খুঁজুন
                               
, ,
           

রাজধানীতে আবারও বড় শোডাউন, সিলেকশন নয় ইলেকশন চায় জামায়াত

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৫, ১১:৩১ অপরাহ্ণ
রাজধানীতে আবারও বড় শোডাউন, সিলেকশন নয় ইলেকশন চায় জামায়াত

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:

মাসখানেক আগে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দলের জাতীয় সমাবেশে সারাদেশ থেকে লাখ লাখ নেতাকর্মীকে জড়ো করে ইতিহাস তৈরি করেছিল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। গত ১৯ জুলাইয়ের ওই সমাবেশের পর আবারও রাজধানীতে বড় শোডাউন করেছে দলটি। ‘জুলাই জাতীয় ঘোষণাপত্র’ ও ‘জুলাই জাতীয় সনদ’-এর আইনগত স্বীকৃতি প্রদান এবং এই সনদের ভিত্তিতে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের দাবিতে বুধবার (১৩ আগস্ট) বিকেলে এই বিক্ষোভ মিছিলের মাধ্যমে নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি ও জনপ্রিয়তার কথা জানান দিয়েছে তাঁরা। এর আগে বিক্ষোভ সমাবেশে দলের নায়েবে আমির ও সাবেক সংসদ সদস্য ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেছেন, ‘আমরা নির্বাচনে যেতে চাই। তার আগে নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার সব বিষয় স্পষ্ট করতে হবে। আমরা ইলেকশন চাই সিলেকশন চাই না।’

রাজধানীর বিজয়নগরের পানির ট্যাংকি এলাকায় এদিন জামায়াতের সমাবেশের সূচনা হয় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে। এরপর সাইমুম শিল্পীগোষ্ঠীর সদস্যরা পরিবেশন করেন ইসলামি সঙ্গীত। সমাবেশটি সঞ্চালনা করেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের সেক্রেটারি ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ। এ কর্মসূচির আয়োজন করে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ জামায়াত।

কেন্দ্রীয় ও মহানগরীর শীর্ষ নেতারা এই সমাবেশে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দেন। এরপর শুরু হয় বিক্ষোভ মিছিল। মিছিলটি বিজয়নগর পানির ট্যাংকি থেকে শুরু করে কাকরাইলের দিকে যাত্রা করে। হাজার হাজার মানুষের শ্লোগানে প্রকম্পিত হয় নগরীর রাজপথ। মিছিলটি কাকরাইল ও মৎস্য ভবন হয়ে শাহবাগে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় নেতা-কর্মীদের হাতে প্রয়োজনীয় মৌলিক সংস্কার, নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড (সবার জন্য সমান সুযোগ) নিশ্চিত করা, পিআর পদ্ধতিতে জাতীয় নির্বাচনসহ বিভিন্ন দাবিসংবলিত প্ল্যাকার্ড দেখা যায়।

বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দলের নায়েবে আমির ও সাবেক সংসদ সদস্য ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল। সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান, আবদুল হালিম, ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের আমির সেলিম উদ্দিন প্রমুখ।

বিক্ষোভ সমাবেশে দলের নায়েবে আমির ও সাবেক সংসদ সদস্য ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের অভিযোগ করেন, আবারও দেশের জনগণের ভোটাধিকার হরণের পাঁয়তারা চলছে। সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, জনগণের বিপরীতে দাঁড়াবেন না। আরেকটি এক-এগারোর ক্ষেত্র তৈরি করবেন না।

  • হাজার হাজার মানুষের শ্লোগানে প্রকম্পিত নগরীর রাজপথ
  • নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি ও জনপ্রিয়তার বার্তা
  • পিআর পদ্ধতিতে জাতীয় নির্বাচনসহ বিভিন্ন দাবিসংবলিত প্ল্যাকার্ড

আবদুল্লাহ তাহের বলেন, ‘নির্বাচন যে তারিখে দিছে, এটা ঠিক আছে। আমরা তার আগেও নির্বাচন চাইছিলাম। ডিসেম্বর হলেও আমরা করতাম। মানুষ আশা করে, এবার একটি সুষ্ঠু নির্বাচন হবে। আমরা ইলেকশন চাই, সিলেকশন চাই না।’

বিদেশের ডিজাইনে (ছকে) পরিকল্পিত নির্বাচনের বিষয়ে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে সমাবেশে আবদুল্লাহ তাহের বলেন, দেশের মানুষ জীবন এবং রক্ত দিয়ে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন আদায় করবে। তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী নির্বাচনে যেতে চায়, কিন্তু তার আগে সুষ্ঠু নির্বাচন হওয়ার বিষয়গুলো জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে। নির্বাচনের জন্য আনন্দমুখর পরিবেশ তৈরি করতে হবে।

অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ে সরকারকে আলোচনা টেবিলে বসার জন্য আহ্বান জানান জামায়াত নেতা আবদুল্লাহ তাহের। তিনি বলেন, ‘দেশকে অনিশ্চয়তার দিকে নিয়ে যাবেন না। জনগণের বিপরীতে দাঁড়াবেন না। আরেকটি এক-এগারোর ক্ষেত্র তৈরি করবেন না।’

আবদুল্লাহ তাহের বলেন, ‘আমরা রাজনৈতিক দল এবং রাজনীতিবিদেরা দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়ে সবাই মিলে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন করতে হবে। অতীতের মতো অংশগ্রহণহীন নির্বাচন করলে এবার বাংলাদেশ টিকবে না, স্বাধীনতা টিকবে না।’

জামায়াতের নায়েবে আমির আবদুল্লাহ তাহের বলেন, এই সরকারের প্রধান কাজ সংস্কার করা। তারা সংস্কারের জন্যই কমিশন তৈরি করেছে। সে কমিশনের সবাই ঐকমত্য হওয়ার পর সরকার বলে এটির আইনি ভিত্তি নেই। তাহলে সংস্কার হলো কোথায়? তিনি বলেন, যেসব বিষয় ঐকমত্য হয়েছে, তার ওপর ভিত্তি করে আগামী নির্বাচন হতে হবে।

একটি জরিপের কথা উল্লেখ করে আবদুল্লাহ তাহের বলেন, ‘দেশের ৭১ শতাংশ মানুষ পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন চায়। তারা পিআরের পক্ষে। কিন্তু আপনারা যাঁরা বিরোধিতা করছেন, আপনাদের কি বিরোধিতা করার অধিকার আছে?’

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘আমরা নির্বাচনের আগেই দেখছি, কোনো কোনো দলের কেন্দ্রীয় নেতারা নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলে জিহ্বা কেটে দেওয়া হবে বলে ঘোষণা দিচ্ছেন। আমরা লক্ষ করছি, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি ঘোষণা করছেন; কিন্তু এখনো জিহ্বা কেটে নেওয়ার কথা বলা এই সন্ত্রাসীকে কেন গ্রেপ্তার করতে পারেননি?’

কালের আলো/এইচএন/এমএএইচ

দেশের ৯ অঞ্চলের নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ৮:২১ পূর্বাহ্ণ
দেশের ৯ অঞ্চলের নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত

ঝড়-বৃষ্টির আশঙ্কায় দেশের ৯টি অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলেছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকাল ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, ময়মনসিংহ ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি কিংবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এ কারণে এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর (পুনঃ) সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

এদিকে গতকাল রাতে প্রকাশিত আবহাওয়া অধিদপ্তরের সারাদেশের সম্ভাব্য পূর্বাভাসেও আজ বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকার কথা বলা হয়েছে। আজ সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত পূর্বাভাসে বলা হয়, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রংপুর, ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

একই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে, তবে রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি 

হেপাটাইটিসমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সম্মিলিত প্রচেষ্টার আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ৮:১৬ পূর্বাহ্ণ
হেপাটাইটিসমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সম্মিলিত প্রচেষ্টার আহ্বান

জনসচেতনতা বৃদ্ধি, প্রতিরোধ, প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নির্ণয় এবং সহজলভ্য চিকিৎসা নিশ্চিত করার মাধ্যমে হেপাটাইটিসমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সম্মিলিত প্রচেষ্টার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) ‘বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস’ উপলক্ষ্যে দেওয়া এক বাণীতে তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, প্রযুক্তিনির্ভর চিকিৎসা সুবিধার প্রসার এবং সুবিধাবঞ্চিত মানুষের চিকিৎসা নিরাপত্তা নিশ্চিতে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে বাংলাদেশেও দিবসটি যথাযোগ্য কর্মসূচি এবং অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে পালিত হচ্ছে। দিবসের এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘চলুন সহজভাবে বুঝি’। এই প্রতিপাদ্যে হেপাটাইটিস সম্পর্কে ভুল ধারণা দূর করে সচেতনতা সৃষ্টির গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে।

একইসঙ্গে হেপাটাইটিস সম্পর্কে ভয় ও সামাজিক প্রতিবন্ধকতা দূর করে প্রতিরোধ, পরীক্ষা এবং চিকিৎসা সবার জন্য সহজলভ্য করার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, হেপাটাইটিস বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য সমস্যা। প্রতিবছর লাখ লাখ মানুষ হেপাটাইটিস বি ও সি-এর কারণে লিভার সিরোসিস ও লিভার ক্যান্সারসহ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হন।

অথচ সময়মতো টিকাদান, পরীক্ষা, নিরাপদ স্বাস্থ্যচর্চা এবং যথাযথ চিকিৎসার মাধ্যমে এ রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। তাই হেপাটাইটিস সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সেবাপ্রাপ্তির প্রতিবন্ধকতা দূর করা এখন সময়ের দাবি।

তারেক রহমান বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে লিভার রোগের বিশেষায়িত চিকিৎসা, আধুনিক রোগ নির্ণয় সুবিধা এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। ন্যাশনাল গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট অ্যান্ড হাসপাতালসহ বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে আধুনিক চিকিৎসা-সরঞ্জাম সংযোজনের মাধ্যমে দেশে উন্নত লিভার চিকিৎসার সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে, যাতে বিদেশে চিকিৎসার প্রয়োজন কমে।

একইসঙ্গে লিভার সিরোসিস ও ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীদের জন্য এককালীন সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা পর্যন্ত সরকারি আর্থিক সহায়তা অব্যাহত রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, রোগীকেন্দ্রিক স্বাস্থ্যসেবাকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করতে সরকার ‘ই-হেলথ কার্ড’ এবং সমন্বিত রোগী তথ্য ব্যবস্থাপনা চালুর উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। এর মাধ্যমে রোগীর স্বাস্থ্য-তথ্য সংরক্ষণ, দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ, ধারাবাহিক চিকিৎসা এবং সরকারি সহায়তা প্রদান আরও সহজ ও কার্যকর হবে।

হেপাটাইটিসসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগের প্রতিরোধ, চিকিৎসা ও দীর্ঘমেয়াদি ফলোআপ ব্যবস্থাও এতে আরও শক্তিশালী হবে।

বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের জন্য একটি আধুনিক, মানবিক ও সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা বর্তমান সরকারের নীতিগত অঙ্গীকার উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রিভেনশন ইজ বেটার দ্যান কিউর’ (প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই উত্তম)-এই নীতিতে জনস্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সরকার বদ্ধপরিকর।

পাশাপাশি বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবার সম্প্রসারণ, প্রযুক্তিনির্ভর স্বাস্থ্যসেবা এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর চিকিৎসা-নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার ধারাবাহিকভাবে কার্যকর উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।

তিনি বলেন, দেশের ইতিহাসে স্বাস্থ্যখাতে সর্বোচ্চ বাজেট, লিভার চিকিৎসার অবকাঠামো উন্নয়ন, ডিজিটাল স্বাস্থ্যব্যবস্থার সম্প্রসারণ এবং রোগীকেন্দ্রিক সেবার মাধ্যমে একটি সুস্থ, নিরাপদ ও কল্যাণমুখী বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

তারেক রহমান বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০৩০ সালের মধ্যে ভাইরাল হেপাটাইটিস নির্মূলের বৈশ্বিক লক্ষ্য অর্জনে বাংলাদেশ দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী, বেসরকারি সংগঠন, গণমাধ্যম এবং সর্বস্তরের জনগণের সম্মিলিত অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, ‘আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা ভাইরাল হেপাটাইটিস প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে আরও সফল হব এবং একটি সুস্থ, নিরাপদ ও হেপাটাইটিসমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সক্ষম হব।’

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

২০২৫ সালে ৭৫৬ নারী খুন, নিরাপদ নয় শিশু থেকে বৃদ্ধাও: মহিলা পরিষদ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ৮:০৯ পূর্বাহ্ণ
২০২৫ সালে ৭৫৬ নারী খুন, নিরাপদ নয় শিশু থেকে বৃদ্ধাও: মহিলা পরিষদ

হত্যা, ধর্ষণ, দলবদ্ধ ধর্ষণ, আত্মহত্যা, যৌন হয়রানি, যৌতুক ও বাল্যবিয়ে- নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতার প্রায় সব ধরনের ঘটনাই উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে দেশে। ২০২৫ সালে সবচেয়ে বেশি হত্যার শিকার হয়েছেন ৭৫৬ জন প্রাপ্তবয়স্ক নারী।

অন্যদিকে দলবদ্ধ ধর্ষণ (১৪২), আত্মহত্যা (২০৩) এবং ধর্ষণের চেষ্টার (১১৭) ঘটনায় সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী কন্যাশিশুরা।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের পর্যবেক্ষণ বলছে, বিচারহীনতা ও সামাজিক দায়মুক্তির কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যে, ছয় বছরের শিশু থেকে শুরু করে ষাটোর্ধ্ব নারী, কেউই এখন সহিংসতার ঝুঁকির বাইরে নন।

সোমবার (২৭ জুলাই) জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত ‘বাংলাদেশে নারী ও কন্যা নির্যাতন চিত্র-২০২৫’ শীর্ষক সমীক্ষা প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। সংবাদ সম্মেলনে মডারেটর ছিলেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম।

আরও পড়ুন

শিশুদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ করতে আইন করছে ফ্রান্স

সমীক্ষার তথ্য উপস্থাপন করেন সংগঠনের সিনিয়র প্রশিক্ষণ ও গবেষণা কর্মকর্তা আফরুজা আরমান। তিনি জানান, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদে সংরক্ষিত ১৪টি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতার ঘটনার ভিত্তিতে এ সমীক্ষা পরিচালনা করা হয়েছে।

সমীক্ষা অনুযায়ী, প্রাপ্তবয়স্ক নারীদের মধ্যে হত্যার শিকার হয়েছেন ৭৫৬ জন, যা অন্যান্য সহিংসতার তুলনায় সর্বোচ্চ। এছাড়া ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৩৭৬ জন এবং যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন ১২৫ জন।

অন্যদিকে কন্যাশিশুদের ক্ষেত্রে সবচেয়ে উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে দলবদ্ধ ধর্ষণ, আত্মহত্যা ও ধর্ষণের চেষ্টার ঘটনায়। সমীক্ষায় দেখা যায়, দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ১৪২ জন, আত্মহত্যা করেছেন ২০৩ জন এবং ধর্ষণের চেষ্টার শিকার হয়েছে ১১৭ জন কন্যাশিশু।

বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, শৈশবে যৌন সহিংসতার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। তবে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হত্যাকাণ্ড ও আত্মহত্যার ঝুঁকিও বাড়ছে।

পেশাভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, গৃহিণীরা হত্যার ৫৮ শতাংশ, আত্মহত্যার ৬৩ শতাংশ এবং যৌতুক-সংক্রান্ত সহিংসতার ৯৪ শতাংশ ঘটনার শিকার। অন্যদিকে শিক্ষার্থী কন্যাশিশুরা ধর্ষণের চেষ্টার ৮০ শতাংশ, আত্মহত্যার ৬৭ শতাংশ, দলবদ্ধ ধর্ষণের ৩৯ শতাংশ এবং বাল্যবিবাহের শতভাগ ঘটনার ভুক্তভোগী।

সমীক্ষায় আরও বলা হয়, শুধু জনসমাগমস্থল নয়, বাড়ি এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও নারী ও কন্যাশিশুর জন্য অনিরাপদ হয়ে উঠছে। বিচারহীনতার সংস্কৃতি, প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপ, তদন্তে বিলম্ব, সাক্ষ্য-প্রমাণের দুর্বলতা এবং ভুক্তভোগীকেই দায়ী করার সামাজিক প্রবণতা অপরাধীদের দায়মুক্তি নিশ্চিত করছে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেন, সমীক্ষার ফলাফল দেশের নারী নিরাপত্তার এক গভীর সংকটের চিত্র তুলে ধরেছে।

তিনি বলেন, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সহিংসতার শিকার হওয়ার ক্ষেত্রে নারীর কোনো নির্দিষ্ট বয়স নেই। ছয় বছরের কন্যাশিশু থেকে শুরু করে ষাটোর্ধ্ব গৃহিণী পর্যন্ত জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে সহিংসতার ঝুঁকিতে রয়েছেন। বিশেষ করে ছয় থেকে নয় বছর বয়সী শিশুকন্যাদের ধর্ষণের ঘটনা সবচেয়ে বেশি হওয়া আমাদের সমাজের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়।

ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেন, এ তথ্যই প্রমাণ করে, ধর্ষণের জন্য কখনোই ভুক্তভোগী দায়ী নয়। দায়ী অপরাধী এবং সেই সামাজিক মানসিকতা, যা অপরাধকে প্রশ্রয় দেয়।

তিনি আরও বলেন, ধর্ষণের পাশাপাশি হত্যার ঘটনাও বাড়ছে। ফলে নারী শুধু যৌন সহিংসতার শিকারই হচ্ছেন না, তার জীবনও ক্রমশ অনিরাপদ হয়ে উঠছে। এটি কেবল নারীর সমস্যা নয়; বরং সমাজের নিরাপত্তা, ন্যায়বিচার ও মানবাধিকারের প্রশ্ন।

গণমাধ্যমের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, শুধু ঘটনা প্রকাশ নয়, সহিংসতার সামাজিক ও কাঠামোগত কারণও তুলে ধরতে হবে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীর পরিচয় প্রকাশে সংবেদনশীলতা বজায় রেখে অপরাধীদের পরিচয় ও দায় সামনে আনারও আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, ধর্ষণ, হত্যা ও এ ধরনের সহিংসতা ফৌজদারি অপরাধ। তাই এসব ঘটনায় স্থানীয় সালিশের মাধ্যমে আপসের চেষ্টা আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। বিচার হতে হবে আদালতে। অন্যথায় বিচারহীনতার সংস্কৃতি আরও শক্তিশালী হবে।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ নারী ও কন্যাশিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর আইন প্রয়োগ, দ্রুত বিচার, জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে সরকার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, বিচার বিভাগ, গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজের সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির নেত্রীবৃন্দ, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য, কর্মকর্তা এবং সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও পাঠাগার সম্পাদক রীনা আহমেদ।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি