খুঁজুন
                               
, ,
           

জনপ্রশাসন সচিব পদে আলোচনায় ৬ আমলার নাম

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ১০:৫৬ অপরাহ্ণ
জনপ্রশাসন সচিব পদে আলোচনায় ৬ আমলার নাম

কালের আলো রিপোর্ট:

নানা বিতর্কের পর চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের ১৩ মাসের মাথায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. মোখলেস উর রহমানকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যেই তাকে পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য হিসেবে বদলি করা হয়। শূন্য হওয়া প্রশাসনের শীর্ষ এই গুরুত্বপূর্ণ চেয়ারে বসতে অনেক কর্মকর্তা জোর লবিং শুরু করেছেন। তবে সৌভাগ্যবান হিসেবে কে এই পদটিতে আসছেন তা নিয়ে বেশ জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে। জোরালোভাবে শোনা যাচ্ছে ৬ আমলার নাম। তাঁরা হলেন-স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. রেজাউল মাকছুদ জাহেদী, ভূমি মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব এ. এস. এম. সালেহ আহমেদ, গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো.নজরুল ইসলাম, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব ড.নেয়ামত উল্লাহ ভুইয়া, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আশরাফ উদ্দিন ও সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. এহছানুল হক। যদিও এই পদে কে আসবেন এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড.মুহাম্মদ ইউনূস। প্রধান উপদেষ্টা জাতিসংঘের অধিবেশন শেষে দেশে ফিরে এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন বলে জানিয়েছে বিভিন্ন সূত্র।

জানা যায়, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর গত বছরের ২৮ আগস্ট জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরীকে সরিয়ে মো. মোখলেস উর রহমানকে দুই বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকার। মোখলেস উর রহমান বিসিএস প্রশাসন ৮২ ব্যাচের কর্মকর্তা। তিনি জনপ্রশাসন সচিবের দায়িত্ব পাওয়ার পর প্রশাসনে নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। পদায়ন ও পদোন্নতিতে বঞ্চিতদের অবমূল্যায়নের অভিযোগ উঠে। সচিব, সংস্থাপ্রধান ও জেলা প্রশাসক নিয়োগ নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠে। নিয়োগকে কেন্দ্র করে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও উঠে তাঁর বিরুদ্ধে। এ নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। কিন্তু তিনি দীর্ঘ সময় বহাল তবিয়তেই ছিলেন। যদিও তাঁর শেষ রক্ষা হয়নি। অবশেষে তাকে এই মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়েছে সরকার।

  • গুরুত্বপূর্ণ এই পদে কে আসছেন, সে নিয়ে জল্পনা-কল্পনা প্রশাসনে
  • চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড.মুহাম্মদ ইউনূস
  • জাতিসংঘের অধিবেশন শেষে দেশে ফিরলেই আসতে পারে সিদ্ধান্ত

সূত্র জানায়, মোখলেস উর রহমান’র দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে এবার জনপ্রশাসন সচিব পদে সৎ, দক্ষ, যোগ্য ও জনপ্রশাসন বিষয়ে অভিজ্ঞ কর্মকর্তাকে নিয়োগ দিতে চায় সরকার। ‘সরকারের মেরুদণ্ড’ হিসেবে পরিচিত এই পদটিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে কোন রকম আপস করতে চায় না সরকার। গোয়েন্দা প্রতিবেদনকেও সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। খতিয়ে দেখা হবে সম্ভাব্যদের আমলনামা। মোখলেসকে সরিয়ে দেওয়ার মধ্যে দিয়ে সরকার একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছে। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে সময়মতো পদোন্নতি ও ভালো পদায়ন পেয়েছেন এমন অনেক কর্মকর্তাকেও গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের সচিব পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

একই সূত্র জানায়, আসন্ন ত্রায়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রশাসনকে আরও গতিশীল করতে জনপ্রশাসনসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব পদে দ্রুত সময়ের মধ্যেই নতুন মুখ আসছে। জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত কর্মকর্তাদের পদায়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। অনিয়ম, দুর্নীতি ও দলবাজিতে পটুদের বিবেচনায় আনা হবে না। নির্বাচনের আগে এই রদবদলে দক্ষ, অভিজ্ঞ ও দলবাজমুক্তদের প্রাধান্য দেওয়া হবে।

জনপ্রশাসন সচিব পদে সম্ভাব্যদের নাম আলোচনার টেবিলে
সচিবালয়ের বিভিন্ন পরিমণ্ডলে জনপ্রশাসন সচিব পদে আলোচনার টেবিলে উচ্চারিত হচ্ছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. রেজাউল মাকছুদ জাহেদী’র নাম। পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বারবার তিনি পদোন্নতি বঞ্চিত হয়েছেন। যুগ্ম সচিব থাকাকালে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে তাঁর ভাগ্যে পদোন্নতি জুটেনি। এমনকি কনিষ্ঠ কর্মকর্তাদের পদোন্নতি দিয়ে অধস্তন করেও রাখা হয়েছিল তাকে। দীর্ঘ সময় বঞ্চিত থেকে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে প্রথমে তাকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও পরে পদোন্নতি দিয়ে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব করা হয়। এরপর তাকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়। বিসিএস ১৩তম ব্যাচের প্রশাসন ক্যাডারের এই কর্মকর্তা জনপ্রশাসনে সৎ ও দক্ষ হিসেবে সুনাম কুড়িয়েছেন। জনপ্রশাসন সচিব হওয়ার দৌড়ে তিনি এগিয়ে থাকায় তাকে জামায়াতপন্থী কর্মকর্তা হিসেবে ‘ট্যাগ’ দেওয়া হলেও তিনি মূলত নিরপেক্ষতার সঙ্গে নিজের অর্পিত দায়িত্ব পালন করেছেন বলে তাঁর ঘনিষ্ঠরা জানিয়েছেন।

একাধিক বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের সপ্তম ব্যাচের কর্মকর্তা ভূমি মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব এ. এস. এম. সালেহ আহমেদ নতুন জনপ্রশাসন সচিব হতে পারেন। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও মাঠ প্রশাসনে গুরুত্বপূর্ণ কাজের অভিজ্ঞতা থাকলেও ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তিনি পদোন্নতি বঞ্চিত হন। ২০২০ সালের ১ জুলাই তিনি যুগ্ম সচিব হিসেবে অবসরে যান। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার তাকে দুই বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব হিসেবে পদায়ন করে। ২০২৪ সালের ২ অক্টোবর এই সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। প্রশাসন নিয়ে তাঁর গভীর জানাশোনা রয়েছে। ফলে তাঁর নিয়োগের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিতে নারাজ অনেকেই।

এই পদটিতে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো.নজরুল ইসলামের কথাও শোনা যাচ্ছে। চলতি বছরের ২৭ মার্চ তিনি গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে যোগদান করেন। এর আগে তিনি পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব ছিলেন। বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (প্রশাসন) ক্যাডারের একাদশ ব্যাচের এই কর্মকর্তাকে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০১০ সাল থেকে ২০২৪ পর্যন্ত পদোন্নতি বঞ্চিত রাখা হয়। এ সময়কালে বিভিন্ন পৌরসভায় প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে তাকে পদায়ন করা হয়। জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালে তাকে অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতি দিয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগে পদায়ন করা হয়। তিনিও জনপ্রশাসন সচিব পদে লবিইংয়ে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন।

জনপ্রশাসন সচিব পদে আলোচনায় রয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব ড.নেয়ামত উল্লাহ ভুইয়াও। চলতি বছরের বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব জামিলা শবনম সই করা এক প্রজ্ঞাপনে তাকে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এর আগে তিনি ২০২৪ সালের ২৮ অক্টোবর পরিকল্পনা কমিশনের কৃষি, পানিসম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগে যোগদান করেন। মাগুরা ও মাদারীপুরে জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (ডিএম) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৫ সাল থেকে তিনি বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে একটি প্রকল্পে এবং ঢাকায় বিশ্বব্যাংক কার্যালয়ে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী টিমের উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেছেন। এছাড়াও এই পদে শোনা যাচ্ছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আশরাফ উদ্দিনের নাম। ২০২৪ সালের ২৭ মে তিনি এই পদে দায়িত্ব পালনের আগে বাংলাদেশ লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (বিপিএটিসি) রেক্টরের (সচিব) দায়িত্ব পালন করেন।

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. এহছানুল হকের নাম জনপ্রশাসন সচিব হিসেবে সচিবালয়ের সর্বত্রই আলোচনা হচ্ছে। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের এই সচিব আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে অতিরিক্ত সচিব হিসেবে অবসরে গিয়েছিলেন। যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও তিনি ওই সময় পদোন্নতি পাননি। ২০০৭-২০০৮ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ফখরুদ্দীন আহমদের একান্ত সচিব হওয়ায় পতিত আওয়ামী লীগ সরকার তাঁর ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন। কিন্তু বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার তাকে চাকরিতে ফিরিয়ে এনে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়ে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিবের দায়িত্ব দেন। তবে গুরুত্বপূর্ণ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব পদে শেষতক কে নিয়োগ পাবেন এটি একান্তই নির্ভর করছে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড.মুহাম্মদ ইউনূস’র মনোভাবের ওপর।

কালের আলো/এমএএএমকে

জনগণ সেনাবাহিনীর ওপর গভীর আস্থা রাখে : প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ৩:১০ অপরাহ্ণ
জনগণ সেনাবাহিনীর ওপর গভীর আস্থা রাখে : প্রধানমন্ত্রী

জনগণ সেনাবাহিনীর ওপর গভীর আস্থা রাখে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ মঙ্গলবার সকালে সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়া পরিদর্শনে গিয়ে এ মন্তব্য করেন করেন তিনি। এসময় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন।

সকাল ৯টা ২০ মিনিটে মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৯ পদাতিক ডিভিশনের অধীন ৮ বীর-এর গ্রীষ্মকালীন প্রশিক্ষণ এলাকা পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

মহড়া চলাকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘ফার্ম বেস’-এর বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) ও ইউনিটের কমান্ডিং অফিসারের (সিও) কাছ থেকে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ও কৌশলগত প্রস্তুতি সম্পর্কে অবহিত হন। তিনি একজন কমান্ডারের মৌখিক অপারেশনাল নির্দেশনা মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং সেনা সদস্যদের পরিচালিত ‘রেইড’ মহড়া প্রত্যক্ষ করেন।

এ ছাড়া যুদ্ধক্ষেত্রে সেনা সদস্যদের অবস্থান, রণকৌশল, সমরাস্ত্রের ব্যবহার এবং প্রশিক্ষণের বিভিন্ন দিক পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি সেনা বাংকারে নেমে মহড়ায় অংশগ্রহণকারী অফিসার ও সেনা সদস্যদের সঙ্গে রণকৌশল বিষয়ে মতবিনিময় করেন। পাশাপাশি গাছের পাতার আড়ালে ছদ্মবেশে অবস্থানরত সেনা সদস্যদের কাছেও গিয়ে তাদের খোঁজখবর নেন এবং দায়িত্ব পালনে উৎসাহ প্রদান করেন।

সেনা সদস্যদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের জনগণ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ওপর গভীর আস্থা রাখে।

জাতীয় সংকট মোকাবেলা এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনীর গৌরবময় ভূমিকা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সেনাবাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করে পেশাদার প্রশিক্ষণ, শৃঙ্খলা ও সর্বোচ্চ প্রস্তুতি বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ তারিক এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

কালের আলো/এসআর/এএএন

প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের সম্পদ নিয়ে আলোচনা, হলফনামায় মিলল ভিন্ন চিত্র

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ২:৪২ অপরাহ্ণ
প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের সম্পদ নিয়ে আলোচনা, হলফনামায় মিলল ভিন্ন চিত্র

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের সম্পদ নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য ও আলোচনা নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এ বিষয়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দাখিল করা তার হলফনামা, পারিবারিক ব্যবসার বর্তমান অবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যে ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী, মীর শাহে আলমের নামে মোট ১ হাজার ৮২৪ শতাংশ জমি এবং ১২টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের তথ্য উল্লেখ রয়েছে।

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তিনি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর সরকারি বিধি অনুসরণ করে সম্ভাব্য স্বার্থের সংঘাত এড়াতে পারিবারিক ব্যবসার মালিকানা ও ব্যবস্থাপনা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সরে দাঁড়ান।

প্রতিমন্ত্রীর প্রেস সেক্রেটারি আতিকুর রহমান জানান, পরবর্তীতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শেয়ার, পরিচালনা ও মালিকানাসংক্রান্ত দায়িত্ব পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বর্তমানে এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পরিবারের সদস্যরাই পরিচালনা করছেন।

এদিকে ব্যবসার পুনর্বিন্যাসের অংশ হিসেবে জাতীয় নির্বাচনের আগে, চলতি বছরের ২ ফেব্রুয়ারি পরিবারের মালিকানাধীন রোমা অটো রাইস মিল ৪২ কোটি টাকায় বিক্রি করা হয়। সংশ্লিষ্টদের দাবি, নিবন্ধিত দলিলের মাধ্যমে বিক্রয় সম্পন্ন হয়েছে।

মিলটির ক্রেতা শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলা এলাকার ব্যবসায়ী রবিউল আলম জানান, তিনি ফেব্রুয়ারির শুরুতে ৪২ কোটি টাকায় প্রতিষ্ঠানটি ক্রয় করেন এবং পরে এর সব দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামায় উল্লেখিত ১২টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে রোমা অটো রাইস মিল, রূপসী রাইস অ্যান্ড পুষ্টি মিলস লিমিটেড, রূপসী ফ্লাওয়ার মিল, মীর সীমান্ত-দিগন্ত ফিলিং স্টেশন, মীর লাবনী-সুনাত ফিলিং স্টেশন, মীর দিগন্ত ট্রেডিং এজেন্সি, উত্তর বাংলা ওভারসিজ লিমিটেড, রূপসী কৃষি খামার, রূপসী মৎস্য খামার, রূপসী কংক্রিট ব্রিকস ফ্যাক্টরি, রূপসী মিনি কোল্ড স্টোরেজ এবং রূপসী প্রাণী খামার।

সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে প্রতিমন্ত্রীর সম্পদের বিষয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়। ওই প্রতিবেদনে ৩১ শতাংশ জমির তথ্য উল্লেখ করা হলেও হলফনামায় ১ হাজার ৮২৪ শতাংশ জমির তথ্য রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

এ ছাড়া প্রতিমন্ত্রীর নামে নতুন করে ২৪২ শতাংশ জমি কেনার যে দাবি প্রকাশিত হয়েছে, সেটিও সঠিক নয় বলে দাবি করেন প্রেস সেক্রেটারি আতিকুর রহমান। তার ভাষ্য, আলোচিত জমিটি ব্যক্তি হিসেবে মীর শাহে আলমের নামে নয়; বরং রূপসী রাইস অ্যান্ড পুষ্টি মিলস লিমিটেডের নামে ক্রয় করা হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ওই প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা বা ব্যবসায়িক কার্যক্রমেও তার ব্যক্তিগত সম্পৃক্ততা নেই বলে তিনি জানান।

প্রতিষ্ঠানগুলোর সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর মীর শাহে আলম ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিকানা ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করেছেন। ফলে বর্তমানে তার ব্যক্তিগত নামে কোনো ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত বা জমি ক্রয়ের বিষয়টি প্রযোজ্য নয়।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মীর পরিবার দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী পরিবার হিসেবে পরিচিত। উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত সম্পদের পাশাপাশি কৃষি, শিল্প ও বাণিজ্যিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে।

শিবগঞ্জ উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, মীর শাহে আলম দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। প্রতিমন্ত্রী হওয়ার পর তিনি ব্যবসার মালিকানা থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন বলে তিনি জানেন। তার দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই এ ধরনের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

অন্যদিকে, শিবগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি আব্দুর রউফ রুবেল বলেন, প্রকাশিত প্রতিবেদনের শিরোনাম ও উপস্থাপিত তথ্যের মধ্যে যথেষ্ট সামঞ্জস্য ছিল না বলে তার মনে হয়েছে। তার মতে, হলফনামার পূর্ণাঙ্গ তথ্য পর্যালোচনা না করে আংশিক তথ্য প্রকাশ করায় বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে পূর্ণাঙ্গ তথ্য যাচাই করে প্রতিবেদন প্রকাশ করা উচিত।

কালের আলো/এএন/এমএসআইপি 

কনটেইনার গায়েব নিয়ে মুখোমুখি চট্টগ্রাম বন্দর-কাস্টমস

চট্টগ্রাম প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ২:১৫ অপরাহ্ণ
কনটেইনার গায়েব নিয়ে মুখোমুখি চট্টগ্রাম বন্দর-কাস্টমস

চট্টগ্রাম বন্দরে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত ২৫০টি আমদানি চালানের কনটেইনারের অবস্থান নিয়ে তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি। চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস বলছে, অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ডের রিস্ক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে লক করা এসব কনটেইনারের অবস্থান জানতে গত নয় মাসে একাধিকবার চিঠি দিলেও বন্দর কর্তৃপক্ষ কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য দেয়নি।

অন্যদিকে বন্দর কর্তৃপক্ষের দাবি, কনটেইনারগুলোর অবস্থান ও ডেলিভারির বিস্তারিত তথ্য অনেক আগেই লিখিতভাবে কাস্টমসকে জানানো হয়েছে। দুই প্রতিষ্ঠানের এমন বিপরীতমুখী অবস্থানের মধ্যে বন্দরের নিরাপত্তা ও নজরদারি ব্যবস্থাও প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, বিষয়টির সূত্রপাত হয় ২০২৪ সালে দুটি পৃথক আমদানি চালানকে ঘিরে। ওই বছরের জুনে নারায়ণগঞ্জের মেসার্স মাইনুল হাসান এন্টারপ্রাইজ ইন্দোনেশিয়া থেকে পাঁচ কনটেইনার তুলা আমদানি করে।

একই বছরের মে মাসে আহমেদ এন্টারপ্রাইজ চীন থেকে চশমার ফ্রেম ও মাউন্টিং ঘোষণা দিয়ে একটি কনটেইনার পণ্য আমদানি করে। দুটি চালানেই ঘোষণা-বহির্ভূত পণ্য থাকার সন্দেহে অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড রিস্ক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে চালানগুলো লক করে কায়িক পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেয় কাস্টমস।

কিন্তু পরীক্ষার সময় ওই ছয়টি কনটেইনারের অবস্থান শনাক্ত করতে পারেননি কাস্টমস কর্মকর্তারা। পরে অনুসন্ধান চালিয়ে তারা দেখতে পান, একই ধরনের আরও শত শত চালান দীর্ঘদিন ধরে রিস্ক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে লক থাকলেও সংশ্লিষ্ট কনটেইনারগুলোর অবস্থান নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।

কাস্টমসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে মোট ২৫০টি বিল অব এন্ট্রি এখনও লক অবস্থায় রয়েছে। এসব চালানে মোট ৩৭৬টি কনটেইনার রয়েছে। এর মধ্যে ২০২১ সালের ৮৩টি, ২০২২ সালের ৬১টি, ২০২৩ সালের ৪০টি এবং ২০২৪ সালের ৬৬টি বিল অব এন্ট্রি রয়েছে।

জাতীয় রাজস্ব সুরক্ষার স্বার্থে এসব কনটেইনারের বর্তমান অবস্থান জানাতে গত নয় মাসে একাধিকবার চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষকে চিঠি পাঠানো হয়। সর্বশেষ চলতি বছরের এপ্রিল মাসে এবং এর আগে ২৬ জানুয়ারি চিঠি দেওয়া হয়। কিন্তু কাস্টমসের দাবি, এখন পর্যন্ত তারা কনটেইনারগুলোর অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পায়নি।

তবে কনটেইনার গায়েবের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে সোমবার (৬ জুলাই) বন্দর কর্তৃপক্ষ লিখিতভাবে এই অভিযোগকে মিথ্যা, অনুমাননির্ভর এবং ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে। তাদের বক্তব্য, ২৫০টি নয়, ২৪৭টি চালানের তালিকা দিয়েছিল কাস্টমস।

এর মধ্যে বেশিরভাগ চালানই ইতোমধ্যে খালাস হয়ে গেছে, ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপোতে (আইসিডি) স্থানান্তর করা হয়েছে, অথবা সিপিএর ইয়ার্ডে সংরক্ষিত রয়েছে। কাস্টমসের সরবরাহ করা বেশ কয়েকটি কনটেইনার নম্বর ও বিল অব লেডিংয়ে ভুল ছিল। এ কারণে বাকি চালানগুলোর মিল পাওয়া যায়নি। কাগজপত্র অনুসারে চালানগুলো ইতোমধ্যেই কাস্টমসের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং আনুষ্ঠানিক পত্রযোগাযোগের মাধ্যমে সংস্থাটিকে বিষয়টি অবহিতও করা হয়েছে।

এ বিষয়ে বন্দর কর্তৃপক্ষের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. নাসির উদ্দিন বলেন, কাস্টমস যে ২৫০টি চালানের কথা বলছে, প্রকৃত সংখ্যা ২৪৭টি। এর মধ্যে ১৬৪টি এফসিএল চালানে ২৯৩টি কনটেইনার রয়েছে।

এসবের মধ্যে ৮৮টি কাস্টমস আউটপাসের মাধ্যমে খালাস হয়েছে, ৭০টি আইজিএম অনুযায়ী বিভিন্ন বেসরকারি কনটেইনার ডিপোতে পাঠানো হয়েছে এবং ১৩১টি এখনও বন্দরের বিভিন্ন ইয়ার্ডে রয়েছে। চারটি কনটেইনার নম্বরে ডিজিট বা প্রিফিক্সের ত্রুটিও রয়েছে।

তিনি বলেন, বাকি ৮৩টি এলসিএল চালানের মধ্যে আটটির পণ্য ডেলিভারি দেওয়া হয়েছে, ৩৫টি কনটেইনার বন্দরের সিএফএস ও শেডে রয়েছে। আর ৪০টি চালানের ক্ষেত্রে কাস্টমসের দেওয়া বিল অব লেডিং নম্বরের সঙ্গে বন্দরের তথ্যের মিল পাওয়া যায়নি। এসব তথ্য লিখিতভাবে কাস্টমসকে জানানো হয়েছে।

তবে কাস্টম হাউসের উপকমিশনার (এআইআর) মো. তারেক মাহমুদ বলেন, বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এ ধরনের কোনো চিঠি তারা পাননি। কনটেইনারগুলোর অবস্থান জানতে একাধিকবার চিঠি পাঠানো হলেও এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য মেলেনি।

এদিকে, এ ঘটনায় বন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, জাহাজ থেকে কনটেইনার খালাস, ইয়ার্ডে সংরক্ষণ এবং বন্দর ত্যাগ—পুরো প্রক্রিয়াই একাধিক স্তরের নজরদারির মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার কথা। ফলে এতগুলো কনটেইনারের অবস্থান নিয়ে দুই প্রতিষ্ঠানের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য উদ্বেগ তৈরি করেছে।

চট্টগ্রাম কাস্টমস এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক কাজী মাহমুদ ইমাম (বিলু) বলেন, এত সংখ্যক কনটেইনারের অবস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তা সহজে বিশ্বাসযোগ্য নয়। কনটেইনারগুলো সত্যিই নিখোঁজ কি না, সে সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে বন্দর কর্তৃপক্ষের সরেজমিন অনুসন্ধান এবং কাস্টমসেরও যাচাই করা প্রয়োজন, চালানগুলো ঠিক কোন পর্যায়ে লক করা হয়েছিল।

চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আমিরুল হক বলেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান ধরে রাখতে বন্দর ও কাস্টমসের মধ্যে আরও সমন্বয় থাকা অপরিহার্য। দুটি প্রতিষ্ঠান পাল্টাপাল্টি দোষারোপের পর্যায়ে না নিয়ে গিয়ে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করতে কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি