বোরো মৌসুমে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ধান-চাল সংগ্রহে রেকর্ড
কালের আলো রিপোর্ট:
চলতি বোরো মৌসুমে ধান ও চালের সর্বোচ্চ সংগ্রহে রেকর্ড গড়েছে সরকার।আগেই ধারণা করা হয়েছিল বোরোতে ধান-চালের সংগ্রহ ১৫ লাখ টন ছাড়িয়ে যাবে। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি ধান-চাল সংগ্রহের কথা উল্লেখ করে খাদ্য মন্ত্রণালয় সোমবার (১৮ আগস্ট) এক তথ্য বিবরণীতে বলেছে, দেশে উৎপাদিত ৩ লাখ ৭৬ হাজার ৯৪২ টন ধান সংগ্রহ করেছে সরকার, যেখানে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ লাখ ৫০ হাজার টন। এ হিসাবে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অতিরিক্ত সংগ্রহের পরিমাণ ২৬ হাজার ৯৪২ টন। আর ১৪ লাখ টন সিদ্ধ চালের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে সরকার সংগ্রহ করেছে ১৪ লাখ ৬ হাজার ৫৩৩ টন। এছাড়া ৫১ হাজার টন আতপ চালের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩০৭ টন বেশি চাল সংগ্রহের তথ্য দিয়েছে খাদ্য মন্ত্রণালয়। এটি দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ খাদ্যসংগ্রহ বলেও দাবি করেছে মন্ত্রণালয়।
জানা যায়, ২০২২ সালের জানুয়ারিতে সরকারি খাদ্যশস্যের মজুত ১৯ লাখ ৮৫ হাজার টন হয়েছিল। এটিই ছিল এ যাবতকালের সর্বোচ্চ মজুত। গত বছরের এই সময়ে মজুতের পরিমাণ ছিল ১৬ লাখ টনের মতো। সরকার অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে এবার চাহিদা অনুযায়ী ধান-চাল কিনতে পারায় আমদানিনির্ভরতা অনেকটাই কমে আসবে। এতে বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হবে বলে জানান কর্মকর্তারা।আর এসবই সম্ভব হয়েছে খাদ্য উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদারের দূরদর্শী নেতৃত্বের ফলে। তার নির্দেশে খাদ্য সচিব মাসুদুল হাসান পুরো বিষয়টি মনিটরিং করেছেন।
এর আগে গত ৯ এপ্রিল খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটির (এফপিএমসি) সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চলতি বোরো মৌসুমে সাড়ে তিন লাখ টন ধান, ১৪ লাখ টন সিদ্ধ চাল ও ৩৫ হাজার টন আতপ চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। এক্ষেত্রে সংগ্রহ মূল্য ধান প্রতি কেজি ৩৬ টাকা, চাল প্রতি কেজি ৪৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়। গত ১৪ এপ্রিল থেকে বোরো সংগ্রহ শুরু হয়ে চলে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত। খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, জুলাই মাসেই নির্ধারিত সময়ের আগেই অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আরও ২৬ হাজার ৯৪২ টন ধান অতিরিক্ত সংগ্রহ করা হয়। চাল সংগ্রহও ওই সময় ছিল প্রায় লক্ষ্যমাত্রার কাছাকাছি। বোরোতে আরও ৫০ হাজার টন সিদ্ধ চাল এবং ১৫ হাজার টন আতপ চাল অতিরিক্ত সংগ্রহের অনুমতি দেয় খাদ্য মন্ত্রণালয়। সাড়ে ১৪ লাখ টন সিদ্ধ চালের বিপরীতে সাড়ে ১১ লাখ টনের মতো ওই সময়ই সংগ্রহ করা হয়। বোরোতে গত বছরগুলোতে ধান ও চাল সংগ্রহের পরিমাণ সর্বোচ্চ ১৪ লাখ টনের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। যদিও লক্ষ্যমাত্রা ছিল আরও বেশি। বিগত কয়েক বছর চাল লক্ষ্যমাত্রার কাছাকাছি সংগ্রহ করা হয়। তবে ধান লক্ষ্যমাত্রার অর্ধেকও কেনা যায়নি। তবে এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি ধান-চাল সংগ্রহে রেকর্ড করে খাদ্য মন্ত্রণালয়।
বাজারে চালের দাম নিয়ন্ত্রণ ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিবছরই কৃষক ও সরবরাহকারীদের কাছ থেকে ধান, চাল সংগ্রহ করে থাকে। পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির জন্য বিদেশি উৎস থেকেও চাল ও গম সংগ্রহ করা হয়ে থাকে। খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি, অতিদরিদ্রদের খাদ্য সহায়তা, কাজের বিনিময়ে খাদ্য, ওএমএস, টিসিবির ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে বিক্রি এবং জরুরি রেশন ও ত্রাণ সরবরাহের জন্য খাদ্যশস্য ব্যবহার করে সরকার।
সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের গুদামে ২০ লাখ ৫০ হাজার টনের বেশি ধান, চাল ও গম মজুত আছে। এবার বোরো মৌসুমে ২৪ এপ্রিল থেকে ৩১ অগাস্ট পর্যন্ত ধান ও চাল সংগ্রহ করা হয়। এ মৌসুমে প্রতি কেজি ধান ৩৬ টাকা, সেদ্ধ চাল ৪৯ টাকা দর ঠিক করে সরকার, গত বছরের তুলনায় কেজিপ্রতি ৪ টাকা বেশি। এছাড়া প্রতি কেজি ৩৬ টাকা দরে গম সংগ্রহের দর ঠিক করে সরকার, যদিও লক্ষ্যমাত্রার কথা জানানো হয়নি। আগেরবার কেজিপ্রতি বোরো ধান ৩২ টাকা, সেদ্ধ চাল ৪৫ টাকা এবং আতপ চাল ৪৪ টাকা দরে কিনেছে সরকার।
কালের আলো/এমএএইচএন


আপনার মতামত লিখুন
Array