খুঁজুন
                               
, ,
           

খাগড়াছড়িতে মেডিকেল পরীক্ষায় মেলেনি ‘ধর্ষণের আলামত’, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগানোর অপচেষ্টার নেপথ্যে ইউপিডিএফ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ১ অক্টোবর, ২০২৫, ১২:৩২ পূর্বাহ্ণ
খাগড়াছড়িতে মেডিকেল পরীক্ষায় মেলেনি ‘ধর্ষণের আলামত’, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগানোর অপচেষ্টার নেপথ্যে ইউপিডিএফ

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:

খাগড়াছড়িতে এক মারমা কিশোরীকে কথিত দলবদ্ধ ‘ধর্ষণের’ ঘটনায় ব্যাপক সহিংসতায় অশান্ত হয়েছে পাহাড়। কিন্তু ৬দিন পর ওই কিশোরীর স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রতিবেদনে ‘ধর্ষণের কোনো আলামত পাননি’ পরীক্ষায় নেতৃত্ব দেওয়া চিকিৎসক। তিন সদস্যের এই মেডিকেল টিমের প্রতিবেদনে আলামত পরীক্ষার ১০টি সূচকের সবকটিতে স্বাভাবিক লেখা রয়েছে। অথচ কথিত এই ধর্ষণের ঘটনাকে পুঁজি করে পাহাড়ের বিচ্ছিন্নতাবাদী সন্ত্রাসী সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগানোর অপচেষ্টা করেছে।

মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে খাগড়াছড়ি সেনানিবাসে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়েও খাগড়াছড়িতে সাম্প্রতিক সহিংসতার জন্য ইউপিডিএফকে দায়ী করেছেন সেনাবাহিনীর খাগড়াছড়ি রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হাসান মাহমুদ। তিনি বলেছেন, ধর্ষণের ঘটনাকে পুঁজি করে সাধারণ পাহাড়ি নারী ও কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের সামনে দিয়ে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগানোর চেষ্টা করছে সংগঠনটি। এসব কর্মসূচিতে বহিরাগত সন্ত্রাসীদের দিয়ে দেশীয় ও অটোম্যাটিক (স্বয়ংক্রিয়) অস্ত্রে ফায়ারিং (গুলি) করা হচ্ছে। একই দিন পৃথক সংবাদ সম্মেলনে প্রায় একই রকম অভিযোগ করেছেন সেনাবাহিনীর গুইমারা রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল কালাম শামসুদ্দিন রানা।

  • আলামত পরীক্ষার ১০টি সূচকের সবকটিতে স্বাভাবিক
    জয়া চাকমা
    স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ
    খাগড়াছড়ি আধুনিক সদর হাসপাতাল

এদিকে, ধর্ষণের আলামত পরীক্ষায় তিন চিকিৎসক দলটির প্রধান খাগড়াছড়ি আধুনিক সদর হাসপাতালের স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ জয়া চাকমা গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘আমরা মেডিকেলে রির্পোট জমা দিয়েছি। সবধরনের পরীক্ষা নিরীক্ষা করেছি। কিন্তু আসলে ধর্ষণের কোনো আলামত পাইনি।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের টিমে হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার মোশারফ হোসেন ও নাহিদা আকতার ছিলেন।’ স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রতিবেদনের একটি কপি এসেছে কালের আলো.কম ও দৈনিক সন্ধানী বার্তার হাতে। এর আগে মামলার এজাহারে ভুক্তভোগীর বাবা জানান, ঘটনার রাতে প্রাইভেট পড়ে ফেরার পথে নিখোঁজ হয় মেয়েটি। পরে অচেতন অবস্থায় ক্ষেত থেকে উদ্ধার করার পর তাকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই একজনকে গ্রেপ্তার করে সেনাবাহিনী।

কল্পিত এই ধর্ষণের ঘটনাকে ইস্যু করে খাগড়াছড়িতে সহিংসতা ও নৈরাজ্য শুরু করে পাহাড়ের ‘আপদ’ হিসেবে পরিচিত ইউপিডিএফ। ১৪৪ ধারা জারির পাশাপাশি অতিরিক্ত সেনা ও বিজিবি মোতায়েনের পরও তাঁরা পরিস্থিতির অবনতি ঘটায়। রোববার ১৪৪ ধারার মধ্যেই গুইমারায় ব্যাপক সহিংসতার নেপথ্যে ছিল এই সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা। সেখানে পাহাড়ি-বাঙালিদের সংঘর্ষ চলা অবস্থায় পাহাড়ের উঁচু স্থান থেকে স্বয়ক্রিয় অস্ত্রের মাধ্যমে গুলি বর্ষণ করে তিনজনকে হত্যা করে ইউপিডিএফ। মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) গুইমারায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনের সময় সহিংসতার ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠনের কথা জানিয়েছেন স্থানীয় জেলা প্রশাসক এবিএম ইফতেখারুল ইসলাম খন্দকার। অন্যদিকে, খাগড়াছড়ির অশান্ত পরিস্থিতির জন্য একদিন আগে ভারত ও পলাতক ফ্যাসিস্টদের ইন্ধন রয়েছে বলে দাবি করেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

কিশোরীর স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রতিবেদনে যা উল্লেখ রয়েছে
ধর্ষণের আলামত পরীক্ষায় তিন সদস্যের চিকিৎসক দলের নেতৃত্ব দেন খাগড়াছড়ি আধুনিক সদর হাসপাতালের স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ জয়া চাকমা। তিন পৃষ্ঠার রিপোর্টে ধর্ষণের লক্ষণ পাওয়া যায় এমন ১০টি সূচকের কোনটিতে মেলেনি আলামত। সবগুলোই স্বাভাবিক। শরীরের ভেতরে-বাইরে কোথাও ধর্ষণের চিহ্ন পায়নি চিকিৎসক দল। রিপোর্টে স্বাক্ষর করেন স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ জয়া চাকমা, মেডিকেল অফিসার মীর মোশারফ হোসেন ও নাহিদা আকতার।

  • বহিরাগত সন্ত্রাসীদের দিয়ে দেশীয় ও অটোম্যাটিক অস্ত্রে গুলি করা হচ্ছে
    ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হাসান মাহমুদ
    রিজিয়ন কমান্ডার, খাগড়াছড়ি
    বাংলাদেশ সেনাবাহিনী

পার্বত্য চট্টগ্রামকে অস্থিতিশীল করা এবং সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টির বিষয়টি একটি বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের অংশ পার্বত্য চট্টগ্রামকে অস্থিতিশীল করা এবং সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টির বিষয়টি একটি বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের অংশ বলে মনে করেন খাগড়াছড়ি রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হাসান মাহমুদ। তিনি বলেন, এসবের প্রমাণাদি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে আছে। নানা অপপ্রচার ও উসকানির মধ্যেও সেনাবাহিনী দেশের সার্বভৌমত্ব ও অবিচ্ছেদ্য অংশ রক্ষায় সবকিছু করবে। উদ্ভূত পরিস্থিতির মধ্যে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বড় অনুষ্ঠান শারদীয় দুর্গাপূজা চলছে জানিয়ে এই সেনা কর্মকর্তা বলেন, সবাই যেন এই উৎসবে স্বতস্ফূর্তভাবে অংশ নিতে পারে সে সুযোগটি আমরা করে দিচ্ছি। রিজিয়ন কমান্ডার ইউপিডিএফকে দেশের স্বার্থে অবরোধ প্রত্যাহার করে পরিস্থিতি শান্ত রাখার আহ্বান জানান।

  • পাহাড়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির পেছনে দায়ী ইউপিডিএফ
    ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল কালাম রানা
    রিজিয়ন কমান্ডার, গুইমারা
    বাংলাদেশ সেনাবাহিনী

পৃথক এক সংবাদ সম্মেলনে সেনাবাহিনীর গুইমারা রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল কালাম রানা বলেন, ‘পাহাড়ি সশস্ত্র সন্ত্রাসী সংগঠনগুলো বিশেষ করে ইউপিডিএফ আমাদের এই এলাকায় সকল ধরণের সশস্ত্র সন্ত্রাসী কার্যকলাপ ও পাহাড়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির পেছনে দায়ী। আমরা সব সময় তাদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান পরিচালনা করি। তাদেরকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করে এই এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার চেষ্টা আমরা সব সময় চালিয়ে যাচ্ছি। এটি অব্যাহত থাকবে।’

কালের আলো/এমএসএএকে/এমকে

বলিউড পরিচালক কুকু কোহলি আর নেই

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ৫:২৯ অপরাহ্ণ
বলিউড পরিচালক কুকু কোহলি আর নেই

বলিউডে ফুল অউর কাঁটে সিনেমার মাধ্যমে অজয় দেবগণ ও মাধুর অভিষেক ঘটানো পরিচালক কুকু কোহলি মারা গেছেন। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৭ বছর।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে, কুকু কোহলির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও নির্মাতা অশোক পণ্ডিত। প্রিয় বন্ধুর আকস্মিক মৃত্যুতে শোকাহত তিনি।

কুকু কোহলির মৃত্যুর বিষয়ে অশোক পণ্ডিত বলেন, কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবেন, তা তিনি বুঝতে পারছেন না। কারণ কুকু কোহলি ছিলেন তাঁর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বন্ধু। তিনি জানান, কুকু কোহলি হৃদ্‌রোগে মারা যাবেন—এমনটা কখনো ভাবেননি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, কুকু কোহলি সম্পূর্ণ সুস্থ ছিলেন এবং খাবারের ব্যাপারেও সচেতন ছিলেন।

অশোক পণ্ডিত আরও বলেন, কুকু কোহলি সব সময় হাসিখুশি ও ইতিবাচক মানসিকতার মানুষ ছিলেন। তাঁকে কখনো বিষণ্ন অবস্থায় দেখেননি। কুকু কোহলির ব্যক্তিত্বের ইতিবাচক দিকটিই তাঁর সবচেয়ে বেশি মনে পড়ছে।

দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের পাশাপাশি কুকু কোহলির সঙ্গে তাঁর পেশাগত সম্পর্কের কথাও স্মরণ করেন অশোক পণ্ডিত। তিনি বলেন, ‘ফুল অউর কাঁটে’ সিনেমার মাধ্যমে অজয় দেবগণকে বলিউডে নিয়ে আসেন কুকু কোহলি। এর আগে দীর্ঘ সময় তিনি কিংবদন্তি নির্মাতা রাজ কাপুরের সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করেছিলেন।

বন্ধুর মৃত্যুতে নিজের মানসিকভাবে ভেঙে পড়ার কথাও জানান অশোক পণ্ডিত। তিনি বলেন, কুকু কোহলির মৃত্যুতে তিনি একজন খুব কাছের বন্ধুকে হারিয়েছেন।

১৯৯১ সালে মুক্তি পাওয়া ‘ফুল অউর কাঁটে’ কুকু কোহলির ক্যারিয়ারের অন্যতম উল্লেখযোগ্য সিনেমা। এই সিনেমার মাধ্যমেই বলিউডে অভিষেক হয় অজয় দেবগণ ও অভিনেত্রী মাধুর। সিনেমাটি মুক্তির পর অজয় দেবগণ দ্রুত দর্শকদের নজর কাড়েন।

পরিচালক হিসেবে কুকু কোহলির উল্লেখযোগ্য সিনেমার মধ্যে রয়েছে ‘সুহাগ’ (১৯৯৪), ‘হকীকত’ (১৯৯৫), ‘আনাড়ি নং ১’ (১৯৯৯), ‘জুলমি’ (১৯৯৯) ও ‘ইয়ে দিল আশিকানা’ (২০০২)। তাঁর পরিচালিত সর্বশেষ সিনেমা ‘ওহ তেরা নাম থা’ মুক্তি পায় ২০২৪ সালে।

কুকু কোহলির মৃত্যুতে বলিউডে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। তাঁর দীর্ঘ চলচ্চিত্রজীবন এবং অজয় দেবগণের ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কারণে তাঁকে স্মরণ করছেন চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্টরা।

কালের আলো/এসএ

‘মহানগর ৩’-এর চিত্রনাট্য শেষের পথে, বড় ইঙ্গিত দিলেন আশফাক নিপুণ

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ৫:১৭ অপরাহ্ণ
‘মহানগর ৩’-এর চিত্রনাট্য শেষের পথে, বড় ইঙ্গিত দিলেন আশফাক নিপুণ

দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে। জনপ্রিয় ওয়েব সিরিজ ‘মহানগর’-এর তৃতীয় সিজন নিয়ে বড় ইঙ্গিত দিয়েছেন নির্মাতা আশফাক নিপুণ। নিজের জন্মদিনে প্রকাশ করা এক ভিডিওতে নতুন সিজনের চিত্রনাট্য শেষ করার কথা জানিয়েছেন তিনি। এতে ‘মহানগর ৩’ নিয়ে দর্শকদের অপেক্ষা আরও বাড়ল।

বাংলাদেশে ওয়েব সিরিজের জনপ্রিয়তা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা ‘মহানগর’ প্রথম মুক্তি পায় ২০২১ সালে। দুই বছর পর ২০২৩ সালে দর্শকদের সামনে আসে দ্বিতীয় সিজন। গল্প, চিত্রনাট্য ও অভিনয়ের কারণে সিরিজটি বাংলাদেশ ছাড়িয়ে ভারতেও ব্যাপক সাড়া ফেলে।

দ্বিতীয় সিজনের শেষেই তৃতীয় কিস্তি আসার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল। এরপর প্রায় তিন বছর পেরিয়ে গেলেও ‘মহানগর ৩’ নিয়ে নির্মাতার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। এ সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আশফাক নিপুণের যেকোনো পোস্টে দর্শকদের একটি বড় অংশ তৃতীয় সিজন নিয়ে জানতে চাইতেন।

এর মধ্যে একবার সিরিজটির কাজ শুরুর খবরও সামনে এসেছিল। পরে জানা যায়, বাজেট সংকটের কারণে হইচই বাংলাদেশ তখন ‘মহানগর ৩’ নির্মাণ করতে পারছে না।

তবে এবার খোদ নির্মাতার ইঙ্গিতে নতুন করে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন দর্শকেরা। বুধবার (২৬ আগস্ট) নিজের জন্মদিন উপলক্ষে ফেসবুকে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন আশফাক নিপুণ। ভিডিওর একপর্যায়ে তিনি বলেন, ‘যাই হোক, এখন স্ক্রিপ্টটা শেষ করে আসি। সময় হাতে বেশি নেই।’

কোন চিত্রনাট্যের কথা বলছেন, সেটিও খুব বেশি গোপন রাখেননি নির্মাতা। ভিডিওতে তিনি নিজের কণ্ঠে ‘মহানগর’-এর পরিচিত ইন্ট্রো মিউজিক গেয়ে শোনান। এতেই দর্শকদের কাছে পরিষ্কার হয়ে যায়, বহুল প্রতীক্ষিত ‘মহানগর ৩’-এর চিত্রনাট্য নিয়েই কাজ করছেন তিনি।

পরে তাঁর পোস্টের মন্তব্যে এক ভক্ত সরাসরি জানতে চান, ‘তাহলে কি মহানগর ৩ ভায়া?’ জবাবে আশফাক নিপুণ লেখেন, ‘ইয়েস’। নির্মাতার এই সংক্ষিপ্ত উত্তরেই সিরিজটির তৃতীয় সিজন নিয়ে নতুন করে উচ্ছ্বাস তৈরি হয়েছে।

তবে ‘মহানগর ৩’-এর শুটিং কবে শুরু হবে কিংবা সিরিজটি কবে মুক্তি পাবে, সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট কোনো সময়সূচি জানানো হয়নি।

সিরিজটির প্রথম দুই সিজনে পুলিশ কর্মকর্তা ওসি হারুন চরিত্রে অভিনয় করে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পান মোশাররফ করিম। তৃতীয় সিজনেও তাঁকে একই চরিত্রে দেখা যাবে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি নতুন সিজনে পশ্চিমবঙ্গের জনপ্রিয় অভিনেতা অনির্বাণ ভট্টাচার্যকে বিশেষ চমক হিসেবে দেখা যেতে পারে বলেও আলোচনা রয়েছে।

কালের আলো/এসএ

২৮ আগস্ট মঞ্চে আসছে ‘দোজখের শেষ মেয়েটি’

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ৫:০৩ অপরাহ্ণ
২৮ আগস্ট মঞ্চে আসছে ‘দোজখের শেষ মেয়েটি’

প্রচলিত নাট্যরীতির বাইরে গিয়ে লিভিং থিয়েটারের নান্দনিকতা ও পরীক্ষামূলক ভাষায় নতুন প্রযোজনা নিয়ে আসছে নাট্যদল নাট্যধারা। ‘দোজখের শেষ মেয়েটি’ শিরোনামের নাটকটির উদ্বোধনী মঞ্চায়ন হবে আগামী ২৮ আগস্ট শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির এক্সপেরিমেন্টাল হলে।

লিভিং থিয়েটারের বৈশিষ্ট্য অনুসরণ করে নির্মিত এ প্রযোজনায় দর্শক ও মঞ্চের প্রচলিত দূরত্ব কমিয়ে নাট্যঘটনাকে আরও প্রত্যক্ষ ও অনুভবনির্ভর করে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে। শরীরী ভাষা, প্রতীকী অভিনয়, আলো-আঁধারি, শব্দ ও আবহ নির্মাণকে নাটকের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।

নাটকটির কেন্দ্রীয় চরিত্র নাদিয়া মুরাদ। ইরাকের ইয়াজিদি সম্প্রদায়ের এই তরুণী উগ্রবাদী সন্ত্রাসীদের হাতে বন্দিত্ব ও নির্যাতনের শিকার হন। পরে সেখান থেকে পালিয়ে ইউরোপে আশ্রয় নিয়ে মানবাধিকার রক্ষায় সোচ্চার হন তিনি। তাঁর সংগ্রাম ও সাহসী ভূমিকার স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৮ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন নাদিয়া মুরাদ।

তবে ‘দোজখের শেষ মেয়েটি’ শুধু নাদিয়া মুরাদের ব্যক্তিজীবনের গল্প নয়। যুদ্ধ, রাষ্ট্র, মৌলবাদ, বিশ্বরাজনীতি, অর্থনৈতিক স্বার্থ, জাতিসত্তার ওপর আঘাত এবং মানবিক বিপর্যয়ের মতো সমকালীন নানা সংকটকে নাটকটির বিষয়বস্তু করা হয়েছে।

নাট্যদলের ভাষ্য অনুযায়ী, নাদিয়ার জীবনকাহিনিকে ব্যক্তিগত আত্মজীবনী হিসেবে নয়, বরং সময় ও ইতিহাসের প্রতিচ্ছবি হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছে। দর্শককে কেবল গল্পের দর্শক না রেখে নাট্যঘটনার মধ্য দিয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের মুখোমুখি করাও এ প্রযোজনার অন্যতম লক্ষ্য।

নাটকের শেষাংশে উঠে আসে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—নাদিয়াই কি পৃথিবীর দৃশ্যমান ও অদৃশ্য দোজখের শেষ মেয়ে? চলমান যুদ্ধই কি পৃথিবীর শেষ যুদ্ধ? মৌলবাদের তৈরি দোজখই কি পৃথিবীর শেষ দোজখ? নাদিয়াই কি পৃথিবীর শেষ দোজখের শেষ মেয়ে? আর যুদ্ধশিশু কি পরিকল্পিত?

নাটকটি রচনা করেছেন আনিসুর রহমান এবং নাট্যনির্মাণ করেছেন আশীষ খন্দকার। অভিনয়ে রয়েছেন মো. কামাল হোসেন, ফাহমিদা রহমান তৃষা, রিয়াদ মাহমুদ, হাফসা আক্তার, মো. আব্দুল আজিজ, মো. রফিকুল ইসলাম, রহিম পারভেজ, আল হাছিবুর রহমান, জাহাঙ্গীর সিকদার, ইমতিয়াজ আহমেদ দুলু ও হাফসা মাহমুদ ঋদ্ধি।

নাট্যকার হিসেবে রয়েছেন আনিসুর রহমান। নাট্যনির্মাণের পাশাপাশি সঙ্গীত ও পোশাক পরিকল্পনায় আছেন আশীষ খন্দকার। সহযোগী নির্দেশক রিয়াদ মাহমুদ। মঞ্চ ও আলো পরিকল্পনা করেছেন পলাশ সেন হেনরী।

নাটকটির নির্মাণে সহযোগিতা করেছে বিডিজবস ডট কম ও সাইমন কালিনারী ইনস্টিটিউট।

লিভিং থিয়েটারের পরীক্ষামূলক ভাষায় নির্মিত ‘দোজখের শেষ মেয়েটি’ সমকালীন বাংলা মঞ্চনাটকে নতুন অভিজ্ঞতা তৈরি করবে বলে প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। ২৮ আগস্টের উদ্বোধনী মঞ্চায়নের মধ্য দিয়ে শুরু হবে প্রযোজনাটির যাত্রা।

কালের আলো/এসএ