খুঁজুন
                               
, ,
           

দৃঢ় প্রত্যয়ী সেনাপ্রধানের প্রজ্ঞা-বিচক্ষণতায় নির্বাচনমুখী দেশ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৫, ৬:৫৮ অপরাহ্ণ
দৃঢ় প্রত্যয়ী সেনাপ্রধানের প্রজ্ঞা-বিচক্ষণতায় নির্বাচনমুখী দেশ

এম.আব্দুল্লাহ আল মামুন খান, অ্যাকটিং এডিটর:

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে সেনা-ছাত্র-জনতা এক কাতারে শামিল হয়ে নতুন এক আবহ তৈরি করেছিল বাংলাদেশে। গত বছরের ৫ আগস্টের আগে তাঁর বাহিনীকে ‘নো ফায়ার’ কার্যকর নির্দেশনা বদলে দিয়েছিল দৃশ্যপট। যার ফলশ্রুতিতেই নিজের জীবদ্দশায় ইতিহাসের বাঁক পরিবর্তনের কাণ্ডারি হিসেবে আবির্ভূত করেছিলেন নিজেকে। বারবার তিনি বলে দিয়েছিলেন রাজনীতি নিয়ে তাঁর কোন উচ্চাকাঙ্ক্ষা নেই। রাজনীতিকদের বিকল্প কেবলই রাজনীতিক, সেনাবাহিনী নয়। কথার সঙ্গে মিল রেখে তিনি কাজ করে চলেছেন অহর্নিশ। অন্তর্বর্তী সরকারকে সহযোগিতা ও সেনাবাহিনীর নিরপেক্ষতা বজায় রাখার নীতি কাগজে-কলমেও প্রমাণ দিয়েছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। সুন্দর আগামীর পথনকশা অঙ্কনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। নিজের নেতৃত্বের ক্যারিশমা, বিচক্ষণতা ও প্রজ্ঞায় নির্বাচনমুখী করেছেন দেশকে।

  • নিজের জীবদ্দশায় ইতিহাসের বাঁক পরিবর্তনের কাণ্ডারি
  • নেতৃত্বের ম্যাজিকে প্রতিহত করেছেন স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিরোধী চক্রান্ত
  • ১৬ বছর পর আবারও নির্বাচনী দায়িত্বে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হিসেবে সশস্ত্র বাহিনীকে অন্তর্ভুক্ত
  • ভোটের মাঠে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হিসেবে বিবেচিত হবে সেনাবাহিনীর ভূমিকা

সর্বোচ্চ পেশাদার, দক্ষ ও দৃঢ় প্রত্যয়ী সেনাপ্রধান গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিরোধী যেকোন চক্রান্ত-ষড়যন্ত্র প্রতিহত করেছেন নিজ নেতৃত্বের ম্যাজিকে। যেভাবে নিশ্চিত রক্তপাত থেকে দেশকে রক্ষা করে পথের দিশা দিয়েছিলেন ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের আগে। গত ১১ মাসে দেশ ও দেশের বাইরে থেকে নানা উসকানি ও বাড়বাড়ন্ত গুজবের মধ্যেও নিজের বাহিনীর উঁচু মনোবল অটুট রেখেছেন জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। পরতে পরতে ধৈর্য্য, সংযম ও মানবিকতার সারি সারি চিত্রপট রচনা করেছেন। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে মাঠ প্রস্তুত করছে সেনাবাহিনী। এই নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনৈতিক সরকার দায়িত্ব গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গেই সেনাবাহিনী ব্যারাকে ফিরে যাবে বলেও আশাব্যঞ্জক বার্তা দিয়েছেন বহুবার। ম্যাজিষ্ট্রেসি ক্ষমতা নিয়ে সেনাবাহিনী এবার মাঠে থাকায় অনেক সমূহ বিপদ থেকে রক্ষা পেয়েছে দেশ। দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রাখার পাশাপাশি জননিরাপত্তা ও জনশৃঙ্খলা রক্ষার সমান্তরালে অনাকাঙ্ক্ষিত সব নৈরাজ্য-সহিংসতা প্রতিরোধ, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের অশুভ তৎপরতা তাঁরা রুখে দিয়েছে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের মানদণ্ডে উত্তীর্ণ হয়েই। এই দীর্ঘ সময়ে দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সচল রাখা, সড়ক-মহাসড়কে বাধামুক্ত রাখা বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিশৃঙ্খলার পরিস্থিতি মোকাবিলার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ ফয়সালাও করেছেন সেনাপ্রধান।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিভিন্ন সময়ে আহতদের সুচিকিৎসার ব্যবস্থাও করেছে সেনাবাহিনী। দেশের বিভিন্ন সিএমএইচে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। গুরুতর আহত কয়েক জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশেও পাঠিয়েছে। মব ভায়োলেন্স শক্ত হাতে প্রতিরোধে সেনাবাহিনীকে সোচ্চার রেখেছেন এই চার তারকা জেনারেল। দেশের বিরাজমান পরিস্থিতিতে সশস্ত্র বাহিনী দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, জনগণের জানমাল এবং রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ ও স্থাপনার নিরাপত্তা প্রদানসহ সার্বিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে নিরলসভাবে কাজ করে চলেছে। সশস্ত্র বাহিনী মাঠে না থাকলে কঠিন এই পরিস্থিতি মোকাবিলা ছিল একেবারেই অসম্ভব। অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করে ভোটের মাঠে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডও তাঁরা নিশ্চিত করছে একদিন-প্রতিদিন।

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড.মুহাম্মদ ইউনূস’র ঘোষণার পরপরই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে সব শঙ্কা-অনিশ্চয়তা দূর হয়েছে। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় এই নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য করতে চলছে নানা সমীকরণ। প্রধান উপদেষ্টা ক’দিন আগে জাতিসংঘ সফরকালে নিউইয়র্কে বিশিষ্ট মানবাধিকার রক্ষাকারীদের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে বাংলাদেশ এক ‘গুরুত্বপূর্ণ সময়’ অতিক্রম করছে বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ‘কিছু আন্তর্জাতিক মহল নির্বাচনপ্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে।’ তবে যেকোনভাবে নির্বাচনে ভোটদান নির্বিঘ্ন ও উৎসবমুখর করতে চায় অন্তর্বর্তী সরকার। পাশাপাশি নির্বাচনকে প্রতিযোগিতামূলক করতে জনপ্রশাসনের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হিসেবে বিবেচিত হবে সেনাবাহিনীর ভূমিকা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, বাংলাদেশে বেশিরভাগ নির্বাচনই কম নির্বাচন গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। ১৯৯১ সালের পঞ্চম, ১৯৯৬ সালের সপ্তম, ২০০১ সালের অষ্টম এবং ২০০৮ সালের নবম- এই চারটি নির্বাচনই অংশগ্রহণমূলক ছিল। রাজনীতির মাঠে নানা কথা থাকতে পারে কিন্তু নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে সেই রকম বড় কোনো প্রশ্ন নেই। তবে পতিত আওয়ামী লীগ ও তার মিত্রদের বর্জন করা ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ষষ্ঠ, বিএনপি ও তার মিত্রদের বর্জন করা ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম, ২০১৮ সালের রাতের ভোটের একাদশ ও ২০২৪ সালের সালের ৭ জানুয়ারির ‘ডামি ভোট’ হিসেবে পরিচিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদের একতরফা নির্বাচন দেশ-বিদেশে কোথাও গ্রহণযোগ্যতা পায়নি। এসব নির্বাচনে ভোটারের ন্যূনতম উপস্থিতি ছিল না বললেই চলে। এবার সব থেকে সেরা একটি জাতীয় নির্বাচন উপহার দিতে নিজের দৃঢ় অঙ্গীকারের কথা জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।

সবচেয়ে আশার বিষয় হচ্ছে এবারের নির্বাচনে হারানো ক্ষমতা ফিরে পাচ্ছে সেনাবাহিনী। দীর্ঘ ১৬ বছর পর আবারও নির্বাচনী দায়িত্বে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হিসেবে সশস্ত্র বাহিনীকে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রস্তাবিত আরপিও (গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ) সংশোধনীতে সেনাবাহিনীকে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সংজ্ঞায় ফের যুক্ত করা হয়েছে। ২০০১ সালের সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সংশোধিত আরপিওতে সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীকে পুলিশ কর্মকর্তার মতোই ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল, যাতে তারা নির্বাচনী অপরাধে বিনা পরোয়ানায় গ্রেপ্তার করতে পারে। তবে ২০০৮ সালের নবম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে এই ক্ষমতা প্রত্যাহার করে। এর ফলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ, র‌্যাব, আনসার, বিজিবি ও কোস্টগার্ডের মতো কর্তৃত্ব তখন আর সেনাবাহিনীর ছিল না। তবে এবার আর তেমনটি ঘটার সুযোগ নেই। বিশ্লেষকরা মনে করেন, সেনাবাহিনী স্বমহিমায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা হিসেবে দায়িত্ব ফিরে আসায় দেশের সাধারণ মানুষও আশান্বিত হয়েছেন। তাঁরা সরকারের এই সময়োপযোগী সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী সম্প্রতি জানিয়েছেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পুলিশ ও আনসারের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর ৮০ হাজারেরও বেশি সদস্য মোতায়েন করা হবে।

কালের আলো/এমএএএমকে

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধ

ইরানকে একঘরে করতে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অর্থনৈতিক অভিযান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ১:৫১ পূর্বাহ্ণ
ইরানকে একঘরে করতে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অর্থনৈতিক অভিযান

ইরানের ওপর আরও কঠোর অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তেহরানের বৈশ্বিক আর্থিক স্বার্থ ও আয়ের প্রধান উৎসগুলোকে লক্ষ্য করে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথা জানিয়েছেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট।

সোমবার (২৪ আগস্ট) মার্কিন ট্রেজারি বিভাগে এক সংবাদ সম্মেলনে বেসেন্ট বলেন, ইরানের তেল খাতসহ বিভিন্ন আয়ের উৎস বন্ধ করে দেওয়া এবং দেশটির সঙ্গে ব্যবসা করা থেকে অন্যান্য দেশ ও কোম্পানিগুলোকে বিরত রাখাই নতুন অভিযানের মূল লক্ষ্য।

তিনি জানান, ইরানের সঙ্গে তেল বাণিজ্য ও অন্যান্য ব্যবসা অব্যাহত রাখা দেশ ও প্রতিষ্ঠানগুলো মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে পড়বে। তেহরানের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা ব্যবসায়িক অংশীদারদের বিরুদ্ধেও মাধ্যমিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে।

মার্কিন প্রশাসন নতুন এই অর্থনৈতিক চাপের অভিযানের নাম দিয়েছে ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’। বেসেন্ট এটিকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় মিত্রবাহিনীর ফ্রান্সে অবতরণের সঙ্গে তুলনা করে ‘অর্থনৈতিক ডি-ডে’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন নিষেধাজ্ঞার আওতায় ইরানের গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি খাতকে লক্ষ্য করা হয়েছে। এগুলো হলো—ডিজিটাল সম্পদ, প্রযুক্তি, সোনা, বিমান চলাচল ও শিপিং।

বেসেন্ট আরও বলেন, যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে থাকবে তারা অংশীদারিত্বের সুফল পাবে। অন্যদিকে ইরানি প্রশাসনের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা দেশ ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিচ্ছিন্নতার মুখোমুখি হতে হবে।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত এবং পাল্টাপাল্টি হামলার কারণে মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের উত্তেজনা তৈরি হয়। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতি ঘিরে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ইরানের ওপর নতুন অর্থনৈতিক চাপের মাধ্যমে দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ এবং হরমুজ প্রণালীতে জলযানে হামলা বন্ধ করার জন্য তেহরানের ওপর চাপ বাড়ানো হবে।

সূত্র: আল জাজিরা

কালের আলো/এমএসআইপি 

প্রত্যাবাসনেই রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান দেখছেন প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ১০:০৯ অপরাহ্ণ
প্রত্যাবাসনেই রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান দেখছেন প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা

রোহিঙ্গা সংকটকে দীর্ঘদিন ধরে মানবিক বিপর্যয় হিসেবে বিবেচনা করা হলেও সময়ের সঙ্গে এর চরিত্র বদলে এখন তা বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা, কূটনৈতিক স্বার্থ ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। এমন বাস্তবতায় সংকট মোকাবিলায় মানবিক দায়িত্বের পাশাপাশি নিরাপত্তা, কূটনীতি ও সীমান্ত প্রতিরোধ সক্ষমতাকে সমান গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সেন্টার ফর জেনোসাইড স্টাডিজ আয়োজিত সেমিনারে দেওয়া সমাপনী বক্তব্যে তিনি রোহিঙ্গা সংকটের বর্তমান পরিস্থিতি ও বাংলাদেশের সামনে তৈরি হওয়া বহুমাত্রিক ঝুঁকির একটি সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরেন।

মানবিক সংকট থেকে নিরাপত্তা ঝুঁকি
প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার বক্তব্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—রোহিঙ্গা সংকটকে আর বিচ্ছিন্ন মানবিক ইস্যু হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। দীর্ঘস্থায়ী শরণার্থী পরিস্থিতি, ক্যাম্পে অপরাধ ও সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা, মাদক পাচার এবং সীমান্তের অস্থিতিশীলতা মিলিয়ে সংকটটি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার সঙ্গেও সরাসরি যুক্ত হয়ে পড়ছে। কক্সবাজার ও ভাসানচরের ৩৩টি ক্যাম্পে প্রায় ১১ লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গার অবস্থান এবং ক্যাম্পগুলোর নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতিকে তিনি বিশেষভাবে উদ্বেগজনক হিসেবে তুলে ধরেছেন। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন ক্যাম্পে একাধিক সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা এবং মাদক পাচার অব্যাহত রয়েছে। ২০১৭ সাল থেকে রোহিঙ্গাদের ঘিরে দুই হাজারের বেশি মামলা হওয়ার তথ্যও সংকটের সামাজিক ও আইনশৃঙ্খলাগত মাত্রাকে সামনে নিয়ে আসে। অর্থাৎ, শরণার্থী ক্যাম্পগুলোতে দীর্ঘমেয়াদি অনিশ্চয়তা শুধু রোহিঙ্গাদের জীবনকেই ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে না; স্থানীয় জনগোষ্ঠী, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং দেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার ওপরও এর প্রভাব পড়ছে।

রাখাইনে নতুন বাস্তবতা, বাড়ছে সীমান্তঝুঁকি
সংকটের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের পরিবর্তিত সামরিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতা। প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার বক্তব্য অনুযায়ী, রাখাইনের বড় অংশ বর্তমানে আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে। ফলে বাংলাদেশকে শুধু মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে সম্পর্কের হিসাব করলেই হবে না; সীমান্তের ওপারে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠাকারী অন্যান্য শক্তির সঙ্গেও বাস্তবতা বিবেচনায় নিতে হচ্ছে। রোহিঙ্গাদের বিষয়ে আরাকান আর্মির অবস্থান নিয়ে তাঁর উদ্বেগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এর অর্থ হলো, প্রত্যাবাসনের পথ তৈরি হলেও নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা, অধিকার এবং প্রত্যাবর্তন-পরবর্তী পরিস্থিতির নিশ্চয়তা নিশ্চিত করা বড় প্রশ্ন হয়ে থাকবে।

অতীতের অভিজ্ঞতা, ভবিষ্যতের কূটনৈতিক পথ
রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় ১৯৭৮ এবং নব্বইয়ের দশকের অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেছেন প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা। তাঁর বক্তব্যের মূল বার্তা হলো—ধৈর্য, ধারাবাহিকতা ও কৌশলগত দৃঢ়তার সঙ্গে পরিচালিত কূটনীতি দীর্ঘমেয়াদি ফল দিতে পারে। এখানে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে মানবিক আবেদনকে কার্যকর আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক চাপের সঙ্গে যুক্ত করা। জাতিসংঘ, আসিয়ান, ওআইসি, চীন ও ভারতসহ গুরুত্বপূর্ণ অংশীজনকে সম্পৃক্ত রাখার কৌশল সেই লক্ষ্যেই গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষ করে চীন ও ভারতের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার বিষয়টি বাংলাদেশের কূটনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান শুধু ঢাকা ও নেপিডোর দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে আঞ্চলিক ভূরাজনীতি, মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংঘাত এবং বড় শক্তিগুলোর স্বার্থও জড়িয়ে আছে।

‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতিতে ছয় কৌশল
রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় সরকারের ছয়টি কৌশলগত পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেছেন প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা। এগুলোর মধ্যে রয়েছে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক শক্তিগুলোকে সম্পৃক্ত করা, চীন-ভারতের মধ্যে কৌশলগত ভারসাম্য বজায় রাখা, মিয়ানমার সরকার ও আরাকান আর্মির সঙ্গে পৃথক যোগাযোগ, ক্যাম্পের নিরাপত্তা জোরদার, পূর্ব সীমান্তে বিশ্বাসযোগ্য প্রতিরোধ সক্ষমতা তৈরি এবং আসিয়ান ও ওআইসিকে সম্পৃক্ত করে আঞ্চলিক কাঠামো গড়ে তোলা। এই ছয়টি পদক্ষেপ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি এখন কেবল প্রত্যাবাসনকেন্দ্রিক নয়; বরং প্রত্যাবাসনের পথ তৈরি হওয়ার আগ পর্যন্ত নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

প্রত্যাবাসনযোগ্য ৩ লাখ ৮ হাজার রোহিঙ্গা—কতটা বাস্তব অগ্রগতি?
মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ১৫ আগস্টের ঘোষণায় ৩ লাখ ৮ হাজার ৭৯৭ জন রোহিঙ্গাকে প্রত্যাবাসনযোগ্য হিসেবে যাচাইয়ের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তবে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার মূল্যায়ন, এই উদ্যোগ প্রকৃত প্রত্যাবাসনের প্রস্তুতির চেয়ে আন্তর্জাতিক চাপ কমানো এবং আন্তর্জাতিক বিচারিক প্রক্রিয়ায় মিয়ানমারের অবস্থান শক্ত করার কৌশলও হতে পারে। এই সন্দেহের কারণও রয়েছে। অতীতের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, প্রত্যাবাসন নিয়ে ঘোষণা ও বাস্তব প্রত্যাবাসনের মধ্যে বড় ব্যবধান তৈরি হয়েছে। ফলে এবার শুধু তালিকা যাচাই বা কূটনৈতিক ঘোষণা নয়, বাস্তবে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরি হচ্ছে কি না—সেটিই হবে মূল পরীক্ষা।

সামনে বাংলাদেশের জন্য কঠিন সমীকরণ
রোহিঙ্গা সংকটের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, এর সমাধান বাংলাদেশের একক সক্ষমতার মধ্যে নেই। বাংলাদেশ আশ্রয় দিয়েছে, মানবিক সহায়তা দিচ্ছে এবং সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে; কিন্তু সংকটের মূল কারণ মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে। তাই একদিকে ক্যাম্পের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, অন্যদিকে সীমান্তে বিশ্বাসযোগ্য প্রতিরোধ সক্ষমতা ধরে রাখতে হবে। একই সঙ্গে মিয়ানমারের বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের দরজা খোলা রেখে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক চাপও অব্যাহত রাখতে হবে।

এ ক্ষেত্রে অতিরিক্ত নিরাপত্তাকেন্দ্রিক পদক্ষেপ যেন মানবিক দায়বদ্ধতাকে দুর্বল না করে এবং মানবিক কার্যক্রম যেন জাতীয় নিরাপত্তার বাস্তবতাকে উপেক্ষা না করে—দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রাখাই হবে বাংলাদেশের নীতিনির্ধারকদের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।

টেকসই সমাধানের কেন্দ্রে প্রত্যাবাসন
প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার বক্তব্যের সারকথা হলো, রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান বাংলাদেশে অনির্দিষ্টকাল শরণার্থী অবস্থান নয়; বরং নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসন। তবে সেই প্রত্যাবাসনের জন্য রাখাইনে এমন পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যেখানে রোহিঙ্গারা নিরাপত্তা, মর্যাদা ও মৌলিক অধিকার নিয়ে নিজেদের ভূমিতে ফিরতে পারেন।

এখন বাংলাদেশের সামনে তাই দ্বিমুখী দায়িত্ব—একদিকে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের মানবিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা, অন্যদিকে দেশের নিরাপত্তা ও জাতীয় স্বার্থ অক্ষুণ্ন রাখা। ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির বাস্তব সাফল্য নির্ভর করবে এই দুই দায়িত্বকে কতটা দক্ষতার সঙ্গে সমন্বয় করা যায় তার ওপর।

রোহিঙ্গা সংকট যত দীর্ঘ হবে, এর নিরাপত্তা ও ভূরাজনৈতিক মাত্রাও তত গভীর হবে। ফলে বাংলাদেশের জন্য এখন সবচেয়ে জরুরি হলো—আন্তর্জাতিক সমর্থনকে কার্যকর কূটনৈতিক চাপে রূপ দেওয়া, সীমান্ত ও ক্যাম্প নিরাপত্তা শক্তিশালী করা এবং শেষ পর্যন্ত নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য বাস্তবসম্মত পথ তৈরি করা। এ পথ দীর্ঘ ও কঠিন হলেও বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থে এর কোনো বিকল্প নেই।

কালের আলো/এমএএএমকে

মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে ছেলেদের জন্যও উপবৃত্তির ভাবনা সরকারের

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ১০:০৬ অপরাহ্ণ
মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে ছেলেদের জন্যও উপবৃত্তির ভাবনা সরকারের

নারীদের শিক্ষার ব্যাপারে উৎসাহিত করতে উপবৃত্তি দেয় সরকার। এবার ছেলেদের শিক্ষায় উৎসাহিত করতে তাদেরকেও মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে উপবৃত্তি দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হলো প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে একটি বৈঠকে।

ওই বৈঠকে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে স্নাতক পর্যন্ত ছাত্রীদের জন্য সর্বজনীন উপবৃত্তি পুনর্বহালের সম্ভাব্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশও দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের উদ্যোগে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন এ তথ্য জানান।

তিনি জানান, বৈঠকে মেয়েদের জন্য সর্বজনীন উপবৃত্তি পুনর্বহাল করা হলে সম্ভাব্য ব্যয়, উপকারভোগীর সংখ্যা, বাস্তবায়ন পদ্ধতি এবং এর প্রত্যাশিত সামাজিক ও শিক্ষাগত প্রভাব বিশ্লেষণ করে একটি সুস্পষ্ট প্রস্তাব প্রণয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। একইসঙ্গে ছেলেদের মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে উপবৃত্তি দেওয়ার বিষয়টি আলোচনা করা হয়েছে।

উপ-প্রেস সচিব জানান, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের চলমান কার্যক্রম, এর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য এবং শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনে আর্থিক সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে তাদের ঝরে পড়া রোধে ট্রাস্টের ভূমিকা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে বিস্তারিতভাবে অবহিত করা হয়।

বৈঠকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার আমলে মেয়েদের জন্য চালু হওয়া সর্বজনীন উপবৃত্তি কর্মসূচির প্রভাব ও অর্জন নিয়ে আলোচনা হয়। ওই সময় মেয়েদের বিদ্যালয়ে উপস্থিতি ও শিক্ষাজীবন অব্যাহত রাখা এবং বাল্যবিবাহ নিরুৎসাহিত করার ক্ষেত্রে সর্বজনীন উপবৃত্তির ইতিবাচক প্রভাবের বিষয়গুলো উঠে আসে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব।

বৈঠকে শিক্ষার্থীদের পুষ্টি ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টিকেও শিক্ষার মানোন্নয়নের সঙ্গে সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ সময় বিদ্যালয় পর্যায়ে মিড-ডে মিল কার্যক্রমের ব্যবস্থাপনা, খাবারের পুষ্টিমান এবং শিশুদের জন্য নিরাপদ খাদ্য প্রস্তুত ও সরবরাহ নিশ্চিত করার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের সরবরাহ করা খাবার যাতে পুষ্টিকর, নিরাপদ ও মানসম্মত হয় এবং কোনোভাবেই খাদ্যের মানের সঙ্গে আপস না করা হয়, সে বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন।

শাহাদাৎ স্বাধীন জানান, মিড-ডে মিল কার্যক্রম বাস্তবায়নে ব্যয়, ব্যবস্থাপনার দক্ষতা, স্থানীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণ এবং খাবারের মান নিয়ন্ত্রণের বিষয় বিবেচনায় রেখে দুটি বিকল্প পদ্ধতি নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। উভয় পদ্ধতির কার্যকারিতা, বাস্তবায়নযোগ্যতা ও সম্ভাব্য ফলাফল যাচাই করতে পৃথক দু’টি জেলায় প্রতিটি পদ্ধতির পাইলট প্রকল্প চালুর নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র মাহদী আমিন, শিক্ষা সচিব আবদুল খালেক, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ