খুঁজুন
                               
, ,
           

দৃঢ় প্রত্যয়ী সেনাপ্রধানের প্রজ্ঞা-বিচক্ষণতায় নির্বাচনমুখী দেশ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৫, ৬:৫৮ অপরাহ্ণ
দৃঢ় প্রত্যয়ী সেনাপ্রধানের প্রজ্ঞা-বিচক্ষণতায় নির্বাচনমুখী দেশ

এম.আব্দুল্লাহ আল মামুন খান, অ্যাকটিং এডিটর:

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে সেনা-ছাত্র-জনতা এক কাতারে শামিল হয়ে নতুন এক আবহ তৈরি করেছিল বাংলাদেশে। গত বছরের ৫ আগস্টের আগে তাঁর বাহিনীকে ‘নো ফায়ার’ কার্যকর নির্দেশনা বদলে দিয়েছিল দৃশ্যপট। যার ফলশ্রুতিতেই নিজের জীবদ্দশায় ইতিহাসের বাঁক পরিবর্তনের কাণ্ডারি হিসেবে আবির্ভূত করেছিলেন নিজেকে। বারবার তিনি বলে দিয়েছিলেন রাজনীতি নিয়ে তাঁর কোন উচ্চাকাঙ্ক্ষা নেই। রাজনীতিকদের বিকল্প কেবলই রাজনীতিক, সেনাবাহিনী নয়। কথার সঙ্গে মিল রেখে তিনি কাজ করে চলেছেন অহর্নিশ। অন্তর্বর্তী সরকারকে সহযোগিতা ও সেনাবাহিনীর নিরপেক্ষতা বজায় রাখার নীতি কাগজে-কলমেও প্রমাণ দিয়েছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। সুন্দর আগামীর পথনকশা অঙ্কনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। নিজের নেতৃত্বের ক্যারিশমা, বিচক্ষণতা ও প্রজ্ঞায় নির্বাচনমুখী করেছেন দেশকে।

  • নিজের জীবদ্দশায় ইতিহাসের বাঁক পরিবর্তনের কাণ্ডারি
  • নেতৃত্বের ম্যাজিকে প্রতিহত করেছেন স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিরোধী চক্রান্ত
  • ১৬ বছর পর আবারও নির্বাচনী দায়িত্বে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হিসেবে সশস্ত্র বাহিনীকে অন্তর্ভুক্ত
  • ভোটের মাঠে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হিসেবে বিবেচিত হবে সেনাবাহিনীর ভূমিকা

সর্বোচ্চ পেশাদার, দক্ষ ও দৃঢ় প্রত্যয়ী সেনাপ্রধান গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিরোধী যেকোন চক্রান্ত-ষড়যন্ত্র প্রতিহত করেছেন নিজ নেতৃত্বের ম্যাজিকে। যেভাবে নিশ্চিত রক্তপাত থেকে দেশকে রক্ষা করে পথের দিশা দিয়েছিলেন ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের আগে। গত ১১ মাসে দেশ ও দেশের বাইরে থেকে নানা উসকানি ও বাড়বাড়ন্ত গুজবের মধ্যেও নিজের বাহিনীর উঁচু মনোবল অটুট রেখেছেন জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। পরতে পরতে ধৈর্য্য, সংযম ও মানবিকতার সারি সারি চিত্রপট রচনা করেছেন। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে মাঠ প্রস্তুত করছে সেনাবাহিনী। এই নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনৈতিক সরকার দায়িত্ব গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গেই সেনাবাহিনী ব্যারাকে ফিরে যাবে বলেও আশাব্যঞ্জক বার্তা দিয়েছেন বহুবার। ম্যাজিষ্ট্রেসি ক্ষমতা নিয়ে সেনাবাহিনী এবার মাঠে থাকায় অনেক সমূহ বিপদ থেকে রক্ষা পেয়েছে দেশ। দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রাখার পাশাপাশি জননিরাপত্তা ও জনশৃঙ্খলা রক্ষার সমান্তরালে অনাকাঙ্ক্ষিত সব নৈরাজ্য-সহিংসতা প্রতিরোধ, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের অশুভ তৎপরতা তাঁরা রুখে দিয়েছে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের মানদণ্ডে উত্তীর্ণ হয়েই। এই দীর্ঘ সময়ে দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সচল রাখা, সড়ক-মহাসড়কে বাধামুক্ত রাখা বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিশৃঙ্খলার পরিস্থিতি মোকাবিলার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ ফয়সালাও করেছেন সেনাপ্রধান।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিভিন্ন সময়ে আহতদের সুচিকিৎসার ব্যবস্থাও করেছে সেনাবাহিনী। দেশের বিভিন্ন সিএমএইচে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। গুরুতর আহত কয়েক জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশেও পাঠিয়েছে। মব ভায়োলেন্স শক্ত হাতে প্রতিরোধে সেনাবাহিনীকে সোচ্চার রেখেছেন এই চার তারকা জেনারেল। দেশের বিরাজমান পরিস্থিতিতে সশস্ত্র বাহিনী দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, জনগণের জানমাল এবং রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ ও স্থাপনার নিরাপত্তা প্রদানসহ সার্বিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে নিরলসভাবে কাজ করে চলেছে। সশস্ত্র বাহিনী মাঠে না থাকলে কঠিন এই পরিস্থিতি মোকাবিলা ছিল একেবারেই অসম্ভব। অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করে ভোটের মাঠে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডও তাঁরা নিশ্চিত করছে একদিন-প্রতিদিন।

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড.মুহাম্মদ ইউনূস’র ঘোষণার পরপরই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে সব শঙ্কা-অনিশ্চয়তা দূর হয়েছে। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় এই নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য করতে চলছে নানা সমীকরণ। প্রধান উপদেষ্টা ক’দিন আগে জাতিসংঘ সফরকালে নিউইয়র্কে বিশিষ্ট মানবাধিকার রক্ষাকারীদের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে বাংলাদেশ এক ‘গুরুত্বপূর্ণ সময়’ অতিক্রম করছে বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ‘কিছু আন্তর্জাতিক মহল নির্বাচনপ্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে।’ তবে যেকোনভাবে নির্বাচনে ভোটদান নির্বিঘ্ন ও উৎসবমুখর করতে চায় অন্তর্বর্তী সরকার। পাশাপাশি নির্বাচনকে প্রতিযোগিতামূলক করতে জনপ্রশাসনের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হিসেবে বিবেচিত হবে সেনাবাহিনীর ভূমিকা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, বাংলাদেশে বেশিরভাগ নির্বাচনই কম নির্বাচন গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। ১৯৯১ সালের পঞ্চম, ১৯৯৬ সালের সপ্তম, ২০০১ সালের অষ্টম এবং ২০০৮ সালের নবম- এই চারটি নির্বাচনই অংশগ্রহণমূলক ছিল। রাজনীতির মাঠে নানা কথা থাকতে পারে কিন্তু নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে সেই রকম বড় কোনো প্রশ্ন নেই। তবে পতিত আওয়ামী লীগ ও তার মিত্রদের বর্জন করা ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ষষ্ঠ, বিএনপি ও তার মিত্রদের বর্জন করা ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম, ২০১৮ সালের রাতের ভোটের একাদশ ও ২০২৪ সালের সালের ৭ জানুয়ারির ‘ডামি ভোট’ হিসেবে পরিচিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদের একতরফা নির্বাচন দেশ-বিদেশে কোথাও গ্রহণযোগ্যতা পায়নি। এসব নির্বাচনে ভোটারের ন্যূনতম উপস্থিতি ছিল না বললেই চলে। এবার সব থেকে সেরা একটি জাতীয় নির্বাচন উপহার দিতে নিজের দৃঢ় অঙ্গীকারের কথা জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।

সবচেয়ে আশার বিষয় হচ্ছে এবারের নির্বাচনে হারানো ক্ষমতা ফিরে পাচ্ছে সেনাবাহিনী। দীর্ঘ ১৬ বছর পর আবারও নির্বাচনী দায়িত্বে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হিসেবে সশস্ত্র বাহিনীকে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রস্তাবিত আরপিও (গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ) সংশোধনীতে সেনাবাহিনীকে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সংজ্ঞায় ফের যুক্ত করা হয়েছে। ২০০১ সালের সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সংশোধিত আরপিওতে সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীকে পুলিশ কর্মকর্তার মতোই ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল, যাতে তারা নির্বাচনী অপরাধে বিনা পরোয়ানায় গ্রেপ্তার করতে পারে। তবে ২০০৮ সালের নবম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে এই ক্ষমতা প্রত্যাহার করে। এর ফলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ, র‌্যাব, আনসার, বিজিবি ও কোস্টগার্ডের মতো কর্তৃত্ব তখন আর সেনাবাহিনীর ছিল না। তবে এবার আর তেমনটি ঘটার সুযোগ নেই। বিশ্লেষকরা মনে করেন, সেনাবাহিনী স্বমহিমায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা হিসেবে দায়িত্ব ফিরে আসায় দেশের সাধারণ মানুষও আশান্বিত হয়েছেন। তাঁরা সরকারের এই সময়োপযোগী সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী সম্প্রতি জানিয়েছেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পুলিশ ও আনসারের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর ৮০ হাজারেরও বেশি সদস্য মোতায়েন করা হবে।

কালের আলো/এমএএএমকে

বিগত ছয় মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ৪:৪৩ অপরাহ্ণ
বিগত ছয় মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বিগত ছয় মাস বা ১৮০ দিনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে ‘বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে-কমিশন, ২০২৫’-এর প্রতিবেদন সংক্রান্ত সুপারিশ প্রণয়ন কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এ কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

মন্ত্রী বলেন, আইনশৃঙ্খলা নিয়ে সন্তুষ্টির বিষয়টি দেশের জনগণই মূল্যায়ন করবে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে নিশ্চিতভাবে বলা যায়, বিগত ছয় মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে। জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী এটিকে আরও সুসংহত করতে কিছুটা সময় প্রয়োজন।

তিনি বলেন, আমাদের এখন মাত্র ৬ মাস পার হলো। এর মধ্যে আমরা অনেক সংস্কার কাজ করেছি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন প্রশংসনীয় উদ্যোগ আপনারা দেখেছেন। বিগত ১৮০ দিনে সরকারের নেওয়া ও বাস্তবায়িত বিভিন্ন উদ্যোগ ও কর্মসূচি জনগণের কাছে প্রশংসিত হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত রূপরেখার আলোকেই প্রথম ১৮০ দিনে একাধিক প্রশংসনীয় উদ্যোগ ও জনকল্যাণমুখী কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে সরকার একের পর এক বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ সংকটের মুখোমুখি হলেও তা অত্যন্ত দক্ষতা ও সফলতার সঙ্গে মোকাবিলা করেছে।

তিনি আরো বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট বৈশ্বিক জ্বালানি ও গ্যাস সংকটের ধাক্কা বিশ্বব্যাপী অনুভূত হলেও সরকার তাৎক্ষণিকভাবে দেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায়নি। বোরো মৌসুমে কৃষকদের স্বার্থ সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার প্রায় এক মাস পর্যন্ত মূল্য বৃদ্ধি স্থগিত রাখে এবং পরে সহনীয় মাত্রায় সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেয়। অথচ ওই সময়ে বিশ্ববাজারসহ প্রতিবেশী দেশগুলোতে জ্বালানির দাম প্রায় দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়েছিল।

বিগত সরকারের রেখে যাওয়া দীর্ঘদিনের গ্যাস ও জ্বালানি সংকট রাতারাতি সমাধান করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার টেকসই ও সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার মাধ্যমে এ সংকট উত্তরণে কাজ করছে। বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে আকৃষ্ট করা, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ও উৎপাদন অব্যাহত রাখতে প্রাথমিক জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা আবশ্যক। এ লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর পরিদর্শন শেষে সেখানে একটি পূর্ণাঙ্গ স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, বিদ্যমান সামিট এবং এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান টার্মিনালে প্রায়শই যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় গ্যাস সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার সমস্যা নিরসনে একাধিক এফএসআরইউ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার স্থান নির্বাচনে বর্তমানে জরিপ কাজ চলমান রয়েছে।

তিনি বলেন, আমদানি নির্ভরতা হ্রাস করতে দেশের অভ্যন্তরে এবং অফশোর ও অনশোরে নতুন গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু হয়েছে, যার ফলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে এ সমস্যার টেকসই সমাধান অর্জিত হবে।

সামাজিক নিরাপত্তা ও জনকল্যাণমূলক পদক্ষেপের বিবরণ দিয়ে মন্ত্রী জানান, প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত অনুমোদিত ও বাস্তবায়িত হয়েছে। এর পাশাপাশি সরকারের পক্ষ থেকে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড প্রদান করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, বিভিন্ন ধর্মের ধর্মীয় কর্মকর্তা এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনদের মাসিক সম্মানী দেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও দেশের ক্রীড়াবিদ ও সংস্কৃতিবিদদের সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদানসহ একাধিক কল্যাণমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সংক্রান্ত জাতীয় প্রকিউরমেন্ট কমিটির প্রধান হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সরকারের সঠিক নীতি ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্তের ফলে দেশে খাদ্যের একটি মজবুত ও নিরাপদ মজুত গড়ে তোলা সম্ভব হয়েছে। এছাড়া সরকারের ১৮০ দিনে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অর্জিত সামগ্রিক অগ্রগতির সমন্বিত বিবরণী শিগগিরই প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং অথবা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়/দপ্তর থেকে গণমাধ্যমের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে।

কালের আলো/এম/এএইচ

প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার সাথে কানাডার হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ৪:৩৬ অপরাহ্ণ
প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার সাথে কানাডার হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ

প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম সাথে বাংলাদেশে নিযুক্ত কানাডার হাইকমিশনার অজিত সিং এর সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (১৭ আগস্ট ) ঢাকা সেনানিবাসস্থ সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। আইএসপিআর এক বার্তা বিষয়টি গণমাধ্যমকে অবগত করার জন্য

​সাক্ষাৎকালে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা এবং কানাডার হাইকমিশনার পারস্পরিক কুশলাদি বিনিময় করেন এবং বাংলাদেশ ও কানাডার মধ্যকার বিদ্যমান দীর্ঘদিনের সৌহার্দ্যপূর্ণ ও চমৎকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের কথা স্মরণ করেন। সৌহার্দ্যপূর্ণ এই আলোচনায় বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর সার্বিক আধুনিকায়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে কানাডার সম্ভাব্য সহযোগিতার ক্ষেত্রসমূহ নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় হয়।

​আলোচনায় সামরিক প্রযুক্তি আদান-প্রদান, কৌশলগত প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, যৌথ প্রশিক্ষণ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে উভয় পক্ষ ইতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করেন। এছাড়া, দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান প্রতিরক্ষা ও কূটনৈতিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় উন্নীত করার বিষয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে উভয়ে আশা প্রকাশ করেন দ্বিপক্ষীয় উদ্যোগের মাধ্যমে আগামী দিনগুলোতে বাংলাদেশ ও কানাডার মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদার ও সুসংহত হবে।

কালের আলো/এম/এএইচ

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ৭ আসামির রায় অপেক্ষমাণ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ৪:০৪ অপরাহ্ণ
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ৭ আসামির রায় অপেক্ষমাণ

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও তৎকালীন সড়ক পরিবহনমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির পক্ষে-বিপক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়েছে। শুনানি শেষে মামলাটির রায় অপেক্ষমাণ রেখেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। ফলে যেকোনো দিন এ মামলার রায় ঘোষণা হতে পারে।

সোমবার (১৭ আগস্ট) মামলার শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল এ সিদ্ধান্ত দেন। মামলায় রাষ্ট্রনিযুক্ত আসামিপক্ষের আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এম হাসান ইমাম ও ইশরাত জাহান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও গাজী এম এইচ তামিম।

এর আগে গত বুধবার রাষ্ট্রপক্ষ তাদের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করে। শুনানিতে প্রসিকিউশন আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানায়। পাশাপাশি আসামিদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার আদেশও চাওয়া হয়।

মামলার সাত আসামির মধ্যে রয়েছেন—ওবায়দুল কাদের, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।

রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ ও আসামিপক্ষের বক্তব্যসহ মামলার বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা শেষে এখন ট্রাইব্যুনালের রায়ের অপেক্ষা। রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ না হওয়ায় যেকোনো দিন তা প্রকাশ হতে পারে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি