খুঁজুন
                               
বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ৩ আষাঢ়, ১৪৩৩
           

শাহজালালে অগ্নিকাণ্ডের ময়না তদন্ত, কার স্বার্থে বিমান বাহিনী ও এপিবিএনকে মুখোমুখি করার অপচেষ্টা?

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৫, ১১:২১ অপরাহ্ণ
শাহজালালে অগ্নিকাণ্ডের ময়না তদন্ত, কার স্বার্থে বিমান বাহিনী ও এপিবিএনকে মুখোমুখি করার অপচেষ্টা?

কালের আলো রিপোর্ট:

রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে সংঘটিত ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড নিয়ে অপতথ্যের তাণ্ডব থামছে না। দেশের প্রধান এই বিমানবন্দরে প্রায় ২৬ ঘণ্টা ধরে জ্বলা এই আগুনকে ঘিরে গুজব ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করা হচ্ছে। অগ্নিকাণ্ডের মাত্র ৩০ সেকেণ্ডের মধ্যে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) নিজস্ব ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। সঙ্গে সঙ্গে যোগ দেয় বাংলাদেশ বিমান বাহিনী, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর এবং বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ফায়ার ফাইটিং ইউনিটসমূহ। সব মিলিয়ে প্রায় ৪০টির ওপর ফায়ার ফাইটিং দল নির্বিঘ্নে কাজ চালিয়ে যাওয়ার পর বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজ কমপ্লেক্স ভবনের আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এমনকি ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডের পরও বিমানবন্দরের কার্গো অপারেশন এক দিনের জন্যও বন্ধ রাখা হয়নি। ৯ নম্বর গেট দিয়ে সচল রয়েছে কার্যক্রম। প্রায় ৭ ঘণ্টার মধ্যেই শুরু হয় উড়োজাহাজ উঠানামার কার্যক্রমও। অথচ বিমানবন্দরে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ঢুকতে দেওয়া হয়নি, এভিয়েশন সিকিউরিটি (এভসেক) পরিচালককে অনুরোধ সত্ত্বেও তিনি অ্যাপ্রোণ এলাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এপিবিএন’র প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন, বিমান বাহিনী সেদিন নিষ্ক্রিয় ছিল এমন ইত্যাকার অসত্য ও কল্পিত কিচ্ছা-কাহিনী প্রচার করা হচ্ছে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, এর মাধ্যমে গুজববাজরা বিশৃঙ্খলা পাকানোর এক ট্রায়াল রান চালাচ্ছে অগ্নিকাণ্ড পরিস্থিতির বাঁক ঘুরিয়ে দিতে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের ডিজিও জানিয়েছেন, ফায়ার সার্ভিসের কোন গাড়ি প্রবেশে সেদিন বাধা প্রদান করা হয়নি।

প্রত্যক্ষদর্শী থেকে শুরু করে গণমাধ্যম কিংবা সোশ্যাল মিডিয়ায় ঠিকই ঘুরপাক খাচ্ছে জীবনবাজি রেখে বিমান বাহিনী, নৌবাহিনী, বেবিচক, এভসেক, ফায়ার সার্ভিস ও এপিবিএন থেকে শুরু করে অগ্নিকাণ্ড নির্বাপণে সবার সম্মিলিত প্রয়াসের নানান ভিডিও। বিমানবন্দরের বাইরে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে সেনাবাহিনী, বিজিবি, এপিবিএন, র‌্যাব ও আনসার সদস্যরা। তবুও নানা অসিলায় অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে ও নিরাপত্তা বাহিনীগুলোর ইমেজকে প্রশ্নবিদ্ধ করার মাধ্যমে সার্বভৌমত্বের স্তম্ভকে দুর্বল করার অপচেষ্টা আরও বাড়বাড়ন্ত হচ্ছে। নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির পাশাপাশি ফন্দি হাসিলে তৎপর চক্রটি নীতি-আদর্শের পাশাপাশি রুচি, শালীনতা বা সৌজন্যবোধকেও ধুলায় মিশিয়েছেন। কারও চামচায়ে উজির নাজির হতে মুসাবিদা করে অথবা কর্পোরেট বাটপারি হাসিলের মাধ্যমে দেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করে অস্থিরতা তৈরিতে ‘চিলে কান নিয়েছে’ প্রবাদ বাস্তবায়নেই কোমর বেঁধে নেমেছেন। চলমান অপকৌশলের ফাঁদে তথ্য আর অপতথ্যের ফারাকও ঠাহর করতে পারছেন না নেটিজেনদের অনেকেই। তবে সাধারণ মানুষের সচেতনতায় এসব অপচেষ্টা মার খাচ্ছে, পানি পাচ্ছে না হালে।

  • কল্পিত কিচ্ছা-কাহিনীর মাধ্যমে বিশৃঙ্খলা পাকানোর ট্রায়াল রান গুজববাজদের
  • কোন অবস্থাতেই যেন বিমানবন্দরের উত্তর ও দক্ষিণ পাশে আগুন ছড়াতে না পারে সেই বিষয়টিতেও ছিল বাড়তি নজর
  • অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে এক মুহুর্তও নিষ্ক্রিয় ছিল না বিমান বাহিনী
  • বিমান বাহিনীসহ বিভিন্ন বাহিনী ও সংস্থার ৪০টির বেশি ফায়ার ফাইটার দল ২৬ ঘণ্টা লড়াইয়ের পর সফল
  • ফ্যাসিস্ট সরকার নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্যই চিঠির মাধ্যমে শাহজালাল থেকে বিমান বাহিনীকে সরিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করেছিল
  • জুলাই অভ্যুত্থানের সময়েই বিমান বাহিনী প্রধানকে শাহজালালের দায়িত্ব অব্যাহত রাখতে অনুরোধ জানান মন্ত্রণালয়ের সচিব
  • বিমান বাহিনীকে টার্মিনাল ও এয়ার সাইড এবং এপিবিএনকে ল্যান্ড সাইটে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দুই মন্ত্রণালয়ের

স্বাভাবিকভাবেই হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে অগ্নিকাণ্ডে কঠিন সঙ্কটের মুখে পড়েছে দেশের রপ্তানি খাত। বড় ধাক্কা লেগেছে দেশের তৈরি পোশাক শিল্পের সরবরাহ শৃঙ্খলেও। আসন্ন বড়দিনের বিক্রির মৌসুমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি চালান ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পণ্য ডেলিভারিতে বিলম্বের পাশাপাশি অনেক অর্ডারও বাতিল হওয়ারও ঝুঁকি রয়েছে। এই অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন রপ্তানিকারকদের সংগঠন এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইএবি)। তবে কেউই অগ্নিকাণ্ডে দায়িত্বশীল কোন বাহিনীর গাফিলতি বা অবহেলার কোন রকম অভিযোগ করেননি। উল্টো আগুন নেভাতে প্রত্যেকের প্রাণপণ চেষ্টার প্রশংসা করেছেন সবাই। এককভাবে কাউকে ক্রেডিট না দিয়ে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগুন নেভানো সম্ভব হয় বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক। ভয়াবহ এই আগুনের সূত্রপাত ইমপোর্ট কুরিয়ার সেকশন থেকে হতে পারে বলেও ধারণা করছেন তিনি।

শাহজালালে আগুনের সঙ্গে ২৬ ঘণ্টার নিরন্তর লড়াই
শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে শনিবার (১৮ অক্টোবর) দুপুর ২টা ১৫ মিনিটের দিকে প্রথম ধোঁয়া উড়তে দেখেন বিমানবন্দরের এয়ার সাইডের কার্গো গেইট সিতে দায়িত্বরত এভসেকের একজন আনসার সদস্য। তিনি তাৎক্ষণিক এভসেক কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করেন। কালবিলম্ব না করে এভসেক সুপারভাইজার বেবিচকের নিজস্ব ফায়ার ব্রিগেডকে ফোন করেন। মাত্র ৩০ সেকেণ্ডের মধ্যেই ফায়ার ফাইটার দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। এরই মধ্যে বেবিচক চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে আসেন। এয়ারপোর্ট ডিউটি সিকিউরিটি অফিসার (ডিএসও) বেঙ্গল ফায়ার, উত্তরা ফায়ার, টঙ্গি ফায়ার ও কুর্মিটোলা ফায়ার স্টেশনকে অবহিত করে। একই সঙ্গে তিনি এপিবিএন, বাংলাদেশ আনসার ও পদ্মা অয়েলকেও অগ্নিকাণ্ডের বিষয়টি জানান। বেবিচকের নিজস্ব ফায়ার ফাইটিং দল অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে তৎপরতা শুরুর পর বিমান বাহিনী টাস্কফোর্স, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, এভসেক, র‌্যাব ও আনসার সবাই মিলে পুরো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করেন। টঙ্গি, কুর্মিটোলাসহ অন্যান্য এলাকা থেকে আসা ফায়ার ব্রিগেডসমূহ যেন দ্রুত সময়ের মধ্যে ভেতরে প্রবেশ করতে পারে সেই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। দক্ষিণ গেইটের অদূরে বিজিএমইএ’র বেশ কিছু কার্গো নিরাপদে সরিয়ে নিয়ে আসেন এভসেক, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও অন্যান্য এয়ার লাইন্সের সদস্যরা।

কোন অবস্থাতেই যেন বিমানবন্দরের উত্তর ও দক্ষিণ পাশে আগুন ছড়াতে না পারে সেই বিষয়টিতে বাড়তি জোর দেওয়া হয়। কারণ উত্তর পাশে বিমানের মেইনটেনেন্সের হ্যাঙ্গার ও দক্ষিণ পাশে মূল টার্মিনাল ভবন ছিল। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দীন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে নির্দেশনা প্রদান করেন। উপদেষ্টার গাইডলাইনে বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে পুরো বিষয়টি তদারকি করেন। কুর্মিটোলাস্থ বিমান বাহিনী ঘাঁটি এ কে খন্দকার থেকে বিমান বাহিনীর ৫টি ও তেজগাঁওস্থ বিমান বাহিনী ঘাঁটি বাশার থেকে আরও ৩টি ইউনিট ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে যোগ দেয়। ফায়ার সার্ভিসের বিভিন্ন ইউনিটও অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে প্রাণপণ লড়াই শুরু করে। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কেপিআই এলাকা হওয়া সত্ত্বেও ফায়ার ইউনিটসমূহের সব গাড়িকে দ্রুত সময়ের মধ্যে ভেতরে প্রবেশ করানো হয়। পরে নৌবাহিনীর ফায়ার ফাইটার দলও এগিয়ে আসে। সেনাবাহিনী, বিজিবি, এপিবিএন, র‌্যাব ও পুলিশ বিমানবন্দরের বাইরের সড়কে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার পাশাপাশি ট্রাফিক ব্যবস্থায়ও শৃঙ্খলা নিয়ে আসে। বিভিন্ন বাহিনী ও সংস্থার ৪০টির বেশি ফায়ার ফাইটার দল প্রায় ২৬ ঘণ্টা আগুনের সঙ্গে নিরন্তর লড়াইয়ের পর সফল হয়। নিয়ন্ত্রণে আসে ইতিহাসের ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ড। তবে তাৎক্ষণিক ও সমন্বিত পদক্ষেপের ফলে কোন প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। বিমানবন্দরের ভেতরে থাকা যাত্রীদের নিরাপদ রাখতে কার্যকর ভূমিকা পালন করে এভসেক, বেবিচক ও বিমান বাহিনীর সদস্যরা।

মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) সকালে কুর্মিটোলায় বেবিচক সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক বলেছেন, ‘আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে ৩০ সেকেন্ডের ভেতর আমাদের নিজস্ব ফায়ার ফাইটাররা ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পাশাপাশি আমরা ঢাকা শহরের অন্যান্য ফায়ার স্টেশনগুলো থেকে সহযোগিতা চাওয়া শুরু করি। ২০ মিনিটের মধ্যে বিমান বাহিনীর দুটি ঘাঁটি থেকে চারটি আগুন নেভানোর গাড়ি আসে। পরে নৌবাহিনী থেকেও একটি আগুন নেভানোর গাড়ি পাঠানো হয়। সেনাবাহিনী বাইরে ক্রাউড কন্ট্রোলের দায়িত্ব পালন করেছে। পুলিশ বাহিনীও বাইরে অনেক সাপোর্ট দিয়েছে। সব মিলিয়ে ৪০টি বেশি ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি এই আগুন নির্বাপণে কাজ করে।’

কার স্বার্থে বিমান বাহিনী ও এপিবিএনকে মুখোমুখি করার অপচেষ্টা?
ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে গত ৫ আগস্টের দিনে বাংলাদেশ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে অরক্ষিত রেখে নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থে পালিয়ে যায়। কয়েক ঘণ্টা উড়োজাহাজ উঠা-নামা বন্ধ থাকে। সঙ্কটময় পরিস্থিতিতে বেবিচকের অনুরোধে বিমান বাহিনী শাহজালালের নিরাপত্তা ও অপারেশন কার্যক্রম সচলে দায়িত্ব পালন করে আসছে। আগে বিমানবন্দরটিতে নানাভাবে হেনস্থার শিকার হতে হয়েছে যাত্রীদের। এখন বেবিচক ও বিমান বাহিনীর সমন্বিত পদক্ষেপের ফলে সেখানে যাত্রীসেবার আমূল পরিবর্তন এসেছে। লাগেজ কাটা ও চুরি নিয়ে যাত্রীদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ আর শোনা যায় না। প্রায় ৮৮ শতাংশ যাত্রীর কাছে ১৫ মিনিট থেকে ৬০ মিনিটের মধ্যে লাগেজ ডেলিভারি নিশ্চিত হয়েছে। লাগেজ বহনের সুবিধার্থে বিমানবন্দরে নতুন সংযোজনের পর ট্রলির সংখ্যা বেড়ে ৩ হাজার ৬০০টিতে দাঁড়িয়েছে। ক্যানোপি থেকে বের হয়ে বহুতল পার্কিং ও রাস্তার পর্যন্ত প্রত্যেক যাত্রীর জন্য ট্রলিতে করে লাগেজ নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। গত বছর বিমানবন্দরে ওয়েটিং লাউঞ্জের উদ্বোধন করেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। যাত্রীসেবার যখন অক্ষুণ্ন রাখতে বেবিচক তৎপর ঠিক তখনই পুনরায় বিমান বাহিনীর সঙ্গে এপিবিএনকে মুখোমুখি করার অপচেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার চায় না বিমানবন্দরটি গত স্বৈরাচার সরকারের সময়কার চেহারায় ফিরে যাক। ইতোমধ্যেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সব রকমের রেষারেষি বন্ধে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীকে টার্মিনাল এবং এয়ার সাইড ও এপিবিএনকে ল্যান্ড সাইটে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়েছে। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ও একই রকম নির্দেশনা দিয়েছে। কিন্তু বিভিন্ন সময়েই শাহজালাল থেকে বিমান বাহিনীর সদস্যদের সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে গুজবের ঢোল বাজানো হয়।

সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, ২০১৬ সালে সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাংলাদেশ বিমান বাহিনী, বাংলাদেশ পুলিশ, বাংলাদেশ আনসার এবং বেবিচকের নিরাপত্তা কর্মীদের সমন্বয়ে এভসেক গঠন করা হয়। পরবর্তীতে ফ্যাসিস্ট সরকার নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্যই ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে বিমানবন্দরটি থেকে বিমান বাহিনীকে সরিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করেছিল। ওই বছরের ২০ জুন পতিত সরকারের ইস্যুকৃত একটি চিঠির মাধ্যমে এই অপতৎপরতা শুরু হয়। এখনও ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়কার সেই চিঠিকেই নিজেদের অনৈতিক মতলব হাসিলের উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে মহলবিশেষ। পরবর্তীতে গত বছরের জুলাইয়ে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি হলে স্বয়ং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁনকে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব হযরত শাহজালালের মতো স্পর্শকাতর স্থাপনার নিরাপত্তা, অপারেশনাল কার্যক্রম সচলসহ সার্বিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীকে মোতায়েনের অনুরোধ জানায়। এরই মধ্যে গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে স্বৈরাচার সরকারের পতন হলে এপিবিএন বিমানবন্দরটি অরক্ষিত রেখে চলে যাওয়ার মধ্যে দিয়ে নিজেদের চরম কাণ্ডজ্ঞানহীনতার পরিচয় দিলে মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর আরও একটি দল এসে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অপারেশন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। ফলে অনেক আগেই পতিত সরকারের সেই চিঠি কার্যকারিতা হারায় এবং বিমান বাহিনী শাহজালালের দায়িত্বে বহাল থাকে বলে জানিয়েছে দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র।

  • ‘আমি তদন্ত করে দেখেছি, ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালকের সঙ্গে কথা বলে দেখেছি, কিন্তু কেউ বলেনি ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ভেতরে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়েছে’
    এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক
    চেয়ারম্যান
    বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)

শাহজালালে সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ড নিয়ে অতিকথনের মাধ্যমে নির্বাচন ভণ্ডুলের অপচেষ্টা চলছে কীনা এই বিষয়টিও খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা। এ ঘটনায় বিমান বাহিনী, এভসেক ও বেবিচককে নিয়ে নানা মনগড়া কথা ছড়ানো হচ্ছে। গণতন্ত্র উত্তরণে নির্বাচনী ট্রেন থামাতে ভজঘট পাঁকানোর ফন্দি-ফিকির চলছে। এর মাধ্যমে একটি স্বার্থান্বেষী মহল বিমান বাহিনী ও এপিবিএনকে মুখোমুখি দাঁড় করানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে। বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি করার অপপ্রয়াস নিয়েছে। বিশেষ করে সরকারের নির্দেশে বিমান বাহিনী দেশের প্রধান এই বিমানবন্দরের নিরাপত্তায় বহাল থাকায় ওই চক্রটির মাথায় বাজ পড়েছে। অথচ গত বছরের ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানের দিনে এপিবিএন যখন শাহজালাল থেকে স্বেচ্ছায় সটকে পড়ে তখন তাঁরা নিজেদের নিরাপত্তার জন্য বিমান বাহিনীরই দ্বারস্থ হয়েছিল। ওই সময় এপিবিএন সদস্যরা বিমান বাহিনী ঘাঁটি এ কে খন্দকারস্থ শাহীন কলেজ কুর্মিটোলায় আশ্রয় নিয়েছিল। বিমান বাহিনী এপিবিএন’র সদস্যদের খাবার, চিকিৎসাসহ সব রকমের বন্দোবস্ত করে। এরপরেও বাহিনী দু’টির মধ্যে তৃতীয় শক্তি প্রবেশ করে আকথা-কুকথা ছড়িয়ে দিচ্ছে। নিজস্ব ন্যারেটিভ দাঁড় করিয়ে দোষারোপের নোংরা মহোৎসব অব্যাহত রেখেছে।

অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে এক মুহুর্তও নিষ্ক্রিয় ছিল না বিমান বাহিনী
শাহাজালালে অগ্নিকাণ্ডে বিমান বাহিনী হাতগুটিয়ে বা নিষ্ক্রিয় ছিল না এক মুহুর্তও। সঠিক সময়ে বাহিনীটির সদস্যরা সবাইকে সঙ্গে নিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অগ্নি নির্বাপণে জোরদার লড়াই শুরুর ফসলই ছিল মাত্র ৭ ঘণ্টার মধ্যেই উড়োজাহাজ উঠানামার কর্মযজ্ঞ শুরুর মাধ্যমে শাহজালাল সচল হওয়া। ওইদিন বিমান বাহিনীর ৮টি ফায়ার ফাইটিং ইউনিটের পাশাপাশি আরও অতিরিক্ত ১১০ জন সদস্যকে নিয়োজিত করা হয়েছিল ফায়ার ফাইটিংয়ে সার্বিক সহযোগিতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারে। অথচ নিজের পছন্দ না হলেই অন্যকে নি:শেষ করে দেওয়ার ঘৃণ্য প্রতিযোগিতা থেকে বেরিয়ে আসতে পারছে না মহলবিশেষ। বিশ্লেষকরা মনে করেন, সবাইকে স্মরণে রাখতে হবে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী এদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের অতন্দ্র প্রহরী। কোন অবস্থাতেই সার্বভৌমত্বের এই স্তম্ভকে দুর্বল করা যাবে না। অযাচিত ও অপ্রাসঙ্গিকভাবে তাদের ঘৃণ্য কায়দায় ঘায়েল করতে চাইলে আখেরে বহি:শত্রুরাই লাভবান হবে। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানেও এই বিমান বাহিনী সেনা ও নৌবাহিনীর পাশাপাশি ছাত্র-জনতার পাশে এসে দাঁড়িয়ে চূড়ান্ত বিজয় নিশ্চিত করেছে। অতীতেও যখনই রাষ্ট্র দুর্বল হয়েছে, তখন সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনীর পাশাপাশি বিমান বাহিনীও পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলা ও বলের মাধ্যমে দেশের পথচলাকে মসৃণ ও নিরবচ্ছিন্ন করেছে।

আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইকাও) প্রোটোকল মেনেই হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সব কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে বলে জানিয়েছেন বেবিচক চেয়ারম্যান। তিনি বলেছেন, বিমানবন্দরে সপ্তাহে এক দিন ফায়ার ড্রিল (অগ্নিনির্বাপণ মহড়া) করা হয়। এমনকি আগুন লাগার পরও আইসিএওর সব নিয়ম মেনে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিককে সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করা হয় বেবিচকের অনুমতি না পাওয়ায় ফায়ার সার্ভিস সদস্যদের কাজ করতে দেরি হয়েছে? এমন প্রশ্নের উত্তরে বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমি তদন্ত করে দেখেছি, ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালকের সঙ্গে কথা বলে দেখেছি, কিন্তু কেউ বলেনি ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ভেতরে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়েছে। তারপর কোনো কর্তৃপক্ষ যদি এ অভিযোগ করে, তাহলে আমি সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেবো। এ অভিযোগ যারা করছেন, সেটা সত্যি নয়।’

ইমপোর্ট কার্গো সেকশনের সামনে খোলা আকাশের নিচে থাকা মালামালের কারণে ফায়ার সার্ভিস দ্রুত সময়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারেনি। এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা কোনো পক্ষকে দোষ দিতে যাবো না। ওই ভবনটি আমরা (বেবিচক)। কিন্তু ভবনের ভেতরে যে কার্যক্রমের দায়িত্ব বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, কাস্টমস, সিআন্ডএফ এজেন্ট ও কুরিয়ার এজেন্টদের। কার্গো সেকশনের সামনে এপ্রোনে যে মালামাল স্তূপ হয়ে থাকে সেটা ২১ দিনের মধ্যে ক্লিয়ার হয়ে যাওয়ার কথা। যদি এর মধ্যে ক্লিয়ার না হয়, তাহলে এ তিন কর্তৃপক্ষ মিলে সেগুলো ক্লিয়ার করে। মালপত্র জমে থাকার দায়-দায়িত্ব তাদের। এ মালপত্রগুলো না সরানোর কারণে ফায়ার সার্ভিস যেতে দেরি হয়েছে।’

ওয়াচ টাওয়ারে বিমান বাংলাদেশের নিয়োজিত নিরাপত্তা সদস্যরাই দায়িত্ব পালন করে
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো এলাকার নিরাপত্তা বিষয়ে নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। কিন্তু উপস্থাপিত তথ্য বাস্তবতার সঙ্গে সম্পুর্ণ সাংঘর্ষিক বলে জানিয়েছে বেবিচক’র একটি দায়িত্বশীল সূত্র। সূত্রটি জানায়, গত বছরের ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে বিমানবন্দরের এয়ারসাইড থেকে গোডাউনে প্রবেশের মুখে অবস্থিত ওয়াচ টাওয়ারে বিমান বাংলাদেশের নিয়োজিত নিরাপত্তা সদস্যরাই দায়িত্ব পালন করছেন। কার্গো এলাকাসমূহে এভসেক এবং বিমান বাংলাদেশ নিয়মিত ফুট পেট্রোল পরিচালনা করে। তাছাড়াও এপিবিএনের গোয়েন্দা কার্যক্রমেও কখনও কোন বাধা প্রদান করা হয়নি। কার্গো এলাকায় এভসেক এবং বিমান বাংলাদেশ এর নজরদারি, পেট্রোলিং, নিরাপত্তা সংক্রান্ত কার্যক্রমের কোন ধরণের ঘাটতি নেই। গত ১৮ অক্টোবর কার্গো এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এয়ার সাইডে এভসেক ও ল্যান্ড সাইডে এপিবিএন যৌথ সমন্বয়ের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করে। অন্যান্য সংশ্লিষ্ট বাহিনীর সহযোগিতায় তাঁরা পরিস্থিতি মোকাবিলা করে। এতে প্রমাণিত সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় আন্তঃসংস্থাগত সহযোগিতা বিদ্যমান এবং সেটি ফলপ্রসূভাবে কার্যকর। এ অবস্থায় কিছু ব্যক্তি বা মহল অসৎ উদ্দেশ্যে এপিবিএন ইস্যুকে সামনে এনে বেবিচক ও এপিবিএনের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি ও সম্পর্কের অবনতি ঘটানোর অপতৎপরতায় লিপ্ত রয়েছে। এই দুর্ঘটনা-পরবর্তী সংকটময় পরিস্থিতিতে এ ধরনের অপতথ্য একটি গোষ্ঠীর হীনমন্যতা এবং উসকানিমূলক প্রচেষ্টার প্রতিফলন। এটি বেবিচকের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করার একটি দুঃখজনক এবং অনাকাক্সিক্ষত প্রচেষ্টা। এ ব্যপারে সংশ্লিষ্ট সকলের সতর্ক থাকা উচিত।

কালের আলো/এমএসএএকে/এমএসআইপি

মেসির হ্যাটট্রিকে বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার উড়ন্ত সূচনা

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ৯:০২ পূর্বাহ্ণ
মেসির হ্যাটট্রিকে বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার উড়ন্ত সূচনা

কাতার বিশ্বকাপে দলকে শিরোপা জেতানো লিওনেল মেসি ২০২৬ বিশ্বকাপেও জ্বলে ওঠলেন আর্জেন্টিনার প্রথম ম্যাচেই। আলজেরিয়ার বিপক্ষে এ ম্যাচে হ্যাটট্রিকের দেখা পেয়েছেন তিনি। প্রথমার্ধে এক গোল করা এই কিংবদন্তি দ্বিতীয়ার্ধে করেছেন আরও ২টি। তিন গোল করে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি গোলের মালিক বনে যাওয়া মেসি গড়েছেন আরও বেশ কয়েকটি রেকর্ড। মেসির অসাধারণ সব রেকর্ডের ম্যাচে আলজেরিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের এবারের আসরে উড়ন্ত সূচনা করেছেন লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ১৬টি গোল করে এতদিন শীর্ষে ছিলেন জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসা। তবে আজ আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে সেই রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছেন মেসি। বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের মালিক এখন যৌথভাবে মেসি ও ক্লোসা। এই রেকর্ড গড়ার পথে মেসি ছাড়িয়ে গেছেন ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি রোনালদো নাজারিওকেও।

আর্জেন্টিনা ও লিওনেল মেসির জন্য স্বপ্নের মতো শুরু হতে পারত ম্যাচটি। খেলার মাত্র পাঁচ মিনিটেই বল জালে পাঠান মেসি। গ্যালারিতে উল্লাস শুরু হয়ে যায়। তবে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের সেই উল্লাস স্থায়ী হয়নি। কেননা সহকারী রেফারির পতাকা উঠলে সেই উদ্‌যাপন থেমে যায়। অফসাইডের জন্য মেসির সেই গোল বাতিল হয়।

তবে অফসাইডের ফাঁদে গোল বাতিল হয়ে ম্যাচের শুরুটা স্বপ্নের মত না হলেও শেষটা নিজের রঙেই রাঙিয়েছেন মেসি। আর্জেন্টিনার গোল বাতিলের পর জালের দেখা পেয়েছিল আলজেরিয়াও। তবে তাদের সেই গোলটিও অফসাইডের কারণে বাতিল হয়। এদিকে শুরুতেই দু গোল বাতিল হওয়ার পর প্রথমে লিড পায় আর্জেন্টিনাই।

মিডফিল্ড থেকে রদ্রিগো দি পল বল বাড়িয়ে দেন মেসির কাছে। বল পেয়ে তিনি পরিচিত ভঙ্গিতে এগিয়ে যান এবং প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে নেন জোরালো শট। আলজেরিয়ার গোলরক্ষক লুকা জিদান দুই হাত লাগাতে পারলেও সেই দুর্দান্ত শট ঠেকাতে পারেননি। বল জালে জড়িয়ে গেলে এগিয়ে যায় বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।

নিজের ২০০তম ম্যাচ খেলতে নেমেই মেসি স্বভাবসুলভ পায়ের জাদু দেখালেন। এদিকে মেসির গোলে লিড নেওয়ার পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় আর্জেন্টিনা। বিরতির আগ পর্যন্ত বেশ কয়েকবার চেষ্টা করলেও আর গোলের দেখা পায়নি লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা। ম্যাচের ৪২ মিনিটে থিয়াগো আলমাদার নেওয়া শট ক্রসবারের উপর দিয়ে যায়।

এদিকে গোল হজম করে আলজেরিয়াও ম্যাচে ফিরতে মরিয়ে হয়ে লড়েছে। তবে তাদের কোনো প্রচেষ্টাই সফল হয়নি। ইতিরিক্ত সময়ের শেষদিকে আলজেরিয়ার প্রচেষ্টা ঠেকিয়ে দেন মার্তিনেজ। শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনা বিরতিতে যায় ১-০ গোলের লিড নিয়ে।

বিরতির পর আর্জেন্টিনা খেলা শুরু করে একাদশে এক পরিবর্তন নিয়ে। গঞ্জালো মান্তিয়েলের জায়গায় মাঠে নামেন নাহুয়েল মলিনা। ম্যাচের ৫১ মিনিটে গোল করার প্রচেষ্টা নিয়েছিলেন মেসি। তবে ডি বক্সের বাইরে থেকে তাঁর নেওয়া শটটি ক্রসবারের উপর দিয়ে যায়। এরপর ৫৫ মিনিটে লাওতারো মার্তিনেজের শট দারুণভাবে ঠেকিয়ে দিলেন আলজেরিয়ার গোলরক্ষক লুকা জিদান। তবে গোলের জন্য আর্জেন্টিনার অপেক্ষা বেশি হয়নি।

৫৫ মিনিটে দলে আরও দুই পরিবর্তন আনেন স্কালোনি। লাওতারো মার্তিনেজের বদলে মাঠে নামেন হুলিয়ান আলভারেজ। একই সময়ে থিয়াগো আলমাদার বদলে মাঠে নামেন নিকোলাস গঞ্জালেস। আর ৬০ মিনিটের মাথায় গোলের দেখা পান মেসি। এবার গোলপোস্টের খুব কাছ থেকে জালের ঠিকানা খুঁজে নেন তিনি। অ্যালেক্সিস ম্যাক আলিস্টারের বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া শট নিয়ন্ত্রণে নিতে ব্যর্থ হন আলজেরিয়ার গোলরক্ষক। ফিরতি শটে গোল করে বল জালে জড়ান মেসি।

এটি বিশ্বকাপে মেসির ১৫তম গোল। এই গোলে মেসি ছুঁয়ে ফেললেন ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি রোনালদো নাজারিওকে (১৫)। এরপর তাঁর সামনে ছিলেন শুধুই ক্লোসা। পরবর্তীতে ম্যাচের ৭৬ মিনিটেই নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন মেসি। বিশ্বকাপে নিজের প্রথম হ্যাটট্রিকেই ক্লোসাকেও ছুঁয়ে ফেলেন জীবন্ত এই কিংবদন্তি। হ্যাটট্রিকের পরপর ৮০ মিনিটে মাঠ ছাড়েন মেসি। মাঠ ছাড়ার সময় মেসিকে দেয়া হলো ‘স্ট্যান্ডিং অভেশন।’

মেসিময় এই ম্যাচের বাকি সময়টা প্রতিরোধ গড়েই কাটাতে হয়েছে আলজেরিয়াকে। আলবিসেলেস্তেরা এরপর আরও কয়েকবার আক্রমণে গেলেও তা সফল হয়নি। শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল না হওয়ায় মেসির হ্যাটট্রিকে ৩-০ গোলের জয়ে বিশ্বকাপে উড়ন্ত সূচনা করে আর্জেন্টিনা।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

আমি না থাকলে ইসরায়েলের অস্তিত্ব থাকত না: ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ৮:৫৪ পূর্বাহ্ণ
আমি না থাকলে ইসরায়েলের অস্তিত্ব থাকত না: ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তার সমর্থন ছাড়া ইসরায়েলের অস্তিত্ব টিকে থাকত না। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে মতপার্থক্য বাড়তে থাকার মধ্যেই তিনি এ মন্তব্য করেছেন।

জি–৭ সম্মেলনের ফাঁকে কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির উপস্থিতিতে দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া ইসরায়েলের অস্তিত্ব থাকত না। আমি না থাকলেও ইসরায়েল টিকে থাকত না। কারণ আমি যা করেছি, তা করার সাহস বা ইচ্ছা অন্য কোনো প্রেসিডেন্টের ছিল না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি জড়িত না হলে ইসরায়েল অনেক আগেই ধ্বংস হয়ে যেত।’

সম্প্রতি লেবাননে ইসরায়েলের হামলা এবং ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তি নিয়ে আলোচনা প্রসঙ্গে ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন। তার মতে, বৈরুতে ইসরাইলের সামরিক অভিযান মধ্যপ্রাচ্যে কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

ট্রাম্প জানান, নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার সম্পর্ক এখনো ভালো। তবে লেবানন ইস্যুতে তিনি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীকে আরও সংযমী হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

ট্রাম্প বলেন, ‘বিবির (নেতানিয়াহু) সঙ্গে আমার সম্পর্ক চমৎকার। কিন্তু এখন লেবাননের বিষয়ে তাকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে।’

লেবাননের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, ‘একসময় লেবানন ছিল একটি মহান দেশ। সেখানে অসংখ্য অধ্যাপক, চিকিৎসক ও আইনজীবী ছিলেন। অনেক মেধাবী মানুষ লেবাননে বাস করতেন। কিন্তু এখন দেশটির অবস্থা খুবই খারাপ।’

মার্কিন সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য একটি চুক্তির আগে বৈরুতে ইসরায়েলের হামলায় ট্রাম্প অসন্তুষ্ট হয়েছেন। অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, হামলার বিষয়টি জানতে পেরে তিনি বিস্মিত হন। কারণ এর আগে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো একে অপরকে আক্রমণ না করার বিষয়ে সম্মত হয়েছিল।

ট্রাম্প বলেন, ‘এটি খুবই খারাপ ছিল। আমি বিশ্বাসই করতে পারিনি। আমাদের চুক্তি স্বাক্ষরের মাত্র এক ঘণ্টা আগে এটি ঘটেছে।’

নেতানিয়াহুর সিদ্ধান্তেরও সমালোচনা করেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, ‘বিবিকে কেন এই জঘন্য হামলাটি করতে হলো? আমি খুবই ক্ষুব্ধ হয়েছিলাম এবং তাকে তা জানিয়েছি।’

অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেকোনো চুক্তির অন্যতম শর্ত হবে লেবাননের যেসব এলাকা চলমান সংঘাতের সময় ইসরায়েল দখল করেছে, সেখান থেকে সেনা প্রত্যাহার।

আরাঘচির ভাষ্য, ‘যুদ্ধ চলাকালে দখল করা অঞ্চলগুলো থেকে ইসরায়েলি বাহিনী সরে না যাওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ পুরোপুরি শেষ হয়েছে বলা যাবে না।’

তবে একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আলোচনায় থাকা সম্ভাব্য চুক্তিতে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের কোনো শর্ত নেই। এদিকে নেতানিয়াহুও বলেছেন, প্রয়োজন হলে ইসরাইল দীর্ঘ সময় লেবাননে অবস্থান করবে।

সূত্র: এনডিটিভি

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

জোড়া গোলে দুটি রেকর্ড ভাঙলেন এমবাপে, পেছনে পড়লেন মেসি

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ৩:২৬ পূর্বাহ্ণ
জোড়া গোলে দুটি রেকর্ড ভাঙলেন এমবাপে, পেছনে পড়লেন মেসি

পেনাল্টি না পাওয়ার ঠিক কয়েক মুহূর্ত পরই ফ্রান্সকে এগিয়ে নিলেন কিলিয়ান এমবাপে। তাতে ফ্রান্সের শীর্ষ গোলদাতা হিসেবে অলিভার জিরুদের পাশে বসেন তিনি। ওখানেই শেষ নয়। দ্বিতীয়ার্ধের ইনজুরি টাইমে আরেকটি গোল। তাতে এককভাবে ফ্রান্সের সর্বোচ্চ গোলদাতাও হয়ে গেলেন রিয়াল মাদ্রিদ তারকা।

এছাড়া বিশ্বকাপে নিজের ১৪তম গোলটি করে সাবেক ফরাসি লিজেন্ড জাস্ট ফন্টেইন ও আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিওনেল মেসিকেও ছাড়িয়ে গেলেন তারকা স্ট্রাইকার। বলাবাহুল্য, বিশ্বমঞ্চে ফ্রান্সের সর্বোচ্চ গোলদাতাও তিনি।

আর তিনটি গোল করলে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতা হবেন তিনি। ১৬ গোল করে জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসা সবার উপরে। বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি গোল করার তালিকায় এমবাপে যৌথভাবে তিন নম্বরে। ১৪ গোল করে গার্ড মুলারের পাশে তিনি।

ডি-বক্সের বাইরে থেকে মাইকেল অলিসের এক দারুণ অ্যাসিস্ট সেনেগালের রক্ষণব্যুহকে ভেঙে দেয়। আর ছয় গজ বক্সের প্রান্ত থেকে ডান পায়ের নিখুঁত শটে এদুয়ার মেন্দির পাশ দিয়ে বল জালে জড়ান এমবাপে।

ফ্রান্সের জার্সিতে এটি ছিল তার ৫৭তম গোল। তারপর বক্সের বাইরে থেকে ডান পায়ের জাদুকরী শটে দ্বিতীয় গোল করেন তিনি

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি