খুঁজুন
                               
শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ২৮ চৈত্র, ১৪৩২
           

দৃঢ় প্রত্যয়ী সেনাপ্রধানের প্রজ্ঞা-বিচক্ষণতায় নির্বাচনমুখী দেশ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৫, ৬:৫৮ অপরাহ্ণ
দৃঢ় প্রত্যয়ী সেনাপ্রধানের প্রজ্ঞা-বিচক্ষণতায় নির্বাচনমুখী দেশ

এম.আব্দুল্লাহ আল মামুন খান, অ্যাকটিং এডিটর:

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে সেনা-ছাত্র-জনতা এক কাতারে শামিল হয়ে নতুন এক আবহ তৈরি করেছিল বাংলাদেশে। গত বছরের ৫ আগস্টের আগে তাঁর বাহিনীকে ‘নো ফায়ার’ কার্যকর নির্দেশনা বদলে দিয়েছিল দৃশ্যপট। যার ফলশ্রুতিতেই নিজের জীবদ্দশায় ইতিহাসের বাঁক পরিবর্তনের কাণ্ডারি হিসেবে আবির্ভূত করেছিলেন নিজেকে। বারবার তিনি বলে দিয়েছিলেন রাজনীতি নিয়ে তাঁর কোন উচ্চাকাঙ্ক্ষা নেই। রাজনীতিকদের বিকল্প কেবলই রাজনীতিক, সেনাবাহিনী নয়। কথার সঙ্গে মিল রেখে তিনি কাজ করে চলেছেন অহর্নিশ। অন্তর্বর্তী সরকারকে সহযোগিতা ও সেনাবাহিনীর নিরপেক্ষতা বজায় রাখার নীতি কাগজে-কলমেও প্রমাণ দিয়েছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। সুন্দর আগামীর পথনকশা অঙ্কনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। নিজের নেতৃত্বের ক্যারিশমা, বিচক্ষণতা ও প্রজ্ঞায় নির্বাচনমুখী করেছেন দেশকে।

  • নিজের জীবদ্দশায় ইতিহাসের বাঁক পরিবর্তনের কাণ্ডারি
  • নেতৃত্বের ম্যাজিকে প্রতিহত করেছেন স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিরোধী চক্রান্ত
  • ১৬ বছর পর আবারও নির্বাচনী দায়িত্বে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হিসেবে সশস্ত্র বাহিনীকে অন্তর্ভুক্ত
  • ভোটের মাঠে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হিসেবে বিবেচিত হবে সেনাবাহিনীর ভূমিকা

সর্বোচ্চ পেশাদার, দক্ষ ও দৃঢ় প্রত্যয়ী সেনাপ্রধান গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিরোধী যেকোন চক্রান্ত-ষড়যন্ত্র প্রতিহত করেছেন নিজ নেতৃত্বের ম্যাজিকে। যেভাবে নিশ্চিত রক্তপাত থেকে দেশকে রক্ষা করে পথের দিশা দিয়েছিলেন ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের আগে। গত ১১ মাসে দেশ ও দেশের বাইরে থেকে নানা উসকানি ও বাড়বাড়ন্ত গুজবের মধ্যেও নিজের বাহিনীর উঁচু মনোবল অটুট রেখেছেন জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। পরতে পরতে ধৈর্য্য, সংযম ও মানবিকতার সারি সারি চিত্রপট রচনা করেছেন। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে মাঠ প্রস্তুত করছে সেনাবাহিনী। এই নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনৈতিক সরকার দায়িত্ব গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গেই সেনাবাহিনী ব্যারাকে ফিরে যাবে বলেও আশাব্যঞ্জক বার্তা দিয়েছেন বহুবার। ম্যাজিষ্ট্রেসি ক্ষমতা নিয়ে সেনাবাহিনী এবার মাঠে থাকায় অনেক সমূহ বিপদ থেকে রক্ষা পেয়েছে দেশ। দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রাখার পাশাপাশি জননিরাপত্তা ও জনশৃঙ্খলা রক্ষার সমান্তরালে অনাকাঙ্ক্ষিত সব নৈরাজ্য-সহিংসতা প্রতিরোধ, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের অশুভ তৎপরতা তাঁরা রুখে দিয়েছে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের মানদণ্ডে উত্তীর্ণ হয়েই। এই দীর্ঘ সময়ে দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সচল রাখা, সড়ক-মহাসড়কে বাধামুক্ত রাখা বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিশৃঙ্খলার পরিস্থিতি মোকাবিলার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ ফয়সালাও করেছেন সেনাপ্রধান।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিভিন্ন সময়ে আহতদের সুচিকিৎসার ব্যবস্থাও করেছে সেনাবাহিনী। দেশের বিভিন্ন সিএমএইচে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। গুরুতর আহত কয়েক জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশেও পাঠিয়েছে। মব ভায়োলেন্স শক্ত হাতে প্রতিরোধে সেনাবাহিনীকে সোচ্চার রেখেছেন এই চার তারকা জেনারেল। দেশের বিরাজমান পরিস্থিতিতে সশস্ত্র বাহিনী দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, জনগণের জানমাল এবং রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ ও স্থাপনার নিরাপত্তা প্রদানসহ সার্বিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে নিরলসভাবে কাজ করে চলেছে। সশস্ত্র বাহিনী মাঠে না থাকলে কঠিন এই পরিস্থিতি মোকাবিলা ছিল একেবারেই অসম্ভব। অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করে ভোটের মাঠে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডও তাঁরা নিশ্চিত করছে একদিন-প্রতিদিন।

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড.মুহাম্মদ ইউনূস’র ঘোষণার পরপরই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে সব শঙ্কা-অনিশ্চয়তা দূর হয়েছে। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় এই নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য করতে চলছে নানা সমীকরণ। প্রধান উপদেষ্টা ক’দিন আগে জাতিসংঘ সফরকালে নিউইয়র্কে বিশিষ্ট মানবাধিকার রক্ষাকারীদের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে বাংলাদেশ এক ‘গুরুত্বপূর্ণ সময়’ অতিক্রম করছে বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ‘কিছু আন্তর্জাতিক মহল নির্বাচনপ্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে।’ তবে যেকোনভাবে নির্বাচনে ভোটদান নির্বিঘ্ন ও উৎসবমুখর করতে চায় অন্তর্বর্তী সরকার। পাশাপাশি নির্বাচনকে প্রতিযোগিতামূলক করতে জনপ্রশাসনের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হিসেবে বিবেচিত হবে সেনাবাহিনীর ভূমিকা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, বাংলাদেশে বেশিরভাগ নির্বাচনই কম নির্বাচন গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। ১৯৯১ সালের পঞ্চম, ১৯৯৬ সালের সপ্তম, ২০০১ সালের অষ্টম এবং ২০০৮ সালের নবম- এই চারটি নির্বাচনই অংশগ্রহণমূলক ছিল। রাজনীতির মাঠে নানা কথা থাকতে পারে কিন্তু নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে সেই রকম বড় কোনো প্রশ্ন নেই। তবে পতিত আওয়ামী লীগ ও তার মিত্রদের বর্জন করা ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ষষ্ঠ, বিএনপি ও তার মিত্রদের বর্জন করা ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম, ২০১৮ সালের রাতের ভোটের একাদশ ও ২০২৪ সালের সালের ৭ জানুয়ারির ‘ডামি ভোট’ হিসেবে পরিচিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদের একতরফা নির্বাচন দেশ-বিদেশে কোথাও গ্রহণযোগ্যতা পায়নি। এসব নির্বাচনে ভোটারের ন্যূনতম উপস্থিতি ছিল না বললেই চলে। এবার সব থেকে সেরা একটি জাতীয় নির্বাচন উপহার দিতে নিজের দৃঢ় অঙ্গীকারের কথা জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।

সবচেয়ে আশার বিষয় হচ্ছে এবারের নির্বাচনে হারানো ক্ষমতা ফিরে পাচ্ছে সেনাবাহিনী। দীর্ঘ ১৬ বছর পর আবারও নির্বাচনী দায়িত্বে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হিসেবে সশস্ত্র বাহিনীকে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রস্তাবিত আরপিও (গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ) সংশোধনীতে সেনাবাহিনীকে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সংজ্ঞায় ফের যুক্ত করা হয়েছে। ২০০১ সালের সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সংশোধিত আরপিওতে সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীকে পুলিশ কর্মকর্তার মতোই ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল, যাতে তারা নির্বাচনী অপরাধে বিনা পরোয়ানায় গ্রেপ্তার করতে পারে। তবে ২০০৮ সালের নবম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে এই ক্ষমতা প্রত্যাহার করে। এর ফলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ, র‌্যাব, আনসার, বিজিবি ও কোস্টগার্ডের মতো কর্তৃত্ব তখন আর সেনাবাহিনীর ছিল না। তবে এবার আর তেমনটি ঘটার সুযোগ নেই। বিশ্লেষকরা মনে করেন, সেনাবাহিনী স্বমহিমায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা হিসেবে দায়িত্ব ফিরে আসায় দেশের সাধারণ মানুষও আশান্বিত হয়েছেন। তাঁরা সরকারের এই সময়োপযোগী সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী সম্প্রতি জানিয়েছেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পুলিশ ও আনসারের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর ৮০ হাজারেরও বেশি সদস্য মোতায়েন করা হবে।

কালের আলো/এমএএএমকে

সিরাজগঞ্জে ২৪ ঘণ্টায় ১৭ শিশুর দেহে হাম প্রাদুর্ভাব

সিরাজগঞ্জ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ২:২৩ অপরাহ্ণ
সিরাজগঞ্জে ২৪ ঘণ্টায় ১৭ শিশুর দেহে হাম প্রাদুর্ভাব

সারাদেশের মতো সিরাজগঞ্জে বেড়েছে সংক্রামক ব্যাধি হামের প্রাদুর্ভাব। গত ২৪ ঘণ্টায় সিরাজগঞ্জে ১৭ শিশুর দেহে হাম শনাক্ত হয়েছে।

হামের টিকা দেওয়ার আগেই এ রোগে অধিকাংশ শিশুরা আক্রান্ত হওয়ায় দুশ্চিন্তায় রয়েছেন অভিভাবক ও স্বজনেরা। পরিস্থিতি মোকাবেলায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে হাম ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি শিশুদের সময়মতো টিকা দেওয়ার আহ্বান স্বাস্থ্য বিভাগের।

সিরাজগঞ্জ সিভিল সার্জন কার্যালয়ের পরিসংখ্যান কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির জানান, চলতি মাসের ২৯ মার্চ থেকে হাম রোগী কাউন্ট শুরু হয়েছে। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৭ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০০ জনে। এসব রোগী শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এর মধ্যে ৭০ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছে।

বর্তমানে মনসুর আলী মেডিকেলে ১৫ জন, সদর জেনারেল হাসপাতালে ২ জন, উল্লাপাড়ায় ২ জন ও রায়গঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২ জন ভর্তি রয়েছে। এদিকে, সারাদেশে হাম রোগীর সংখ্যা বাড়ার প্রেক্ষাপটে শহীদ এম মনসুর আলী হাসপাতালেও খোলা হয়েছে বিশেষ আইসোলেশন ওয়ার্ড।

পরিস্থিতি মোকাবেলায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে হাম সিরাজগঞ্জে আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কালের আলো/ইএম

পরিবর্তন নেই বাংলাদেশের স্কোয়াডে, যে ব্যাখ্যা দিলেন নির্বাচকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ২:১৭ অপরাহ্ণ
পরিবর্তন নেই বাংলাদেশের স্কোয়াডে, যে ব্যাখ্যা দিলেন নির্বাচকরা

মার্চে পাকিস্তানের বিপক্ষে ঘরের মাঠে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ২-১ ব্যবধানে জিতেছিল বাংলাদেশ। একই দল নিয়েই নিউজিল্যান্ড সিরিজের প্রথম দুই ওয়ানডেতে নামতে যাচ্ছে মেহেদী হাসান মিরাজের দল। আজ (শনিবার) বিসিবির নবগঠিত নির্বাচক প্যানেল প্রথম দুই ওয়ানডের স্কোয়াড ঘোষণা করেছে। অপরিবর্তিত স্কোয়াড নিয়ে তাদের ব্যাখ্যা– দলে ডাক পাওয়া ক্রিকেটারদের আরও সুযোগ দিতে চান।

মিরপুর শের-ই বাংলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন বলেন, ‘আমরা যখন দলটা দেখেছি, মনে হয়েছে সর্বশেষ সিরিজ তো সফল ছিল। বাংলাদেশ ভালো ক্রিকেট খেলেছে এবং সেখানে কিছু খেলোয়াড় হয়তো সুযোগ পায়নি একাদশে। কিছু খেলোয়াড় নতুন এসেছে। আমাদের নীতি হলো, যখন কেউ আসবে, তাকে পর্যাপ্ত সুযোগ দিতে হবে। যারা খেলেছে তারা খারাপ খেলেনি। আমরা সুযোগ দেওয়ায় বিশ্বাস করতে চাই, সে কারণে আমরা এই সিরিজে দল পরিবর্তন করিনি।’

এক বছর পরই ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপ। এর আগে বড় পরিবর্তন নয়, ম্যাচ জেতার দিকেই মূল নজর নির্বাচকদের। দুটো বিষয়কে প্রাধান্য দেওয়ার কথা জানিয়ে প্রধান নির্বাচক জানান, ‘আমরা বিশ্বকাপের আগে কোনও বড় পরিবর্তন করতে চাই না। যদি কাউকে দেখতে হয়, তবে আগামী ছয় মাস বা এক বছরের মধ্যে দেখে নেব। বাংলাদেশ দলের প্রথম প্রাধান্য হলো ম্যাচ জেতা। জেতার জন্য আমরা সেরা দলটাই বানাব। এর মধ্যে আমরা বিশ্বকাপের কথা মাথায় রেখে পরিকল্পনা সাজাচ্ছি। তবে জেতার মানসিকতা ত্যাগ করে নয়।’

এ ছাড়া পেসার ও বিভিন্ন পজিশনের ব্যাটারদের রোটেশন নীতি নিয়ে বাশার বলেন, ‘পেস বোলিং ডিপার্টমেন্টে আমাদের অনেক অপশন আছে। এখানে রোটেশন করলে আমরা খুব একটা কিছু মিস করছি না। ইনজুরি ম্যানেজমেন্টের জন্য আমরা পেসারদের রোটেট করে খেলাব। কিন্তু টপ অর্ডার এবং মিডল অর্ডারে আমাদের সেটেল হওয়া দরকার। সেখানে আমাদের কাজ করার আছে।’

প্রসঙ্গত, আগামী ১৭ এপ্রিল সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড। ২০ এপ্রিল দ্বিতীয় ম্যাচ, প্রথম দুই ওয়ানডে হবে মিরপুর শের-ই বাংলায়। এরপর তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে (২৩ এপ্রিল) খেলতে দুই দল চট্টগ্রামে উড়াল দেবে। ৫০ ওভারের ম্যাচগুলো শুরু হবে বেলা ১১টায়।

কালের আলো/এসএকে

১০০ টাকার নিচে নেই সবজি, পাতে কমছে স্বাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ২:০৭ অপরাহ্ণ
১০০ টাকার নিচে নেই সবজি, পাতে কমছে স্বাদ

এক হাতে বাজারের ব্যাগ, আরেক হাতে হিসাব। প্রতিদিনের এই ছোট্ট লড়াইয়ে যেন হার মানছেন সাধারণ মানুষ। সবজির বাজারে ঢুকলেই চোখে পড়ে অস্বস্তির এক চিত্র। ৮০ থেকে ১০০ টাকার নিচে নেই কোনো সবজি। প্রয়োজন থাকলেও সাধ্যের সীমা টেনে ধরছে হাত। অনেকেই এখন কেজির বদলে কিনছেন আড়াইশ গ্রাম। এভাবেই সামলাচ্ছেন সংসার।

জ্বালানি সংকটে পরিবহন খরচ বৃদ্ধি এবং সরবরাহ ঘাটতির কারণে সবজির দাম বেড়েছে বলে দাবি করছেন বিক্রেতারা। অন্যদিকে দাম বাড়ায় সাধারণ মানুষের টিকে থাকা দায় হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ ক্রেতাদের।

শনিবার (১১ এপ্রিল) রাজধানীর মহাখালী, রামপুরাসহ বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, বেশিরভাগ সবজিই ১০০ টাকার ওপরে বিক্রি হচ্ছে। ৮০ টাকার নিচে রয়েছে মাত্র দু-একটি সবজি। গোল ও লম্বা দুই ধরনের বেগুনই কেজিপ্রতি ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা একদিন আগেও ছিল ১০০ টাকা। পটলের কেজি ২০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়।

করলা ১০০-১২০, বরবটি ৮০-৯০, ঢেঁড়শ ৭০-৮০, চিচিঙ্গা ৮০-৯০, ধুন্দল ৬০-৮০, শিম ৮০-৯০, টমেটো ৫০, পেঁপে ৪০-৫০ ও লাউ ৮০-১০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। এসব সবজির দাম দু’তিন দিন আগেও কেজিপ্রতি ২০-৩০ টাকা কমে কেনা যেত। তবে সবচেয়ে দামি সবজি এখন কাঁকরোল। প্রতি কেজি কাঁকরোল কিনতে ক্রেতাদের ১৬০-১৮০ টাকা গুনতে হচ্ছে। তবে কেজিপ্রতি আলুর দাম এখনও ২৫-৩০ টাকা।

মহাখালী সবজির বাজারে কথা হয় বখতিয়ার শিকদারের সঙ্গে। তিনি একটি বেসরকারি অফিসে পিয়ন হিসেবে কাজ করেন। বিভিন্ন সবজি কেনার ইচ্ছা থাকলেও দাম বাড়ায় আধা কেজি বেগুন ও আলু কিনেই বাসায় ফিরতে হচ্ছে তাকে। তার দাবি, সরকার যদি কিছু নিয়ন্ত্রণ করত, তাহলে নিম্নআয়ের মানুষের উপকার হতো।

তিনি বলেন, মাছ-মাংসের পরিবর্তে আগে সবজি খেয়ে চাহিদা মেটাতাম। এখন সেটাও কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। ৮০-১০০ টাকার নিচে কোনো সবজিই পাওয়া যায় না। স্বাদ জাগলেও আয়ের সঙ্গে কুলাতে না পেরে কোনোভাবে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে সংসার চালাতে হয়। আজ শুধু বেগুন আর আলু কিনেছি। ঘরে থাকা ডিম দিয়ে এসব রান্না হবে।

বখতিয়ার আরও বলেন, ঈদের পরও বেগুনের কেজি ৪০-৬০ টাকা ছিল। এখন দ্বিগুণেরও বেশি। আগে এক কেজি কিনলেও এখন আধা কেজি বা আড়াইশ গ্রাম করে কিনতে হয়। পটল, করলার দামও বেশি। খেতে হয় বলেই সবজি কিনছি, না হলে অনেক সময় না খেয়ে থাকতে হতো।

অনেকটাই বখতিয়ারের সুরে কথা বলেন বেসরকারি চাকরিজীবী আরিফ হোসেন। সাপ্তাহিক ছুটির দিনে বাজার করেন তিনি। দাম বেশি হওয়ায় করলা আধা কেজি, ঢেঁড়শ আড়াইশ গ্রাম, শিম আধা কেজি ও পটল আড়াইশ গ্রাম কিনেছেন। এসব সবজির দাম কম থাকলে এক কেজি করেই কিনতেন বলে জানান তিনি। তার মতে, আগে একজন মানুষ ২০০ গ্রাম খেলে এখন ১০০ গ্রামেই সীমাবদ্ধ থাকতে হচ্ছে।

জোয়ার সাহারা কাঁচাবাজারের বিক্রেতা মাহফুজার রহমান সিয়াম বলেন, দাম বাড়ার কারণ আমরাও স্পষ্ট করে বলতে পারি না। পাইকারি বাজারে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে বলে খুচরা বাজারেও এর প্রভাব পড়ছে। যে টাকা নিয়ে আমরা মালামাল কিনতে যাই, তার চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ দাম দিয়ে কিনতে হচ্ছে। গত সপ্তাহের তুলনায় এই সপ্তাহে প্রায় সবকিছুর দাম বেড়েছে। সরবরাহ কম বা সংকটের কারণেই এমনটি হয়েছে বলে মনে হচ্ছে।

বিক্রেতারা জানান, চলমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে জ্বালানি সংকটের কারণে পরিবহন খরচ বেড়েছে পাশাপাশি নতুন সবজির সরবরাহেও ঘাটতি রয়েছে। এসব কারণে পাইকাররা বেশি দামে সবজি বিক্রি করছেন। ফলে খুচরা পর্যায়েও বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

কালের আলো/এসএকে