অগ্রসরমান বিশ্বে অনিবার্য বাস্তবতা সাইবার নিরাপত্তা, ডিজিটাল নেটওয়ার্কের অদৃশ্য সীমানা রক্ষায় জোর বিমান বাহিনী প্রধানের
কালের আলো রিপোর্ট:
প্রযুক্তির মহাসড়কে অগ্রসরমান বিশ্বে সাইবার নিরাপত্তা এক অনিবার্য বাস্তবতা। বাংলাদেশও বর্তমানে এক রূপান্তরের পথে হাঁটছে। সাইবার নিরাপত্তা আদতে জাতীয় নিরাপত্তা হওয়ায় বর্তমান বাস্তবতায় এটিই সবচেয়ে বড় এক চ্যালেঞ্জ। সাইবার নিরাপত্তার বর্মে সুরক্ষিত দেশ কাক্সিক্ষত সবার। ডিজিটাল তথ্য ও নেটওয়ার্ক ব্যবস্থাকে সুরক্ষিত রাখার মাধ্যমে ডিজিটাল সার্বভৌমত্বকে অক্ষুণ্ন রাখতে সমানতালে জোর দিতে হবে সাইবার নিরাপত্তায়। সচেতনতা, সতর্কতা এবং শৃঙ্খলা সাইবার জগতে নিরাপদ থাকার মূল চাবিকাঠি বলে মনে করেন বাংলাদেশ বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁনও।
তিনি বলেছেন, ‘আধুনিক যুদ্ধকৌশলের বিবর্তনের ফলে এয়ার স্পেস এবং সাইবার স্পেসকে আর আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই। যেভাবে আমরা আকাশ, স্থল ও সমুদ্রসীমায় আমাদের সীমানা রক্ষা করি, একইভাবে আমাদের ডিজিটাল নেটওয়ার্কের অদৃশ্য সীমানাও রক্ষা করতে হবে। সাইবার হুমকি যেকোনো সময়, যেকোনো স্থান থেকে তৈরি হতে পারে। এজন্য সচেতনতা, সতর্কতা এবং শৃঙ্খলা সাইবার জগতে নিরাপদ থাকার মূল চাবিকাঠি।’
মঙ্গলবার (০৭ অক্টোবর) ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে অবস্থিত বিমান বাহিনী সদর দপ্তরের মিলনায়তনে চলতি বছরের বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সাইবার নিরাপত্তা সচেতনতা মাস উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি প্রযুক্তি খাতে সাইবার নিরাপত্তার ঝুঁকি, নিরাপত্তা সংক্রান্ত সক্ষমতা ও হুমকি মোকাবিলার নানা দিক বিশ্লেষণ করে সাইবার নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর আলোকপাত করেন।

জানা যায়, সাইবার নিরাপত্তা সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে সচেতন করে তুলতে সাইবার নিরাপত্তা মাস শুরু হয়েছে। এই বছর সাইবার নিরাপত্তা সচেতনতা মাস এর মূল প্রতিপাদ্য-‘সাইবার সচেতনতা প্রত্যেকের দায়িত্বঃ প্রতিটি ক্লিকই গুরুত্বপূর্ণ’। সর্বস্তরে প্রযুক্তির ব্যবহারের এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীও।
সাইবার নিরাপত্তা জোরদারে সচেতনতা বাড়াতে তাঁরা গ্রহণ করেছে সময়োপযোগী কার্যকর পদক্ষেপ। মঙ্গলবার (০৭ অক্টোবর) সাইবার নিরাপত্তা সচেতনতা মাস উদ্বোধন করে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন সাইবার হুমকি মোকাবিলায় সাইবার ওয়ারফেয়ার ও ইনফরমেশন টেকনোলজি পরিদপ্তরের গৃহীত পদক্ষেপসমূহের প্রশংসা করেন। তিনি সতর্কতার সঙ্গে ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার ও সবাইকে সচেতন ও সতর্ক হওয়ার জন্য উৎসাহিত করেন।
সাইবার নিরাপত্তা একটি সম্মিলিত বিষয়, যা নিরবচ্ছিন্ন সতর্কতা ও সকলের দায়িত্ব পালনের মাধ্যমেই কেবল অর্জন করা সম্ভব বলেও দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন বিমান বাহিনী প্রধান। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে বিমান বাহিনীকে আকাশে এবং ডিজিটাল ডোমেইনে অপ্রতিরোধ্য হিসেবে গড়ে তোলারও প্রত্যয়ের কথাও উচ্চারিত হয় তাঁর কণ্ঠে।

আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, অনুষ্ঠানে বিমান বাহিনীর ঢাকাস্থ ঘাঁটি ও ইউনিটের নির্বাচিত কর্মকর্তা, বিমানসেনা, এমওডিসি এবং বেসামরিক সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। ঢাকার বাইরের ঘাঁটিসমূহের প্রতিনিধিরা ভিডিও টেলিকনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে যোগদান করেন। এছাড়াও মাসব্যাপী এই আয়োজনে বিমান বাহিনী ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা এবং বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের সাইবার সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
কালের আলো/এমএএএমকে


আপনার মতামত লিখুন
Array