খুঁজুন
                               
বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ৩ আষাঢ়, ১৪৩৩
           

‘সেফ এক্সিট’ আলোচনা ও বিতর্ক তুঙ্গে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৫, ১১:৪০ অপরাহ্ণ
‘সেফ এক্সিট’ আলোচনা ও বিতর্ক তুঙ্গে

কালের আলো রিপোর্ট:

দেশের রাজনীতিতে ‘সেফ এক্সিট’ বিতর্ক শুরু হয়েছে। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের দেওয়া বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সূত্রপাত হয়েছে এই বিতর্কের। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সাবেক তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘…অনেক উপদেষ্টা নিজেদের আখের গুছিয়েছেন, অথবা গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে বিট্রে (প্রতারণা) করেছেন। যখন সময় আসবে, তখন আমরা এদের নামও উন্মুক্ত করবো।’ যদিও নাহিদ কোন উপদেষ্টার নাম উচ্চারণ করেননি। তবে এরপর থেকেই ডালপালা মেলতে শুরু করে আলোচনা-সমালোচনা। আদতে কোন কোন উপদেষ্টার দিকে তীর ছুঁড়লেন এনসিপির এই শীর্ষ নেতা, এ নিয়ে শোরগোল পড়েছে রাজনীতির অন্দর-বাইরে। বিষয়টি নিয়ে ‘চুপ’ থাকতে পারেননি উপদেষ্টাদের অনেকেই। একের পর এক উপদেষ্টারা এই বক্তব্যের প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। তারা সাফ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁরা কোন এক্সিট খুঁজছেন না। বাকি জীবন তাঁরা দেশেই থাকবেন।

তবে ‘সেফ এক্সিট’ প্রশ্নে এনসিপি নিজেদের অবস্থান থেকে সরে আসেনি বা দুঃখিতও হয়নি। তবে এই একটি বক্তব্যে রীতিমতো তোলপাড় চলছে রাজনীতিতে। পর্দার আড়ালে কী কিছু ঘটতে যাচ্ছে, এ নিয়ে বিস্তর কানাঘুষা। মূলধারার গণমাধ্যমে নানা সংবাদ ও বিশ্লেষণ উঠে আসছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় এ নিয়ে বয়ানের কোন শেষ নেই। সঙ্গে গুজব ও গুঞ্জন তো আছেই। নাহিদের বক্তব্যের সমালোচনার রেশ কাটতে না কাটতেই আরও এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমেরও এই প্রসঙ্গে বক্তব্য যেন আরও এক কাঠি সরেস! সম্প্রতি নওগাঁয় এক সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেছেন, ‘কিছু উপদেষ্টার মাঝে আমরা এই আচরণ দেখতে পাচ্ছি যে, তারা এখন কোনোভাবে দায়সারা দায়িত্বটা পালন করে নির্বাচনের মধ্য দিয়ে এক্সিট নিতে পারলেই হলো। দেশে থাকুন আর দেশের বাইরে থাকুন। এই দায়সারা দায়িত্ব নেওয়ার জন্য অভ্যুত্থান-পরবর্তী একটা সরকার কাজ করতে পারে না।’

সারজিস আরও বলেন, ‘কোথায় সেফ এক্সিট নেবে? পৃথিবীতে সেফ এক্সিট নেওয়ার একটাই জায়গা, সেটা হচ্ছে মৃত্যু। এ ছাড়া কোনো সেফ এক্সিট নাই। আপনি পৃথিবীর যে প্রান্তেই যান, সেখানে বাংলাদেশের মানুষ আপনাকে ধরবে।’ সেফ এক্সিট ইস্যুতে নাহিদকে সমর্থন করে সারজিস বক্তব্য দিলেও তিনি খোলাসা করেননি কোন কোন উপদেষ্টা এটি খুঁজছেন।

প্রথম প্রতিবাদ পরিবেশ উপদেষ্টার, কথা বলতে শুরু করেছেন অন্য উপদেষ্টারাও
এনসিপির শীর্ষ নেতা নাহিদ ইসলাম দলটির দায়িত্ব নেওয়ার আগে উপদেষ্টা পরিষদে ছিলেন। তিনি সামলেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্ব। এখনও ছাত্র প্রতিনিধি হিসেবে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে রয়েছে মাহফুজ আলম ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূইয়া। নিজের এক সময়ের ‘কলিগ’দের নিয়ে নাহিদ যে সন্দেহের তীর ছুঁড়েছেন সেই প্রসঙ্গে প্রথম প্রতিবাদ বা নিজের অবস্থান খোলাসা করেন বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। সব সময় সোজা সাপ্টা কথায় বিশ্বাস করেন উপদেষ্টা। ইনিয়ে-বিনিয়ে কথা বলাটা তাঁর ধাঁচে নেই। পরিবেশ আন্দোলনে দেশের পথিকৃৎ এই সংগঠক ও লড়াকু নেতা বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে নানাভাবে হয়রানির মুখে পড়েছেন। ওই সময় গুম করা হয়েছিল তাঁর স্বামীকেও। কিন্তু ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান থেকে তিনি সরে আসেননি। তাই স্বভাবতই ‘সেফ এক্সিট’ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেছেন, ‘বাকি জীবনও বাংলাদেশেই কাটিয়ে যাব আপনাদের সাথে ইনশাআল্লাহ।’

গত বুধবার (৮ অক্টোবর) সচিবালয়ে পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, ‘আমি একদম কোনো এক্সিট খুঁজছি না। দেশেই ছিলাম, এর আগেও বহু ঝড়-ঝঞ্ঝা এসেছে, ওই সব ঝড়-ঝঞ্ঝা প্রতিহত করে দেশে থেকেছি। বাকি জীবনও বাংলাদেশেই কাটিয়ে যাব আপনাদের সাথে ইনশাআল্লাহ।’ তিনি আরও বলেন, ‘এ বিষয়ে আসলে তাকে (নাহিদ ইসলাম) তার বক্তব্যকে সাবস্টেন্সিয়েট (অভিযোগের সপক্ষে তথ্য উপস্থাপন) করতে হবে, তার বক্তব্য আমার সাবস্টেন্সিয়েট করার বিষয় নয়, আমার খণ্ডানোরও বিষয় নয়। তথ্য-প্রমাণ, উপাত্ত… মানে বক্তব্যটা স্পেসিফিক হলে হয়তো সরকারের পক্ষ থেকে কোনো কথা বলা হতো। এটা হয়তো তাদের ধারণা, তারা মনে করে তাদের বক্তব্য হিসেবে বলেছে। এখানে সরকারের অবস্থান নেওয়ার তো কোনো সুযোগ নেই। সরকারের বক্তব্য দেওয়ার কোনো কিছু নেই।’

সম্প্রতি ঢাকার একটি হোটেলে আইন উপদেষ্টা ড.আসিফ নজরুল বলেন, ‘এখন সেফ এক্সিট নিয়ে নানা কথাবার্তা হচ্ছে। আমরা উপদেষ্টারা খুব নিশ্চিতভাবে জানি যে, আমাদের কারও কোনো সেফ এক্সিটের প্রয়োজন নাই।’ ‘তবে, বাংলাদেশের জাতি হিসেবে আমাদের সেফ এক্সিটের প্রয়োজন আছে। কারণ একটা ভয়াবহ, অসুস্থ, আত্মবিধ্বংসী রাষ্ট্রকাঠামো থেকে আমাদের সেফ এক্সিট প্রয়োজন, এই জাতির।’

গত বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) এক ফেসবুক পোস্টে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান ‘সেফ এক্সিট’ প্রশ্নে আক্ষেপ করেছেন। সরকারের রেল ও বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় দক্ষতার সঙ্গে সামাল দেওয়া এ উপদেষ্টা ফেসবুক পোস্টে বলেছেন, ‘বিষয়টি উত্থাপনকারী, প্রাক্তন উপদেষ্টা ও বর্তমান এনসিপি নেতা নাহিদ ইসলাম আমার অত্যন্ত স্নেহভাজন ও জুলাই আন্দোলনের অগ্র-সেনা হিসেবে শ্রদ্ধার পাত্র। তাই তার বক্তব্যের ওপর আমার মন্তব্য করা শোভন নয়। তাছাড়া আমি রাজনৈতিক বিষয়ে কোনো মন্তব্য করি না। নিজের সীমিত সামর্থ্যের সবটুকু ব্যবহার করে জনগণের প্রতি দায়িত্ব পালন করছি। শিক্ষকতার সূত্রে, ইতোপূর্বে যুক্তরাষ্ট্র ও সিঙ্গাপুরের স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ার নিশ্চিত সুযোগ গ্রহণ করিনি। আজ ৭২+ বছর বয়সে আমাকে যদি সেফ এক্সিটের কথা ভাবতে হয় তা হবে গভীর দুঃখের বিষয়।’

গত শনিবার (১১ অক্টোবর) দুপুরে রাঙ্গামাটিতে এক ‘সম্প্রীতি সমাবেশ’ শেষে ধর্ম উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেন, ‘নির্বাচিত সরকারের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করে আমরা চলে যাব। সেফ এক্সিট বলতে আমি কিছু বুঝি না। আমার কোনো সেকেন্ড হোম নেই, এমনকি ঢাকাতেও নিজের বাড়ি নেই। বর্তমানে আমি সরকারি বাড়িতে এবং চট্টগ্রামে ভাড়া বাসায় থাকি। আমি এই দেশের মানুষ। এই দেশ আমার, এখানেই আমি থাকব।’ সর্বশেষ রোববার (১২ অক্টোবর) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, ‘আমার ছেলে-মেয়ে সবাই দেশে, আমি একা বিদেশে গিয়ে কী করব?’

‘সেফ এক্সিট’ বিতর্ক কি জুলাই সনদের ট্র্যাক থেকে মনোযোগ সরিয়ে দিচ্ছে’
‘সেফ এক্সিট’ ইস্যুটি জুলাই সনদ থেকে মনযোগ সরিয়ে দিচ্ছে কিনা, এমন প্রশ্ন তুলেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও উপস্থাপক জিল্লুর রহমান। তিনি বলেছেন, ‘এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের সেফ এক্সিট বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঝড় তুলেছে। নাম না বলায় অভিযোগ গুরুভার রাজনৈতিকভাবে টিকে আছে। আইনি অর্থে ঝুলে আছে। পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ান হাসান সরাসরি বলেছেন— এ ধরনের দাবি যিনি করেছেন, তাকেই প্রমাণ দিতে হবে তিনি নিজে কোনো এক্সিট খুঁজছেন না, বাংলাদেশেই থাকবেন। প্রায় একই রকমের কথা বলেছেন সমাজকল্যাণ উপদেষ্টা শারমিন মুরশিদও। উত্তরাঞ্চল এনসিপি সংগঠক সারজিস আলম আরো কড়া ভাষায় সেফ এক্সিট প্রসঙ্গ রাজনৈতিক মাঠে ছুড়ে দিয়েছেন। সরকারের দায়বদ্ধতার রাজনীতিতে এই কথাগুলো অবধারিতভাবে নতুন চাপ সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে যখন নির্বাচন ফেব্রুয়ারির ক্যালেন্ডারে ধরা। এখন প্রশ্ন—সেফ এক্সিট বিতর্ক কি জুলাই সনদের ট্র্যাক থেকে মনোযোগ সরিয়ে দিচ্ছে? বাস্তবে তাই।’

নিজের ইউনিউব চ্যানেলে দেওয়া এক ভিডিওতে এসব কথা বলেন জিল্লুর রহমান। তিনি বলেন, ‘ন্যায়, পুনর্মিলন ও সংস্কারের যে তিন কোণা রূপরেখা গত এক বছরে গড়ে উঠেছিল, তার কেন্দ্রে ছিল স্বচ্ছতা এবং অংশগ্রহণ। উপদেষ্টাদের নৈতিক অধিকার আসে রাজপথে রক্ত-ঘামে অর্জিত প্রত্যাশা রক্ষার দায় থেকে। এখানে কোনো পলিটিক্যাল ইনসাইডার খেলা চললে তা অবিশ্বাস তৈরি করবে। তাই দুইদিকেই সমান সতর্কতা দরকার। অভিযোগকারীকে তথ্য প্রমাণ হাজির করতে হবে। অভিযুক্তকে স্বচ্ছতা দেখাতে হবে। নইলে সেফ এক্সিট নিয়ে ন্যারেটিভ যেভাবে মেরুকরণ ঘটায়, তাতে গণভোটের প্রশ্নপত্রের ভাষাই নয়, ভোটারের আস্থা-সাম্য ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এই প্রেক্ষাপটে কমিশনের কাজ শুধু টেকনিক্যাল ডিজাইন নয়, বিশ্বাসের অবকাঠামো বানানো।’

জিল্লুর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশের রাজনৈতিক মঞ্চের নাটক আবারও জমে উঠতে শুরু করেছে। জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পথে এখন সবচেয়ে বড় অচল অবস্থা তৈরি হয়েছে গণভোটের সময় ও পদ্ধতি নিয়ে। একথা কেউ অস্বীকার করবেন না। জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের পাঁচ দফা সংলাপ শেষ হলো। কবে কিভাবে কোন আইনি রাস্তায় গণভোট হবে— এ নিয়ে দলগুলোর অনড় অবস্থান অটুট রয়ে গেল। বিএনপি বলছে— জাতীয় নির্বাচনের দিনেই গণভোট, যেন অর্থ-প্রশাসনিক ব্যয় কমে এবং ক্যালেন্ডার পেছায় না। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি চাইছে নির্বাচনের আগে, যাতে সনদের আইন স্পষ্ট হয়। সংসদের গঠন, ক্ষমতা, ও পরিধি নিয়ে ব্যর্থ না থাকে। কমিশন নিজেও ইঙ্গিত দিয়েছে বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে অধ্যাদেশ বা অর্ডিনেন্স জারি করে গণভোট আয়োজন— এটাই বাস্তবসম্মত পথ হতে পারে। এমনকি দ্বৈত ক্ষমতা প্রথম অধিবেশনে পরবর্তী সংসদের গাঠনিক কনস্টিটিউয়েন্ট ক্ষমতা নির্ধারণ নিয়েও ভাবনা চলছে।’

কালের আলো/এমএএইচ/এমকে

মেসির হ্যাটট্রিকে বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার উড়ন্ত সূচনা

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ৯:০২ পূর্বাহ্ণ
মেসির হ্যাটট্রিকে বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার উড়ন্ত সূচনা

কাতার বিশ্বকাপে দলকে শিরোপা জেতানো লিওনেল মেসি ২০২৬ বিশ্বকাপেও জ্বলে ওঠলেন আর্জেন্টিনার প্রথম ম্যাচেই। আলজেরিয়ার বিপক্ষে এ ম্যাচে হ্যাটট্রিকের দেখা পেয়েছেন তিনি। প্রথমার্ধে এক গোল করা এই কিংবদন্তি দ্বিতীয়ার্ধে করেছেন আরও ২টি। তিন গোল করে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি গোলের মালিক বনে যাওয়া মেসি গড়েছেন আরও বেশ কয়েকটি রেকর্ড। মেসির অসাধারণ সব রেকর্ডের ম্যাচে আলজেরিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের এবারের আসরে উড়ন্ত সূচনা করেছেন লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ১৬টি গোল করে এতদিন শীর্ষে ছিলেন জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসা। তবে আজ আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে সেই রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছেন মেসি। বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের মালিক এখন যৌথভাবে মেসি ও ক্লোসা। এই রেকর্ড গড়ার পথে মেসি ছাড়িয়ে গেছেন ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি রোনালদো নাজারিওকেও।

আর্জেন্টিনা ও লিওনেল মেসির জন্য স্বপ্নের মতো শুরু হতে পারত ম্যাচটি। খেলার মাত্র পাঁচ মিনিটেই বল জালে পাঠান মেসি। গ্যালারিতে উল্লাস শুরু হয়ে যায়। তবে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের সেই উল্লাস স্থায়ী হয়নি। কেননা সহকারী রেফারির পতাকা উঠলে সেই উদ্‌যাপন থেমে যায়। অফসাইডের জন্য মেসির সেই গোল বাতিল হয়।

তবে অফসাইডের ফাঁদে গোল বাতিল হয়ে ম্যাচের শুরুটা স্বপ্নের মত না হলেও শেষটা নিজের রঙেই রাঙিয়েছেন মেসি। আর্জেন্টিনার গোল বাতিলের পর জালের দেখা পেয়েছিল আলজেরিয়াও। তবে তাদের সেই গোলটিও অফসাইডের কারণে বাতিল হয়। এদিকে শুরুতেই দু গোল বাতিল হওয়ার পর প্রথমে লিড পায় আর্জেন্টিনাই।

মিডফিল্ড থেকে রদ্রিগো দি পল বল বাড়িয়ে দেন মেসির কাছে। বল পেয়ে তিনি পরিচিত ভঙ্গিতে এগিয়ে যান এবং প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে নেন জোরালো শট। আলজেরিয়ার গোলরক্ষক লুকা জিদান দুই হাত লাগাতে পারলেও সেই দুর্দান্ত শট ঠেকাতে পারেননি। বল জালে জড়িয়ে গেলে এগিয়ে যায় বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।

নিজের ২০০তম ম্যাচ খেলতে নেমেই মেসি স্বভাবসুলভ পায়ের জাদু দেখালেন। এদিকে মেসির গোলে লিড নেওয়ার পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় আর্জেন্টিনা। বিরতির আগ পর্যন্ত বেশ কয়েকবার চেষ্টা করলেও আর গোলের দেখা পায়নি লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা। ম্যাচের ৪২ মিনিটে থিয়াগো আলমাদার নেওয়া শট ক্রসবারের উপর দিয়ে যায়।

এদিকে গোল হজম করে আলজেরিয়াও ম্যাচে ফিরতে মরিয়ে হয়ে লড়েছে। তবে তাদের কোনো প্রচেষ্টাই সফল হয়নি। ইতিরিক্ত সময়ের শেষদিকে আলজেরিয়ার প্রচেষ্টা ঠেকিয়ে দেন মার্তিনেজ। শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনা বিরতিতে যায় ১-০ গোলের লিড নিয়ে।

বিরতির পর আর্জেন্টিনা খেলা শুরু করে একাদশে এক পরিবর্তন নিয়ে। গঞ্জালো মান্তিয়েলের জায়গায় মাঠে নামেন নাহুয়েল মলিনা। ম্যাচের ৫১ মিনিটে গোল করার প্রচেষ্টা নিয়েছিলেন মেসি। তবে ডি বক্সের বাইরে থেকে তাঁর নেওয়া শটটি ক্রসবারের উপর দিয়ে যায়। এরপর ৫৫ মিনিটে লাওতারো মার্তিনেজের শট দারুণভাবে ঠেকিয়ে দিলেন আলজেরিয়ার গোলরক্ষক লুকা জিদান। তবে গোলের জন্য আর্জেন্টিনার অপেক্ষা বেশি হয়নি।

৫৫ মিনিটে দলে আরও দুই পরিবর্তন আনেন স্কালোনি। লাওতারো মার্তিনেজের বদলে মাঠে নামেন হুলিয়ান আলভারেজ। একই সময়ে থিয়াগো আলমাদার বদলে মাঠে নামেন নিকোলাস গঞ্জালেস। আর ৬০ মিনিটের মাথায় গোলের দেখা পান মেসি। এবার গোলপোস্টের খুব কাছ থেকে জালের ঠিকানা খুঁজে নেন তিনি। অ্যালেক্সিস ম্যাক আলিস্টারের বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া শট নিয়ন্ত্রণে নিতে ব্যর্থ হন আলজেরিয়ার গোলরক্ষক। ফিরতি শটে গোল করে বল জালে জড়ান মেসি।

এটি বিশ্বকাপে মেসির ১৫তম গোল। এই গোলে মেসি ছুঁয়ে ফেললেন ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি রোনালদো নাজারিওকে (১৫)। এরপর তাঁর সামনে ছিলেন শুধুই ক্লোসা। পরবর্তীতে ম্যাচের ৭৬ মিনিটেই নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন মেসি। বিশ্বকাপে নিজের প্রথম হ্যাটট্রিকেই ক্লোসাকেও ছুঁয়ে ফেলেন জীবন্ত এই কিংবদন্তি। হ্যাটট্রিকের পরপর ৮০ মিনিটে মাঠ ছাড়েন মেসি। মাঠ ছাড়ার সময় মেসিকে দেয়া হলো ‘স্ট্যান্ডিং অভেশন।’

মেসিময় এই ম্যাচের বাকি সময়টা প্রতিরোধ গড়েই কাটাতে হয়েছে আলজেরিয়াকে। আলবিসেলেস্তেরা এরপর আরও কয়েকবার আক্রমণে গেলেও তা সফল হয়নি। শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল না হওয়ায় মেসির হ্যাটট্রিকে ৩-০ গোলের জয়ে বিশ্বকাপে উড়ন্ত সূচনা করে আর্জেন্টিনা।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

আমি না থাকলে ইসরায়েলের অস্তিত্ব থাকত না: ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ৮:৫৪ পূর্বাহ্ণ
আমি না থাকলে ইসরায়েলের অস্তিত্ব থাকত না: ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তার সমর্থন ছাড়া ইসরায়েলের অস্তিত্ব টিকে থাকত না। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে মতপার্থক্য বাড়তে থাকার মধ্যেই তিনি এ মন্তব্য করেছেন।

জি–৭ সম্মেলনের ফাঁকে কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির উপস্থিতিতে দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া ইসরায়েলের অস্তিত্ব থাকত না। আমি না থাকলেও ইসরায়েল টিকে থাকত না। কারণ আমি যা করেছি, তা করার সাহস বা ইচ্ছা অন্য কোনো প্রেসিডেন্টের ছিল না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি জড়িত না হলে ইসরায়েল অনেক আগেই ধ্বংস হয়ে যেত।’

সম্প্রতি লেবাননে ইসরায়েলের হামলা এবং ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তি নিয়ে আলোচনা প্রসঙ্গে ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন। তার মতে, বৈরুতে ইসরাইলের সামরিক অভিযান মধ্যপ্রাচ্যে কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

ট্রাম্প জানান, নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার সম্পর্ক এখনো ভালো। তবে লেবানন ইস্যুতে তিনি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীকে আরও সংযমী হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

ট্রাম্প বলেন, ‘বিবির (নেতানিয়াহু) সঙ্গে আমার সম্পর্ক চমৎকার। কিন্তু এখন লেবাননের বিষয়ে তাকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে।’

লেবাননের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, ‘একসময় লেবানন ছিল একটি মহান দেশ। সেখানে অসংখ্য অধ্যাপক, চিকিৎসক ও আইনজীবী ছিলেন। অনেক মেধাবী মানুষ লেবাননে বাস করতেন। কিন্তু এখন দেশটির অবস্থা খুবই খারাপ।’

মার্কিন সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য একটি চুক্তির আগে বৈরুতে ইসরায়েলের হামলায় ট্রাম্প অসন্তুষ্ট হয়েছেন। অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, হামলার বিষয়টি জানতে পেরে তিনি বিস্মিত হন। কারণ এর আগে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো একে অপরকে আক্রমণ না করার বিষয়ে সম্মত হয়েছিল।

ট্রাম্প বলেন, ‘এটি খুবই খারাপ ছিল। আমি বিশ্বাসই করতে পারিনি। আমাদের চুক্তি স্বাক্ষরের মাত্র এক ঘণ্টা আগে এটি ঘটেছে।’

নেতানিয়াহুর সিদ্ধান্তেরও সমালোচনা করেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, ‘বিবিকে কেন এই জঘন্য হামলাটি করতে হলো? আমি খুবই ক্ষুব্ধ হয়েছিলাম এবং তাকে তা জানিয়েছি।’

অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেকোনো চুক্তির অন্যতম শর্ত হবে লেবাননের যেসব এলাকা চলমান সংঘাতের সময় ইসরায়েল দখল করেছে, সেখান থেকে সেনা প্রত্যাহার।

আরাঘচির ভাষ্য, ‘যুদ্ধ চলাকালে দখল করা অঞ্চলগুলো থেকে ইসরায়েলি বাহিনী সরে না যাওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ পুরোপুরি শেষ হয়েছে বলা যাবে না।’

তবে একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আলোচনায় থাকা সম্ভাব্য চুক্তিতে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের কোনো শর্ত নেই। এদিকে নেতানিয়াহুও বলেছেন, প্রয়োজন হলে ইসরাইল দীর্ঘ সময় লেবাননে অবস্থান করবে।

সূত্র: এনডিটিভি

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

জোড়া গোলে দুটি রেকর্ড ভাঙলেন এমবাপে, পেছনে পড়লেন মেসি

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ৩:২৬ পূর্বাহ্ণ
জোড়া গোলে দুটি রেকর্ড ভাঙলেন এমবাপে, পেছনে পড়লেন মেসি

পেনাল্টি না পাওয়ার ঠিক কয়েক মুহূর্ত পরই ফ্রান্সকে এগিয়ে নিলেন কিলিয়ান এমবাপে। তাতে ফ্রান্সের শীর্ষ গোলদাতা হিসেবে অলিভার জিরুদের পাশে বসেন তিনি। ওখানেই শেষ নয়। দ্বিতীয়ার্ধের ইনজুরি টাইমে আরেকটি গোল। তাতে এককভাবে ফ্রান্সের সর্বোচ্চ গোলদাতাও হয়ে গেলেন রিয়াল মাদ্রিদ তারকা।

এছাড়া বিশ্বকাপে নিজের ১৪তম গোলটি করে সাবেক ফরাসি লিজেন্ড জাস্ট ফন্টেইন ও আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিওনেল মেসিকেও ছাড়িয়ে গেলেন তারকা স্ট্রাইকার। বলাবাহুল্য, বিশ্বমঞ্চে ফ্রান্সের সর্বোচ্চ গোলদাতাও তিনি।

আর তিনটি গোল করলে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতা হবেন তিনি। ১৬ গোল করে জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসা সবার উপরে। বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি গোল করার তালিকায় এমবাপে যৌথভাবে তিন নম্বরে। ১৪ গোল করে গার্ড মুলারের পাশে তিনি।

ডি-বক্সের বাইরে থেকে মাইকেল অলিসের এক দারুণ অ্যাসিস্ট সেনেগালের রক্ষণব্যুহকে ভেঙে দেয়। আর ছয় গজ বক্সের প্রান্ত থেকে ডান পায়ের নিখুঁত শটে এদুয়ার মেন্দির পাশ দিয়ে বল জালে জড়ান এমবাপে।

ফ্রান্সের জার্সিতে এটি ছিল তার ৫৭তম গোল। তারপর বক্সের বাইরে থেকে ডান পায়ের জাদুকরী শটে দ্বিতীয় গোল করেন তিনি

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি