খুঁজুন
                               
শনিবার, ৯ মে, ২০২৬, ২৬ বৈশাখ, ১৪৩৩
           

মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি: প্রাণহানি বেড়ে ৩৩, দগ্ধ পাঁচজনের অবস্থা সংকটাপন্ন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৫, ১২:২২ পূর্বাহ্ণ
মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি: প্রাণহানি বেড়ে ৩৩, দগ্ধ পাঁচজনের অবস্থা সংকটাপন্ন

আব্দুল হামিদ/শফিকুল ইসলাম পলাশ, কালের আলো:

রাজধানীর উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় শুক্রবার (২৫ জুলাই) জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মাকিন (১৪) ও আইমান (১০) মারা গেছেন। দুর্ঘটনার পর থেকে তাঁরা মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে যাচ্ছিল কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। এর ফলে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৩ জনে। ভয়াবহ এই দুর্ঘটনার পাঁচ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনও বিভিন্ন হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন অনেকেই। জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন ৪০ জনের মধ্যে পাঁচজনের অবস্থা সংকটাপন্ন। তারা নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়েছে। এই ট্র্যাজেডিতে ঝরে গেছে বহু শিক্ষার্থী, শিক্ষকের প্রাণ। যারা তখন ক্লাসরুম ও ক্যাম্পাসজুড়ে দৈনন্দিন জীবনের স্বাভাবিকতায় মগ্ন ছিলেন।

এদিকে, এ ঘটনায় নিহতদের রুহের মাগফিরাত ও আহতদের সুস্থতা কামনায় দেশের সব মসজিদে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (২৫ জুলাই) বাদ জুমা বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয় সুবিধাজনক সময়ে বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে সারাদেশের মসজিদ ও ধর্মীয় উপাসনালয়ে বিশেষ মোনাজাত ও বিশেষ প্রার্থনার আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয়। উপদেষ্টা পরিষদের সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে চিঠি ইস্যু করে ধর্ম মন্ত্রণালয়।

শুক্রবার (২৫ জুলাই) বিকেলে প্রধান উপদেষ্টার সহকারী প্রেস সচিব সুচিস্মিতা তিথি গণমাধ্যমকে জানান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে মারা গেছেন ১৫ জন, সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) আরও ১৫ জন। এছাড়া ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একজন, লুবনা জেনারেল হাসপাতাল অ্যান্ড কার্ডিয়াক সেন্টারে একজন (যার পরিচয় এখনও নিশ্চিত হয়নি) এবং ইউনাইটেড হাসপাতালে মারা গেছেন আরেকজন। তিনি আরও জানান, অনেকে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই মারা গেছেন, আবার কেউ কেউ দীর্ঘসময় ধরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন।

  • দেশের সব মসজিদে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত
  • মৃত্যুর মিছিলে দগ্ধ মাহিন ও আইমান
  • অনবরত চোখের পানি ঝরছে রাইসা মনির বাবা-মায়ের
  • শিক্ষিকা মাসুকার কবরে বিমান বাহিনীর গার্ড অব অনার প্রদান
  • পাইলট তৌকিরের পরিবারের সঙ্গে দেখা করলেন মির্জা ফখরুল

একই দিন বিকেলে বার্ন ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগে এক সংবাদ সম্মেলনে বার্ন ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক নাসির উদ্দীন জানান, শুক্রবার পরপর দগ্ধ দুই শিক্ষার্থী বার্ন ইনস্টিটিউটে মারা গেছে। এখানে এখনো ৪০ জন চিকিৎসাধীন। তাদের মধ্যে ক্রিটিক্যাল (সংকটাপন্ন) অবস্থা পাঁচজনের। তাদের আইসিইউতে রাখা হয়েছে। তাদের চেয়ে একটু কম গুরুতর অর্থাৎ সিভিয়ার ক্যাটাগরিতে রয়েছেন ১০ জন। আর ইন্টারমিডিয়েট ক্যাটাগরিতে পোস্ট-অপারেটিভ রাখা হয়েছে আরও ১০ জনকে। বার্ন ইনস্টিটিউটের কেবিনে রয়েছেন ১৫ জন। তিনি জানান, সিঙ্গাপুর, চীন ও ভারতের চিকিৎসক দল তাদের সঙ্গে এসব রোগীর চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা নিয়ে বৈঠক করেছেন। তারা রোগীদের দেখেছেনও।

অনবরত চোখের পানি ঝরছে রাইসা মনির বাবা-মায়ের
চিরনিদ্রায় শায়িত হয়েছে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছোট্ট রাইসা মনি (১১)। ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় গ্রামের বাড়িতে তাকে দাফন করা হয়। মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক এমন ঘটনায় শোকে স্তব্ধ পুরো গ্রামবাসী। ঘটনার পর থেকে অনবরত চোখের পানি ঝরছে রাইসা মনির বাবা-মায়ের। শুক্রবার (২৫ জুলাই) সকাল ৯টায় উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের বাজড়া ঈদগাহ ময়দানে জানাজা শেষে বাজড়া কবরস্থানে তার দাফন হয়। সন্তানের এমন মৃত্যুতে শোকে কাতর শাহাবুল-মিম দম্পতি। রাইসা মনির জন্মের দুই বছর আগে তাদের কোলজুড়ে আসে সিনথিয়া (১৩) ও সবার ছোট ছেলে রাফসান শেখ (৪)।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রাইসা মনির বাবা-মায়ের ইচ্ছা ছিল ছেলে-মেয়েকে ভালো স্কুলে পড়ানোর। উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করে ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবেন। সেই লক্ষ্যে ভর্তি করেছিলেন মাইলস্টোনে। রাইসা মনি তৃতীয় শ্রেণিতে পড়তো। একই স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী তার বড় বোন সিনথিয়া। ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য ওবায়দুর রহমান বলেন, রাইসা মনির অকালমৃত্যুতে পুরো এলাকার মানুষ শোকে বিহ্বল। তার মরদেহ বাড়ি পৌঁছানোর পর হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। এমন কোনো মানুষ নেই তার জন্য কাঁদেনি। রাইসা মনির বাবা শাহাবুল শেখ বলেন, মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান বিধ্বস্তের পরদিন ২২ জুলাই ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে সিআইডি। পরে নমুনাগুলো বিশ্লেষণ করে আমার মেয়ের মরদেহ শনাক্ত করা হয়। রাতেই মেয়ের মরদেহ নিয়ে গ্রামের বাড়ি আসি। বাড়ি পৌঁছাতে ভোর হয়ে যায়।

শিক্ষিকা মাসুকার কবরে বিমান বাহিনীর গার্ড অব অনার প্রদান
বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় নিহত শিক্ষিকা মাসুকা বেগমের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও গার্ড অব অনার প্রদান করেছে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী। শুক্রবার (২৫ জুলাই) দুপুর আড়াইটার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জের সোহাগপুর গ্রামে মাসুকার সম্মানে গার্ড অব অনার প্রদান করে বিমান বাহিনীর ১০ সদস্যের প্রতিনিধি দলটি। পরে গার্ড অব অনার ও পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষ কবর জিয়ারত এবং মোনাজাত করেন প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। পরে স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে সমবেদনা জানান তারা।

এসময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিমান বাহিনীর স্কোয়াড্রন লিডার মশিউর রহমান বলেন, ঢাকা খুবই স্ট্র্যাটেজিক লোকেশন, যেখানে আমাদের নিরাপত্তা খুবই দরকার। যেহেতু ঢাকার আশপাশ এলাকায় জনবসতি অনেক বেড়ে গেছে, সেহেতু আমাদের সবকিছু কম্প্রোমাইজ করেই ফ্লাইয়িং করতে হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, যেকোনো সময় যেকোনোভাবেই দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। স্বাধীনতার পর থেকেই ঢাকায় ফ্লাইয়িং হচ্ছে। এমন দুর্ঘটনা তো প্রতিনিয়ত ঘটে না।

পাইলট তৌকিরের পরিবারের সঙ্গে দেখা করলেন মির্জা ফখরুল
যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তে নিহত ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মো. তৌকির ইসলামের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে দেখা করেন তারা। শুক্রবার (২৫ জুলাই) বিকেল ৪টায় ঢাকা সেনানিবাসে বিমানবাহিনীর অফিসার্স মেসে এ সাক্ষাৎ করেন তারা। এসময়ে নিহত পাইলট তৌকিরের স্ত্রী আকশা আহম্মেদ নিঝুমসহ তার বাবা-মা-ভাইরা ও বিমান বাহিনীর কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বিএনপি মহাসচিবের সঙ্গে ছিলেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক বিমান বাহিনী প্রধান অবসরপ্রাপ্ত এয়ার ভাইস মার্শাল আলতাফ হোসেন চ্যৌধুরী, বিমানবাহিনী প্রধান অবসরপ্রাপ্ত এয়ার ভাইস মার্শাল ফখরুল আজম, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল ফজলে এলাহী আকবর, অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম শামসুল ইসলাম শামস, অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল শামসুজ্জামান খান। তৌকির ইসলামের মর্মান্তিক মৃত্যুতে তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান মির্জা ফখরুল। একই সঙ্গে শোকসন্তপ্ত এই পরিবারকে তাদের প্রতি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সহমর্মিতার বার্তা পৌঁছে দেন তিনি।

কালের আলো/এমএএইচএন

ভোররাতে ছিনতাইকারীর কবলে বরযাত্রীর মাইক্রোবাস, সর্বস্ব লুট

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ৯ মে, ২০২৬, ২:০৫ পূর্বাহ্ণ
ভোররাতে ছিনতাইকারীর কবলে বরযাত্রীর মাইক্রোবাস, সর্বস্ব লুট
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিয়ে বাড়ি থেকে ফেরারপথে ছিনতাইকারীর কবলে পড়েছে বরযাত্রীদের বহনকারী মাইক্রোবাস। এ সময় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে লুট করা হয় নগদ টাকা, অলংকার, গহনাসহ সব। শুক্রবার (৮ মে) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে উপজেলার নূনাছড়া এলাকায় পাশে এ ঘটনা ঘটেভুক্তভোগীদের একজন জনি বণিক (২৯) জানান, একটি বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে তারা মাইক্রোবাসযোগে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে নূনাছড়া এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ বিকট শব্দ শোনা যায়। পরে গাড়িচালক গাড়িটি থামালে তারা কয়েকজন নিচে নেমে মোবাইলের লাইট জ্বালিয়ে গাড়ি থেকে কিছু পড়ে গেছে কি না তা খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন।এ সময় হঠাৎ মহাসড়কের পাশের জমি থেকে ৫ থেকে ৬ জন সশস্ত্র দুর্বৃত্ত বেরিয়ে আসে। তাদের হাতে রামদা, কিরিচ ও ছুরি ছিল। দুর্বৃত্তরা ভয়ভীতি দেখিয়ে গাড়িতে থাকা যাত্রীদের জিম্মি করে ৫টি মোবাইল ফোন, মানিব্যাগে থাকা প্রায় ৩০ হাজার টাকা, নগদ অর্থ এবং স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেয়। তিনি আরও জানান, গাড়ির বাইরে থাকা তিনজনকে ধাওয়া করলে তারা প্রাণ বাঁচাতে দৌড়ে পাশের একটি মসজিদে গিয়ে আশ্রয় নেন। পরে মসজিদের ভেতর থেকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়।ঘটনার পর ভুক্তভোগীরা সীতাকুণ্ড মডেল থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সকালে কুমিরা হাইওয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।এ বিষয়ে কুমিরা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রব্বানী বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

কালের আলো/এসআইপি

বিএনপিই প্রথম শাপলা চত্বরের হত্যাকাণ্ডকে গণহত্যার স্বীকৃতি দিয়েছিল: তথ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৮ মে, ২০২৬, ৯:৩৫ অপরাহ্ণ
বিএনপিই প্রথম শাপলা চত্বরের হত্যাকাণ্ডকে গণহত্যার স্বীকৃতি দিয়েছিল: তথ্যমন্ত্রী

দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিএনপির বিবৃতিতেই সর্বপ্রথম শাপলা ট্র্যাজেডিকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল, বলে দাবি করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

শুক্রবার (৮ মে) রাজধানীর বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনে শাপলা স্মৃতি সংসদ আয়োজিত ‘শাপলার শহীদগাঁথা: স্মরণ ও মূল্যায়ন’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, শাপলা চত্বরের ঘটনার পর বিএনপি সাহসিকতার সঙ্গে এটিকে গণহত্যা হিসেবে তুলে ধরেছিল। তিনি দাবি করেন, বর্তমান সরকার ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তিনি আরও বলেন, বিগত সরকারের সময়ে এ ঘটনার প্রকৃত তথ্য আড়াল করার চেষ্টা করা হয়েছিল। তার অভিযোগ, সে সময় বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয় এবং শাপলা চত্বরের ঘটনার সত্য চাপা দেওয়ার চেষ্টা চলে।

একই অনুষ্ঠানে ১১-দলীয় ঐক্যের নেতারাও বক্তব্য দেন। তারা শাপলা চত্বরের ঘটনাকে ‘ফ্যাসিবাদের নির্মম উদাহরণ’ হিসেবে উল্লেখ করে বিচার দাবি করেন।

অনুষ্ঠানে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, শাপলা চত্বরে অভিযান চালানোর সময় বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে ব্যাপক শক্তি প্রয়োগ করা হয়েছিল। তিনি দাবি করেন, এখন পর্যন্ত তদন্তে ৭২ জনের বেশি মানুষের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে এবং আরও অনেকে নিখোঁজ রয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, ২০১৩ সালের ৫ মে’র ঘটনা এবং ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থান একই রাজনৈতিক ধারাবাহিকতার অংশ, যা কর্তৃত্ববাদবিরোধী আন্দোলনের প্রতিফলন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

মাদক পাচার রোধে ঢাকা-ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক সই

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৮ মে, ২০২৬, ৯:২৯ অপরাহ্ণ
মাদক পাচার রোধে ঢাকা-ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক সই

মাদকদ্রব্য ও সাইকোট্রপিক উপাদানের অবৈধ পাচার এবং অপব্যবহার প্রতিরোধে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছে।

শুক্রবার (৮ মে) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ মহসিন রাজা নাকভি নিজ নিজ দেশের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ফয়সল হাসান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এই সমঝোতা স্মারকের আওতায় দুই দেশ মাদক পাচার, মাদক সংক্রান্ত অর্থ পাচার এবং সংশ্লিষ্ট অপরাধ প্রতিরোধে তথ্য আদান-প্রদান ও কারিগরি সহযোগিতা জোরদার করবে। পাশাপাশি মাদক পাচারে জড়িত সন্দেহভাজন ব্যক্তি, পাচারকারী চক্র এবং নতুন পাচার কৌশল ও রুট সম্পর্কে নিয়মিত গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় করা হবে।

সমঝোতা অনুযায়ী, উভয় দেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো পারস্পরিক অনুরোধের ভিত্তিতে যৌথ গোয়েন্দা কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে। এছাড়া ‘কন্ট্রোলড ডেলিভারি অপারেশন’-এর মতো সমন্বিত অভিযান পরিচালনার বিষয়েও দুই দেশ একমত হয়েছে।

চুক্তিতে মাদক নিয়ন্ত্রণ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ, পুনঃপ্রশিক্ষণ এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণার ফলাফল বিনিময়ের বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। একইসঙ্গে লুকানো মাদক শনাক্তে আধুনিক প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম ও স্নিফার ডগ ব্যবহারের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নিয়মিত ও অপারেশনাল তথ্য বিনিময়ের জন্য বাংলাদেশের পক্ষে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এবং পাকিস্তানের পক্ষে অ্যান্টি নারকোটিকস ফোর্স (এএনএফ) ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে।

এতে আরও উল্লেখ করা হয়, আদান-প্রদানকৃত সব তথ্য ও নথিপত্রের কঠোর গোপনীয়তা বজায় রাখা হবে এবং তৃতীয় কোনো পক্ষের কাছে তা প্রকাশ করা হবে না।

চুক্তিটি স্বাক্ষরের দিন থেকে ১০ বছরের জন্য কার্যকর থাকবে। পরবর্তী সময়ে উভয় পক্ষের সম্মতির ভিত্তিতে এর মেয়াদ আরও বাড়ানো যাবে।

বাংলাদেশ ও পাকিস্তান উভয় দেশই আশা প্রকাশ করেছে, এই সহযোগিতার মাধ্যমে মাদক পাচার প্রতিরোধের পাশাপাশি দুই দেশের নাগরিকদের জনস্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ