খুঁজুন
                               
, ,
           

দেশজুড়ে বৃষ্টির প্রবণতা, কোথাও কোথাও ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ১:১৮ অপরাহ্ণ
দেশজুড়ে বৃষ্টির প্রবণতা, কোথাও কোথাও ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস

সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আগামী পাঁচদিন বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এ সময় অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনাও রয়েছে।

বুধবার (২৬ আগস্ট) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, ২৬ আগস্ট রংপুর, ময়মনসিংহ, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা ও খুলনা বিভাগের কিছু এলাকায় বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণ হতে পারে। এদিন সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।

২৭ ও ২৮ আগস্ট রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং অন্যান্য বিভাগের কিছু এলাকায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ২৯ ও ৩০ আগস্ট দেশের আট বিভাগের অনেক জায়গায় বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এ সময় কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে।

২৯ আগস্ট সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। ৩০ আগস্ট তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েকদিন দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টির পাশাপাশি অস্থায়ী দমকা হাওয়া ও বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় জনসাধারণকে প্রয়োজন অনুযায়ী সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

হামের উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু, মোট ৯৫০

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৩৩ অপরাহ্ণ
হামের উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু, মোট ৯৫০

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ১৭১টি শিশু।

বুধবার (২৬ আগস্ট) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম-বিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি।

এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে মোট ৮৫১টি শিশুর। আর হামে আক্রান্ত হয়ে আরও ৯৯টি শিশু প্রাণ হারিয়েছে। অর্থাৎ হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এই সময়ে মোট ৯৫০টি শিশু মারা গেছে।

এছাড়া, ২৪ ঘণ্টায় ৭৩টি শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে, আর হামের উপসর্গজনিত রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ৯৮। এই সময়ে ১ হাজার ১৯টি শিশু নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, আর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ৯৫৪টি শিশু।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৫২ হাজার ৭৩৬, আর নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১৮ হাজার ৬৫১। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ১ লাখ ৩৩ হাজার ৫৭৩ রোগী, যাদের মধ্যে ১ লাখ ২৮ হাজার ৭৬৫ জন ছাড়পত্র পেয়ে ইতোমধ্যে বাড়ি ফিরেছে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

হরমুজ প্রণালী চালুর আলোচনা, কমেছে তেলের দাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ৩:২৭ অপরাহ্ণ
হরমুজ প্রণালী চালুর আলোচনা, কমেছে তেলের দাম

হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম প্রায় ২ শতাংশ কমেছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ পরিচালনা নিয়ে ইরান ও প্রতিবেশী ওমানের মধ্যে আলোচনা আবারও শুরু হয়েছে—তেহরানের এমন ঘোষণার পর বুধবার (২৬ আগস্ট) জ্বালানি তেলের বাজারে দরপতন দেখা যায়।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচার্সের দাম ব্যারেলপ্রতি ১.৭৮ ডলার বা ২ শতাংশ কমে ৮৬.৮০ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুড ফিউচার্সের দাম ১.৪৯ ডলার বা ১.৮ শতাংশ কমে ৮০.৮৭ ডলারে দাঁড়ায়।

এর আগে মঙ্গলবারও উভয় বেঞ্চমার্কের তেলের দাম ৩ শতাংশের বেশি কমেছিল। ফলে টানা দুই দিনের দরপতনে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম নিয়ে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

ফুজিটমি সিকিউরিটিজের বিশ্লেষক মিতসুরু মুরাইশির মতে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল নিয়ে পরিস্থিতি এখনো তেলের বাজারের অন্যতম প্রধান নিয়ামক। ইরান ও ওমানের মধ্যে আলোচনা এগিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আশাবাদ তৈরি হয়েছে এবং তেলের বিক্রির চাপ বেড়েছে।

তবে ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনো পুরোপুরি কাটেনি। এ কারণে তেলের দাম একটানা বড় ধরনের পতনের বদলে একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে ওঠানামা করতে পারে বলেও মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ইরানের ওপর মার্কিন অর্থনৈতিক চাপ বাড়তে থাকার মধ্যেই হরমুজ প্রণালী পরিচালনার বিষয়ে ওমানের সঙ্গে আলোচনা পুনরায় শুরু করেছে তেহরান। ফলে বাজারে ধারণা তৈরি হয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রে হয়তো একটি সমঝোতার পথ তৈরি হতে পারে।

হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। যুদ্ধ শুরুর আগে এই নৌপথ দিয়ে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন করা হতো।

ইরান ও ওমান গত কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রণালীর পরিচালনা ও জাহাজ চলাচল নিয়ে দফায় দফায় আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। মঙ্গলবার দুই দেশ জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীর মধ্য দিয়ে একটি ‘যৌথ অস্থায়ী নেভিগেশনাল করিডোর’ চালুর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। একই সঙ্গে ওই করিডোর মাইনমুক্ত করার বিষয়েও তারা সম্মত হয়েছে।

এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে হরমুজ প্রণালীর মধ্য দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে কিছুটা স্বাভাবিকতা ফিরতে পারে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগও কমতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি কূটনৈতিক মিশনে আবারও কর্মী পাঠাতে শুরু করেছে। সংঘাতের আশঙ্কায় আগে যেসব মিশন থেকে কর্মী সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল বা কর্মীসংখ্যা কমানো হয়েছিল, সেগুলোতে ধীরে ধীরে জনবল ফিরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

এই পদক্ষেপকে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে স্বল্প মেয়াদে ইরানের সঙ্গে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার ঝুঁকি কমে আসার একটি সম্ভাব্য ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে কয়েকটি দূতাবাস শুরুতে পূর্ণ সক্ষমতায় নয়, সীমিত কর্মী নিয়ে কার্যক্রম চালাতে পারে।

অন্যদিকে, গত সোমবার ইরানের অর্থনৈতিক কার্যক্রমের ওপর চাপ বাড়াতে নতুন নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে ওয়াশিংটন। তেহরানের সঙ্গে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া দেশ ও প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো জরিমানা আরোপ করা হবে না বলে জানিয়েছে মার্কিন প্রশাসন।

হরমুজ প্রণালী নিয়ে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়লেও নৌপথের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ এখনো রয়েছে। যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস জানিয়েছে, মঙ্গলবার ওমানের আশ শিশার এলাকা থেকে প্রায় ৯ নটিক্যাল মাইল বা ১৭ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অজ্ঞাত একটি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে একটি তেলবাহী ট্যাংকার ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে অচল হয়ে পড়ে।

ঘটনাটি হরমুজ ও এর আশপাশের জলপথে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে। ফলে ইরান ও ওমানের আলোচনার পাশাপাশি সামুদ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিও তেলের বাজারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বাজার থেকেও তেলের দাম কমার পক্ষে কিছুটা চাপ এসেছে। বাজারসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আমেরিকান পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউটের (এপিআই) তথ্য অনুযায়ী, ২১ আগস্ট শেষ হওয়া সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের মজুত প্রায় ৪২ লাখ ব্যারেল বেড়েছে।

মজুত বৃদ্ধির অর্থ হলো বাজারে সরবরাহের চাপ তুলনামূলকভাবে বাড়তে পারে। এর সঙ্গে হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালুর সম্ভাবনা যুক্ত হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে তেলের সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে আশাবাদ তৈরি হয়েছে।

সব মিলিয়ে হরমুজ প্রণালী নিয়ে ইরান-ওমানের আলোচনা, যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক তৎপরতা এবং মার্কিন তেল মজুত বৃদ্ধির খবর—এই তিনটি বিষয় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে স্বস্তি তৈরি করেছে। তবে নৌপথের নিরাপত্তা ও মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের ভবিষ্যৎ এখনো অনিশ্চিত হওয়ায় তেলের দামে বড় ধরনের স্থিতিশীলতা আসতে আরও সময় লাগতে পারে।

সূত্র: রয়টার্স

কালের আলো/এসএ

ফ্যাসিবাদ পুনর্বাসন ঠেকাতে রোডম্যাপ তৈরি করতে হবে: আইনমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ৩:২৪ অপরাহ্ণ
ফ্যাসিবাদ পুনর্বাসন ঠেকাতে রোডম্যাপ তৈরি করতে হবে: আইনমন্ত্রী

ফ্যাসিবাদ যাতে দেশে আবারও পুনর্বাসিত হতে না পারে এবং কেউ যেন ফ্যাসিস্ট হয়ে না ওঠে, সে জন্য একটি রোডম্যাপ তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, ‘শুধু বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা নয়। যারা অন্যায় ও হত্যাকাণ্ড দেখেও চোখ বন্ধ করে রয়েছেন, তাদের চোখ খুলতে হবে। সবাইকে নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্ববোধ নিয়ে দেশ গড়ার কাজে এগিয়ে আসতে হবে।’

বুধবার (২৬ আগস্ট) পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষ্যে রাজধানীর বনানীর হোটেল শেরাটনে ইনস্টিটিউট অব হযরত মোহাম্মদ (সা.) আয়োজিত দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তিদের প্রতিভা অন্বেষণ প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, অন্ধকে আলো দেওয়ার মতো ভালো কাজ আর কিছু হতে পারে না। ইনস্টিটিউট অব হযরত মোহাম্মদ (সা.) দীর্ঘদিন ধরে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রতিভা বিকাশে কাজ করছে। পাশাপাশি তিন বছর আগে তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তিদেরও এ কার্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তারাও মানুষ, তাদেরও অধিকার রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা অন্যদের নিয়ে, যাদের চোখে আলো রয়েছে, তাদের নিয়ে সব সময় ব্যস্ত থাকি। কিন্তু যাদের চোখের আলো নিভে গেছে, তাদের ব্যাপারে আমাদের রাষ্ট্রীয় মনোযোগ খুব বেশি নেই। আমরা দেখতে পাই না বলেই আপনাদের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো সামনে এগিয়ে এসেছে।’

ইনস্টিটিউট অব হযরত মোহাম্মদ (সা.)-এর কার্যক্রমের প্রশংসা করে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, নীরবে-নিভৃতে প্রতিষ্ঠানটি একটি শ্রেণির মানুষকে স্বাবলম্বী করে, মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড় করানোর চেষ্টা করছে। তাদের প্রতিভা বিকাশে এ ধরনের উদ্যোগের গুরুত্ব অনেক।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, সংশ্লিষ্টদের মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে আরও কিছু করার সুযোগ রয়েছে কি না, তা দেখতে হবে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এ শুভকাজের অংশীদার হতে না পারলেও পাশে থেকে সহযোগিতা করতে পারে। তিনি নিজে সমাজকল্যাণমন্ত্রীর সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলবেন বলেও জানান।

দেশের মানুষের দায়িত্ববোধ নিয়ে প্রশ্ন তুলে আইনমন্ত্রী বলেন, দেশের অধিকাংশ মানুষের চোখে আলো আছে। কিন্তু যাদের এই দেশ গঠন করার কথা, মানবিক মূল্যবোধের কথা বলার কথা, তাদের অনেকে মানুষের অধিকার দেখতে পাচ্ছেন না। তারা আত্মকেন্দ্রিকতায় ভুগছেন।

তিনি বলেন, অনুষ্ঠানে আসা দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রত্যেকের মুখের দিকে তাকালে তাদের মধ্যে সততা ও মানবিকতার ছাপ দেখা যায়। অথচ সমাজে এমন অনেক মানুষ রয়েছেন, যাদের চোখে আলো আছে, কিন্তু তারা মানুষের অধিকার ও অন্যায় দেখতে পান না।

২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘জুলাই বিপ্লবের সময় ২০ দিনে পাখির মতো গুলি করে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষকে রাস্তায় হত্যা করা হয়েছে। প্রায় ৩০০ মানুষ হাত হারিয়েছেন, কেউ পা হারিয়েছেন, কেউ মাথা হারিয়েছেন।’

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের এক শিক্ষার্থীর প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, তার মাথার একটি অংশ নেই। এসব ঘটনা ঘটলেও চোখে আলো থাকা অনেক মানুষ এখনো বলছেন, কিছুই হয়নি।

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘মানুষের মতো মুখ আছে, কিন্তু মানুষের মুখোশ পরে রাতের অন্ধকারে ক্রসফায়ারের নামে মানুষকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। কারও ভাই, কারও বোন, কারও মা, কারও স্বামী এখনো নিখোঁজ। অথচ তাদের চোখে আলো রয়েছে।’

যারা ফ্যাসিস্টদের পুনর্বাসনের চেষ্টা করছেন, তাদের উদ্দেশে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আপনারা যে যেখানে থাকুন, চোখ খুলুন। আমরা যদি অপরাধ করি, আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিন। নাগরিক হিসেবে বাংলাদেশের সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এটি আপনাদের নৈতিক ও সাংবিধানিক দায়িত্ব।’

তিনি বলেন, প্রত্যেকে নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্ববোধ নিয়ে কাজ করলে বাংলাদেশ একদিন আগামী প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য ভূমি হিসেবে গড়ে উঠবে। সবাইকে বিবেকের জায়গা থেকে দায়িত্ব পালন করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ভুল হতে পারে। তবে সেই ভুল সংশোধন করে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।

জন্মভূমির প্রতি মানুষের দায়িত্ব ও ভালোবাসার কথা তুলে ধরে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘জননী এবং জন্মভূমির থেকে আপন কিছু নয়। কখনো কখনো জন্মভূমি জননীর থেকেও বড় হয়ে দাঁড়ায়।

মো. আসাদুজ্জামান বলেন, এমন একটি বাংলাদেশের পথে হাঁটতে হবে, যেখানে স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত থাকবে। ফ্যাসিবাদ যেন আবার পুনর্বাসিত না হয় এবং আমরাও যেন ফ্যাসিস্ট হয়ে না উঠি, সে জন্য একটি রোডম্যাপ তৈরি করতে হবে।

তিনি বলেন, ‘শুধু বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা নয়। যারা ফ্যাসিস্টদের খুন-খারাপি দেখছেন না, তাদের বলব আপনারা চোখ খুলুন। আল্লাহ প্রদত্ত দুটি চোখ খুলুন। তা যদি না পারেন, অন্তর চক্ষু খুলুন। তাহলে দেখতে পাবেন।’

সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ গড়ার কাজে মনোনিবেশ করার আহ্বান জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আসুন, একসঙ্গে হাঁটি, একসঙ্গে চলি। দেশ গড়ার কাজে আমরা মনোনিবেশ করি।’

অনুষ্ঠানে আয়োজকেরা জানান, সারা দেশ থেকে বিভিন্ন বয়সভিত্তিক বিভাগে শিক্ষার্থীরা প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, হামদ ও নাতে রাসুল (সা.) এবং রচনা প্রতিযোগিতায় তারা অংশ নেন। এ বছর প্রতিযোগিতার প্রতিপাদ্য ছিল— ‘আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য নবী হযরত মোহাম্মদ (সা.)-এর শিক্ষা’।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি ফয়েজ আহমেদ, ইনস্টিটিউট অব হযরত মোহাম্মদ (সা.)-এর সভাপতি লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) এম নুরউদ্দিন খান, ইরান দূতাবাসের প্রথম কাউন্সেলর এসরাফিল আমিরি গোর্জাদ্দিনি, ঢাকা ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওসমান এরশাদ ফয়েজ এবং স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এনামুল হক।

অনুষ্ঠানে প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ