খুঁজুন
                               
বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ৩ আষাঢ়, ১৪৩৩
           

ভারতের ষড়যন্ত্রে রক্তাক্ত পাহাড়ে অশান্তি সৃষ্টির মূল আয়োজক ইউপিডিএফ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ১১:৪৭ অপরাহ্ণ
ভারতের ষড়যন্ত্রে রক্তাক্ত পাহাড়ে অশান্তি সৃষ্টির মূল আয়োজক ইউপিডিএফ

কালের আলো রিপোর্ট:

পাহাড়ি এক কিশোরীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় রক্ত ঝরছে অশান্ত পাহাড়ে। থমথমে পাহাড়ে রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় প্রশাসনের ১৪৪ ধারা ভেঙে ‘জুম্ম-ছাত্র জনতা’র ব্যানারে অবরোধ পালনকালেই ঘটে সংঘর্ষ। খাগড়াছড়ির গুইমারায় ইউপিডিএফ’র সন্ত্রাসীদের ভারী অস্ত্রের গুলিতে নিহত হয়েছেন তিনজন। আহত হয়েছেন গুইমারা জোনের টুআইসিসহ ১২ জন সেনাসদস্য। আগুন দেওয়া হয়েছে ইউপিডিএফ (মূল বা প্রসিত) দলের খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা-গুইমারা উপজেলা সংগঠক ঝিমিত চাকমার নিয়ন্ত্রণাধীন গুইমারা রামেসু বাজারে। বাজারে আগুন দেওয়ার ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। ভয়ানক হয়ে উঠেছে ক’দিন আগেও নীরব থাকা এই সবুজ উপত্যকা। এ ঘটনায় ঝিমিত চাকমা ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) ও জেএসএস (সংস্কার) দলকে গোলাগুলির ঘটনার জন্য সরাসরি দায়ী করেছেন।

এদিকে, দুষ্কৃতকারীদের হামলায় তিনজন পাহাড়ি নিহত, ১২ জন সেনাসদস্য, গুইমারা থানার ওসিসহ তিনজন পুলিশ সদস্য এবং আরও অনেকে আহতের ঘটনায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে গভীর দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে। অন্যদিকে, আগের দিন শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাতে সকল দলমতের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ আলোচনায় খাগড়াছড়ি সদর এলাকায় অবরোধ প্রত্যাহারের ঘোষণার পর পুনরায় ফেসবুকের মাধ্যমে রাত পৌনে একটায় অবরোধ আহ্বানকে ঘিরে তৈরি হয়েছে সন্দেহ-সংশয়। আইন ভাঙার এমন বেআইনি নজিরের মাধ্যমে হানাহানির দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে পাহাড়কে।

বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, ইউপিডিএফ’র সন্ত্রাসীরা পাহাড়ের উঁচু অবস্থান থেকে সংঘর্ষরত জনতাকে গুলি করে হত্যা করলেও তাঁরা উল্টো নিহতের ব্যাপারে সেনাবাহিনীকেই দোষারোপ করার চেষ্টা করছে। যদিও সেনাবাহিনী ইউপিডিএফ’র ফাঁদে পা দেয়নি। তাঁরা ধৈর্য্যরে সঙ্গেই পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে। ইউপিডিএফ’র স্বয়ংক্রিয় প্রাণঘাতী অস্ত্রের এমন ব্যবহার নিশ্চিত করেছে তাঁরাই পরিকল্পিতভাবে পার্বত্য অঞ্চলে অশান্তি সৃষ্টির মূল আয়োজক। বছরের পর বছর পার্বত্য চট্টগ্রামে নীরবে সাধারণ মানুষের প্রতিটি কর্মকাণ্ডে বাঁধা সৃষ্টির মাধ্যমে সবুজ পাহাড়ে ভাঁজে ভাঁজে চাঁদাবাজি চালিয়ে যাচ্ছে এই সন্ত্রাসীরাই।

  • ১৪৪ ধারা ভেঙে ‘জুম্ম-ছাত্র জনতা’র ব্যানারে অবরোধ পালনকালেই ঘটে সংঘর্ষ
  • ইউপিডিএফ’র সন্ত্রাসীদের ভারী অস্ত্রের গুলিতে নিহত হয়েছেন তিনজন
  • আঘাতের পরেও মারমুখী জনতাকে নিবৃত্ত করতে ফাঁকা গুলি সেনাবাহিনীর
  • শান্তি ও সম্প্রীতির পাহাড়ে সন্ত্রাসবাদে মদদ প্রতিবেশী দেশের

এই সন্ত্রাসীদের দমাতে ‘শান্তির দূত’ সেনাবাহিনী কাজ করছে প্রতিনিয়ত। অন্যান্যবারের মতো এবারও গণ্ডগোল পাঁকিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারকে বেকায়দায় ফেলার চেষ্টার অংশ হিসেবে প্রতিবেশী দেশ ভারত পাহাড়কেই মূল লক্ষ্যবস্তু করেছে। নানা বাহানায় তাদের ষড়যন্ত্রে এক্ষেত্রে নতুন নতুন চোরাগলি তৈরি করছে ইউপিডিএফ। রোববারের (২৮ সেপ্টেম্বর) ঘটনায় তাদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে জেএসএস (সংস্কার)। অন্তত ইউপিডিএফ (মূল বা প্রসিত) দলের খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা-গুইমারা উপজেলা সংগঠক ঝিমিত চাকমার বক্তব্য থেকেই এসব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

পাহাড়ি উচ্ছৃঙ্খল জনতাকে উস্কানি দিচ্ছে ইউপিডিএফ
অবরোধ প্রত্যাহারের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পুনরায় অবরোধের ডাক পাহাড়কে অশান্তের নেপথ্য কারণ হিসেবেই মনে করছেন কেউ কেউ। বিশেষ করে স্থানীয় প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করলেও ইউপিডিএফ সমর্থিত ‘জুম্ম-ছাত্র জনতা’র অবরোধ পালনকে ঘিরেই মূলত পাহাড়ের পরিস্থিতি নতুন মোড় নেয়। পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমাও গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপে বলেছেন,-‘আজকে যেটা হলো, আমার কাছে ভীষণ দুর্ভাগ্যজনক মনে হচ্ছে। ১৪৪ ধারা জারির পরও এমন ঘটনা ঘটার কথা ছিল না। নিয়ম অনুযায়ী তিনজনের বেশি মানুষ জড়োই হতে পারবে না। অথচ সেখানে দল বেঁধে মানুষ মিছিল করেছে।’ রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে খাগড়াছড়িতে স্কুলছাত্রী ধর্ষণ ও পরবর্তী অবরোধকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি মোকাবিলায় আয়োজিত বিশেষ আইনশৃঙ্খলা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপদেষ্টা বলেন, ‘পাহাড়ে শুধুমাত্র সরকারি বাহিনীর কাছেই অস্ত্র থাকবে। এর বাইরে কারও কাছে অস্ত্র থাকতে পারবে না। জানমালের ক্ষয়ক্ষতি রোধে এবং পরিস্থিতি শান্ত রাখতে প্রশাসনকে আরও কঠোর থাকতে হবে।’

জানা যায়, রোববারের (২৮ সেপ্টেম্বর) সকাল হতেই খাগড়াছড়ি জেলার বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ি উচ্ছৃঙ্খল জনতা ইউপিডিএফ এর প্রত্যক্ষ উস্কানিতে টায়ার জ্বালিয়ে এবং গাছের গুড়ি দিয়ে সড়ক অবরোধ করে। সকাল আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে সেনাবাহিনীর টহল দল গুইমারার রামেসু বাজার এলাকায় সড়ক অবরোধ সরানোর সময় ৫০ থেকে ৬০ জন পাহাড়ি সেনাবাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। এর কিছুক্ষণ পরে আরও ২০০ থেকে ৩০০ পাহাড়ি সঙ্ঘবদ্ধ হয়ে সেনাবাহিনীর টহল দলের ওপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। এ সময় সেনাবাহিনীর গুইমারা জোনের টুআইসিসহ ১২ জন সেনাসদস্য আহত হয়। বাঙালিদের ১০ থেকে ১২টি বাড়িতে আগুনও দিয়েছে পাহাড়িরা। এছাড়াও সকালে স্থানীয় রামগড় এলাকায় বিজিবি টহল দল সড়ক অবরোধ সরানোর সময় উচ্ছৃঙ্খল পাহাড়ি-জনতার সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। উচ্ছৃঙ্খল পাহাড়িদের ছুঁড়ে মারা ইটের আঘাতে বিজিবির একজন কর্মকর্তাসহ বেশ কয়েকজন সদস্য আহত হয়।

আঘাতের পরেও মারমুখী জনতাকে নিবৃত্ত করতে ফাঁকা গুলি সেনাবাহিনীর
দু’দফায় ইট-পাটকেল নিক্ষেপের মাধ্যমে সেনাসদস্যদের আহত করলেও অত্যন্ত ধৈর্য্যরে সঙ্গে পরিস্থিতি মোকবিলার প্রাণান্তকর প্রচেষ্টা চালায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। সেনাবাহিনী প্রথমে মাইকিং করে উচ্ছৃঙ্খল পাহাড়ি সমাবেশকে সরে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করে। উচ্ছৃঙ্খল জনতা সরে না যাওয়ায় তাদের ছত্রভঙ্গ করতে সেনাবাহিনী লাঠিচার্জ করে। উচ্ছৃঙ্খল জনতা এ সময়ে আরও মারমুখী হয়ে উঠে। বাধ্য হয়েই সেনা টহল দল ১০ থেকে ১৫ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে উচ্ছৃঙ্খল পাহাড়ি জনতাকে ছত্রভঙ্গ করে।

  • নিয়ম অনুযায়ী তিনজনের বেশি মানুষ জড়োই হতে পারবে না, অথচ সেখানে দল বেঁধে মানুষ মিছিল করেছে
    সুপ্রদীপ চাকমা
    উপদেষ্টা
    পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়

এরপর পুনরায় বাঙালি ও পাহাড়ি উভয়ের মধ্যেই সংঘর্ষের মাত্রা তীব্র হয়। গুইমারার রামেসু বাজারে এলাকায় বেশ কয়েকটি স্থানে ঘরবাড়ি ও দোকানপাটে অগ্নিসংযোগ করা হয়। বেলা সোয়া ১টার দিকে ইউপিডিএফ এর সন্ত্রাসীরা পাহাড়ের উঁচু অবস্থান থেকে সংঘর্ষরত জনতার উপর স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রের মাধ্যমে ১০০ থেকে ১৫০ রাউন্ড গুলিবর্ষণ করে। এতে তিনজন নিহত হওয়ার কথা জানা গেলেও এসব হত্যাকাণ্ডে সেনাবাহিনীর ঘাড়ে দায় চাপানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে। অথচ সব সময় পাহাড়ে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বজায় রাখতে নিরবচ্ছিন্ন কর্মপ্রয়াস অব্যাহত রেখেছে সেনাবাহিনী।

শান্তি ও সম্প্রীতির পাহাড়ে সন্ত্রাসবাদে মদদ প্রতিবেশী দেশের
পার্বত্য চট্টগ্রামে হানাহানির অন্ধকার অধ্যায়ের অবসান হয়নি। পার্বত্য অঞ্চলকে লাভজনক সন্ত্রাসবাদের ‘দোকান’ হিসেবে গড়ে তুলতে মরিয়া প্রতিবেশী দেশ ভারত। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পাহাড় নিয়ে নতুন খেলায় মেতে উঠেছে দেশটি। পতিত সরকারের শীর্ষ নেতা থেকে শুরু করে সাঙ্গপাঙ্গদের আশ্রয় দেওয়া ওই দেশটি পাহাড়কে অস্থিতিশীল করে তোলার পায়তাঁরা করছে। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর প্রতিবিপ্লবী কামর পাহাড়ে দাঁত বসানোর চেষ্টা করেছে বারবার। সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টির মাধ্যমে ইউপিডিএফসহ অন্যান্য সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে ব্যবহার করে পাহাড়িদের উসকে দিচ্ছে। কিন্তু তাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে বড় বাধা হয়ে উঠেছে দেশপ্রেমী বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। দেশমাতৃকার সেবায় নিয়োজিত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা পার্বত্য চট্টগ্রামে নানাবিধ মানবিক কর্মযজ্ঞ এবং শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় নিজেদের আত্মত্যাগের মাধ্যমে দেশ-বিদেশে প্রশংসিত হয়েছে। পাহাড়ে শান্তি-সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য রক্ষায় নিবেদিতপ্রাণ এই সদস্যদের কাঁধে রোববারের (২৮ সেপ্টেম্বর) তিন হত্যাকাণ্ডের দায় চাপানোর অপচেষ্টার মাধ্যমেই পরিস্কার পাহাড়ে অশান্তি ও বিরোধ বাধানোর মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীই পড়শি এই দেশের প্রাইম টার্গেট।

কালের আলো/এমএসএএকে/এসআইপি

মেসির হ্যাটট্রিকে বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার উড়ন্ত সূচনা

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ৯:০২ পূর্বাহ্ণ
মেসির হ্যাটট্রিকে বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার উড়ন্ত সূচনা

কাতার বিশ্বকাপে দলকে শিরোপা জেতানো লিওনেল মেসি ২০২৬ বিশ্বকাপেও জ্বলে ওঠলেন আর্জেন্টিনার প্রথম ম্যাচেই। আলজেরিয়ার বিপক্ষে এ ম্যাচে হ্যাটট্রিকের দেখা পেয়েছেন তিনি। প্রথমার্ধে এক গোল করা এই কিংবদন্তি দ্বিতীয়ার্ধে করেছেন আরও ২টি। তিন গোল করে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি গোলের মালিক বনে যাওয়া মেসি গড়েছেন আরও বেশ কয়েকটি রেকর্ড। মেসির অসাধারণ সব রেকর্ডের ম্যাচে আলজেরিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের এবারের আসরে উড়ন্ত সূচনা করেছেন লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ১৬টি গোল করে এতদিন শীর্ষে ছিলেন জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসা। তবে আজ আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে সেই রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছেন মেসি। বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের মালিক এখন যৌথভাবে মেসি ও ক্লোসা। এই রেকর্ড গড়ার পথে মেসি ছাড়িয়ে গেছেন ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি রোনালদো নাজারিওকেও।

আর্জেন্টিনা ও লিওনেল মেসির জন্য স্বপ্নের মতো শুরু হতে পারত ম্যাচটি। খেলার মাত্র পাঁচ মিনিটেই বল জালে পাঠান মেসি। গ্যালারিতে উল্লাস শুরু হয়ে যায়। তবে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের সেই উল্লাস স্থায়ী হয়নি। কেননা সহকারী রেফারির পতাকা উঠলে সেই উদ্‌যাপন থেমে যায়। অফসাইডের জন্য মেসির সেই গোল বাতিল হয়।

তবে অফসাইডের ফাঁদে গোল বাতিল হয়ে ম্যাচের শুরুটা স্বপ্নের মত না হলেও শেষটা নিজের রঙেই রাঙিয়েছেন মেসি। আর্জেন্টিনার গোল বাতিলের পর জালের দেখা পেয়েছিল আলজেরিয়াও। তবে তাদের সেই গোলটিও অফসাইডের কারণে বাতিল হয়। এদিকে শুরুতেই দু গোল বাতিল হওয়ার পর প্রথমে লিড পায় আর্জেন্টিনাই।

মিডফিল্ড থেকে রদ্রিগো দি পল বল বাড়িয়ে দেন মেসির কাছে। বল পেয়ে তিনি পরিচিত ভঙ্গিতে এগিয়ে যান এবং প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে নেন জোরালো শট। আলজেরিয়ার গোলরক্ষক লুকা জিদান দুই হাত লাগাতে পারলেও সেই দুর্দান্ত শট ঠেকাতে পারেননি। বল জালে জড়িয়ে গেলে এগিয়ে যায় বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।

নিজের ২০০তম ম্যাচ খেলতে নেমেই মেসি স্বভাবসুলভ পায়ের জাদু দেখালেন। এদিকে মেসির গোলে লিড নেওয়ার পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় আর্জেন্টিনা। বিরতির আগ পর্যন্ত বেশ কয়েকবার চেষ্টা করলেও আর গোলের দেখা পায়নি লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা। ম্যাচের ৪২ মিনিটে থিয়াগো আলমাদার নেওয়া শট ক্রসবারের উপর দিয়ে যায়।

এদিকে গোল হজম করে আলজেরিয়াও ম্যাচে ফিরতে মরিয়ে হয়ে লড়েছে। তবে তাদের কোনো প্রচেষ্টাই সফল হয়নি। ইতিরিক্ত সময়ের শেষদিকে আলজেরিয়ার প্রচেষ্টা ঠেকিয়ে দেন মার্তিনেজ। শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনা বিরতিতে যায় ১-০ গোলের লিড নিয়ে।

বিরতির পর আর্জেন্টিনা খেলা শুরু করে একাদশে এক পরিবর্তন নিয়ে। গঞ্জালো মান্তিয়েলের জায়গায় মাঠে নামেন নাহুয়েল মলিনা। ম্যাচের ৫১ মিনিটে গোল করার প্রচেষ্টা নিয়েছিলেন মেসি। তবে ডি বক্সের বাইরে থেকে তাঁর নেওয়া শটটি ক্রসবারের উপর দিয়ে যায়। এরপর ৫৫ মিনিটে লাওতারো মার্তিনেজের শট দারুণভাবে ঠেকিয়ে দিলেন আলজেরিয়ার গোলরক্ষক লুকা জিদান। তবে গোলের জন্য আর্জেন্টিনার অপেক্ষা বেশি হয়নি।

৫৫ মিনিটে দলে আরও দুই পরিবর্তন আনেন স্কালোনি। লাওতারো মার্তিনেজের বদলে মাঠে নামেন হুলিয়ান আলভারেজ। একই সময়ে থিয়াগো আলমাদার বদলে মাঠে নামেন নিকোলাস গঞ্জালেস। আর ৬০ মিনিটের মাথায় গোলের দেখা পান মেসি। এবার গোলপোস্টের খুব কাছ থেকে জালের ঠিকানা খুঁজে নেন তিনি। অ্যালেক্সিস ম্যাক আলিস্টারের বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া শট নিয়ন্ত্রণে নিতে ব্যর্থ হন আলজেরিয়ার গোলরক্ষক। ফিরতি শটে গোল করে বল জালে জড়ান মেসি।

এটি বিশ্বকাপে মেসির ১৫তম গোল। এই গোলে মেসি ছুঁয়ে ফেললেন ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি রোনালদো নাজারিওকে (১৫)। এরপর তাঁর সামনে ছিলেন শুধুই ক্লোসা। পরবর্তীতে ম্যাচের ৭৬ মিনিটেই নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন মেসি। বিশ্বকাপে নিজের প্রথম হ্যাটট্রিকেই ক্লোসাকেও ছুঁয়ে ফেলেন জীবন্ত এই কিংবদন্তি। হ্যাটট্রিকের পরপর ৮০ মিনিটে মাঠ ছাড়েন মেসি। মাঠ ছাড়ার সময় মেসিকে দেয়া হলো ‘স্ট্যান্ডিং অভেশন।’

মেসিময় এই ম্যাচের বাকি সময়টা প্রতিরোধ গড়েই কাটাতে হয়েছে আলজেরিয়াকে। আলবিসেলেস্তেরা এরপর আরও কয়েকবার আক্রমণে গেলেও তা সফল হয়নি। শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল না হওয়ায় মেসির হ্যাটট্রিকে ৩-০ গোলের জয়ে বিশ্বকাপে উড়ন্ত সূচনা করে আর্জেন্টিনা।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

আমি না থাকলে ইসরায়েলের অস্তিত্ব থাকত না: ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ৮:৫৪ পূর্বাহ্ণ
আমি না থাকলে ইসরায়েলের অস্তিত্ব থাকত না: ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তার সমর্থন ছাড়া ইসরায়েলের অস্তিত্ব টিকে থাকত না। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে মতপার্থক্য বাড়তে থাকার মধ্যেই তিনি এ মন্তব্য করেছেন।

জি–৭ সম্মেলনের ফাঁকে কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির উপস্থিতিতে দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া ইসরায়েলের অস্তিত্ব থাকত না। আমি না থাকলেও ইসরায়েল টিকে থাকত না। কারণ আমি যা করেছি, তা করার সাহস বা ইচ্ছা অন্য কোনো প্রেসিডেন্টের ছিল না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি জড়িত না হলে ইসরায়েল অনেক আগেই ধ্বংস হয়ে যেত।’

সম্প্রতি লেবাননে ইসরায়েলের হামলা এবং ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তি নিয়ে আলোচনা প্রসঙ্গে ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন। তার মতে, বৈরুতে ইসরাইলের সামরিক অভিযান মধ্যপ্রাচ্যে কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

ট্রাম্প জানান, নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার সম্পর্ক এখনো ভালো। তবে লেবানন ইস্যুতে তিনি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীকে আরও সংযমী হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

ট্রাম্প বলেন, ‘বিবির (নেতানিয়াহু) সঙ্গে আমার সম্পর্ক চমৎকার। কিন্তু এখন লেবাননের বিষয়ে তাকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে।’

লেবাননের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, ‘একসময় লেবানন ছিল একটি মহান দেশ। সেখানে অসংখ্য অধ্যাপক, চিকিৎসক ও আইনজীবী ছিলেন। অনেক মেধাবী মানুষ লেবাননে বাস করতেন। কিন্তু এখন দেশটির অবস্থা খুবই খারাপ।’

মার্কিন সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য একটি চুক্তির আগে বৈরুতে ইসরায়েলের হামলায় ট্রাম্প অসন্তুষ্ট হয়েছেন। অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, হামলার বিষয়টি জানতে পেরে তিনি বিস্মিত হন। কারণ এর আগে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো একে অপরকে আক্রমণ না করার বিষয়ে সম্মত হয়েছিল।

ট্রাম্প বলেন, ‘এটি খুবই খারাপ ছিল। আমি বিশ্বাসই করতে পারিনি। আমাদের চুক্তি স্বাক্ষরের মাত্র এক ঘণ্টা আগে এটি ঘটেছে।’

নেতানিয়াহুর সিদ্ধান্তেরও সমালোচনা করেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, ‘বিবিকে কেন এই জঘন্য হামলাটি করতে হলো? আমি খুবই ক্ষুব্ধ হয়েছিলাম এবং তাকে তা জানিয়েছি।’

অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেকোনো চুক্তির অন্যতম শর্ত হবে লেবাননের যেসব এলাকা চলমান সংঘাতের সময় ইসরায়েল দখল করেছে, সেখান থেকে সেনা প্রত্যাহার।

আরাঘচির ভাষ্য, ‘যুদ্ধ চলাকালে দখল করা অঞ্চলগুলো থেকে ইসরায়েলি বাহিনী সরে না যাওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ পুরোপুরি শেষ হয়েছে বলা যাবে না।’

তবে একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আলোচনায় থাকা সম্ভাব্য চুক্তিতে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের কোনো শর্ত নেই। এদিকে নেতানিয়াহুও বলেছেন, প্রয়োজন হলে ইসরাইল দীর্ঘ সময় লেবাননে অবস্থান করবে।

সূত্র: এনডিটিভি

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

জোড়া গোলে দুটি রেকর্ড ভাঙলেন এমবাপে, পেছনে পড়লেন মেসি

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ৩:২৬ পূর্বাহ্ণ
জোড়া গোলে দুটি রেকর্ড ভাঙলেন এমবাপে, পেছনে পড়লেন মেসি

পেনাল্টি না পাওয়ার ঠিক কয়েক মুহূর্ত পরই ফ্রান্সকে এগিয়ে নিলেন কিলিয়ান এমবাপে। তাতে ফ্রান্সের শীর্ষ গোলদাতা হিসেবে অলিভার জিরুদের পাশে বসেন তিনি। ওখানেই শেষ নয়। দ্বিতীয়ার্ধের ইনজুরি টাইমে আরেকটি গোল। তাতে এককভাবে ফ্রান্সের সর্বোচ্চ গোলদাতাও হয়ে গেলেন রিয়াল মাদ্রিদ তারকা।

এছাড়া বিশ্বকাপে নিজের ১৪তম গোলটি করে সাবেক ফরাসি লিজেন্ড জাস্ট ফন্টেইন ও আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিওনেল মেসিকেও ছাড়িয়ে গেলেন তারকা স্ট্রাইকার। বলাবাহুল্য, বিশ্বমঞ্চে ফ্রান্সের সর্বোচ্চ গোলদাতাও তিনি।

আর তিনটি গোল করলে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতা হবেন তিনি। ১৬ গোল করে জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসা সবার উপরে। বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি গোল করার তালিকায় এমবাপে যৌথভাবে তিন নম্বরে। ১৪ গোল করে গার্ড মুলারের পাশে তিনি।

ডি-বক্সের বাইরে থেকে মাইকেল অলিসের এক দারুণ অ্যাসিস্ট সেনেগালের রক্ষণব্যুহকে ভেঙে দেয়। আর ছয় গজ বক্সের প্রান্ত থেকে ডান পায়ের নিখুঁত শটে এদুয়ার মেন্দির পাশ দিয়ে বল জালে জড়ান এমবাপে।

ফ্রান্সের জার্সিতে এটি ছিল তার ৫৭তম গোল। তারপর বক্সের বাইরে থেকে ডান পায়ের জাদুকরী শটে দ্বিতীয় গোল করেন তিনি

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি