খুঁজুন
                               
, ,
           

ন্যূনতম ঐকমত্যের মাধ্যমে জাতীয় নির্বাচনের প্রত্যাশা বিএনপির

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫, ১১:০৬ অপরাহ্ণ
ন্যূনতম ঐকমত্যের মাধ্যমে জাতীয় নির্বাচনের প্রত্যাশা বিএনপির

কালের আলো রিপোর্ট:

ঐকমত্য কমিশনের প্রথম বৈঠকে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে জানিয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, বিভিন্ন কথা বলেছেন। আমরা আশা করবো, খুব দ্রুত এই সংস্কারের ন্যূনতম ঐকমত্য তৈরি হবে। সেটার ওপর ভিত্তি করে অতি দ্রুত জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এটাই আমাদের প্রত্যাশা। শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের বৈঠক থেকে বেরিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, প্রধান উপদেষ্টা রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ঐকমত্যের প্রথম সভায় মিলিত হয়েছিলেন। এবারের সভায় তিনি সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা এবং সংস্কার করা যে প্রয়োজন, সে বিষয়ে কথা বলেছেন। রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে তিনি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এই সংস্কারের যে প্রতিবেদনগুলো কমিশন জমা দিয়েছে, সেগুলোর ওপর আলাপ-আলোচনা হবে। দলগুলো এসব নিয়ে কথা বলবে কমিশনগুলোর সঙ্গে এবং একটা ঐকমত্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করা হবে।

৪৭, ৭১ ও ২৪-এর ভিত্তিতে আগামীর বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যাশা জানিয়েছি: মামুনুল হক

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক বলেছেন, ‘১৯৪৭, ১৯৭১ ও ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক ঘটনাগুলোর ভিত্তিতে আগামীর বাংলাদেশ গড়ে তোলা উচিত।’ শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বৈঠকে এ প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন বলে জানান।

মামুনুল হক বলেন, ‘সংস্কারের দ্বিতীয় ধাপ শুরু হয়েছে, যেখানে রাজনৈতিক দলগুলো নিজ নিজ মতামত তুলে ধরবে। আমরা চাই, সংস্কার প্রস্তাবনা ও তার বাস্তবায়ন কার্যক্রম শুরুর আগে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের সমাধান হওয়া প্রয়োজন—আগামীর বাংলাদেশের ভিত্তি কী হবে? সংস্কারের মূল দিকনির্দেশনা কী হবে?’

তিনি বলেন, ‘জুলাই-আগস্টের বিপ্লবের ঘোষণাপত্র প্রকাশিত হওয়ার কথা ছিল। আমরা জোর দিয়ে বলেছি, তা যেন দ্রুততম সময়ের মধ্যে জাতির সামনে উপস্থাপন করা হয়।’ খেলাফত মজলিসের আমির বলেন, ‘আমরা চাই না ২০২৪-এর আগের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হোক। ৪৭, ৭১ ও ২০২৪-এর ঐতিহাসিক ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে যেন আগামীর বাংলাদেশ গড়ে ওঠে।’

জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘প্রয়োজনীয় সংস্কার সম্পন্ন হওয়ার পর ২০২৫ সালের শেষের দিকে জাতীয় নির্বাচন হওয়া উচিত।’ তবে স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে তার দল নির্দিষ্ট কোনও মত দেয়নি বলে জানিয়ে মামুনুল হক বলেন, ‘সব রাজনৈতিক দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতেই স্থানীয় নির্বাচনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।’

উপদেষ্টাদের ছদ্মবেশে রাস্তায় বের হওয়ার কথা বলেছি: মঞ্জু

দেশের বর্তমান পরিস্থিতি বুঝতে একজন উপদেষ্টাকে ছদ্মবেশে রাস্তায় বের হওয়ার কথা বলেছেন এবি পার্টির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জু। তিনি বলেন, ‘আমি তাদের বলেছি আপনাদের একজন উপদেষ্টা ছদ্মবেশে রাস্তায় বের হন। ছিনতাইকারীর কবলে পড়লে পুলিশের পক্ষ থেকে কী সহযোগিতা পাওয়া যায় সেটা আপনারা দেখেন।’ শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের বৈঠক থেকে বেরিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

মুজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, ‘আমরা বলেছি, জাতীয় ঐকমত্য সৃষ্টির জন্য আপনাদের (সরকার) উচিত ছিল ভূমিকা নেওয়া। কিন্তু আপনারা সেটা নেননি। গত ১৫-১৬ বছরে আমরা কী সংগ্রাম-আন্দোলন করেছি সেটা যদি আপনারা নাও মানেন কিন্তু জুলাই-আগস্ট মাসে বিএনপির নজরুল ইসলাম খান অ্যারেস্ট হয়েছিলেন, জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের অ্যারেস্ট হয়েছিলেন, গণসংহতির জুনায়েদ সাকি আহত হয়েছিলেন, আমরা গুলি খেয়েছি, জেলে গেছি। কিন্তু কই আপনাদের কোনও আলোচনা এই যে যারা জেলে গিয়েছে, আহত হয়েছে তাদের কোনও কিছু ঠাঁই পায় না। তাহলে আপনারা কীভাবে জাতীয় কর্ম তৈরি করছেন? রাজনৈতিক দলের সহযোগিতা কীভাবে চাচ্ছেন?’

তিনি বলেন, ‘সর্বশেষে আমি বলেছি, আপনারা আমাদের কথাগুলো শুনেন। কিন্তু কতটুকু আমলে নেন সেটা আমরা বুঝতে পারি না। সুতরাং আশা করি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আমাদের কথাগুলো গুরুত্ব দেবে।’ নির্বাচন প্রসঙ্গে মঞ্জু বলেন, ‘আমরা আরেকটা বিষয় বলেছি, এই সরকারের সঠিক কর্তৃত্ব এখনও প্রতিষ্ঠা হয়নি। ফলে এমন বন্ধুর অবস্থায় নিয়ে কীভাবে নির্বাচন করবেন? আমরা স্পষ্টভাবে বলেছি, জাতীয় নির্বাচন আগে করেন। কিন্তু আপনার প্রশাসনিক কর্তৃত্বটা লাগবেই।’

কমিটির মেয়াদের মধ্যেই আমরা সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে চাই: আলী রীয়াজ

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি ড. আলী রীয়াজ জানিয়েছেন, ‘সংস্কার কমিশনগুলোর প্রতিবেদন পর্যালোচনার পর শিগগিরই প্রতিটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করা হবে। যত দ্রুত সম্ভব আমরা রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বসতে চাই। জাতীয় ঐকমত্য কমিটির মেয়াদ ছয় মাস। তাই এই সময়ের মধ্যেই আমরা সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে চাই।’ শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে চলমান জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

আলী রীয়াজ বলেন, ‘আজকের বৈঠকে সব রাজনৈতিক দলই একমত হয়েছে যে, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে জাতীয় ঐক্যের বিকল্প নেই। তারা সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নে অন্তর্বর্তী সরকারকে সহযোগিতা করবে এবং সরাসরি অংশগ্রহণ করবে। আমরা মনে করি, প্রতিটি রাজনৈতিক দলের দায়িত্ব সংস্কার কার্যক্রমকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।’

সংলাপ দ্রুত সম্পন্ন করার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমরা চাই যত দ্রুত সম্ভব রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা শেষ হোক। তবে যেহেতু ছয়টি কমিশনের প্রতিবেদন তাদের পাঠানো হয়েছে, তাই পর্যালোচনার জন্য কিছুটা সময় প্রয়োজন।’

তিনি আরও বলেন, ‘সংস্কার কর্মসূচিগুলোকে দ্রুত অগ্রসর করা এবং জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা করা দরকার। যাতে আমরা দ্রুততম সময়ে নির্বাচনের পথে এগিয়ে যেতে পারি।’

সংস্কার কমিশনের নির্ধারিত ছয় মাসের মধ্যেই সংলাপ শেষ করা সম্ভব কিনা এমন প্রশ্নে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি বলেন, ‘আমরা আশা করছি ছয় মাসের মধ্যেই এটি সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। তবে রাজনৈতিক দলগুলোকে প্রতিবেদন পর্যালোচনার জন্য সময় দিতে হবে। বাস্তবতা হলো, আমরা চাই যত দ্রুত সম্ভব সংলাপ ও পর্যালোচনার কাজ শুরু করতে।’

কালের আলো/জিকেএম/আরআই

ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ পরিচালিত ক্যাপস্টোন কোর্স সমাপ্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬, ৭:০৭ অপরাহ্ণ
ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ পরিচালিত ক্যাপস্টোন কোর্স সমাপ্ত

মিরপুর সেনানিবাসে অবস্থিত ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ (এনডিসি)-এ মর্যাদাপূর্ণ ‘ক্যাপস্টোন কোর্স ২০২৬/২’-এর সমাপনী অনুষ্ঠান সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন খাতের নীতি-নির্ধারক ও পেশাজীবীদের কয়েক সপ্তাহের নিবিড় প্রশিক্ষণ, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং জাতীয় কৌশলগত বিষয়ে জ্ঞানার্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় সম্পন্ন হলো।

সমাপনী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী ফেলোদের হাতে কোর্স সম্পন্নের সনদ তুলে দেওয়া হয়। এতে অন্যতম ক্যাপস্টোন ফেলো হিসেবে সনদ গ্রহণ করেন কাজী শাহ আরফিন।

কোর্সটিতে দেশের নীতিনির্ধারণী বিভিন্ন পেশা ও সেক্টরের শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। কোর্স চলাকালে জাতীয় নিরাপত্তা, আধুনিক নেতৃত্ব, অর্থনীতি, সুশাসন, আন্তর্জাতিক কূটনীতি এবং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ ও অপার সম্ভাবনা নিয়ে বিশদ পর্যালোচনা ও মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। তাত্ত্বিক আলোচনার পাশাপাশি দেশের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও কৌশলগত বিভিন্ন স্থাপনা সরেজমিনে পরিদর্শনের মাধ্যমে ফেলোরা বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পান।

কোর্স সম্পন্ন করে ক্যাপস্টোন ফেলো কাজী শাহ আরফিন নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, এই কোর্সটি কেবল একটি প্রশিক্ষণ বা সনদ অর্জনের বিষয় ছিল না; বরং দেশ, জাতীয় নিরাপত্তা, অর্থনীতি ও সমসাময়িক নেতৃত্বকে আরও বিস্তৃত ও সামগ্রিক দৃষ্টিতে বোঝার একটি অসাধারণ সুযোগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে দেশের সামগ্রিক টেকসই উন্নয়নের সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তা কতটা ওতপ্রোতভাবে জড়িত, সেই উপলব্ধিটি আরও দৃঢ় হয়েছে। এ সময় তিনি এনডিসি’র কমান্ড্যান্ট, ফ্যাকাল্টি সদস্য, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং সহকর্মী ফেলোদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

সনদ বিতরণের মাধ্যমে কোর্সের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটলেও এখান থেকে অর্জিত কৌশলগত জ্ঞান, নেটওয়ার্কিং ও পারস্পরিক সহযোগিতা দেশের ভবিষ্যৎ নীতিনির্ধারণ এবং অগ্রগতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন অংশগ্রহণকারীরা।

কালের আলো/এম/এএইচ

তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নের স্পৃহা জাতীয় স্বার্থমুখী হতে হবে: তথ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৫৪ অপরাহ্ণ
তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নের স্পৃহা জাতীয় স্বার্থমুখী হতে হবে: তথ্যমন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নের স্পৃহা শুধু ব্যক্তিগত কর্মসংস্থান বা চাকরি পাওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না; তাদের দক্ষতা, জ্ঞান ও মেধাকে জাতীয় স্বার্থ ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনার সঙ্গে যুক্ত করতে হবে।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘ফ্রম স্কিল টু অপরচুনিটি’ শীর্ষক চাকরি মেলায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ইকো সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের (ইএসডিও) উদ্যোগে এবং বেসরকারি সহযোগিতা সংস্থা চোরগউসান ফর চিলড্রেন ও এডুকো’র সহায়তায় এ মেলার আয়োজন করা হয়।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে একইসঙ্গে মনে রাখতে হবে, শুধু বিদ্যমান চাকরির জন্য দক্ষ জনশক্তি তৈরি করাই যথেষ্ট নয়; নতুন চাকরি সৃষ্টি এবং চাকরির বাজার সম্প্রসারণের বিষয়টিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি আরও বলেন, ‘জব ক্রিয়েশন’, ‘জব এক্সটেনশন’ বা ‘জব মার্কেট এক্সপানশন’- যে নামেই বলা হোক, এর মূল ভিত্তি অর্থনীতি, শিল্পনীতি ও উৎপাদননীতি। আর এসব নীতির সঙ্গে রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও নীতিনির্ধারণ সরাসরি সম্পৃক্ত। তাই, কর্মসংস্থানের সমস্যার সমাধান করতে হলে শুধু দক্ষতা উন্নয়নের দিকে তাকালে হবে না; চাকরির বাজারের ‘সুইচ’ কোথায়, সেটিও বুঝতে হবে।

তথ্যমন্ত্রী এসময় তরুণদের নিজেদের দক্ষতা ও সক্ষমতাকে সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রয়োজনের সঙ্গে যুক্ত করার মানসিকতা তৈরির উপর জোর দেন।

এ প্রসঙ্গে তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনামলে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে জ্ঞান ও প্রযুক্তি নিয়ে এসে বাংলাদেশের জনশক্তিকে আধুনিক পোশাকশিল্পের দক্ষতার সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়ার উদাহরণ দেন। তিনি বলেন, সেসময় উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ, ব্যাংকঋণ, বিদেশি জ্ঞান ও প্রযুক্তির সঙ্গে সংযোগ এবং প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তার মাধ্যমে একটি নতুন শিল্পখাতের ভিত্তি তৈরি করা হয়।

মন্ত্রী আরও বলেন, একজন রাষ্ট্রনায়কের এ ধরনের নীতিগত সহায়তার সুফল শুধু একজন ব্যক্তি বা একটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; তা পুরো অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলে।

তিনি বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের প্রধান দুটি উৎস পণ্য রপ্তানি ও প্রবাসী আয়ের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, সীমিত ভৌগোলিক পরিসরে বিপুল জনসংখ্যার এই দেশে কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক সুযোগ সৃষ্টির জন্য নতুন নতুন শিল্প ও উৎপাদন খাত গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই।

মন্ত্রী চাকরিপ্রার্থী তরুণদের নিজেদের ক্যারিয়ার গড়ার পাশাপাশি দেশের অর্থনীতি, সমাজ, রাজনীতি ও জাতীয় স্বার্থ সম্পর্কে ধারণা রাখার পরামর্শ দেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এই বেসিক পিকচার যদি একজন তরুণের মাথায় না থাকে, তাহলে সে হয়তো চাকরি পাবে; কিন্তু তার সেই দক্ষতা ও সম্ভাবনা জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে যুক্ত নাও হতে পারে।’

তিনি তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানভিত্তিক কারিকুলাম তৈরির সময় তাদের নৈতিকতা, দর্শন এবং বিদ্যমান রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতা সম্পর্কেও ধারণা দেওয়ার জন্য জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও আয়োজক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আহ্বান জানান।

তথ্যমন্ত্রী তরুণদের দক্ষ কর্মী হিসেবে তৈরির পাশাপাশি তাদের দায়িত্বশীল ও সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা এবং তাদের দক্ষতা উন্নয়নকে জাতীয় স্বার্থমুখী করার উপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি আরও বলেন, দেশের তরুণ জনগোষ্ঠীর সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে একদিকে যেমন দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে হবে, অন্যদিকে অর্থনীতি, শিল্প ও উৎপাদনের নতুন ক্ষেত্র সৃষ্টি করে চাকরির বাজারকে সম্প্রসারণ করতে হবে।

তথ্যমন্ত্রী তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের নতুন ক্ষেত্র তৈরি করতে রাষ্ট্র, উদ্যোক্তা, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, ব্যাংক ও নীতিনির্ধারকদের সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।

এডুকো বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর আব্দুল হামিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. নাজনীন কাউসার চৌধুরী ও ইএসডিও’র নির্বাহী পরিচালক ড. মো. শহিদ উজ জামান।

কালের আলো/এম/এএইচ

সরকারি বরাদ্দে নির্মিত রাস্তা কেটে ফেলায় দুর্ভোগ, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি

কেন্দুয়া ( নেএকোনা) প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬, ৬:১৫ অপরাহ্ণ
সরকারি বরাদ্দে নির্মিত রাস্তা কেটে ফেলায় দুর্ভোগ, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি

নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলার মাসকা ইউনিয়নের রায়পুর পাছপাড়া এলাকায় সরকারি অর্থে উন্নয়ন করা একটি রাস্তা কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এতে কৃষক, শিক্ষার্থীসহ কয়েকটি গ্রামের শত শত মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা যায়।

স্থানীয়রা জানান, প্রায় দেড় বছর আগে গ্রামবাসীর সম্মিলিত উদ্যোগ ও স্বেচ্ছাশ্রমে রায়পুর জিপিএস থেকে চুচিয়া বিল পর্যন্ত রাস্তাটি নির্মাণ করা হয়। পরে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কাবিখা প্রকল্পের আওতায় সরকারি বরাদ্দের ২ লাখ ২০ হাজার টাকা ব্যয়ে রাস্তাটির উন্নয়ন করা হয়।

স্থানীয়দের দাবি, রাস্তাটি দিয়ে প্রতিদিন কৃষক, শিক্ষার্থীসহ কয়েকটি গ্রামের শত শত মানুষ চলাচল করতেন। সম্প্রতি রাস্তা কেটে দেওয়ায় তাঁদের স্বাভাবিক যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে কৃষকদের উৎপাদিত ফসল পরিবহন এবং শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে ভোগান্তি বেড়েছে।

ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সোহেল চৌধুরী বলেন, সরকারি অর্থে উন্নয়ন করা রাস্তা কেটে ফেলার বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি ঘটনার তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

এলাকার বাসিন্দা ও কেন্দুয়া পৌর বিএনপির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক মো. মোজাম্মেল হক রনি বলেন, প্রথমে স্বেচ্ছাশ্রমে এবং পরে সরকারি বরাদ্দের অর্থে রাস্তাটি তৈরি করা হয়েছিল। রাস্তাটি পাকাকরণের আশ্বাসও দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে রাস্তা কেটে ফেলায় এলাকার বহু পরিবার ভোগান্তিতে পড়েছে। তিনি তদন্ত সাপেক্ষে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

তবে রাস্তা কাটার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মো. শরীফ হাসান ভূঞা। তাঁর দাবি, ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির ওপর সাময়িকভাবে চলাচলের জন্য রাস্তাটি তৈরি করা হয়েছিল। পাশের সরকারি হালট একসময় ব্যক্তি দখলে থাকায় ওই পথ দিয়ে স্থানীয়দের চলাচলের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।

তিনি বলেন, সম্প্রতি সরকারি হালট উদ্ধার হওয়ায় স্থানীয় লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে দিনের বেলায় রাস্তাটি কাটা হয়েছে। তাঁর দাবি, কাটা রাস্তাটির কোনো আইডি নম্বর নেই এবং এটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিমালিকানাধীন জায়গায় অবস্থিত।

স্থানীয় ইউপি সদস্য বাবুল চৌধুরী বলেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কাবিখা প্রকল্পের মাধ্যমে ২ লাখ ২০ হাজার টাকা সরকারি বরাদ্দে রাস্তাটির উন্নয়ন করা হয়েছিল। কিন্তু রাস্তা কাটার বিষয়টি তাঁকে জানানো হয়নি। এতে এলাকাবাসীর দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।

এ বিষয়ে কেন্দুয়া থানার ওসি (তদন্ত) স্বজল সরকার বলেন, বিষয়টি তাঁর জানা নেই। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয়রা বলছেন, রাস্তা নির্মাণে সরকারি অর্থ ব্যয় হয়ে থাকলে সেটি কেটে ফেলার বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে দ্রুত রাস্তা সংস্কার করে কৃষক, শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষের চলাচলের দুর্ভোগ নিরসনের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি