খুঁজুন
                               
শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৪ বৈশাখ, ১৪৩৩
           

প্রাণে প্রাণ মিলেমিশে একাকার, দেশপ্রেমের মনোভাব নিয়ে ক্যাডেটদের কাজ করার তাগিদ নৌবাহিনী প্রধানের

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২০ ডিসেম্বর, ২০২৪, ১০:২১ অপরাহ্ণ
প্রাণে প্রাণ মিলেমিশে একাকার, দেশপ্রেমের মনোভাব নিয়ে ক্যাডেটদের কাজ করার তাগিদ নৌবাহিনী প্রধানের

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:

বর্ণিল সাজ চারদিকে। প্রাক্তন ক্যাডেটদের পদচারণায় মুখর সবুজ চত্বর। বয়সকে হার মানিয়ে কৈশোরের মধুমাখা দিনগুলোতে কয়েক মুহুর্তের জন্য হারিয়ে যাওয়া। তারুণ্যের দুরন্তপনার সঙ্গীদের সঙ্গে নির্ভার আড্ডা আর আনন্দধারায় মেতে ওঠা। গল্প আর স্মৃতি রোমন্থনে যেন ফিরে আসে অতীত। পুরোনো বন্ধু, সতীর্থ, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ সময় পর পেয়ে দু:খ-সুখের আলাপে জুড়িয়েছে প্রাণ। হালের ট্র্যান্ড সেলফি তোলায় নিমগ্ন প্রত্যেকে; বন্দি একে অপর। আবেগ-স্মৃতিচারণায় এভাবেই ছুঁয়ে যায় সিলেট ক্যাডেট কলেজ চত্বর।

সিলেট ক্যাডেট কলেজের প্রাক্তন ক্যাডেটদের সংগঠন ‘ওকাস’ এর উদ্যোগে তিন দিনব্যাপী পুনর্মিলনী উৎসব তাই যেন পুনর্মিলনই নয় এক মহামিলনের সূত্রপাত করেছে। কর্মব্যস্ত জীবনে নিজেদের আনন্দ ভাগাভাগির অনাবিল মুহুর্তে ৯ম এই পুনর্মিলনীর দ্বিতীয় দিনে শুক্রবার (২০ ডিসেম্বর) তাঁরা প্রধান অতিথি হিসেবে পেয়েছেন বাংলাদেশ নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসানকে। সিলেট ক্যাডেট কলেজের প্রাক্তন ক্যাডেটদের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে দেশপ্রেমের মনোভাব নিয়ে বর্তমান ও প্রাক্তন ক্যাডেটদের কাজ করার তাগিদ দিয়েছেন তিনি। দেশের চ্যালেঞ্জিং সময় অতিক্রম করে সবাই মিলে দেশকে এগিয়ে নিতেও উজ্জীবিত করেছেন ক্যাডেটদের।

সাপ্তাহিক ছুটির দিনে সিলেট ক্যাডেট কলেজের তিন দিনব্যাপী পুনর্মিলনী উৎসবের দ্বিতীয় দিনটি কার্যত রূপ নেয় আবেগ-উচ্ছ্বাসময় মিলনমেলায়। ভালোবাসার বারতায় বন্ধুত্বের টানে স্মৃতিময় ক্যাম্পাসে ছুটে এসে তাঁরা জানান দেন এই দৃঢ় বন্ধন আলগা হবার নয় মোটেও। বন্ধুত্বকে চির তরুণ করার প্রয়াসে মানবিক মূল্যবোধের জয়গানে মুখর থেকে তাঁরা তৈরি করলেন নবীন-প্রবীণের সেতুবন্ধ। তাই অনিন্দ্য সুন্দর এমন আয়োজন বন্ধুত্ব ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন দৃঢ়তর করে পারস্পরিক সহমর্মিতা, সহযোগিতা ও সংবেদনশীলতার এক অপূর্ব মেলবন্ধন সৃষ্টি করেছে বলেও মনে করেন নৌবাহিনী প্রধান।

পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান বললেন, ‘আজকের এই আয়োজন শুধুমাত্র একটি পুনর্মিলনী নয়, এটি আমাদের জীবনের শেকড়, স্মৃতি ও আদর্শের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের এক মহাউপলক্ষ্য।’ তিনি মনে করেন, ‘সিলেট ক্যাডেট কলেজ যুগে যুগে জাতির জন্য সুনাগরিক ও যোগ্য নেতৃত্ব তৈরি করে এসেছে। এই ক্যাডেট কলেজটি তাঁর জন্মলগ্ন থেকেই দেশের শিক্ষাঙ্গনে অন্যতম এক অনির্বাণ দীপশিখা হিসেবে নিজ অবস্থানকে সুসংহত করেছে।’

  • সকল অকুতোভয় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ
  • শৃঙ্খলা, নিষ্ঠা ও নৈতিকতার বীজ বপণ করে দিয়েছেন শিক্ষকরা
  • পুনর্মিলনী কেবল আনন্দের উৎসই নয়, স্মরণ করিয়ে দেয় দায়িত্বও
  • স্বাধীনতা রক্ষায় কঠিন গুরুদায়িত্ব পালনের আহ্বান

এর আগে নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান সিলেট ক্যাডেট কলেজে এসে পৌঁছালে ‘ওকাস’ এর সভাপতি মুশফিকুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হোসেন উপল ও সিলেট ক্যাডেট কলেজের অধ্যক্ষ মিসেস নায়না আক্তার তাঁকে স্বাগত জানান। এ সময় নৌবাহিনী প্রধানের সঙ্গে ছিলেন তাঁর স্ত্রী ও বাংলাদেশ নৌবাহিনী পরিবার কল্যাণ সংঘের (বিএনএফডব্লিউএ) এর প্রেসিডেন্ট নাদিয়া সুলতানা।

সকল অকুতোভয় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ
নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান নিজের বক্তব্যের শুরুতেই মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সকল অকুতোভয় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করে বলেন, ‘তাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি একটি স্বাধীন বাংলাদেশ।’ তিনি একই সঙ্গে স্বাধীনতা সমুন্নত রাখতে জাতির ক্রান্তিলগ্নে জুলাই-আগস্ট মাসের বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে আত্মত্যাগকারী সকল শহীদদেরও স্মরণ করেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি তাদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। সেই সঙ্গে আন্দোলনে আহত সকল ছাত্র-জনতার আশু রোগমুক্তি কামনা করছি।’

শৃঙ্খলা, নিষ্ঠা ও নৈতিকতার বীজ বপণ করে দিয়েছেন শিক্ষকরা
সিলেট ক্যাডেট কলেজের প্রাক্তন ক্যাডেটররা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন নৌবাহিনী প্রধান। তিনি বলেন, ‘আমাদের কৈশোর এবং বেড়ে ওঠার সঙ্গে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে আছে এই ক্যাডেট কলেজ। আমাদের জীবনের ভিত্তি রচনা করে দিয়েছে এই প্রাণপ্রিয় প্রতিষ্ঠানটি। আমি গভীরভাবে স্মরণ করছি এই ক্যাডেট কলেজের মহান সেইসব শিক্ষকদেরকে যারা উপস্থিত আছেন এবং যারা আমাদের কাছ থেকে চির বিদায় নিয়েছেন। তাঁরা শুধু শিক্ষাই নয়, বরং আমাদের মাঝে শৃঙ্খলা, নিষ্ঠা ও নৈতিকতার বীজ বপণ করে দিয়েছেন। আজ আমরা যার যার জীবনে যে পর্যায়ে এসেছি এর অন্যতম কৃতিত্বের দাবিদার আমাদের শ্রদ্ধেয় শিক্ষক মণ্ডলী।’

পুনর্মিলনী কেবল আনন্দের উৎসই নয়, স্মরণ করিয়ে দেয় দায়িত্বও
‘এই পুনর্মিলনী আমাদের জন্য কেবল আনন্দের উৎসই নয়, বরং এটি আমাদের কিছু দায়িত্বও স্মরণ করিয়ে দেয়’-বলছিলেন নৌবাহিনী প্রধান। তিনি বলেন, ‘এই দেশ ও জাতি আমাদের কাছ থেকে অনেক কিছু আশা করে। আমরা অনেকের চাইতে অনেক বেশি সৌভাগ্যবান আমরা ক্যাডেট কলেজের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ, সম্মানজনক ও মর্যাদাসম্পন্ন প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা লাভ করেছি। তাই দেশ ও জাতির প্রতি আমাদের দায়িত্ববোধ অন্য যেকোন নবীন অথবা প্রবীণদের চাইতে বেশি হওয়া প্রয়োজন বলে আমি মনে করি। আপনাদের সকলের প্রতি দেশ ও জাতির যে প্রত্যাশা সেটি হচ্ছে- দেশের উন্নতি ও সমৃদ্ধির জন্য আপনারা নিজ নিজ পেশায় নিজ নিজ অবস্থান থেকে অবদান রেখে যাবেন, সেটি দেশে কিংবা বিদেশে হোক। আমাদের সম্মিলিত চেষ্টা থাকবে সীমাকে অতিক্রম করে অসীমকে ছোঁয়ার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার।’

স্বাধীনতা রক্ষায় কঠিন গুরুদায়িত্ব পালনের আহ্বান
দেশ একটি চ্যালেঞ্জিং সময় মোকাবিলা করছে জানিয়ে নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান আরও বলেন, ‘আমাদের নতুন জেনারেশন জেন-জি আমাদের নতুন বাংলাদেশ এনে দিয়েছে। যেটাকে আমরা বলছি বাংলাদেশ ২.০। কিন্তু দেশের স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে স্বাধীনতা রক্ষা করা অনেক বেশি কঠিন। আর সেই কঠিন গুরুদায়িত্বই আমাদেরকে পালন করে যেতে হবে। তাই আপনাদের সবার প্রতি আমার অনুরোধ যারা দেশে আছেন, বিদেশে আছেন, সবাই যার যার অবস্থান থেকে দেশপ্রেমের মনোভাব নিয়ে নিরবচ্ছিন্নভাবে ও নিরলসভাবে কাজ করে যাবেন। আমরা যে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছি সেই চ্যালেঞ্জ যাতে আমরা সহজে অতিক্রম করতে পারি এবং আমরা যাতে প্রাণপ্রিয় দেশটাকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি, এটিই হবে আমাদের সকলের আজকের দিনের অঙ্গীকার।’

বর্তমান ক্যাডেটদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘তোমরা অত্যন্ত সৌভাগ্যবান যে সিলেট ক্যাডেট কলেজের মতো একটি স্বনামধন্য এবং সুপরিচিত প্রতিষ্ঠানে তোমরা একেকজন ক্যাডেট। এই বিষয়টিকে গর্বের সঙ্গে এবং আন্তরিকতার সঙ্গে গ্রহণ করে তোমরা নিজেদেরকে কেবল ভালো একজন ছাত্র হিসেবেই নয়, ভালো মানুষ ও সুনাগরিক হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলবে এটাই বড় ভাই হিসেবে তোমাদের কাছে সকলের প্রত্যাশা। আমি সিলেট ক্যাডেট কলেজের অধ্যক্ষ এবং শিক্ষকমণ্ডলীকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি তাঁরা আমাদের প্রিয় ছোট ভাইদেরকে ভবিষ্যতের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলছেন এবং আমি আপনাদের আরও ধন্যবাদ জানাচ্ছি এই পুনর্মিলনী আয়োজনে আপনাদের সকলের অবদান ও পরিশ্রমের জন্য।’

অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনীর অ্যাডজুটেন্ট জেনারেল (এজি) মেজর জেনারেল মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান এবং ১৭ পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) ও সিলেটের এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল এএসএম রিদওয়ানুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এই পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান সফলভাবে সম্পন্ন করার জন্য উর্ধ্বতন এই দু’সেনা কর্মকর্তার সার্বিক সহযোগিতার জন্য বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান নৌবাহিনী প্রধান।

আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান এদিন বর্তমান ও প্রাক্তন ক্যাডেটদের পরিবেশিত বর্ণাঢ্য প্যারেডে সালাম গ্রহণ করেন। প্যারেড শেষে তিনি সিলেট ক্যাডেট কলেজের শহীদ মিনারের সামনে একটি বৃক্ষ রোপণ করেন। পরে তিনি ‘ওকাস’ এর নির্বাহী কমিটি, কলেজের কর্মকর্তা ও অনুষদ সদস্যদের সঙ্গে একটি ফটোসেশনে অংশ নেন। তিন দিনব্যাপী সিলেট ক্যাডেট কলেজের প্রাক্তন ক্যাডেটদের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান গত বৃহস্পতিবার (১৯ ডিসেম্বর) শুরু হয়। বর্ণিল আয়োজন ও দেশের স্বনামধন্য শিল্পীদের পরিবেশনায় সঙ্গীতায়োজনের মধ্য দিয়ে শনিবার (২১ ডিসেম্বর) এই পুনর্মিলনী শেষ হবে।

কালের আলো/এমএএএমকে

সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎ শুরু শুক্রবার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:১০ অপরাহ্ণ
সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎ শুরু শুক্রবার

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার আগামীকাল শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ তথ্য জানান বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

রিজভী বলেন, শুক্রবার পাঁচটি বিভাগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হবে। পরদিন শনিবারও দলীয় ফরম গ্রহণকারীদের সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত হবে। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, শুক্রবার রংপুর, রাজশাহী, বরিশাল, ফরিদপুর ও খুলনা বিভাগের প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হবে। শনিবার চট্টগ্রাম, সিলেট, কুমিল্লা, ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার বিকেল তিনটায় অনুষ্ঠিত হবে।

তিনি আরও জানান, সাক্ষাৎকার কার্যক্রমে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান সভাপতিত্ব করবেন। মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় অতীতে নির্যাতনের শিকার, মিথ্যা মামলার আসামি এবং রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় নারী নেত্রীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। পাশাপাশি শিক্ষাগত যোগ্যতা ও যোগাযোগ দক্ষতাও বিবেচনায় রাখা হবে।

দলীয় সূত্র জানায়, সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য মোট ১ হাজার ২৫টি ফরম বিক্রি হয়েছে। প্রতিটি ফরমের মূল্য ছিল ২ হাজার টাকা। ফরম জমা দেওয়ার সময় প্রত্যেক প্রার্থীকে ৫০ হাজার টাকা জামানত দিতে হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী, সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২১ এপ্রিল। যাচাই-বাছাই হবে ২২ ও ২৩ এপ্রিল। আপিল গ্রহণ করা হবে ২৬ এপ্রিল এবং নিষ্পত্তি হবে ২৭ ও ২৮ এপ্রিল। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২৯ এপ্রিল এবং ৩০ এপ্রিল প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১২ মে।

জাতীয় সংসদের ৩৫০টি আসনের মধ্যে নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন রয়েছে ৫০টি। দলীয় বণ্টন অনুযায়ী বিএনপি জোটের জন্য ৩৬টি, জামায়াতে ইসলামীসহ তাদের জোটের জন্য ১৩টি এবং স্বতন্ত্রদের জন্য একটি আসন নির্ধারিত রয়েছে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

আর্মি স্পোর্টস কমপ্লেক্সের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন সেনাপ্রধান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:০৯ অপরাহ্ণ
আর্মি স্পোর্টস কমপ্লেক্সের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন সেনাপ্রধান

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আর্মি স্পোর্টস কমপ্লেক্সের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। গতকাল বুধবার (১৫ এপ্রিল) বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়াম সংলগ্ন এলাকায় নির্মিতব্য এই স্পোর্টস কমপ্লেক্সের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, এমপি-এর ‘সবার জন্য ক্রীড়া’ এই অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সুদূরপ্রসারী বিশেষ পরিকল্পনাকে সামনে রেখে দেশের ক্রীড়া উন্নয়নে কার্যকর অবদান রাখার লক্ষ্যে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সার্বিক সহযোগিতায় একটি আধুনিক ও সমন্বিত ক্রীড়া অবকাঠামো হিসেবে আর্মি স্পোর্টস কমপ্লেক্স নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

এই কমপ্লেক্সে আন্তর্জাতিক মানের দুটি ইনডোর স্টেডিয়াম, একটি স্পোর্টস একাডেমি এবং জিমনেসিয়ামসহ উন্নত স্পোর্টস সায়েন্স সুবিধা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এতে ফিজিওলজি, বায়োমেকানিক্স, নিউট্রিশন ও স্পোর্টস মেডিসিন সংক্রান্ত বিশেষায়িত সেকশন স্থাপন করা হবে। এর ফলে দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের খেলোয়াড়গণ আধুনিক প্রশিক্ষণ ও গবেষণাভিত্তিক সুবিধা গ্রহণের সুযোগ পাবে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উদ্যোগে নির্মিতব্য এ ধরনের আধুনিক ক্রীড়া অবকাঠামো দেশের ক্রীড়াক্ষেত্রে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যায়।

ভিত্তিপ্রস্তর অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, সেনাবাহিনী ও বিভিন্ন জাতীয় দলের খেলোয়াড়বৃন্দ এবং অন্যান্য আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এম/এএইচ

সরকারের সমালোচনা করে ঢাবি ছাত্রদল নেতার পদত্যাগ

কালের আলো ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:০৫ অপরাহ্ণ
সরকারের সমালোচনা করে ঢাবি ছাত্রদল নেতার পদত্যাগ

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সরকারের সমালোচনা করে পদত্যাগ করেছেন ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ শোভন।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) এক ফেসবুক পোস্টে পদত্যাগের ঘোষণা দেন তিনি।

সেখানে তিনি লিখেন, রাষ্ট্র আজ এক গভীর সংকটের ক্রান্তিলগ্নে দাঁড়িয়ে। সাম্যবাদী বিপ্লবের মহান আদর্শকে ধারণ করে ছাত্র–জনতা–সিপাহীর ঐক্যবদ্ধ শক্তিতে ২১ দিনের পাল্টাপাল্টি প্রতিরোধ যুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত ৫ আগস্ট, তার চেতনা আজ উপেক্ষিত, তার অঙ্গীকার পদদলিত। ব্যক্তি ও গোষ্ঠীস্বার্থের অন্ধ প্রতিযোগিতা এবং বিশ্বাসঘাতকতার কালো ছায়ায় সহস্র শহীদের আত্মত্যাগ আজও ন্যায্য মর্যাদা পায়নি, এ জাতির জন্য এক গভীর লজ্জা ও বেদনার ইতিহাস।

পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, সেই দুর্দিনে আমরা মাথা নত করিনি। মহান আল্লাহর ওপর অটল ভরসা ও অদম্য সাহসে আমরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়েছিলাম বলেই জাতি রক্ষা পেয়েছিল ধ্বংসের দ্বারপ্রান্ত থেকে। নতুবা প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ পরিণত হতো এক রক্তাক্ত বিপর্যয়ের প্রান্তরে। অথচ আজও একটি আধুনিক, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক রাষ্ট্র বিনির্মাণের স্বপ্ন অপূর্ণ রয়ে গেছে, এ এক নির্মম বাস্তবতা।

তিনি আরও লিখেন, চলমান জাতীয় দুর্যোগের প্রেক্ষাপট মোকাবিলায় সম্পূর্ণভাবে কপটতার আশ্রয় নেওয়া দুর্বল সরকার ও দলের (বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল) প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার করে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত ঘোষণা করছি। আমার এক দশকের সংগ্রাম ও আত্মত্যাগ কোনো প্রাপ্তির প্রত্যাশায় ছিল না; বরং তা ছিল আল্লাহর সন্তষ্টি অর্জন ও গণমানুষের আত্মমর্যাদা রক্ষার লড়াই অতপর; নিপীড়িত দেশমাতা মরহুমা বেগম জিয়ার প্রতি নৈতিক দায়বদ্ধতার বহিঃপ্রকাশ। কিন্তু বর্তমানে দলটির নীতি ও কার্যক্রমের সঙ্গে একজন আদর্শনিষ্ঠ মানুষ হিসেবে আমার পথচলা আর সম্ভব নয়।

ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, স্মরণ রাখা আবশ্যক—রাষ্ট্রই সর্বোচ্চ, দল তার একটি উপাদান মাত্র। রাষ্ট্রের স্বার্থ, ন্যায় ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপস চলতে পারে না, হবেও না। অতএব, জাতির স্বাধীনতা, মর্যাদা ও ন্যায়ের প্রশ্নে যদি পুনরায় সংগ্রাম অনিবার্য হয়, তবে দেশমাতৃকার সম্মান রক্ষায় সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারে আমরা প্রস্তুত থাকবো। অন্যায়ের সামনে নতজানু নয়, প্রয়োজনে শাহাদাতই হবে আমাদের চূড়ান্ত অঙ্গীকার। বাংলাদেশ চিরজীবী হউক।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ