্থ প্রজন্মের আধুনিক যুদ্ধ বিমান, সুপরিসর পরিবহন বিমান, সামরিক সক্ষমতা সম্পন্ন আর্মড হেলিকপ্টার, উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন আকাশ প্রতিরক্ষা র‌্যাডার, ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপণযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ও যুগোপযোগী সামরিক সরঞ্জাম। বিমান বাহিনীর ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রশিক্ষণের উৎকর্ষ আনয়নের লক্ষ্যে অত্যাধুনিক কমব্যাট ট্রেইনার, জেট ট্রেইনার, হেলিকপ্টার ট্রেইনার, বেসিক ট্রেইনারসহ বিভিন্ন ধরনের সিমুলেটর। প্রযুক্তিগত উন্নয়নের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার জন্য একটি দক্ষ জনশক্তির যোগান দিতে নির্মাণ করা হয়েছে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন এয়ারম্যান ট্রেনিং ইন্সটিটিউট (এটিআই)।

অত্যাধুনিক এই প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান আধুনিক ও অধিক সংখ্যক বিমানসেনাকে শুধু প্রশিক্ষণ প্রদান নয়, প্রত্যেক প্রশিক্ষণার্থীকে জ্ঞান নির্ভর বিমান সেনা তৈরি করতে সক্ষম হবে বলে আমি আশাবাদী। অতি সম্প্রতি বাংলাদেশ বিমান বাহিনী নিজস্ব জনবল, প্রযুক্তি ও কারিগরি দক্ষতা ব্যবহার করে এফসেভেন যুদ্ধ বিমান আমরা নিজেরাই তৈরি করতে সক্ষম হয়েছি। বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সদস্যগণ তাদের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে প্রথমবারের মতো বেসিক ট্রেইনার বিমান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে, যা বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর উদ্ভাবন ও কারিগরি সক্ষমতার পরিচয় বহন করে। ভবিষ্যতে বিমান বাহিনী স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের পাশাপাশি একটি কার্যকর, দক্ষ ও আধুনিক বাহিনী হিসেবে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সর্বোচ্চ অবদান রাখতে সক্ষম হবে ইনশাআল্লাহ।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ বিমান বাহিনী একটি প্রযুক্তিনির্ভর, পেশাদার, দক্ষ ও সুশৃঙ্খল বাহিনী। বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর অপারেশনাল কার্যক্রম দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়েছে।’

বিমান বাহিনীতে প্রথমবারের মতো অনারারি কমিশন প্রবর্তন
আনন্দের সঙ্গে বিমান বাহিনী প্রধান বলেন, ‘মহান বিজয় দিবসে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীতে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ বিমান বাহিনীতে অনারারি কমিশন প্রবর্তন করা হচ্ছে। এর ফলে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীতে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। যা বিমান সেনাদের পেশাদারিত্বকে সমৃদ্ধশালী করতে উৎসাহিত প্রদান করবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’

কালের আলো/এমএএএমকে

বিগত ছয় মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ৪:৪৩ অপরাহ্ণ
বিগত ছয় মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বিগত ছয় মাস বা ১৮০ দিনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে ‘বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে-কমিশন, ২০২৫’-এর প্রতিবেদন সংক্রান্ত সুপারিশ প্রণয়ন কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এ কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

মন্ত্রী বলেন, আইনশৃঙ্খলা নিয়ে সন্তুষ্টির বিষয়টি দেশের জনগণই মূল্যায়ন করবে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে নিশ্চিতভাবে বলা যায়, বিগত ছয় মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে। জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী এটিকে আরও সুসংহত করতে কিছুটা সময় প্রয়োজন।

তিনি বলেন, আমাদের এখন মাত্র ৬ মাস পার হলো। এর মধ্যে আমরা অনেক সংস্কার কাজ করেছি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন প্রশংসনীয় উদ্যোগ আপনারা দেখেছেন। বিগত ১৮০ দিনে সরকারের নেওয়া ও বাস্তবায়িত বিভিন্ন উদ্যোগ ও কর্মসূচি জনগণের কাছে প্রশংসিত হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত রূপরেখার আলোকেই প্রথম ১৮০ দিনে একাধিক প্রশংসনীয় উদ্যোগ ও জনকল্যাণমুখী কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে সরকার একের পর এক বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ সংকটের মুখোমুখি হলেও তা অত্যন্ত দক্ষতা ও সফলতার সঙ্গে মোকাবিলা করেছে।

তিনি আরো বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট বৈশ্বিক জ্বালানি ও গ্যাস সংকটের ধাক্কা বিশ্বব্যাপী অনুভূত হলেও সরকার তাৎক্ষণিকভাবে দেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায়নি। বোরো মৌসুমে কৃষকদের স্বার্থ সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার প্রায় এক মাস পর্যন্ত মূল্য বৃদ্ধি স্থগিত রাখে এবং পরে সহনীয় মাত্রায় সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেয়। অথচ ওই সময়ে বিশ্ববাজারসহ প্রতিবেশী দেশগুলোতে জ্বালানির দাম প্রায় দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়েছিল।

বিগত সরকারের রেখে যাওয়া দীর্ঘদিনের গ্যাস ও জ্বালানি সংকট রাতারাতি সমাধান করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার টেকসই ও সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার মাধ্যমে এ সংকট উত্তরণে কাজ করছে। বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে আকৃষ্ট করা, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ও উৎপাদন অব্যাহত রাখতে প্রাথমিক জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা আবশ্যক। এ লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর পরিদর্শন শেষে সেখানে একটি পূর্ণাঙ্গ স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, বিদ্যমান সামিট এবং এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান টার্মিনালে প্রায়শই যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় গ্যাস সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার সমস্যা নিরসনে একাধিক এফএসআরইউ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার স্থান নির্বাচনে বর্তমানে জরিপ কাজ চলমান রয়েছে।

তিনি বলেন, আমদানি নির্ভরতা হ্রাস করতে দেশের অভ্যন্তরে এবং অফশোর ও অনশোরে নতুন গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু হয়েছে, যার ফলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে এ সমস্যার টেকসই সমাধান অর্জিত হবে।

সামাজিক নিরাপত্তা ও জনকল্যাণমূলক পদক্ষেপের বিবরণ দিয়ে মন্ত্রী জানান, প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত অনুমোদিত ও বাস্তবায়িত হয়েছে। এর পাশাপাশি সরকারের পক্ষ থেকে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড প্রদান করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, বিভিন্ন ধর্মের ধর্মীয় কর্মকর্তা এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনদের মাসিক সম্মানী দেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও দেশের ক্রীড়াবিদ ও সংস্কৃতিবিদদের সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদানসহ একাধিক কল্যাণমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সংক্রান্ত জাতীয় প্রকিউরমেন্ট কমিটির প্রধান হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সরকারের সঠিক নীতি ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্তের ফলে দেশে খাদ্যের একটি মজবুত ও নিরাপদ মজুত গড়ে তোলা সম্ভব হয়েছে। এছাড়া সরকারের ১৮০ দিনে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অর্জিত সামগ্রিক অগ্রগতির সমন্বিত বিবরণী শিগগিরই প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং অথবা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়/দপ্তর থেকে গণমাধ্যমের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে।

কালের আলো/এম/এএইচ

প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার সাথে কানাডার হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ৪:৩৬ অপরাহ্ণ
প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার সাথে কানাডার হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ

প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম সাথে বাংলাদেশে নিযুক্ত কানাডার হাইকমিশনার অজিত সিং এর সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (১৭ আগস্ট ) ঢাকা সেনানিবাসস্থ সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। আইএসপিআর এক বার্তা বিষয়টি গণমাধ্যমকে অবগত করার জন্য

​সাক্ষাৎকালে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা এবং কানাডার হাইকমিশনার পারস্পরিক কুশলাদি বিনিময় করেন এবং বাংলাদেশ ও কানাডার মধ্যকার বিদ্যমান দীর্ঘদিনের সৌহার্দ্যপূর্ণ ও চমৎকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের কথা স্মরণ করেন। সৌহার্দ্যপূর্ণ এই আলোচনায় বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর সার্বিক আধুনিকায়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে কানাডার সম্ভাব্য সহযোগিতার ক্ষেত্রসমূহ নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় হয়।

​আলোচনায় সামরিক প্রযুক্তি আদান-প্রদান, কৌশলগত প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, যৌথ প্রশিক্ষণ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে উভয় পক্ষ ইতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করেন। এছাড়া, দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান প্রতিরক্ষা ও কূটনৈতিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় উন্নীত করার বিষয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে উভয়ে আশা প্রকাশ করেন দ্বিপক্ষীয় উদ্যোগের মাধ্যমে আগামী দিনগুলোতে বাংলাদেশ ও কানাডার মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদার ও সুসংহত হবে।

কালের আলো/এম/এএইচ

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ৭ আসামির রায় অপেক্ষমাণ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ৪:০৪ অপরাহ্ণ
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ৭ আসামির রায় অপেক্ষমাণ

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও তৎকালীন সড়ক পরিবহনমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির পক্ষে-বিপক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়েছে। শুনানি শেষে মামলাটির রায় অপেক্ষমাণ রেখেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। ফলে যেকোনো দিন এ মামলার রায় ঘোষণা হতে পারে।

সোমবার (১৭ আগস্ট) মামলার শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল এ সিদ্ধান্ত দেন। মামলায় রাষ্ট্রনিযুক্ত আসামিপক্ষের আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এম হাসান ইমাম ও ইশরাত জাহান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও গাজী এম এইচ তামিম।

এর আগে গত বুধবার রাষ্ট্রপক্ষ তাদের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করে। শুনানিতে প্রসিকিউশন আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানায়। পাশাপাশি আসামিদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার আদেশও চাওয়া হয়।

মামলার সাত আসামির মধ্যে রয়েছেন—ওবায়দুল কাদের, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।

রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ ও আসামিপক্ষের বক্তব্যসহ মামলার বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা শেষে এখন ট্রাইব্যুনালের রায়ের অপেক্ষা। রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ না হওয়ায় যেকোনো দিন তা প্রকাশ হতে পারে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি