খুঁজুন
                               
, ,
           

ভারতের ষড়যন্ত্রে রক্তাক্ত পাহাড়ে অশান্তি সৃষ্টির মূল আয়োজক ইউপিডিএফ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ১১:৪৭ অপরাহ্ণ
ভারতের ষড়যন্ত্রে রক্তাক্ত পাহাড়ে অশান্তি সৃষ্টির মূল আয়োজক ইউপিডিএফ

কালের আলো রিপোর্ট:

পাহাড়ি এক কিশোরীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় রক্ত ঝরছে অশান্ত পাহাড়ে। থমথমে পাহাড়ে রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় প্রশাসনের ১৪৪ ধারা ভেঙে ‘জুম্ম-ছাত্র জনতা’র ব্যানারে অবরোধ পালনকালেই ঘটে সংঘর্ষ। খাগড়াছড়ির গুইমারায় ইউপিডিএফ’র সন্ত্রাসীদের ভারী অস্ত্রের গুলিতে নিহত হয়েছেন তিনজন। আহত হয়েছেন গুইমারা জোনের টুআইসিসহ ১২ জন সেনাসদস্য। আগুন দেওয়া হয়েছে ইউপিডিএফ (মূল বা প্রসিত) দলের খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা-গুইমারা উপজেলা সংগঠক ঝিমিত চাকমার নিয়ন্ত্রণাধীন গুইমারা রামেসু বাজারে। বাজারে আগুন দেওয়ার ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। ভয়ানক হয়ে উঠেছে ক’দিন আগেও নীরব থাকা এই সবুজ উপত্যকা। এ ঘটনায় ঝিমিত চাকমা ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) ও জেএসএস (সংস্কার) দলকে গোলাগুলির ঘটনার জন্য সরাসরি দায়ী করেছেন।

এদিকে, দুষ্কৃতকারীদের হামলায় তিনজন পাহাড়ি নিহত, ১২ জন সেনাসদস্য, গুইমারা থানার ওসিসহ তিনজন পুলিশ সদস্য এবং আরও অনেকে আহতের ঘটনায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে গভীর দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে। অন্যদিকে, আগের দিন শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাতে সকল দলমতের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ আলোচনায় খাগড়াছড়ি সদর এলাকায় অবরোধ প্রত্যাহারের ঘোষণার পর পুনরায় ফেসবুকের মাধ্যমে রাত পৌনে একটায় অবরোধ আহ্বানকে ঘিরে তৈরি হয়েছে সন্দেহ-সংশয়। আইন ভাঙার এমন বেআইনি নজিরের মাধ্যমে হানাহানির দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে পাহাড়কে।

বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, ইউপিডিএফ’র সন্ত্রাসীরা পাহাড়ের উঁচু অবস্থান থেকে সংঘর্ষরত জনতাকে গুলি করে হত্যা করলেও তাঁরা উল্টো নিহতের ব্যাপারে সেনাবাহিনীকেই দোষারোপ করার চেষ্টা করছে। যদিও সেনাবাহিনী ইউপিডিএফ’র ফাঁদে পা দেয়নি। তাঁরা ধৈর্য্যরে সঙ্গেই পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে। ইউপিডিএফ’র স্বয়ংক্রিয় প্রাণঘাতী অস্ত্রের এমন ব্যবহার নিশ্চিত করেছে তাঁরাই পরিকল্পিতভাবে পার্বত্য অঞ্চলে অশান্তি সৃষ্টির মূল আয়োজক। বছরের পর বছর পার্বত্য চট্টগ্রামে নীরবে সাধারণ মানুষের প্রতিটি কর্মকাণ্ডে বাঁধা সৃষ্টির মাধ্যমে সবুজ পাহাড়ে ভাঁজে ভাঁজে চাঁদাবাজি চালিয়ে যাচ্ছে এই সন্ত্রাসীরাই।

  • ১৪৪ ধারা ভেঙে ‘জুম্ম-ছাত্র জনতা’র ব্যানারে অবরোধ পালনকালেই ঘটে সংঘর্ষ
  • ইউপিডিএফ’র সন্ত্রাসীদের ভারী অস্ত্রের গুলিতে নিহত হয়েছেন তিনজন
  • আঘাতের পরেও মারমুখী জনতাকে নিবৃত্ত করতে ফাঁকা গুলি সেনাবাহিনীর
  • শান্তি ও সম্প্রীতির পাহাড়ে সন্ত্রাসবাদে মদদ প্রতিবেশী দেশের

এই সন্ত্রাসীদের দমাতে ‘শান্তির দূত’ সেনাবাহিনী কাজ করছে প্রতিনিয়ত। অন্যান্যবারের মতো এবারও গণ্ডগোল পাঁকিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারকে বেকায়দায় ফেলার চেষ্টার অংশ হিসেবে প্রতিবেশী দেশ ভারত পাহাড়কেই মূল লক্ষ্যবস্তু করেছে। নানা বাহানায় তাদের ষড়যন্ত্রে এক্ষেত্রে নতুন নতুন চোরাগলি তৈরি করছে ইউপিডিএফ। রোববারের (২৮ সেপ্টেম্বর) ঘটনায় তাদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে জেএসএস (সংস্কার)। অন্তত ইউপিডিএফ (মূল বা প্রসিত) দলের খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা-গুইমারা উপজেলা সংগঠক ঝিমিত চাকমার বক্তব্য থেকেই এসব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

পাহাড়ি উচ্ছৃঙ্খল জনতাকে উস্কানি দিচ্ছে ইউপিডিএফ
অবরোধ প্রত্যাহারের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পুনরায় অবরোধের ডাক পাহাড়কে অশান্তের নেপথ্য কারণ হিসেবেই মনে করছেন কেউ কেউ। বিশেষ করে স্থানীয় প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করলেও ইউপিডিএফ সমর্থিত ‘জুম্ম-ছাত্র জনতা’র অবরোধ পালনকে ঘিরেই মূলত পাহাড়ের পরিস্থিতি নতুন মোড় নেয়। পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমাও গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপে বলেছেন,-‘আজকে যেটা হলো, আমার কাছে ভীষণ দুর্ভাগ্যজনক মনে হচ্ছে। ১৪৪ ধারা জারির পরও এমন ঘটনা ঘটার কথা ছিল না। নিয়ম অনুযায়ী তিনজনের বেশি মানুষ জড়োই হতে পারবে না। অথচ সেখানে দল বেঁধে মানুষ মিছিল করেছে।’ রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে খাগড়াছড়িতে স্কুলছাত্রী ধর্ষণ ও পরবর্তী অবরোধকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি মোকাবিলায় আয়োজিত বিশেষ আইনশৃঙ্খলা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপদেষ্টা বলেন, ‘পাহাড়ে শুধুমাত্র সরকারি বাহিনীর কাছেই অস্ত্র থাকবে। এর বাইরে কারও কাছে অস্ত্র থাকতে পারবে না। জানমালের ক্ষয়ক্ষতি রোধে এবং পরিস্থিতি শান্ত রাখতে প্রশাসনকে আরও কঠোর থাকতে হবে।’

জানা যায়, রোববারের (২৮ সেপ্টেম্বর) সকাল হতেই খাগড়াছড়ি জেলার বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ি উচ্ছৃঙ্খল জনতা ইউপিডিএফ এর প্রত্যক্ষ উস্কানিতে টায়ার জ্বালিয়ে এবং গাছের গুড়ি দিয়ে সড়ক অবরোধ করে। সকাল আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে সেনাবাহিনীর টহল দল গুইমারার রামেসু বাজার এলাকায় সড়ক অবরোধ সরানোর সময় ৫০ থেকে ৬০ জন পাহাড়ি সেনাবাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। এর কিছুক্ষণ পরে আরও ২০০ থেকে ৩০০ পাহাড়ি সঙ্ঘবদ্ধ হয়ে সেনাবাহিনীর টহল দলের ওপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। এ সময় সেনাবাহিনীর গুইমারা জোনের টুআইসিসহ ১২ জন সেনাসদস্য আহত হয়। বাঙালিদের ১০ থেকে ১২টি বাড়িতে আগুনও দিয়েছে পাহাড়িরা। এছাড়াও সকালে স্থানীয় রামগড় এলাকায় বিজিবি টহল দল সড়ক অবরোধ সরানোর সময় উচ্ছৃঙ্খল পাহাড়ি-জনতার সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। উচ্ছৃঙ্খল পাহাড়িদের ছুঁড়ে মারা ইটের আঘাতে বিজিবির একজন কর্মকর্তাসহ বেশ কয়েকজন সদস্য আহত হয়।

আঘাতের পরেও মারমুখী জনতাকে নিবৃত্ত করতে ফাঁকা গুলি সেনাবাহিনীর
দু’দফায় ইট-পাটকেল নিক্ষেপের মাধ্যমে সেনাসদস্যদের আহত করলেও অত্যন্ত ধৈর্য্যরে সঙ্গে পরিস্থিতি মোকবিলার প্রাণান্তকর প্রচেষ্টা চালায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। সেনাবাহিনী প্রথমে মাইকিং করে উচ্ছৃঙ্খল পাহাড়ি সমাবেশকে সরে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করে। উচ্ছৃঙ্খল জনতা সরে না যাওয়ায় তাদের ছত্রভঙ্গ করতে সেনাবাহিনী লাঠিচার্জ করে। উচ্ছৃঙ্খল জনতা এ সময়ে আরও মারমুখী হয়ে উঠে। বাধ্য হয়েই সেনা টহল দল ১০ থেকে ১৫ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে উচ্ছৃঙ্খল পাহাড়ি জনতাকে ছত্রভঙ্গ করে।

  • নিয়ম অনুযায়ী তিনজনের বেশি মানুষ জড়োই হতে পারবে না, অথচ সেখানে দল বেঁধে মানুষ মিছিল করেছে
    সুপ্রদীপ চাকমা
    উপদেষ্টা
    পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়

এরপর পুনরায় বাঙালি ও পাহাড়ি উভয়ের মধ্যেই সংঘর্ষের মাত্রা তীব্র হয়। গুইমারার রামেসু বাজারে এলাকায় বেশ কয়েকটি স্থানে ঘরবাড়ি ও দোকানপাটে অগ্নিসংযোগ করা হয়। বেলা সোয়া ১টার দিকে ইউপিডিএফ এর সন্ত্রাসীরা পাহাড়ের উঁচু অবস্থান থেকে সংঘর্ষরত জনতার উপর স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রের মাধ্যমে ১০০ থেকে ১৫০ রাউন্ড গুলিবর্ষণ করে। এতে তিনজন নিহত হওয়ার কথা জানা গেলেও এসব হত্যাকাণ্ডে সেনাবাহিনীর ঘাড়ে দায় চাপানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে। অথচ সব সময় পাহাড়ে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বজায় রাখতে নিরবচ্ছিন্ন কর্মপ্রয়াস অব্যাহত রেখেছে সেনাবাহিনী।

শান্তি ও সম্প্রীতির পাহাড়ে সন্ত্রাসবাদে মদদ প্রতিবেশী দেশের
পার্বত্য চট্টগ্রামে হানাহানির অন্ধকার অধ্যায়ের অবসান হয়নি। পার্বত্য অঞ্চলকে লাভজনক সন্ত্রাসবাদের ‘দোকান’ হিসেবে গড়ে তুলতে মরিয়া প্রতিবেশী দেশ ভারত। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পাহাড় নিয়ে নতুন খেলায় মেতে উঠেছে দেশটি। পতিত সরকারের শীর্ষ নেতা থেকে শুরু করে সাঙ্গপাঙ্গদের আশ্রয় দেওয়া ওই দেশটি পাহাড়কে অস্থিতিশীল করে তোলার পায়তাঁরা করছে। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর প্রতিবিপ্লবী কামর পাহাড়ে দাঁত বসানোর চেষ্টা করেছে বারবার। সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টির মাধ্যমে ইউপিডিএফসহ অন্যান্য সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে ব্যবহার করে পাহাড়িদের উসকে দিচ্ছে। কিন্তু তাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে বড় বাধা হয়ে উঠেছে দেশপ্রেমী বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। দেশমাতৃকার সেবায় নিয়োজিত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা পার্বত্য চট্টগ্রামে নানাবিধ মানবিক কর্মযজ্ঞ এবং শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় নিজেদের আত্মত্যাগের মাধ্যমে দেশ-বিদেশে প্রশংসিত হয়েছে। পাহাড়ে শান্তি-সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য রক্ষায় নিবেদিতপ্রাণ এই সদস্যদের কাঁধে রোববারের (২৮ সেপ্টেম্বর) তিন হত্যাকাণ্ডের দায় চাপানোর অপচেষ্টার মাধ্যমেই পরিস্কার পাহাড়ে অশান্তি ও বিরোধ বাধানোর মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীই পড়শি এই দেশের প্রাইম টার্গেট।

কালের আলো/এমএসএএকে/এসআইপি

জনগণ সেনাবাহিনীর ওপর গভীর আস্থা রাখে : প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ৩:১০ অপরাহ্ণ
জনগণ সেনাবাহিনীর ওপর গভীর আস্থা রাখে : প্রধানমন্ত্রী

জনগণ সেনাবাহিনীর ওপর গভীর আস্থা রাখে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ মঙ্গলবার সকালে সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়া পরিদর্শনে গিয়ে এ মন্তব্য করেন করেন তিনি। এসময় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন।

সকাল ৯টা ২০ মিনিটে মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৯ পদাতিক ডিভিশনের অধীন ৮ বীর-এর গ্রীষ্মকালীন প্রশিক্ষণ এলাকা পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

মহড়া চলাকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘ফার্ম বেস’-এর বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) ও ইউনিটের কমান্ডিং অফিসারের (সিও) কাছ থেকে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ও কৌশলগত প্রস্তুতি সম্পর্কে অবহিত হন। তিনি একজন কমান্ডারের মৌখিক অপারেশনাল নির্দেশনা মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং সেনা সদস্যদের পরিচালিত ‘রেইড’ মহড়া প্রত্যক্ষ করেন।

এ ছাড়া যুদ্ধক্ষেত্রে সেনা সদস্যদের অবস্থান, রণকৌশল, সমরাস্ত্রের ব্যবহার এবং প্রশিক্ষণের বিভিন্ন দিক পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি সেনা বাংকারে নেমে মহড়ায় অংশগ্রহণকারী অফিসার ও সেনা সদস্যদের সঙ্গে রণকৌশল বিষয়ে মতবিনিময় করেন। পাশাপাশি গাছের পাতার আড়ালে ছদ্মবেশে অবস্থানরত সেনা সদস্যদের কাছেও গিয়ে তাদের খোঁজখবর নেন এবং দায়িত্ব পালনে উৎসাহ প্রদান করেন।

সেনা সদস্যদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের জনগণ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ওপর গভীর আস্থা রাখে।

জাতীয় সংকট মোকাবেলা এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনীর গৌরবময় ভূমিকা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সেনাবাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করে পেশাদার প্রশিক্ষণ, শৃঙ্খলা ও সর্বোচ্চ প্রস্তুতি বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ তারিক এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

কালের আলো/এসআর/এএএন

প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের সম্পদ নিয়ে আলোচনা, হলফনামায় মিলল ভিন্ন চিত্র

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ২:৪২ অপরাহ্ণ
প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের সম্পদ নিয়ে আলোচনা, হলফনামায় মিলল ভিন্ন চিত্র

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের সম্পদ নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য ও আলোচনা নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এ বিষয়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দাখিল করা তার হলফনামা, পারিবারিক ব্যবসার বর্তমান অবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যে ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী, মীর শাহে আলমের নামে মোট ১ হাজার ৮২৪ শতাংশ জমি এবং ১২টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের তথ্য উল্লেখ রয়েছে।

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তিনি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর সরকারি বিধি অনুসরণ করে সম্ভাব্য স্বার্থের সংঘাত এড়াতে পারিবারিক ব্যবসার মালিকানা ও ব্যবস্থাপনা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সরে দাঁড়ান।

প্রতিমন্ত্রীর প্রেস সেক্রেটারি আতিকুর রহমান জানান, পরবর্তীতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শেয়ার, পরিচালনা ও মালিকানাসংক্রান্ত দায়িত্ব পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বর্তমানে এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পরিবারের সদস্যরাই পরিচালনা করছেন।

এদিকে ব্যবসার পুনর্বিন্যাসের অংশ হিসেবে জাতীয় নির্বাচনের আগে, চলতি বছরের ২ ফেব্রুয়ারি পরিবারের মালিকানাধীন রোমা অটো রাইস মিল ৪২ কোটি টাকায় বিক্রি করা হয়। সংশ্লিষ্টদের দাবি, নিবন্ধিত দলিলের মাধ্যমে বিক্রয় সম্পন্ন হয়েছে।

মিলটির ক্রেতা শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলা এলাকার ব্যবসায়ী রবিউল আলম জানান, তিনি ফেব্রুয়ারির শুরুতে ৪২ কোটি টাকায় প্রতিষ্ঠানটি ক্রয় করেন এবং পরে এর সব দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামায় উল্লেখিত ১২টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে রোমা অটো রাইস মিল, রূপসী রাইস অ্যান্ড পুষ্টি মিলস লিমিটেড, রূপসী ফ্লাওয়ার মিল, মীর সীমান্ত-দিগন্ত ফিলিং স্টেশন, মীর লাবনী-সুনাত ফিলিং স্টেশন, মীর দিগন্ত ট্রেডিং এজেন্সি, উত্তর বাংলা ওভারসিজ লিমিটেড, রূপসী কৃষি খামার, রূপসী মৎস্য খামার, রূপসী কংক্রিট ব্রিকস ফ্যাক্টরি, রূপসী মিনি কোল্ড স্টোরেজ এবং রূপসী প্রাণী খামার।

সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে প্রতিমন্ত্রীর সম্পদের বিষয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়। ওই প্রতিবেদনে ৩১ শতাংশ জমির তথ্য উল্লেখ করা হলেও হলফনামায় ১ হাজার ৮২৪ শতাংশ জমির তথ্য রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

এ ছাড়া প্রতিমন্ত্রীর নামে নতুন করে ২৪২ শতাংশ জমি কেনার যে দাবি প্রকাশিত হয়েছে, সেটিও সঠিক নয় বলে দাবি করেন প্রেস সেক্রেটারি আতিকুর রহমান। তার ভাষ্য, আলোচিত জমিটি ব্যক্তি হিসেবে মীর শাহে আলমের নামে নয়; বরং রূপসী রাইস অ্যান্ড পুষ্টি মিলস লিমিটেডের নামে ক্রয় করা হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ওই প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা বা ব্যবসায়িক কার্যক্রমেও তার ব্যক্তিগত সম্পৃক্ততা নেই বলে তিনি জানান।

প্রতিষ্ঠানগুলোর সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর মীর শাহে আলম ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিকানা ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করেছেন। ফলে বর্তমানে তার ব্যক্তিগত নামে কোনো ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত বা জমি ক্রয়ের বিষয়টি প্রযোজ্য নয়।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মীর পরিবার দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী পরিবার হিসেবে পরিচিত। উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত সম্পদের পাশাপাশি কৃষি, শিল্প ও বাণিজ্যিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে।

শিবগঞ্জ উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, মীর শাহে আলম দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। প্রতিমন্ত্রী হওয়ার পর তিনি ব্যবসার মালিকানা থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন বলে তিনি জানেন। তার দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই এ ধরনের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

অন্যদিকে, শিবগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি আব্দুর রউফ রুবেল বলেন, প্রকাশিত প্রতিবেদনের শিরোনাম ও উপস্থাপিত তথ্যের মধ্যে যথেষ্ট সামঞ্জস্য ছিল না বলে তার মনে হয়েছে। তার মতে, হলফনামার পূর্ণাঙ্গ তথ্য পর্যালোচনা না করে আংশিক তথ্য প্রকাশ করায় বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে পূর্ণাঙ্গ তথ্য যাচাই করে প্রতিবেদন প্রকাশ করা উচিত।

কালের আলো/এএন/এমএসআইপি 

কনটেইনার গায়েব নিয়ে মুখোমুখি চট্টগ্রাম বন্দর-কাস্টমস

চট্টগ্রাম প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ২:১৫ অপরাহ্ণ
কনটেইনার গায়েব নিয়ে মুখোমুখি চট্টগ্রাম বন্দর-কাস্টমস

চট্টগ্রাম বন্দরে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত ২৫০টি আমদানি চালানের কনটেইনারের অবস্থান নিয়ে তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি। চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস বলছে, অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ডের রিস্ক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে লক করা এসব কনটেইনারের অবস্থান জানতে গত নয় মাসে একাধিকবার চিঠি দিলেও বন্দর কর্তৃপক্ষ কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য দেয়নি।

অন্যদিকে বন্দর কর্তৃপক্ষের দাবি, কনটেইনারগুলোর অবস্থান ও ডেলিভারির বিস্তারিত তথ্য অনেক আগেই লিখিতভাবে কাস্টমসকে জানানো হয়েছে। দুই প্রতিষ্ঠানের এমন বিপরীতমুখী অবস্থানের মধ্যে বন্দরের নিরাপত্তা ও নজরদারি ব্যবস্থাও প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, বিষয়টির সূত্রপাত হয় ২০২৪ সালে দুটি পৃথক আমদানি চালানকে ঘিরে। ওই বছরের জুনে নারায়ণগঞ্জের মেসার্স মাইনুল হাসান এন্টারপ্রাইজ ইন্দোনেশিয়া থেকে পাঁচ কনটেইনার তুলা আমদানি করে।

একই বছরের মে মাসে আহমেদ এন্টারপ্রাইজ চীন থেকে চশমার ফ্রেম ও মাউন্টিং ঘোষণা দিয়ে একটি কনটেইনার পণ্য আমদানি করে। দুটি চালানেই ঘোষণা-বহির্ভূত পণ্য থাকার সন্দেহে অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড রিস্ক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে চালানগুলো লক করে কায়িক পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেয় কাস্টমস।

কিন্তু পরীক্ষার সময় ওই ছয়টি কনটেইনারের অবস্থান শনাক্ত করতে পারেননি কাস্টমস কর্মকর্তারা। পরে অনুসন্ধান চালিয়ে তারা দেখতে পান, একই ধরনের আরও শত শত চালান দীর্ঘদিন ধরে রিস্ক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে লক থাকলেও সংশ্লিষ্ট কনটেইনারগুলোর অবস্থান নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।

কাস্টমসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে মোট ২৫০টি বিল অব এন্ট্রি এখনও লক অবস্থায় রয়েছে। এসব চালানে মোট ৩৭৬টি কনটেইনার রয়েছে। এর মধ্যে ২০২১ সালের ৮৩টি, ২০২২ সালের ৬১টি, ২০২৩ সালের ৪০টি এবং ২০২৪ সালের ৬৬টি বিল অব এন্ট্রি রয়েছে।

জাতীয় রাজস্ব সুরক্ষার স্বার্থে এসব কনটেইনারের বর্তমান অবস্থান জানাতে গত নয় মাসে একাধিকবার চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষকে চিঠি পাঠানো হয়। সর্বশেষ চলতি বছরের এপ্রিল মাসে এবং এর আগে ২৬ জানুয়ারি চিঠি দেওয়া হয়। কিন্তু কাস্টমসের দাবি, এখন পর্যন্ত তারা কনটেইনারগুলোর অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পায়নি।

তবে কনটেইনার গায়েবের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে সোমবার (৬ জুলাই) বন্দর কর্তৃপক্ষ লিখিতভাবে এই অভিযোগকে মিথ্যা, অনুমাননির্ভর এবং ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে। তাদের বক্তব্য, ২৫০টি নয়, ২৪৭টি চালানের তালিকা দিয়েছিল কাস্টমস।

এর মধ্যে বেশিরভাগ চালানই ইতোমধ্যে খালাস হয়ে গেছে, ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপোতে (আইসিডি) স্থানান্তর করা হয়েছে, অথবা সিপিএর ইয়ার্ডে সংরক্ষিত রয়েছে। কাস্টমসের সরবরাহ করা বেশ কয়েকটি কনটেইনার নম্বর ও বিল অব লেডিংয়ে ভুল ছিল। এ কারণে বাকি চালানগুলোর মিল পাওয়া যায়নি। কাগজপত্র অনুসারে চালানগুলো ইতোমধ্যেই কাস্টমসের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং আনুষ্ঠানিক পত্রযোগাযোগের মাধ্যমে সংস্থাটিকে বিষয়টি অবহিতও করা হয়েছে।

এ বিষয়ে বন্দর কর্তৃপক্ষের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. নাসির উদ্দিন বলেন, কাস্টমস যে ২৫০টি চালানের কথা বলছে, প্রকৃত সংখ্যা ২৪৭টি। এর মধ্যে ১৬৪টি এফসিএল চালানে ২৯৩টি কনটেইনার রয়েছে।

এসবের মধ্যে ৮৮টি কাস্টমস আউটপাসের মাধ্যমে খালাস হয়েছে, ৭০টি আইজিএম অনুযায়ী বিভিন্ন বেসরকারি কনটেইনার ডিপোতে পাঠানো হয়েছে এবং ১৩১টি এখনও বন্দরের বিভিন্ন ইয়ার্ডে রয়েছে। চারটি কনটেইনার নম্বরে ডিজিট বা প্রিফিক্সের ত্রুটিও রয়েছে।

তিনি বলেন, বাকি ৮৩টি এলসিএল চালানের মধ্যে আটটির পণ্য ডেলিভারি দেওয়া হয়েছে, ৩৫টি কনটেইনার বন্দরের সিএফএস ও শেডে রয়েছে। আর ৪০টি চালানের ক্ষেত্রে কাস্টমসের দেওয়া বিল অব লেডিং নম্বরের সঙ্গে বন্দরের তথ্যের মিল পাওয়া যায়নি। এসব তথ্য লিখিতভাবে কাস্টমসকে জানানো হয়েছে।

তবে কাস্টম হাউসের উপকমিশনার (এআইআর) মো. তারেক মাহমুদ বলেন, বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এ ধরনের কোনো চিঠি তারা পাননি। কনটেইনারগুলোর অবস্থান জানতে একাধিকবার চিঠি পাঠানো হলেও এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য মেলেনি।

এদিকে, এ ঘটনায় বন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, জাহাজ থেকে কনটেইনার খালাস, ইয়ার্ডে সংরক্ষণ এবং বন্দর ত্যাগ—পুরো প্রক্রিয়াই একাধিক স্তরের নজরদারির মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার কথা। ফলে এতগুলো কনটেইনারের অবস্থান নিয়ে দুই প্রতিষ্ঠানের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য উদ্বেগ তৈরি করেছে।

চট্টগ্রাম কাস্টমস এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক কাজী মাহমুদ ইমাম (বিলু) বলেন, এত সংখ্যক কনটেইনারের অবস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তা সহজে বিশ্বাসযোগ্য নয়। কনটেইনারগুলো সত্যিই নিখোঁজ কি না, সে সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে বন্দর কর্তৃপক্ষের সরেজমিন অনুসন্ধান এবং কাস্টমসেরও যাচাই করা প্রয়োজন, চালানগুলো ঠিক কোন পর্যায়ে লক করা হয়েছিল।

চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আমিরুল হক বলেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান ধরে রাখতে বন্দর ও কাস্টমসের মধ্যে আরও সমন্বয় থাকা অপরিহার্য। দুটি প্রতিষ্ঠান পাল্টাপাল্টি দোষারোপের পর্যায়ে না নিয়ে গিয়ে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করতে কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি