খুঁজুন
                               
, ,
           

মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি: প্রাণহানি বেড়ে ৩৩, দগ্ধ পাঁচজনের অবস্থা সংকটাপন্ন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৫, ১২:২২ পূর্বাহ্ণ
মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি: প্রাণহানি বেড়ে ৩৩, দগ্ধ পাঁচজনের অবস্থা সংকটাপন্ন

আব্দুল হামিদ/শফিকুল ইসলাম পলাশ, কালের আলো:

রাজধানীর উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় শুক্রবার (২৫ জুলাই) জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মাকিন (১৪) ও আইমান (১০) মারা গেছেন। দুর্ঘটনার পর থেকে তাঁরা মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে যাচ্ছিল কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। এর ফলে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৩ জনে। ভয়াবহ এই দুর্ঘটনার পাঁচ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনও বিভিন্ন হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন অনেকেই। জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন ৪০ জনের মধ্যে পাঁচজনের অবস্থা সংকটাপন্ন। তারা নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়েছে। এই ট্র্যাজেডিতে ঝরে গেছে বহু শিক্ষার্থী, শিক্ষকের প্রাণ। যারা তখন ক্লাসরুম ও ক্যাম্পাসজুড়ে দৈনন্দিন জীবনের স্বাভাবিকতায় মগ্ন ছিলেন।

এদিকে, এ ঘটনায় নিহতদের রুহের মাগফিরাত ও আহতদের সুস্থতা কামনায় দেশের সব মসজিদে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (২৫ জুলাই) বাদ জুমা বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয় সুবিধাজনক সময়ে বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে সারাদেশের মসজিদ ও ধর্মীয় উপাসনালয়ে বিশেষ মোনাজাত ও বিশেষ প্রার্থনার আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয়। উপদেষ্টা পরিষদের সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে চিঠি ইস্যু করে ধর্ম মন্ত্রণালয়।

শুক্রবার (২৫ জুলাই) বিকেলে প্রধান উপদেষ্টার সহকারী প্রেস সচিব সুচিস্মিতা তিথি গণমাধ্যমকে জানান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে মারা গেছেন ১৫ জন, সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) আরও ১৫ জন। এছাড়া ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একজন, লুবনা জেনারেল হাসপাতাল অ্যান্ড কার্ডিয়াক সেন্টারে একজন (যার পরিচয় এখনও নিশ্চিত হয়নি) এবং ইউনাইটেড হাসপাতালে মারা গেছেন আরেকজন। তিনি আরও জানান, অনেকে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই মারা গেছেন, আবার কেউ কেউ দীর্ঘসময় ধরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন।

  • দেশের সব মসজিদে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত
  • মৃত্যুর মিছিলে দগ্ধ মাহিন ও আইমান
  • অনবরত চোখের পানি ঝরছে রাইসা মনির বাবা-মায়ের
  • শিক্ষিকা মাসুকার কবরে বিমান বাহিনীর গার্ড অব অনার প্রদান
  • পাইলট তৌকিরের পরিবারের সঙ্গে দেখা করলেন মির্জা ফখরুল

একই দিন বিকেলে বার্ন ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগে এক সংবাদ সম্মেলনে বার্ন ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক নাসির উদ্দীন জানান, শুক্রবার পরপর দগ্ধ দুই শিক্ষার্থী বার্ন ইনস্টিটিউটে মারা গেছে। এখানে এখনো ৪০ জন চিকিৎসাধীন। তাদের মধ্যে ক্রিটিক্যাল (সংকটাপন্ন) অবস্থা পাঁচজনের। তাদের আইসিইউতে রাখা হয়েছে। তাদের চেয়ে একটু কম গুরুতর অর্থাৎ সিভিয়ার ক্যাটাগরিতে রয়েছেন ১০ জন। আর ইন্টারমিডিয়েট ক্যাটাগরিতে পোস্ট-অপারেটিভ রাখা হয়েছে আরও ১০ জনকে। বার্ন ইনস্টিটিউটের কেবিনে রয়েছেন ১৫ জন। তিনি জানান, সিঙ্গাপুর, চীন ও ভারতের চিকিৎসক দল তাদের সঙ্গে এসব রোগীর চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা নিয়ে বৈঠক করেছেন। তারা রোগীদের দেখেছেনও।

অনবরত চোখের পানি ঝরছে রাইসা মনির বাবা-মায়ের
চিরনিদ্রায় শায়িত হয়েছে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছোট্ট রাইসা মনি (১১)। ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় গ্রামের বাড়িতে তাকে দাফন করা হয়। মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক এমন ঘটনায় শোকে স্তব্ধ পুরো গ্রামবাসী। ঘটনার পর থেকে অনবরত চোখের পানি ঝরছে রাইসা মনির বাবা-মায়ের। শুক্রবার (২৫ জুলাই) সকাল ৯টায় উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের বাজড়া ঈদগাহ ময়দানে জানাজা শেষে বাজড়া কবরস্থানে তার দাফন হয়। সন্তানের এমন মৃত্যুতে শোকে কাতর শাহাবুল-মিম দম্পতি। রাইসা মনির জন্মের দুই বছর আগে তাদের কোলজুড়ে আসে সিনথিয়া (১৩) ও সবার ছোট ছেলে রাফসান শেখ (৪)।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রাইসা মনির বাবা-মায়ের ইচ্ছা ছিল ছেলে-মেয়েকে ভালো স্কুলে পড়ানোর। উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করে ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবেন। সেই লক্ষ্যে ভর্তি করেছিলেন মাইলস্টোনে। রাইসা মনি তৃতীয় শ্রেণিতে পড়তো। একই স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী তার বড় বোন সিনথিয়া। ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য ওবায়দুর রহমান বলেন, রাইসা মনির অকালমৃত্যুতে পুরো এলাকার মানুষ শোকে বিহ্বল। তার মরদেহ বাড়ি পৌঁছানোর পর হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। এমন কোনো মানুষ নেই তার জন্য কাঁদেনি। রাইসা মনির বাবা শাহাবুল শেখ বলেন, মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান বিধ্বস্তের পরদিন ২২ জুলাই ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে সিআইডি। পরে নমুনাগুলো বিশ্লেষণ করে আমার মেয়ের মরদেহ শনাক্ত করা হয়। রাতেই মেয়ের মরদেহ নিয়ে গ্রামের বাড়ি আসি। বাড়ি পৌঁছাতে ভোর হয়ে যায়।

শিক্ষিকা মাসুকার কবরে বিমান বাহিনীর গার্ড অব অনার প্রদান
বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় নিহত শিক্ষিকা মাসুকা বেগমের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও গার্ড অব অনার প্রদান করেছে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী। শুক্রবার (২৫ জুলাই) দুপুর আড়াইটার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জের সোহাগপুর গ্রামে মাসুকার সম্মানে গার্ড অব অনার প্রদান করে বিমান বাহিনীর ১০ সদস্যের প্রতিনিধি দলটি। পরে গার্ড অব অনার ও পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষ কবর জিয়ারত এবং মোনাজাত করেন প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। পরে স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে সমবেদনা জানান তারা।

এসময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিমান বাহিনীর স্কোয়াড্রন লিডার মশিউর রহমান বলেন, ঢাকা খুবই স্ট্র্যাটেজিক লোকেশন, যেখানে আমাদের নিরাপত্তা খুবই দরকার। যেহেতু ঢাকার আশপাশ এলাকায় জনবসতি অনেক বেড়ে গেছে, সেহেতু আমাদের সবকিছু কম্প্রোমাইজ করেই ফ্লাইয়িং করতে হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, যেকোনো সময় যেকোনোভাবেই দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। স্বাধীনতার পর থেকেই ঢাকায় ফ্লাইয়িং হচ্ছে। এমন দুর্ঘটনা তো প্রতিনিয়ত ঘটে না।

পাইলট তৌকিরের পরিবারের সঙ্গে দেখা করলেন মির্জা ফখরুল
যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তে নিহত ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মো. তৌকির ইসলামের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে দেখা করেন তারা। শুক্রবার (২৫ জুলাই) বিকেল ৪টায় ঢাকা সেনানিবাসে বিমানবাহিনীর অফিসার্স মেসে এ সাক্ষাৎ করেন তারা। এসময়ে নিহত পাইলট তৌকিরের স্ত্রী আকশা আহম্মেদ নিঝুমসহ তার বাবা-মা-ভাইরা ও বিমান বাহিনীর কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বিএনপি মহাসচিবের সঙ্গে ছিলেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক বিমান বাহিনী প্রধান অবসরপ্রাপ্ত এয়ার ভাইস মার্শাল আলতাফ হোসেন চ্যৌধুরী, বিমানবাহিনী প্রধান অবসরপ্রাপ্ত এয়ার ভাইস মার্শাল ফখরুল আজম, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল ফজলে এলাহী আকবর, অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম শামসুল ইসলাম শামস, অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল শামসুজ্জামান খান। তৌকির ইসলামের মর্মান্তিক মৃত্যুতে তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান মির্জা ফখরুল। একই সঙ্গে শোকসন্তপ্ত এই পরিবারকে তাদের প্রতি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সহমর্মিতার বার্তা পৌঁছে দেন তিনি।

কালের আলো/এমএএইচএন

প্রথমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয় পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্র

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ৯:৪৯ অপরাহ্ণ
প্রথমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয় পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্র

Oplus_131072

দায়িত্ব নেওয়ার পর এই প্রথম শিক্ষা মন্ত্রণালয় পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরিদর্শনকালে তিনি মন্ত্রণালয়ের সার্বিক কার্যক্রম পর্যালোচনা করেন এবং মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার প্রধান এবং মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনকারী অভিজ্ঞ শিক্ষা কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) শিক্ষা মন্ত্রণালয় পরিদর্শনকালে এ মতবিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী।

পর্যালোচনা সভায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চলমান কার্যক্রম, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প, শিক্ষা নীতি বাস্তবায়নের অগ্রগতি এবং প্রশাসনিক কার্যকারিতা নিয়ে বিস্তারিত উপস্থাপনা প্রদান করা হয়। প্রধানমন্ত্রী এসব কার্যক্রম পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।

সভায় শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ, কার্যকর পাঠদান, শিক্ষকদের যুগোপযোগী ও ধারাবাহিক প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা সম্প্রসারণ এবং প্রশাসনিক জবাবদিহিতা আরও শক্তিশালী করার বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পায়।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী মাঠপর্যায়ে কর্মরত অভিজ্ঞ শিক্ষা কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেন। তারা শিক্ষাক্ষেত্রের বাস্তব চিত্র, বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে করণীয় বিষয়ে নিজেদের অভিজ্ঞতা ও মতামত তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী তাদের বক্তব্য মনোযোগসহকারে শোনেন এবং নীতিনির্ধারণ ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা ও পরামর্শকে যথাযথ গুরুত্ব দেয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। এ লক্ষ্যে শিক্ষাব্যবস্থার প্রতিটি স্তরে গুণগত পরিবর্তন আনতে সমন্বিত উদ্যোগ, কার্যকর তদারকি এবং সময়োপযোগী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন অব্যাহত থাকবে।’

পরিদর্শন শেষে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিষ্ঠা, পেশাদারিত্ব ও জনসেবার মানসিকতা নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান এবং শিক্ষাব্যবস্থার সার্বিক উন্নয়নে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন।

কালের আলো/এসএকে

মাত্রাতিরিক্ত প্রিজারভেটিভ: ৩ খাদ্যপণ্য বাজার থেকে অপসারণের নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ৯:৪৪ অপরাহ্ণ
মাত্রাতিরিক্ত প্রিজারভেটিভ: ৩ খাদ্যপণ্য বাজার থেকে অপসারণের নির্দেশ

জ্যাম ফিল্ড ব্রেড ও পুর পিঠাসহ তিনটি খাদ্যপণ্য বাজার থেকে অবিলম্বে প্রত্যাহারের নির্দেশ বিএফএসএ’র।

মাত্রাতিরিক্ত প্রিজারভেটিভ ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়ায় জ্যাম ফিল্ড ব্রেড ও পুর পিঠাসহ তিনটি খাদ্যপণ্য বাজার থেকে অবিলম্বে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ)। একই সঙ্গে পণ্যগুলোর উৎপাদন, বিপণন ও বিক্রি বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়ে ভোক্তাদের এসব পণ্য না কেনার আহ্বান জানানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, প্রত্যাহারের নির্দেশ পাওয়া পণ্যগুলো হলো ইস্ট কেক ইন্টারন্যাশনাল ফুড লিমিটেডের ‘ইস্ট কেক পুর পিঠা জ্যাম ফিল্ড’, ইস্ট জিবাই ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের ‘ইস্ট বেকার স্লাইস ব্রেড মিল্ক জ্যাম ফিল্ড’ এবং আরবোটিং ফুড কোং লিমিটেডের ‘আরবোটিং ফুড স্লাইস ব্রেড মিক্স জ্যাম ফিল্ড’।

বিএফএসএ ভোক্তাদের এসব পণ্য না কিনতে ও গ্রহণ না করার অনুরোধ জানিয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাজারে থাকা পণ্য দ্রুত প্রত্যাহার করে নিরাপদ খাদ্য আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ব্রিফিংয়ে ডা. জাহেদ উর রহমান আরও জানান, সরকারি খাদ্যগুদামে বর্তমানে ২৩ লাখ ৯৬ হাজার ৭৫৩ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য মজুত রয়েছে, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। নিরাপদ মজুতের নির্ধারিত মান ১৩ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টনের তুলনায় এই মজুত প্রায় ১০ লাখ ৪৬ হাজার ৭৫৩ মেট্রিক টন বেশি।

তিনি জানান, অভ্যন্তরীণ বোরো সংগ্রহ অভিযানে ২৬ জুলাই পর্যন্ত ৪ লাখ ৭৩ হাজার ৫ মেট্রিক টন ধান এবং ১০ লাখ ৭৮ হাজার ৮৩৬ মেট্রিক টন চাল সংগ্রহ করা হয়েছে। এ ছাড়া ওএমএস কর্মসূচির আওতায় প্রতিদিন ১ হাজার ১৯৫ মেট্রিক টন চাল ও ১ হাজার ৪৪৩ মেট্রিক টন আটা বিক্রি করা হচ্ছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

চটকদার বিজ্ঞাপনে অবৈধ অভিবাসন বন্ধে সরকার কঠোর হবে: প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ৯:০৫ অপরাহ্ণ
চটকদার বিজ্ঞাপনে অবৈধ অভিবাসন বন্ধে সরকার কঠোর হবে: প্রতিমন্ত্রী

বিদেশে কর্মসংস্থানের নামে চটকদার বিজ্ঞাপন ও প্রতারণার মাধ্যমে অবৈধ অভিবাসন ঠেকাতে সরকার কঠোর অবস্থান নেবে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনশক্তি তৈরির পাশাপাশি নিরাপদ ও বৈধ অভিবাসন নিশ্চিত করার ওপর সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বিনিয়োগ ভবনে বিশ্ব যুব দক্ষতা দিবস ২০২৬ উপলক্ষে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (এনএসডিএ) আয়োজিত র‌্যালি ও আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নুরুল হক বলেন, বর্তমান সরকার স্বল্প ব্যয়ে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনশক্তি বিদেশে পাঠাতে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। আগামী ১৮ মাসের মধ্যে দেশের অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলো কার্যকরভাবে চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা কর্মসংস্থান ও দক্ষ জনশক্তির চাহিদা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে।

তিনি বলেন, দক্ষতা উন্নয়নে শুধু সরকারের উদ্যোগই যথেষ্ট নয়। এ ক্ষেত্রে বেসরকারি খাতকেও আরও সক্রিয়ভাবে এগিয়ে আসতে হবে। একই সঙ্গে নতুন উদ্যোক্তা তৈরির ওপর গুরুত্ব দিতে হবে, যাতে দেশের তরুণেরা দেশে ও বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ কাজে লাগাতে পারেন।

প্রতিমন্ত্রী জানান, কাতার সরকার বাংলাদেশের চারটি সরকারি কারিগরি প্রশিক্ষণকেন্দ্রকে তাদের শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী উপযোগী করে গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানের দক্ষ জনবল তৈরি করা সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, ইউরোপে নতুন নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। সেই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি প্রথাগত শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের বাইরে বিকল্প ও উদ্ভাবনী উপায়ে দক্ষতা অর্জনের সুযোগও সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন।

নুরুল হক বলেন, বিদেশে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে চটকদার বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে অনেককে অবৈধ অভিবাসনের পথে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। এ ধরনের প্রতারণা ও অবৈধ অভিবাসন রোধে সরকার কঠোর অবস্থান গ্রহণ করবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কার্যক্রমের প্রশংসা করে বলেন, দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রম আরও বিস্তৃত ও কার্যকর করতে এনএসডিএকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। দেশের যুবসমাজকে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করতে সরকারি-বেসরকারি সব অংশীজনের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ও সরকারের সচিব ড. নাজনীন কাউসার চৌধুরী সভাপতিত্ব করেন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা (মন্ত্রী পদমর্যাদা) রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার এবং জাতীয় মানবসম্পদ উন্নয়ন তহবিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তৌহিদুর রহমান। এছাড়া বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও দপ্তর-সংস্থার প্রতিনিধি, উন্নয়ন সহযোগী, বেসরকারি সংস্থা, প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান, শিল্পখাতের প্রতিনিধি, প্রশিক্ষক, অ্যাসেসর, প্রশিক্ষণার্থী এবং তরুণ-যুব প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ