খুঁজুন
                               
, ,
           

শাহজালালে অগ্নিকাণ্ডের ময়না তদন্ত, কার স্বার্থে বিমান বাহিনী ও এপিবিএনকে মুখোমুখি করার অপচেষ্টা?

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৫, ১১:২১ অপরাহ্ণ
শাহজালালে অগ্নিকাণ্ডের ময়না তদন্ত, কার স্বার্থে বিমান বাহিনী ও এপিবিএনকে মুখোমুখি করার অপচেষ্টা?

কালের আলো রিপোর্ট:

রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে সংঘটিত ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড নিয়ে অপতথ্যের তাণ্ডব থামছে না। দেশের প্রধান এই বিমানবন্দরে প্রায় ২৬ ঘণ্টা ধরে জ্বলা এই আগুনকে ঘিরে গুজব ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করা হচ্ছে। অগ্নিকাণ্ডের মাত্র ৩০ সেকেণ্ডের মধ্যে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) নিজস্ব ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। সঙ্গে সঙ্গে যোগ দেয় বাংলাদেশ বিমান বাহিনী, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর এবং বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ফায়ার ফাইটিং ইউনিটসমূহ। সব মিলিয়ে প্রায় ৪০টির ওপর ফায়ার ফাইটিং দল নির্বিঘ্নে কাজ চালিয়ে যাওয়ার পর বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজ কমপ্লেক্স ভবনের আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এমনকি ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডের পরও বিমানবন্দরের কার্গো অপারেশন এক দিনের জন্যও বন্ধ রাখা হয়নি। ৯ নম্বর গেট দিয়ে সচল রয়েছে কার্যক্রম। প্রায় ৭ ঘণ্টার মধ্যেই শুরু হয় উড়োজাহাজ উঠানামার কার্যক্রমও। অথচ বিমানবন্দরে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ঢুকতে দেওয়া হয়নি, এভিয়েশন সিকিউরিটি (এভসেক) পরিচালককে অনুরোধ সত্ত্বেও তিনি অ্যাপ্রোণ এলাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এপিবিএন’র প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন, বিমান বাহিনী সেদিন নিষ্ক্রিয় ছিল এমন ইত্যাকার অসত্য ও কল্পিত কিচ্ছা-কাহিনী প্রচার করা হচ্ছে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, এর মাধ্যমে গুজববাজরা বিশৃঙ্খলা পাকানোর এক ট্রায়াল রান চালাচ্ছে অগ্নিকাণ্ড পরিস্থিতির বাঁক ঘুরিয়ে দিতে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের ডিজিও জানিয়েছেন, ফায়ার সার্ভিসের কোন গাড়ি প্রবেশে সেদিন বাধা প্রদান করা হয়নি।

প্রত্যক্ষদর্শী থেকে শুরু করে গণমাধ্যম কিংবা সোশ্যাল মিডিয়ায় ঠিকই ঘুরপাক খাচ্ছে জীবনবাজি রেখে বিমান বাহিনী, নৌবাহিনী, বেবিচক, এভসেক, ফায়ার সার্ভিস ও এপিবিএন থেকে শুরু করে অগ্নিকাণ্ড নির্বাপণে সবার সম্মিলিত প্রয়াসের নানান ভিডিও। বিমানবন্দরের বাইরে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে সেনাবাহিনী, বিজিবি, এপিবিএন, র‌্যাব ও আনসার সদস্যরা। তবুও নানা অসিলায় অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে ও নিরাপত্তা বাহিনীগুলোর ইমেজকে প্রশ্নবিদ্ধ করার মাধ্যমে সার্বভৌমত্বের স্তম্ভকে দুর্বল করার অপচেষ্টা আরও বাড়বাড়ন্ত হচ্ছে। নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির পাশাপাশি ফন্দি হাসিলে তৎপর চক্রটি নীতি-আদর্শের পাশাপাশি রুচি, শালীনতা বা সৌজন্যবোধকেও ধুলায় মিশিয়েছেন। কারও চামচায়ে উজির নাজির হতে মুসাবিদা করে অথবা কর্পোরেট বাটপারি হাসিলের মাধ্যমে দেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করে অস্থিরতা তৈরিতে ‘চিলে কান নিয়েছে’ প্রবাদ বাস্তবায়নেই কোমর বেঁধে নেমেছেন। চলমান অপকৌশলের ফাঁদে তথ্য আর অপতথ্যের ফারাকও ঠাহর করতে পারছেন না নেটিজেনদের অনেকেই। তবে সাধারণ মানুষের সচেতনতায় এসব অপচেষ্টা মার খাচ্ছে, পানি পাচ্ছে না হালে।

  • কল্পিত কিচ্ছা-কাহিনীর মাধ্যমে বিশৃঙ্খলা পাকানোর ট্রায়াল রান গুজববাজদের
  • কোন অবস্থাতেই যেন বিমানবন্দরের উত্তর ও দক্ষিণ পাশে আগুন ছড়াতে না পারে সেই বিষয়টিতেও ছিল বাড়তি নজর
  • অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে এক মুহুর্তও নিষ্ক্রিয় ছিল না বিমান বাহিনী
  • বিমান বাহিনীসহ বিভিন্ন বাহিনী ও সংস্থার ৪০টির বেশি ফায়ার ফাইটার দল ২৬ ঘণ্টা লড়াইয়ের পর সফল
  • ফ্যাসিস্ট সরকার নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্যই চিঠির মাধ্যমে শাহজালাল থেকে বিমান বাহিনীকে সরিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করেছিল
  • জুলাই অভ্যুত্থানের সময়েই বিমান বাহিনী প্রধানকে শাহজালালের দায়িত্ব অব্যাহত রাখতে অনুরোধ জানান মন্ত্রণালয়ের সচিব
  • বিমান বাহিনীকে টার্মিনাল ও এয়ার সাইড এবং এপিবিএনকে ল্যান্ড সাইটে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দুই মন্ত্রণালয়ের

স্বাভাবিকভাবেই হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে অগ্নিকাণ্ডে কঠিন সঙ্কটের মুখে পড়েছে দেশের রপ্তানি খাত। বড় ধাক্কা লেগেছে দেশের তৈরি পোশাক শিল্পের সরবরাহ শৃঙ্খলেও। আসন্ন বড়দিনের বিক্রির মৌসুমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি চালান ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পণ্য ডেলিভারিতে বিলম্বের পাশাপাশি অনেক অর্ডারও বাতিল হওয়ারও ঝুঁকি রয়েছে। এই অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন রপ্তানিকারকদের সংগঠন এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইএবি)। তবে কেউই অগ্নিকাণ্ডে দায়িত্বশীল কোন বাহিনীর গাফিলতি বা অবহেলার কোন রকম অভিযোগ করেননি। উল্টো আগুন নেভাতে প্রত্যেকের প্রাণপণ চেষ্টার প্রশংসা করেছেন সবাই। এককভাবে কাউকে ক্রেডিট না দিয়ে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগুন নেভানো সম্ভব হয় বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক। ভয়াবহ এই আগুনের সূত্রপাত ইমপোর্ট কুরিয়ার সেকশন থেকে হতে পারে বলেও ধারণা করছেন তিনি।

শাহজালালে আগুনের সঙ্গে ২৬ ঘণ্টার নিরন্তর লড়াই
শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে শনিবার (১৮ অক্টোবর) দুপুর ২টা ১৫ মিনিটের দিকে প্রথম ধোঁয়া উড়তে দেখেন বিমানবন্দরের এয়ার সাইডের কার্গো গেইট সিতে দায়িত্বরত এভসেকের একজন আনসার সদস্য। তিনি তাৎক্ষণিক এভসেক কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করেন। কালবিলম্ব না করে এভসেক সুপারভাইজার বেবিচকের নিজস্ব ফায়ার ব্রিগেডকে ফোন করেন। মাত্র ৩০ সেকেণ্ডের মধ্যেই ফায়ার ফাইটার দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। এরই মধ্যে বেবিচক চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে আসেন। এয়ারপোর্ট ডিউটি সিকিউরিটি অফিসার (ডিএসও) বেঙ্গল ফায়ার, উত্তরা ফায়ার, টঙ্গি ফায়ার ও কুর্মিটোলা ফায়ার স্টেশনকে অবহিত করে। একই সঙ্গে তিনি এপিবিএন, বাংলাদেশ আনসার ও পদ্মা অয়েলকেও অগ্নিকাণ্ডের বিষয়টি জানান। বেবিচকের নিজস্ব ফায়ার ফাইটিং দল অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে তৎপরতা শুরুর পর বিমান বাহিনী টাস্কফোর্স, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, এভসেক, র‌্যাব ও আনসার সবাই মিলে পুরো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করেন। টঙ্গি, কুর্মিটোলাসহ অন্যান্য এলাকা থেকে আসা ফায়ার ব্রিগেডসমূহ যেন দ্রুত সময়ের মধ্যে ভেতরে প্রবেশ করতে পারে সেই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। দক্ষিণ গেইটের অদূরে বিজিএমইএ’র বেশ কিছু কার্গো নিরাপদে সরিয়ে নিয়ে আসেন এভসেক, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও অন্যান্য এয়ার লাইন্সের সদস্যরা।

কোন অবস্থাতেই যেন বিমানবন্দরের উত্তর ও দক্ষিণ পাশে আগুন ছড়াতে না পারে সেই বিষয়টিতে বাড়তি জোর দেওয়া হয়। কারণ উত্তর পাশে বিমানের মেইনটেনেন্সের হ্যাঙ্গার ও দক্ষিণ পাশে মূল টার্মিনাল ভবন ছিল। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দীন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে নির্দেশনা প্রদান করেন। উপদেষ্টার গাইডলাইনে বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে পুরো বিষয়টি তদারকি করেন। কুর্মিটোলাস্থ বিমান বাহিনী ঘাঁটি এ কে খন্দকার থেকে বিমান বাহিনীর ৫টি ও তেজগাঁওস্থ বিমান বাহিনী ঘাঁটি বাশার থেকে আরও ৩টি ইউনিট ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে যোগ দেয়। ফায়ার সার্ভিসের বিভিন্ন ইউনিটও অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে প্রাণপণ লড়াই শুরু করে। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কেপিআই এলাকা হওয়া সত্ত্বেও ফায়ার ইউনিটসমূহের সব গাড়িকে দ্রুত সময়ের মধ্যে ভেতরে প্রবেশ করানো হয়। পরে নৌবাহিনীর ফায়ার ফাইটার দলও এগিয়ে আসে। সেনাবাহিনী, বিজিবি, এপিবিএন, র‌্যাব ও পুলিশ বিমানবন্দরের বাইরের সড়কে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার পাশাপাশি ট্রাফিক ব্যবস্থায়ও শৃঙ্খলা নিয়ে আসে। বিভিন্ন বাহিনী ও সংস্থার ৪০টির বেশি ফায়ার ফাইটার দল প্রায় ২৬ ঘণ্টা আগুনের সঙ্গে নিরন্তর লড়াইয়ের পর সফল হয়। নিয়ন্ত্রণে আসে ইতিহাসের ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ড। তবে তাৎক্ষণিক ও সমন্বিত পদক্ষেপের ফলে কোন প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। বিমানবন্দরের ভেতরে থাকা যাত্রীদের নিরাপদ রাখতে কার্যকর ভূমিকা পালন করে এভসেক, বেবিচক ও বিমান বাহিনীর সদস্যরা।

মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) সকালে কুর্মিটোলায় বেবিচক সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক বলেছেন, ‘আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে ৩০ সেকেন্ডের ভেতর আমাদের নিজস্ব ফায়ার ফাইটাররা ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পাশাপাশি আমরা ঢাকা শহরের অন্যান্য ফায়ার স্টেশনগুলো থেকে সহযোগিতা চাওয়া শুরু করি। ২০ মিনিটের মধ্যে বিমান বাহিনীর দুটি ঘাঁটি থেকে চারটি আগুন নেভানোর গাড়ি আসে। পরে নৌবাহিনী থেকেও একটি আগুন নেভানোর গাড়ি পাঠানো হয়। সেনাবাহিনী বাইরে ক্রাউড কন্ট্রোলের দায়িত্ব পালন করেছে। পুলিশ বাহিনীও বাইরে অনেক সাপোর্ট দিয়েছে। সব মিলিয়ে ৪০টি বেশি ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি এই আগুন নির্বাপণে কাজ করে।’

কার স্বার্থে বিমান বাহিনী ও এপিবিএনকে মুখোমুখি করার অপচেষ্টা?
ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে গত ৫ আগস্টের দিনে বাংলাদেশ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে অরক্ষিত রেখে নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থে পালিয়ে যায়। কয়েক ঘণ্টা উড়োজাহাজ উঠা-নামা বন্ধ থাকে। সঙ্কটময় পরিস্থিতিতে বেবিচকের অনুরোধে বিমান বাহিনী শাহজালালের নিরাপত্তা ও অপারেশন কার্যক্রম সচলে দায়িত্ব পালন করে আসছে। আগে বিমানবন্দরটিতে নানাভাবে হেনস্থার শিকার হতে হয়েছে যাত্রীদের। এখন বেবিচক ও বিমান বাহিনীর সমন্বিত পদক্ষেপের ফলে সেখানে যাত্রীসেবার আমূল পরিবর্তন এসেছে। লাগেজ কাটা ও চুরি নিয়ে যাত্রীদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ আর শোনা যায় না। প্রায় ৮৮ শতাংশ যাত্রীর কাছে ১৫ মিনিট থেকে ৬০ মিনিটের মধ্যে লাগেজ ডেলিভারি নিশ্চিত হয়েছে। লাগেজ বহনের সুবিধার্থে বিমানবন্দরে নতুন সংযোজনের পর ট্রলির সংখ্যা বেড়ে ৩ হাজার ৬০০টিতে দাঁড়িয়েছে। ক্যানোপি থেকে বের হয়ে বহুতল পার্কিং ও রাস্তার পর্যন্ত প্রত্যেক যাত্রীর জন্য ট্রলিতে করে লাগেজ নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। গত বছর বিমানবন্দরে ওয়েটিং লাউঞ্জের উদ্বোধন করেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। যাত্রীসেবার যখন অক্ষুণ্ন রাখতে বেবিচক তৎপর ঠিক তখনই পুনরায় বিমান বাহিনীর সঙ্গে এপিবিএনকে মুখোমুখি করার অপচেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার চায় না বিমানবন্দরটি গত স্বৈরাচার সরকারের সময়কার চেহারায় ফিরে যাক। ইতোমধ্যেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সব রকমের রেষারেষি বন্ধে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীকে টার্মিনাল এবং এয়ার সাইড ও এপিবিএনকে ল্যান্ড সাইটে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়েছে। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ও একই রকম নির্দেশনা দিয়েছে। কিন্তু বিভিন্ন সময়েই শাহজালাল থেকে বিমান বাহিনীর সদস্যদের সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে গুজবের ঢোল বাজানো হয়।

সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, ২০১৬ সালে সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাংলাদেশ বিমান বাহিনী, বাংলাদেশ পুলিশ, বাংলাদেশ আনসার এবং বেবিচকের নিরাপত্তা কর্মীদের সমন্বয়ে এভসেক গঠন করা হয়। পরবর্তীতে ফ্যাসিস্ট সরকার নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্যই ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে বিমানবন্দরটি থেকে বিমান বাহিনীকে সরিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করেছিল। ওই বছরের ২০ জুন পতিত সরকারের ইস্যুকৃত একটি চিঠির মাধ্যমে এই অপতৎপরতা শুরু হয়। এখনও ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়কার সেই চিঠিকেই নিজেদের অনৈতিক মতলব হাসিলের উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে মহলবিশেষ। পরবর্তীতে গত বছরের জুলাইয়ে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি হলে স্বয়ং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁনকে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব হযরত শাহজালালের মতো স্পর্শকাতর স্থাপনার নিরাপত্তা, অপারেশনাল কার্যক্রম সচলসহ সার্বিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীকে মোতায়েনের অনুরোধ জানায়। এরই মধ্যে গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে স্বৈরাচার সরকারের পতন হলে এপিবিএন বিমানবন্দরটি অরক্ষিত রেখে চলে যাওয়ার মধ্যে দিয়ে নিজেদের চরম কাণ্ডজ্ঞানহীনতার পরিচয় দিলে মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর আরও একটি দল এসে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অপারেশন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। ফলে অনেক আগেই পতিত সরকারের সেই চিঠি কার্যকারিতা হারায় এবং বিমান বাহিনী শাহজালালের দায়িত্বে বহাল থাকে বলে জানিয়েছে দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র।

  • ‘আমি তদন্ত করে দেখেছি, ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালকের সঙ্গে কথা বলে দেখেছি, কিন্তু কেউ বলেনি ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ভেতরে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়েছে’
    এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক
    চেয়ারম্যান
    বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)

শাহজালালে সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ড নিয়ে অতিকথনের মাধ্যমে নির্বাচন ভণ্ডুলের অপচেষ্টা চলছে কীনা এই বিষয়টিও খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা। এ ঘটনায় বিমান বাহিনী, এভসেক ও বেবিচককে নিয়ে নানা মনগড়া কথা ছড়ানো হচ্ছে। গণতন্ত্র উত্তরণে নির্বাচনী ট্রেন থামাতে ভজঘট পাঁকানোর ফন্দি-ফিকির চলছে। এর মাধ্যমে একটি স্বার্থান্বেষী মহল বিমান বাহিনী ও এপিবিএনকে মুখোমুখি দাঁড় করানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে। বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি করার অপপ্রয়াস নিয়েছে। বিশেষ করে সরকারের নির্দেশে বিমান বাহিনী দেশের প্রধান এই বিমানবন্দরের নিরাপত্তায় বহাল থাকায় ওই চক্রটির মাথায় বাজ পড়েছে। অথচ গত বছরের ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানের দিনে এপিবিএন যখন শাহজালাল থেকে স্বেচ্ছায় সটকে পড়ে তখন তাঁরা নিজেদের নিরাপত্তার জন্য বিমান বাহিনীরই দ্বারস্থ হয়েছিল। ওই সময় এপিবিএন সদস্যরা বিমান বাহিনী ঘাঁটি এ কে খন্দকারস্থ শাহীন কলেজ কুর্মিটোলায় আশ্রয় নিয়েছিল। বিমান বাহিনী এপিবিএন’র সদস্যদের খাবার, চিকিৎসাসহ সব রকমের বন্দোবস্ত করে। এরপরেও বাহিনী দু’টির মধ্যে তৃতীয় শক্তি প্রবেশ করে আকথা-কুকথা ছড়িয়ে দিচ্ছে। নিজস্ব ন্যারেটিভ দাঁড় করিয়ে দোষারোপের নোংরা মহোৎসব অব্যাহত রেখেছে।

অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে এক মুহুর্তও নিষ্ক্রিয় ছিল না বিমান বাহিনী
শাহাজালালে অগ্নিকাণ্ডে বিমান বাহিনী হাতগুটিয়ে বা নিষ্ক্রিয় ছিল না এক মুহুর্তও। সঠিক সময়ে বাহিনীটির সদস্যরা সবাইকে সঙ্গে নিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অগ্নি নির্বাপণে জোরদার লড়াই শুরুর ফসলই ছিল মাত্র ৭ ঘণ্টার মধ্যেই উড়োজাহাজ উঠানামার কর্মযজ্ঞ শুরুর মাধ্যমে শাহজালাল সচল হওয়া। ওইদিন বিমান বাহিনীর ৮টি ফায়ার ফাইটিং ইউনিটের পাশাপাশি আরও অতিরিক্ত ১১০ জন সদস্যকে নিয়োজিত করা হয়েছিল ফায়ার ফাইটিংয়ে সার্বিক সহযোগিতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারে। অথচ নিজের পছন্দ না হলেই অন্যকে নি:শেষ করে দেওয়ার ঘৃণ্য প্রতিযোগিতা থেকে বেরিয়ে আসতে পারছে না মহলবিশেষ। বিশ্লেষকরা মনে করেন, সবাইকে স্মরণে রাখতে হবে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী এদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের অতন্দ্র প্রহরী। কোন অবস্থাতেই সার্বভৌমত্বের এই স্তম্ভকে দুর্বল করা যাবে না। অযাচিত ও অপ্রাসঙ্গিকভাবে তাদের ঘৃণ্য কায়দায় ঘায়েল করতে চাইলে আখেরে বহি:শত্রুরাই লাভবান হবে। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানেও এই বিমান বাহিনী সেনা ও নৌবাহিনীর পাশাপাশি ছাত্র-জনতার পাশে এসে দাঁড়িয়ে চূড়ান্ত বিজয় নিশ্চিত করেছে। অতীতেও যখনই রাষ্ট্র দুর্বল হয়েছে, তখন সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনীর পাশাপাশি বিমান বাহিনীও পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলা ও বলের মাধ্যমে দেশের পথচলাকে মসৃণ ও নিরবচ্ছিন্ন করেছে।

আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইকাও) প্রোটোকল মেনেই হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সব কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে বলে জানিয়েছেন বেবিচক চেয়ারম্যান। তিনি বলেছেন, বিমানবন্দরে সপ্তাহে এক দিন ফায়ার ড্রিল (অগ্নিনির্বাপণ মহড়া) করা হয়। এমনকি আগুন লাগার পরও আইসিএওর সব নিয়ম মেনে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিককে সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করা হয় বেবিচকের অনুমতি না পাওয়ায় ফায়ার সার্ভিস সদস্যদের কাজ করতে দেরি হয়েছে? এমন প্রশ্নের উত্তরে বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমি তদন্ত করে দেখেছি, ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালকের সঙ্গে কথা বলে দেখেছি, কিন্তু কেউ বলেনি ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ভেতরে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়েছে। তারপর কোনো কর্তৃপক্ষ যদি এ অভিযোগ করে, তাহলে আমি সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেবো। এ অভিযোগ যারা করছেন, সেটা সত্যি নয়।’

ইমপোর্ট কার্গো সেকশনের সামনে খোলা আকাশের নিচে থাকা মালামালের কারণে ফায়ার সার্ভিস দ্রুত সময়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারেনি। এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা কোনো পক্ষকে দোষ দিতে যাবো না। ওই ভবনটি আমরা (বেবিচক)। কিন্তু ভবনের ভেতরে যে কার্যক্রমের দায়িত্ব বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, কাস্টমস, সিআন্ডএফ এজেন্ট ও কুরিয়ার এজেন্টদের। কার্গো সেকশনের সামনে এপ্রোনে যে মালামাল স্তূপ হয়ে থাকে সেটা ২১ দিনের মধ্যে ক্লিয়ার হয়ে যাওয়ার কথা। যদি এর মধ্যে ক্লিয়ার না হয়, তাহলে এ তিন কর্তৃপক্ষ মিলে সেগুলো ক্লিয়ার করে। মালপত্র জমে থাকার দায়-দায়িত্ব তাদের। এ মালপত্রগুলো না সরানোর কারণে ফায়ার সার্ভিস যেতে দেরি হয়েছে।’

ওয়াচ টাওয়ারে বিমান বাংলাদেশের নিয়োজিত নিরাপত্তা সদস্যরাই দায়িত্ব পালন করে
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো এলাকার নিরাপত্তা বিষয়ে নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। কিন্তু উপস্থাপিত তথ্য বাস্তবতার সঙ্গে সম্পুর্ণ সাংঘর্ষিক বলে জানিয়েছে বেবিচক’র একটি দায়িত্বশীল সূত্র। সূত্রটি জানায়, গত বছরের ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে বিমানবন্দরের এয়ারসাইড থেকে গোডাউনে প্রবেশের মুখে অবস্থিত ওয়াচ টাওয়ারে বিমান বাংলাদেশের নিয়োজিত নিরাপত্তা সদস্যরাই দায়িত্ব পালন করছেন। কার্গো এলাকাসমূহে এভসেক এবং বিমান বাংলাদেশ নিয়মিত ফুট পেট্রোল পরিচালনা করে। তাছাড়াও এপিবিএনের গোয়েন্দা কার্যক্রমেও কখনও কোন বাধা প্রদান করা হয়নি। কার্গো এলাকায় এভসেক এবং বিমান বাংলাদেশ এর নজরদারি, পেট্রোলিং, নিরাপত্তা সংক্রান্ত কার্যক্রমের কোন ধরণের ঘাটতি নেই। গত ১৮ অক্টোবর কার্গো এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এয়ার সাইডে এভসেক ও ল্যান্ড সাইডে এপিবিএন যৌথ সমন্বয়ের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করে। অন্যান্য সংশ্লিষ্ট বাহিনীর সহযোগিতায় তাঁরা পরিস্থিতি মোকাবিলা করে। এতে প্রমাণিত সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় আন্তঃসংস্থাগত সহযোগিতা বিদ্যমান এবং সেটি ফলপ্রসূভাবে কার্যকর। এ অবস্থায় কিছু ব্যক্তি বা মহল অসৎ উদ্দেশ্যে এপিবিএন ইস্যুকে সামনে এনে বেবিচক ও এপিবিএনের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি ও সম্পর্কের অবনতি ঘটানোর অপতৎপরতায় লিপ্ত রয়েছে। এই দুর্ঘটনা-পরবর্তী সংকটময় পরিস্থিতিতে এ ধরনের অপতথ্য একটি গোষ্ঠীর হীনমন্যতা এবং উসকানিমূলক প্রচেষ্টার প্রতিফলন। এটি বেবিচকের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করার একটি দুঃখজনক এবং অনাকাক্সিক্ষত প্রচেষ্টা। এ ব্যপারে সংশ্লিষ্ট সকলের সতর্ক থাকা উচিত।

কালের আলো/এমএসএএকে/এমএসআইপি

সরবরাহ সংকটে বিশ্ববাজারে খাদ্যের দাম বাড়ছে: এফএও

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৪৮ অপরাহ্ণ
সরবরাহ সংকটে বিশ্ববাজারে খাদ্যের দাম বাড়ছে: এফএও

বিশ্বজুড়ে খাদ্যপণ্যের দাম চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ। যুদ্ধ, চরম আবহাওয়া ও সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্নের কারণে খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও)।

শুক্রবার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে এফএওর খাদ্যমূল্য সূচক টানা তৃতীয় মাসের মতো বেড়ে ১৩৩ দশমিক ৩ পয়েন্টে পৌঁছেছে। ২০২২ সালের শেষ দিকের পর এটিই সূচকটির সর্বোচ্চ অবস্থান।

এফএও জানিয়েছে, শস্য, উদ্ভিজ্জ তেল, চিনি, মাংস ও দুগ্ধজাত পণ্য—সব প্রধান খাদ্যপণ্যের দামই আগস্টে বেড়েছে। এর মধ্যে চিনির দাম সবচেয়ে বেশি বেড়েছে, যা জুলাইয়ের তুলনায় প্রায় ১২ শতাংশ বেশি। গত এক বছরের মধ্যে চিনির দামও সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

খাদ্যশস্যের দাম দুই শতাংশের বেশি বেড়ে দুই বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে। কৃষ্ণসাগরে সামরিক হামলার কারণে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় রাশিয়া ও ইউক্রেন থেকে গম ও ভুট্টা রপ্তানিতেও প্রভাব পড়ছে।

এফএওর প্রধান অর্থনীতিবিদ ম্যাক্সিমো তোরেরো বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং পণ্য পরিবহন ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার ফলে খাদ্য সরবরাহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এদিকে সার সরবরাহ নিয়েও নতুন সংকট তৈরি হয়েছে। ইরানকে ঘিরে যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বাধার কারণে আন্তর্জাতিক সার বাণিজ্যে এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এর ফলে ভবিষ্যতে কৃষি উৎপাদন ও খাদ্য সরবরাহ আরও চাপে পড়তে পারে।

বিশ্ব উষ্ণায়ন ও এল নিনোর প্রভাবে পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে। ইউরোপে তীব্র তাপপ্রবাহে ফসলের উৎপাদন কমেছে। একই সঙ্গে এশিয়ায় খাদ্যশস্য উৎপাদনও ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি সতর্ক করে বলেছে, চরম আবহাওয়ার কারণে আগামী বছরের শেষ নাগাদ আরও প্রায় পাঁচ কোটি মানুষ তীব্র ক্ষুধার মুখে পড়তে পারে।

বিশ্ববাজারে পাইকারি খাদ্যপণ্যের দাম বাড়লে কয়েক মাসের মধ্যে এর প্রভাব সাধারণ ভোক্তার ওপরও পড়ে। ফলে খাদ্যমূল্যের এই ঊর্ধ্বগতি বিশ্বজুড়ে মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

খাদ্যগুদাম প্রকল্পে শুধু সময়ই বাড়ে

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৩৭ অপরাহ্ণ
খাদ্যগুদাম প্রকল্পে শুধু সময়ই বাড়ে

খাদ্যশস্য রাখার জায়গা বাড়াতে একের পর এক প্রকল্প। বরাদ্দ হচ্ছে হাজার কোটি টাকা। কিন্তু প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হচ্ছে, বাড়ছে ব্যয়, তবু বাড়ছে না কাঙ্ক্ষিত সংরক্ষণ সক্ষমতা। কোথাও তিন বছরেও কাজ এগিয়েছে মাত্র ২৫ শতাংশ, কোথাও এক যুগ পেরিয়েও শেষ হয়নি নির্মাণ। আবার রাজনৈতিক বিবেচনায় নেওয়া একটি প্রকল্পে মাটি খোঁড়ার পরই থেমে গেছে কাজ। পরে যৌক্তিকতা না পাওয়ায় সেটি অসমাপ্ত রেখেই সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। সরকারি খাদ্যগুদামের সক্ষমতা বাড়ানোর নামে নেওয়া চার প্রকল্পে মোট ৫ হাজার ৩৬৫ কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে। অথচ প্রকল্প বাস্তবায়নের ধীরগতি, দফায় দফায় সংশোধন, মেয়াদ বৃদ্ধি এবং কোথাও কোথাও স্থান পরিবর্তনের কারণে এসব বিনিয়োগের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। খাদ্য সংরক্ষণ সক্ষমতার ঘাটতি কাটাতে গিয়ে সরকারি অর্থের অপচয় কিংবা অনিয়মের সুযোগ তৈরি হচ্ছে কি না, সেই প্রশ্নও এখন সামনে। খাদ্য মন্ত্রণালয় ও খাদ্য অধিদপ্তরের তথ্য এবং পরিকল্পনা কমিশন ও বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) পর্যবেক্ষণে এসব চিত্র উঠে এসেছে।

তিন বছরেও এক-চতুর্থাংশ কাজ
২০২৩ সালের জুলাইয়ে ৮৫৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫৩ জেলায় নতুন খাদ্যগুদাম নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন করা হয়। ১৪৫টি স্থাপনায় মোট ১৯৫টি গুদাম নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রাথমিক ব্যয় ৮১৪ কোটি টাকা থাকলেও পরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৮৫৫ কোটি টাকা। শুধু ব্যয়ই বাড়েনি, বেড়েছে সময়ও। ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করার কথা থাকলেও প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়েছে। আইএমইডির হিসাবে, ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত প্রকল্পটির বাস্তব অগ্রগতি মাত্র ২৫ শতাংশ এবং আর্থিক অগ্রগতি ২১ দশমিক ১১ শতাংশ। এরই মধ্যে ব্যয় হয়েছে ১৭৮ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। আইএমইডির পর্যবেক্ষণে মাদারীপুরের কালকিনি ও বাগেরহাট প্যাকেজে ধীরগতি দেখা গেছে। গাছ ও পুরোনো অবকাঠামো সরাতেও সময় লেগেছে। শরীয়তপুরের আঙ্গারিয়া, চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল, দিনাজপুরের ফুলবাড়ী ও বিরল এবং মোংলা এলএসডিতে জায়গার সংকট রয়েছে। এ ছাড়া লে-আউট জটিলতা, প্রকল্পের স্থান পরিবর্তন, প্রশাসনিক অনুমোদন ও দরপত্র প্রক্রিয়াতেও বিলম্ব হয়েছে। প্রকল্প পরিচালক মো. সোহেলুর রহমান খান বলেন, সময়মতো পরিচালক নিয়োগ না হওয়া, নির্ধারিত স্থানে কাজ করতে না পারা, স্থান পরিবর্তন এবং রেট শিডিউলের কারণে ব্যয় কিছুটা বেড়েছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নতুন প্রকল্প পরিচালক টেন্ডারের উদ্যোগ নিলেও কাজ করা সম্ভব হয়নি। তবে বর্তমানে অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা তিনি দাবি করেন, আগের প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে প্রকল্পের কার্যক্রম এখন সন্তোষজনকভাবে এগোচ্ছে।

এক যুগেও শেষ হয়নি ৩ হাজার ৮৮৮ কোটি টাকার প্রকল্প
সরকারি খাদ্য সংরক্ষণ অবকাঠামোর সবচেয়ে বড় প্রকল্পগুলোর একটি শুরু হয়েছিল ২০১৪ সালে। ৩ হাজার ৮৮৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪ লাখ ৮৭ হাজার টন ধারণক্ষমতার সাতটি আধুনিক স্টিল সাইলো নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়। বরিশাল, নারায়ণগঞ্জ, আশুগঞ্জ, ময়মনসিংহ, খুলনার মহেশ্বরপাশা, চট্টগ্রাম ও মধুপুরে এসব সাইলো নির্মাণের কথা। প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের ঋণ রয়েছে ৩ হাজার ৮৪১ কোটি টাকা। চার দফা সংশোধনের পর মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়েও পুরো কাজ শেষ হয়নি। ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে ৩ হাজার ৬৯৯ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। অর্থাৎ মোট ব্যয়ের ৯৫ দশমিক ০৫ শতাংশই খরচ হয়ে গেছে। তারপরও বাকি কাজ শেষ করতে আবারও মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে পরিকল্পনা কমিশনে। প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন জানান, প্রকল্পের মূল কার্যালয় ঢাকার প্রবাসী কল্যাণ ভবনে। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিয়মিত বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না বলেও জানান তিনি।

রাজনৈতিক প্রকল্প, শেষ পর্যন্ত বাতিল
খাদ্য সংরক্ষণ অবকাঠামো নির্মাণে রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগও রয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে তৎকালীন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদারের নির্বাচনি এলাকা নওগাঁর মহাদেবপুরে ৩৬৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪৮ হাজার টন ধারণক্ষমতার চালের সাইলো নির্মাণের প্রকল্প নেওয়া হয়। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর প্রকল্পটি পর্যালোচনায় আসে। এরপর দেখা যায়, ভূমি অধিগ্রহণ ও মাটি খোঁড়া ছাড়া বাস্তবে আর কোনো কাজ এগোয়নি। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পটির বাস্তব অগ্রগতি ছিল শূন্য। প্রকল্প পরিচালক মোস্তাক আহমেদ জানান, নতুন ফিজিবিলিটি স্টাডিতে মহাদেবপুরে প্রকল্পটি নেওয়ার যৌক্তিকতা পাওয়া যায়নি। ফলে অসমাপ্ত অবস্থায় রেখেই প্রকল্পটি সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে—যে প্রকল্পের যৌক্তিকতাই শেষ পর্যন্ত পাওয়া গেল না, সেটির পেছনে প্রাথমিক পর্যায়ে ৩৬৭ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রয়োজন কেন হয়েছিল?

মেরামতের প্রকল্পেও ধীরগতি
ক্ষতিগ্রস্ত খাদ্যগুদাম ও আনুষঙ্গিক অবকাঠামো মেরামতে ২৫৫ কোটি টাকার প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে এটি শেষ করার কথা। লক্ষ্য ছিল সরকারি খাদ্য সংরক্ষণ সক্ষমতা বাড়ানো, খাদ্যশস্যের অপচয় কমানো, খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা। কিন্তু ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত প্রকল্পটির বাস্তব অগ্রগতি ৩২ শতাংশ হলেও আর্থিক অগ্রগতি মাত্র ৩ শতাংশ। প্রকল্প পরিচালক এ টি এম কাউছার হোসেন জানান, সময়মতো বাজেট বরাদ্দ না পাওয়ায় কাজ কাঙ্ক্ষিত গতিতে এগোয়নি। ঠিকাদারদের বিলও আটকে রয়েছে।

সরকারি গুদাম বনাম বেসরকারি সক্ষমতা
স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও সরকারি খাদ্য সংরক্ষণ সক্ষমতা প্রয়োজনের তুলনায় কম। সরকারি গুদামে বর্তমানে প্রায় ২২ থেকে ২৩ লাখ টন খাদ্যশস্য রাখা যায়। বিপরীতে বেসরকারি খাতের ধারণক্ষমতা প্রায় ১ কোটি টন। অর্থাৎ বিপুল সরকারি বিনিয়োগের পরও সংরক্ষণ সক্ষমতার বড় ঘাটতি রয়ে গেছে। বাংলাদেশ অ্যাগ্রোকেমিক্যাল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কৃষিবিদ কে এস এম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, শুধু সরকারি ব্যবস্থাপনায় গুদাম নির্মাণ টেকসই সমাধান নয়। সহজ শর্তে ঋণ, কর অবকাশ ও ভর্তুকির মাধ্যমে বেসরকারি খাতকে খাদ্য সংরক্ষণে যুক্ত করা যেতে পারে। তার মতে, প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বাড়তে থাকলে সরকারি অর্থ অপচয়ের পাশাপাশি অনিয়ম-দুর্নীতির আশঙ্কাও তৈরি হয়। তাই ব্যয় নির্ধারণ, দরপত্র, নির্মাণকাজের মান এবং অর্থ ব্যয়ে কঠোর নজরদারি জরুরি।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের নজরদারি কতটা?
খাদ্যশস্যের সরবরাহ ও মজুদ ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম কিংবা গাফিলতি পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা। সম্প্রতি মানিকগঞ্জে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, দুর্যোগ কিংবা জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় পর্যাপ্ত খাদ্য মজুদ রাখতে হবে। দায়িত্ব পালনে গাফিলতি পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে বাস্তবতা হলো, একদিকে খাদ্য সংরক্ষণ সক্ষমতা বাড়ানোর তাগিদ, অন্যদিকে সেই লক্ষ্যেই নেওয়া প্রকল্পের ধীরগতি। কোথাও ব্যয় বাড়ছে, কোথাও মেয়াদ; কোথাও আবার প্রকল্পের যৌক্তিকতাই প্রশ্নের মুখে। ৫ হাজার ৩৬৫ কোটি টাকার এই চার প্রকল্প তাই শুধু গুদাম নির্মাণের হিসাব নয়—এটি সরকারি প্রকল্প পরিকল্পনা, ব্যয় নিয়ন্ত্রণ ও জবাবদিহিরও পরীক্ষা। খাদ্য নিরাপত্তার মতো স্পর্শকাতর খাতে জনগণের অর্থ খরচ করে যদি সময়মতো গুদামই না হয়, তাহলে সেই বিনিয়োগের সুফল শেষ পর্যন্ত যাবে কোথায়—এ প্রশ্নের উত্তর এখন সংশ্লিষ্টদেরই দিতে হবে।

কালের আলো/এম/এএইচ

ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ: ত্রিশালকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন ঈশ্বরগঞ্জ

ময়মনসিংহ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:০৮ অপরাহ্ণ
ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ: ত্রিশালকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন ঈশ্বরগঞ্জ

ময়মনসিংহ থেকে ১৪ দলের দীর্ঘ লড়াই শেষে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের শিরোপা ঘরে তুলেছে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা দল। রোমাঞ্চকর ফাইনালে ত্রিশাল উপজেলা দলকে ২-১ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ঈশ্বরগঞ্জ।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় ময়মনসিংহ জেলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে শুরু থেকেই দুই দলের মধ্যে ছিল তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা। আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে জমে ওঠা ম্যাচে দর্শকদের করতালি ও সমর্থকদের উচ্ছ্বাসে স্টেডিয়াম হয়ে ওঠে উৎসবমুখর।
ঈশ্বরগঞ্জের হয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেন ১১ নম্বর জার্সিধারী রাব্বুল। তাঁর জোড়া গোলেই শিরোপা নিশ্চিত করে ঈশ্বরগঞ্জ। ত্রিশাল একটি গোল শোধ করলেও শেষ পর্যন্ত সমতায় ফিরতে পারেনি। ফলে ২-১ গোলের জয় নিয়ে গোল্ডকাপ নিজেদের করে নেয় ঈশ্বরগঞ্জ।
ফাইনালের আগে ও ম্যাচ চলাকালে ঈশ্বরগঞ্জ দলের খেলোয়াড়দের উৎসাহ দিতে মাঠে উপস্থিত ছিলেন ঈশ্বরগঞ্জ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু। তাঁর উপস্থিতি ও অনুপ্রেরণা খেলোয়াড়দের বাড়তি আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের স্বীকৃতি হিসেবে ফাইনালের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন ঈশ্বরগঞ্জের রাব্বুল। অন্যদিকে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা ও সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন ত্রিশালের ১০ নম্বর জার্সিধারী ফাহাদ। ফেয়ার প্লে ট্রফি পেয়েছে হালুয়াঘাট উপজেলা দল।
৭০ মিনিটের ফাইনাল দেখতে বিকেল থেকেই ময়মনসিংহ জেলা স্টেডিয়ামে ভিড় করেন ক্রীড়াপ্রেমীরা। ম্যাচ শুরুর পর কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায় গ্যালারি। দুই দলের সমর্থকদের স্লোগান, উল্লাস ও করতালিতে পুরো স্টেডিয়ামে সৃষ্টি হয় উৎসবের আমেজ।
ফাইনাল শেষে বিজয়ী ঈশ্বরগঞ্জ ও রানার্সআপ ত্রিশাল দলের হাতে ট্রফি তুলে দেওয়া হয়। দুই দলের মধ্যে মোট এক লাখ ৫০ হাজার টাকার পুরস্কারও বিতরণ করা হয়।
পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন। ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ-৭ (ত্রিশাল) আসনের সংসদ সদস্য ডা. মো. মাহাবুবুর রহমান এবং ঈশ্বরগঞ্জ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু।

এ সময় বিভিন্ন পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা, জেলা ক্রীড়া সংস্থার কর্মকর্তারা, খেলোয়াড়, কোচ, ম্যানেজার, ক্রীড়াপ্রেমী দর্শক ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
‘ক্রীড়া হলে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এবং জেলা ক্রীড়া সংস্থার সহযোগিতায় গত ২৫ আগস্ট শুরু হয় এবারের জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট।

ময়মনসিংহ সদর উপজেলাসহ জেলার ১৪টি দল এতে অংশ নেয়। দীর্ঘ প্রতিযোগিতার প্রতিটি ধাপ পেরিয়ে ফাইনালে ত্রিশালকে হারিয়ে শেষ হাসি হাসে ঈশ্বরগঞ্জ। রাব্বুলের জোড়া গোল ও দলের লড়াকু পারফরম্যান্সে গোল্ডকাপ এখন ঈশ্বরগঞ্জের ঘরে। শিরোপা জয়ের পথে খেলোয়াড়দের পাশে থেকে উৎসাহ-অনুপ্রেরণা জোগানো এমপি মাজেদ বাবুর ভূমিকাও প্রশংসা পেয়েছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি