খুঁজুন
                               
, ,
           

জনপ্রশাসন সচিব পদে আলোচনায় ৬ আমলার নাম

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ১০:৫৬ অপরাহ্ণ
জনপ্রশাসন সচিব পদে আলোচনায় ৬ আমলার নাম

কালের আলো রিপোর্ট:

নানা বিতর্কের পর চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের ১৩ মাসের মাথায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. মোখলেস উর রহমানকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যেই তাকে পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য হিসেবে বদলি করা হয়। শূন্য হওয়া প্রশাসনের শীর্ষ এই গুরুত্বপূর্ণ চেয়ারে বসতে অনেক কর্মকর্তা জোর লবিং শুরু করেছেন। তবে সৌভাগ্যবান হিসেবে কে এই পদটিতে আসছেন তা নিয়ে বেশ জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে। জোরালোভাবে শোনা যাচ্ছে ৬ আমলার নাম। তাঁরা হলেন-স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. রেজাউল মাকছুদ জাহেদী, ভূমি মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব এ. এস. এম. সালেহ আহমেদ, গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো.নজরুল ইসলাম, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব ড.নেয়ামত উল্লাহ ভুইয়া, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আশরাফ উদ্দিন ও সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. এহছানুল হক। যদিও এই পদে কে আসবেন এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড.মুহাম্মদ ইউনূস। প্রধান উপদেষ্টা জাতিসংঘের অধিবেশন শেষে দেশে ফিরে এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন বলে জানিয়েছে বিভিন্ন সূত্র।

জানা যায়, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর গত বছরের ২৮ আগস্ট জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরীকে সরিয়ে মো. মোখলেস উর রহমানকে দুই বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকার। মোখলেস উর রহমান বিসিএস প্রশাসন ৮২ ব্যাচের কর্মকর্তা। তিনি জনপ্রশাসন সচিবের দায়িত্ব পাওয়ার পর প্রশাসনে নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। পদায়ন ও পদোন্নতিতে বঞ্চিতদের অবমূল্যায়নের অভিযোগ উঠে। সচিব, সংস্থাপ্রধান ও জেলা প্রশাসক নিয়োগ নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠে। নিয়োগকে কেন্দ্র করে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও উঠে তাঁর বিরুদ্ধে। এ নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। কিন্তু তিনি দীর্ঘ সময় বহাল তবিয়তেই ছিলেন। যদিও তাঁর শেষ রক্ষা হয়নি। অবশেষে তাকে এই মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়েছে সরকার।

  • গুরুত্বপূর্ণ এই পদে কে আসছেন, সে নিয়ে জল্পনা-কল্পনা প্রশাসনে
  • চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড.মুহাম্মদ ইউনূস
  • জাতিসংঘের অধিবেশন শেষে দেশে ফিরলেই আসতে পারে সিদ্ধান্ত

সূত্র জানায়, মোখলেস উর রহমান’র দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে এবার জনপ্রশাসন সচিব পদে সৎ, দক্ষ, যোগ্য ও জনপ্রশাসন বিষয়ে অভিজ্ঞ কর্মকর্তাকে নিয়োগ দিতে চায় সরকার। ‘সরকারের মেরুদণ্ড’ হিসেবে পরিচিত এই পদটিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে কোন রকম আপস করতে চায় না সরকার। গোয়েন্দা প্রতিবেদনকেও সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। খতিয়ে দেখা হবে সম্ভাব্যদের আমলনামা। মোখলেসকে সরিয়ে দেওয়ার মধ্যে দিয়ে সরকার একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছে। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে সময়মতো পদোন্নতি ও ভালো পদায়ন পেয়েছেন এমন অনেক কর্মকর্তাকেও গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের সচিব পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

একই সূত্র জানায়, আসন্ন ত্রায়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রশাসনকে আরও গতিশীল করতে জনপ্রশাসনসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব পদে দ্রুত সময়ের মধ্যেই নতুন মুখ আসছে। জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত কর্মকর্তাদের পদায়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। অনিয়ম, দুর্নীতি ও দলবাজিতে পটুদের বিবেচনায় আনা হবে না। নির্বাচনের আগে এই রদবদলে দক্ষ, অভিজ্ঞ ও দলবাজমুক্তদের প্রাধান্য দেওয়া হবে।

জনপ্রশাসন সচিব পদে সম্ভাব্যদের নাম আলোচনার টেবিলে
সচিবালয়ের বিভিন্ন পরিমণ্ডলে জনপ্রশাসন সচিব পদে আলোচনার টেবিলে উচ্চারিত হচ্ছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. রেজাউল মাকছুদ জাহেদী’র নাম। পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বারবার তিনি পদোন্নতি বঞ্চিত হয়েছেন। যুগ্ম সচিব থাকাকালে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে তাঁর ভাগ্যে পদোন্নতি জুটেনি। এমনকি কনিষ্ঠ কর্মকর্তাদের পদোন্নতি দিয়ে অধস্তন করেও রাখা হয়েছিল তাকে। দীর্ঘ সময় বঞ্চিত থেকে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে প্রথমে তাকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও পরে পদোন্নতি দিয়ে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব করা হয়। এরপর তাকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়। বিসিএস ১৩তম ব্যাচের প্রশাসন ক্যাডারের এই কর্মকর্তা জনপ্রশাসনে সৎ ও দক্ষ হিসেবে সুনাম কুড়িয়েছেন। জনপ্রশাসন সচিব হওয়ার দৌড়ে তিনি এগিয়ে থাকায় তাকে জামায়াতপন্থী কর্মকর্তা হিসেবে ‘ট্যাগ’ দেওয়া হলেও তিনি মূলত নিরপেক্ষতার সঙ্গে নিজের অর্পিত দায়িত্ব পালন করেছেন বলে তাঁর ঘনিষ্ঠরা জানিয়েছেন।

একাধিক বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের সপ্তম ব্যাচের কর্মকর্তা ভূমি মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব এ. এস. এম. সালেহ আহমেদ নতুন জনপ্রশাসন সচিব হতে পারেন। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও মাঠ প্রশাসনে গুরুত্বপূর্ণ কাজের অভিজ্ঞতা থাকলেও ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তিনি পদোন্নতি বঞ্চিত হন। ২০২০ সালের ১ জুলাই তিনি যুগ্ম সচিব হিসেবে অবসরে যান। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার তাকে দুই বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব হিসেবে পদায়ন করে। ২০২৪ সালের ২ অক্টোবর এই সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। প্রশাসন নিয়ে তাঁর গভীর জানাশোনা রয়েছে। ফলে তাঁর নিয়োগের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিতে নারাজ অনেকেই।

এই পদটিতে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো.নজরুল ইসলামের কথাও শোনা যাচ্ছে। চলতি বছরের ২৭ মার্চ তিনি গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে যোগদান করেন। এর আগে তিনি পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব ছিলেন। বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (প্রশাসন) ক্যাডারের একাদশ ব্যাচের এই কর্মকর্তাকে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০১০ সাল থেকে ২০২৪ পর্যন্ত পদোন্নতি বঞ্চিত রাখা হয়। এ সময়কালে বিভিন্ন পৌরসভায় প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে তাকে পদায়ন করা হয়। জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালে তাকে অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতি দিয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগে পদায়ন করা হয়। তিনিও জনপ্রশাসন সচিব পদে লবিইংয়ে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন।

জনপ্রশাসন সচিব পদে আলোচনায় রয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব ড.নেয়ামত উল্লাহ ভুইয়াও। চলতি বছরের বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব জামিলা শবনম সই করা এক প্রজ্ঞাপনে তাকে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এর আগে তিনি ২০২৪ সালের ২৮ অক্টোবর পরিকল্পনা কমিশনের কৃষি, পানিসম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগে যোগদান করেন। মাগুরা ও মাদারীপুরে জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (ডিএম) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৫ সাল থেকে তিনি বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে একটি প্রকল্পে এবং ঢাকায় বিশ্বব্যাংক কার্যালয়ে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী টিমের উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেছেন। এছাড়াও এই পদে শোনা যাচ্ছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আশরাফ উদ্দিনের নাম। ২০২৪ সালের ২৭ মে তিনি এই পদে দায়িত্ব পালনের আগে বাংলাদেশ লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (বিপিএটিসি) রেক্টরের (সচিব) দায়িত্ব পালন করেন।

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. এহছানুল হকের নাম জনপ্রশাসন সচিব হিসেবে সচিবালয়ের সর্বত্রই আলোচনা হচ্ছে। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের এই সচিব আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে অতিরিক্ত সচিব হিসেবে অবসরে গিয়েছিলেন। যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও তিনি ওই সময় পদোন্নতি পাননি। ২০০৭-২০০৮ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ফখরুদ্দীন আহমদের একান্ত সচিব হওয়ায় পতিত আওয়ামী লীগ সরকার তাঁর ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন। কিন্তু বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার তাকে চাকরিতে ফিরিয়ে এনে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়ে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিবের দায়িত্ব দেন। তবে গুরুত্বপূর্ণ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব পদে শেষতক কে নিয়োগ পাবেন এটি একান্তই নির্ভর করছে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড.মুহাম্মদ ইউনূস’র মনোভাবের ওপর।

কালের আলো/এমএএএমকে

সবজির দামে আগুন, স্বস্তি মাছ-মুরগির বাজারে

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৪৬ অপরাহ্ণ
সবজির দামে আগুন, স্বস্তি মাছ-মুরগির বাজারে

রাজধানীর কাঁচাবাজারে আবারও চড়েছে সবজির দাম। সপ্তাহের ব্যবধানে গ্রীষ্মকালীন প্রায় সব ধরনের সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বাজারে সবজির সরবরাহ মোটামুটি স্বাভাবিক থাকলেও দামে তার প্রভাব পড়েনি। ফলে বাড়তি দামে সবজি কিনতে গিয়ে ক্রেতাদের নাভিশ্বাস উঠছে। তবে তুলনামূলক স্বস্তি রয়েছে মাছ ও মুরগির বাজারে। অধিকাংশ মাছ ও মুরগি আগের সপ্তাহের দামেই বিক্রি হচ্ছে। এর মধ্যে কেজিতে ১০ টাকা কমেছে ব্রয়লার মুরগির দাম। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর তালতলা ও আগারগাঁও এলাকার কাঁচাবাজার ঘুরে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

বাজারে বর্তমানে বেগুনের দাম সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। প্রতি কেজি বেগুন বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১৪০ টাকায়, যা সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় ২০ টাকা বেশি। টমেটো ১২০ থেকে ১৪০ টাকা এবং করলা ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পটল, ঢ্যাঁড়স, কাঁকরোল ও ঝিঙা মানভেদে ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি।

এ ছাড়া পেঁপে ও আলু ৩০ টাকা, পেঁয়াজ ৪৫ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কচুর লতি ৬০ থেকে ৭০ টাকা, কচুরমুখি ৫০ থেকে ৬০ টাকা এবং শসা ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি। বটবটি ৮০ টাকা, গাজর ১২০ টাকা এবং মিষ্টি কুমড়া ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে এক হালি লেবু কিনতে গুনতে হচ্ছে ২০ থেকে ৩০ টাকা। দেশি ধনেপাতা কেজি ৩০০ টাকা এবং হাইব্রিড ধনেপাতা ২৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কাঁচা কলা হালি ৪০ টাকা, চাল কুমড়া প্রতি পিস ৫০ থেকে ৬০ টাকা এবং ক্যাপসিকাম কেজি ৩৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

শাকের বাজারেও খুব একটা স্বস্তি নেই। লাল শাকের আঁটি ১৫ টাকা, লাউ শাক ৫০ টাকা, কলমি শাক দুই আঁটি ২০ টাকা, পুঁই শাক ৪০ টাকা এবং ডাটা শাক দুই আঁটি ৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

তবে মুরগির বাজারে তুলনামূলক স্থিতিশীলতা দেখা গেছে। সোনালি কক মুরগি কেজি ৩২০ টাকা, সোনালি হাইব্রিড ২৯০ টাকা, লাল লেয়ার ৩৫০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৭০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে ব্রয়লার মুরগির দাম আগের সপ্তাহের তুলনায় কেজিতে ১০ টাকা কমে ১৮০ টাকায় নেমেছে।

মাছের বাজারেও বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়নি। আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে ইলিশ। ৩০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ কেজি ১১০০ থেকে ১২০০ টাকা, ৫০০ থেকে ৭০০ গ্রামের ইলিশ ১৮৯০ থেকে ২০০০ টাকা এবং ১ কেজি ওজনের ইলিশ ২৭০০ থেকে ২৮০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

অন্য মাছের মধ্যে চাষের শিং আকারভেদে ৩০০ থেকে ৬০০ টাকা, দেশি শিং ১২০০ থেকে ১৪০০ টাকা, রুই ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, দেশি মাগুর ৯০০ থেকে ১২০০ টাকা এবং মৃগেল ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। চাষের পাঙ্গাস ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, চিংড়ি ৮০০ থেকে ১৪০০ টাকা, বোয়াল ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা এবং বড় কাতল ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা কেজি।

এ ছাড়া পোয়া মাছ ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, পাবদা ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা, তেলাপিয়া ২৪০ টাকা, কৈ ২২০ থেকে ২৩০ টাকা, মলা ৫০০ টাকা এবং বাতাসি টেংরা ১৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। টেংরা ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা, কাচকি ৫০০ টাকা এবং পাঁচমিশালি মাছ ২৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মাংসের বাজারেও তেমন পরিবর্তন নেই। প্রতি কেজি গরুর মাংস ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১৩০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

ডিমের বাজারে এক ডজন লাল ডিম ১৫০ টাকা, হাঁসের ডিম ২০০ টাকা এবং দেশি মুরগির ডিমের হালি ১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সোনালি কক মুরগির ডিমের হালি ৭০ টাকা।

সব মিলিয়ে রাজধানীর বাজারে মাছ, মাংস ও মুরগির দামে বড় ধরনের অস্থিরতা না থাকলেও সবজির বাড়তি দামে চাপে পড়েছেন ক্রেতারা। বিশেষ করে মৌসুমি সবজির সরবরাহ স্বাভাবিক থাকার পরও দাম বাড়ায় বাজার ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সাধারণ ক্রেতারা। তাদের অভিযোগ, এক সপ্তাহের ব্যবধানে কয়েকটি সবজির দাম ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে যাওয়ায় পরিবারের দৈনন্দিন বাজার খরচও বেড়ে গেছে।

কালের আলো/এম/এএইচ

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সারাদেশে পরিচ্ছন্নতা অভিযান, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৪৪ অপরাহ্ণ
ডেঙ্গু প্রতিরোধে সারাদেশে পরিচ্ছন্নতা অভিযান, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বাড়তে থাকায় সারাদেশে তিন মাসব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু হচ্ছে। আগামীকাল শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) থেকে শুরু হওয়া ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শনিবার সকাল ৯টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেশব্যাপী এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হবে। তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় জনস্বার্থে বিশেষ এই অভিযান নেওয়া হয়েছে। আগামী তিন মাস দেশের বিভিন্ন এলাকায় ডেঙ্গু প্রতিরোধের পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

অভিযানের আওতায় ডেঙ্গুর প্রজননস্থল ধ্বংস, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার এবং দেশের সব বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে সরাসরি সম্প্রচারের জন্য সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ জানিয়েছে তথ্য অধিদপ্তর।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

পাবনা-টেকনাফ-কলমাকান্দায় পানিতে ডুবে ৬ শিশুর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪৪ অপরাহ্ণ
পাবনা-টেকনাফ-কলমাকান্দায় পানিতে ডুবে ৬ শিশুর মৃত্যু

দেশের তিন জেলায় পানিতে ডুবে ছয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) পাবনা, কক্সবাজার ও নেত্রকোনায় পৃথক এসব দুর্ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে পাবনায় তিন শিশু, কক্সবাজারের টেকনাফে দুই শিশু এবং নেত্রকোনার কলমাকান্দায় এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

পাবনায় তিন শিশু

পাবনা সদর উপজেলার চরতারাপুর ইউনিয়নের নবীন বাজার এলাকার দাশপাড়া গ্রামে বাড়ির পাশের মাঠে জমে থাকা বর্ষার পানিতে গোসল করতে গিয়ে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার দুপুর ২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলো—দাশপাড়া গ্রামের শিমুল মল্লিকের মেয়ে সুমি খাতুন (৭) এবং একই গ্রামের আশরাফুল ইসলামের ছেলে খালিদ হোসেন (৮) ও মেয়ে আফিয়া খাতুন (৬)। তারা স্থানীয় একটি কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষার্থী ছিল।

স্থানীয়রা জানান, দুপুরে শিশুরা মাঠের জমে থাকা পানিতে গোসল করতে নামে। একপর্যায়ে একজন পানিতে তলিয়ে গেলে তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে বাকি দুজনও পানিতে ডুবে যায়। পরে স্থানীয়রা তিন শিশুকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করলে পথেই তাদের মৃত্যু হয়।

টেকনাফে নাফ নদীতে দুই শিশু

কক্সবাজারের টেকনাফের শাহপরীরদ্বীপে নাফ নদীতে গোসল করতে নেমে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জেটিঘাট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলো—শাহপরীরদ্বীপ উত্তরপাড়া এলাকার মোহাম্মদ উল্লাহর ছেলে মোহাম্মদ নিশান (১২) ও কেফায়েত উল্লাহর ছেলে আরজিন (১০)।

তারা গোসল করতে নেমে পানিতে তলিয়ে নিখোঁজ হয়। স্থানীয় বাসিন্দা, জেলে ও পরে কোস্টগার্ড সদস্যরা উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। প্রায় চার ঘণ্টা পর দুপুর ২টার দিকে তাদের উদ্ধার করা হয়। আরজিনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। নিশানকে মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

কলমাকান্দায় শিশুর মৃত্যু

নেত্রকোনার কলমাকান্দায় পুকুরের পানিতে ডুবে আব্দুল্লাহ নামে সাড়ে চার বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার উপজেলার চিনাহালা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত আব্দুল্লাহ ওই এলাকার কাজল মিয়ার ছেলে। পরিবারের লোকজনের অজান্তে খেলতে গিয়ে সে পুকুরে পড়ে যায়। পরে স্বজনরা উদ্ধার করে কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পৃথক এসব দুর্ঘটনায় তিন এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি