খুঁজুন
                               
বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ৩ আষাঢ়, ১৪৩৩
           

জনপ্রশাসন সচিব পদে আলোচনায় ৬ আমলার নাম

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ১০:৫৬ অপরাহ্ণ
জনপ্রশাসন সচিব পদে আলোচনায় ৬ আমলার নাম

কালের আলো রিপোর্ট:

নানা বিতর্কের পর চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের ১৩ মাসের মাথায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. মোখলেস উর রহমানকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যেই তাকে পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য হিসেবে বদলি করা হয়। শূন্য হওয়া প্রশাসনের শীর্ষ এই গুরুত্বপূর্ণ চেয়ারে বসতে অনেক কর্মকর্তা জোর লবিং শুরু করেছেন। তবে সৌভাগ্যবান হিসেবে কে এই পদটিতে আসছেন তা নিয়ে বেশ জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে। জোরালোভাবে শোনা যাচ্ছে ৬ আমলার নাম। তাঁরা হলেন-স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. রেজাউল মাকছুদ জাহেদী, ভূমি মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব এ. এস. এম. সালেহ আহমেদ, গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো.নজরুল ইসলাম, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব ড.নেয়ামত উল্লাহ ভুইয়া, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আশরাফ উদ্দিন ও সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. এহছানুল হক। যদিও এই পদে কে আসবেন এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড.মুহাম্মদ ইউনূস। প্রধান উপদেষ্টা জাতিসংঘের অধিবেশন শেষে দেশে ফিরে এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন বলে জানিয়েছে বিভিন্ন সূত্র।

জানা যায়, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর গত বছরের ২৮ আগস্ট জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরীকে সরিয়ে মো. মোখলেস উর রহমানকে দুই বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকার। মোখলেস উর রহমান বিসিএস প্রশাসন ৮২ ব্যাচের কর্মকর্তা। তিনি জনপ্রশাসন সচিবের দায়িত্ব পাওয়ার পর প্রশাসনে নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। পদায়ন ও পদোন্নতিতে বঞ্চিতদের অবমূল্যায়নের অভিযোগ উঠে। সচিব, সংস্থাপ্রধান ও জেলা প্রশাসক নিয়োগ নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠে। নিয়োগকে কেন্দ্র করে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও উঠে তাঁর বিরুদ্ধে। এ নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। কিন্তু তিনি দীর্ঘ সময় বহাল তবিয়তেই ছিলেন। যদিও তাঁর শেষ রক্ষা হয়নি। অবশেষে তাকে এই মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়েছে সরকার।

  • গুরুত্বপূর্ণ এই পদে কে আসছেন, সে নিয়ে জল্পনা-কল্পনা প্রশাসনে
  • চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড.মুহাম্মদ ইউনূস
  • জাতিসংঘের অধিবেশন শেষে দেশে ফিরলেই আসতে পারে সিদ্ধান্ত

সূত্র জানায়, মোখলেস উর রহমান’র দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে এবার জনপ্রশাসন সচিব পদে সৎ, দক্ষ, যোগ্য ও জনপ্রশাসন বিষয়ে অভিজ্ঞ কর্মকর্তাকে নিয়োগ দিতে চায় সরকার। ‘সরকারের মেরুদণ্ড’ হিসেবে পরিচিত এই পদটিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে কোন রকম আপস করতে চায় না সরকার। গোয়েন্দা প্রতিবেদনকেও সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। খতিয়ে দেখা হবে সম্ভাব্যদের আমলনামা। মোখলেসকে সরিয়ে দেওয়ার মধ্যে দিয়ে সরকার একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছে। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে সময়মতো পদোন্নতি ও ভালো পদায়ন পেয়েছেন এমন অনেক কর্মকর্তাকেও গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের সচিব পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

একই সূত্র জানায়, আসন্ন ত্রায়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রশাসনকে আরও গতিশীল করতে জনপ্রশাসনসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব পদে দ্রুত সময়ের মধ্যেই নতুন মুখ আসছে। জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত কর্মকর্তাদের পদায়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। অনিয়ম, দুর্নীতি ও দলবাজিতে পটুদের বিবেচনায় আনা হবে না। নির্বাচনের আগে এই রদবদলে দক্ষ, অভিজ্ঞ ও দলবাজমুক্তদের প্রাধান্য দেওয়া হবে।

জনপ্রশাসন সচিব পদে সম্ভাব্যদের নাম আলোচনার টেবিলে
সচিবালয়ের বিভিন্ন পরিমণ্ডলে জনপ্রশাসন সচিব পদে আলোচনার টেবিলে উচ্চারিত হচ্ছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. রেজাউল মাকছুদ জাহেদী’র নাম। পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বারবার তিনি পদোন্নতি বঞ্চিত হয়েছেন। যুগ্ম সচিব থাকাকালে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে তাঁর ভাগ্যে পদোন্নতি জুটেনি। এমনকি কনিষ্ঠ কর্মকর্তাদের পদোন্নতি দিয়ে অধস্তন করেও রাখা হয়েছিল তাকে। দীর্ঘ সময় বঞ্চিত থেকে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে প্রথমে তাকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও পরে পদোন্নতি দিয়ে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব করা হয়। এরপর তাকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়। বিসিএস ১৩তম ব্যাচের প্রশাসন ক্যাডারের এই কর্মকর্তা জনপ্রশাসনে সৎ ও দক্ষ হিসেবে সুনাম কুড়িয়েছেন। জনপ্রশাসন সচিব হওয়ার দৌড়ে তিনি এগিয়ে থাকায় তাকে জামায়াতপন্থী কর্মকর্তা হিসেবে ‘ট্যাগ’ দেওয়া হলেও তিনি মূলত নিরপেক্ষতার সঙ্গে নিজের অর্পিত দায়িত্ব পালন করেছেন বলে তাঁর ঘনিষ্ঠরা জানিয়েছেন।

একাধিক বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের সপ্তম ব্যাচের কর্মকর্তা ভূমি মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব এ. এস. এম. সালেহ আহমেদ নতুন জনপ্রশাসন সচিব হতে পারেন। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও মাঠ প্রশাসনে গুরুত্বপূর্ণ কাজের অভিজ্ঞতা থাকলেও ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তিনি পদোন্নতি বঞ্চিত হন। ২০২০ সালের ১ জুলাই তিনি যুগ্ম সচিব হিসেবে অবসরে যান। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার তাকে দুই বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব হিসেবে পদায়ন করে। ২০২৪ সালের ২ অক্টোবর এই সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। প্রশাসন নিয়ে তাঁর গভীর জানাশোনা রয়েছে। ফলে তাঁর নিয়োগের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিতে নারাজ অনেকেই।

এই পদটিতে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো.নজরুল ইসলামের কথাও শোনা যাচ্ছে। চলতি বছরের ২৭ মার্চ তিনি গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে যোগদান করেন। এর আগে তিনি পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব ছিলেন। বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (প্রশাসন) ক্যাডারের একাদশ ব্যাচের এই কর্মকর্তাকে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০১০ সাল থেকে ২০২৪ পর্যন্ত পদোন্নতি বঞ্চিত রাখা হয়। এ সময়কালে বিভিন্ন পৌরসভায় প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে তাকে পদায়ন করা হয়। জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালে তাকে অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতি দিয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগে পদায়ন করা হয়। তিনিও জনপ্রশাসন সচিব পদে লবিইংয়ে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন।

জনপ্রশাসন সচিব পদে আলোচনায় রয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব ড.নেয়ামত উল্লাহ ভুইয়াও। চলতি বছরের বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব জামিলা শবনম সই করা এক প্রজ্ঞাপনে তাকে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এর আগে তিনি ২০২৪ সালের ২৮ অক্টোবর পরিকল্পনা কমিশনের কৃষি, পানিসম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগে যোগদান করেন। মাগুরা ও মাদারীপুরে জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (ডিএম) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৫ সাল থেকে তিনি বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে একটি প্রকল্পে এবং ঢাকায় বিশ্বব্যাংক কার্যালয়ে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী টিমের উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেছেন। এছাড়াও এই পদে শোনা যাচ্ছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আশরাফ উদ্দিনের নাম। ২০২৪ সালের ২৭ মে তিনি এই পদে দায়িত্ব পালনের আগে বাংলাদেশ লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (বিপিএটিসি) রেক্টরের (সচিব) দায়িত্ব পালন করেন।

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. এহছানুল হকের নাম জনপ্রশাসন সচিব হিসেবে সচিবালয়ের সর্বত্রই আলোচনা হচ্ছে। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের এই সচিব আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে অতিরিক্ত সচিব হিসেবে অবসরে গিয়েছিলেন। যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও তিনি ওই সময় পদোন্নতি পাননি। ২০০৭-২০০৮ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ফখরুদ্দীন আহমদের একান্ত সচিব হওয়ায় পতিত আওয়ামী লীগ সরকার তাঁর ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন। কিন্তু বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার তাকে চাকরিতে ফিরিয়ে এনে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়ে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিবের দায়িত্ব দেন। তবে গুরুত্বপূর্ণ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব পদে শেষতক কে নিয়োগ পাবেন এটি একান্তই নির্ভর করছে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড.মুহাম্মদ ইউনূস’র মনোভাবের ওপর।

কালের আলো/এমএএএমকে

মেসির হ্যাটট্রিকে বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার উড়ন্ত সূচনা

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ৯:০২ পূর্বাহ্ণ
মেসির হ্যাটট্রিকে বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার উড়ন্ত সূচনা

কাতার বিশ্বকাপে দলকে শিরোপা জেতানো লিওনেল মেসি ২০২৬ বিশ্বকাপেও জ্বলে ওঠলেন আর্জেন্টিনার প্রথম ম্যাচেই। আলজেরিয়ার বিপক্ষে এ ম্যাচে হ্যাটট্রিকের দেখা পেয়েছেন তিনি। প্রথমার্ধে এক গোল করা এই কিংবদন্তি দ্বিতীয়ার্ধে করেছেন আরও ২টি। তিন গোল করে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি গোলের মালিক বনে যাওয়া মেসি গড়েছেন আরও বেশ কয়েকটি রেকর্ড। মেসির অসাধারণ সব রেকর্ডের ম্যাচে আলজেরিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের এবারের আসরে উড়ন্ত সূচনা করেছেন লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ১৬টি গোল করে এতদিন শীর্ষে ছিলেন জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসা। তবে আজ আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে সেই রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছেন মেসি। বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের মালিক এখন যৌথভাবে মেসি ও ক্লোসা। এই রেকর্ড গড়ার পথে মেসি ছাড়িয়ে গেছেন ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি রোনালদো নাজারিওকেও।

আর্জেন্টিনা ও লিওনেল মেসির জন্য স্বপ্নের মতো শুরু হতে পারত ম্যাচটি। খেলার মাত্র পাঁচ মিনিটেই বল জালে পাঠান মেসি। গ্যালারিতে উল্লাস শুরু হয়ে যায়। তবে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের সেই উল্লাস স্থায়ী হয়নি। কেননা সহকারী রেফারির পতাকা উঠলে সেই উদ্‌যাপন থেমে যায়। অফসাইডের জন্য মেসির সেই গোল বাতিল হয়।

তবে অফসাইডের ফাঁদে গোল বাতিল হয়ে ম্যাচের শুরুটা স্বপ্নের মত না হলেও শেষটা নিজের রঙেই রাঙিয়েছেন মেসি। আর্জেন্টিনার গোল বাতিলের পর জালের দেখা পেয়েছিল আলজেরিয়াও। তবে তাদের সেই গোলটিও অফসাইডের কারণে বাতিল হয়। এদিকে শুরুতেই দু গোল বাতিল হওয়ার পর প্রথমে লিড পায় আর্জেন্টিনাই।

মিডফিল্ড থেকে রদ্রিগো দি পল বল বাড়িয়ে দেন মেসির কাছে। বল পেয়ে তিনি পরিচিত ভঙ্গিতে এগিয়ে যান এবং প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে নেন জোরালো শট। আলজেরিয়ার গোলরক্ষক লুকা জিদান দুই হাত লাগাতে পারলেও সেই দুর্দান্ত শট ঠেকাতে পারেননি। বল জালে জড়িয়ে গেলে এগিয়ে যায় বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।

নিজের ২০০তম ম্যাচ খেলতে নেমেই মেসি স্বভাবসুলভ পায়ের জাদু দেখালেন। এদিকে মেসির গোলে লিড নেওয়ার পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় আর্জেন্টিনা। বিরতির আগ পর্যন্ত বেশ কয়েকবার চেষ্টা করলেও আর গোলের দেখা পায়নি লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা। ম্যাচের ৪২ মিনিটে থিয়াগো আলমাদার নেওয়া শট ক্রসবারের উপর দিয়ে যায়।

এদিকে গোল হজম করে আলজেরিয়াও ম্যাচে ফিরতে মরিয়ে হয়ে লড়েছে। তবে তাদের কোনো প্রচেষ্টাই সফল হয়নি। ইতিরিক্ত সময়ের শেষদিকে আলজেরিয়ার প্রচেষ্টা ঠেকিয়ে দেন মার্তিনেজ। শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনা বিরতিতে যায় ১-০ গোলের লিড নিয়ে।

বিরতির পর আর্জেন্টিনা খেলা শুরু করে একাদশে এক পরিবর্তন নিয়ে। গঞ্জালো মান্তিয়েলের জায়গায় মাঠে নামেন নাহুয়েল মলিনা। ম্যাচের ৫১ মিনিটে গোল করার প্রচেষ্টা নিয়েছিলেন মেসি। তবে ডি বক্সের বাইরে থেকে তাঁর নেওয়া শটটি ক্রসবারের উপর দিয়ে যায়। এরপর ৫৫ মিনিটে লাওতারো মার্তিনেজের শট দারুণভাবে ঠেকিয়ে দিলেন আলজেরিয়ার গোলরক্ষক লুকা জিদান। তবে গোলের জন্য আর্জেন্টিনার অপেক্ষা বেশি হয়নি।

৫৫ মিনিটে দলে আরও দুই পরিবর্তন আনেন স্কালোনি। লাওতারো মার্তিনেজের বদলে মাঠে নামেন হুলিয়ান আলভারেজ। একই সময়ে থিয়াগো আলমাদার বদলে মাঠে নামেন নিকোলাস গঞ্জালেস। আর ৬০ মিনিটের মাথায় গোলের দেখা পান মেসি। এবার গোলপোস্টের খুব কাছ থেকে জালের ঠিকানা খুঁজে নেন তিনি। অ্যালেক্সিস ম্যাক আলিস্টারের বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া শট নিয়ন্ত্রণে নিতে ব্যর্থ হন আলজেরিয়ার গোলরক্ষক। ফিরতি শটে গোল করে বল জালে জড়ান মেসি।

এটি বিশ্বকাপে মেসির ১৫তম গোল। এই গোলে মেসি ছুঁয়ে ফেললেন ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি রোনালদো নাজারিওকে (১৫)। এরপর তাঁর সামনে ছিলেন শুধুই ক্লোসা। পরবর্তীতে ম্যাচের ৭৬ মিনিটেই নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন মেসি। বিশ্বকাপে নিজের প্রথম হ্যাটট্রিকেই ক্লোসাকেও ছুঁয়ে ফেলেন জীবন্ত এই কিংবদন্তি। হ্যাটট্রিকের পরপর ৮০ মিনিটে মাঠ ছাড়েন মেসি। মাঠ ছাড়ার সময় মেসিকে দেয়া হলো ‘স্ট্যান্ডিং অভেশন।’

মেসিময় এই ম্যাচের বাকি সময়টা প্রতিরোধ গড়েই কাটাতে হয়েছে আলজেরিয়াকে। আলবিসেলেস্তেরা এরপর আরও কয়েকবার আক্রমণে গেলেও তা সফল হয়নি। শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল না হওয়ায় মেসির হ্যাটট্রিকে ৩-০ গোলের জয়ে বিশ্বকাপে উড়ন্ত সূচনা করে আর্জেন্টিনা।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

আমি না থাকলে ইসরায়েলের অস্তিত্ব থাকত না: ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ৮:৫৪ পূর্বাহ্ণ
আমি না থাকলে ইসরায়েলের অস্তিত্ব থাকত না: ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তার সমর্থন ছাড়া ইসরায়েলের অস্তিত্ব টিকে থাকত না। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে মতপার্থক্য বাড়তে থাকার মধ্যেই তিনি এ মন্তব্য করেছেন।

জি–৭ সম্মেলনের ফাঁকে কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির উপস্থিতিতে দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া ইসরায়েলের অস্তিত্ব থাকত না। আমি না থাকলেও ইসরায়েল টিকে থাকত না। কারণ আমি যা করেছি, তা করার সাহস বা ইচ্ছা অন্য কোনো প্রেসিডেন্টের ছিল না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি জড়িত না হলে ইসরায়েল অনেক আগেই ধ্বংস হয়ে যেত।’

সম্প্রতি লেবাননে ইসরায়েলের হামলা এবং ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তি নিয়ে আলোচনা প্রসঙ্গে ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন। তার মতে, বৈরুতে ইসরাইলের সামরিক অভিযান মধ্যপ্রাচ্যে কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

ট্রাম্প জানান, নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার সম্পর্ক এখনো ভালো। তবে লেবানন ইস্যুতে তিনি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীকে আরও সংযমী হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

ট্রাম্প বলেন, ‘বিবির (নেতানিয়াহু) সঙ্গে আমার সম্পর্ক চমৎকার। কিন্তু এখন লেবাননের বিষয়ে তাকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে।’

লেবাননের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, ‘একসময় লেবানন ছিল একটি মহান দেশ। সেখানে অসংখ্য অধ্যাপক, চিকিৎসক ও আইনজীবী ছিলেন। অনেক মেধাবী মানুষ লেবাননে বাস করতেন। কিন্তু এখন দেশটির অবস্থা খুবই খারাপ।’

মার্কিন সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য একটি চুক্তির আগে বৈরুতে ইসরায়েলের হামলায় ট্রাম্প অসন্তুষ্ট হয়েছেন। অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, হামলার বিষয়টি জানতে পেরে তিনি বিস্মিত হন। কারণ এর আগে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো একে অপরকে আক্রমণ না করার বিষয়ে সম্মত হয়েছিল।

ট্রাম্প বলেন, ‘এটি খুবই খারাপ ছিল। আমি বিশ্বাসই করতে পারিনি। আমাদের চুক্তি স্বাক্ষরের মাত্র এক ঘণ্টা আগে এটি ঘটেছে।’

নেতানিয়াহুর সিদ্ধান্তেরও সমালোচনা করেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, ‘বিবিকে কেন এই জঘন্য হামলাটি করতে হলো? আমি খুবই ক্ষুব্ধ হয়েছিলাম এবং তাকে তা জানিয়েছি।’

অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেকোনো চুক্তির অন্যতম শর্ত হবে লেবাননের যেসব এলাকা চলমান সংঘাতের সময় ইসরায়েল দখল করেছে, সেখান থেকে সেনা প্রত্যাহার।

আরাঘচির ভাষ্য, ‘যুদ্ধ চলাকালে দখল করা অঞ্চলগুলো থেকে ইসরায়েলি বাহিনী সরে না যাওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ পুরোপুরি শেষ হয়েছে বলা যাবে না।’

তবে একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আলোচনায় থাকা সম্ভাব্য চুক্তিতে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের কোনো শর্ত নেই। এদিকে নেতানিয়াহুও বলেছেন, প্রয়োজন হলে ইসরাইল দীর্ঘ সময় লেবাননে অবস্থান করবে।

সূত্র: এনডিটিভি

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

জোড়া গোলে দুটি রেকর্ড ভাঙলেন এমবাপে, পেছনে পড়লেন মেসি

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ৩:২৬ পূর্বাহ্ণ
জোড়া গোলে দুটি রেকর্ড ভাঙলেন এমবাপে, পেছনে পড়লেন মেসি

পেনাল্টি না পাওয়ার ঠিক কয়েক মুহূর্ত পরই ফ্রান্সকে এগিয়ে নিলেন কিলিয়ান এমবাপে। তাতে ফ্রান্সের শীর্ষ গোলদাতা হিসেবে অলিভার জিরুদের পাশে বসেন তিনি। ওখানেই শেষ নয়। দ্বিতীয়ার্ধের ইনজুরি টাইমে আরেকটি গোল। তাতে এককভাবে ফ্রান্সের সর্বোচ্চ গোলদাতাও হয়ে গেলেন রিয়াল মাদ্রিদ তারকা।

এছাড়া বিশ্বকাপে নিজের ১৪তম গোলটি করে সাবেক ফরাসি লিজেন্ড জাস্ট ফন্টেইন ও আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিওনেল মেসিকেও ছাড়িয়ে গেলেন তারকা স্ট্রাইকার। বলাবাহুল্য, বিশ্বমঞ্চে ফ্রান্সের সর্বোচ্চ গোলদাতাও তিনি।

আর তিনটি গোল করলে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতা হবেন তিনি। ১৬ গোল করে জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসা সবার উপরে। বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি গোল করার তালিকায় এমবাপে যৌথভাবে তিন নম্বরে। ১৪ গোল করে গার্ড মুলারের পাশে তিনি।

ডি-বক্সের বাইরে থেকে মাইকেল অলিসের এক দারুণ অ্যাসিস্ট সেনেগালের রক্ষণব্যুহকে ভেঙে দেয়। আর ছয় গজ বক্সের প্রান্ত থেকে ডান পায়ের নিখুঁত শটে এদুয়ার মেন্দির পাশ দিয়ে বল জালে জড়ান এমবাপে।

ফ্রান্সের জার্সিতে এটি ছিল তার ৫৭তম গোল। তারপর বক্সের বাইরে থেকে ডান পায়ের জাদুকরী শটে দ্বিতীয় গোল করেন তিনি

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি