খুঁজুন
                               
, ,
           

প্রাণে প্রাণ মিলেমিশে একাকার, দেশপ্রেমের মনোভাব নিয়ে ক্যাডেটদের কাজ করার তাগিদ নৌবাহিনী প্রধানের

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২০ ডিসেম্বর, ২০২৪, ১০:২১ অপরাহ্ণ
প্রাণে প্রাণ মিলেমিশে একাকার, দেশপ্রেমের মনোভাব নিয়ে ক্যাডেটদের কাজ করার তাগিদ নৌবাহিনী প্রধানের

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:

বর্ণিল সাজ চারদিকে। প্রাক্তন ক্যাডেটদের পদচারণায় মুখর সবুজ চত্বর। বয়সকে হার মানিয়ে কৈশোরের মধুমাখা দিনগুলোতে কয়েক মুহুর্তের জন্য হারিয়ে যাওয়া। তারুণ্যের দুরন্তপনার সঙ্গীদের সঙ্গে নির্ভার আড্ডা আর আনন্দধারায় মেতে ওঠা। গল্প আর স্মৃতি রোমন্থনে যেন ফিরে আসে অতীত। পুরোনো বন্ধু, সতীর্থ, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ সময় পর পেয়ে দু:খ-সুখের আলাপে জুড়িয়েছে প্রাণ। হালের ট্র্যান্ড সেলফি তোলায় নিমগ্ন প্রত্যেকে; বন্দি একে অপর। আবেগ-স্মৃতিচারণায় এভাবেই ছুঁয়ে যায় সিলেট ক্যাডেট কলেজ চত্বর।

সিলেট ক্যাডেট কলেজের প্রাক্তন ক্যাডেটদের সংগঠন ‘ওকাস’ এর উদ্যোগে তিন দিনব্যাপী পুনর্মিলনী উৎসব তাই যেন পুনর্মিলনই নয় এক মহামিলনের সূত্রপাত করেছে। কর্মব্যস্ত জীবনে নিজেদের আনন্দ ভাগাভাগির অনাবিল মুহুর্তে ৯ম এই পুনর্মিলনীর দ্বিতীয় দিনে শুক্রবার (২০ ডিসেম্বর) তাঁরা প্রধান অতিথি হিসেবে পেয়েছেন বাংলাদেশ নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসানকে। সিলেট ক্যাডেট কলেজের প্রাক্তন ক্যাডেটদের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে দেশপ্রেমের মনোভাব নিয়ে বর্তমান ও প্রাক্তন ক্যাডেটদের কাজ করার তাগিদ দিয়েছেন তিনি। দেশের চ্যালেঞ্জিং সময় অতিক্রম করে সবাই মিলে দেশকে এগিয়ে নিতেও উজ্জীবিত করেছেন ক্যাডেটদের।

সাপ্তাহিক ছুটির দিনে সিলেট ক্যাডেট কলেজের তিন দিনব্যাপী পুনর্মিলনী উৎসবের দ্বিতীয় দিনটি কার্যত রূপ নেয় আবেগ-উচ্ছ্বাসময় মিলনমেলায়। ভালোবাসার বারতায় বন্ধুত্বের টানে স্মৃতিময় ক্যাম্পাসে ছুটে এসে তাঁরা জানান দেন এই দৃঢ় বন্ধন আলগা হবার নয় মোটেও। বন্ধুত্বকে চির তরুণ করার প্রয়াসে মানবিক মূল্যবোধের জয়গানে মুখর থেকে তাঁরা তৈরি করলেন নবীন-প্রবীণের সেতুবন্ধ। তাই অনিন্দ্য সুন্দর এমন আয়োজন বন্ধুত্ব ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন দৃঢ়তর করে পারস্পরিক সহমর্মিতা, সহযোগিতা ও সংবেদনশীলতার এক অপূর্ব মেলবন্ধন সৃষ্টি করেছে বলেও মনে করেন নৌবাহিনী প্রধান।

পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান বললেন, ‘আজকের এই আয়োজন শুধুমাত্র একটি পুনর্মিলনী নয়, এটি আমাদের জীবনের শেকড়, স্মৃতি ও আদর্শের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের এক মহাউপলক্ষ্য।’ তিনি মনে করেন, ‘সিলেট ক্যাডেট কলেজ যুগে যুগে জাতির জন্য সুনাগরিক ও যোগ্য নেতৃত্ব তৈরি করে এসেছে। এই ক্যাডেট কলেজটি তাঁর জন্মলগ্ন থেকেই দেশের শিক্ষাঙ্গনে অন্যতম এক অনির্বাণ দীপশিখা হিসেবে নিজ অবস্থানকে সুসংহত করেছে।’

  • সকল অকুতোভয় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ
  • শৃঙ্খলা, নিষ্ঠা ও নৈতিকতার বীজ বপণ করে দিয়েছেন শিক্ষকরা
  • পুনর্মিলনী কেবল আনন্দের উৎসই নয়, স্মরণ করিয়ে দেয় দায়িত্বও
  • স্বাধীনতা রক্ষায় কঠিন গুরুদায়িত্ব পালনের আহ্বান

এর আগে নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান সিলেট ক্যাডেট কলেজে এসে পৌঁছালে ‘ওকাস’ এর সভাপতি মুশফিকুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হোসেন উপল ও সিলেট ক্যাডেট কলেজের অধ্যক্ষ মিসেস নায়না আক্তার তাঁকে স্বাগত জানান। এ সময় নৌবাহিনী প্রধানের সঙ্গে ছিলেন তাঁর স্ত্রী ও বাংলাদেশ নৌবাহিনী পরিবার কল্যাণ সংঘের (বিএনএফডব্লিউএ) এর প্রেসিডেন্ট নাদিয়া সুলতানা।

সকল অকুতোভয় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ
নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান নিজের বক্তব্যের শুরুতেই মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সকল অকুতোভয় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করে বলেন, ‘তাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি একটি স্বাধীন বাংলাদেশ।’ তিনি একই সঙ্গে স্বাধীনতা সমুন্নত রাখতে জাতির ক্রান্তিলগ্নে জুলাই-আগস্ট মাসের বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে আত্মত্যাগকারী সকল শহীদদেরও স্মরণ করেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি তাদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। সেই সঙ্গে আন্দোলনে আহত সকল ছাত্র-জনতার আশু রোগমুক্তি কামনা করছি।’

শৃঙ্খলা, নিষ্ঠা ও নৈতিকতার বীজ বপণ করে দিয়েছেন শিক্ষকরা
সিলেট ক্যাডেট কলেজের প্রাক্তন ক্যাডেটররা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন নৌবাহিনী প্রধান। তিনি বলেন, ‘আমাদের কৈশোর এবং বেড়ে ওঠার সঙ্গে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে আছে এই ক্যাডেট কলেজ। আমাদের জীবনের ভিত্তি রচনা করে দিয়েছে এই প্রাণপ্রিয় প্রতিষ্ঠানটি। আমি গভীরভাবে স্মরণ করছি এই ক্যাডেট কলেজের মহান সেইসব শিক্ষকদেরকে যারা উপস্থিত আছেন এবং যারা আমাদের কাছ থেকে চির বিদায় নিয়েছেন। তাঁরা শুধু শিক্ষাই নয়, বরং আমাদের মাঝে শৃঙ্খলা, নিষ্ঠা ও নৈতিকতার বীজ বপণ করে দিয়েছেন। আজ আমরা যার যার জীবনে যে পর্যায়ে এসেছি এর অন্যতম কৃতিত্বের দাবিদার আমাদের শ্রদ্ধেয় শিক্ষক মণ্ডলী।’

পুনর্মিলনী কেবল আনন্দের উৎসই নয়, স্মরণ করিয়ে দেয় দায়িত্বও
‘এই পুনর্মিলনী আমাদের জন্য কেবল আনন্দের উৎসই নয়, বরং এটি আমাদের কিছু দায়িত্বও স্মরণ করিয়ে দেয়’-বলছিলেন নৌবাহিনী প্রধান। তিনি বলেন, ‘এই দেশ ও জাতি আমাদের কাছ থেকে অনেক কিছু আশা করে। আমরা অনেকের চাইতে অনেক বেশি সৌভাগ্যবান আমরা ক্যাডেট কলেজের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ, সম্মানজনক ও মর্যাদাসম্পন্ন প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা লাভ করেছি। তাই দেশ ও জাতির প্রতি আমাদের দায়িত্ববোধ অন্য যেকোন নবীন অথবা প্রবীণদের চাইতে বেশি হওয়া প্রয়োজন বলে আমি মনে করি। আপনাদের সকলের প্রতি দেশ ও জাতির যে প্রত্যাশা সেটি হচ্ছে- দেশের উন্নতি ও সমৃদ্ধির জন্য আপনারা নিজ নিজ পেশায় নিজ নিজ অবস্থান থেকে অবদান রেখে যাবেন, সেটি দেশে কিংবা বিদেশে হোক। আমাদের সম্মিলিত চেষ্টা থাকবে সীমাকে অতিক্রম করে অসীমকে ছোঁয়ার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার।’

স্বাধীনতা রক্ষায় কঠিন গুরুদায়িত্ব পালনের আহ্বান
দেশ একটি চ্যালেঞ্জিং সময় মোকাবিলা করছে জানিয়ে নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান আরও বলেন, ‘আমাদের নতুন জেনারেশন জেন-জি আমাদের নতুন বাংলাদেশ এনে দিয়েছে। যেটাকে আমরা বলছি বাংলাদেশ ২.০। কিন্তু দেশের স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে স্বাধীনতা রক্ষা করা অনেক বেশি কঠিন। আর সেই কঠিন গুরুদায়িত্বই আমাদেরকে পালন করে যেতে হবে। তাই আপনাদের সবার প্রতি আমার অনুরোধ যারা দেশে আছেন, বিদেশে আছেন, সবাই যার যার অবস্থান থেকে দেশপ্রেমের মনোভাব নিয়ে নিরবচ্ছিন্নভাবে ও নিরলসভাবে কাজ করে যাবেন। আমরা যে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছি সেই চ্যালেঞ্জ যাতে আমরা সহজে অতিক্রম করতে পারি এবং আমরা যাতে প্রাণপ্রিয় দেশটাকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি, এটিই হবে আমাদের সকলের আজকের দিনের অঙ্গীকার।’

বর্তমান ক্যাডেটদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘তোমরা অত্যন্ত সৌভাগ্যবান যে সিলেট ক্যাডেট কলেজের মতো একটি স্বনামধন্য এবং সুপরিচিত প্রতিষ্ঠানে তোমরা একেকজন ক্যাডেট। এই বিষয়টিকে গর্বের সঙ্গে এবং আন্তরিকতার সঙ্গে গ্রহণ করে তোমরা নিজেদেরকে কেবল ভালো একজন ছাত্র হিসেবেই নয়, ভালো মানুষ ও সুনাগরিক হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলবে এটাই বড় ভাই হিসেবে তোমাদের কাছে সকলের প্রত্যাশা। আমি সিলেট ক্যাডেট কলেজের অধ্যক্ষ এবং শিক্ষকমণ্ডলীকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি তাঁরা আমাদের প্রিয় ছোট ভাইদেরকে ভবিষ্যতের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলছেন এবং আমি আপনাদের আরও ধন্যবাদ জানাচ্ছি এই পুনর্মিলনী আয়োজনে আপনাদের সকলের অবদান ও পরিশ্রমের জন্য।’

অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনীর অ্যাডজুটেন্ট জেনারেল (এজি) মেজর জেনারেল মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান এবং ১৭ পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) ও সিলেটের এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল এএসএম রিদওয়ানুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এই পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান সফলভাবে সম্পন্ন করার জন্য উর্ধ্বতন এই দু’সেনা কর্মকর্তার সার্বিক সহযোগিতার জন্য বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান নৌবাহিনী প্রধান।

আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান এদিন বর্তমান ও প্রাক্তন ক্যাডেটদের পরিবেশিত বর্ণাঢ্য প্যারেডে সালাম গ্রহণ করেন। প্যারেড শেষে তিনি সিলেট ক্যাডেট কলেজের শহীদ মিনারের সামনে একটি বৃক্ষ রোপণ করেন। পরে তিনি ‘ওকাস’ এর নির্বাহী কমিটি, কলেজের কর্মকর্তা ও অনুষদ সদস্যদের সঙ্গে একটি ফটোসেশনে অংশ নেন। তিন দিনব্যাপী সিলেট ক্যাডেট কলেজের প্রাক্তন ক্যাডেটদের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান গত বৃহস্পতিবার (১৯ ডিসেম্বর) শুরু হয়। বর্ণিল আয়োজন ও দেশের স্বনামধন্য শিল্পীদের পরিবেশনায় সঙ্গীতায়োজনের মধ্য দিয়ে শনিবার (২১ ডিসেম্বর) এই পুনর্মিলনী শেষ হবে।

কালের আলো/এমএএএমকে

মামলা করতে বাধা নেই বলেই ধর্ষণের পরিসংখ্যান বেশি দেখাচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬, ৮:৪৫ অপরাহ্ণ
মামলা করতে বাধা নেই বলেই ধর্ষণের পরিসংখ্যান বেশি দেখাচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বিগত ১০-১৫ বছরের তুলনায় দেশে খুন, ডাকাতিসহ সার্বিক অপরাধ কমলেও মামলা করতে কোনো সামাজিক বা রাজনৈতিক বাধা না থাকায় এখন ধর্ষণের পরিসংখ্যান বেশি দেখাচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বাজেট বরাদ্দ এবং এর ওপর আনা ছাঁটাই প্রস্তাবের আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।

এর আগে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা ছাঁটাই প্রস্তাব নিয়ে বক্তব্য দেন। তিনি গণমাধ্যমের খবর উদ্ধৃত করে গত এপ্রিল ও মার্চ মাসের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির পরিসংখ্যান তুলে ধরেন।

রুমিন ফারহানা বলেন, ‘পুরো বাজেটের সবটাই যদি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দেওয়া হয় বা এই মন্ত্রণালয়ে বরাদ্দ দেওয়া হয়, তারপরও কতটুকু উন্নয়ন হবে, তা আমরা জানি না। তারপরও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যখন বক্তব্য দেন সারা দেশ মুগ্ধ হয়ে শোনে। আমি একজন আইনের শিক্ষার্থী, আমিও উনার ডিবেট মুগ্ধ হয়ে শুনি। কিন্তু উনার এই মুগ্ধতা যদি উনি উনার মন্ত্রণালয়ে ছড়িয়ে দিতে পারতেন এবং তার মন্ত্রণালয়ের কাজের মাধ্যমে, তাহলে এটি ছাঁটাই করার… প্রস্তাব আমি রাখতাম না।’

জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এর আগেও তিনি সংসদে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির বিষয়টি ডেটাসহ তুলে ধরেছেন। খুনের চিত্র, ধর্ষণের চিত্র, নারী ও শিশু নির্যাতনের চিত্র, ডাকাতির সংখ্যা মাসওয়ারী দিয়েছিলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সরকার দায়িত্বে আসার পর থেকে এই পর্যন্ত সমস্ত ডেটায় আমরা ঐতিহাসিকভাবে এগিয়ে আছি, উন্নত আছি।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ধর্ষণের কেস রেকর্ডের ক্ষেত্রে আমরা একটু বেশি ধর্ষণের চিত্র পেয়েছি। তার একটা কারণ আছে, আগে ধর্ষণের শিকার ব্যক্তিরা রেকর্ড করতে থানায় যেতেন না বা যেতে পারতেন না, সামাজিক বা রাজনৈতিক বিভিন্ন হস্তক্ষেপের কারণে। এখন থানায় গেলেই অথবা অনলাইনে জিডিসহ অন্যান্য কিছু দায়ের করতে পারেন। এফআইআর দাখিল করতে পারেন। এখানে কোনো ইন্টারফেয়ারেন্স নেই। যার কারণে সংখ্যাটা একটু বেড়েছে।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তবে সুখের কথা হলো, ধর্ষণ যেখানেই হোক, শিশু হোক, নারী হোক, যে অবস্থাতে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ বিভাগ গ্রেপ্তারসহ চার্জশিট প্রদানের জন্য এবং মামলায় সহযোগিতা করার জন্য সাক্ষী উপস্থাপনসহ ট্রায়েলের সমস্ত ক্ষেত্রে একটা বৈপ্লবিক পরিবর্তন দেখা গেছে।

তিনি বলেন, পল্লবী শিশু হত্যার বিচার হয়েছে ১৫ থেকে ১৭ দিনের মধ্যে। এটা বাংলাদেশের রেকর্ড। তনু হত্যার আসামিদের ডিএনএ প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে গ্রেপ্তার করা সক্ষম। বাকিগুলোও হবে।’

সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, পুলিশ দলীয় পরিচয় দেখে কাউকে গ্রেপ্তার করে না; অপরাধীকে অপরাধী হিসেবেই চিহ্নিত করে। বিরোধী দলের কোনো নেতা-কর্মী অপরাধে জড়িত থাকলে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলও দ্রুত সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিচ্ছে, যা তিনি ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে কোনো রাজনৈতিক পরিচয়কে আমরা কখনও প্রাধান্য দেব না। দেশের শান্তি, উন্নয়ন, অগ্রগতি ও স্থিতিশীলতার জন্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো থাকা দরকার।

মন্ত্রী বলেন, গ্রাম পুলিশ থেকে শুরু করে আইজিপি পর্যন্ত সবাই কাজ করে। কিন্তু জনগণের প্রত্যক্ষ সহযোগিতা ছাড়া কোনো দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন হয় না। এ সময় সামাজিক সচেতনতা বাড়াতে রাজনৈতিক দলগুলোকেও ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।

মাদক ও জুয়া নিয়ন্ত্রণে সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে স্বয়ংসম্পূর্ণ বিভাগ হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। সেখানে ডগ স্কোয়াড, অস্ত্র ও আধুনিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি দেশের প্রতিটি জেলায় মাদক পরীক্ষাগার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, অনলাইন ও অফলাইন জুয়া এবং সাইবার স্পেসে সংঘটিত অপরাধ মোকাবিলায় আধুনিক প্রযুক্তি ও দক্ষ জনবল গড়ে তোলা হচ্ছে। ১৮৬৭ সালের পুরোনো জুয়া আইনের পরিবর্তে আধুনিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ আইন প্রয়োগের মাধ্যমে জুয়া ও বেটিং নিয়ন্ত্রণ করা হবে বলেও জানান তিনি।

কালের আলো/এসএকে

ডিএনসিসির ১০৪ কিলোমিটার খাল উদ্ধার করা হবে: প্রশাসক

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬, ৭:৪৮ অপরাহ্ণ
ডিএনসিসির ১০৪ কিলোমিটার খাল উদ্ধার করা হবে: প্রশাসক

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকার ১০৪ কিলোমিটার খাল উদ্ধার করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান।

‎মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাজধানীর মিরপুরের বাইশটেকী এলাকায় কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের তিনি একথা জানান।

‎শফিকুল ইসলাম বলেন, নগরীর অধিকাংশ খাল দখল হওয়ায় ভরাট হয়ে আছে, যা খনন করে জলাবদ্ধতা দূর করা হবে।

‎তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী (তারেক রহমান) সারা দেশে খাল খনন করছেন, ঢাকা শহরের খালও আমরা খনন করবো। ১০৪ কিলোমিটার খাল উদ্ধার করা হবে, যা বাইশটেকী দিয়ে শুরু হবে।

‎এসময় বিগত ১৭ বছর যত্রতত্র উন্নয়নের নামে অর্থ ব্যয় করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন ডিএনসিসি প্রশাসক। যত্রতত্র এসব উন্নয়নে ডিএনসিসির ফান্ড সংকট তৈরি হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

‎প্রশাসক আরও বলেন, ডিএনসিসির উন্নয়ন কর্মকাণ্ড চলমান আছে। তবে জনগণের সহযোগিতা দরকার।

‎এসময় মিরপুরের পানির সমস্যা সমাধানে বেশ কয়েকটি পানির পাম্প নির্মাণ কাজ কয়েকদিনের মধ্যে শুরু হবে বলে জানান তিনি।

‎শফিকুল ইসলাম বলেন, পানির সমস্যা এক দিনে হয়নি। তবে আগামী ৩ থেকে ৪ দিনের মধ্যে পানির পাম্প নির্মাণ কাজ শুরু হবে।

কালের আলো/এসআর/এএএন

সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের জামিন, মুক্তিতে বাধা নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬, ৭:৩৭ অপরাহ্ণ
সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের জামিন, মুক্তিতে বাধা নেই

জুলাই হত্যা মামলায় জামিন পেলেন সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক। ফলে তার কারামুক্তিতে আর কোনো বাধা রইল না।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) মামলার শুনানি শেষে বিচারপতি কেএম জাহিদ সরওয়ার কাজল ও শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ খায়রুল হকের জামিনের আদেশ দেন।

আদালতে জামিন আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী, মোতাহার হোসেন সাজু ও সাঈদ আহমেদ রাজা।

পরে আইনজীবী মোতাহার হোসেন সাজু বলেন, খায়রুল হকের বিরুদ্ধে মোট আটটি মামলা হয়েছে। তবে আজকের মামলায় জামিন হওয়ায় তার কারামুক্তিতে আর কোনো বাধা নেই।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সকালে যাত্রাবাড়ী এলাকায় আন্দোলন চলাকালে পুলিশ ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের গুলিতে খোবাইব (২০) নামে এক যুবক নিহত হন।

এ ঘটনায় তার ভাই জোবায়ের আহম্মেদ ২০২৪ সালের ১৬ নভেম্বর যাত্রাবাড়ী থানায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৮০ জনকে আসামি করে মামলা করেন। খায়রুল হক মামলাটির একজন এজাহারভুক্ত আসামি।

এর আগে এ মামলায় গত ২১ জুন সাবেক এ প্রধান বিচারপতির জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন বিচারিক আদালত। পরে তিনি হাইকোর্টে আবেদন করেন। জামিনও পেলেন।

২০২৪ সালের ২৪ জুলাই সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হককে তার বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর থেকে তিনি বিভিন্ন মামলায় কারাগারে রয়েছেন। অবশেষে তার মুক্তির দুয়ার খুলল।

কালের আলো/এসআর/এএএন