খুঁজুন
                               
, ,
           

বিএসসির বহরে যুক্ত হচ্ছে ‘বাংলার প্রগতি’ ও ‘বাংলার নবযাত্রা’; বছরে আয় হবে ১৫০ কোটি টাকা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ১১:২৭ অপরাহ্ণ
বিএসসির বহরে যুক্ত হচ্ছে ‘বাংলার প্রগতি’ ও ‘বাংলার নবযাত্রা’; বছরে আয় হবে ১৫০ কোটি টাকা

কালের আলো রিপোর্ট:

৫৪ বছরের ইতিহাসে প্রথমবার নিজস্ব অর্থে দু’টি জাহাজ কিনছে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিএসসি)। এ বিষয়ে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান যুক্তরাষ্ট্রের হেলেনিক ড্রাই বাল্ক ভেঞ্চারস এলএলসি নামক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। আগামী মাসেই যুক্ত হচ্ছে নতুন একটি জাহাজ। ডিসেম্বরের মধ্যে আসবে আরেকটি জাহাজ। আধুনিক বাল্ক ক্যারিয়ারের জাহাজ দু’টির নামকরণ করা হয়েছে ‘বাংলার প্রগতি’ ও ‘বাংলার নবযাত্রা’। জাহাজ দুটি কেনার বিষয়ে রবিবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাতে রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে এই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। চলতি বছরেই জাহাজ দু’টি বিএসসিকে হস্তান্তর করা হবে।

৫৫ থেকে ৬৬ হাজার টন ধারণক্ষমতার নতুন এই দু’টি কার্গো জাহাজ দিয়ে বছরে বিএসসির আয় হবে আনুমানিক ১৫০ কোটি টাকা। সেই সঙ্গে, বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পাশাপাশি তৈরি হবে নাবিকদের প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ। দুই জাহাজে পালাক্রমে বছরে ১৫০ নাবিকের কর্মসংস্থান হবে।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মোহাম্মদ ইউসুফ। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক।

  • হেলেনিক ড্রাই বাল্ক ভেঞ্চারস এলএলসি নামক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর
  • জাহাজ দু’টি কেনায় ব্যয় হচ্ছে ৯৩৫ কোটি ৭০ লক্ষ টাকা
  • দুই জাহাজে পালাক্রমে বছরে কর্মসংস্থান হবে ১৫০ নাবিকের

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নৌপরিবহন উপদেষ্টা বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘দেশের ইতিহাসে এবারই প্রথম বিএসসির নিজস্ব অর্থায়নে জাহাজ কেনা হচ্ছে। নিঃসন্দেহে দেশের শিপিং ইন্ডাস্ট্রিতে এটি একটি যুগান্তকারী মাইলফলক। নতুন দুই জাহাজ বিএসসিতে যুক্ত হলে বছরে ১৫০ কোটি টাকা আয় বাড়বে। বিএসসির নিজস্ব পরিবহন সক্ষমতা প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার ডিডব্লিউটি বৃদ্ধি পাবে, যা দেশের সমুদ্র বাণিজ্যে একটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন হবে। বিশ্বদরবারে বাংলাদেশ পরিবেশবান্ধব গ্রিন শিপিংয়ের সম্মান অর্জন করবে।’

বিএসসি সূত্র জানায়, প্রতিযোগিতামূলক দরে জাহাজ কেনার এই প্রক্রিয়া শুরু হয় গত জুনে। ৩ জুন আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হয়। এরপর কারিগরিভাবে দুটি প্রস্তাব গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হয়। সে অনুযায়ী, গত আগস্টের তৃতীয় সপ্তাহে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের হেলেনিক ড্রাই বাল্ক ভেঞ্চারস এলএলসি নামক প্রতিষ্ঠান থেকে ৯৩৫ কোটি ৭০ লক্ষ টাকায় জাহাজ দুটি কেনার প্রস্তাব অনুমোদিত হয়। জাহাজ দুটি থেকে বছরে বাড়তি ১৫০ কোটি টাকা আয় হতে পারে বলে জানিয়েছেন বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে তিনি বলেন, বিএসসির বহরে যুক্ত হতে যাওয়া জাহাজগুলোতে জ্বালানি খরচ হ্রাস ও পরিচালন দক্ষতা বেশি। প্রধান ইঞ্জিন থেকে নাইট্রোজেন অক্সাইড নির্গমন কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করে, যা পরিবেশ দুষণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমায়। নকশা ও প্রযুক্তিগত সমাধানগুলো জ্বালানি সাশ্রয়ী, পরিবেশবান্ধব এবং আন্তর্জাতিক পরিবেশগত মানদণ্ডসম্মত এবং আন্তর্জাতিক মেরিটাইম সংস্থার নির্ধারিত সর্বশেষ পরিবেশগত মানদণ্ড পূরণ করে।

জাহাজে উচ্চমানের ইউরোপীয় ও জাপানি যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হয়েছে। জার্মান লাইসেন্সে জাহাজগুলো চীনে উৎপাদন করা হয়েছে। স্পেনের পাম্প ও নরওয়ের কম্প্রেসার ব্যবহার করা হয়েছে। চুক্তি স্বাক্ষরের পর প্রথম জাহাজ অক্টোবর ২০২৫ এবং দ্বিতীয় জাহাজ ডিসেম্বর ২০২৫-এ বিএসসিকে হস্তান্তর করা হবে বলেও জানানো হয় অনুষ্ঠানে।

বিএসসি জানায়, বিএসসি সরকারি অর্থায়নে আরও তিনটি জাহাজ কেনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এ জন্য এখন প্রকল্প প্রস্তাব প্রণয়ন করা হচ্ছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে তিনটি জাহাজ কেনার প্রক্রিয়া শেষ করতে চায় সংস্থাটি। বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) কমোডর মাহমুদুল মালেক বলেন, শিপইয়ার্ডে নির্মাণাধীন থাকা জাহাজই কেনা হবে সামনে। এতে খুব দ্রুত বিএসসির বহর সমৃদ্ধ হবে।

  • বিশ্বদরবারে বাংলাদেশ পরিবেশবান্ধব গ্রিন শিপিংয়ের সম্মান অর্জন করবে
    বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন
    উপদেষ্টা
    নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়

জানা যায়, বিএসসির বহরে বর্তমানে পাঁচটি জাহাজ রয়েছে। এর মধ্যে তিনটি তেল পরিবহনকারী ট্যাংকার এবং দুটি সাধারণ পণ্য পরিবহনের বাল্ক জাহাজ। নতুন দুটি বাল্ক জাহাজ যুক্ত হলে বিএসসির বহরে জাহাজের সংখ্যা বেড়ে সাতটিতে উন্নীত হবে। তাতে দেশের পতাকাবাহী জাহাজের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে ১০২।

এক সময় দেশের সর্বোচ্চ সংখ্যক পতাকাবাহী জাহাজের মালিক ছিল বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন। নব্বইয়ের দশকে বহরে ছিল ৩৪টি জাহাজ। কিন্তু পুরনো জাহাজ কেনা, অনিয়ম, আর দুর্নীতির কারণে ধীরে ধীরে সংকুচিত হয়েছে এই বহর। ২০১৮ সাল থেকে পর্যায়ক্রমে নতুন ৬টি জাহাজ পেয়ে লাভের ধারায় ফিরলেও ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ‘বাংলার সমৃদ্ধি’ নামে একটি জাহাজ হারায় বিএসসি। সবশেষ গত বছর অগ্নি দুর্ঘটনায় দু’টি অয়েল ট্যাংকার পরিত্যক্ত হলে বিএসসির জাহাজ কমে দাঁড়ায় ৫টিতে।

২০১৮ সালে চীন থেকে চারটি জাহাজ কেনার প্রক্রিয়া চললেও নানা জটিলতায় হয়নি ঋণ চুক্তি। তাই এক বছর আগে প্রথমবারের মতো নিজস্ব অর্থে জাহাজ কেনার উদ্যোগ নেয় প্রতিষ্ঠানটি। এতে ব্যয় হবে ৯০০ থেকে ৯৫০ কোটি টাকা। ৫৫ থেকে ৬৬ হাজার টন ধারণক্ষমতার দু’টি বাল্ক কার্গো জাহাজ সরবরাহে দরপত্র দাখিল করেছে মাত্র তিনটি প্রতিষ্ঠান।

দেশিয় পতাকাবাহী জাহাজ কম থাকায় পণ্য পরিবহনে বছরে প্রায় এক লাখ কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা চলে যাচ্ছে বাইরে। নতুন কেনা দু’টি জাহাজ দিয়ে বছরে ১৫০ কোটি টাকা আয়ের প্রত্যাশা কর্তৃপক্ষের। বর্তমানে বহরে থাকা পাঁচটি জাহাজের মধ্যে তিনটি অয়েল ট্যাংকার ও দু’টি কার্গো জাহাজ। যেগুলোর ধারণক্ষমতা ৩৯ হাজার টন। গেলো বছরে সবোর্চ্চ ২৫০ কোটি টাকা মুনাফা করে বিএসসি।

আরও জানা যায়, ১৯৭২ সালের জুনে ‘এমভি বাংলার দূত’ জাহাজ চালুর মাধ্যমে সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহন ব্যবসা শুরু করে বিএসসি। ১৯৮২ সাল নাগাদ জাহাজ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ২৭, যা পরে ৩৮টিতে উন্নীত হয়। তবে ১৯৯১ সালের পর এই সংস্থার বহরে নতুন কোনো জাহাজ যুক্ত হয়নি।

অন্যদিকে বেসরকারি মালিকানায় রয়েছে ৯৫টি জাহাজ। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ২৮টি জাহাজের মালিক কেএসআরএম গ্রুপ। মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের (এমজিআই) ২৫টি ও আকিজ শিপিংয়ের ১০টি জাহাজ আছে। সংখ্যায় বিএসসির অবস্থান ষষ্ঠ। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর বহরে কনটেইনার থেকে শুরু করে সাধারণ পণ্যবাহী ও তেল-গ্যাস পরিবহনকারী জাহাজ রয়েছে।

বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি পণ্যের বড় অংশই সমুদ্রপথে আনা-নেওয়া করা হয়, যা প্রতিবছরই বাড়ছে। গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে ১৩ কোটি টন পণ্য পরিবহন হয়। কনটেইনার, তেল পরিবহনকারী ও সাধারণ পণ্যবাহী জাহাজে এসব পণ্য পরিবহন হয়। যদিও পণ্যের বড় অংশই পরিবহন হচ্ছে বিদেশি পতাকাবাহী জাহাজে। কারণ, বাংলাদেশি পতাকাবাহী জাহাজের সংখ্যা কম।

কালের আলো/এমএএএমকে

জনগণ সেনাবাহিনীর ওপর গভীর আস্থা রাখে : প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ৩:১০ অপরাহ্ণ
জনগণ সেনাবাহিনীর ওপর গভীর আস্থা রাখে : প্রধানমন্ত্রী

জনগণ সেনাবাহিনীর ওপর গভীর আস্থা রাখে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ মঙ্গলবার সকালে সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়া পরিদর্শনে গিয়ে এ মন্তব্য করেন করেন তিনি। এসময় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন।

সকাল ৯টা ২০ মিনিটে মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৯ পদাতিক ডিভিশনের অধীন ৮ বীর-এর গ্রীষ্মকালীন প্রশিক্ষণ এলাকা পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

মহড়া চলাকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘ফার্ম বেস’-এর বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) ও ইউনিটের কমান্ডিং অফিসারের (সিও) কাছ থেকে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ও কৌশলগত প্রস্তুতি সম্পর্কে অবহিত হন। তিনি একজন কমান্ডারের মৌখিক অপারেশনাল নির্দেশনা মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং সেনা সদস্যদের পরিচালিত ‘রেইড’ মহড়া প্রত্যক্ষ করেন।

এ ছাড়া যুদ্ধক্ষেত্রে সেনা সদস্যদের অবস্থান, রণকৌশল, সমরাস্ত্রের ব্যবহার এবং প্রশিক্ষণের বিভিন্ন দিক পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি সেনা বাংকারে নেমে মহড়ায় অংশগ্রহণকারী অফিসার ও সেনা সদস্যদের সঙ্গে রণকৌশল বিষয়ে মতবিনিময় করেন। পাশাপাশি গাছের পাতার আড়ালে ছদ্মবেশে অবস্থানরত সেনা সদস্যদের কাছেও গিয়ে তাদের খোঁজখবর নেন এবং দায়িত্ব পালনে উৎসাহ প্রদান করেন।

সেনা সদস্যদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের জনগণ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ওপর গভীর আস্থা রাখে।

জাতীয় সংকট মোকাবেলা এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনীর গৌরবময় ভূমিকা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সেনাবাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করে পেশাদার প্রশিক্ষণ, শৃঙ্খলা ও সর্বোচ্চ প্রস্তুতি বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ তারিক এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

কালের আলো/এসআর/এএএন

প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের সম্পদ নিয়ে আলোচনা, হলফনামায় মিলল ভিন্ন চিত্র

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ২:৪২ অপরাহ্ণ
প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের সম্পদ নিয়ে আলোচনা, হলফনামায় মিলল ভিন্ন চিত্র

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের সম্পদ নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য ও আলোচনা নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এ বিষয়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দাখিল করা তার হলফনামা, পারিবারিক ব্যবসার বর্তমান অবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যে ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী, মীর শাহে আলমের নামে মোট ১ হাজার ৮২৪ শতাংশ জমি এবং ১২টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের তথ্য উল্লেখ রয়েছে।

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তিনি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর সরকারি বিধি অনুসরণ করে সম্ভাব্য স্বার্থের সংঘাত এড়াতে পারিবারিক ব্যবসার মালিকানা ও ব্যবস্থাপনা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সরে দাঁড়ান।

প্রতিমন্ত্রীর প্রেস সেক্রেটারি আতিকুর রহমান জানান, পরবর্তীতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শেয়ার, পরিচালনা ও মালিকানাসংক্রান্ত দায়িত্ব পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বর্তমানে এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পরিবারের সদস্যরাই পরিচালনা করছেন।

এদিকে ব্যবসার পুনর্বিন্যাসের অংশ হিসেবে জাতীয় নির্বাচনের আগে, চলতি বছরের ২ ফেব্রুয়ারি পরিবারের মালিকানাধীন রোমা অটো রাইস মিল ৪২ কোটি টাকায় বিক্রি করা হয়। সংশ্লিষ্টদের দাবি, নিবন্ধিত দলিলের মাধ্যমে বিক্রয় সম্পন্ন হয়েছে।

মিলটির ক্রেতা শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলা এলাকার ব্যবসায়ী রবিউল আলম জানান, তিনি ফেব্রুয়ারির শুরুতে ৪২ কোটি টাকায় প্রতিষ্ঠানটি ক্রয় করেন এবং পরে এর সব দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামায় উল্লেখিত ১২টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে রোমা অটো রাইস মিল, রূপসী রাইস অ্যান্ড পুষ্টি মিলস লিমিটেড, রূপসী ফ্লাওয়ার মিল, মীর সীমান্ত-দিগন্ত ফিলিং স্টেশন, মীর লাবনী-সুনাত ফিলিং স্টেশন, মীর দিগন্ত ট্রেডিং এজেন্সি, উত্তর বাংলা ওভারসিজ লিমিটেড, রূপসী কৃষি খামার, রূপসী মৎস্য খামার, রূপসী কংক্রিট ব্রিকস ফ্যাক্টরি, রূপসী মিনি কোল্ড স্টোরেজ এবং রূপসী প্রাণী খামার।

সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে প্রতিমন্ত্রীর সম্পদের বিষয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়। ওই প্রতিবেদনে ৩১ শতাংশ জমির তথ্য উল্লেখ করা হলেও হলফনামায় ১ হাজার ৮২৪ শতাংশ জমির তথ্য রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

এ ছাড়া প্রতিমন্ত্রীর নামে নতুন করে ২৪২ শতাংশ জমি কেনার যে দাবি প্রকাশিত হয়েছে, সেটিও সঠিক নয় বলে দাবি করেন প্রেস সেক্রেটারি আতিকুর রহমান। তার ভাষ্য, আলোচিত জমিটি ব্যক্তি হিসেবে মীর শাহে আলমের নামে নয়; বরং রূপসী রাইস অ্যান্ড পুষ্টি মিলস লিমিটেডের নামে ক্রয় করা হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ওই প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা বা ব্যবসায়িক কার্যক্রমেও তার ব্যক্তিগত সম্পৃক্ততা নেই বলে তিনি জানান।

প্রতিষ্ঠানগুলোর সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর মীর শাহে আলম ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিকানা ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করেছেন। ফলে বর্তমানে তার ব্যক্তিগত নামে কোনো ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত বা জমি ক্রয়ের বিষয়টি প্রযোজ্য নয়।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মীর পরিবার দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী পরিবার হিসেবে পরিচিত। উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত সম্পদের পাশাপাশি কৃষি, শিল্প ও বাণিজ্যিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে।

শিবগঞ্জ উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, মীর শাহে আলম দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। প্রতিমন্ত্রী হওয়ার পর তিনি ব্যবসার মালিকানা থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন বলে তিনি জানেন। তার দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই এ ধরনের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

অন্যদিকে, শিবগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি আব্দুর রউফ রুবেল বলেন, প্রকাশিত প্রতিবেদনের শিরোনাম ও উপস্থাপিত তথ্যের মধ্যে যথেষ্ট সামঞ্জস্য ছিল না বলে তার মনে হয়েছে। তার মতে, হলফনামার পূর্ণাঙ্গ তথ্য পর্যালোচনা না করে আংশিক তথ্য প্রকাশ করায় বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে পূর্ণাঙ্গ তথ্য যাচাই করে প্রতিবেদন প্রকাশ করা উচিত।

কালের আলো/এএন/এমএসআইপি 

কনটেইনার গায়েব নিয়ে মুখোমুখি চট্টগ্রাম বন্দর-কাস্টমস

চট্টগ্রাম প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ২:১৫ অপরাহ্ণ
কনটেইনার গায়েব নিয়ে মুখোমুখি চট্টগ্রাম বন্দর-কাস্টমস

চট্টগ্রাম বন্দরে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত ২৫০টি আমদানি চালানের কনটেইনারের অবস্থান নিয়ে তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি। চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস বলছে, অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ডের রিস্ক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে লক করা এসব কনটেইনারের অবস্থান জানতে গত নয় মাসে একাধিকবার চিঠি দিলেও বন্দর কর্তৃপক্ষ কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য দেয়নি।

অন্যদিকে বন্দর কর্তৃপক্ষের দাবি, কনটেইনারগুলোর অবস্থান ও ডেলিভারির বিস্তারিত তথ্য অনেক আগেই লিখিতভাবে কাস্টমসকে জানানো হয়েছে। দুই প্রতিষ্ঠানের এমন বিপরীতমুখী অবস্থানের মধ্যে বন্দরের নিরাপত্তা ও নজরদারি ব্যবস্থাও প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, বিষয়টির সূত্রপাত হয় ২০২৪ সালে দুটি পৃথক আমদানি চালানকে ঘিরে। ওই বছরের জুনে নারায়ণগঞ্জের মেসার্স মাইনুল হাসান এন্টারপ্রাইজ ইন্দোনেশিয়া থেকে পাঁচ কনটেইনার তুলা আমদানি করে।

একই বছরের মে মাসে আহমেদ এন্টারপ্রাইজ চীন থেকে চশমার ফ্রেম ও মাউন্টিং ঘোষণা দিয়ে একটি কনটেইনার পণ্য আমদানি করে। দুটি চালানেই ঘোষণা-বহির্ভূত পণ্য থাকার সন্দেহে অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড রিস্ক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে চালানগুলো লক করে কায়িক পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেয় কাস্টমস।

কিন্তু পরীক্ষার সময় ওই ছয়টি কনটেইনারের অবস্থান শনাক্ত করতে পারেননি কাস্টমস কর্মকর্তারা। পরে অনুসন্ধান চালিয়ে তারা দেখতে পান, একই ধরনের আরও শত শত চালান দীর্ঘদিন ধরে রিস্ক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে লক থাকলেও সংশ্লিষ্ট কনটেইনারগুলোর অবস্থান নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।

কাস্টমসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে মোট ২৫০টি বিল অব এন্ট্রি এখনও লক অবস্থায় রয়েছে। এসব চালানে মোট ৩৭৬টি কনটেইনার রয়েছে। এর মধ্যে ২০২১ সালের ৮৩টি, ২০২২ সালের ৬১টি, ২০২৩ সালের ৪০টি এবং ২০২৪ সালের ৬৬টি বিল অব এন্ট্রি রয়েছে।

জাতীয় রাজস্ব সুরক্ষার স্বার্থে এসব কনটেইনারের বর্তমান অবস্থান জানাতে গত নয় মাসে একাধিকবার চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষকে চিঠি পাঠানো হয়। সর্বশেষ চলতি বছরের এপ্রিল মাসে এবং এর আগে ২৬ জানুয়ারি চিঠি দেওয়া হয়। কিন্তু কাস্টমসের দাবি, এখন পর্যন্ত তারা কনটেইনারগুলোর অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পায়নি।

তবে কনটেইনার গায়েবের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে সোমবার (৬ জুলাই) বন্দর কর্তৃপক্ষ লিখিতভাবে এই অভিযোগকে মিথ্যা, অনুমাননির্ভর এবং ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে। তাদের বক্তব্য, ২৫০টি নয়, ২৪৭টি চালানের তালিকা দিয়েছিল কাস্টমস।

এর মধ্যে বেশিরভাগ চালানই ইতোমধ্যে খালাস হয়ে গেছে, ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপোতে (আইসিডি) স্থানান্তর করা হয়েছে, অথবা সিপিএর ইয়ার্ডে সংরক্ষিত রয়েছে। কাস্টমসের সরবরাহ করা বেশ কয়েকটি কনটেইনার নম্বর ও বিল অব লেডিংয়ে ভুল ছিল। এ কারণে বাকি চালানগুলোর মিল পাওয়া যায়নি। কাগজপত্র অনুসারে চালানগুলো ইতোমধ্যেই কাস্টমসের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং আনুষ্ঠানিক পত্রযোগাযোগের মাধ্যমে সংস্থাটিকে বিষয়টি অবহিতও করা হয়েছে।

এ বিষয়ে বন্দর কর্তৃপক্ষের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. নাসির উদ্দিন বলেন, কাস্টমস যে ২৫০টি চালানের কথা বলছে, প্রকৃত সংখ্যা ২৪৭টি। এর মধ্যে ১৬৪টি এফসিএল চালানে ২৯৩টি কনটেইনার রয়েছে।

এসবের মধ্যে ৮৮টি কাস্টমস আউটপাসের মাধ্যমে খালাস হয়েছে, ৭০টি আইজিএম অনুযায়ী বিভিন্ন বেসরকারি কনটেইনার ডিপোতে পাঠানো হয়েছে এবং ১৩১টি এখনও বন্দরের বিভিন্ন ইয়ার্ডে রয়েছে। চারটি কনটেইনার নম্বরে ডিজিট বা প্রিফিক্সের ত্রুটিও রয়েছে।

তিনি বলেন, বাকি ৮৩টি এলসিএল চালানের মধ্যে আটটির পণ্য ডেলিভারি দেওয়া হয়েছে, ৩৫টি কনটেইনার বন্দরের সিএফএস ও শেডে রয়েছে। আর ৪০টি চালানের ক্ষেত্রে কাস্টমসের দেওয়া বিল অব লেডিং নম্বরের সঙ্গে বন্দরের তথ্যের মিল পাওয়া যায়নি। এসব তথ্য লিখিতভাবে কাস্টমসকে জানানো হয়েছে।

তবে কাস্টম হাউসের উপকমিশনার (এআইআর) মো. তারেক মাহমুদ বলেন, বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এ ধরনের কোনো চিঠি তারা পাননি। কনটেইনারগুলোর অবস্থান জানতে একাধিকবার চিঠি পাঠানো হলেও এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য মেলেনি।

এদিকে, এ ঘটনায় বন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, জাহাজ থেকে কনটেইনার খালাস, ইয়ার্ডে সংরক্ষণ এবং বন্দর ত্যাগ—পুরো প্রক্রিয়াই একাধিক স্তরের নজরদারির মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার কথা। ফলে এতগুলো কনটেইনারের অবস্থান নিয়ে দুই প্রতিষ্ঠানের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য উদ্বেগ তৈরি করেছে।

চট্টগ্রাম কাস্টমস এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক কাজী মাহমুদ ইমাম (বিলু) বলেন, এত সংখ্যক কনটেইনারের অবস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তা সহজে বিশ্বাসযোগ্য নয়। কনটেইনারগুলো সত্যিই নিখোঁজ কি না, সে সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে বন্দর কর্তৃপক্ষের সরেজমিন অনুসন্ধান এবং কাস্টমসেরও যাচাই করা প্রয়োজন, চালানগুলো ঠিক কোন পর্যায়ে লক করা হয়েছিল।

চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আমিরুল হক বলেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান ধরে রাখতে বন্দর ও কাস্টমসের মধ্যে আরও সমন্বয় থাকা অপরিহার্য। দুটি প্রতিষ্ঠান পাল্টাপাল্টি দোষারোপের পর্যায়ে না নিয়ে গিয়ে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করতে কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি